জুলাই সনদ ও ইশতেহার বাস্তবায়নই মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৬ ২০:০৭:২৫
জুলাই সনদ ও ইশতেহার বাস্তবায়নই মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

দেশের ইতিহাসের প্রতি অবিচার এবং সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক পর্বে শহীদ, আহত ও নির্যাতিতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটে প্রাণ হারানো এবং নির্যাতনের শিকার হওয়া সাধারণ মানুষের প্রতিও বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা যুদ্ধের অমর শহীদদের স্মরণ করে বলেন, তাঁদের অসীম আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজকের এই স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’কে জাতির গৌরবের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই পুরস্কার প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি জাতীয় ইতিহাসের সকল স্তরের নেতাদের অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইতিহাসকে সংকীর্ণ চোখে দেখা বা এর প্রতি অবিচার করা জাতির ভবিষ্যতের জন্য শুভকর নয়।

রাজনৈতিক বিভাজন নিরসনে প্রধানমন্ত্রী একটি ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, জাতীয় স্বার্থে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই মতপার্থক্য যেন কোনোভাবেই শত্রুতায় রূপ না নেয়। তিনি শহীদ জিয়ার কালজয়ী উদ্ধৃতি টেনে বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।’ বর্তমানে দেশে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

রাষ্ট্র পরিচালনার চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন। শিক্ষা খাতের অতীত বিপর্যয় কাটিয়ে তুলে একে আধুনিক ও কর্মমুখী করার পরিকল্পনার কথা জানানোর পাশাপাশি তিনি নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনী ইশতেহার এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এসব প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। তিনি মনে করেন, ব্যক্তিগত পরিবর্তনের চেয়ে মানসিকতার পরিবর্তনই বেশি জরুরি।

বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতার মধ্যেও সরকার ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে উল্লেখ করে তিনি দেশবাসীকে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও আড়ম্বর পরিহারের আহ্বান জানান। পরিশেষে, এবারের স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই গুণীজনদের কাজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

/আশিক


জ্বালানি সংকট বিগত ১৭ বছরের উত্তরাধিকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তিতুমীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৯ ২১:২৩:১৫
জ্বালানি সংকট বিগত ১৭ বছরের উত্তরাধিকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তিতুমীর
ছবি : সংগৃহীত

দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মূল কারণ বিগত ১৭ বছরের সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর উত্তরাধিকার এবং মাত্রাতিরিক্ত আমদানিনির্ভর নীতি—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি জানান, বিদ্যমান জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা কাটিয়ে সৌরসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার ঘটানো এবং সাধারণ গ্রাহকদের শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে উৎপাদকে রূপান্তর করার সমন্বিত রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনইসি সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের আওতাধীন ফাউন্ডেশনগুলোর ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার এবং সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ দর্শনের আলোকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সবার কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগকে দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় একটি বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক কাঠামো পেয়েছিল। সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনে পুনরুদ্ধার, উত্তরণ এবং সমৃদ্ধির জন্য পুনর্গঠন—এই তিন ধাপে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, যার অধীনে ইতোমধ্যে ১৮০ দিনের নানা লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।

উপদেষ্টা জানান, সরকারের উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ফাউন্ডেশনগুলো পাঁচটি ক্লাস্টারে ভাগ হয়ে কাজ করবে। এর মধ্যে প্রথম সিদ্ধান্ত হিসেবে ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ উদ্যোগের মাধ্যমে সারা দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফাউন্ডেশনগুলোকে। বিগত সরকারের ত্রুটিপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কারণে দারিদ্র্য ৮০ লাখ থেকে এক কোটি পর্যন্ত বেড়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, বর্তমান সমন্বিত পরিকল্পনায় তেমন ব্যর্থতার সুযোগ থাকবে না।

দ্বিতীয়ত, বিদ্যুৎ খাতে গ্রাহকদের উৎপাদকে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তৃতীয়ত, ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে বাজেটে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলো ২০ শয্যা এবং পরবর্তীতে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পর আর কোনো সম্প্রসারণ হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫০ শয্যায় রূপান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

চতুর্থ পদক্ষেপ হিসেবে আজীবন মেয়াদি সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের রূপরেখা তুলে ধরে ড. তিতুমীর জানান, এর আওতায় দেশের প্রতিটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে সরাসরি অধিকারভোগী হিসেবে নিবন্ধিত করা হবে এবং এ খাতের বিকল্প অর্থায়নে জাকাতের তহবিলকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পঞ্চম বিষয় হিসেবে বাস্তবায়নের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের দেওয়া প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে। ফাউন্ডেশনগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এসব দায়িত্ব গ্রহণে অঙ্গীকার করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত প্রসঙ্গে ড. তিতুমীর জানান, সরকার ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি মিশ্রণ গড়ে তুলতে চায়। আগামী পাঁচ বছরে ৫ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সরকারি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংশ্লিষ্ট ফাউন্ডেশনগুলো ইতোমধ্যে ২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া গত ছয় মাসে ঝুলে থাকা ৩০০টির বেশি নেট-মিটারিং আবেদন নিষ্পত্তি করে জাতীয় গ্রিডে ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করা হয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ প্রসারে বাজেটে বরাদ্দকৃত দুই হাজার কোটি টাকা আইডকল এবং বিআইএফএফএলের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে, যেখানে উৎপাদককে ২০ শতাংশ ও পিকেএসএফের সহযোগী এনজিওর মতো কোনো অ্যাগ্রিগেটরকে ২০ শতাংশ অর্থ দিতে হবে এবং সরকার ৬০ শতাংশ ঋণ সহায়তা দেবে। এতে ঋণের সুদের হার কমে ৬ থেকে ৭ শতাংশে নেমে আসবে। তুলনামূলক ব্যয় বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, যেখানে দেশীয় গ্যাসে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ ৪ থেকে ৫ টাকা, সেখানে এলএনজি দিয়ে উৎপাদনে খরচ দাঁড়ায় ৬৪ টাকা; ফলে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়লে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির সাশ্রয় হবে।

শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, পাঁচ বছরের করকাঠামোর ধারাবাহিকতা, নিয়ন্ত্রণমুক্ত পরিবেশ ও দ্রুত অনুমোদন ব্যবস্থা, অর্থায়নের উৎস, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ—বিনিয়োগকারীদের এই পাঁচটি প্রধান চাহিদাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাশাপাশি বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় সচল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিলের ব্যবস্থা করেছে, যার আওতায় ৪০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে আগামী সেপ্টেম্বর থেকেই ঋণ বিতরণ শুরু হবে এবং ঋণের সুদের পার্থক্যজনিত ব্যয় বহন করবে অর্থ বিভাগ।

২০৩০ সালের মধ্যে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির অভীষ্ট লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাসের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।

/আশিক


রাজধানীর ট্রাফিক ও পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ কঠোর সিদ্ধান্ত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৯ ১৯:৩৭:৩৪
রাজধানীর ট্রাফিক ও পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ কঠোর সিদ্ধান্ত
ছবি : সংগৃহীত

সড়কে অনুমোদনহীন ডাবল ডেকার স্লিপার কোচ চলাচলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৯ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

রাজধানীর সার্বিক যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক রূপ দেওয়া এবং গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ সময় ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক পরিস্থিতি, প্রধান প্রধান সড়ক ও উড়ালসেতুতে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান বাস টার্মিনালগুলোর পুনর্বিন্যাস এবং কার্যকর পার্কিং সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে উড়ালসেতু ও এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজাগুলোতে স্বয়ংক্রিয় ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রযুক্তিগত সেবা নির্বিঘ্ন করতে একটি বিশেষ অ্যাপ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার উন্নয়নকাজ আগামী চার মাসের মধ্যে শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভার ও এর সংলগ্ন এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনের উপায় নিয়েও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।

ঢাকার অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল করতে ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালটি কেরানীগঞ্জে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই স্থানান্তর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণ করে চূড়ান্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তবে স্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে আগামী চার মাসের মধ্যেই ঝিলমিল প্রকল্পের ১৫ একর জমিতে একটি অস্থায়ী বাস টার্মিনাল তৈরির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

এর পাশাপাশি গাবতলী বাস টার্মিনালের পরিধি সম্প্রসারণ, কারওয়ান বাজারের পাইকারি কাঁচাবাজার (কিচেন মার্কেট) গাবতলীতে সরিয়ে নেওয়া, সচিবালয় এলাকার আশপাশে সুশৃঙ্খল পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা এবং রাজধানীজুড়ে অটোরিকশা চলাচলের জন্য একটি আলাদা সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।

/আশিক


বিদ্যুৎ সংকট অব্যাহত: সন্ধ্যার পিক আওয়ার নিয়ে নতুন পূর্বাভাস

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৯ ১৮:১৯:৩২
বিদ্যুৎ সংকট অব্যাহত: সন্ধ্যার পিক আওয়ার নিয়ে নতুন পূর্বাভাস
ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যুতের উৎপাদন ঘাটতি অব্যাহত থাকায় শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যার পিক আওয়ারে সারাদেশে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৭০৩ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে এদিন সবচেয়ে বেশি লোডশেডিংয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা, যেখানে ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ৬৯৮ মেগাওয়াট।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

পিজিসিবির তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পিক সময়ে ঢাকায় ৬৯৮ মেগাওয়াট ছাড়াও ময়মনসিংহ ও খুলনা অঞ্চলে ৩৫০ মেগাওয়াট করে এবং কুমিল্লা অঞ্চলে ৩১৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে। এছাড়া রাজশাহীতে ৩০০, রংপুরে ২৫০, চট্টগ্রামে ১৯০, সিলেটে ১৫০ এবং বরিশাল অঞ্চলে ১০০ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজধানীর পর ময়মনসিংহ ও খুলনা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি লোডশেডিংয়ের ঝুঁকিতে রয়েছে। সার্বিকভাবে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে শনিবার সন্ধ্যায় দেশজুড়েই লোডশেডিংয়ের বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে পিজিসিবি।

/আশিক


আত্মত্যাগীদের পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৯ ১৮:১৪:৫৮
আত্মত্যাগীদের পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর
আজ শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও

গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা পূরণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সীমিত সম্পদের মধ্যেও গুম-খুন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারগুলোর পাশে সরকার অতীতে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের ৭৪ জন সদস্যের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আত্মত্যাগীদের মহান বিনিময়েই দেশের ২০ কোটি মানুষ স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে পরবর্তী গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে আত্মদানকারীদের লক্ষ্য ও চেতনা বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সরকারের এই সহায়তা কোনো করুণা নয়; বরং তাঁদের সীমাহীন ত্যাগই সরকারের পথচলার মূল শক্তি ও উদ্দীপনার উৎস।

অনুষ্ঠানে শহীদ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা তাঁদের আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ করেন। এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির এবং 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর সদস্য মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস


দুদকের দুই মামলায় খালাস পেলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৭ ২১:৪৯:৫১
দুদকের দুই মামলায় খালাস পেলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
ছবি : সংগৃহীত

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা পৃথক দুটি দুর্নীতি মামলায় খালাস পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এই রায় ঘোষণা করেন। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর আইনজীবী মহিউদ্দিন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, রাজধানীর গুলশান, ধানমণ্ডি ও শান্তিনগর এলাকার ১৮টি পরিত্যক্ত সরকারি বাড়ি নিলামে বিক্রির ক্ষেত্রে অনিয়ম, দরপত্রে কারচুপি ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে ২০০৭ সালে মোট ১৫টি মামলা দায়ের করে দুদক।

এসব মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনকে প্রতিটি মামলায় আসামি করা হয়। অন্য আসামিদের তালিকায় ছিলেন এস এম জাফর উল্লাহ, মো. এমদাদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, গোলাম নবী, কাজী রিয়াজুল মনির, জিয়াউদ্দিন আহমেদ, আব্দুস সাদেক, হুমায়ুন খান, মীর মোশাররফ হোসেন, ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী ও মো. শহীদ আলম।

এ ছাড়া এই ১৫টি মামলার মধ্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুটি এবং মেহেদী হাসান, শফিকুর রহমান কিরন, নুরুচ্ছাফা, মো. শুকুর মিয়া, হাসনা আহমেদ ও আলী হায়দার চৌধুরীকে পৃথক মামলায় আসামি করা হয়েছিল।

দুদকের এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছিল, রাজউকের মাধ্যমে সাজানো দরপত্রে কারচুপি করে পছন্দের ব্যক্তিদের কাছে নামমাত্র মূল্যে এসব বাড়ি বিক্রি করা হয়। এতে তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব খাটিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের নির্ধারিত উচ্চমূল্য উপেক্ষা করে কম মূল্যের দরপত্র অনুমোদন দেন বলে দাবি করা হয়। এসব ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল।

/আশিক


অর্থসংকটে অনিশ্চিত মেডিকেল ভবিষ্যৎ: শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৭ ২১:২১:৫৫
অর্থসংকটে অনিশ্চিত মেডিকেল ভবিষ্যৎ: শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী
ফাতেমা খানমের হাতে সহায়তা তুলে দেন ‍প্রধানমন্ত্রী। ছবি: বিএনপির ফেসুবক পেজ

অর্থসংকটে লেখাপড়া বন্ধের ঝুঁকিতে পড়া অসচ্ছল মেডিকেল শিক্ষার্থী মোছা. ফাতেমা খানমের পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী ফাতেমা খানমের হাতে ৫ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান তুলে দেন।

নাটোরের বাসিন্দা মেধাবী শিক্ষার্থী মোছা. ফাতেমা খানম নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখে সম্প্রতি চীনের একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ অর্জন করেন। তবে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় পরিবারের চরম অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা ও প্রয়োজনীয় অর্থের সংকট।

মেধাবী এই শিক্ষার্থীর সংকটের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর তাঁর মেডিকেল শিক্ষার প্রাথমিক খরচ নির্বাহের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে এই ৫ লাখ টাকার সহায়তা প্রদান করা হয়। অনুদানের অর্থ তুলে দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, বিদেশে ফাতেমার পড়াশোনা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়ার স্বার্থে ভবিষ্যতে আরও সহায়তার প্রয়োজন হলে তা প্রদান করা হবে।

/আশিক


বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানালেন বিশ্বনেতা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৭ ২০:২০:৪৪
বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানালেন বিশ্বনেতা
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব ইউরোপ ও সিআইএস (সিআইএস) উইংয়ের মহাপরিচালক এস এম মাহবুবুল আলমের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হন। এ সময় তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পক্ষ থেকে প্রেরিত এই বিশেষ অভিনন্দনপত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।

ঢাকাস্থ রাশিয়ান দূতাবাসের এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দায়িত্বভার গ্রহণ করায় তাঁর সফলতা কামনা করে এই কূটনৈতিক বার্তা ও শুভেচ্ছা পাঠিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান।

/আশিক


স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত: দ্রুত আসছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৭ ২০:০৫:১৯
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত: দ্রুত আসছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। এর আগে তিন নির্বাচন কমিশনারকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে সিইসি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতোই স্থানীয় সরকার নির্বাচনও নিরপেক্ষতা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিচালনা করার বিষয়ে কমিশন অঙ্গীকারবদ্ধ। রাষ্ট্রপতিও নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন এবং দেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকারের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। আচরণ বিধিমালা সংক্রান্ত নথিপত্র আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং শেষে ফেরত আসায় এবং কারিগরি প্রস্তুতি গুছিয়ে নেওয়ায় কমিশন এখন তফসিল ঘোষণার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

ভোটের সম্ভাব্য সময়সূচি ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে সিইসি জানান, আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে এ বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনও নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। তবে আসন্ন দুর্গাপূজা, বন্যা পরিস্থিতি, শীতকালীন স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা এবং পরবর্তী সময়ে রোজা, ঈদ ও বর্ষা মৌসুমের কারণে নির্বাচনের জন্য উপযোগী সময় বেশ সীমিত। বার্ষিক পরীক্ষা সমন্বয় করে সবকিছু ঠিক থাকলে নভেম্বরের শেষ নাগাদ ভোটগ্রহণ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা সম্পন্ন হতে আগামী বছরের শুরু পর্যন্ত গড়াতে পারে। মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং উপকূলীয় ও পার্বত্য অঞ্চলের আবহাওয়া বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে এ ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দেশি ও প্রবাসী ভোটারদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে সীমিত পরিসরে পোস্টাল ব্যালট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে অন্য কমিশনও এ ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে পারে, সেজন্য কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও নির্দেশিকা তৈরির কাজ চলছে। এ ছাড়া নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে দ্রুতই সমন্বয় সভা করা হবে এবং প্রয়োজনে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্পষ্ট করেন যে, কমিশন নির্বাচনে 'ভোটার সার্বভৌমত্ব' প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে সাধারণ ভোটারের স্বাধীন ইচ্ছাই হবে চূড়ান্ত।

/আশিক


মক্কা চুক্তি মুসলিমদের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা, উদ্বেগের কারণ নেই: খলিলুর রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৭ ১৮:১৬:২৭
মক্কা চুক্তি মুসলিমদের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা, উদ্বেগের কারণ নেই: খলিলুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

‘মক্কা প্যাক্ট’ বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার একটি সমন্বিত ব্যবস্থা এবং এটি মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয় হওয়ায় এ নিয়ে অন্যদের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেলে বাংলাদেশ তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা তাঁর সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মিলে গত ৭ আগস্ট যে ‘মক্কা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছে, বাংলাদেশ এতে যুক্ত হলে দেশের কী ধরনের সুবিধা হতে পারে। এর জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চুক্তিটি বর্তমানে উল্লেখিত তিন দেশের মধ্যে সম্পাদিত হয়েছে এবং ঢাকা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছে। তবে এতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে আসেনি, কারণ এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে চুক্তিভুক্ত মূল সদস্য দেশগুলোর আগ্রহ ও অভিপ্রায়ের ওপর। তারা যদি বাংলাদেশকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করে, তবে সরকার তা নিশ্চয়ই ইতিবাচকভাবে ভেবে দেখবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসার আগে এই চুক্তির বিস্তারিত লাভ-ক্ষতি বা ভালোমন্দ নিয়ে মন্তব্য করার সময় এখনও আসেনি এবং সময় হলে সরকার সবদিক পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবেচনা করবে। তবে জোটটি যদি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হয়, তবে তা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর আত্মরক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই কাজ করবে। এটি একান্তই মুসলিম বিশ্বের ভেতরের বিষয় হওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্যদের এ নিয়ে অযথা উৎকণ্ঠিত হওয়ার অবকাশ নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: