জুলাই সনদ ও ইশতেহার বাস্তবায়নই মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশের ইতিহাসের প্রতি অবিচার এবং সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক পর্বে শহীদ, আহত ও নির্যাতিতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটে প্রাণ হারানো এবং নির্যাতনের শিকার হওয়া সাধারণ মানুষের প্রতিও বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা যুদ্ধের অমর শহীদদের স্মরণ করে বলেন, তাঁদের অসীম আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজকের এই স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’কে জাতির গৌরবের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই পুরস্কার প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি জাতীয় ইতিহাসের সকল স্তরের নেতাদের অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইতিহাসকে সংকীর্ণ চোখে দেখা বা এর প্রতি অবিচার করা জাতির ভবিষ্যতের জন্য শুভকর নয়।
রাজনৈতিক বিভাজন নিরসনে প্রধানমন্ত্রী একটি ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, জাতীয় স্বার্থে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই মতপার্থক্য যেন কোনোভাবেই শত্রুতায় রূপ না নেয়। তিনি শহীদ জিয়ার কালজয়ী উদ্ধৃতি টেনে বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।’ বর্তমানে দেশে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
রাষ্ট্র পরিচালনার চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন। শিক্ষা খাতের অতীত বিপর্যয় কাটিয়ে তুলে একে আধুনিক ও কর্মমুখী করার পরিকল্পনার কথা জানানোর পাশাপাশি তিনি নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনী ইশতেহার এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এসব প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। তিনি মনে করেন, ব্যক্তিগত পরিবর্তনের চেয়ে মানসিকতার পরিবর্তনই বেশি জরুরি।
বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতার মধ্যেও সরকার ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে উল্লেখ করে তিনি দেশবাসীকে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও আড়ম্বর পরিহারের আহ্বান জানান। পরিশেষে, এবারের স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই গুণীজনদের কাজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
/আশিক
শহীদ জিয়ার কালজয়ী আদর্শেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রদর্শিত দেশপ্রেম ও কালজয়ী আদর্শ ধারণ করেই বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রবিবার (৩১ মে) বিকেলে শহীদ জিয়ার শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন এমন এক মহান নেতা, যার সততা ও কর্মনিষ্ঠার কারণে বিদেশের মানুষ এক নামে বাংলাদেশকে চিনতো। প্রবাদ আছে, যে গাছ ফল দেয়, সেই গাছেই মানুষ ঢিল মারে; শহীদ জিয়ার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। তবে তিনি যেভাবে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশ এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন, আমরা এখন ঠিক সেভাবেই দেশের শাসনভার ও রাষ্ট্রীয় খাতগুলো পরিচালনা করার আপ্রাণ চেষ্টা করছি।’
টুইন টাওয়ার বা বহুতল ভবনের রাজনৈতিক মেরুকরণের এই সময়ে বিএনপির সামনে অত্যন্ত কঠিন, সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে বলে নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ক্রান্তিকালে দলের প্রতিটি স্তরের মানুষকে সর্বোচ্চ সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে; অন্যথায় দেশ এবং আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।
দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান মনে করিয়ে দেন যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের মানুষের কল্যাণে বিএনপির একটি সুনির্দিষ্ট ইশতেহার ছিল। নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের পর এখন সেই ইশতেহারে প্রতিফলিত দেশের ৫২ শতাংশ মানুষের পবিত্র রায় ও আকাঙ্ক্ষা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে। শহীদ জিয়ার ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি, সর্বজনীন শিক্ষা এবং শিল্প বিপ্লবের মতো যুগান্তকারী বিষয়গুলো আমাদের ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং বর্তমান সরকার অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে সেই কাজগুলোই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জাতীয় বেতন কাঠামো সংস্কার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি খাতকে এগিয়ে নিতে জিয়াউর রহমান যে দূরদর্শী পথনির্দেশিকা রেখে গেছেন, তা অনুসরণ করেই বর্তমান প্রশাসন কাজ করছে। তবে সরকারের এই মহাপরিকল্পনা সফল করতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘সরকারের গৃহীত সঠিক ও কল্যাণমুখী কাজগুলোতে সাধারণ মানুষ এবং নেতা-কর্মীরা আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করলেই কেবল এই সরকার সফল হবে।
শুধু আমরা ওপর থেকে কাজ করলেই হবে না; বরং কেন্দ্র থেকে শুরু করে একেবারে তৃণমূল পর্যন্ত দলের সব নেতাকর্মীকে সরকারের লক্ষ্যগুলো সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বর্তমান প্রশাসনকে জনগণের চোখে একটি শতভাগ সফল, জবাবদিহিমূলক ও আদর্শ সরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’
/আশিক
রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখালে পুরোপুরি নির্মূল করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল জঙ্গল সলিমপুরসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী আস্তানা সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার মতো দুঃসাহস যে বা যারাই দেখাক না কেন, তাদের আস্তানা পুরোপুরি নির্মূল করা হবে। আজ রবিবার (৩১ মে) চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন শেষে বিকেলে নগরের সার্কিট হাউজে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষ সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক পরিস্থিতি, অবৈধ দখল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠককে চট্টগ্রামের ইতিহাসে অন্যতম ‘হাই-লেভেল মিটিং’ বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই মেগা সমন্বয় সভায় পার্বত্য বিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রামের সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রামের সব সংসদ সদস্য, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোরশেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী ফকির হোসেন এবং বিজিবি, র্যাব, সেনাবাহিনীসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী দেশে ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য যেখানেই থাকুক, তা যেকোনো মূল্যে নির্মূল করতে হবে। সন্ত্রাসীরা অতীতে যে দুঃসাহস দেখিয়েছে, আমরা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তা যথাযথভাবে অ্যাড্রেস করবো। তাদের আশ্রয়স্থল যেখানেই হোক এবং পর্দার আড়াল থেকে যারাই তাদের প্রশ্রয় বা রাজনৈতিক ইন্ধন দিক না কেন, সবকিছু নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জঙ্গল সলিমপুর, সলিমপুর ও আলীনগর এলাকার সাধারণ ও সাধারণ খাস জমিতে থাকা বাসিন্দাদের উচ্ছেদের আশঙ্কার বিষয়ে আবারও আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো সাধারণ বা নিরীহ বাসিন্দাকে উচ্ছেদ করা হবে না। যারা পরিস্থিতির শিকার হয়ে সেখানে বিভিন্নভাবে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সরকারের পক্ষ থেকে মানবিক বিবেচনায় তাদের জন্য টেকসই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। তবে ওই অঞ্চলের আধুনিক ও পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও একাডেমি গড়ে তোলার জন্য ম্যাপ (মানচিত্র) অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণের কাজ পুরোদমে চলছে।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের ঝুলে থাকা মেগা প্রকল্পের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বায়েজিদ লিংক রোডের পাশে নতুন কারাগারের জন্য প্রস্তাবিত খাস জায়গাটি আজই উচ্চপর্যায়ের দল নিয়ে সরজমিনে ভিজিট করা হয়েছে। কারা অধিদপ্তর ও আইজি প্রিজন খুব দ্রুত জায়গাটি সম্পূর্ণ নিজেদের আইনি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর সেখানে পরবর্তী আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে।
পাহাড়ে চলমান যৌথ অভিযানের সক্ষমতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে এখন আর শুধু প্রথাগত বা সাধারণ পুলিশিং ব্যবস্থা নয়; বরং পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীসহ প্রায় ৪ হাজার চৌকস সদস্যের একটি বিশাল যৌথবাহিনী হেলিকপ্টার সহায়তায় অত্যন্ত নিখুঁত ও সফল অভিযান পরিচালনা করছে। রাষ্ট্রের অখণ্ডতা রক্ষা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে সব বাহিনী এক হয়ে কাজ করছে।
জঙ্গল সলিমপুর ছাড়াও চট্টগ্রামের অন্যান্য অপরাধপ্রবণ এলাকা যেমন—রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও বোয়ালখালীর মতো উপজেলাগুলোতেও সন্ত্রাস দমনে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আইনশৃঙ্খলার এই ইতিবাচক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি গণমাধ্যম ও চট্টগ্রামের সাধারণ জনগণের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেন।
এর আগে, আজ রবিবার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে চট্টগ্রামের লিংক রোডের পাশে জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শনে যান। সেখানে একটি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি সরজমিনে আরও নিখুঁতভাবে যাচাই করতে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হন তিনি।
/আশিক
রামিসা হত্যা মামলায় সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হবে: আইনমন্ত্রী
মিরপুরে শিশু রামিসাকে বর্বরোচিত ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আদালত আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন বলে দৃঢ় আশা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। এই স্পর্শকাতর মামলায় সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ বিচার তথা মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করা হবে বলেও স্পষ্ট জানান তিনি। আজ রবিবার (৩১ মে) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত জেলা পরিষদের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
উল্লেখ্য, মূল তথ্যের সূত্র অনুযায়ী আজকের তারিখটি ৩১ মে হলেও আইনমন্ত্রীর ঝিনাইদহ সফরের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আইনি ও বিচারিক ব্যবস্থার নানা দিক উঠে এসেছে।
বক্তব্যকালে দেশের বিচার ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ বর্তমানে যতটা স্বাধীনভাবে কাজ করছে, এমন দৃষ্টান্ত ও স্বাধীনতা বিশ্বের অন্য অনেক দেশেই সচরাচর দেখা যায় না। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টের সম্মানিত বিচারকদের বদলি, পদায়ন বা শৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রশাসনিক বিষয়ে সরকারের এখন সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে এই স্বাধীনতার ভিন্ন রূপও দেশবাসী অতীতে দেখেছে, যেখানে বিচার বিভাগের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের নানামুখী অভিযোগ উঠেছিল।
আদালতগুলোতে মামলার দীর্ঘসূত্রতা ও জট প্রসঙ্গে মন্ত্রী একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন অবস্থায় ঝুলে রয়েছে। দেশের বিশাল জনসংখ্যার তুলনায় বিজ্ঞ বিচারক এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর সংখ্যা অত্যন্ত কম হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে মামলার এই বিশাল জট তৈরি হয়েছে। তবে মামলার এই দীর্ঘ জটের মধ্যেও শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণের মতো জঘন্য ও সংবেদনশীল মামলার ক্ষেত্রে দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে বলে আশ্বস্ত করেন আইনমন্ত্রী।
/আশিক
জঙ্গল সলিমপুরে আধুনিক কারাগার ও সেনানিবাস করবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত ও অপরাধপ্রবণ এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে একটি নতুন ও আধুনিক কারাগার স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের অবসান ঘটিয়ে এই দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলকে কোনোভাবেই আর সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। আজ রবিবার (৩১ মে) সকালে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকা সশরীরে পরিদর্শন শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফিংকালে তিনি সরকারের এই মেগা পরিকল্পনার কথা জানান।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরের দুঃশাসন ও রাজনীতির চরম দুর্বৃত্তায়নের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের ভেতরে এক ধরনের সমান্তরাল ‘দুর্বৃত্তের রাষ্ট্র’ গড়ে তোলার অপচেষ্টা হয়েছিল, যার একটি বাস্তব ও প্রত্যক্ষ নমুনা হচ্ছে এই জঙ্গল সলিমপুর। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই চট্টগ্রামে কিছু সুনির্দিষ্ট সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে কিছু নামী ব্যবসায়ীর বাসভবনে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রকাশ্যে গুলি বর্ষণ এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়ের মতো ধৃষ্টতাপূর্ণ ঘটনা ঘটার পর সরকার পুরো বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। ফলশ্রুতিতে অপরাধীদের পুরোপুরি অবদমন করতে গত ৯ই মার্চ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সমন্বিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, জঙ্গল সলিমপুরের প্রবেশপথ ও অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং নিজস্ব সশস্ত্র পাহারা বসিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের সন্ত্রাসীরা যে সমান্তরাল সন্ত্রাসী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করেছিল, তা গত ৯ই মার্চের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের কোনো কোনো ক্ষেত্র থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য আগেই ফাঁস হয়ে যাওয়ার কারণে অভিযানের মূল লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জন করা সম্ভব হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে র্যাবের নির্মাণাধীন অস্থায়ী ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার মতো দুঃসাহস এই অঞ্চলের সন্ত্রাসীরা কীভাবে পেল—তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এর পেছনে ওতপ্রোতভাবে থাকা বড় ভূমিদস্যু ও মূল রাজনৈতিক ইন্ধনদাতাদের দ্রুত চিহ্নিত করা হচ্ছে।
তবে জঙ্গল সলিমপুরের সাধারণ ও নিরীহ স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পূর্ণ আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সরকার এবং জনগণকে সর্বোচ্চ স্বস্তি ও নাগরিক নিরাপত্তা দেওয়া এই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক ও অর্থনৈতিক কারণে যারা দেশের নানা প্রান্ত থেকে এখানে এসে বসতি স্থাপন করতে বাধ্য হয়েছেন বা স্থানান্তরিত হয়েছেন, তাদের কাউকেই আপাতত উচ্ছেদ করা হবে না। এখানকার প্রকৃত ভূমিহীন বাসিন্দাদের টেকসই পুনর্বাসনের জন্য সরকার একটি সুনির্দিষ্ট ও মানবিক পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। তিনি উচ্ছেদ সংক্রান্ত স্বার্থান্বেষী মহলের যেকোনো বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারে কান না দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরাসরি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান।
জঙ্গল সলিমপুরকে মূল শহরের সাথে যুক্ত করতে একটি শক্তিশালী রোড নেটওয়ার্ক তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী জানান, সলিমপুর ইউনিয়নের সঙ্গে সীতাকুণ্ড, ভাটিয়ারী-হাটহাজারী লিংক রোড এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সরাসরি সংযোগ ঘটিয়ে একটি আধুনিক উন্নত রোড নেটওয়ার্ক স্থাপনের মাস্টারপ্ল্যান নেওয়া হয়েছে। আধুনিক ড্রোন চিত্র ও সড়ক মানচিত্র যৌথভাবে পর্যালোচনা করে এই দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে পুলিশ, বিজিবি, র্যাবসহ বিভিন্ন যৌথ বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং একটি সেনানিবাসের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। এ ছাড়া বায়েজিদ লিংকের আশপাশের খাস জমিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের ঝুলে থাকা মেগা প্রকল্পটি প্রশাসনিক অনুমোদনের আলোকে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসনকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরের পাশাপাশি চট্টগ্রামের অন্য দুই অপরাধপ্রবণ এলাকা বেতুয়া ও চা বাগান থেকেও সন্ত্রাসীদের চিরতরে নির্মূল করার ঘোষণা দেন মন্ত্রী।
জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ‘আইনের শাসন’ পুনপ্রতিষ্ঠা করতে গণমাধ্যমকর্মীসহ চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। জঙ্গল সলিমপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনে মন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রামের নবনির্বাচিত সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনসহ স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
/আশিক
সোমবার থেকে নিয়মিত কাজের ছন্দে ফিরছে দেশ, কর্মস্থলে ফিরছেন লাখো চাকুরিজীবী
পবিত্র ঈদুল আজহার টানা সাত দিনের দীর্ঘ সরকারি ছুটি শেষ হচ্ছে আজ রবিবার (৩১ মে)। উৎসবের আমেজ ও অবকাশ কাটিয়ে আগামীকাল সোমবার (১ জুন) থেকে দেশজুড়ে পুনরায় খুলছে সরকারি-বেসরকারি সব অফিস, আদালত, ব্যাংক, বিমা ও পুঁজিবাজার। ফলে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে সব পরিমণ্ডলে আবারও নিয়মিত কাজের চিরাচরিত ব্যস্ততা ফিরতে শুরু করবে।
চলতি বছর ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে গত ২৫শে মে থেকে ৩১শে মে পর্যন্ত টানা সরকারি ছুটি নির্ধারিত ছিল। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্রবার ও শনিবার) যুক্ত হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা টানা সাত দিনের একটি বিশাল অবকাশ যাপনের সুযোগ পেয়েছেন। এই দীর্ঘ বিরতি শেষে আগামীকাল সোমবার থেকে লাখো চাকুরিজীবী সশরীরে তাঁদের নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান করছেন।
ঈদের এই লম্বা ছুটির মধ্যেও দেশের জনসাধারণের জরুরি আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে কিছু ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখা সীমিত পরিসরে খোলা রাখা হয়েছিল। তবে আগামীকাল সোমবার থেকে দেশের সব ব্যাংকে সাধারণ ও প্রথাগত নিয়মে পূর্ণাঙ্গ এবং স্বাভাবিক লেনদেন শুরু হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রধান দুই পুঁজিবাজার—ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-ও নিয়মিত লেনদেনের সময়সূচি অনুযায়ী সচল হতে যাচ্ছে।
প্রতি বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে সাধারণত অফিস ও ব্যাংকপাড়ায় মূল কাজের চাপ কিছুটা কম থাকে। প্রথম দিন মূলত সহকর্মীদের সঙ্গে কোলাকুলি, ঈদের কুশল এবং পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়েই কেটে যায়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘ ছুটির কারণে জমে থাকা দাপ্তরিক ও বাণিজ্যিক ফাইলগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে চলতি সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে কাজের ব্যস্ততা ও চাপ দুটোই বেশ জমে উঠবে।
এদিকে দীর্ঘ ছুটি শেষে নাড়ির টানে বাড়ি যাওয়া রাজধানীমুখী মানুষের ফিরতি যাত্রা ইতোমধ্যে পুরোদমে শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার ও আজ রবিবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সড়ক, রেল ও নৌপথে লাখ লাখ কর্মজীবী মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। ফলে উৎসবের দিনগুলোতে ফাঁকা হয়ে যাওয়া রাজধানীর মূল সড়কগুলোতেও ধীরে ধীরে দূরপাল্লার যানবাহন ও সাধারণ পরিবহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশের প্রশাসনিক, আর্থিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড আবারও চেনা ছন্দে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
/আশিক
একা কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না বিএনপি, প্রয়োজন জনগণের অংশগ্রহণ: আমির খসরু
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বর্তমান সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি একা দেশের কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারবে না। দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এবং সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই কেবল একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
আজ শনিবার (৩০ মে) দুপুরে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক কাজীর দেউড়ি মোড়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর-উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) চট্টগ্রামের উদ্যোগে দুস্থ, অসহায় ও পথচারীদের মাঝে খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণের উদ্দেশ্যে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ বাস্তবায়ন এবং তাঁর স্বপ্নের আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করার আহ্বান জানান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, "রাজনীতিতে শুধু ক্ষমতা নয়, জনগণের কল্যাণে সার্বক্ষণিক নিবেদিত থেকে তাদের সুখ-দুঃখের প্রকৃত অংশীদার হওয়ার মধ্য দিয়েই শহীদ জিয়ার প্রতি আসল শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব।"
বক্তব্যকালে পাশে থাকা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের ঐতিহাসিক স্মৃতি উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, "আমরা আজ এমন একটি ঐতিহাসিক স্থানে দাঁড়িয়ে আছি, যার সঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। এই সার্কিট হাউসেই দেশবিরোধী এক নির্মম ষড়যন্ত্রে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। ঘাতকরা তাকে সশরীরে হত্যা করতে পারলেও এ দেশের মানুষের হৃদয় থেকে তার আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনকে কখনো মুছে ফেলতে পারেনি।"
তিনি আরও বলেন, শহীদ জিয়া বাংলাদেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন।
উপস্থিত বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের কঠোর সাংগঠনিক নির্দেশনা দিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, "জনগণই যেকোনো গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের মূল চালিকাশক্তি। তাদের স্বার্থ, নাগরিক চাহিদা ও প্রত্যাশাকে দলের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। যাদের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের রাজনীতি করি, সেই সাধারণ মেহনতি মানুষকে কখনো ভুলে গেলে চলবে না। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন টেকসই উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের সেই সব প্রত্যাশা পূরণে আমাদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।"
/আশিক
জিয়া ও খালেদা জিয়ার প্রদর্শিত পথই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মূল ঠিকানা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর আজকের দিনটিকে সমগ্র দেশবাসী ও গণমানুষের জন্য অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত ও স্মৃতিময় এক দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (৩০ মে) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আজকের দিনটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং এ দেশের সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত ও স্মৃতিময় একটি দিন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমৃত্যু বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অগ্রগতির অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে অনন্য ভূমিকা পালন করে গেছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের উষালগ্নে ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে তাঁর যে গৌরবময় উত্থান ঘটেছিল, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে গিয়েই পরবর্তীতে তিনি নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেছেন।"
সালাহউদ্দিন আহমদ বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে আরও বলেন, "শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশের সকলকে একযোগে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রের মূল ঠিকানা হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রদর্শিত রাজনৈতিক পথ। আমরা এই গভীর শোককে আজ শক্তিতে পরিণত করেছি।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশবাসীকে শিখিয়েছেন কীভাবে সব ভেদাভেদ ভুলে সমস্ত মানুষের মধ্যে ইস্পাতকঠিন জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে রাষ্ট্রীয় সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে হয়। বিএনপি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের আদর্শকে ধারণ করেই রাজনীতি পরিচালনা করে।
গণতন্ত্রের প্রতি বর্তমান নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন, "যত দিন বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি থাকবে, তত দিন এই দেশটিকে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ধারায় পরিচালিত করা হবে। ৫ই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের যে মূল চেতনা, তার আলোকেই দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আগামী দিনে আরও সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করা হবে।" স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় দেশের অবরুদ্ধ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের সীমাহীন ত্যাগ, আপসহীনতা ও সুকঠিন সংগ্রামের কথাও সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন।
/আশিক
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুমৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশ ও এর অভ্যন্তরে নানামুখী অনিয়ম খতিয়ে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতালটির সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে তিনি মন্তব্য করেছেন, এই নামী চিকিৎসা কেন্দ্রের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিকর ময়লা ও জমা পানি পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালের ভেতরের এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশগত জটিলতার কারণেই চিকিৎসাধীন শিশুদের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
আজ শনিবার (৩০ মে) বিকেলে আলোচিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবন সশরীরে পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই সমস্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।
সাখাওয়াত হোসেন ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি প্রসঙ্গে বলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় প্রথম দিকে ঘটনার মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, বিষয়টির সংবেদনশীলতা এবং অধিকতর নিখুঁত তদন্তের স্বার্থে সময়সীমা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। নতুন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩রা জুন এই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণগুলো খতিয়ে দেখা হয়েছে। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় যে সমস্ত মায়েরা তাঁদের সন্তানদের হারিয়েছেন, তাঁদের সবার সঙ্গে এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে কথা বলতে পারেনি তদন্ত কমিটি। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে ভুক্তভোগী মায়েদের জবানবন্দি অত্যন্ত জরুরি হলেও, কিছু মা বর্তমানে ঢাকার বাইরে অবস্থান করায় তদন্ত কমিটির অনুরোধে আগামী ৩রা জুন নতুন ডেডলাইন নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে প্রতিবেদনে কোনো ধরণের ঘাটতি না থাকে।
মৃত শিশুদের ময়নাতদন্ত (পোস্টমর্টেম) না করা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, অতীব ছোট বাচ্চাদের অকাল মৃত্যুর পর কোনো বাবা-মা-ই ধর্মীয় বা আবেগীয় কারণে ময়নাতদন্ত করতে রাজি হননি। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়াই অন্যান্য সমস্ত চিকিৎসাগত ও পারিপার্শ্বিক দিক থেকে সর্বোচ্চ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে মৃত্যুর আসল কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
পরিদর্শনকালে হাসপাতাল ভবনের ওপরের একটি তলায় সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পরিচালিত একটি বিশাল ‘রুটির কারখানার’ সন্ধান পাওয়ার তথ্য দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সেখানে বাণিজ্যিক ইলেকট্রিক ওভেনের মাধ্যমে রুটি তৈরি করা হতো। অথচ এতো বড় ওভেন পরিচালনার জন্য সেখানে কোনো পেশাদার ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার বা সেফটি অফিসার পাওয়া যায়নি। ওই কারখানা থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় এমন কোনো বিষাক্ত গ্যাস বা ধোঁয়া তৈরি হয়েছিল কিনা, যা পাশে থাকা শিশুদের সহ্য সক্ষমতার বাইরে ছিল—তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে আগামীকালই হাসপাতালে সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কারিগরি দল আসবে।
হাসপাতালের ভেতরে বাণিজ্যিক কারখানার অস্তিত্ব নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, "একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাজার হাজার দেশী-বিদেশী ছাত্র-ছাত্রী, রোগী ও তাঁদের স্বজনদের নিরাপদ আবাসন থাকার কথা। এমন একটি অতি সংবেদনশীল জায়গায় কোনোভাবেই রুটির কারখানা থাকা উচিত নয়। এটি মূলত আমাদের নিয়মিত পরিদর্শন বা ইন্টেলিজেন্সের (গোয়েন্দা নজরদারি) বড় ধরনের অভাবের কারণেই হয়েছে, যা অনভিপ্রেত। ভবিষ্যতে দেশের সমস্ত বেসরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রে এই নজরদারি কঠোর করা হবে।" তিনি আরও জানান, হাসপাতালের অপর একটি অংশে দীর্ঘদিন ধরে প্রচুর পানি জমা ছিল। এই নোংরা পানি এবং রুটির কারখানার বিষাক্ত কেমিক্যাল বা গ্যাস একত্রিত হয়ে কোনো প্রাণঘাতী পরিবেশ তৈরি করেছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত কমিটির গঠন ও বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ব্রিফিংয়ে উপস্থিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজিএইচএস) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, বর্তমানে এই বিশেষ কমিটিতে ছয়জন দক্ষ সদস্য নিরলসভাবে কাজ করছেন। কমিটির পরিধি বাড়ানোর আইনি সুযোগ থাকায় হাসপাতালের পরিবেশ, কারিগরি অবস্থা ও বায়ু পরীক্ষা করার জন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আসন্ন পবিত্র কুরবানির ঈদের ঠিক আগের দিন বুধবার ভোরের দিকে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ‘পোস্ট অপারেটিভ’ ওয়ার্ডে লাইফ সাপোর্টে থাকা ছয়টি নবজাতক শিশু হঠাৎ একসাথে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একে একে সবকটি শিশুরই করুণ মৃত্যু হয়। একটি নামী হাসপাতালে একসাথে ছয়টি শিশুর এমন রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দেশব্যাপী তীব্র উদ্বেগ, শোক ও ব্যাপক নাগরিক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
/আশিক
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুমৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশ ও এর অভ্যন্তরে নানামুখী অনিয়ম খতিয়ে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতালটির সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে তিনি মন্তব্য করেছেন, এই নামী চিকিৎসা কেন্দ্রের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিকর ময়লা ও জমা পানি পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালের ভেতরের এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশগত জটিলতার কারণেই চিকিৎসাধীন শিশুদের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
আজ শনিবার (৩০ মে) বিকেলে আলোচিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবন সশরীরে পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই সমস্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।
সাখাওয়াত হোসেন ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি প্রসঙ্গে বলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় প্রথম দিকে ঘটনার মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, বিষয়টির সংবেদনশীলতা এবং অধিকতর নিখুঁত তদন্তের স্বার্থে সময়সীমা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। নতুন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩রা জুন এই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণগুলো খতিয়ে দেখা হয়েছে। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় যে সমস্ত মায়েরা তাঁদের সন্তানদের হারিয়েছেন, তাঁদের সবার সঙ্গে এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে কথা বলতে পারেনি তদন্ত কমিটি। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে ভুক্তভোগী মায়েদের জবানবন্দি অত্যন্ত জরুরি হলেও, কিছু মা বর্তমানে ঢাকার বাইরে অবস্থান করায় তদন্ত কমিটির অনুরোধে আগামী ৩রা জুন নতুন ডেডলাইন নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে প্রতিবেদনে কোনো ধরণের ঘাটতি না থাকে।
মৃত শিশুদের ময়নাতদন্ত (পোস্টমর্টেম) না করা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, অতীব ছোট বাচ্চাদের অকাল মৃত্যুর পর কোনো বাবা-মা-ই ধর্মীয় বা আবেগীয় কারণে ময়নাতদন্ত করতে রাজি হননি। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়াই অন্যান্য সমস্ত চিকিৎসাগত ও পারিপার্শ্বিক দিক থেকে সর্বোচ্চ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে মৃত্যুর আসল কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
পরিদর্শনকালে হাসপাতাল ভবনের ওপরের একটি তলায় সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পরিচালিত একটি বিশাল ‘রুটির কারখানার’ সন্ধান পাওয়ার তথ্য দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সেখানে বাণিজ্যিক ইলেকট্রিক ওভেনের মাধ্যমে রুটি তৈরি করা হতো। অথচ এতো বড় ওভেন পরিচালনার জন্য সেখানে কোনো পেশাদার ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার বা সেফটি অফিসার পাওয়া যায়নি। ওই কারখানা থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় এমন কোনো বিষাক্ত গ্যাস বা ধোঁয়া তৈরি হয়েছিল কিনা, যা পাশে থাকা শিশুদের সহ্য সক্ষমতার বাইরে ছিল—তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে আগামীকালই হাসপাতালে সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কারিগরি দল আসবে।
হাসপাতালের ভেতরে বাণিজ্যিক কারখানার অস্তিত্ব নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, "একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাজার হাজার দেশী-বিদেশী ছাত্র-ছাত্রী, রোগী ও তাঁদের স্বজনদের নিরাপদ আবাসন থাকার কথা। এমন একটি অতি সংবেদনশীল জায়গায় কোনোভাবেই রুটির কারখানা থাকা উচিত নয়। এটি মূলত আমাদের নিয়মিত পরিদর্শন বা ইন্টেলিজেন্সের (গোয়েন্দা নজরদারি) বড় ধরনের অভাবের কারণেই হয়েছে, যা অনভিপ্রেত। ভবিষ্যতে দেশের সমস্ত বেসরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রে এই নজরদারি কঠোর করা হবে।" তিনি আরও জানান, হাসপাতালের অপর একটি অংশে দীর্ঘদিন ধরে প্রচুর পানি জমা ছিল। এই নোংরা পানি এবং রুটির কারখানার বিষাক্ত কেমিক্যাল বা গ্যাস একত্রিত হয়ে কোনো প্রাণঘাতী পরিবেশ তৈরি করেছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত কমিটির গঠন ও বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ব্রিফিংয়ে উপস্থিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজিএইচএস) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, বর্তমানে এই বিশেষ কমিটিতে ছয়জন দক্ষ সদস্য নিরলসভাবে কাজ করছেন। কমিটির পরিধি বাড়ানোর আইনি সুযোগ থাকায় হাসপাতালের পরিবেশ, কারিগরি অবস্থা ও বায়ু পরীক্ষা করার জন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আসন্ন পবিত্র কুরবানির ঈদের ঠিক আগের দিন বুধবার ভোরের দিকে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ‘পোস্ট অপারেটিভ’ ওয়ার্ডে লাইফ সাপোর্টে থাকা ছয়টি নবজাতক শিশু হঠাৎ একসাথে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একে একে সবকটি শিশুরই করুণ মৃত্যু হয়। একটি নামী হাসপাতালে একসাথে ছয়টি শিশুর এমন রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দেশব্যাপী তীব্র উদ্বেগ, শোক ও ব্যাপক নাগরিক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- উদ্ধারকারীদের ছাড়াই ৭৮ তলা সমান সুড়ঙ্গ পেরিয়ে জীবনজয়ী ৪ খনির শ্রমিকের রূপকথা
- জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য নাম: মির্জা ফখরুল
- পাকিস্তানকে একঘরে করার মোদির ১০ বছরের নীতি ব্যর্থ ও বুমেরাং: আল-জাজিরা
- আবহাওয়ার ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাস: চলতি সপ্তাহে দেশের কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ
- গ্রিনকার্ডের কড়াকড়ি নিয়ম থেকে আংশিক পিছুটান দিল মার্কিন সরকার
- শহীদ জিয়ার কালজয়ী আদর্শেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আমি কী জিনিস শেখ হাসিনার কাছে জাইনা নিয়েন: শফিকুল ইসলাম মাসুদ
- আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির কারণেই আসন ছাড়েননি জামায়াত আমির: রাশেদ খান
- নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে তেল আবিবে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ
- রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখালে পুরোপুরি নির্মূল করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আরব সাগরের তীরে ভারতকে হারিয়ে আজও কি উৎসব করবে বাংলাদেশ?
- ট্রাম্পের সামনে ভালো বিকল্প নেই, বেছে নিতে হবে খারাপ বা আরও খারাপ পথ: আইআরজিসি
- আগামীতে জামায়াতে ইসলামীই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে: ডা. আবদুল্লাহ তাহের
- দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি: ২৪ ঘণ্টায় বড় ধাক্কা স্বাস্থ্য খাতে
- আর্জেন্টিনার প্রস্তুতি ম্যাচের সূচি প্রকাশ: প্রতিপক্ষ হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ড
- প্রকল্পের আড়ালে ক্ষমতার প্রভাব? আসিফ-হাসনাতকে নিয়ে নতুন বিতর্ক
- পিএসজি'র চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের আনন্দ ফ্রান্সে রণক্ষেত্র, দেশজুড়ে ৪ শতাধিক গ্রেপ্তার
- ক্যান্সার চিকিৎসায় চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের বড় সাফল্য, স্মার্ট ইনজেকশনে উধাও হচ্ছে টিউমার
- রামিসা হত্যা মামলায় সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হবে: আইনমন্ত্রী
- জঙ্গল সলিমপুরে আধুনিক কারাগার ও সেনানিবাস করবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬: কোন গ্রেডের মূল বেতন কত টাকা বাড়ছে? দেখে নিন তালিকা
- ইরান চুক্তির খসড়ায় ট্রাম্পের আপত্তি, চুক্তিতে বড় ধরনের সংশোধনীর নির্দেশ
- মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের আইআরজিসি'র, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা
- ৩ উপকূলীয় জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার আভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত
- বড় ধরনের মোড়ে বিশ্ববাজার: স্বর্ণের দাম কি আরও কমবে নাকি বাড়বে?
- সোমবার থেকে নিয়মিত কাজের ছন্দে ফিরছে দেশ, কর্মস্থলে ফিরছেন লাখো চাকুরিজীবী
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- সালাহকে অধিনায়ক করে মিসরের ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা, বড় চমক হামজা
- খুলনা ঘরের ভেতর শাশুড়ি ও দুই শিশুসহ একই পরিবারের ৩ জনকে নৃশংস হত্যা
- ইসরায়েলের পরবর্তী সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে তুরস্ক ও মিসর
- ইউটিউবে বিনামূল্যে দেখা যাবে বিশ্বকাপের ১০৪ ম্যাচ, নেপথ্যে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
- একা কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না বিএনপি, প্রয়োজন জনগণের অংশগ্রহণ: আমির খসরু
- পুরোনো আইফোন কেনার আগে সাবধান! সেটিংসের Genuine Part দেখেই ফ্রেশ ভাববেন না
- যাত্রার আগে মার্কিন নৌবাহিনীর সাথে সমন্বয় বাধ্যতামূলক, হরমুজে জারি হলো রেড অ্যালার্ট
- জিয়া ও খালেদা জিয়ার প্রদর্শিত পথই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মূল ঠিকানা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- বৈষম্যবিরোধী রাজনীতির আড়ালে টাকা লুটেছেন আসিফ ও হাসনাত
- আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুমৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুমৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- দেশ কোনো সরকার, দল বা ব্যক্তির একার নয়: ২০ কোটি মানুষই এর মালিক
- ১ জুলাইয়ের ডেডলাইন ধরে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়, চূড়ান্ত পর্যায়ে নবম পে স্কেল
- মির্জা ফখরুল ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে মাজার জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর
- মাংস খাওয়ার পর বমি ও তীব্র পেট ব্যথা? অবহেলা করলে হতে পারে জীবনঝুঁকি
- শহীদ জিয়ার স্বনির্ভর উন্নয়ন ভাবনা নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণার উৎস: রাষ্ট্রপতি
- কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, ট্রাম্পের নতুন যুদ্ধ হুঁশিয়ারি
- দুপুরের মধ্যে ৫ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- বিয়ের মৌসুমে সোনা ও রুপার বাজারে আগুন, অলঙ্কার কিনতে পকেটে টান ক্রেতাদের
- ৩০ মে ২০২৬: ঢাকা ও দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরের নামাজের সঠিক সময়ঘণ্টা
- শহিদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে বিএনপির আট দিনের কর্মসূচি
- বিকল্প লোহিত সাগর রুটেও হুথি আতঙ্ক, তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে এশিয়ার বাজার
- কঙ্কর নিক্ষেপ শেষেই শুরু ফিরতি যাত্রা, জেদ্দা থেকে প্রথম ফ্লাইটে দেশে ফিরছেন হাজিরা
- একটি গরুর দাম ৫৯ কোটি টাকা! গিনেস বুকে নাম তুলে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়
- মহিষটির চুল দারুণ! ট্রাম্পের নামে ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশটের আসল সত্য ফাঁস
- ভারতের উত্তর প্রদেশে কঠোর বিধিনিষেধের ঘেরাটোপে ২০২৬ সালের ঈদুল আজহা
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ২৬ মে ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- কোরবানি হচ্ছে না ভাইরাল মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ফিরল খামারে
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- কালিগঞ্জে জমি দখলের অভিযোগ,প্রাণনাশের হুমকির দাবি
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- জলদি জলদি ভাগো, জামাই নাকি! সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর তীব্র কটাক্ষ
- সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে আজ পবিত্র ঈদুল আজহা: উৎসবের আমেজে কোরবানি ও ঈদ জামাত
- আজ থেকেই কার্যকর হচ্ছে সোনা-রুপার নতুন আকাশচুম্বী দাম
- চাটখিলে কোরবানি হাটের মূল আকর্ষণ ৩০ মণের নোয়াখালীর বস
- গাণিতিক মডেলের বিস্ফোরক পূর্বাভাস: ২০২৬ বিশ্বকাপ জিতবে নেদারল্যান্ডস!
- ঈদের দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া?
- কাতার সেমিফাইনালের সেই নায়ক এবারও আর্জেন্টিনাকে মেগা আনন্দে ভাসাতে মরিয়া








