অবরোধে ধ্বংস হচ্ছে ইরান, জয় আমাদেরই: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ১১:৪৪:০৪
অবরোধে ধ্বংস হচ্ছে ইরান, জয় আমাদেরই: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছে। আগামীকাল বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) দুই দেশের মধ্যকার অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চললেও দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা শুরু হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে ঘোর সংশয়। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বিস্ফোরক পোস্টের মাধ্যমে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করবে না। তাঁর দাবি, এক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই মার্কিন অবরোধ ‘ইরানকে একেবারে ধ্বংস করে দিচ্ছে’ এবং এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘বড় ব্যবধানে’ জয়ী হচ্ছে। ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, ইরান সম্প্রতি বিভিন্ন জাহাজে গুলি চালিয়ে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির ‘পূর্ণাঙ্গ লঙ্ঘন’ করেছে।

এদিকে, পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হলেও ইরান এখনো তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ না তোলা পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালি খুলবে না। এর আগে গত রোববার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ জব্দ করার ভিডিও প্রকাশ করে, যাকে ইরান ‘সশস্ত্র জলদস্যুতা’ ও যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে। সেন্টকমের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে তারা ২৭টি জাহাজকে ইরানি বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে।

ইসলামাবাদে আলোচনার পরিবেশ তৈরির জন্য বড় বড় হোটেল খালি করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান পুলিশ। তবে মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখনো ওয়াশিংটন ছাড়েননি। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন তারা মঙ্গলবারই রওনা হতে পারেন। পাকিস্তান সরকার আত্মবিশ্বাসী যে তারা ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারবে, তবে তেহরান এখন পর্যন্ত ‘কোনো পরিকল্পনা নেই’ বলেই অনড় অবস্থানে রয়েছে।

/আশিক


অস্ত্রের মজুদ ফাঁকা হওয়ার খবর ‘শতভাগ ভুল’: ট্রাম্পের হুঙ্কার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ২১:৪৩:৫৩
অস্ত্রের মজুদ ফাঁকা হওয়ার খবর ‘শতভাগ ভুল’: ট্রাম্পের হুঙ্কার
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আধুনিক সমরাস্ত্রের মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ার সংক্রান্ত গণমাধ্যমের প্রতিবেদনকে ‘শতভাগ ভুল’ এবং ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিচালনায় টমাহক, প্যাট্রিয়ট এবং থাড ক্ষেপণাস্ত্রের মতো দূরপাল্লার ও আকাশ প্রতিরক্ষা সমরাস্ত্রের মজুদ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এমনকি মার্কিন বাহিনীর প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের দুই-তৃতীয়াংশ এবং থাডের প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যবহার হয়ে গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এসব দাবি সরাসরি উড়িয়ে দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে এখনো মাঝারি ও উচ্চমানের অস্ত্রের প্রায় ‘সীমাহীন মজুদ’ রয়েছে এবং সমরাস্ত্রের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন রেকর্ড গতিতে বাড়ানো হচ্ছে। ট্রাম্প জানান, মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করছে। সেই সঙ্গে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সামরিক অস্ত্র স্বল্পতার ভুয়া তথ্য যারা বাইরে ফাঁস করছে, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

অন্যদিকে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, অস্ত্র ঘাটতির বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্প ডেভিডে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে ট্রাম্পের তীব্র মতবিরোধ ও দ্বন্দ্ব হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট। তিনি স্পষ্ট জানান, তিনি নিজে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে এ ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ট্রাম্প আরও নিশ্চিত করেছেন যে সংঘাতের কারণে সুইজারল্যান্ড, জাপান, যুক্তরাজ্য ও পোল্যান্ডের মতো মিত্র রাষ্ট্রগুলোতে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ সাময়িকভাবে কিছুটা বিলম্বিত হলেও দ্রুতই তা পুরোদমে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

/আশিক


কুয়েতে ইরানের ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ১৮:১২:৫০
কুয়েতে ইরানের ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের ধারাবাহিকতায় এবার কুয়েতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কুয়েতের সেনাবাহিনী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তেহরান থেকে ধেয়ে আসা একাধিক আগ্রাসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

হামলার ঘটনার পরপরই কুয়েত কর্তৃপক্ষ দেশটির সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিভিন্ন অঞ্চলে যে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, তা মূলত কুয়েতি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কর্তৃক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে। এই হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা আরও বিপজ্জনক রূপ নিল।

কুয়েতে এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের মাত্র এক দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান সংঘাত খুব বেশি দিন স্থায়ী হবে না। বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, তিনি মনে করেন না এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হবে। সেই সঙ্গে তেহরান আর কতটা বৈরী পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এর আগে মঙ্গলবার ইরানে পরিচালিত মার্কিন হামলাকে অত্যন্ত ব্যাপক আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন যে ওয়াশিংটন যেকোনো মুহূর্তে আরও বড় সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তবে ওই হামলার পর ইরান তাৎক্ষণিক তীব্র পাল্টা আঘাত হানে, যার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্র জর্ডান ও বাহরাইন।

এদিকে রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের সঙ্গে এই সামরিক বিরোধ যাতে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সে জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকেরা ভেতরে ভেতরে কাজ করছেন। অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার সঙ্গে যুক্ত চারজন কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এই সংঘাতকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই কৌশলের অন্যতম মূল কারণ হলো যুদ্ধাবস্থার কারণে যেন রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনী ক্ষতি না হয়, কেননা ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়া নিয়ে খোদ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যেই অসন্তোষ ও বিরূপ মনোভাব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

/আশিক


ইরানের পাশে পুতিন: ‘ক্ষুধার্ত হাঙরদের’ দাঁতভাঙা জবাবের হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০২ ২১:৩৬:২৮
ইরানের পাশে পুতিন: ‘ক্ষুধার্ত হাঙরদের’ দাঁতভাঙা জবাবের হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

ইউক্রেনে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ইরানকে রাশিয়ার পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি মস্কোর এই অনড় অবস্থান তুলে ধরেন। ইউক্রেন সংকট নিরসনে কোনো সম্ভাব্য সমঝোতা বা শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কাজ করতে তিনি পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফের মস্কো সফরের পরপরই উইটকফ ও কুশনারকে নিয়ে মন্তব্য করলেন পুতিন। সিআইএ প্রধান তাঁর বিরল ওই সফরে রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে সংঘাত বন্ধের পক্ষে ওয়াশিংটনের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। র‍্যাটক্লিফের সফর নিয়ে পুতিন উল্লেখ করেন, চরম স্নায়ুযুদ্ধের সময়েও দুই পরাশক্তির শীর্ষ গোয়েন্দা প্রধানদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল, যদিও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা কিছুটা থমকে আছে। তবে ট্রাম্পের দুই দূতের ওপর আস্থা প্রকাশ করে পুতিন বলেন, পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের সঙ্গে কাজ করতে কোনো দ্বিধা নেই, বিশেষ করে যেহেতু তাঁরা সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে সক্ষম।

বিশকেক সম্মেলনের এই সময়ে ইউক্রেন সংঘাত নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে এবং উভয় পক্ষই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিধি ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। পুতিন জানান, ইউক্রেনের জাতীয় জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের হামলা চালাতে রুশ বাহিনীকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কিয়েভের খাদ্য ও কৃষিপণ্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশটি মারাত্মক অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের ড্রোনের কারণে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বেসামরিক বিমান চলাচল অনিরাপদ হয়ে পড়বে বলে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, সেটিকে সরাসরি ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট। পুতিন সাফ জানিয়ে দেন, একদিকে তারা আলোচনার টেবিলে বসার অনুরোধ জানাচ্ছে, অন্যদিকে সন্ত্রাসবাদী হুমকি দিচ্ছে; আর মস্কোর নীতি অনুযায়ী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হতে পারে না। এছাড়া রুশ পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর দেশটিতে নতুন করে বাধ্যতামূলক সেনা সমাবেশের যে গুঞ্জন রয়েছে, সেটিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন তিনি।

এদিকে এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন পুতিন। সেখানে তিনি জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ইরানি নেতৃত্বের দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করে মস্কোর ধারাবাহিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপট থেকেই ইরানকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পাশে রেখেছে ক্রেমলিন।

পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক তৎপরতার গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি ক্যাস্পিয়ান সাগর হয়ে ড্রোন তৈরির অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রাংশ পাঠিয়ে তেহরানকে সহযোগিতা করে আসছে মস্কো। কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পুনরায় সংঘাত শুরু হওয়া প্রসঙ্গে পুতিন পেজেশকিয়ানকে আশ্বস্ত করে বলেন, এই সংকটময় মুহূর্তে ইরানের চাহিদা অনুযায়ী সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা সরবরাহ করছে রাশিয়া।

পশ্চিমা বিশ্বের আধিপত্য বিস্তারকারী নীতির কঠোর সমালোচনা করতে গিয়ে ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, সোভিয়েত যুগে পাশ্চাত্যকে ‘সাম্রাজ্যবাদের হাঙর’ বলে আখ্যা দেওয়া হতো। কেউ যদি খাদ্যশৃঙ্খলের নিয়ম ভেঙে রাশিয়াকে নিচে নামিয়ে দিতে বা গ্রাস করতে চায়, তবে তারা চূড়ান্ত জবাব পাবে। এসব আধিপত্যকামী শক্তির ক্ষুধা ও আক্রমণের প্রবণতা যতই বাড়ুক না কেন, যেকোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ রুখে দিয়ে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার জন্য মস্কো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

/আশিক


ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন থেকেই মধ্যপ্রাচ্য সংকটের শুরু:  শাহবাজ শরিফ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০২ ২০:১৬:০৮
ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন থেকেই মধ্যপ্রাচ্য সংকটের শুরু:  শাহবাজ শরিফ
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে যে তীব্র অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে, তা নিরসনের একমাত্র টেকসই উপায় কূটনীতি বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তান সর্বদা শান্তির পক্ষে অবস্থান নেয় এবং বর্তমান সংকট উত্তরণে গঠনমূলক মধ্যস্থতা ও সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় নিজেদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে ইসলামাবাদ। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে আয়োজিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এসসিও সদস্যরাষ্ট্র ইরান চলতি বছরের শুরুর দিকে সরাসরি হামলার মুখে পড়েছে, যা দেশটির সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক ভয়াবহ আঞ্চলিক সংকট ডেকে এনেছে। সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌ ও পরিবহন পথ বন্ধ বা বিঘ্নিত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তানসহ বিশ্বের বহু দেশ এর প্রত্যক্ষ নেতিবাচক শিকার হচ্ছে বলে তিনি জানান।

শাহবাজ শরিফ স্পষ্টভাবে জানান, সামরিক সংঘাত নয়, বরং কূটনৈতিক সংলাপই পারে এই গভীর খাদ থেকে উত্তরণ ঘটাতে। পাশাপাশি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে তা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সংকট সমাধানে পাকিস্তান যেকোনো আন্তরিক আলোচনার মধ্যস্থতায় সক্রিয় থাকতে প্রস্তুত।

সম্প্রতি পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে হওয়া বহুল আলোচিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়েও কথা বলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশ্বস্ত করে জানান, এই চুক্তিটি সম্পূর্ণভাবে আত্মরক্ষামূলক এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে গঠন করা হয়নি। কোনো ধরনের সংঘাত উসকে দেওয়া কিংবা নতুন বিভাজন তৈরির কোনো উদ্দেশ্য এতে নেই।

এছাড়া ফিলিস্তিনের গাজা ও পশ্চিম তীরের মানবিক পরিস্থিতির চরম অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন শাহবাজ শরিফ। তিনি অবিলম্বে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানান। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফিলিস্তিনের নির্যাতিত জনগণের পাশে দাঁড়াতে এবং নিজেদের বৈশ্বিক দায়িত্ব পালন করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান তিনি।

/আশিক


দক্ষিণ ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলায় ব্যাপক হতাহত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০২ ১৮:১৫:১২
দক্ষিণ ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলায় ব্যাপক হতাহত
ছবি: শাফাক নিউজ থেকে নেওয়া

দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলায় কমপক্ষে ১২ জন নিহত এবং ৭৬ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ইরানি কর্তৃপক্ষের বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় ও রাষ্ট্র-সমর্থিত গণমাধ্যমগুলো এই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

হামলায় সবচেয়ে বড় ধরনের বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে হরমুজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টির উপকূলীয় কুহেস্তাক এলাকায়। সেখানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফার্স নিউজ জানিয়েছে, ওই একক ঘটনায় পাঁচজন নিহত এবং আরও ৬৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশুও রয়েছে।

অন্যদিকে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, আহভাজ ও আগাজারি এলাকার তিনটি পৃথক স্থানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এসব হামলায় সাতজনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন আটজন।

ইরানি গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এছাড়া বন্দর আব্বাস, কেশম, জাস্ক এবং চাবাহার ও কোনারাকের আশপাশের এলাকাগুলোতেও মার্কিন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। তবে সেসব এলাকায় সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকায় দেশজুড়ে মোট হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: শাফাক নিউজ এজেন্সি


ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রোখার সাধ্য শত্রুর নেই: স্পিকার গালিবাফ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ২১:৪৩:৪৮
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রোখার সাধ্য শত্রুর নেই: স্পিকার গালিবাফ
ছবি : সংগৃহীত

ইরান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক দ্রুত গতিতে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। শত্রুপক্ষের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার সামর্থ্য এখন আর কোনো প্রতিপক্ষের নেই।

ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্স-কে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, অতীতে প্রতিটি যুদ্ধ ও সংকটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আরও নতুন শক্তিতে বলীয়ান হয়ে উঠেছে এবং প্রতিবারই আগের চেয়ে উন্নত পারদর্শিতা দেখিয়েছে।

ভবিষ্যৎ সামরিক সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করে গালিবাফ আরও উল্লেখ করেন, পরবর্তী যেকোনো লড়াইয়ে অস্ত্রের গুণগত মান এবং পরিমাণ—উভয় দিক থেকেই ইরান শত্রুপক্ষের চেয়ে বহুলাংশে এগিয়ে থাকবে। তিনি দাবি করেন, ইরানের প্রকৃত সামরিক শক্তি উপলব্ধি করতে পেরে শত্রুরাও এখন এটি স্বীকার করে নিতে বাধ্য হচ্ছে যে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ ঠেকানোর সক্ষমতা তাদের নেই।

সূত্র: আল-জাজিরা।


বড় সংঘাতের আশঙ্কায় বেইজিংয়ের নজিরবিহীন পদক্ষেপ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০১ ২১:১১:৫৯
বড় সংঘাতের আশঙ্কায় বেইজিংয়ের নজিরবিহীন পদক্ষেপ
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় প্রতিরক্ষা আইনে যুগান্তকারী ও সুদূরপ্রসারী সংশোধন এনেছে চীন। সংশোধিত এই আইনের ফলে ভবিষ্যতে যেকোনো যুদ্ধ পরিস্থিতি বা জাতীয় জরুরি সংকটে বেইজিং প্রশাসনকে আর কেবল নিয়মিত সামরিক বাহিনীর ওপর নির্ভর করতে হবে না। নতুন বিধিমালার আওতায় রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সাধারণ নাগরিক, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য জাতীয় সম্পদ ব্যবহারের পূর্ণ কর্তৃত্ব পেল দেশটির সরকার। গত ২৮ আগস্ট চীনের সংসদ এই আইনি সংশোধনী অনুমোদন করে এবং ১ অক্টোবর থেকে তা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।

নতুন আইনি কাঠামো অনুযায়ী, সংকটকালে সরকার নাগরিকদের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ ব্যবহার করার পাশাপাশি প্রয়োজনে তা সরাসরি বাজেয়াপ্তও করতে পারবে। সরকারের এই পদক্ষেপে কেউ যদি কোনো ধরনের বাধা তৈরি করে বা কার্যক্রমে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব ঘটায়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। ২০১০ সালের পর চীনের প্রতিরক্ষা নীতিতে এটিই সবচেয়ে বড় কাঠামোগত পরিবর্তন, যেখানে ১৪টি অধ্যায় ও ৮২টি স্বতন্ত্র ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

আইনটির মূল উদ্দেশ্য হিসেবে বেইজিং উল্লেখ করেছে, যেকোনো বহিরাগত বা অভ্যন্তরীণ হুমকি দেখা দিলে যেন অত্যন্ত দ্রুত দেশকে যুদ্ধাবস্থায় রূপান্তর করা যায়। এর মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে সরাসরি জাতীয় প্রতিরক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এছাড়া জাতীয় উন্নয়ন সুরক্ষার পাশাপাশি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, ঐক্য ও সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখার বিষয়টিকেও এই আইনে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে।

সংকটকালীন সময়ে বেসামরিক খাতের ওপর সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে নতুন এই আইনে। পরিবহন ব্যবস্থা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, সাইবার নিরাপত্তা, চিকিৎসাসেবা, ওষুধ এবং খাদ্যশস্য সরবরাহ থেকে শুরু করে প্রকৌশল খাতকে যেকোনো মুহূর্তে প্রতিরক্ষা দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট খাত ও আঞ্চলিক ইউনিটগুলোকে বিশেষ দল গঠন করে জরুরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সাইবার সক্ষমতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে চীন সরকার।

এমনকি চীনের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে বসবাসরত নাগরিকদের ক্ষেত্রেও এই প্রতিরক্ষা আইনের নির্দিষ্ট কিছু ধারা কার্যকর হতে পারে বলে জানা গেছে। এর ফলে বিদেশে অবস্থানকালীন গৃহীত পদক্ষেপও চীনা আইনের আওতাভুক্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেইজিংয়ের এই নতুন আইনকে তাদের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রাসেলস-ভিত্তিক থিংকট্যাঙ্ক ‘সেন্টার ফর রাশিয়া ইউরোপ এশিয়া স্টাডিজ’-এর পরিচালক থেরেসা ফ্যালন এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুদ্ধের শঙ্কা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকার চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং এমন সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন।

/আশিক


থাইল্যান্ডের পাতায়ায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা: যৌনকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কড়া সতর্কতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩১ ২১:৩৮:৪৬
থাইল্যান্ডের পাতায়ায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা: যৌনকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কড়া সতর্কতা
ছবি : সংগৃহীত

টানা দুই শতাধিক দিন সমুদ্রে দায়িত্ব পালন শেষে মার্কিন নৌবাহিনীর পারমাণবিক শক্তিচালিত বিশাল যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ প্রায় পাঁচ হাজার সেনাসদস্য নিয়ে থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় পর্যটন শহর পাতায়ায় নোঙর করতে আসছে। দীর্ঘ সময় পর নাবিক ও সেনাদের অবকাশ ও মানসিক ক্লান্তি দূর করতেই পাতায়ার উপকূলে এই যাত্রাবিরতি দেওয়া হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা অর্থনৈতিক মন্দার কারণে স্থানীয় পর্যটন ও বাণিজ্যিক খাতে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, মার্কিন সেনাদের আগমনে তাতে সাময়িক চাঙ্গাভাব আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পাতায়ার মেয়রের হিসাব অনুযায়ী, সফরে আসা প্রতিটি মার্কিন সেনা প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৯১ ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে পারেন, যা শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তবে বিপুলসংখ্যক সেনার একসঙ্গে শহরে প্রবেশের খবরে স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও সামাজিক শঙ্কাও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যৌন নিপীড়ন, বিশৃঙ্খলা ও রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। থাইল্যান্ডের আইনে পতিতাবৃত্তি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও পাতায়ায় এর প্রভাব থাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সৈকত ও নাইটলাইফ এলাকাগুলোতে পুলিশি নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। এমনকি সেনাদের নামার আগেই পরিচালিত বিশেষ অভিযানে প্রায় ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে যাত্রা শুরু করা এই বিমানবাহী রণতরীটিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ সময় সাগরে যুদ্ধপ্রস্তুতিতে অবস্থান করতে হয়েছিল। ফলে একটানা দায়িত্ব পালনের মানসিক চাপ কাটিয়ে উঠতে সেনাদের জন্য পাতায়ার এই যাত্রাবিরতি বেশ স্বস্তিদায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

/আশিক


ইরানকে ‘ব্যর্থ ও মৃত রাষ্ট্র’ ঘোষণা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩১ ২০:১২:৩৭
ইরানকে ‘ব্যর্থ ও মৃত রাষ্ট্র’ ঘোষণা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে ‘আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যর্থ’ ও একটি ‘মৃত রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে বিক্ষোভ দমনে গণহত্যার অভিযোগ এনে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব কড়া মন্তব্য করেন।

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ১ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প লেখেন, নিজেদের জনগণের বিরুদ্ধে এমন নৃশংসতার দায়ে ইরানের নেতৃত্বকে মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আদালতের মুখোমুখি করা উচিত।

ইরানকে একটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, দেশটির শাসকগোষ্ঠী বর্তমানে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়েছে এবং তারা আন্তর্জাতিকভাবে দেশটির প্রতিনিধিত্ব করার সমস্ত বৈধতা ও সক্ষমতা হারিয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের কাছে বর্তমানে কার্যকর কোনো নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনী নেই এবং দেশটির নিজস্ব মুদ্রা সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়েছে। এমনকি দেশটির সেনা ও পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পর্যন্ত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানে মূল্যস্ফীতি বর্তমানে প্রায় ৩০০ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে সার্বিক পতনের মুখে ইরানের নেতৃত্বের কাছে এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো এবং নিজ দেশের নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের হত্যা করার চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

সূত্র : আল জাজিরা

পাঠকের মতামত: