মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার
তবে কি বাহরাইনের বন্ধ দুয়ার খুলতে চলছে?
মোঃ মাহির তালুকদার আলম
বাহারাইন প্রতিনিধ

অবশেষে প্রায় সাত বছর পর মধ্যপ্রাচ্যের দ্বীপ দেশ বাহরাইনে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এই শ্রমবাজারটি পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সারোয়ার।
গত ১ জুন বাহরাইনের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স সালমান বিন হামাদ আল খলিফার সঙ্গে রিফা প্রাসাদে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন রাষ্ট্রদূত সারোয়ার। তিনি সাক্ষাৎ শেষে জানান, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বাহরাইনের শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সালমান সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এই বিষয়টি দ্রুত সমাধানে তাঁর মন্ত্রিসভার একজন সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সারোয়ার এ সময় বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শুভেচ্ছা বার্তা বাহরাইনের যুবরাজের কাছে পৌঁছে দেন। যুবরাজ সালমান বিন হামাদ আল খলিফা বৈঠকে বাহরাইনে কর্মরত বাংলাদেশি কমিউনিটির ইতিবাচক ভূমিকা ও কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন।
এ সময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান এ.কে.এম. মহিউদ্দিন কায়েস। বাহরাইনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ বিষয়ক মন্ত্রী হামাদ বিন ফয়সাল আল মালকি, ক্রাউন প্রিন্সের আদালতের প্রধান শেখ সালমান বিন আহমেদ আল খলিফা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক হামাদ আল মাহমুদ।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের পর থেকে বাহরাইনে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন অনিয়ম, নিয়োগে জালিয়াতি ও শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের কারণে শ্রমবাজারে স্থবিরতা দেখা দেয়। এতে বাংলাদেশিদের জন্য ওই দেশে কাজের নতুন সুযোগ বন্ধ হয়ে যায় এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তবে সর্বশেষ কূটনৈতিক আলোচনায় যে আশার সঞ্চার হয়েছে, তা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বড় অর্জন হবে। এতে শুধু কর্মসংস্থানই নয়, রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় পরিবর্তন আনার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইরান থেকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের ধাক্কায় কাঁপছে মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েল
লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং তার জবাবে ইরানের উপর্যুপরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন পুরোপুরি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আজ সোমবার (৮ দিন ২০২৬) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান থেকে নতুন করে ছোঁড়া এক ঝাঁক শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে রাজধানী তেল আবিব এবং পবিত্র জেরুজালেমসহ মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি প্রধান শহরে উচ্চশব্দে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে উঠেছে। আইডিএফ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান থেকে ধেয়ে আসা এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রাডারে শনাক্ত করার পরপরই দেশের ‘অ্যারো’ ও ‘ডেভিডস স্লিং’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং সেগুলো মাঝআকাশেই ধ্বংস করার জোর চেষ্টা চলছে।
তেল আবিব ও জেরুজালেম ব্যুরো থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ সংবাদ অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কেবল মূল ইসরায়েলই নয়, বরং অবরুদ্ধ পূর্ব জেরুজালেম এবং পশ্চিম তীরের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়েও অনবরত বিপৎসংকেতের সাইরেন শোনা গেছে। ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধেয়ে আসা ইরানি মিসাইলগুলো আকাশে ধ্বংস করার চেষ্টা করার সময় বাতাসের উচ্চ স্তরে বেশ কয়েকটি বিকট ও কানফাটানো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যার ফলে পুরো উপত্যকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মূলত এর আগে কার্যকর থাকা একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দাহিয়েহ জেলায় বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ওই হামলার পর ইরানের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা কঠোর ও বিধ্বংসী প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং তারই প্রত্যক্ষ জের ধরে এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হলো।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, গতকাল রাত থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত তিন দফায় ইরান থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে প্রায় ১০টি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যার কারণে উত্তর ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি শহরেও অনবরত সাইরেন বাজছিল। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের রামাট ডেভিড বিমানঘাঁটিসহ একাধিক সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীও আজ সকাল থেকে ইরানের পশ্চিমা ও মধ্যাঞ্চলীয় সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে—বিশেষ করে তেহরান, তাবরিজ ও ইসফাহানে পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। দুই দেশের এই মুখোমুখি ও সরাসরি যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিয়ন্ত্রিত আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ইরানের রাস্তায় গান কিওস্ক: নারীদের দেওয়া হচ্ছে একে-৪৭ রাইফেল চালনার ট্রেনিং
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে সামরিক হামলা ও চরম আলটিমেটামের পর ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির প্রধান প্রধান শহরগুলোতে যুদ্ধ উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে তেহরানের বিস্তৃত নগরজুড়ে এবং আলবোরজ পর্বতমালার বরফঢাকা চূড়াগুলোর পেছনে অন্ধকার নেমে এলে হাজার হাজার মানুষ নিয়মিতভাবে রাস্তায় নেমে আসছেন। দেশজুড়ে গত তিন মাস ধরে চলা রাষ্ট্রীয় সমর্থনের এই সমাবেশগুলোকে বলা হচ্ছে ‘নাইট গ্যাদারিংস’, যেখানে মূলত সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রবল যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব চাঙ্গা করার চেষ্টা চলছে।
তেহরানের অভিজাত এলাকা তাজরিশ স্কয়ারের কেন্দ্রস্থলে এখন প্রতিদিনের মতোই বজ্রকণ্ঠে শোনা যাচ্ছে ‘যুক্তরাষ্ট্র নিপাত যাক’ স্লোগান। ইরানের জাতীয় পতাকার সমুদ্রে ভাসতে থাকা জনতার ভিড়ে উৎসাহী বিক্রেতারা চা, স্মারক সামগ্রী, দেশপ্রেমমূলক ক্যাপ ও ব্যাজ বিক্রি করছেন। ইরানের পতাকার রঙে সাজানো চশমা পরা তিয়ানা নামে এক ইরানি তরুণী রণহুঙ্কার দিয়ে বলেন, ‘আমি আমার দেশ ও জনগণের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। আমাদের সেনাবাহিনী ও সব কমান্ডার—সবাই নিজেদের জীবন দিতে এবং পূর্ণ মন-প্রাণ দিয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত।’
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এর দেওয়া হুমকিকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে তারা (আমেরিকা) দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে তাদের জন্যই আসলে মধ্যপ্রাচ্যে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’ উল্লেখ্য, ট্রাম্প তাঁর পোস্টে হুমকি দিয়েছিলেন যে—ইরানকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, অন্যথায় মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, যা চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে।
তাজরিশ স্কয়ারে উপস্থিত এক প্রবীণ ব্যক্তি হাতে লেখা একটি পোস্টার উঁচিয়ে ধরে বলেন, ‘পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি আমাদের সীমান্তের মতোই গুরুত্বপূর্ণ, আমরা তা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করব। তবে আমাদের পারমাণবিক বোমা দরকার নেই, আমাদের দরকার পরিচ্ছন্ন শক্তি ও বিদ্যুৎ।’ তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পও জানেন ইরানের কাছে পারমাণবিক বোমা নেই, তবুও তিনি কেবল চাপের রাজনীতি করছেন।
তবে ইরানজুড়ে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হতে পারে—এমন জল্পনা ও গভীর উদ্বেগ ক্রমশ সাধারণ মানুষের মনে দানা বাঁধছে। লন্ডন ও দুবাইয়ে বড় হওয়া ফাতিমা নামের এক নারী বলেন, ‘আমরা জানি এই যুদ্ধ শেষ হয়নি। ট্রাম্প আসলে আলোচনা বা কূটনৈতিক উপায়ে বিশ্বাস করেন না। তিনি হয়তো বলবেন—তোমরা আমি যা বলি তাই করো, না হলে আমি তোমাদের হত্যা করব।’
উত্তেজনার পারদ এতটাই চড়েছে যে, তেহরানের ভানাক স্কয়ারসহ বিভিন্ন জনাকীর্ণ স্থানে এখন ‘গান কিওস্ক’ বা অস্ত্র ব্যবহারের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে সাধারণ নাগরিকদের, বিশেষ করে নারীদের একে-৪৭ (AK-47) রাইফেল সচল করা ও তা খুলে আবার জোড়া লাগানোর সামরিক শিক্ষা দিচ্ছেন মুখোশধারী ইরানি সেনারা। এমনকি ছোট শিশুদেরও খালি কালাশনিকভ হাতে মহড়া দিতে দেখা যাচ্ছে।
এই যুদ্ধংদেহী ভাব এখন গ্রাস করেছে দেশটির মিডিয়াকেও। ইরানের রাষ্ট্রীয় চ্যানেল ‘অফোগ’-এর পুরুষ উপস্থাপক হোসেইন হোসেইনি সরাসরি সম্প্রচার চলাকালীন স্টুডিওর ছাদের দিকে গুলি ছুঁড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন। অন্যদিকে চ্যানেল-৩-এর নারী উপস্থাপক মোবিনা নাসিরিও লাইভ শো-তে রাইফেল হাতে দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ‘ভানাক স্কয়ার থেকে আমাকে একটি অস্ত্র পাঠানো হয়েছে, যাতে আমি আপনাদের মতোই এটি ব্যবহার শিখতে পারি এবং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে পারি।’
সূত্র: সিএনএন
আড়াই মাস পর খুলল হরমুজ প্রণালি
দীর্ঘ আড়াই মাস অবরুদ্ধ থাকার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালির দুয়ার খুলল ইরান। তবে কৌশলগত এই সিদ্ধান্তে আপাতত কেবল চীনের জাহাজগুলোই চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। বুধবার (১৩ মে) রাত থেকে ইরানি নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে চীনা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর যাতায়াত শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান এই রুট দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিল। দীর্ঘ উত্তেজনার পর বেইজিংয়ের বিশেষ অনুরোধে এবং একটি নির্দিষ্ট ‘ট্রানজিট প্রোটোকল’ চুক্তির অধীনে জাহাজ চলাচলের এই অনুমতি দেয় তেহরান। মূলত চীনের জ্বালানি চাহিদার একটি বিশাল অংশ এই রুট দিয়ে সরবরাহ করা হয় বলেই ইরানের এই নমনীয় অবস্থান।
এই সিদ্ধান্তের সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বেইজিংয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ইরান এই ঘোষণা দিল। শি জিনপিংয়ের সাথে ট্রাম্পের আলোচনায় হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান এই অনুমতির মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে বার্তা দিতে চাইল যে, তেহরানের ওপর বেইজিংয়ের বিশেষ প্রভাব রয়েছে এবং জ্বালানি কূটনীতিতে ইরান এখনো চালকের আসনে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্ববাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়। গত আড়াই মাস এই রুট বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছিল। চীনের জন্য রুটটি আংশিক খুলে দেওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সংকটে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে অন্যান্য দেশের জাহাজের জন্য এই পথ কবে নাগাদ উন্মুক্ত হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
/আশিক
আলোচনায় ফেরার জন্য মার্কিনীদের সামনে ইরানের ৫ শর্ত: তেহরানের অনড় অবস্থান
জেনেভা আলোচনা চলাকালে শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলা এবং শারজাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চরমে। যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ওয়াশিংটনের ১৪ দফা প্রস্তাবের বিপরীতে এবার শক্ত অবস্থান নিল তেহরান। ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসার জন্য পাঁচটি কড়া শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান।
ইরানের পাঁচ শর্ত
১. লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করতে হবে।
২. ইরানের ওপর আরোপিত সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।
৩. বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জব্দ করা ইরানি অর্থ ও সম্পদ অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে।
৪. যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
৫. হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একক ও সার্বভৌম অধিকারের স্বীকৃতি দিতে হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি চলা সত্ত্বেও আরব সাগর ও ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ অব্যাহত থাকায় তেহরানের মনে চরম অবিশ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান এই বার্তা দিয়েছে যে, অবরোধ বহাল রেখে আলোচনার পরিবেশ তৈরি সম্ভব নয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিহতের ঘটনার পর প্রতিশোধ হিসেবে ইসরাইল ও মার্কিন ঘাঁটিতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৭ এপ্রিল ট্রাম্পের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এবং ১১ এপ্রিলের ইসলামাবাদ বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় নৌ-অবরোধ শুরু হয়। গত রোববার ইরান তাদের এই পাঁচ শর্ত পাঠালেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেটিকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার সম্ভাবনা বর্তমানে অনিশ্চয়তার মুখে।
/আশিক
ইরানের ভেতরে সৌদির গোপন হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন মোড়
মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ এবার সরাসরি সামরিক সংঘাতের রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিজেদের ভূখণ্ডে হামলার প্রতিশোধ নিতে এবার ইরানের ভেতরে ঢুকে গোপনে একাধিক সামরিক অভিযান চালিয়েছে সৌদি আরব। পশ্চিমা ও ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত এই তথ্য মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তায় এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চের শেষ দিকে সৌদি বিমানবাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে এসব বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। দুইজন পশ্চিমা কর্মকর্তার দাবি, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ইরানের সাম্প্রতিক হামলার জাবাবেই এই ‘কাউন্টার অ্যাটাক’ বা পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। তবে ইরানের ঠিক কোন কোন স্থানে বা স্থাপনায় এই হামলা হয়েছে, তা কৌশলগত কারণেই এখনো গোপন রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে সৌদি আরবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি কোনো স্বীকৃতি না দিলেও হামলা অস্বীকারও করেনি। অন্যদিকে, তেহরানও এই স্পর্শকাতর বিষয়ে এখনো নিশ্চুপ রয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই গোপন হামলা সৌদি আরবের কয়েক দশকের পুরনো নিরাপত্তানীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সংকেত। এতদিন রিয়াদ তাদের নিরাপত্তার জন্য মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ছাতার ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু গত ১০ সপ্তাহ ধরে চলা আঞ্চলিক যুদ্ধে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা বলয়ে সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হওয়ার পর, সৌদি আরব এখন ‘অফেন্সিভ’ বা আক্রমণাত্মক কৌশল বেছে নিয়েছে। অর্থাৎ, অন্যের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি শত্রুর ডেরায় আঘাত করার সক্ষমতা ও সদিচ্ছা প্রদর্শন করছে দেশটি।
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই দুই আঞ্চলিক শক্তির প্রক্সি যুদ্ধ এখন সরাসরি সংঘাতে রূপ নেওয়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা এবং সরাসরি সীমান্ত লঙ্ঘনের এই ঘটনাগুলো কেবল বৈশ্বিক তেলের বাজারকেই অস্থিতিশীল করছে না, বরং একটি বৃহত্তর যুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি করছে। সৌদি আরবের এই সাহসী ও আক্রমণাত্মক অবস্থান তেহরানকে নতুন করে রণকৌশল সাজাতে বাধ্য করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
/আশিক
বিশ্বের ২০% জ্বালানি এখন ইরানের কবজায়? হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন ‘যুদ্ধ’ শুরু
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের উত্তাপ এবার আছড়ে পড়ল বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে। সোমবার (১১ মে) শিপিং জার্নাল ‘লয়েডস লিস্ট’ জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালির ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নিতে কঠোর বিধিনিষেধ ও নতুন ‘টোল’ বা ফি আরোপ করেছে ইরান। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের ২০ শতাংশই এই সরু পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় তেহরানের এই সিদ্ধান্তে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইরানের নতুন গঠিত ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ (পিজিএসএ) জানিয়েছে, এখন থেকে এই প্রণালি অতিক্রম করতে হলে সব জাহাজকে আগাম অনুমতি নিতে হবে। এজন্য ‘ভেসেল ইনফরমেশন ডিক্লারেশন’ নামে একটি ফর্মে ৪০টিরও বেশি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে জাহাজের মালিকানা, বিমা, নাবিকদের বিস্তারিত তথ্য এমনকি কার্গোর ধরন ও রুট সম্পর্কেও নিখুঁত তথ্য তেহরানকে জানাতে হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও সেনাবাহিনী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবে, তারা এই পথ ব্যবহারে চরম সংকটে পড়বে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পতাকাবাহী বা সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ এই রুট ব্যবহারের অনুমতি পাবে না বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধ ও ‘শক্তিশালী ইরান’ গড়তে তারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে।
নতুন এই সংকটের মুখে ভারত ও পাকিস্তান তেহরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন জাহাজগুলোকে এই ‘টোল’ না দেওয়ার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। বাহরাইনের সাথে মিলে জাতিসংঘে প্রস্তাব তোলার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন, তবে রাশিয়া তাতে ভেটো দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে। ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ঘিরে বিশ্ববাজারকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি।
মার্কিন প্রস্তাব অযৌক্তিক, ট্রাম্পের জবাব অগ্রহণযোগ্য: ইরান
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি আলোচনা নতুন করে অচলাবস্থার মুখে পড়েছে। সোমবার (১১ মে) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘একপেশে’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। পাল্টা জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের শর্তগুলোকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাকেই সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তারা পাকিস্তানের মাধ্যমে তাদের আনুষ্ঠানিক জবাব ওয়াশিংটনকে পাঠিয়েছেন। ইরানের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—পুরো অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধ বন্ধ করা, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার এবং বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা।
বাকেই জোর দিয়ে বলেন, "আমরা কোনো বাড়তি সুবিধা চাইছি না। আমাদের দাবিগুলো সম্পূর্ণ বৈধ—অবরোধ প্রত্যাহার, জলদস্যুতামূলক আচরণ বন্ধ এবং জব্দ করা সম্পদ ফেরত পাওয়া।" এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করাকেও তাদের প্রস্তাবের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজের প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি ইরানের প্রস্তাবকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে লিখেছেন, "আমি ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের জবাব পড়েছি। এটি আমার পছন্দ হয়নি। এই প্রস্তাব পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য!" যদিও ট্রাম্পের প্রস্তাবে কী ছিল বা ইরানের কোন শর্তে তিনি ক্ষুব্ধ, তার বিস্তারিত কোনো পক্ষই এখনো প্রকাশ করেনি।
রোমের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির বিশ্লেষক আন্দ্রেয়া দেসি এই পরিস্থিতিকে ‘মোটেও ইতিবাচক নয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। যার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে টানাপোড়েন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
/আশিক
বিশ্বজুড়ে ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পবিত্র ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। সৌদি আরবের সরকারি ক্যালেন্ডার ‘উম আল কুরা’ অনুযায়ী, আগামী ২৭ মে দেশটিতে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হতে পারে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তানের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরাও বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশ শেষে ২৭ মে ঈদ হওয়ার জোরালো সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।
সৌদি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, জিলকদ মাস ৩০ দিন পূর্ণ করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সে হিসেবে হজ বা আরাফাতের দিন পড়বে ২৬ মে এবং পরের দিন ২৭ মে উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের মুসলিম জীবনবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ‘হাইফেন অনলাইন’ জানিয়েছে, সেখানে নতুন চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২৭ অথবা ২৮ মে ঈদ শুরু হতে পারে।
বাংলাদেশে সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পর ঈদ পালিত হয়। সেই রীতি অনুযায়ী, আগামী ২৮ মে বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জিলকদ মাস যদি ২৯ দিনে শেষ হয়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশেও ২৭ মে ঈদ হতে পারে।
অবশ্য চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করছে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার ওপর। ইসলামী বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী জিলহজ মাসের ১০ তারিখে এই উৎসব পালিত হয়। বাংলাদেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি যথাসময়ে চাঁদ পর্যালোচনার মাধ্যমে পবিত্র ঈদুল আজহার সঠিক তারিখ ঘোষণা করবে।
/আশিক
খামেনি-পেজেশকিয়ান আড়াই ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক: বড় কোনো সিদ্ধান্তের পথে ইরান?
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা আলি খামেনির সঙ্গে রাজধানী তেহরানে এক দীর্ঘ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আড়াই ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB) বিস্তারিত কিছু না জানালেও, এটি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আইআরআইবি-র প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, দুই শীর্ষ নেতার এই আলোচনায় মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়ানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়টি প্রধান্য পেয়েছে। এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার অভিজ্ঞতার কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে সর্বোচ্চ নেতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আলোচনায় সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি তাকে মুগ্ধ করেছে তা হলো সর্বোচ্চ নেতার বিনয়ী, আন্তরিক ও সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ। পেজেশকিয়ানের মতে, খামেনির দৃষ্টিভঙ্গি ও কথোপকথনের ধরন পুরো বৈঠকের পরিবেশকে বিশ্বাস, শান্তি ও সরাসরি সংলাপভিত্তিক পরিবেশে রূপ দিয়েছে।
প্রেসিডেন্টের এই ইতিবাচক মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের উত্তেজনা প্রশমনে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, সর্বোচ্চ নেতার এই ‘সবুজ সংকেত’ ইরানের আগামী দিনের বৈদেশিক নীতি ও সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- পাঠ্যক্রমে ফুটবল-ক্রিকেট যুক্ত হচ্ছে, বড় বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
- সরকারি কর্মচারীদের জন্য যেসব সুবিধা বাড়ানো হয়েছে
- রঙিন খাবার কেন শরীরের জন্য জরুরি
- যুক্তরাষ্ট্রের সব শর্ত মানবে না ইরান: খামেনি
- জুমার দিনের ৫ বিশেষ আমল, যা বদলে দিতে পারে জীবন
- সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতকে সতর্ক করল পাকিস্তান
- বড় ধাক্কা শেষে কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কমেছে যত
- ইরাক ম্যাচের আগে নতুন পরিকল্পনায় ফ্রান্স
- কোন চাপের মুখে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে বাধ্য হলেন ট্রাম্প
- বের হওয়ার আগে দেখে নিন আজ কোথায় মার্কেট বন্ধ
- স্বর্ণবাজারে নতুন রেকর্ড, বেড়েছে সব ক্যারেটের সোনার দাম
- সূর্যোদয়-সূর্যাস্তসহ আজকের পূর্ণ নামাজের সময়সূচি
- ইরান চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
- ১৩ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে সংকেত
- আজ টিভিতে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়াসহ যত খেলা
- চুক্তিতে লাভবান ইরান, ধাক্কায় নেতানিয়াহু সরকার
- নর্থহ্যাম্পটনের মেয়র কর্তৃক ‘অনুপ্রেরণাদায়ক’ কমিউনিটি লিডার সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠিত
- হাইকোর্টে জামিন পেলেও কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক এমপি ব্যারিস্টার সুমনকে
- ঋণখেলাপিদের সংসদ মন্তব্য নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের তুমুল বিতর্ক
- সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত রেকর্ড বৃদ্ধি, তথ্য দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
- ৪১ বছরেও ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে রোনালদো, গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ডার্ক হর্স কারা?
- মমতাকে বাংলাদেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে নতুন বিতর্কে বিজেপির মন্ত্রী
- মেসির হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনার বড় জয়, মিলে গেল অধিনায়কের আগাম ভবিষ্যদ্বাণী
- বিশ্বকাপ যাত্রার শুরুতেই ব্রাজিলের সুখবর
- লোডশেডিংয়ে নাকাল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিদ্যুৎ উৎপাদন করেও অন্ধকারে ২১ জেলা
- জব্দ করা অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নয়, ইরানের সম্পদ: ডোনাল্ড ট্রাম্প
- এমপিদের জন্য ওভেন-ওয়াশিং মেশিনের দাবি, জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক
- শর্ত না মানলে ইরানে কঠোর নৌ-অবরোধের হুমকি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
- এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের তারিখ চূড়ান্ত, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
- এসএসএফ-এর ফায়ারিং রেঞ্জে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিশানা পরীক্ষা
- মাথা ঝুঁকিয়ে নয়, সংসদে স্পিকারকে সম্মান জানাতে হবে নিজ নিজ ধর্মীয় রীতিতে
- ১৮ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ১৮ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৮ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- কবে সরছে গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড জানালেন সেতুমন্ত্রী
- সমালোচনার মুখে রোনালদো, সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিলেন কোচ
- ইরান সমঝোতার শর্ত গোপন রাখছে যুক্তরাষ্ট্র কিন্তু কেন
- চীন সফরে তারেক রহমান, যেসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে
- ইরানের বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা ‘ভুল’ ছিল: ট্রাম্প
- ভ্যাটসহ স্বর্ণের দাম প্রকাশ করলো বাজুস
- অন্যদের থাকলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রেও আপত্তি নেই: ট্রাম্প
- আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, দেখুন বিস্তারিত
- আজকের খেলার সূচি: বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে ওভাল টেস্ট
- রোনালদো ব্যর্থ, ডিআর কঙ্গোর কাছে হোঁচট খেল পর্তুগাল
- বের হওয়ার আগে দেখে নিন আজ কোথায় মার্কেট বন্ধ
- আজ ঢাকায় কোথায় কী? এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি
- ‘সব জায়গায় বোমা ফেলতে চান নেতানিয়াহু’: ট্রাম্প
- ১৮ জুন কত দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ? জেনে নিন নতুন দর
- পর্তুগালের লাকি সিক্স ও ২০২৬ বিশ্বকাপ: ভাগ্য কি এবার রোনালদোর পাশে থাকবে?
- প্রস্তাবিত বাজেট চানাচুর মার্কার মতো শুনলে ভালো লাগে খেলে পেট খারাপ হয়: আমির হামজা
- প্রথম ম্যাচে নেইমার খেলবেন কি না, জানালেন কোচ
- পাকিস্তান-ভিয়েতনামের মত সৌরবিদ্যুতে বড় বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ?
- আজকের খেলার সূচি: বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে ওভাল টেস্ট
- সিঙ্গাপুর কিংবা কানাডা নয় ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী
- ঋণখেলাপি বিতর্কে মুখ খুললেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর
- দুই দিনেই আবার বাড়ল সোনার দাম, জানুন আজকের নতুন দর
- দুবাইয়ে আটক বেনজীর, মিলেছে তিন দেশের পাসপোর্ট!
- মদ ও সিগারেটের কর বৃদ্ধি নিয়েও আপত্তি বিরোধী দলের: প্রধানমন্ত্রী
- ১৭ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ‘এটা শান্তি নয়, আত্মসমর্পণ’—ট্রাম্পকে নিশানা
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে থাকছে যেসব ৯ বড় শর্ত
- ১৬ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৮ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- সুইডেন থেকে স্পেন, আজ জমজমাট বিশ্বকাপ সূচি
- এফবিআই ড্রোন হ্যাকের দাবি, বিশ্বকাপকে ঘিরে সাইবার হুমকি








