বিরতির সময় গান? ২০২৬ বিশ্বকাপে ইনফান্তিনোর বিশাল চমক

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৬ ২০:১৬:০২
বিরতির সময় গান? ২০২৬ বিশ্বকাপে ইনফান্তিনোর বিশাল চমক
ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে যোগ হতে যাচ্ছে এক নতুন অধ্যায়। আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথমবারের মতো ‘হাফ-টাইম শো’ বা বিরতির সময় জমকালো সঙ্গীত অনুষ্ঠানের আয়োজন করার ঘোষণা দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ‘সেমাফর ওয়ার্ল্ড ইকোনমি সামিট’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের কথা জানান। ইনফান্তিনো বলেন, আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যখন বিশ্বকাপের চূড়ান্ত লড়াই চলবে, তখন ইতিহাসের প্রথম হাফ-টাইম শো উপভোগ করবে বিশ্ববাসী।

বিশ্ববিখ্যাত ব্রিটিশ পপ ব্যান্ড ‘কোল্ডপ্লে’ এবং তাদের প্রধান গায়ক ক্রিস মার্টিন এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি সাজানোর দায়িত্ব পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ফিফা সভাপতি। তবে সেখানে কারা পারফর্ম করবেন, তা নিয়ে এখনই কোনো নির্দিষ্ট নাম প্রকাশ করেননি তিনি।

ইনফান্তিনোর দাবি, এটি হতে যাচ্ছে পৃথিবীর সবথেকে বড় এবং সেরা একটি শো, যেখানে একাধিক বিশ্বখ্যাত শিল্পী অংশ নেবেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সুপারবোলের জনপ্রিয় হাফ-টাইম শোর ধারণা থেকেই ফিফা এই বিশাল উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।

তবে ফুটবলের মতো উত্তেজনাকর খেলায় ১৫ মিনিটের বিরতির মাঝে এমন আয়োজন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কট্টর ফুটবল প্রেমীরা সাধারণত বিরতির সময় বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান খুব একটা পছন্দ করেন না। এর আগে ২০১৭ সালে জার্মানির ডিএফবি কাপ ফাইনালে পপ তারকা হেলেন ফিশারের পারফরম্যান্সের সময় দর্শকরা গ্যালারি থেকে ব্যাপক দুয়োধ্বনি দিয়েছিলেন।

সেই ঘটনার কথা স্মরণ করে হেলেন বলেছিলেন, ফুটবল ভক্তদের ক্ষোভ মূলত বিনোদনের ওপর ছিল, কারণ তারা বিরতির সময় কোনো বিচ্যুতি চাননি। এখন দেখার বিষয়, ২০২৬ সালের মেটলাইফ স্টেডিয়ামের দর্শকরা ফিফার এই বিশাল পরিবর্তনকে কীভাবে গ্রহণ করে।

সূত্র: গোলডটকম


পিএসজি'র চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের আনন্দ ফ্রান্সে রণক্ষেত্র, দেশজুড়ে ৪ শতাধিক গ্রেপ্তার

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ১৩:০৪:২৮
পিএসজি'র চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের আনন্দ ফ্রান্সে রণক্ষেত্র, দেশজুড়ে ৪ শতাধিক গ্রেপ্তার
ছবি : সংগৃহীত

ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জয়ের ঐতিহাসিক আনন্দ ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে মুহূর্তের মধ্যেই চরম সহিংসতা ও রণক্ষেত্রে রূপ নিয়েছে। প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের (পিএসজি) এই গৌরবময় জয়ের পর সমর্থকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের মধ্যে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশজুড়ে ৪ শতাধিক দাঙ্গাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ফরাসি পুলিশ।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতা ও দাঙ্গার অভিযোগে রোববার ভোর পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৪১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল রাজধানী প্যারিস থেকেই আটক করা হয়েছে ২৮০ জনকে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে জয়ের চূড়ান্ত বাঁশি বাজার পর পরই হাজার হাজার পিএসজি সমর্থক প্যারিসের রাস্তায় নেমে বিজয় উদ্‌যাপনে অংশ নেন। উৎসবের এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি ও কড়া নজরদারি থাকলেও বিভিন্ন স্থানে উগ্র সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় প্রচণ্ড সংঘর্ষ বাধে। ফরাসি স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, উদ্‌যাপনের নামে উগ্র সমর্থকরা বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় বেপরোয়াভাবে আতশবাজি ও ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করতে থাকে। একপর্যায়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রাস্তায় থাকা একাধিক মোটরসাইকেল ও বৈদ্যুতিক বাইকে (ই-বাইক) আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি বেশ কিছু দোকানপাট, শপিংমল ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, উগ্র সমর্থকদের ছোঁড়া ইট-পাটকেল ও আতশবাজির আঘাতে দায়িত্বরত অন্তত সাতজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং দাঙ্গাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর এলাকায় কাঁদানে গ্যাস (টিয়ার শেল) ব্যবহার করতে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান অনুযায়ী, রাতের এই সহিংসতায় অন্তত ছয়টি ব্যক্তিগত যানবাহন, দুটি বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং একটি আধুনিক বাসস্টপ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনিয়েজ সমর্থকদের এমন উগ্র আচরণ ও ভাঙচুরের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এই ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, পিএসজির বড় কোনো জয়ের উদ্‌যাপন সহিংসতায় রূপ নেওয়ার ঘটনা ফ্রান্সে এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৫ সালে ক্লাবটির ইউরোপীয় শিরোপা জয়ের পর দেশটিতে ভয়াবহ এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরসহ দুজন প্রাণ হারিয়েছিলেন। তবে রাতের এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সামলে আজ রোববার প্যারিসে পিএসজির খেলোয়াড়দের নিয়ে বর্ণাঢ্য বিজয় শোভাযাত্রার (ভিক্টোরি প্যারেড) আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী দলের সদস্যদের ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে এলিসি প্রাসাদে বিশেষ সাক্ষাতেরও কথা রয়েছে।

/আশিক


সালাহকে অধিনায়ক করে মিসরের ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা, বড় চমক হামজা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩০ ২১:৪৩:৩৪
সালাহকে অধিনায়ক করে মিসরের ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা, বড় চমক হামজা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-কে সামনে রেখে ২৬ সদস্যের সংক্ষেপিত চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে উত্তর আফ্রিকার ফুটবল পরাশক্তি মিসর। দলটির প্রধান কোচ হোসাম হাসানের ঘোষিত এই শক্তিশালী দলে অবধারিতভাবেই অধিনায়কের গুরুদায়িত্ব পালন করবেন দলের প্রাণভোমরা ও বিশ্বসেরা উইঙ্গার মোহাম্মেদ সালাহ। এবারের বিশ্বমঞ্চের স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন মাত্র ১৮ বছর বয়সী উদীয়মান ফরোয়ার্ড হামজা আবদেল করিম, যিনি ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো বড় কোনো আন্তর্জাতিক আসরের মূল দলে ডাক পেলেন।

তরুণ প্রতিভাবান হামজা আবদেল করিমের পাশাপাশি এবার মিসরের আক্রমণভাগে অন্যতম প্রধান প্রধান ভরসা হিসেবে মাঠে নামবেন ওমর মারমুশ। ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলা এই ফরোয়ার্ড সদ্য শেষ হওয়া ইউরোপীয় ক্লাবের মৌসুমে ৩৬ ম্যাচে ৮ গোল করে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন, যা দলের আক্রমণভাগকে দারুণ শক্তিশালী করবে। মূল বিশ্বকাপে মাঠে নামার আগে নিজেদের শেষ ও চূড়ান্ত প্রস্তুতি ম্যাচে আগামী ৬ই জুন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের মুখোমুখি হবে মিসর। এরপর আগামী ১৫ই জুন সিয়াটলে শক্তিশালী বেলজিয়াম জাতীয় ফুটবল দলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে সালাহ-মারমুশদের বিশ্বকাপ অভিযান। টুর্নামেন্টের গ্রুপ ‘জি’-তে (Group G) মিসরের বাকি দুই প্রতিপক্ষ দল হলো নিউজিল্যান্ড ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান।

ঘোষিত এই ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াডে গোলপোস্ট সামলানোর দায়িত্বে বা গোলকিপার হিসেবে থাকছেন মোহামেদ এল-শেনাওয়ি, মোস্তফা শোবেইব, এল-মাহদি সোলাইমান ও মোহামেদ আলা। রক্ষণভাগ বা ডিফেন্স লাইনে প্রাচীর গড়তে ডাক পেয়েছেন মোহামেদ আবদেলমোনেম, মোহামেদ হানির, ইয়াসের ইব্রাহিম, হোসাম আবদেলমাজিদ, আহমেদ ফাতুহ, তারেক আলা, রামি রাবিয়া, হামদি ফাথি ও করিম হাফেজ।

মিডফিল্ড বা মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণ গড়বেন স্বয়ং অধিনায়ক মোহামেদ সালাহ, মারওয়ান আতিয়া, আহমেদ মোস্তাফা, মাহমুদ হাসান, ইমাম আশুর, মোস্তাফা আবদেল রউফ, মোহান্নাদ লাশিন, হাইথাম হাসান, মাহমুদ সাবের, ইব্রাহিম আদেল ও নাবিল এমাদ। আর ফরোয়ার্ড লাইন বা আক্রমণভাগে ম্যান সিটি তারকা ওমর মারমুশের সঙ্গে প্রধান স্ট্রাইকার পজিশনে প্রতিপক্ষের জাল কাঁপানোর সুযোগ পাবেন তরুণ তুর্কি হামজা আবদেল করিম।

/আশিক


ইউটিউবে বিনামূল্যে দেখা যাবে বিশ্বকাপের ১০৪ ম্যাচ, নেপথ্যে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩০ ২১:২৮:৩৪
ইউটিউবে বিনামূল্যে দেখা যাবে বিশ্বকাপের ১০৪ ম্যাচ, নেপথ্যে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
ছবি : সংগৃহীত

আর মাত্র ১১ দিন পরেই পর্দা উঠতে যাচ্ছে বৈশ্বিক ফুটবলের সবচাইতে বড় মহোৎসব ‘ফুটবল বিশ্বকাপ’-এর। মেগা এই আসর শুরুর প্রাক্কালে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমী দর্শকদের জন্য এলো এক অবিশ্বাস্য সুখবর। আসন্ন বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের সবকটিই একদম বিনামূল্যে (ফ্রি) সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বিশ্বখ্যাত ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবে। আর সাধারণ দর্শকদের জন্য বড় পর্দার এই দুর্দান্ত ও অভাবনীয় উদ্যোগের পেছনে জড়িয়ে আছে পর্তুগিজ ফুটবল মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর নাম।

এবারের বিশ্বকাপের সবকটি ম্যাচ কোনো প্রকার সাবস্ক্রিপশন ফি ছাড়াই বিনামূল্যে সরাসরি সম্প্রচার করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে রোনালদোর বড় অঙ্কের আর্থিক বিনিয়োগ থাকা একটি জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল। তবে এই অভূতপূর্ব আনন্দের খবরের মাঝেও বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার তথা উপমহাদেশের দর্শকদের জন্য রয়েছে একটি বড় ভৌগোলিক বাধা বা ‘কিন্তু’।

সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল নাসরের হয়ে মাঠ কাঁপানো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো সম্প্রতি ব্রাজিলের জনপ্রিয় স্পোর্টস মিডিয়া জায়ান্ট কোম্পানি ‘লাইভমোড’ (LiveMode)-এ বড় অঙ্কের পুঁজি বিনিয়োগ করেছেন। এই লাইভমোডের সঙ্গেই যৌথ অংশীদারত্ব ও চুক্তির ভিত্তিতে কাজ করে অন্যতম শীর্ষ ডিজিটাল স্পোর্টস প্ল্যাটফর্ম ‘কেজটিভি’ (CazéTV)। এই ইউটিউব চ্যানেলটিই মূলত ফুটবল ভক্তদের জন্য এবারের বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের সব কটি কোনো টাকা ছাড়াই সরাসরি সম্প্রচারের গুরুদায়িত্ব নিয়েছে।

ব্রাজিলের বিখ্যাত ইউটিউবার ও সফল স্ট্রিমার কাসিমিরো মিগুয়েল ২০২২ সালে এই কেজটিভি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি চালু করেন। আত্মপ্রকাশের বছরই কাতার বিশ্বকাপের বেশ কিছু হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ সরাসরি দেখিয়ে নেটদুনিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল চ্যানেলটি। এরপর ফিফা নারী বিশ্বকাপ, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ এবং অলিম্পিকের মতো বৈশ্বিক মেগা টুর্নামেন্টগুলোও সফলভাবে সরাসরি সম্প্রচার করে নিজেদের সক্ষমতার জানান দিয়েছে এই প্ল্যাটফর্ম।

উত্তর আমেরিকায় (যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের মেগা বিশ্বকাপের জন্য আরও বড় ও আধুনিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে কেজটিভি। তারা দর্শকদের সম্পূর্ণ নিখুঁত ও আল্ট্রা হাই-কোয়ালিটি অর্থাৎ ফোরকে (4K) রেজোলিউশনে ম্যাচগুলো উপভোগ করার আধুনিক সুবিধা দেবে। শুধু মাঠের মূল খেলাই নয়, ফুটবলারদের পর্দার পেছনের নানামুখী দৃশ্য, বিভিন্ন দেশের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং খেলা চলাকালীন সরাসরি চ্যাটিং বা ইন্টারঅ্যাক্টিভ সেশনেরও বিশেষ আয়োজন করবে তারা।

ইউটিউবে কোনো খরচ ছাড়া খেলা দেখার এই মহোৎসবের খবরটি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যতটা আনন্দের, উপমহাদেশের কোটি ফুটবল ভক্তদের জন্য তা ততটাই হতাশার। কারণ, বাংলাদেশ বা ভারতের ফুটবল দর্শকরা নিজেদের হ্যান্ডসেটের ইউটিউব কিংবা টুইচ (Twitch) অ্যাপ থেকে এই চ্যানেলে প্রবেশ করলেও সরাসরি ম্যাচগুলোর লাইভ স্ট্রিমিং দেখতে পারবেন না। মূলত কেজটিভি ও এর মূল সংস্থা লাইভমোড কেবল নির্দিষ্ট ‘ব্রাজিল অঞ্চলের’ (Brazil Region) জন্য ফিফার কাছ থেকে এই ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্ব (জিও-ব্লকড ব্রডকাস্ট রাইটস) কিনেছে। ফলে ব্রাজিল ভৌগোলিক সীমানার বাইরে বিশ্বের অন্য সব দেশের জন্য এই চ্যানেলের লাইভ ফিডটি পুরোপুরি ‘লক’ বা বন্ধ করা থাকবে।

তাই বাংলাদেশ ও ভারতের ফুটবল ভক্তদের নিজ নিজ দেশে খেলা দেখার জন্য আপাতত স্থানীয় টিভি ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর অফিশিয়াল ঘোষণার জন্যই অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ভারতে টেলিভিশন ও ডিজিটাল মাধ্যমে বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো সম্প্রচারের স্বত্ব পাওয়ার দৌড়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ‘জি’ (Zee) নেটওয়ার্ক। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে তারা তাদের নিজস্ব স্পোর্টস চ্যানেল এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘জিফাইভ’ (Zee5) অ্যাপের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার দর্শকদের জন্য ম্যাচগুলো সরাসরি দেখার ব্যবস্থা করতে পারে।

/আশিক


মেসির চোট নিয়ে ধোঁয়াশা: ইন্টার মায়ামির স্বস্তির বার্তার পর স্কালোনির নতুন দুঃসংবাদ

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৭ ১২:৩৫:২০
মেসির চোট নিয়ে ধোঁয়াশা: ইন্টার মায়ামির স্বস্তির বার্তার পর স্কালোনির নতুন দুঃসংবাদ
ছবি : সংগৃহীত

আমেরিকান ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির চোট পাওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ম্যাচের দ্বিতীয় ভাগে শারীরিক অস্বস্তিবোধ করায় এই আর্জেন্টাইন তারকাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়।

মেসির মাঠ ছাড়ার এই ঘটনায় আর্জেন্টিনার ফুটবল ভক্ত ও শিবিরের মধ্যে তাৎক্ষণিক দুশ্চিন্তার হাওয়া বয়ে যায়। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে ইন্টার মায়ামি ক্লাব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দ্রুত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে আশ্বস্ত করে বলা হয় যে, মেসি বড় কোনো আঘাত পাননি; বরং টানা খেলার কারণে পেশির ক্লান্তি ও অবসাদের কারণেই মূলত তাকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

ক্লাবের পক্ষ থেকে স্বস্তির খবর আসলেও এর মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি আভাস দিয়েছেন যে, আসন্ন বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ক্যাম্পে অধিনায়ক মেসিকে হয়তো শতভাগ শারীরিক ফিটনেস নিয়ে পাওয়া যাবে না।

আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম ‘দি স্পোর্তস’-কে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে কোচ স্কালোনি জানান, মেসির শারীরিক অবস্থার প্রাথমিক যে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে, তা খুব একটা উদ্বেগজনক বা খারাপ কিছু নয়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তাদের আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, মেসির শারীরিক উন্নতির গ্রাফ তারা পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করতে আরও কিছু বিশদ স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

আর্জেন্টাইন কোচ আরও যোগ করেন, দলের প্রধান তারকা হিসেবে তারা সবাই চেয়েছিলেন মেসি যেন একদম সম্পূর্ণ সুস্থ ও ফিট হয়ে ক্যাম্পে যোগ দেন, কিন্তু বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। একই সাথে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, কেবল মেসি একাই নন, দলের আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এখনো বিভিন্ন চোট আঘাত থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেননি, যা বিশ্বকাপের আগে দলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

/আশিক


কাতার সেমিফাইনালের সেই নায়ক এবারও আর্জেন্টিনাকে মেগা আনন্দে ভাসাতে মরিয়া

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৬ ১৮:১৫:৫৩
কাতার সেমিফাইনালের সেই নায়ক এবারও আর্জেন্টিনাকে মেগা আনন্দে ভাসাতে মরিয়া
ছবি : সংগৃহীত

কাতারে দীর্ঘ ৩৬ বছরের খরা ঘুচিয়ে বিশ্বজয়ের পর এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা নামছে ট্রফি ধরে রাখার মিশনে। লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিদের এই হ্যাটট্রিক বা ব্যাক-টু-ব্যাক বিশ্বকাপ জয়ের মিশনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ। ২৬ বছর বয়সী এই তারকা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আলবিসেলেস্তেরা বিশ্বমঞ্চে ফেবারিটের তকমা গায়ে দিয়ে নয়, বরং টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়ের তীব্র ক্ষুধা নিয়েই মাঠে নামবে। সব ঠিক থাকলে আগামী রোববার কোচ লিওনেল স্কালোনির চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার কথা রয়েছে, যেখানে আলভারেজের থাকাটা অবধারিত। স্কোয়াড প্রকাশের আগে ফিফাকে (FIFA) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের আবেগ, দলের মানসিকতা ও বৈশ্বিক লক্ষ্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই ফরোয়ার্ড।

হুলিয়ান আলভারেজ তাঁর সাক্ষাৎকারে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার গর্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, "এই অনুভূতিটা সত্যিই অসাধারণ। এটি আমাদের পুরো দলকে ভীষণ উদ্বুদ্ধ করে। তবে আমরা অতীতে লটকে থাকতে চাই না; আমাদের লক্ষ্য এবারও শিরোপা ধরে রাখা এবং আর্জেন্টিনার মানুষকে আবারও রাস্তায় নেমে বাধভাঙা আনন্দে ভাসার উপলক্ষ তৈরি করে দেওয়া।" কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ট্রফি জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন আলভারেজ, যিনি সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলসহ পুরো টুর্নামেন্টে ৪টি গোল করেছিলেন।

এবারও সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি চান তিনি। ২০২১ সালে মারাকানায় কোপা আমেরিকা জয় দিয়ে আর্জেন্টিনার যে সোনালি অধ্যায়ের শুরু হয়েছিল, তা ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা জয় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এবার ২০২৬ সালেও বিশ্বজয়ের ধারা বজায় রেখে ফুটবলের ইতিহাসে এক অনন্য নজির গড়তে চান আলভারেজ, কারণ এটি সফল হলে আর্জেন্টিনার নামের পাশে টানা দু’বার কোপা আমেরিকা এবং টানা দু’বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার এক ঐতিহাসিক ও অভূতপূর্ব কীর্তি যুক্ত হবে।

বিশ্বজয়ের এই মহাকাব্যিক পথটা যে মোটেও মসৃণ হবে না, তা নিয়ে কোনো লুকোছাপা করেননি ম্যানচেস্টার সিটি ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের এই তারকা ফরোয়ার্ড। আলভারেজ বাস্তবসম্মতভাবে উল্লেখ করেন, "আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য ফাইনালে পৌঁছানো হলেও আমরা জানি কাজটা কতটা কঠিন। বিশ্বমঞ্চে অনেক বড় ম্যাচের ফলাফল খুব সূক্ষ্ম ব্যবধানে বা ভাগ্যের ফেরে নির্ধারিত হয়ে যায়।

তাই আমরা প্রতিটি ম্যাচকে ফাইনাল ধরে ধাপে ধাপে এগোতে চাই এবং নিজেদের সেরা উপায়ে প্রস্তুত করছি।" চ্যাম্পিয়ন হওয়ার তীব্র মানসিকতা এবং দলের অভ্যন্তরীণ বন্ধনই স্কালোনির আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করেন তিনি।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই কি ঘুচবে ২৪ বছরের খরা? ব্রাজিলের হেক্সা মিশন নিয়ে জোর জল্পনা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৬ ১৭:৪৮:০২
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই কি ঘুচবে ২৪ বছরের খরা? ব্রাজিলের হেক্সা মিশন নিয়ে জোর জল্পনা
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ আসর ব্রাজিলের জন্য ২৪ বছরের শিরোপা খরা ঘুচিয়েছিল—এই ঐতিহাসিক কাকতালীয় তথ্যকে ২০২৬ সালের টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের নিশ্চয়তা হিসেবে ধরে নেওয়া চরম সরলীকরণ। ফুটবল ইতিহাস রোমান্টিকতা পছন্দ করলেও, আধুনিক ফুটবল চলে নিখুঁত কৌশল, মানসিক শক্তি এবং স্কোয়াডের ভারসাম্য দিয়ে। অতীত সৌভাগ্যের পুনরাবৃত্তির মিথকে পাশে ঠেলে বর্তমান সেলেসাও স্কোয়াডের শক্তি, দুর্বলতা এবং নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির কৌশলকে ব্যবচ্ছেদ করলে কিছু স্পষ্ট শূন্যতা ও অন্ধকারের দিক ফুটে ওঠে।

ব্রাজিলীয় ফুটবল ফেডারেশন (CBF) তাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে ইতালীয় কিংবদন্তি কার্লো আনচেলত্তির হাতে দলের দায়িত্ব সঁপেছে। ক্লাব ফুটবলে পাঁচটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ইউরোপের শীর্ষ পাঁচটি লিগ জেতা আনচেলত্তি নিঃসন্দেহে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যানেজার। তাঁর সবচেয়ে বড় গুণ হলো অহং ও তারকাখচিত ড্রেসিংরুম সামলানো এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শান্ত থাকা। রিয়াল মাদ্রিদে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও কাসেমিরোর মতো তারকাদের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা জাতীয় দলেও তাঁর জন্য সহায়ক হবে।

আনচেলত্তির পুরো ক্যারিয়ার গড়ে উঠেছে ক্লাব ফুটবলকে কেন্দ্র করে, যেখানে প্রতিদিন খেলোয়াড়দের সাথে কাজ করার এবং দল গঠনের পর্যাপ্ত সুযোগ থাকে। জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক উইন্ডো অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। মাত্র কয়েকদিনের ক্যাম্পে নিজের নমনীয় ৪-৩-৩ বা ৪-২-৩-১ ফর্মেশন এবং প্রতিপক্ষ অনুযায়ী হুটহাট কৌশল পরিবর্তনের দর্শন লাতিন আমেরিকান ফুটবলারদের মজ্জায় কতটা ঢুকানো যাবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া, নেইমারকে খণ্ডকালীন ‘ম্যাচ-চেঞ্জার’ হিসেবে রাখা এবং থিয়াগো সিলভাকে বাদ দেওয়ার মতো সাহসী সিদ্ধান্তগুলোর ভালো-মন্দ পুরোপুরি নির্ভর করবে নকআউটের ফলাফলের ওপর। ব্যর্থ হলে এই ‘বিচারবুদ্ধি’ই খামখেয়ালিপনা হিসেবে সমালোচিত হবে।

আলিসন বেকার গোলপোস্টে বিশ্বস্ততার প্রতীক। রক্ষণভাগের কেন্দ্রে পিএসজি-র মার্কুইনহোস এবং আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের জুটি এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা, যারা নিজ নিজ ক্লাবকে ইউসিএল ফাইনালে তুলেছেন। কিন্তু ব্রাজিলের আসল মাথাব্যথার কারণ তাদের ফুলব্যাক পজিশন। রোমার ওয়েসলি (ডানদিক) এবং অভিজ্ঞ আলেক্স স্যান্ড্রো (বামদিক) কেউই কাফু, রবার্তো কার্লোস বা দানি আলভেজের মতো বিশ্বমানের নন। আধুনিক ফুটবলে উইঙ্গাররা যখন আক্রমণে উঠবেন, তখন এই ফুলব্যাকদের পেছনে রেখে যাওয়া ফাঁকা জায়গা কাউন্টার-অ্যাটাক নির্ভর দলগুলো (যেমন মরক্কো বা জাপান) মারাত্মকভাবে ব্যবহার করতে পারে।

নিউক্যাসলের ব্রুনো গিমারাইস এই মুহূর্তে আধুনিক কমপ্লিট মিডফিল্ডার। কিন্তু তাঁর সঙ্গী কাসেমিরো ম্যানচেস্টার উনাইটেডে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে মৌসুম পার করেছেন। গতি ও রিফ্লেক্স কমে যাওয়া কাসেমিরো বড় মঞ্চে আনচেলত্তির আস্থার প্রতিদান কতটা দিতে পারবেন, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। লুকাস পাকেতা ফ্লামেঙ্গোতে ফিরে ছন্দ পেলেও ইউরোপিয়ান হাই-প্রেসিং ফুটবলের বিরুদ্ধে মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে তাঁর ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে।

রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং বার্সেলোনার রাফিনহা উইংয়ে প্রতিপক্ষের জন্য ত্রাস। ১৮ বছর বয়সী এন্ড্রিক বড় চমক হতে পারেন। তবে প্রথাগত ‘নম্বর ৯’ বা স্ট্রাইকার (যেমন জোয়াও পেদ্রো) ছাড়া খেলার যে কৌশল আনচেলত্তি নিচ্ছেন, তা অনেক সময় রক্ষণাত্মক ও জমাট প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বক্সের ভেতর ফাঁকা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়।

আশীর্বাদ নাকি বোঝা? সান্তোসে ফিরে হ্যাটট্রিক করে নেইমার তাঁর ‘ক্লাস’ প্রমাণ করলেও, ২০২৩ সালের এসিএল (ACL) চোটের পর তাঁর শরীর আর আগের মতো নেই। আনচেলত্তি তাঁকে শুরুর একাদশে না রেখে ‘ইমপ্যাক্ট সাব’ বা ম্যাচ-পরিবর্তনকারী হিসেবে ব্যবহারের যে পরিকল্পনা করছেন, তা কাগজে-কলমে ভালো শোনালও মাঠের বাস্তবতায় নেইমারের ফিটনেস এবং নকআউটের তীব্র চাপ নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে যায়।

গ্রুপ ‘সি’-তে হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিল পরিষ্কার ফেভারিট হলেও, প্রথম ম্যাচেই ১৩ জুন মেটলাইফ স্টেডিয়ামে তাদের মুখোমুখি হতে হবে মরক্কোর। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো অত্যন্ত সুসংগঠিত, শারীরিকভাবে শক্তিশালী এবং কাউন্টার-অ্যাটাক ও সেট-পিসে সিদ্ধহস্ত। এই ম্যাচেই ব্রাজিলের ফুলব্যাক ও সেট-পিস ডিফেন্সের আসল পরীক্ষা হয়ে যাবে।

আসল জটিলতা শুরু হবে দ্বিতীয় রাউন্ড বা শেষ ১৬ থেকে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বা রানার্স-আপ যা-ই হোক না কেন, ব্রাজিলকে গ্রুপ ‘এফ’ থেকে আসা নেদারল্যান্ডস, সুইডেন কিংবা জাপানের মতো শক্তিশালী ও কৌশলী দলের মুখোমুখি হতে হবে। বিশেষ করে জার্মানির গাণিতিক মডেল যেভাবে জাপান কর্তৃক ব্রাজিলকে বিদায় করার পূর্বাভাস দিয়েছে, তা হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই; কারণ গতিময় ফুটবল ও ট্যাকটিক্যাল শৃঙ্খলার অভাবের কারণেই গত কয়েকটি বিশ্বকাপে ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনাল (বেলজিয়াম ও ক্রোয়েশিয়া) থেকে বিদায় নিয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলে ফ্রান্স বা জার্মানির মতো পরাশক্তিদের বাধা পেরোনো ছাড়া হেক্সা জয় অসম্ভব।

কার্লো আনচেলত্তির উপস্থিতি এবং স্কোয়াডের ব্যক্তিগত প্রতিভা ব্রাজিলকে কাগজে-কলমে অন্যতম ফেভারিট বানালেও, ফুলব্যাকের দুর্বলতা, কাসেমিরোর পড়তি ফর্ম এবং নকআউট পর্বের কঠিন ড্র ব্রাজিলের হেক্সা মিশনকে চরম অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ১৯৯৪ সালের মার্কিন সৌভাগ্যের মিথ দিয়ে এই কঠিন বাস্তবতা ঢাকা যাবে না।

সূত্র: বিবিসি


ম্যাচের আগে চার্জ দিতে হবে বল! অ্যাডিডাসের তৈরি স্মার্ট বলে কাঁপবে বিশ্বকাপ

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৫ ২১:৫৬:২৪
ম্যাচের আগে চার্জ দিতে হবে বল! অ্যাডিডাসের তৈরি স্মার্ট বলে কাঁপবে বিশ্বকাপ
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের জল্পনা-কল্পনার যেন শেষ নেই। ফুটবল ইতিহাসের এই প্রথমবার রেকর্ড ৪৮টি দল নিয়ে আগামী ১১ জুন মাঠে গড়াবে বিশ্বকাপের মেগা আসর। তবে মাঠের বল গড়ানোর আগেই বিশ্বজুড়ে ফুটবল দুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে ‘ট্রাইওন্ডা’ (Trionda)। এটি মূলত আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য বিশ্ববিখ্যাত ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাডিডাস’ (Adidas)-এর তৈরি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর অফিশিয়াল ম্যাচ বল।

যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি হাই-টেক শহরে এবারের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই তিন আয়োজক দেশকে বিশেষ সম্মান জানিয়ে তৈরি করা এই বিশেষ বলটিতে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যন্ত আধুনিক ‘ডিপ-সিম’ (Deep-Seam) প্রযুক্তি এবং ৫০০ হার্ৎজ (500 Hz) মোশন সেন্সর। এই যুগান্তকারী প্রযুক্তি মাঠের রেফারিদের ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর (VAR) সিদ্ধান্তগুলোকে শতভাগ নিখুঁত করতে এবং বলের গতিশীলতার ভারসাম্য বজায় রাখতে দারুণ সাহায্য করবে। তিন দেশের নামের চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়েই বলটির নাম রাখা হয়েছে ‘ট্রাইওন্ডা’, যার ডিজাইনে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তিন দেশের পতাকার ঐতিহ্যবাহী নীল, লাল এবং সবুজ রঙের ছোঁয়া।

এই ম্যাচ বলটি মাঠে ফুটবলারদের খেলার সময় একটি উন্নত ট্র্যাকিং ডিভাইস হিসাবেও কাজ করবে। তবে বলটির সবচেয়ে বড় এবং বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে এর ভেতরের গোপন প্রযুক্তিতে। ট্রাইওন্ডার ভেতরে একটি অত্যাধুনিক মোশন সেন্সর চিপ বসানো হয়েছে, যা খেলা চলাকালীন প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০০ বার নিখুঁত ডেটা বা তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম। এর ফলে মাঠে বলটি কখন, কোথায়, কী গতিতে যাচ্ছে কিংবা কোন খেলোয়াড় ঠিক কোন মুহূর্তে সেটিকে আলতো স্পর্শ করছেন—সব ডেটাই মুহূর্তের মধ্যে সরাসরি চলে যাবে কন্ট্রোল রুমে।

অবিশ্বাস্য বিষয় হলো, ভেতরে থাকা এই শক্তিশালী মাইক্রো সেন্সরটির ওজন মাত্র ১৪ গ্রাম। এর আগেও বিভিন্ন টুর্নামেন্টে ফুটবলে চিপ বা প্রযুক্তির আংশিক ব্যবহার হলেও, ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য সেটিকে একদম অন্য লেভেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বলের ভেতরে চিপটি এমন নিখুঁত ও ভারসাম্যপূর্ণভাবে বসানো হয়েছে যাতে বলের স্বাভাবিক ওজন, নিখুঁত গতি কিংবা সুইং বা বাউন্সে কোনও ধরনের পরিবর্তন না আসে। ফুটবলাররা মাঠে খেলার সময় এটি যে একটি চিপযুক্ত বিশেষ বল, তা বুঝতেই পারবেন না।

নতুন এই স্মার্ট বলের আরেকটি চোখ কপালে তোলার মতো দিক হলো এর পাওয়ার সিস্টেম বা রিচার্জেবল ব্যবস্থা। বলের ভেতরের শক্তিশালী সেন্সরটিকে সচল রাখতে প্রতি ম্যাচ শুরুর আগে এটিকে বৈদ্যুতিক তার বা ডকের মাধ্যমে চার্জ করতে হবে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্যের মতো নিখুঁতভাবে জানা গেছে, বলটি একবার সম্পূর্ণ বা ফুল চার্জ হলে টানা ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত এর ভেতরের সেন্সর ব্যাকআপ দিতে পারবে।

বাহ্যিকভাবে প্রযুক্তিমিশ্রিত এই ‘ট্রাইওন্ডা’ বলটিকে দেখে বোঝার কোনও উপায় নেই যে এর ভেতরে বসানো হয়েছে এত উন্নতমানের স্পেস-এজ সেন্সর। স্টেডিয়ামের চারপাশের হাই-ডেফিনিশন ক্যামেরা এবং বলের ভেতরের সেন্সর একসঙ্গে সিঙ্ক (Sync) হয়ে কাজ করে অফসাইড, গোললাইন টেকনোলজিসহ প্রতিটি সূক্ষ্ম ঘটনার নিখুঁত বিশ্লেষণ দিতে পারবে। ফলে বলা চলে, ‘ট্রাইওন্ডা’ শুধু চামড়ার গোলক কোনো বল নয়, বরং এটি হতে যাচ্ছে বিশ্বফুটবলের ভাগ্য নির্ধারণী এক অনন্য স্মার্ট প্রযুক্তি।

/আশিক


গাণিতিক মডেলের বিস্ফোরক পূর্বাভাস: ২০২৬ বিশ্বকাপ জিতবে নেদারল্যান্ডস!

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৫ ১৯:৩৮:৫৮
গাণিতিক মডেলের বিস্ফোরক পূর্বাভাস: ২০২৬ বিশ্বকাপ জিতবে নেদারল্যান্ডস!
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ফুটবলের ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত ফিফা বিশ্বকাপে যেমন প্রতি মুহূর্তে ইতিহাস লেখা হয়, তেমনি এখানে নাটকীয় অঘটনেরও কোনো শেষ নেই। তবে ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা বিশ্বকাপে মাঠের বল গড়ানোর আগেই এক অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য ‘অঘটন’ ঘটিয়ে দিয়েছে একটি বিশেষ গাণিতিক অ্যালগরিদম। জার্মানির বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও বিনিয়োগ বিশ্লেষক ইওয়াখিম ক্লেমেন্টের তৈরি এক অত্যাধুনিক গাণিতিক মডেল ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে, এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল আসরের সোনালী ট্রফিটি জয় করতে যাচ্ছে ডাচ বা নেদারল্যান্ডস দল।

ক্লেমেন্টের এই গাণিতিক পূর্বাভাসের সবচেয়ে বড় চমক হলো, ফুটবলের প্রথাগত পরাশক্তি ও ফেবারিট তালিকায় শীর্ষে থাকা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, স্পেন কিংবা কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্সকে তারা চ্যাম্পিয়ন হিসেবে গণ্য করেনি। আরো বড় ও চোখ কপালে তোলার মতো চমক দেখিয়েছে নকআউট পর্বের পূর্বাভাসে। সেখানে সাফ বলা হয়েছে, এশিয়ার পরাশক্তি জাপান নকআউট পর্বের ‘রাউন্ড অব ৩২’ (Round of 32) থেকেই বিশ্বফুটবলের অন্যতম সেরা দল ব্রাজিলকে হারিয়ে আসর থেকে বিদায় করে দেবে।

এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, এই মডেলের ওপর কতটা ভরসা করা যায়? ইতিহাস বলছে, ইওয়াখিম ক্লেমেন্ট এর আগেও তাঁর তৈরি এই নিখুঁত মডেল দিয়ে ২০১৪ (জার্মানি), ২০১৮ (ফ্রান্স) ও ২০২২ (আর্জেন্টিনা) বিশ্বকাপের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নাম একদম সঠিকভাবে অনুমান করেছিলেন। হ্যাটট্রিক সাফল্যের পর তাঁর এই নতুন ডাচ-ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে ইতিমধ্যেই পুরো ফুটবল দুনিয়ায় তুমুল আলোড়ন ও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে।

অর্থনীতিবিদ ক্লেমেন্টের এই মডেলে শুধু মাঠের ফুটবল পারফরম্যান্স বা র‍্যাংকিং নয়, বরং একটি দেশের অর্থনীতি, মোট জনসংখ্যা, আবহাওয়া, মাথাপিছু আয় এবং আয়োজক দেশের পরিবেশগত ও ভৌগোলিক সুবিধার মতো একাধিক সূক্ষ্ম ও অ-ফুটবলীয় বিষয়কে গাণিতিক সমীকরণে রূপ দেওয়া হয়েছে। ক্লেমেন্টের দাবি, এসব বিচিত্র ডেটা বা তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রায় ৫৫ শতাংশ নির্ভুলভাবে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত সাফল্য অনুমান করা সম্ভব। তাঁর এই জটিল মডেল অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপে ডাচদের শিরোপা যাত্রা মোটেও সহজ হবে না। গ্রুপ পর্বেই নেদারল্যান্ডসকে লড়তে হবে জাপান, সুইডেন ও তিউনিসিয়ার মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।

তবে সমস্ত বাধা পেরিয়ে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য মেগা ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দেশ পর্তুগাল। আর সেই ফাইনালে পর্তুগিজদের হারিয়েই ফুটবল ইতিহাসের সব আক্ষেপ ঘুচিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় পরবে ডাচরা। এর আগে ১৯৭৪, ১৯৭৮ এবং ২০১০ সালের ফাইনালে উঠেও রানার্স-আপ হয়ে ট্রফি ছোঁয়া হয়নি নেদারল্যান্ডসের; এবার ক্লেমেন্টের অ্যালগরিদম সত্যি হলে ঘুচবে ডাচদের সেই ৫২ বছরের চিরন্তন ট্র্যাজেডি।

/আশিক


বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আর্জেন্টিনার কাছে ব্রাজিলের অন্যরকম হার!

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ২০:৩৭:১৬
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আর্জেন্টিনার কাছে ব্রাজিলের অন্যরকম হার!
ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল মাঠে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার লড়াই মানেই বিশ্বজুড়ে টানটান উত্তেজনা। তবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগেই মাঠের বাইরে, বিশেষ করে ডাগআউটের মাস্টারমাইন্ড সরবরাহের লড়াইয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে একচেটিয়া জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ফুটবল নিয়মের মারপ্যাঁচে ভিনদেশের কোনো খেলোয়াড়কে দলে টানার সুযোগ না থাকলেও, ডাগআউটে কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ভৌগোলিক সীমানা নেই। আর এই সুযোগে এবারের মেগা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ ২৬টি দলই বেছে নিয়েছে বিদেশি কোচ। আর এখানেই পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান ও ডাগআউটের কৌশলীদের জাতীয়তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ফুটবল বিশ্বে এই মুহূর্তে আর্জেন্টাইন ফুটবল-মস্তিষ্কের কদরই সবচেয়ে বেশি। এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৬ জন কোচ সরবরাহ করেছে ফুটবলের দেশ আর্জেন্টিনা। নিজ দেশের ডাগআউটে থাকা বিশ্বকাপজয়ী লিওনেল স্কালোনি ছাড়াও বিশ্বমঞ্চে কৌশল দেখাবেন আরও ৫ আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড। তারা হলেন—যুক্তরাষ্ট্রের মরিসিও পচেত্তিনো, উরুগুয়ের মার্সেলো বিয়েলসা, প্যারাগুয়ের গুস্তাভো আলভারো, ইকুয়েডরের সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে এবং কলম্বিয়ার নেস্তর লরেঞ্জো।

বিপরীতে, অবাক করার মতো বিষয় হলো—ফুটবলের আঁতুড়ঘর এবং পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের এবার নিজের দেশের কোনো কোচ নেই। সেলেসাওরা এবার বিশ্বমঞ্চে নামছে ইতালিয়ান কিংবদন্তি কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে। নিজের দেশের ফুটবল ফেডারেশন যেখানে বিশ্বমানের একটি দেশি কোচ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে আর্জেন্টিনার কোচরা ডাপিয়ে বেড়াবেন বিভিন্ন দেশের ডাগআউটে। কৌশলীদের জাতীয়তার এই তলানি রূপই বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের জন্য এক অন্যরকম মনস্তাত্ত্বিক হার।

আর্জেন্টিনার ঠিক পরেই ৫ জন কোচ নিয়ে তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স। ফরাসি কোচদের মধ্যে আছেন ফ্রান্সের দিদিয়ের দেশম, বেলজিয়ামের রুডি গার্সিয়া, তিউনিসিয়ার সাব্রি লামুশি, ডিআর কঙ্গোর সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে এবং হাইতির সেবাস্তিয়ান মিনিও। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৪ জন কোচ সরবরাহ করে ডাগআউটে দাপট দেখাচ্ছে স্পেন। স্প্যানিশ কোচদের মধ্যে রয়েছেন স্পেনের লুইস দে লা ফুয়েন্তে, পর্তুগালের রবার্তো মার্তিনেজ, কাতারের হুলেন লোপেতেগি এবং পানামার ক্রিস্টিয়ানসেন।

এছাড়া ৩ জন করে কোচ থাকছেন ইতালি ও জার্মানির। টানা তৃতীয়বারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে না পারলেও ইতালির ফুটবল-মস্তিষ্কের বৈশ্বিক চাহিদা কমেনি। ইতালি থেকে এবার বিশ্বমঞ্চে যাচ্ছেন কার্লো আনচেলত্তি (ব্রাজিল), ফ্যাবিও ক্যানাভারো (উজবেকিস্তান) ও ভিনসেঞ্জো মন্তেলা (তুরস্ক)। অন্যদিকে জার্মান কোচদের মধ্যে ফুটবলারদের দিকনির্দেশনা দেবেন—ইুলিয়ান নাগলসমান (জার্মানি), টমাস টুখেল (ইংল্যান্ড) ও রালফ রাংনিক (অস্ট্রিয়া)।

বিশ্বকাপের এই আধুনিক যুগে এসেও ব্যতিক্রম দেখিয়েছে ২২টি দেশ। তারা কোনো বিদেশি কোচের চটকদার কৌশলে না ভুলে নিজেদের ‘খাঁটি’ বা স্বদেশি কোচের হাতেই তুলে দিয়েছে দলের চাবিকাঠি। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় তিন হাইপ্রোফাইল নাম—আর্জেন্টিনার লিওনেল স্কালোনি, ফ্রান্সের দিদিয়ের দেশম এবং জার্মানির ইউলিয়ান নাগলসমান। বাকিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন নেদারল্যান্ডসের রোনাল্ড কোম্যান, ক্রোয়েশিয়ার জ্লাৎকো দালিচ, জাপানের হাজিমে মোরিয়াসু এবং মেক্সিকোর হাভিয়ের আগুইরে। মাঠের লড়াইয়ে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ডাগআউটের এই ভিনদেশি বনাম স্বদেশি মাস্টারমাইন্ডদের কৌশলের যুদ্ধ যে ২০২৬ বিশ্বকাপকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে যাবে, তা নিশ্চিত।

/আশিক

পাঠকের মতামত:

নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬: কোন গ্রেডের মূল বেতন কত টাকা বাড়ছে? দেখে নিন তালিকা

নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬: কোন গ্রেডের মূল বেতন কত টাকা বাড়ছে? দেখে নিন তালিকা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা... বিস্তারিত