সতর্ক হোন! ডায়াবেটিসের এই লক্ষণগুলো অবহেলা করলে বাড়ছে বড় ঝুঁকি

ডায়াবেটিস বর্তমানে অনেকের কাছেই এক সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। তবে কেবল নিয়মিত ওষুধ সেবন বা খাবার নিয়ন্ত্রণ করলেই এই রোগ পুরোপুরি আয়ত্তে রাখা সম্ভব হয় না। অনেক সময় রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকলেও শরীরের অভ্যন্তরে এমন কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন ঘটতে থাকে, যা শুরুতে আমাদের নজরে আসে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল ল্যাবরেটরির রিপোর্টের ওপর নির্ভর না করে নিজের শরীরের ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোর দিকে নিয়মিত নজর রাখা জরুরি। কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষণ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ডায়াবেটিসজনিত বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা আগেভাগেই শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে শরীর কিছু প্রাথমিক সংকেত দেয়, যার মধ্যে অন্যতম হলো ঘনঘন তৃষ্ণা পাওয়া এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি প্রস্রাব হওয়া। এছাড়া পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও যদি শরীর সারাদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগে, তবে বুঝতে হবে রক্তে শর্করার ওঠানামা আপনার জীবনীশক্তি কমিয়ে দিচ্ছে।
খাদ্যাভ্যাসে কোনো পরিবর্তন না আনা সত্ত্বেও যদি শরীরের ওজন হঠাৎ কমে যায় বা বেড়ে যায়, তবে সেটিকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসা ডায়াবেটিসের একটি গুরুতর লক্ষণ, কারণ উচ্চ শর্করা সরাসরি চোখের লেন্সের ওপর প্রভাব ফেলে।
শরীরের কোনো অংশে ছোটখাটো কাটা-ছেঁড়া বা ঘা যদি সহজে শুকাতে না চায়, তবে তা ডায়াবেটিসের জটিলতার স্পষ্ট ইঙ্গিত হতে পারে। অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ শর্করার ফলে স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে হাত-পা ঝিনঝিনি করা, জ্বালাপোড়া বা অবশ হওয়ার মতো অনুভূতি তৈরি হয়। এছাড়া ত্বকের অস্বাভাবিক শুষ্কতা, বারবার সংক্রমণ হওয়া বা চুলকানিও এই রোগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এমনকি হঠাৎ খুব বেশি ক্ষুধা পাওয়া কিংবা খাওয়ার রুচি একেবারে চলে যাওয়াও রক্তে শর্করার ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ হতে পারে।
ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ জীবনযাপন করতে হলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি শরীরের এই ভাষাহীন সংকেতগুলো বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উল্লিখিত লক্ষণগুলোর কোনোটি যদি দীর্ঘসময় ধরে স্থায়ী হয়, তবে কালক্ষেপণ না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, প্রাত্যহিক জীবনের ছোট ছোট শারীরিক পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকলেই ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়িয়ে চলা সম্ভব।
সূত্র: আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন, মায়ো ক্লিনিক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
যেসব শিশুকে দেওয়া যাবে না হামের টিকা! স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সতর্কতা
অসুস্থ বা জ্বর থাকা শিশুদের এই মুহূর্তে হাম-রুবেলার (এমআর) টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। আজ রোববার (৫ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ৯টা থেকে জরুরি ভিত্তিতে এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সব শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় টিকা দেওয়া হবে। তবে যেসব শিশু বর্তমানে উচ্চ জ্বর, তীব্র সংক্রমণ বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছে, তাদের সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত টিকা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
এছাড়া আগে হামের টিকা নিয়ে যাদের মারাত্মক অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হয়েছিল বা যারা ক্যানসারের চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি স্টেরয়েড সেবনের কারণে দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতায় ভুগছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া টিকা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের জটিলতা কমাতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে। যারা সম্প্রতি রক্ত বা রক্তজাত পণ্য গ্রহণ করেছে, তাদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত টিকা স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে।
এই বিশেষ ক্যাম্পেইনে আগে হামের টিকা নেওয়া শিশুরাও অংশ নিতে পারবে। প্রথম ধাপে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী ২১ মে ২০২৬-এর মধ্যে, অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
/আশিক
ক্যানসার দমনে নিমের অবিশ্বাস্য শক্তি! গবেষণায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
নিমগাছের ভেষজ গুণাবলি এবার অগ্ন্যাশয়ের (প্যানক্রিয়াটিক) ক্যানসার মোকাবিলায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিমের মধ্যে থাকা 'গেডুনিন' এবং 'নিম্বোলাইড' নামক দুটি প্রাকৃতিক যৌগ ক্যানসার কোষ ধ্বংস করতে অত্যন্ত কার্যকর। টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটি হেলথ সায়েন্সেস সেন্টারের গবেষকদের মতে, গেডুনিন যৌগটি ক্যানসার কোষের বৃদ্ধির জন্য দায়ী 'সনিক হেজহগ' নামক সিগন্যালিং পাথওয়েকে বাধা দেয়, যা অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ কেমোথেরাপির তুলনায় বেশি কার্যকর এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও অনেক কম।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নিমের উপাদান ইঁদুর ও কোষের ওপর পরীক্ষায় ক্যানসার কোষের বিস্তার প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। এটি সুস্থ কোষের ক্ষতি না করেই টিউমার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং শরীরের এক অংশ থেকে অন্য অংশে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়া রোধ করে। তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই গবেষণাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাই ক্যানসারের বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে শুধু নিমের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মূলধারার চিকিৎসা (সার্জারি বা কেমোথেরাপি) চালিয়ে যাওয়া অপরিহার্য। ভবিষ্যতে ক্যানসারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন নতুন ওষুধ তৈরিতে নিমের এই গুণাবলি বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ক্যানসার ছাড়াও নিমের আরও বহুবিধ স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে। এটি ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষা দেয়। এর অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ ব্রণ ও এগজিমা সারাতে কার্যকর। এছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও নিমের জুড়ি মেলা ভার। তবে নিমের নির্যাস বা ক্যাপসুল ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
/আশিক
টিকা নেওয়ার আগেই হামে আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশু! কপালে চিন্তার ভাঁজ চিকিৎসকদের
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের প্রাদুর্ভাব এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া হাম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৬৫ শতাংশেরই বয়স ৯ মাসের কম। বাংলাদেশের প্রচলিত স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী, শিশুদের হামের প্রথম টিকা দেওয়া হয় ৯ মাস বয়সে। অর্থাৎ, টিকার আওতায় আসার আগেই এই বিপুল সংখ্যক শিশু প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক অশনিসংকেত।
সোমবার পর্যন্ত নতুন করে আরও ১০ শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যার ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০২ জনে। হাসপাতালের শিশু বিভাগের তথ্যমতে, গত তিন মাসে মোট ২৭০ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মাধ্যমে পরীক্ষা করা ৬৩টি নমুনার মধ্যে ৩৪টিই পজিটিভ এসেছে, যার অর্থ আক্রান্তের হার প্রায় ৫৪ শতাংশ। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিশু এসেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে, এছাড়া পাবনা, রাজশাহী ও নওগাঁর শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।
হাসপাতালের শিশু বিভাগীয় প্রধান ডা. সাহিদা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, বর্তমানে আইসিইউতে ১৬টি শিশু অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে, যার মধ্যে ১০ জনই ৯ মাসের কম বয়সী। শিশুদের মধ্যে সাধারণত তীব্র জ্বর কমার পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা হাম দেখা দিচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ শয্যার একটি বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড এবং ১০ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ‘হাম কর্নার’ চালু করা হয়েছে। বর্তমানে বারান্দাতেও রোগী রেখে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকার বয়সের আগেই শিশুদের আক্রান্ত হওয়া প্রমাণ করে যে ওই অঞ্চলে ভাইরাসের প্রকোপ অত্যন্ত বেশি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, যেহেতু ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরা এখনও টিকা পায়নি, তাই তাদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের বাড়তি সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে কোনো শিশুর মধ্যে জ্বর বা কাশির লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হামের লক্ষণ কীভাবে বুঝবেন, বাঁচতে কী করবেন
দেশে পুনরায় হাম রোগের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ভাইরাসজনিত এই অত্যন্ত সংক্রামক রোগটি বিশেষ করে শিশুদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া এই রোগ খুব দ্রুত একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে, ফলে পরিবার ও সমাজ পর্যায়ে দ্রুত বিস্তার লাভের আশঙ্কা থাকে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেক সময় সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতো মনে হওয়ায় অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি জটিল ভাইরাস সংক্রমণ, যা সময়মতো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে মারাত্মক জটিলতায় রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে বা যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের জন্য এই রোগ আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
রোগের শুরুতে সাধারণত উচ্চমাত্রার জ্বর দেখা দেয়, যা অনেক ক্ষেত্রে ১০৩ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় সর্দি, নাক দিয়ে পানি পড়া, শুকনো কাশি এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া। অনেক ক্ষেত্রে চোখে পানি পড়া এবং আলো সহ্য করতে না পারার সমস্যাও দেখা যায়, যা রোগের অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
পরবর্তী ধাপে, সাধারণত ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে মুখমণ্ডল থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে। এই ফুসকুড়িগুলো ধীরে ধীরে গাঢ় হয় এবং একত্রিত হয়ে বড় আকার ধারণ করতে পারে। একই সঙ্গে মুখের ভেতরে গালের অংশে ছোট ধূসর-সাদা দাগ দেখা যায়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে কপলিক স্পট বলা হয় এবং এটি হাম শনাক্তকরণের একটি নির্ভরযোগ্য লক্ষণ।
হাম রোগের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো এর জটিলতা। চিকিৎসকদের মতে, অবহেলা করলে নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ, এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে।
চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় রোগীকে দ্রুত আইসোলেশনে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সহজেই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্তত ৪ থেকে ৭ দিন আলাদা রাখা হলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।
পাশাপাশি, রোগীর শরীরে পানিশূন্যতা যেন না হয়, সে জন্য পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার দেওয়া জরুরি। পুষ্টিকর খাবার যেমন ফল, শাকসবজি এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য রোগীর দ্রুত সুস্থতায় সহায়ক ভূমিকা রাখে। বিশ্রামও এই রোগ মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, ভিটামিন-এ সাপ্লিমেন্ট হাম রোগের জটিলতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এটি বিশেষ করে চোখের ক্ষতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ এবং শিশুদের ক্ষেত্রে এটি একটি অপরিহার্য সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে বিবেচিত।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও সংক্রমণ প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড়, বিছানা, তোয়ালে এবং অন্যান্য সামগ্রী আলাদা রাখা উচিত এবং নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে।
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। নির্ধারিত বয়সে শিশুদের এমএমআর টিকা প্রদান করলে এই রোগের সংক্রমণ প্রায় সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির আওতা বাড়ানো না গেলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।
এছাড়া, যদি রোগীর জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হয়, শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় বা কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ প্রকাশ পায়, তাহলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণই এই রোগের জটিলতা এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সার্বিকভাবে, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য কিন্তু অবহেলিত হলে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে এমন একটি সংক্রামক রোগ। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো চিকিৎসা এবং টিকাদানের মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা এখন সময়ের দাবি।
দেশে হামের ভয়াবহ প্রকোপ: টিকা ও পুষ্টির অভাবে সংকটে হাজারো শিশু
বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে হঠাৎ করেই উদ্বেগজনক হারে হামের প্রকোপ বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের মতে, গত কয়েক বছরে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, শিশুদের পুষ্টিহীনতা এবং ভাইরাসের ধরনে সম্ভাব্য পরিবর্তনের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মার্চ মাস জুড়েই সারাদেশে অন্তত ২০টি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে হামের দুটি টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৩৩ শতাংশের বয়সই ৯ মাসের কম। রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। ময়মনসিংহে সম্প্রতি আরও দুটি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ বিভিন্ন মেডিকেলে রোগীর ভিড় বাড়ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার দে জানিয়েছেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে; একজন আক্রান্ত শিশু থেকে আরও ১৮ জন সংক্রমিত হতে পারে। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যার ফলে নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ার মতো জটিলতা তৈরি হয়ে শিশুর মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, গত আট বছর ধরে দেশে কোনো বিশেষ হাম নির্মূল ক্যাম্পেইন না হওয়ার কারণেই এই শূন্যতা তৈরি হয়েছে। করোনা মহামারি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। এছাড়া শিশুদের মায়ের বুকের দুধ পর্যাপ্ত না খাওয়ানো, কৃমিনাশক ওষুধের অভাব এবং সার্বিক অপুষ্টি সংক্রমণকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। এমনকি বর্তমান টিকার মান বা ভাইরাসের নতুন কোনো রূপান্তর ঘটেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতোমধ্যে ৬০০ কোটি টাকা টিকার জন্য বরাদ্দ দিয়েছে। রাজধানীসহ বড় দশটি মেডিকেল কলেজে হামের রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড এবং বিশেষ আইসিইউ-ভেন্টিলেটর সুবিধা চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানিয়েছেন, আগামী জুলাই-আগস্ট মাসে দেশজুড়ে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরুর প্রস্তুতি চলছে। গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গ্যাভি) মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ২ কোটি সিরিঞ্জ সরবরাহ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তীব্র জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া বা শরীরে র্যাশ দেখা দিলে শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যেহেতু ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ছে, তাই টিকার বয়সসীমা এগিয়ে আনা যায় কি না, সে বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। বর্তমানে আক্রান্তদের উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, সঠিক সময়ে টিকা প্রদান এবং পুষ্টির দিকে নজর দিলে এই রোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা
হেপাটাইটিস ‘ই’ চিকিৎসায় যুগান্তকারী আবিষ্কার: লাখো প্রাণ বাঁচাতে নতুন আশার আলো
প্রাণঘাতী হেপাটাইটিস ‘ই’ ভাইরাসের চিকিৎসায় এক অভাবনীয় সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন একদল আন্তর্জাতিক গবেষক। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে হেপাটাইটিস ‘সি’ রোগের জন্য পরীক্ষাধীন একটি বিশেষ ওষুধ হেপাটাইটিস ‘ই’ ভাইরাসের বিরুদ্ধেও অত্যন্ত শক্তিশালী ও কার্যকর। প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৭০ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া এই ভাইরাসের সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা বা অনুমোদিত ভ্যাকসিন এতদিন না থাকায়, এই আবিষ্কারকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিখ্যাত মেডিকেল জার্নাল ‘গাট’-এ গত ৬ মার্চ ২০২৬ প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফল থেকে জানা যায়, জার্মানির বোচাম ও হাইডেলবার্গ এবং চীনের বেইজিংয়ের বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন। তারা ‘বিএমএন ফসবিউভির’ (BMN Phosbuvir) নামক একটি যৌগকে হেপাটাইটিস ‘ই’ ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরিতে বাধা দিতে সক্ষম এক শক্তিশালী উপাদান হিসেবে শনাক্ত করেছেন। বিভিন্ন ওষুধের লাইব্রেরি থেকে নিখুঁত পরীক্ষার মাধ্যমে এই যৌগটি নির্বাচন করা হয়েছে। যেহেতু ওষুধটি ইতোমধ্যে হেপাটাইটিস ‘সি’-এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাই এটি খুব দ্রুতই সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
হেপাটাইটিস ‘ই’ মূলত লিভারের একটি গুরুতর সংক্রমণ, যা সঠিক চিকিৎসা ও প্রতিষেধকের অভাবে অনেক সময় প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ হওয়া এই ভাইরাসটির বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো কোনো অস্ত্র এতদিন বিজ্ঞানীদের হাতে ছিল না। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে। তবে মানুষের ওপর এর চূড়ান্ত কার্যকারিতা এবং দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে আরও কিছু ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলমান রয়েছে।
/আশিক
সামাজিক কুসংস্কার ছাপিয়ে গবেষণায় পিরিয়ড: জরায়ুর ক্যানসার প্রতিরোধে নতুন হাতিয়ার
নারীদের মাসিক বা পিরিয়ডকে দীর্ঘকাল ধরে কেবল একটি স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হলেও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এখন একে শরীরের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যের এক অনন্য বার্তাবাহক হিসেবে গণ্য করছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে প্রতি মাসে নির্গত এই রক্ত আসলে প্রজননতন্ত্রের বাইরেও শরীরের অন্যান্য অঙ্গের অবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন পিরিয়ডের রক্তে এমন অনেক জৈবিক তথ্য সংরক্ষিত থাকে যা সাধারণ রক্ত বা লালার পরীক্ষায় সহজে ধরা পড়ে না।
এই রক্তে জরায়ু, ডিম্বাশয় এবং ফ্যালোপিয়ান টিউব থেকে আসা বিভিন্ন কোষ, হরমোন, প্রোটিন ও ব্যাকটেরিয়া মিশে থাকে যা নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা দিতে সক্ষম। গবেষকরা একে এক ধরনের প্রাকৃতিক বায়োপসি হিসেবে অভিহিত করছেন যা ভবিষ্যতের রোগ নির্ণয় পদ্ধতিকে আমূল বদলে দিতে পারে।
বিশেষ করে এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো জটিল রোগ শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে পিরিয়ডের রক্ত এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। বর্তমানে এই রোগটি নির্ণয় করতে ল্যাপারোস্কোপির মতো ছোটখাটো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় যেখানে পেটের ভেতর ক্যামেরা ঢুকিয়ে পরীক্ষা করা হয়। এটি যেমন সময়সাপেক্ষ তেমনি রোগীর জন্য বেশ কষ্টকর। ‘নেক্সটজেন জেন’-এর প্রধান নির্বাহী রিধি তারিয়াল জানান যে পিরিয়ডের রক্ত বিশ্লেষণ করেই ভবিষ্যতে কোনো রকম অস্ত্রোপচার ছাড়াই এন্ডোমেট্রিওসিস শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
এছাড়া জরায়ুর ক্যানসার, অ্যাডেনোমায়োসিস এবং বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ প্রদাহজনিত সমস্যার ইঙ্গিতও এই রক্ত থেকে পাওয়া যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে পিরিয়ডের রক্তে শত শত প্রোটিন ও জৈবিক উপাদান থাকে যা শরীরের ভেতরের সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো স্পষ্ট করে তোলে। এমনকি থাইরয়েডের সমস্যা বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতার মতো বিষয়গুলোও এই রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা সম্ভব।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো পিরিয়ডের রক্ত দিয়ে এখন ডায়াবেটিস শনাক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ চলছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে মাসিকের রক্তে শর্করার মাত্রা শরীরের মূল রক্তপ্রবাহের শর্করার মাত্রারই সঠিক প্রতিফলন ঘটায়। একইভাবে শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব বা কোনো বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতিও এই রক্তের মাধ্যমে নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা যেতে পারে। এছাড়া যৌনবাহিত রোগ যেমন এইচপিভি বা ক্ল্যামাইডিয়ার মতো সংক্রমণ শনাক্ত করতেও পিরিয়ডের রক্ত ব্যবহারের ওপর ব্যাপক গবেষণা চলছে যা প্রচলিত প্যাপ স্মিয়ার পদ্ধতির চেয়েও বেশি কার্যকর হতে পারে।
এতদিন সামাজিক কুসংস্কার ও অবহেলার কারণে এই ক্ষেত্রটি গবেষণার বাইরে থাকলেও এখন বিভিন্ন বায়োটেক কোম্পানি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করছে। আশা করা হচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে নারীরা ঘরে বসেই নিজেদের পিরিয়ড রক্ত পরীক্ষা করে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সম্পর্কে সব জরুরি তথ্য জানতে পারবেন যা দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে এবং দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা দূর করতে সাহায্য করবে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
মাশরুম এখন সুপারফুড! জেনে নিন জাদুকরী ৫ উপকারিতা
একসময় 'ব্যাঙের ছাতা' বলে অবহেলিত মাশরুম এখন অনেকের কাছেই পরিচিত এবং প্রিয় খাবার হয়ে উঠেছে। বর্তমানে রাস্তার ধারের স্ট্রিট ফুড থেকে শুরু করে আধুনিক রান্নাঘর—সবখানেই মাশরুমের জয়জয়কার। ফাস্টফুড, স্যুপ কিংবা দৈনন্দিন সবজি রান্নায় এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। মাশরুম শুধু স্বাদের জন্যই নয়, বরং এর অসাধারণ কিছু স্বাস্থ্যগুণ ও পুষ্টিমানের জন্য এখন সবার খাদ্যতালিকায় গুরুত্ব পাচ্ছে। যারা এখনো মাশরুম খেতে দ্বিধা করেন, তাদের জন্য এর পাঁচটি জাদুকরী উপকারিতা তুলে ধরা হলো।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র ১৮ গ্রাম মাশরুম (যা প্রায় দুটি মাঝারি আকারের মাশরুমের সমান) খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। মাশরুমে ‘এরগোথিওনাইন’ নামক এক বিশেষ অ্যামিনো অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা কোষের ক্ষয় রোধ করে। শিটাকে, অয়স্টার ও কিং অয়স্টারের মতো প্রজাতিগুলোতে এই উপাদান বেশি থাকলেও যেকোনো মাশরুম নিয়মিত খাওয়া শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারণ হলো অতিরিক্ত সোডিয়াম বা লবণের ব্যবহার। মাশরুমে সোডিয়াম বা লবণের পরিমাণ প্রাকৃতিকভাবেই অনেক কম। যেমন, এক কাপ হোয়াইট বাটন মাশরুমে মাত্র ৫ মিলিগ্রাম সোডিয়াম থাকে। এটি খাবারে প্রাকৃতিক স্বাদ যুক্ত করে, ফলে রান্নায় বাড়তি লবণের প্রয়োজন কম হয় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
লাল মাংসের বদলে মাশরুম হতে পারে স্বাস্থ্যের জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। এতে চর্বি ও কোলেস্টেরল নেই বললেই চলে। বিশেষ করে শিটাকে মাশরুম শরীরে কোলেস্টেরল তৈরি হতে বাধা দেয় এবং রক্তে এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। যারা ওজন বা হৃদরোগ নিয়ে চিন্তিত, তাদের জন্য মাশরুম একটি আদর্শ খাবার।
মাশরুমে থাকা প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন-বি মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারগুলোকে সচল রাখতে সাহায্য করে। এতে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন গবেষণা বলছে, সপ্তাহে অন্তত দুই কাপ মাশরুম খেলে মস্তিষ্কের কগনিটিভ ইমপেয়ারমেন্ট বা স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি প্রায় অর্ধেক কমে যায়।
শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে মাশরুমের সেলেনিয়াম অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। এটি কোষকে ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। এছাড়া এতে থাকা ভিটামিন বি৬ শরীরে লাল রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে, যা শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পৌঁছে দিয়ে শরীরকে সতেজ ও কর্মক্ষম রাখে।
সূত্র: ইউসিএলএ হেলথ, সিডার্স-সিনাই হেলথ লাইব্রেরি
৪০% ক্ষমতা হারানোর আগে লক্ষণ মেলে না! কিডনি বাঁচাতে যা করবেন
শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পরিশ্রমী অঙ্গ কিডনিকে বলা হয় ‘সাইলেন্ট কিলার’। কারণ, এর কার্যক্ষমতা প্রায় ৪০ শতাংশ না হারানো পর্যন্ত অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণই প্রকাশ পায় না। সম্প্রতি ‘অনলি মাই হেলথ’-এর এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা কিডনি সুস্থ রাখা এবং এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো চেনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞ রিতেশ বাওরির মতে, কিডনি প্রথম দিকে নিজেই নিজের ক্ষতিপূরণ করে কাজ চালিয়ে যায় বলে রোগ ধরা পড়তে দেরি হয়। তবে শরীরের কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তনের দিকে নজর দিলে আগেভাগে সতর্ক হওয়া সম্ভব। যেমন—প্রস্রাবে অস্বাভাবিক ফেনা বা বুদবুদ হওয়া, রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি অনুভব করা এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ বা পা ফুলে যাওয়া। এছাড়া হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়াও কিডনি সমস্যার একটি বড় সংকেত।
কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকরা মূলত eGFR এবং Urine Albumin-to-Creatinine Ratio—এই দুটি পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে বলেছেন। এছাড়া ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। দৈনন্দিন অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন, যেমন—লবণ ও প্রসেসড খাবার কম খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত হাঁটাচলা কিডনিকে দীর্ঘকাল সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- সতর্ক হোন! ডায়াবেটিসের এই লক্ষণগুলো অবহেলা করলে বাড়ছে বড় ঝুঁকি
- ফুটবল বিশ্বকে চমকে দেওয়া আল্টিমেটাম: বিশ্বকাপে কি দেখা যাবে না ইরানকে?
- মধ্যপ্রাচ্যে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব: শান্তির পথে কি হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান?
- হুমকির শেষে আল্লাহর নাম: ট্রাম্পের বিতর্কিত পোস্ট ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
- তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা, লক্ষ্যবস্তু বিশ্ববিদ্যালয়
- যৌথ হামলায় নিহত ইরানি শীর্ষ কমান্ডার: উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য
- তেলের বাজারে আগুনের সংকেত: ১৯৭০-এর রেকর্ড ভাঙতে পারে বর্তমান সংকট
- আজহারীর পর এবার শায়খ আহমাদুল্লাহ! অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিল
- টানা ৪ বার বাড়ার পর অবশেষে কমল স্বর্ণের দাম!
- ঢাকার কোন কোন এলাকার মার্কেট বন্ধ? জেনে নিন তালিকা
- দুপুর ১টার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়! ৫ জেলায় বিশেষ সতর্কবার্তা
- ৬ এপ্রিল ২০২৬: সোমবারের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময়
- চিরতরে বদলে গেল হরমুজ প্রণালি! ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বন্ধ হচ্ছে পথ?
- জ্বালানি সংকটে বড় স্বস্তি! চট্টগ্রাম বন্দরে এলএনজি ও তেলবাহী ৪ জাহাজ
- দৈনিক গড়ে এক হাজার কোটি! প্রবাসীদের পাঠানো আয়ে রেকর্ডের ছড়াছড়ি
- হৃৎস্পন্দনই এখন আপনার পাসওয়ার্ড! ডিজিটাল নিরাপত্তায় নতুন বিপ্লব
- দৈনিক আজাদ বাণী পত্রিকার ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
- গুমের অপরাধীরা আইনের ফাঁক দিয়ে পার পাবে না: আইনমন্ত্রী
- এক রণাঙ্গনে লড়াই, তিন রণাঙ্গনে জয়! শহীদ ইমামের কালজয়ী সংগ্রামের মহাকাব্য
- ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম! ইরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের
- কুমিল্লার দেবীদ্বার গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার
- বোর্ডে অস্থিরতা: ৬ মাসেই ৭ পরিচালকের পদত্যাগ, তবুও অনড় বিসিবি সভাপতি
- রামাত হোভাভে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের হানা! জ্বলছে ইসরায়েলি শিল্পাঞ্চল
- সড়কে তরুণদের সবুজ উদ্যোগ মুরাদনগরে সড়কের দুই পাশে ২০০ বৃক্ষ রোপণ
- তারেক রহমানের কার্যালয়ে বড় নিয়োগ! দায়িত্ব পেলেন দুই বিশ্বস্ত মুখ
- জয় শাহর সঙ্গে লবিং! বিসিবি নিয়ে আসিফ মাহমুদের বিস্ফোরক অভিযোগ
- ইরানের নতুন দফার হামলা শুরু! ইসরায়েলে বাজছে সাইরেন ও হাহাকার
- দোকানপাট ও শপিংমলের সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন! আজ থেকেই কার্যকর
- শিলাবৃষ্টির সাথে ঝোড়ো হাওয়া! ১৫ জেলায় আবহাওয়ার বিশেষ বার্তা
- পাইলট উদ্ধারে যৌথ হামলা! ইরানের মাটিতে মার্কিন-ইসরায়েলি কমান্ডোরা
- আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- আজকের শেয়ারবাজারে বেশি লোকসানে যেসব কোম্পানি
- আজকের শেয়ারবাজারে এগিয়ে কোন শেয়ারগুলো
- অনলাইন ক্লাস কি আসছে? যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী
- তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
- হাসপাতালে ট্রাম্প, না কি গুজব? সত্য জানাল হোয়াইট হাউস
- যেসব শিশুকে দেওয়া যাবে না হামের টিকা! স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সতর্কতা
- ৬০ কিমি বেগে ঝড় আসছে! ঢাকাসহ ১৬ জেলায় কালবৈশাখীর সতর্কতা
- এবার সংঘাত হবে কলকাতা পর্যন্ত! ভারতকে চরম হুমকি পাকিস্তানের
- ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতির অপচেষ্টা চলছে: মির্জা ফখরুল
- ইরানের কমান্ডোদের হানা! আকাশে গুঁড়িয়ে গেল মার্কিন সি-১৩০ বিমান
- বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দুশ্চিন্তা? মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল কমানোর সহজ উপায়
- কুয়েতে ইরানের ‘ক্রিমিনাল আগ্রাসন’! জ্বালানি অবকাঠামোয় ভয়াবহ আঘাত
- গ্রিন কার্ড বাতিল! যুক্তরাষ্ট্রে কাসেম সোলেমানির স্বজনদের গ্রেপ্তার
- হামলা হলে ‘নরকের দ্বার’ খুলে যাবে! যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের চরম হুঁশিয়ারি
- আল জাজিরার লাইভ: ইরান থেকে সফলভাবে ফিরেছেন মার্কিন পাইলট
- সোনায় সোহাগা নয়, আগুনের ছোঁয়া! ভরিতে নতুন রেকর্ড উচ্চতা
- মার্কিন ‘এমকিউ-১’ ড্রোন ভূপাতিত! রণক্ষেত্রে পাল্টা চাল ইরানের
- মার্কিন সেনাদের সাথে ইরানে থাকছে না ইসরায়েল! ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা?
- নিখোঁজ মার্কিন পাইলট উদ্ধার!চলছে ইরানি বাহিনীর সাথে তুমুল লড়াই
- সোনায় সোহাগা নয়, আগুনের ছোঁয়া! ভরিতে নতুন রেকর্ড উচ্চতা
- ভারতের বিপক্ষে মহাযুদ্ধ! কাল সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের মেগা ফাইনাল
- স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ভরিতে বেড়েছে যত
- ৩১ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ইরানের পক্ষে লড়বে চেচেন যোদ্ধারা! কাদিরভ বাহিনীর ‘জিহাদ’ ঘোষণা
- কালিগঞ্জে কাটুনিয়া রাজবাড়ী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াহাব চূড়ান্ত বরখাস্ত
- চীনের ৫ দফা প্রস্তাব! ইরান যুদ্ধ থামাতে বেইজিং-ইসলামাবাদ ঐতিহাসিক চুক্তি
- হামের লক্ষণ কীভাবে বুঝবেন, বাঁচতে কী করবেন
- শেষ ৪ মিনিটের ঝড়ে উড়ে গেল ক্রোয়েশিয়া! ব্রাজিলের বিধ্বংসী জয়
- আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ৩০ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ০১ এপ্রিল ডিএসই: দরপতনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি
- ০১ এপ্রিল ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- দুই দশক পর ফিরল হামের আতঙ্ক: শিশুদের সুরক্ষায় নতুন সতর্কবার্তা
- এক লাফে ভরিতে বাড়ল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা: স্বর্ণের বাজারে আগুন








