ক্যানসার দমনে নিমের অবিশ্বাস্য শক্তি! গবেষণায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিমগাছের ভেষজ গুণাবলি এবার অগ্ন্যাশয়ের (প্যানক্রিয়াটিক) ক্যানসার মোকাবিলায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিমের মধ্যে থাকা 'গেডুনিন' এবং 'নিম্বোলাইড' নামক দুটি প্রাকৃতিক যৌগ ক্যানসার কোষ ধ্বংস করতে অত্যন্ত কার্যকর। টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটি হেলথ সায়েন্সেস সেন্টারের গবেষকদের মতে, গেডুনিন যৌগটি ক্যানসার কোষের বৃদ্ধির জন্য দায়ী 'সনিক হেজহগ' নামক সিগন্যালিং পাথওয়েকে বাধা দেয়, যা অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ কেমোথেরাপির তুলনায় বেশি কার্যকর এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও অনেক কম।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নিমের উপাদান ইঁদুর ও কোষের ওপর পরীক্ষায় ক্যানসার কোষের বিস্তার প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। এটি সুস্থ কোষের ক্ষতি না করেই টিউমার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং শরীরের এক অংশ থেকে অন্য অংশে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়া রোধ করে। তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই গবেষণাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাই ক্যানসারের বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে শুধু নিমের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মূলধারার চিকিৎসা (সার্জারি বা কেমোথেরাপি) চালিয়ে যাওয়া অপরিহার্য। ভবিষ্যতে ক্যানসারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন নতুন ওষুধ তৈরিতে নিমের এই গুণাবলি বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ক্যানসার ছাড়াও নিমের আরও বহুবিধ স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে। এটি ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষা দেয়। এর অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ ব্রণ ও এগজিমা সারাতে কার্যকর। এছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও নিমের জুড়ি মেলা ভার। তবে নিমের নির্যাস বা ক্যাপসুল ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
/আশিক
টিকা নেওয়ার আগেই হামে আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশু! কপালে চিন্তার ভাঁজ চিকিৎসকদের
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের প্রাদুর্ভাব এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া হাম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৬৫ শতাংশেরই বয়স ৯ মাসের কম। বাংলাদেশের প্রচলিত স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী, শিশুদের হামের প্রথম টিকা দেওয়া হয় ৯ মাস বয়সে। অর্থাৎ, টিকার আওতায় আসার আগেই এই বিপুল সংখ্যক শিশু প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক অশনিসংকেত।
সোমবার পর্যন্ত নতুন করে আরও ১০ শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যার ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০২ জনে। হাসপাতালের শিশু বিভাগের তথ্যমতে, গত তিন মাসে মোট ২৭০ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মাধ্যমে পরীক্ষা করা ৬৩টি নমুনার মধ্যে ৩৪টিই পজিটিভ এসেছে, যার অর্থ আক্রান্তের হার প্রায় ৫৪ শতাংশ। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিশু এসেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে, এছাড়া পাবনা, রাজশাহী ও নওগাঁর শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।
হাসপাতালের শিশু বিভাগীয় প্রধান ডা. সাহিদা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, বর্তমানে আইসিইউতে ১৬টি শিশু অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে, যার মধ্যে ১০ জনই ৯ মাসের কম বয়সী। শিশুদের মধ্যে সাধারণত তীব্র জ্বর কমার পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা হাম দেখা দিচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ শয্যার একটি বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড এবং ১০ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ‘হাম কর্নার’ চালু করা হয়েছে। বর্তমানে বারান্দাতেও রোগী রেখে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকার বয়সের আগেই শিশুদের আক্রান্ত হওয়া প্রমাণ করে যে ওই অঞ্চলে ভাইরাসের প্রকোপ অত্যন্ত বেশি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, যেহেতু ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরা এখনও টিকা পায়নি, তাই তাদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের বাড়তি সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে কোনো শিশুর মধ্যে জ্বর বা কাশির লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হামের লক্ষণ কীভাবে বুঝবেন, বাঁচতে কী করবেন
দেশে পুনরায় হাম রোগের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ভাইরাসজনিত এই অত্যন্ত সংক্রামক রোগটি বিশেষ করে শিশুদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া এই রোগ খুব দ্রুত একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে, ফলে পরিবার ও সমাজ পর্যায়ে দ্রুত বিস্তার লাভের আশঙ্কা থাকে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেক সময় সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতো মনে হওয়ায় অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি জটিল ভাইরাস সংক্রমণ, যা সময়মতো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে মারাত্মক জটিলতায় রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে বা যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের জন্য এই রোগ আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
রোগের শুরুতে সাধারণত উচ্চমাত্রার জ্বর দেখা দেয়, যা অনেক ক্ষেত্রে ১০৩ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় সর্দি, নাক দিয়ে পানি পড়া, শুকনো কাশি এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া। অনেক ক্ষেত্রে চোখে পানি পড়া এবং আলো সহ্য করতে না পারার সমস্যাও দেখা যায়, যা রোগের অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
পরবর্তী ধাপে, সাধারণত ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে মুখমণ্ডল থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে। এই ফুসকুড়িগুলো ধীরে ধীরে গাঢ় হয় এবং একত্রিত হয়ে বড় আকার ধারণ করতে পারে। একই সঙ্গে মুখের ভেতরে গালের অংশে ছোট ধূসর-সাদা দাগ দেখা যায়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে কপলিক স্পট বলা হয় এবং এটি হাম শনাক্তকরণের একটি নির্ভরযোগ্য লক্ষণ।
হাম রোগের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো এর জটিলতা। চিকিৎসকদের মতে, অবহেলা করলে নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ, এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে।
চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় রোগীকে দ্রুত আইসোলেশনে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সহজেই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্তত ৪ থেকে ৭ দিন আলাদা রাখা হলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।
পাশাপাশি, রোগীর শরীরে পানিশূন্যতা যেন না হয়, সে জন্য পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার দেওয়া জরুরি। পুষ্টিকর খাবার যেমন ফল, শাকসবজি এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য রোগীর দ্রুত সুস্থতায় সহায়ক ভূমিকা রাখে। বিশ্রামও এই রোগ মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, ভিটামিন-এ সাপ্লিমেন্ট হাম রোগের জটিলতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এটি বিশেষ করে চোখের ক্ষতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ এবং শিশুদের ক্ষেত্রে এটি একটি অপরিহার্য সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে বিবেচিত।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও সংক্রমণ প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড়, বিছানা, তোয়ালে এবং অন্যান্য সামগ্রী আলাদা রাখা উচিত এবং নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে।
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। নির্ধারিত বয়সে শিশুদের এমএমআর টিকা প্রদান করলে এই রোগের সংক্রমণ প্রায় সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির আওতা বাড়ানো না গেলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।
এছাড়া, যদি রোগীর জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হয়, শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় বা কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ প্রকাশ পায়, তাহলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণই এই রোগের জটিলতা এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সার্বিকভাবে, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য কিন্তু অবহেলিত হলে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে এমন একটি সংক্রামক রোগ। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো চিকিৎসা এবং টিকাদানের মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা এখন সময়ের দাবি।
দেশে হামের ভয়াবহ প্রকোপ: টিকা ও পুষ্টির অভাবে সংকটে হাজারো শিশু
বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে হঠাৎ করেই উদ্বেগজনক হারে হামের প্রকোপ বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের মতে, গত কয়েক বছরে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, শিশুদের পুষ্টিহীনতা এবং ভাইরাসের ধরনে সম্ভাব্য পরিবর্তনের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মার্চ মাস জুড়েই সারাদেশে অন্তত ২০টি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে হামের দুটি টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৩৩ শতাংশের বয়সই ৯ মাসের কম। রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। ময়মনসিংহে সম্প্রতি আরও দুটি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ বিভিন্ন মেডিকেলে রোগীর ভিড় বাড়ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার দে জানিয়েছেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে; একজন আক্রান্ত শিশু থেকে আরও ১৮ জন সংক্রমিত হতে পারে। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যার ফলে নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ার মতো জটিলতা তৈরি হয়ে শিশুর মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, গত আট বছর ধরে দেশে কোনো বিশেষ হাম নির্মূল ক্যাম্পেইন না হওয়ার কারণেই এই শূন্যতা তৈরি হয়েছে। করোনা মহামারি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। এছাড়া শিশুদের মায়ের বুকের দুধ পর্যাপ্ত না খাওয়ানো, কৃমিনাশক ওষুধের অভাব এবং সার্বিক অপুষ্টি সংক্রমণকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। এমনকি বর্তমান টিকার মান বা ভাইরাসের নতুন কোনো রূপান্তর ঘটেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতোমধ্যে ৬০০ কোটি টাকা টিকার জন্য বরাদ্দ দিয়েছে। রাজধানীসহ বড় দশটি মেডিকেল কলেজে হামের রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড এবং বিশেষ আইসিইউ-ভেন্টিলেটর সুবিধা চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানিয়েছেন, আগামী জুলাই-আগস্ট মাসে দেশজুড়ে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরুর প্রস্তুতি চলছে। গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গ্যাভি) মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ২ কোটি সিরিঞ্জ সরবরাহ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তীব্র জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া বা শরীরে র্যাশ দেখা দিলে শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যেহেতু ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ছে, তাই টিকার বয়সসীমা এগিয়ে আনা যায় কি না, সে বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। বর্তমানে আক্রান্তদের উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, সঠিক সময়ে টিকা প্রদান এবং পুষ্টির দিকে নজর দিলে এই রোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা
হেপাটাইটিস ‘ই’ চিকিৎসায় যুগান্তকারী আবিষ্কার: লাখো প্রাণ বাঁচাতে নতুন আশার আলো
প্রাণঘাতী হেপাটাইটিস ‘ই’ ভাইরাসের চিকিৎসায় এক অভাবনীয় সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন একদল আন্তর্জাতিক গবেষক। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে হেপাটাইটিস ‘সি’ রোগের জন্য পরীক্ষাধীন একটি বিশেষ ওষুধ হেপাটাইটিস ‘ই’ ভাইরাসের বিরুদ্ধেও অত্যন্ত শক্তিশালী ও কার্যকর। প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৭০ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া এই ভাইরাসের সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা বা অনুমোদিত ভ্যাকসিন এতদিন না থাকায়, এই আবিষ্কারকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিখ্যাত মেডিকেল জার্নাল ‘গাট’-এ গত ৬ মার্চ ২০২৬ প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফল থেকে জানা যায়, জার্মানির বোচাম ও হাইডেলবার্গ এবং চীনের বেইজিংয়ের বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন। তারা ‘বিএমএন ফসবিউভির’ (BMN Phosbuvir) নামক একটি যৌগকে হেপাটাইটিস ‘ই’ ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরিতে বাধা দিতে সক্ষম এক শক্তিশালী উপাদান হিসেবে শনাক্ত করেছেন। বিভিন্ন ওষুধের লাইব্রেরি থেকে নিখুঁত পরীক্ষার মাধ্যমে এই যৌগটি নির্বাচন করা হয়েছে। যেহেতু ওষুধটি ইতোমধ্যে হেপাটাইটিস ‘সি’-এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাই এটি খুব দ্রুতই সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
হেপাটাইটিস ‘ই’ মূলত লিভারের একটি গুরুতর সংক্রমণ, যা সঠিক চিকিৎসা ও প্রতিষেধকের অভাবে অনেক সময় প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ হওয়া এই ভাইরাসটির বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো কোনো অস্ত্র এতদিন বিজ্ঞানীদের হাতে ছিল না। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে। তবে মানুষের ওপর এর চূড়ান্ত কার্যকারিতা এবং দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে আরও কিছু ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলমান রয়েছে।
/আশিক
সামাজিক কুসংস্কার ছাপিয়ে গবেষণায় পিরিয়ড: জরায়ুর ক্যানসার প্রতিরোধে নতুন হাতিয়ার
নারীদের মাসিক বা পিরিয়ডকে দীর্ঘকাল ধরে কেবল একটি স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হলেও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এখন একে শরীরের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যের এক অনন্য বার্তাবাহক হিসেবে গণ্য করছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে প্রতি মাসে নির্গত এই রক্ত আসলে প্রজননতন্ত্রের বাইরেও শরীরের অন্যান্য অঙ্গের অবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন পিরিয়ডের রক্তে এমন অনেক জৈবিক তথ্য সংরক্ষিত থাকে যা সাধারণ রক্ত বা লালার পরীক্ষায় সহজে ধরা পড়ে না।
এই রক্তে জরায়ু, ডিম্বাশয় এবং ফ্যালোপিয়ান টিউব থেকে আসা বিভিন্ন কোষ, হরমোন, প্রোটিন ও ব্যাকটেরিয়া মিশে থাকে যা নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা দিতে সক্ষম। গবেষকরা একে এক ধরনের প্রাকৃতিক বায়োপসি হিসেবে অভিহিত করছেন যা ভবিষ্যতের রোগ নির্ণয় পদ্ধতিকে আমূল বদলে দিতে পারে।
বিশেষ করে এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো জটিল রোগ শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে পিরিয়ডের রক্ত এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। বর্তমানে এই রোগটি নির্ণয় করতে ল্যাপারোস্কোপির মতো ছোটখাটো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় যেখানে পেটের ভেতর ক্যামেরা ঢুকিয়ে পরীক্ষা করা হয়। এটি যেমন সময়সাপেক্ষ তেমনি রোগীর জন্য বেশ কষ্টকর। ‘নেক্সটজেন জেন’-এর প্রধান নির্বাহী রিধি তারিয়াল জানান যে পিরিয়ডের রক্ত বিশ্লেষণ করেই ভবিষ্যতে কোনো রকম অস্ত্রোপচার ছাড়াই এন্ডোমেট্রিওসিস শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
এছাড়া জরায়ুর ক্যানসার, অ্যাডেনোমায়োসিস এবং বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ প্রদাহজনিত সমস্যার ইঙ্গিতও এই রক্ত থেকে পাওয়া যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে পিরিয়ডের রক্তে শত শত প্রোটিন ও জৈবিক উপাদান থাকে যা শরীরের ভেতরের সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো স্পষ্ট করে তোলে। এমনকি থাইরয়েডের সমস্যা বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতার মতো বিষয়গুলোও এই রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা সম্ভব।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো পিরিয়ডের রক্ত দিয়ে এখন ডায়াবেটিস শনাক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ চলছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে মাসিকের রক্তে শর্করার মাত্রা শরীরের মূল রক্তপ্রবাহের শর্করার মাত্রারই সঠিক প্রতিফলন ঘটায়। একইভাবে শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব বা কোনো বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতিও এই রক্তের মাধ্যমে নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা যেতে পারে। এছাড়া যৌনবাহিত রোগ যেমন এইচপিভি বা ক্ল্যামাইডিয়ার মতো সংক্রমণ শনাক্ত করতেও পিরিয়ডের রক্ত ব্যবহারের ওপর ব্যাপক গবেষণা চলছে যা প্রচলিত প্যাপ স্মিয়ার পদ্ধতির চেয়েও বেশি কার্যকর হতে পারে।
এতদিন সামাজিক কুসংস্কার ও অবহেলার কারণে এই ক্ষেত্রটি গবেষণার বাইরে থাকলেও এখন বিভিন্ন বায়োটেক কোম্পানি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করছে। আশা করা হচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে নারীরা ঘরে বসেই নিজেদের পিরিয়ড রক্ত পরীক্ষা করে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সম্পর্কে সব জরুরি তথ্য জানতে পারবেন যা দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে এবং দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা দূর করতে সাহায্য করবে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
মাশরুম এখন সুপারফুড! জেনে নিন জাদুকরী ৫ উপকারিতা
একসময় 'ব্যাঙের ছাতা' বলে অবহেলিত মাশরুম এখন অনেকের কাছেই পরিচিত এবং প্রিয় খাবার হয়ে উঠেছে। বর্তমানে রাস্তার ধারের স্ট্রিট ফুড থেকে শুরু করে আধুনিক রান্নাঘর—সবখানেই মাশরুমের জয়জয়কার। ফাস্টফুড, স্যুপ কিংবা দৈনন্দিন সবজি রান্নায় এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। মাশরুম শুধু স্বাদের জন্যই নয়, বরং এর অসাধারণ কিছু স্বাস্থ্যগুণ ও পুষ্টিমানের জন্য এখন সবার খাদ্যতালিকায় গুরুত্ব পাচ্ছে। যারা এখনো মাশরুম খেতে দ্বিধা করেন, তাদের জন্য এর পাঁচটি জাদুকরী উপকারিতা তুলে ধরা হলো।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র ১৮ গ্রাম মাশরুম (যা প্রায় দুটি মাঝারি আকারের মাশরুমের সমান) খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। মাশরুমে ‘এরগোথিওনাইন’ নামক এক বিশেষ অ্যামিনো অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা কোষের ক্ষয় রোধ করে। শিটাকে, অয়স্টার ও কিং অয়স্টারের মতো প্রজাতিগুলোতে এই উপাদান বেশি থাকলেও যেকোনো মাশরুম নিয়মিত খাওয়া শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারণ হলো অতিরিক্ত সোডিয়াম বা লবণের ব্যবহার। মাশরুমে সোডিয়াম বা লবণের পরিমাণ প্রাকৃতিকভাবেই অনেক কম। যেমন, এক কাপ হোয়াইট বাটন মাশরুমে মাত্র ৫ মিলিগ্রাম সোডিয়াম থাকে। এটি খাবারে প্রাকৃতিক স্বাদ যুক্ত করে, ফলে রান্নায় বাড়তি লবণের প্রয়োজন কম হয় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
লাল মাংসের বদলে মাশরুম হতে পারে স্বাস্থ্যের জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। এতে চর্বি ও কোলেস্টেরল নেই বললেই চলে। বিশেষ করে শিটাকে মাশরুম শরীরে কোলেস্টেরল তৈরি হতে বাধা দেয় এবং রক্তে এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। যারা ওজন বা হৃদরোগ নিয়ে চিন্তিত, তাদের জন্য মাশরুম একটি আদর্শ খাবার।
মাশরুমে থাকা প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন-বি মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারগুলোকে সচল রাখতে সাহায্য করে। এতে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন গবেষণা বলছে, সপ্তাহে অন্তত দুই কাপ মাশরুম খেলে মস্তিষ্কের কগনিটিভ ইমপেয়ারমেন্ট বা স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি প্রায় অর্ধেক কমে যায়।
শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে মাশরুমের সেলেনিয়াম অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। এটি কোষকে ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। এছাড়া এতে থাকা ভিটামিন বি৬ শরীরে লাল রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে, যা শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পৌঁছে দিয়ে শরীরকে সতেজ ও কর্মক্ষম রাখে।
সূত্র: ইউসিএলএ হেলথ, সিডার্স-সিনাই হেলথ লাইব্রেরি
৪০% ক্ষমতা হারানোর আগে লক্ষণ মেলে না! কিডনি বাঁচাতে যা করবেন
শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পরিশ্রমী অঙ্গ কিডনিকে বলা হয় ‘সাইলেন্ট কিলার’। কারণ, এর কার্যক্ষমতা প্রায় ৪০ শতাংশ না হারানো পর্যন্ত অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণই প্রকাশ পায় না। সম্প্রতি ‘অনলি মাই হেলথ’-এর এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা কিডনি সুস্থ রাখা এবং এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো চেনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞ রিতেশ বাওরির মতে, কিডনি প্রথম দিকে নিজেই নিজের ক্ষতিপূরণ করে কাজ চালিয়ে যায় বলে রোগ ধরা পড়তে দেরি হয়। তবে শরীরের কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তনের দিকে নজর দিলে আগেভাগে সতর্ক হওয়া সম্ভব। যেমন—প্রস্রাবে অস্বাভাবিক ফেনা বা বুদবুদ হওয়া, রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি অনুভব করা এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ বা পা ফুলে যাওয়া। এছাড়া হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়াও কিডনি সমস্যার একটি বড় সংকেত।
কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকরা মূলত eGFR এবং Urine Albumin-to-Creatinine Ratio—এই দুটি পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে বলেছেন। এছাড়া ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। দৈনন্দিন অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন, যেমন—লবণ ও প্রসেসড খাবার কম খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত হাঁটাচলা কিডনিকে দীর্ঘকাল সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
/আশিক
তরুণদের শরীরে কেন বাড়ছে কোলন ক্যান্সার? গবেষণায় উঠে এল নতুন তথ্য
ক্যান্সার এখন আর কেবল বয়স্কদের রোগ হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সি তরুণদের মধ্যে কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এতদিন অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসকে এই মরণব্যাধির প্রধান কারণ মনে করা হলেও, বিজ্ঞানীরা এখন বৃহদন্ত্রের গঠনগত পরিবর্তন এবং জিনের নেতিবাচক ভূমিকাকে এর জন্য বেশি দায়ী করছেন।
‘অ্যাডভান্সড সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় টেক্সাস ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন। তাদের মতে, বয়স্কদের তুলনায় বর্তমানে তরুণদের বৃহদন্ত্রের কোষগুলো অনেক বেশি শক্ত ও পুরু হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় এই কোষগুলোতে এক ধরনের ক্ষত বা ‘ফাইব্রোসিস’ তৈরি হয়, যা ক্যানসার কোষ জন্মানোর জন্য একটি আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। কোষের দেয়াল এভাবে শক্ত হয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো শরীরে অতিরিক্ত ‘কোলাজেন’ জমা হওয়া। তবে ঠিক কী কারণে তরুণদের শরীরে এমন অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আরও গভীর গবেষণা চলছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই সমস্যার পেছনে শুধু খাদ্যাভ্যাস নয়, বরং জিনের কারসাজিও বড় ভূমিকা রাখছে। বংশগতভাবে আসা নির্দিষ্ট কিছু জিন যেমন— এপিসি, এমএলএইচ১ এবং এমএসএইচ২ যদি তাদের স্বাভাবিক বিন্যাস বদলে ফেলে (মিউটেশন), তবে ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। গবেষকরা ‘মাইক্রোইনডেন্টেশন টেস্ট’-এর মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন যে, তরুণদের কোলন কোষের এই অস্বাভাবিক পরিবর্তনই ক্যানসার ডেকে আনছে। তবে আশার কথা হলো, প্রাথমিক অবস্থায় কোলন ক্যানসার ধরা পড়লে তা পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব। বিজ্ঞানীরা এখন সেই বিশেষ জিনগুলোকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন, যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ক্যানসার হওয়ার আগেই তা কার্যকরভাবে ঠেকানো যাবে।
সূত্র : আনন্দবাজার
হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে কোলেস্টেরল বশে রাখুন: বিশেষজ্ঞ টিপস
রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা বর্তমান সময়ে সুস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। উচ্চ কোলেস্টেরল কেবল হৃদরোগ নয়, স্ট্রোকের ঝুঁকিও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল ওষুধের ওপর নির্ভর না করে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমেই এই ‘নীরব ঘাতক’কে বশে রাখা সম্ভব। এতে হৃৎপিণ্ডের পাশাপাশি উন্নত হয় হজমশক্তি ও সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার মূল চাবিকাঠি হলো খাদ্যতালিকায় আমূল পরিবর্তন আনা। চর্বিযুক্ত রেড মিট (গরু বা খাসির মাংস), ঘি, মাখন এবং অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে ডুবো তেলে ভাজা খাবার, ফাস্টফুড ও প্রসেসড খাবারে থাকা 'ট্রান্স ফ্যাট' শরীরের জন্য বিষের মতো কাজ করে।
এর পরিবর্তে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ সামুদ্রিক মাছ, বাদাম, তিসি ও অলিভ অয়েল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি। এছাড়া আদা ও রসুনের মতো প্রাকৃতিক উপাদান কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত বা ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমন শাকসবজি, ফলমূল, ওটস ও বার্লি শুধু কোলেস্টেরল কমায় না, বরং অন্ত্রের স্বাস্থ্যও ভালো রাখে। খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের দিকে নজর রাখলে রক্তে চিনির মাত্রার পাশাপাশি কোলেস্টেরলও নিয়ন্ত্রণে আসে। ভাজাপোড়া স্ন্যাকসের বদলে স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে দই, ফল বা বাদাম খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ গ্রিন টি পান করাও বেশ উপকারী।
শারীরিক পরিশ্রম ও জীবনযাত্রার শৃঙ্খলা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা ব্যায়াম শরীরের 'ভালো কোলেস্টেরল' (HDL) বাড়াতে এবং 'খারাপ কোলেস্টেরল' (LDL) কমাতে সরাসরি কাজ করে। অতিরিক্ত ওজন কমানো এবং ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগের কোনো বিকল্প নেই; কারণ ধূমপান সরাসরি ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়।
সেই সঙ্গে মানসিক চাপ কমাতে ইয়োগা বা ধ্যান এবং দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নিয়মিত লিপিড প্রোফাইল টেস্টের মাধ্যমে নিজের অবস্থা যাচাই করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করাই হলো সুস্থ থাকার সঠিক পথ।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- ক্যানসার দমনে নিমের অবিশ্বাস্য শক্তি! গবেষণায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
- ট্রাম্পের দাবি বনাম গোয়েন্দা তথ্য: ইরান কি সত্যিই আমেরিকায় হামলা করতে সক্ষম?
- সিলেটে সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ, বাড়ছে উদ্বেগ
- সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা
- জ্বালানি সংকটের মেঘ কাটছে! কালই চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে ডিজেলের বিশাল চালান
- গরমে ঘামাচির জ্বালায় অতিষ্ঠ? জেনে নিন নিমিষেই মুক্তির ৯টি ঘরোয়া উপায়
- স্মার্ট কৃষি কার্ড পেতে কী কী লাগবে? জেনে নিন নিবন্ধনের সহজ ধাপ
- ট্রাম্পের ভাষণ শেষ হতেই ইরানের মিসাইল তান্ডব! কাঁপছে ইসরায়েল
- আজ বৃহস্পতিবার: ঢাকার কোন কোন এলাকার মার্কেট বন্ধ? জেনে নিন তালিকা
- আইনের তোয়াক্কা নেই! ড. ইউনূসের বিশ্ববিদ্যালয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস
- ১০টি শক্তিশালী মিসাইল! ইসরায়েলের বুক কাঁপিয়ে দিল ইরান
- দেশের ৯ জেলায় কালবৈশাখীর আঘাত! ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা
- এক লাফে ভরিতে বাড়ল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা: স্বর্ণের বাজারে আগুন
- চাঁদ জয়ের মহাযাত্রা শুরু! সফলভাবে উড্ডয়ন করল নাসার আর্টেমিস ২
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আপডেট
- “খুব শিগগির শেষ হবে যুদ্ধ”: ট্রাম্পের দাবি, ইরানে মার্কিন সামরিক লক্ষ্য প্রায় অর্জিত
- ইরানের খোলা চিঠি: আমেরিকানদের উদ্দেশে কৌশলগত বার্তা
- হরমুজ প্রণালীর চাবিকাঠি কার হাতে: ট্রাম্পের শর্ত নাকি ইরানের হুঙ্কার?
- আন্দোলন ছাড়া আর পথ নেই: সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির
- স্পেনে মুসলিম বিরোধী স্লোগান! সমর্থকদের কড়া জবাব দিলেন ১৮ বছরের ইয়ামাল
- নদীতে ভাসছে টাকার বস্তা! ভাইরাল ছবির আসল রহস্য ফাঁস
- চাঁদ জয়ে ৪ লাখ কিলোমিটার যাত্রা! শুরু হচ্ছে ঐতিহাসিক মহাকাশ অভিযান
- রেকর্ড ভাঙল স্বর্ণের দাম! ৪ দিনেই দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ উচ্চতায় দাম
- নানিয়ারচর সেনা জোন (১৭ ই বেংগল) কর্তৃক পঙ্গু রোগীকে হুইল চেয়ার প্রদান
- ১৮০ দিনের অ্যাকশন প্ল্যান! শিক্ষা খাতে বড় বদল আনছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- সংখ্যাগরিষ্ঠরা ভণ্ডামি করছে: সংসদ ছেড়ে ফেসবুকে বিস্ফোরক হাসনাত আব্দুল্লাহ
- সাফ অনূর্ধ্ব-২০: নেপাল বধ করে শিরোপার মঞ্চে লাল-সবুজ
- সংসদীয় ইতিহাসে বিরল নজির: সরকারি দলের মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ সংসদে
- ২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই ইরান ছাড়বে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
- শত্রুদের জন্য বন্ধ হরমুজ প্রণালি! সাগরে যুদ্ধের নতুন ছক কষছে ইরান
- সংসদে আওয়ামী আমলের পাচারের খতিয়ান দিলেন তারেক রহমান
- কুমিল্লায় সড়কে প্রাণ গেল ৬ জনের
- ০১ এপ্রিল ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ০১ এপ্রিল ডিএসই: দরপতনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি
- ০১ এপ্রিল ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
- ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে আমিরাত? হরমুজ প্রণালি মুক্ত করার বড় পরিকল্পনা
- মেক্সিকোর মাটিতেই ইতিহাস! ৪ দশক পর বিশ্বকাপের টিকিট পেল ইরাক
- হরমুজ প্রণালির মুখে আগুন! ইরানের বাণিজ্যিক বন্দরে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা
- রণক্ষেত্র পেরিয়ে ফিরছে বাংলাদেশি পতাকাবাহী ৬ জাহাজ! বড় ঘোষণা ইরানের
- আমিরাতে ড্রোন হামলার ধ্বংসাবশেষে প্রাণ গেল বাংলাদেশির!
- এএন-২৬ এর অভিশপ্ত ইতিহাস! আবারও ২৯টি প্রাণ কেড়ে নিল পুরনো মডেলের বিমান
- বোনের জন্য কেক নিয়ে ফেরা হলো না নিশাতের!
- মেসি-ম্যাজিকে বিধ্বস্ত জাম্বিয়া! বিশাল জয়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ প্রস্তুতি
- শেষ ৪ মিনিটের ঝড়ে উড়ে গেল ক্রোয়েশিয়া! ব্রাজিলের বিধ্বংসী জয়
- যুদ্ধের ১ মাস: ১৬ হাজার গোলাবারুদ আর ৮০০ বিমান হামলায় বিধ্বস্ত ইরান!
- ইরানের পক্ষে লড়বে চেচেন যোদ্ধারা! কাদিরভ বাহিনীর ‘জিহাদ’ ঘোষণা
- ৩ সপ্তাহেই কি থামছে ইরান যুদ্ধ? হোয়াইট হাউস থেকে ট্রাম্পের রহস্যময় বার্তা
- আজ শনিবার: রাজধানীতে যেসব কর্মসূচি রয়েছে
- মোজাম্মেলের অবৈধ টাকায় পলাতক পুলিশ কর্তাদের বিলাসী জীবন!
- ঘর থেকে বের হওয়ার আগে দেখে নিন: বুধবার ঢাকার কোথায় কোথায় মার্কেট বন্ধ
- সোমবারও স্বর্ণের বাজারে আগুনের উত্তাপ, রেকর্ড দামে কেনাবেচা
- স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ভরিতে বেড়েছে যত
- সোনার বাজারে বড় ধস: দেশের সব জুয়েলারি দোকানে নতুন দাম কার্যকর
- রেকর্ড পতন, মাত্র ২ লাখ ৩০ হাজারে পাচ্ছেন ১ ভরি সোনা
- স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা তুঙ্গে: মাত্র কয়েক ঘণ্টায় বদলে গেল সব হিসাব
- ৩১ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- চিরদিনই তুমি যে আমার খ্যাত নায়ক রাহুলের অকাল প্রয়াণ
- ১০ হাজার টন ডিজেল ও জেট ফুয়েল নিয়ে নতুন জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে
- কালিগঞ্জের রতনপুরে জমি বিরোধের জেরে নৃশংস হামলা, গুরুতর আহত ১ জন
- ভিয়েতনামের গতির কাছে অসহায় লাল-সবুজ: প্রথমার্ধে রক্ষণের বেহাল দশা
- সিঙ্গাপুর ম্যাচের আগে মিশন ভিয়েতনাম: কাবরেরার তুরুপের তাস কি আজ মাঠে নামবে?
- ২৯ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- তেল আবিবের আকাশে হাজারো কাকের রহস্যময় মহড়া: ইসরায়েলজুড়ে মহাপ্রলয়ের আতঙ্ক
- যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের ডাক: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাজপথে নামছে লাখো মানুষ
- ২৮ মার্চ ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময়








