লেবার পার্টির মেয়র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৮ ১৯:৩২:২৬
লেবার পার্টির মেয়র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
ছবি : শ‌হিদুল ইসলাম

১৬ই এপ্রিল বৃহস্পতিবার লন্ডন বারা অব টাওয়ার হ‍্যামল‍্যাটস্ কাউন্সিলের নির্বাচনে লেবার পার্টির মেয়র প্রার্থী ও কাউন্সিলার প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। পূর্ব লন্ডনের একটি হলে রুশনারা আলী এমপি ও ডন বাটলার এমপি এবং স্থানীয় লেবার পার্টির লিডারদের উপস্থিতিতে এ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। এ সময় মেয়র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম সহ সকল কাউন্সিলার প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সর্বমোট ২৫টি নির্বাচনী ইশতেহার নিম্নরূপ

সততা এবং ন্যায্য আর্থিক ব্যবস্থাঃ

১. যথাযথ শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করন। ‘বেস্ট ভ্যালু’ পরিদর্শনে উদ্ঘাটিত ব্যর্থতাগুলো সংশোধন করন এবং স্বজনপ্রীতির সংস্কৃতির অবসান ঘটান। জনগণের অর্থ বিচক্ষণতার সাথে ব্যয় করা হবে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে চুক্তি প্রদান করা হবে।

২. কাউন্সিল ট্যাক্স গ্যারান্টি। প্রথম দুই বছরের জন্য কাউন্সিল ট্যাক্সের সাধারণ অংশ স্থির রাখা, শুধুমাত্র সবচেয়ে দুর্বল বাসিন্দাদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ২% প্রাপ্তবয়স্ক সামাজিক যত্ন কর (অ্যাডাল্ট সোশ্যাল কেয়ার প্রিসেপ্ট) প্রয়োগ করন।

৩. ন্যায্য ভাড়া। কাউন্সিল ভাড়ার বৃদ্ধি বছরে ২.৫%-এ সীমাবদ্ধ করুন এবং ‘লন্ডন লিভিং রেন্ট’-এর অধীনে থাকা ভাড়াটেদের জন্য ভাড়া স্থির রাখা।

৪. অংশগ্রহণমূলক বাজেট ব্যবস্থা। আটটি স্থানীয় এলাকার প্রতিটির জন্য ২,৫০,০০০ পাউন্ডের একটি তহবিল পুনরায় চালু করে বাসিন্দাদের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া, যাতে এলাকাগুলোই সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে এই অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে।

উন্নতমানের আবাসন এবং স্থানীয় অগ্রাধিকারঃ

৫.৫,০০০ সামাজিক আবাসন। ২০৩০ সালের মধ্যে ৫,০০০ সামাজিক আবাসন নির্মাণ বা পুনঃক্রয় করার জন্য সরকারের সাথে কাজ করা, যার মাধ্যমে ১০,০০০ গৃহহীন এবং অতিরিক্ত ভিড়ে বসবাসকারী পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে। অন্যান্য মেয়াদের অধীনে নতুন বাড়ি সরবরাহের পাশাপাশি, যেসকল কাউন্সিল ভাড়াটে বাড়ির মালিকানায় চলে যাবেন, তাদের জন্য নগদ প্রণোদনা প্রদান করা হবে।

৬. স্থানীয় ভাড়া প্রদান এবং শিক্ষার নিশ্চয়তা। সমস্ত নতুন কাউন্সিল প্রকল্পে ২৫% স্থানীয় ভাড়ার কোটা প্রয়োগ করা, যাতে পরিবারগুলো তাদের স্কুলের কাছাকাছি থাকতে পারে এবং শিক্ষাগত ব্যাঘাত এড়াতে পারে।

৭. কাউন্সিল আবাসনের আধুনিকীকরণ। পুরোনো রান্নাঘর ও বাথরুম প্রতিস্থাপন এবং বাড়িগুলোকে শক্তি-সাশ্রয়ী করে বিল কমানোর জন্য অতিরিক্ত তহবিল বিনিয়োগ করা।

৮. ব্যর্থ ব্যবস্থাপনার সংশোধন। ভাড়াটে এবং ইজারাদারদের জন্য মেরামত ও পরিসেবার মান উন্নত করতে হাউজিং ডিরেক্টরেটের উপর কঠোর জনসমীক্ষা পুনঃস্থাপন করা।

৯. বাড়ির মালিকানাকে শক্তিশালী করা। একটি কমিউনিটি ল্যান্ড ট্রাস্ট মডেল চালু করুন এবং কাউন্সিল ভাড়াটেদের খোলা বাজার থেকে বাড়ি কিনতে সাহায্য করার জন্য নগদ প্রণোদনা প্রকল্পটি পুনর্বহাল করন।

১০. হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনের জবাবদিহিতা। ব্যর্থ হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনগুলোর কাছ থেকে কঠোর কর্মপরিকল্পনা দাবি করন এবং পরিসেবার মান পুনরুদ্ধার না হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করন।

প্রতিটি শিশুর জন্য একটি বিশ্বমানের সূচনাঃ

১১. টিউশন ফি-এর নিশ্চয়তা। কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ পরিসেবা রক্ষা করা এবং পুরো বারা জুড়ে ৫ বছর বয়স থেকে জিসিএসই (GCSE) স্তর পর্যন্ত গণিত ও ইংরেজি টিউশন অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এর সম্প্রসারণ করা।

১২. সার্বজনীন বিনামূল্যে স্কুল খাবার এবং ইএমএ (EMA)। সকল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিশুদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল খাবার বজায় রাখা এবং এডুকেশন মেইনটেন্যান্স অ্যালাউন্স ও কাউন্সিলের বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি সম্পূর্ণরূপে রক্ষা করা।

১৩. বিদ্যালয়গুলোর একটি ঐক্যবদ্ধ পরিবার। জিসিএসই (GCSE) এবং এ লেভেল (A Level) এর ফলাফল উন্নত করার লক্ষ্যে পুরো বারা জুড়ে একটি উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোকে পুনরায় একত্রিত করা এবং স্কুল-পরবর্তী সহায়তায় বিনিয়োগ করা।

১৪. প্রারম্ভিক শৈশব ও যুব পরিসেবা। চিলড্রেন'স সেন্টারগুলোতে সহায়তা সম্প্রসারণ করা এবং যুব পরিসেবাগুলো যাতে মেয়ে ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুসহ সকলের জন্য উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় তা নিশ্চিত করা।

একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, সবুজতর বারাঃ

১৫. নিরাপত্তা এলাকা। পাড়াভিত্তিক পুলিশ দল সম্প্রসারণ করন, পায়ে হেঁটে টহল ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করন এবং আবাসিক এলাকাগুলোতে সিসিটিভি কাভারেজের জন্য ৫ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করুন।

১৬. আমাদের আকাশসীমা রক্ষা করা। উঁচু ভবন নির্মাণের অনুমতিমূলক নীতি বাতিল করার জন্য অ্যাস্পায়ার লোকাল প্ল্যান প্রত্যাহার করন এবং আরও বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা বন্ধ করন।

১৭. সবুজায়ন ও বৃক্ষ। পুরো বারা জুড়ে আরও গাছ লাগানো অব্যাহত রাখা, যেখানে গাছগুলো কোথায় লাগানো হবে সে বিষয়ে বাসিন্দাদের সরাসরি মতামত থাকবে, এবং সুস্থ জীবন, খাদ্য উৎপাদন ও শক্তিশালী সম্প্রদায়কে সমর্থন করার জন্য আরও কমিউনিটি গার্ডেন চালু করন।২০১৯ সালে প্রাথমিকভাবে সম্মত হওয়া অনুযায়ী ৯৯ বছরের নামমাত্র ইজারার মাধ্যমে মাডচুট ফার্মকে রক্ষা করা।

১৮. চক্রাকার অর্থনীতি এবং পুনর্ব্যবহার। বাদ পড়া সংগ্রহগুলো সংশোধন করন এবং পুনর্ব্যবহারের উদ্যোগগুলো ফিরিয়ে এনে চক্রাকার অর্থনীতিকে উৎসাহিত করন, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে কমপক্ষে ৩৩% পুনর্ব্যবহার করা।

১৯. শিশু ও পথচারীদের সুরক্ষা। স্কুল সড়ক সম্প্রসারণ বারার প্রতিটি স্কুলে সড়কপথ নিয়ে যাওয়া এবং সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা লন্ডনের গড়ের নিচে নামিয়ে আনার জন্য কাজ করা।

২০. আবাসিকদের জন্য পার্কিং এবং স্বাস্থ্যকর সড়কের পক্ষে। অ্যাসপায়ারের পার্কিং মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করা, অকার্যকর পারমিট ব্যবস্থাটি ঠিক করা এবং গাড়ির উপর নির্ভরশীল বাসিন্দাদের সহায়তা করা। পারমিটের জন্য আবেদন এবং নবায়ন সহজ ও সহজলভ্য করা।গাড়িমুক্ত বাড়িতে স্থানান্তরিত হওয়া পরিবারগুলির জন্য এক মাসের গ্রেস পিরিয়ড চালু করা, কাউন্সিল এস্টেট সহ বারা জুড়ে বৈদ্যুতিক যানবাহন চার্জিংয়ের একটি কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করা এবং স্বাস্থ্যকর সড়কের জন্য টাওয়ার হ্যামলেটসকে লন্ডনের শীর্ষ পাঁচটি বারার তালিকায় পুনরুদ্ধার করা।

একটি সহানুভূতিশীল ও প্রাণবন্ত সম্প্রদায়ঃ

২১. সেবায় মর্যাদা। বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধী বাসিন্দাদের জন্য বিনামূল্যে হোমকেয়ার (গৃহসেবা) চালু রাখা এবং ডে-কেয়ার (দিবাসেবা) পরিসেবার জন্য চার্জ বাতিল করা।

২২. একটি ১৫ বছর মেয়াদী দারিদ্র্যবিরোধী পরিকল্পনা। বঞ্চনার মূল কারণগুলির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে একটি দীর্ঘমেয়াদী, ১৫ বছর মেয়াদী দারিদ্র্যবিরোধী কর্মপরিকল্পনা চালু করা, যেখানে কর্মসংস্থান, দক্ষতা, প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষানবিশির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে।

২৩. নারী ও মেয়েদের নিরাপত্তা। কাউন্সিলের কেন্দ্রবিন্দুতে নারীর নিরাপত্তা, ক্ষমতায়ন এবং সমতাকে স্থাপন করা। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নারী কমিশন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, গার্হস্থ্য নির্যাতন এবং নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বিষয়ক পরিসেবাগুলিকে শক্তিশালী করা, এবং মূল বাজেটে টেকসই তহবিল অন্তর্ভুক্ত করে কাউন্সিলের সমস্ত পরিদপ্তরে এই প্রতিশ্রুতিকে প্রতিষ্ঠা করা।

২৪. আমাদের বৈচিত্র্যের উদযাপন। ভিক্টোরিয়া পার্কের আতশবাজি, বৈশাখী মেলা এবং ব্রিক লেন কারি ফেস্টিভ্যাল পুনরুদ্ধার করা, পাশাপাশি পুরো বারা জুড়ে বড়দিন এবং ঈদ উদযাপন করা। টাওয়ার হ্যামলেটস মিনি অলিম্পিক, মিনি প্যারাঅলিম্পিক এবং মিনি বিশ্বকাপের মতো অন্তর্ভুক্তিমূলক অনুষ্ঠানগুলিকে সমর্থন করা।

২৫. একজন জবাবদিহিমূলক মেয়র। কাউন্সিলার সিরাজুল ইসলাম এবং লেবার দলের কাউন্সিলাররা নিয়মিত পরামর্শ সভা করবেন এবং সিরাজুল পুরো বারা জুড়ে প্রতি তিন মাস অন্তর ‘মেয়রকে জিজ্ঞাসা করন’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন।

টাওয়ার হ‍্যামলেটস্ কাউন্সিলের লেবার পার্টি প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার। সকল লেবার লিডার এবং প্রার্থীরা আশাবাদী আগামী ৭ই মে নির্বাচনে সম্মানিত ভোটাররা তাদের মহামূল‍্যবান ভোট প্রদান করে লেবার পার্টির প্রার্থীদের বিজয়ী করবেন।


উচ্চদক্ষ প্রবাসীদের জন্য বড় স্বস্তি: কাজের ভিসার সাথেই মিলবে সৌদি পরিবারের এন্ট্রি ভিসা

প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ২০:৩২:৪১
উচ্চদক্ষ প্রবাসীদের জন্য বড় স্বস্তি: কাজের ভিসার সাথেই মিলবে সৌদি পরিবারের এন্ট্রি ভিসা
যেসব শর্ত মানলে সৌদিতে স্ত্রী-সন্তান নিতে পারবেন প্রবাসীরা

সৌদি আরবে কর্মরত অথবা নতুন করে যেতে চাওয়া উচ্চদক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, এখন থেকে উচ্চদক্ষ প্রবাসী কর্মীরা নিজেদের ওয়ার্ক ভিসার আবেদন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলাকালীনই পরিবারের সদস্যদের জন্য এন্ট্রি ভিসার আবেদন জমা দিতে পারবেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের যৌথ সমন্বয়ে এই নতুন ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছে। এর ফলে কর্মীদের আবাসন ও ভিসা নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত পরিবারকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না; উভয় আবেদন একসঙ্গে প্রক্রিয়াধীন থাকবে।

ঘোষিত নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী উচ্চদক্ষ প্রবাসীরা তাঁদের স্বামী বা স্ত্রী, ২৫ বছরের কম বয়সী ছেলে সন্তান এবং অবিবাহিত মেয়ে সন্তানদের সৌদি আরবে নিয়ে আসার সুযোগ পাবেন। তবে এন্ট্রি ভিসা নিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেসিডেন্স পারমিট বা ইকামা পাওয়া যাবে না। প্রবাসীদের পরিবার সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর দেশটির প্রচলিত আইন ও নিয়ম মেনে ইকামা ও আবাসনের চূড়ান্ত প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতাগুলো সম্পন্ন করতে হবে। চিকিৎসক, প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ ও উচ্চপদস্থ ব্যবস্থাপকদের মতো পেশাজীবীরা প্রধানত এই সুবিধার আওতায় আসবেন।

নতুন এই সুবিধা পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নির্ধারিত সকল আইনগত শর্ত ও যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার সময় প্রয়োজনীয় নথি ও সহায়তাকারী প্রমাণপত্র পেশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদেশি উচ্চদক্ষ পেশাজীবীদের আকর্ষণ করা, জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং পরিবার স্থানান্তর প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও সহজতর করার উদ্দেশ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

/আশিক


লন্ডনে সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের উপস্থিতিতে গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময়

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০২ ২১:০৯:৩৬
লন্ডনে সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের উপস্থিতিতে গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশনের মতবিনিময়
ছবি : শ‌হিদুল ইসলাম

লন্ডনে সরোয়ার আলমগীর এম‌পি'র সা‌থে মতবিনিময়: প্রবাসীদের সম্মান-নিরাপত্তা ও কালুরঘাট সেতুর কাজ দ্রুত দৃশ্যমান করার দাবি

শহিদুল ইসলাম, প্রতিনিধি:

যুক্তরাজ্যে সফররত চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সরোয়ার আলমগীরের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন ইউকে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টায় পূর্ব লন্ডনের 'আড্ডা ঘর' রেস্টুরেন্টে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে লন্ডনে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীর পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা মোহাম্মদ হাসান। এরপর সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি এমপি সরোয়ার আলমগীরকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা জানানো হয়।

গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন ইউকের আহ্বায়ক ব্যারিস্টার আবুল মনছুর মোহাম্মাদ শাহজাহানের সভাপতিত্বে এবং মাসুদুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ট্রাস্টি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন।

স্বাগত বক্তব্যে ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন প্রবাসীদের কল্যাণে অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও চট্টগ্রামবাসীর প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে বলেন, বিমানবন্দরসহ দেশে অবস্থানকালে প্রবাসীদের যথাযথ সম্মান, মর্যাদা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি তিনি নতুন কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত দৃশ্যমান করার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের সকল সংসদ সদস্যকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি সরোয়ার আলমগীর বলেন, "প্রবাসীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। দেশে যাতায়াতকালে কোনো প্রবাসী যাতে হয়রানির শিকার না হন এবং যথাযথ সম্মান পান, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।" কালুরঘাট সেতু প্রসঙ্গে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, সেতুর কাজ দ্রুত দৃশ্যমান করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ চালিয়ে যাবেন।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংগঠনের ট্রাস্টি শওকত মাহমুদ টিপু, ট্রাস্টি মোহাম্মদ আলী রেজা, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সুজন বড়ুয়া, মাওলানা সায়েদ মোহাম্মদ ইমরান, মাওলানা জোনায়েদ সোবহান, রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ মোন্না খালেক, মোহাম্মদ ওমর গনি, কলম একাডেমি লন্ডনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নজরুল হাবিবী, এইচঅ্যান্ডএইচ গ্লোবাল এডুকেশনের পরিচালক শুভন হাসান, মোহাম্মদ তানভীর, মোহাম্মদ আব্দুল হালিম, মোহাম্মদ জিয়াদ্দিন বাবলু, সায়েদ এ এম সাইফুল ইসলাম, সাজসোয়েদ রফিকুল ইসলাম, ফয়েজুর রহমান এবং মোহাম্মদ সিফাত প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে ব্যারিস্টার আবুল মনছুর মোহাম্মাদ শাহজাহান ব্যস্ততার মধ্যেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য প্রধান অতিথিকে ধন্যবাদ জানান এবং এলাকার উন্নয়নে তাঁর সাফল্য কামনা করেন। একই সাথে তিনি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সকল অতিথি ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।


হজের জন্য বাংলাদেশি পাসপোর্টের কদর তুঙ্গে, দ্রুত সেবার দাবি যুক্তরাজ্যে

প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ২১:৩৬:১৩
হজের জন্য বাংলাদেশি পাসপোর্টের কদর তুঙ্গে, দ্রুত সেবার দাবি যুক্তরাজ্যে
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাজ্য থেকে সরাসরি সৌদি আরবে গিয়ে হজ পালনের বিপুল ব্যয়ের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে প্যাকেজ নেওয়ার সুযোগটি প্রবাসী ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের কাছে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। যুক্তরাজ্য থেকে হজে জনপ্রতি গড়ে ১২ থেকে ১৪ হাজার পাউন্ড খরচ হলেও বাংলাদেশ হয়ে যাতায়াত করলে তা প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার পাউন্ডের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশি ও ব্রিটিশ—উভয় দেশের নাগরিকত্বধারী প্রবাসীদের একটি বড় অংশ সাশ্রয়ী ব্যয়ের পাশাপাশি দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যৌথভাবে হজ পালনের উদ্দেশ্যে এই বিকল্পটি বেছে নিচ্ছেন।

লন্ডনভিত্তিক হজ ও ওমরাহ এজেন্সি ‘আনসারী ইন্টারন্যাশনাল’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রায় ২৫০ জন দ্বৈত নাগরিক বাংলাদেশি পাসপোর্টের মাধ্যমে সফলভাবে হজ সম্পন্ন করেছেন। তবে এই সুবিধার কারণে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসীদের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশি পাসপোর্ট সংগ্রহ ও দ্রুত নবায়নের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পাসপোর্ট হাতে না পেলে পুরো হজযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয় বিধায়, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কনস্যুলার সেবা আরও গতিশীল ও সহজ করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন প্রবাসীরা।

তবে দ্বৈত নাগরিকদের জন্য এই সুযোগটি ভবিষ্যতে কতদিন অব্যাহত থাকবে, তা নিয়ে নীতিগত অস্পষ্টতা ও সংশয় রয়েছে। শুধু বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানীয় কোটার আওতায় হজে যাওয়া নিশ্চিত কি না, সে বিষয়ে সৌদি ভিসা নীতিমালা ও বাংলাদেশ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশিকা প্রয়োজন বলে মত বিশেষজ্ঞদের। প্রবাসী বাংলাদেশিরা আশা প্রকাশ করছেন, সরকার দ্বৈত নাগরিকদের হজ প্রক্রিয়ায় বিশেষ সমন্বয় ও কনস্যুলার সহযোগিতা নিশ্চিত করলে ভবিষ্যতে এই বিকল্প ব্যবহারকারীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।

/আশিক


যুক্তরাজ্যের এনফিল্ডে জমজমাট ব্রিটিশ বাংলাদেশি কাপ ও কমিউনিটি ডে অনু‌ষ্ঠিত

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ২১:৩৪:০৪
যুক্তরাজ্যের এনফিল্ডে জমজমাট ব্রিটিশ বাংলাদেশি কাপ ও কমিউনিটি ডে অনু‌ষ্ঠিত
ছবি : শ‌হিদুল ইসলাম

চট্টগ্রাম চ্যাম্পিয়ন, হবিগঞ্জ-সিলেট রানার্স-আপ; কাউন্সিলর, কমিউনিটি লিডার ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনমেলা যুক্তরাজ্যের উত্তর লন্ডনের এনফিল্ডে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে তৃতীয়বারের মতো ব্রিটিশ বাংলাদেশি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ও এনফিল্ড কমিউনিটি ডে ২০২৬। এনফিল্ড স্পোর্টিং কমিউনিটির উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে ফুটবল প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ছিল পরিবার ও শিশুদের জন্য নানা বিনোদনমূলক আয়োজন।

সম্প্রতি রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত Latymer School Sports Grounds, N9 9TN-এ অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে উত্তর লন্ডনের বিভিন্ন এলাকার বিপুলসংখ্যক ব্রিটিশ বাংলাদেশি পরিবার, তরুণ-তরুণী, শিশু ও কমিউনিটি সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

আঞ্চলিক ও জেলা-উপজিলা ভিত্তিক এই ফুটবল টুর্নামেন্টে বিভিন্ন দল অংশ নেয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ শেষে চট্টগ্রাম দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। হবিগঞ্জ-সিলেট দল রানার্স-আপ হয়। টুর্নামেন্টজুড়ে খেলোয়াড়দের প্রাণবন্ত পারফরম্যান্স ও দর্শকদের উচ্ছ্বাস পুরো মাঠকে উৎসবমুখর করে তোলে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় কাউন্সিলর, ক্যাবিনেট মেম্বার, কমিউনিটি লিডারসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে আয়োজনের সৌন্দর্য ও গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেন। তাঁরা ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য, সম্প্রীতি ও নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

ফুটবল টুর্নামেন্টের পাশাপাশি বাউন্সি ক্যাসেল, শিশুদের বিভিন্ন প্লে অ্যাক্টিভিটি, ফুড স্টল, আইসক্রিম ও ট্রিটস, পিকনিক ও রিল্যাক্স করার ব্যবস্থা থাকায় পুরো দিনটি পরিণত হয় একটি প্রাণবন্ত পারিবারিক উৎসবে। বিশাল খোলা মাঠে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকে পিকনিকের আয়োজন করেন এবং বন্ধু-স্বজনদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটান।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে পরিবারবান্ধব ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পার্কিং, খাবার ও বিনোদনের নানা সুবিধা রাখা হয়েছিল। ফলে শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণ—সব বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে উত্তর লন্ডনের অন্যতম আনন্দময় ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটি আয়োজন।

অংশগ্রহণকারী পরিবার ও দর্শনার্থীরা বলেন, শুধু ফুটবল নয়, পুরো আয়োজনটি ছিল কমিউনিটির মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার একটি চমৎকার প্ল্যাটফর্ম। তারা এমন সুন্দর আয়োজনের জন্য এনফিল্ড স্পোর্টিং কমিউনিটির উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এই আয়োজন আরও বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে এবং ব্রিটিশ বাংলাদেশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও কমিউনিটির প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হবে।


লন্ডনের ইলফোর্ডে গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন ইউকে’র মিলনমেলা অনুষ্ঠিত 

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ২১:০৮:৪৯
লন্ডনের ইলফোর্ডে গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন ইউকে’র মিলনমেলা অনুষ্ঠিত 
ছবি : শ‌হিদুল ইসলাম

প্রবাসে বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসীদের সংগঠন গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন ইউকে (জিসিএ ইউকে) এর বার্ষিক পিকনিক আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট সোমবার পূর্ব লন্ডনের ইলফোর্ডের ভ্যালেনটাইন্স পার্ক-এ আয়োজিত এ পিকনিকে লন্ডনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগঠনের সদস্যবৃন্দ পরিবার পরিজন অতিথিসহ প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন অংশগ্রহণ করেন।

দুপুর ১২টার মধ্যে অংশগ্রহণকারীরা নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হলে পুরো পার্ক এলাকা পরিণত হয় বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসীদের এক মিলনমেলায়। দীর্ঘদিনের ব্যস্ততার পর একসঙ্গে মিলিত হয়ে আনন্দ, আড্ডা ও স্মৃতিচারণে মেতে ওঠেন উপস্থিত সবাই।

পিকনিকের মূল আকর্ষণ ছিল দিনব্যাপী নানা আয়োজন। মো. মাসুদুর রহমানের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় শুরু হয় অনুষ্ঠান। এতে জিসিএ ইউকে-এর সদস্য, তাদের পরিবারের সদস্য ও অতিথিরা গান, আবৃত্তি, অভিনয়, ছড়া, কৌতুক, ধাঁধা ও স্মৃতিচারণসহ বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেন।

দুপুরে ছিল বিশেষ খাবারের আয়োজন। খাবার পরিবেশনের পর শুরু হয় বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণির মানুষের জন্য খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতা। শিশুদের খেলাধুলা, নারীদের বালিশ খেলা ও বল নিক্ষেপ এবং পুরুষদের রশি টানাটানি ছিল অন্যতম আকর্ষণ। খেলাধুলার আয়োজন সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন জাওয়াদ যিনি জিসিএ ইউকে-এর খেলাধুলা ও বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটিজকে এগিয়ে নিতে নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

পিকনিকে দেশীয় সংস্কৃতি ও খাবারেরও ছিল বিশেষ উপস্থিতি। চা-নাশতা, বিভিন্ন ধরনের পিঠা, চনামুড়ি, পিয়াজি, আমের চাটনি ও ফুচকাসহ নানা দেশীয় খাবারের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি কোণার চাটগাইয়া স্টল-এর বিশেষ আয়োজনও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জিসিএ ইউকে-এর ট্রাস্টি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন, কনভেনিং কমিউনিটির কনভেনার ব্যারিস্টার আবু মুনছুর শাহজাহান, ট্রাস্টি শওকত মাহমুদ টিপু, ট্রাস্টি মীর রাশেদ আহমেদ, কাউন্সিলর সৈয়দ ফিরোজ গনি, মো. আরশাদ মালেক, মোহাম্মদ আলী, মুনির মাহমুদ, হাসান আনোয়ার, মো. আলী রেজা, সুজন বড়ুয়া, অ্যাডভাইজার ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলমগীর, ব্যারিস্টার জিল্লুরসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট অতিথিরা।

দিনটির আবহাওয়া ছিল কিছুটা বৈচিত্র্যময়। কখনো মেঘলা আকাশ, আবার মাঝেমধ্যে হালকা বৃষ্টি হলেও পিকনিকের আনন্দে কোনো ভাটা পড়েনি। বরং বৃষ্টির মধ্যেও অংশগ্রহণকারীদের হাসি, আড্ডা ও আনন্দ-উচ্ছ্বাস অব্যাহত ছিল।

আয়োজন সফল করতে সার্বিক সহযোগিতা করেন লুনা তানজিনা, নূরুন্নবী আলী, কুতুবুল আলম, আসমা আলম, মো. আব্দুল হালিম, মাওলানা মোহাম্মদ হাসান, রেজাউল করিম, মাহবুবুর রহমান, মোহাম্মদ ফয়েজ জামান, সায়েমসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকরা।

আয়োজকরা বলেন, এ পিকনিকের উদ্দেশ্য ছিল শুধু বিনোদন নয়; বরং প্রবাসে বসবাসরত বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসী ও তাদের পরিবারের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করা। বিপুলসংখ্যক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে যে, প্রবাসেও বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসীদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতি অটুট রয়েছে।

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এটি শুধুমাত্র একটি পিকনিক ছিল না এটি ছিল প্রবাসে বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসীদের এক প্রাণের মিলনমেলা। দীর্ঘদিন পর পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা করা, নতুন সম্পর্ক তৈরি করা এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একসঙ্গে আনন্দ করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় তারা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সকলের বক্তব্যে পিকনিকের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সুন্দর আয়োজনের প্রশংসা উঠে আসে। অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সমাপনী বক্তব্যে জিসিএ ইউকে-এর ট্রাস্টি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন এবং কনভেনার ও ট্রাস্টি ব্যারিস্টার আবু মুনছুর শাহজাহান পিকনিক সফল করতে যারা শ্রম, সময় ও সহযোগিতা করেছেন তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার কারণেই এবারের আয়োজন সফল হয়েছে। দিনের আনন্দ ও স্মৃতিগুলো জিসিএ ইউকে-এর সদস্যদের মনে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে।

প্রায় ২০০–২৫০ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জিসিএ ইউকে-এর এবারের বার্ষিক পিকনিক প্রবাসে বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসীদের ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


ভাষা পরীক্ষা ছাড়াই কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের ই-৭-৪ ভিসা পাওয়ার সুযোগ

প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৯ ২১:৫২:১৯
ভাষা পরীক্ষা ছাড়াই কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের ই-৭-৪ ভিসা পাওয়ার সুযোগ
ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত প্রায় ৩০ হাজার বাংলাদেশির সিংহভাগই দেশটিতে কর্মরত আছেন সাধারণ বা অদক্ষ ক্যাটাগরির ই-৯ ভিসার আওতায়। এবার এসব বাংলাদেশি শ্রমিকের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কোরীয় ভাষার যোগ্যতার সনদ ছাড়াই দক্ষ কর্মী হিসেবে দীর্ঘমেয়াদি ই-৭-৪ ভিসা প্রাপ্তির এক বিশেষ সুযোগ উন্মোচিত হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের মানবসম্পদ উন্নয়ন সংস্থা (এইচআরডি) কর্তৃক জারি করা এই বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি স্থানীয় প্রবাসী কর্মীদের নজরে এনেছে সিউলের বাংলাদেশ দূতাবাস।

ঘোষিত নির্দেশনা মোতাবেক, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোরীয় ভাষার আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা ছাড়াই ই-৭-৪ ভিসার জন্য আবেদন দাখিল করা যাবে। এই শিথিলতার আওতায় ‘কে-পয়েন্ট ই-৭-৪’ স্কোরিং পদ্ধতিতে মোট ৩০০ নম্বরের মধ্যে আবেদনকারীকে অন্তত ১৫০ পয়েন্ট অর্জন করতে হবে। তবে প্রাথমিক আবেদনে ভাষার শর্তে ছাড় মিললেও পরবর্তীতে এই ভিসা নবায়নের সময় বাধ্যতামূলকভাবে ভাষার প্রয়োজনীয় সনদপত্র জমা দিতে হবে। এছাড়া পরিবারকে দক্ষিণ কোরিয়ায় নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষেত্রেও ভাষাগত যোগ্যতার প্রমাণ থাকা আবশ্যক।

এই বিশেষ ক্যাটাগরিতে আবেদনের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিগত ১০ বছরের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় বৈধভাবে ন্যূনতম ৪ বছর কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে রাজধানী সিউলের বাইরের কর্মক্ষেত্রে ৩ বছর অথবা তুলনামূলক কম জনসংখ্যার এলাকাগুলোতে ২ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেই এই যোগ্যতার শর্ত পূরণ হবে। এর পাশাপাশি বর্তমানে কর্মরত প্রতিষ্ঠানে অন্তত টানা ১ বছর চাকরির ধারাবাহিকতা, সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার সুপারিশপত্র এবং বার্ষিক সর্বনিম্ন ২৬ মিলিয়ন ওন বেতনে নতুন করে ২ বছরের কাজের আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র থাকতে হবে।

সাধারণভাবে ই-৯ ভিসার আওতায় সর্বোচ্চ ৪ বছর ১০ মাস অবস্থানের সুযোগ থাকলেও ই-৭-৪ ভিসা কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদে দেশটিতে বসবাসের আইনি নিশ্চয়তা দেয়। সাধারণ সময়ে এই ভিসা অর্জনে ২০০ পয়েন্টের প্রয়োজন পড়লেও বর্তমান সুযোগের আওতায় তা কমিয়ে আনা হয়েছে। এই ভিসা সংক্রান্ত যেকোনো বিস্তারিত তথ্যের জন্য প্রবাসী কর্মীদের সরাসরি দেশটির ইমিগ্রেশন কনট্যাক্ট সেন্টার (১৩৪৫) অথবা এইচআরডি কোরিয়া সেন্টারে (১৫৭৭-০০৭১) যোগাযোগ করার জন্য সিউলস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


যুক্তরাজ্যে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সাংবাদিকদের বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
নিজস্ব প্রতি‌বেদক
প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৯ ২২:০২:০৮
যুক্তরাজ্যে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সাংবাদিকদের বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ
ছবি : শ‌হিদুল ইসলাম

চট্টগ্রা‌মের কৃ‌তি সন্তান, বি‌শিষ্ট সি‌নিয়র আইনজীবী ও ফাউ‌ন্ডেশনের সম্মা‌নিত উপ‌দেষ্টা জনাব ব‌্যা‌রিস্টার ম‌নোয়ার হো‌সেন ও যুক্তরাজ‌্য শাখা'র নব-নির্বা‌চিত সাধারণ সম্পাদক, মি‌ডিয়া ব‌্যক্তি জনাব মোঃ মাসুদুর রহমা‌নের সা‌থে স্বাক্ষত বি‌নিময় ক‌রেন দৈনিক কালবেলা’র চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জনাব সাইদুল ইসলাম।

দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম Banglanews24.com (বসুন্ধরা গ্রুপ)-এর সিনিয়র ফটো করেসপন্ডেন্ট জনাব এম. সরওয়ার আলম (সোহেল)।

Risingbd.com-এর চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান এবং ICC, AFC ও Commonwealth অনুমোদিত আন্তর্জাতিক স্পোর্টস ফটোগ্রাফার জনাব মো. রেজাউল করিম।

যুক্তরাজ্য সফরকালে সিলেট চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশন ইউকে'র শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ। এ সময় সংগঠনের কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

উল্লেখ‌্য সামাজিক ও মানবিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠা ক‌রেন মান‌বিক ব‌্যক্তি চট্টগ্রা‌মের সন্তান মো. শ‌হিদুল ইসলাম। সেই থে‌কে বাংলা‌দে‌শের বিভিন্ন সংকটময় সময়ে এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে নানা ধরনের মানবিক ও সমাজকল্যাণমূলক কাজ করে আস‌ছে।


ইতিহাসের মালিকানা কারও একার নয়, ৫ আগস্টের বিজয় সাধারণ মানুষের: সাইদুর রহমান লিটল

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৫ ২১:৫১:০৫
ইতিহাসের মালিকানা কারও একার নয়, ৫ আগস্টের বিজয় সাধারণ মানুষের: সাইদুর রহমান লিটল
ছবি : মোঃ মাসুদ রানা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও বেলজিয়াম বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান লিটল বলেছেন, “ইতিহাসের মালিকানা কারও একার নয়। যে ইতিহাসে লক্ষ মানুষের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও ত্যাগের পদচিহ্ন রয়েছে, সেই ইতিহাসকে কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক কৃতিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করা ন্যায়সংগত নয়।”

৫ আগস্ট উপলক্ষে দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলন ছিল বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। এই আন্দোলনের সফলতা কোনো একক নেতৃত্ব, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন কিংবা পেশাজীবী গোষ্ঠীর অর্জন নয়; বরং এটি ছিল দেশের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সাহস, আত্মত্যাগ, অশ্রু, রক্ত এবং অদম্য প্রত্যয়ের ফল।

সাইদুর রহমান লিটল বলেন, রাজপথে বুক পেতে দাঁড়ানো শিক্ষার্থী, সন্তানের নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনায় থাকা মা, আহতদের সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, আদালতে ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করা আইনজীবী, সত্য প্রকাশে ঝুঁকি নেওয়া সাংবাদিক, নির্যাতন সহ্য করা রাজনৈতিক কর্মী, শ্রমিক, কৃষক, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী এবং সাধারণ মানুষ—সবার অবদান মিলেই রচিত হয়েছে এই গণআন্দোলনের ইতিহাস।তিনি আরও বলেন, দেশের বাইরে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও সেই সময় নীরব দর্শক ছিলেন না।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাঁরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি, মানবাধিকারভিত্তিক প্রচারণা, স্মারকলিপি প্রদান এবং আন্তর্জাতিক মহলে জনমত গঠনের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।নিজের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সে সময় তিনি বিএনপির বেলজিয়াম শাখার সভাপতি এবং দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দলীয় নেতৃত্বের নির্দেশনায় ইউরোপের বিভিন্ন পর্যায়ে মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট মহল, নীতিনির্ধারক এবং আন্তর্জাতিক অংশীজনের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পাশাপাশি বেলজিয়ামে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটি ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সামনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ, স্মারকলিপি প্রদান এবং আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের কর্মসূচি পরিচালিত হয়। সেই সময়ের বিভিন্ন আলোকচিত্র, নথি এবং দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এখনও সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, এসব স্মৃতি তুলে ধরার উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত কৃতিত্ব দাবি করা নয়; বরং ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সত্যকে সংরক্ষণ করা।

বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, বর্তমান বিএনপির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংকটময় সময়ে দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তাঁর নেতৃত্বে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিএনপির নেতা-কর্মীরা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

সাইদুর রহমান লিটল বলেন, “যে ইতিহাসে লক্ষ মানুষের পদচিহ্ন রয়েছে, সেই ইতিহাসকে কয়েকজন ব্যক্তি বা একটি গোষ্ঠীর কৃতিত্বে সীমাবদ্ধ করা ইতিহাসের প্রতি অবিচার। এতে আত্মত্যাগী মানুষদের অবদানও আড়াল হয়ে যায়।”

শেষে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আসুন, আমরা কৃতিত্বের প্রতিযোগিতা নয়, সত্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। কারণ ৫ আগস্ট যদি কারও হয়, তবে তা বাংলাদেশের মানুষের; যদি কারও বিজয় হয়, তবে তা গণতন্ত্রের; আর যদি কারও গৌরব হয়, তবে তা শহীদদের আত্মত্যাগের। ইতিহাস কাউকে একা মহান বানায় না, ইতিহাস মহান করে সেই জাতিকে, যারা নিজেদের সকল সন্তানের অবদানকে সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করতে জানে।”


এমপি লুনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ‘ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হসপিটাল’-এর ট্রাস্টিবৃন্দ

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
প্রবাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০২ ২১:৪৩:১৪
এমপি লুনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ‘ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হসপিটাল’-এর ট্রাস্টিবৃন্দ
ছবি : শ‌হিদুল ইসলাম

বৃটেন সফররত সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনার সঙ্গে যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘দি ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হসপিটাল’-এর ট্রাস্টিবৃন্দের এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২ আগস্ট ২০২৬, র‌বিবার সাক্ষাৎকালে ট্রাস্টিবৃন্দ বিশ্বনাথ উপজেলায় নির্মাণাধীন ‘ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হসপিটাল’-এর সার্বিক অগ্রগতি, চলমান নির্মাণকাজ, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, আর্থিক হিসাব-নিকাশ, দাতাদের অবদান এবং হাসপাতালের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মাননীয় সংসদ সদস্যকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন। তাঁরা জানান, হাসপাতালটি সম্পূর্ণ অলাভজনক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য বিশ্বনাথসহ আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।

মাননীয় সংসদ সদস্য বেগম তাহসিনা রুশদীর লুনা ট্রাস্টিবৃন্দের উপস্থাপনা মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং এ মহতী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মানবিক উদ্যোগে নির্মিত এ হাসপাতাল ভবিষ্যতে এলাকার স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। হাসপাতালটির সফল বাস্তবায়ন ও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনি তাঁর পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন এবং এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ‘দি ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হসপিটাল’-এর ট্রাস্টি ও সেক্রেটারি জেনারেল মো. আয়াছ মিয়া, ট্রাস্টি আবুল হাশিম বিএসসি, ট্রাস্টি মৌলানা সিরাজুল ইসলাম সাদ, ট্রাস্টি আশিক আলী ও ট্রাস্টি শাহ সোহেল আমিন।

সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ হাসপাতালের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করে জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবার দ্বার উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ট্রাস্টিবৃন্দ মাননীয় সংসদ সদস্যের আন্তরিকতা, মূল্যবান পরামর্শ এবং সহযোগিতার আশ্বাসের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় ‘ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হসপিটাল’ বিশ্বনাথ অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি আধুনিক, নির্ভরযোগ্য ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

পাঠকের মতামত: