জিনপিং আমাকে জড়িয়ে ধরবেন: চীনের প্রতি ট্রাম্পের নমনীয় বার্তায় অবাক বিশ্ব

বিশ্বরাজনীতিতে নাটকীয় মোড় নিয়ে এলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এক পোস্টে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, বিশ্ববাণিজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি এখন 'স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত'। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিনের বৈরী দেশ চীনের প্রতি অভাবনীয় নমনীয়তা প্রদর্শন করে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, বেইজিং এখন ইরানের কাছে সমরাস্ত্র না পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন ইরান লোহিত সাগর ও ওমান উপসাগরসহ তিনটি প্রধান সমুদ্রপথ বন্ধ করে দেওয়ার চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, "আমি স্থায়ীভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়েছি।
এতে চীন খুবই খুশি হবে। আমি এটা তাদের এবং পুরো বিশ্বের ভালোর জন্যই করছি। এমন অচলাবস্থা ভবিষ্যতে আর কখনও ঘটবে না।" চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে তাঁর আসন্ন বৈঠকের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প আরও বলেন, "শি জিনপিং আমাকে উষ্ণ আলিঙ্গন দেবেন। আমরা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজ করছি, যা সংঘাতের চেয়ে অনেক শ্রেয়।"
এর আগে ইরানের সামরিক বাহিনী সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান আলী আবদুল্লাহি হুমকি দিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে ইরান পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগরের সমস্ত বাণিজ্য রুট অচল করে দেবে।
কিন্তু ট্রাম্পের এই নতুন কূটনৈতিক চাল এবং চীনের সাথে সমঝোতার দাবি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ নতুন সমীকরণ তৈরি করল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পর্দার আড়ালে বড় কোনো রফা হয়ে থাকতে পারে, যার ফলে যুদ্ধের মেঘ কিছুটা হলেও কাটতে শুরু করেছে।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
ইসরায়েলের পরবর্তী সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে তুরস্ক ও মিসর
ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের রেশ কাটতে না কাটতেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন এক ঝড়ের পূর্বাভাস মিলেছে। ইসরায়েলের পরবর্তী সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে তুরস্ক ও মিসর—এমনটাই দাবি করেছেন ইসরায়েলের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দণ্ডিত সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষক জনাথন পোলার্ড। একই সঙ্গে ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আংকারাকে ‘নতুন ইরান’ এবং ভবিষ্যৎ প্রধান শত্রু হিসেবে দেখানোর যে নতুন প্রবণতা তৈরি হয়েছে, পোলার্ডের সাম্প্রতিক বক্তব্যে মূলত তারই স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের একটি বিশেষ পডকাস্টে জনাথন পোলার্ড সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের পর ইসরায়েলকে সামনে আরো বড় ও বিধ্বংসী আঞ্চলিক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানিদের সঙ্গে ইসরায়েলের যতটা সহজ সময় কেটেছে, তুর্কিদের সঙ্গে ততটা সহজ হবে না। তাদের পরবর্তী যুদ্ধ সম্ভবত হবে তুরস্ক ও মিসরের বিরুদ্ধে এবং খুব শীঘ্রই অঞ্চলে একটি বড় ঝড় ধেয়ে আসছে।
পোলার্ড তাঁর বক্তব্যে সিরিয়ায় তুরস্ক-সমর্থিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ইসরায়েলি বাহিনী দ্বারা দখলকৃত দক্ষিণাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি যুক্তি দেখান, এই ধরনের পদক্ষেপ তুর্কি বাহিনীকে সরাসরি ইসরায়েলি সীমান্তের কাছাকাছি নিয়ে আসবে। সিরিয়ায় তুরস্কের ক্রমবর্ধমান সামরিক ভূমিকা এবং এর আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে তার এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
পোলার্ডের এই বক্তব্য তুরস্ককে একটি বড় সামরিক হুমকি হিসেবে নতুন করে তুলে ধরার বৃহত্তর ইসরায়েলি প্রচেষ্টারই অংশ। এর আগে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট কাতারের সমর্থনে তুরস্ককে ইসরায়েলের প্রধান কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ‘ইরানের স্থলাভিষিক্ত’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। একই সাথে ইসরায়েলি নিরাপত্তা মহলও সিরিয়ায় আংকারার সঙ্গে সম্ভাব্য সরাসরি সামরিক সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করেছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইসরায়েলি সরকার-নিযুক্ত একটি বিশেষ কমিটি সিরিয়ায় তুরস্কের সঙ্গে সম্ভাব্য সরাসরি সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়, যা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎস এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের কাছে হন্তান্তর করা হয়েছিল।
ইসরায়েলের সামরিক threat বা হুমকি মূল্যায়নে এখন ইরানের পাশাপাশি মিসরের নামও বেশ ঘন ঘন উঠে আসছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত একটি ইসরায়েলি নীতি-বিশ্লেষণে উদীয়মান তুর্কি-মিসরীয় নতুন জোটের বিষয়ে তেল আবিবকে সতর্ক করা হয়। ওই সতর্কতায় বলা হয়, ইসরায়েলকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে একটি শক্তিশালী ‘সুন্নি বলয়’ তৈরি হচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে কায়রো ও আংকারা ইসরায়েলের সাথে একসময় কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখলেও, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যার তীব্র সমালোচনা করায় এই দুই মুসলিম রাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সমন্বয় তেল আবিবের জন্য নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
প্রসঙ্গগত, মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা বিশ্লেষক জনাথন পোলার্ডকে ১৯৮৭ সালে মিত্র দেশ ইসরায়েলের কাছে আমেরিকার অত্যন্ত গোপনীয় সামরিক ও কৌশলগত তথ্য পাচারের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এটি ছিল দুই বন্ধু দেশের মধ্যে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও ক্ষতিকর গুপ্তচরবৃত্তির মামলা। দীর্ঘ ৩০ বছর সাজা খাটার পর ২০১৫ সালে তিনি প্যারোলে মুক্তি পান এবং ২০২০ সালে প্যারোলের শর্ত শেষ হলে তিনি ইসরায়েলে পৌঁছান। সে সময় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্বয়ং বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে তাকে স্বাগত জানান এবং তার হাতে ইসরায়েলি নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র তুলে দেন।
ইসরায়েলে স্থায়ী হওয়ার পর থেকেই পোলার্ড দেশটির উগ্র ডানপন্থীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন এবং গাজা দখল ও সেখানে নতুন করে ইহুদি বসতি স্থাপনের পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান নেন। এমনকি বিশ্বের অন্যান্য দেশে বসবাসরত ইহুদিদের নিজ দেশের চেয়ে ইসরায়েলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা এবং প্রয়োজনে আমেরিকার মতো দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করার আহ্বান জানিয়ে তীব্র আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েন এই বিতর্কিত সাবেক গোয়েন্দা।
/আশিক
যাত্রার আগে মার্কিন নৌবাহিনীর সাথে সমন্বয় বাধ্যতামূলক, হরমুজে জারি হলো রেড অ্যালার্ট
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ইরান কর্তৃক নতুন করে নৌ-মাইন পেতে রাখার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে এই সামুদ্রিক এলাকায় চরম সতর্কতা (Emergency Alert) জারি করেছে মার্কিন নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জারি করা এই জরুরি বার্তায় বিশ্ববাজারের বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজের মালিক, অপারেটর ও আন্তর্জাতিক নাবিকদের হরমুজ প্রণালিতে চলমান বিপজ্জনক সামরিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের এই সতর্কবার্তায় পারস্য উপসাগরীয় এই আন্তর্জাতিক জলপথের বর্তমান আঞ্চলিক হুমকির মাত্রাকে ‘ক্রিটিক্যাল’ বা অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। মার্কিন পক্ষের সরাসরি অভিযোগ—ইরান এই কৌশলগত আন্তর্জাতিক জলপথে সম্পূর্ণ বিপজ্জনক ও অবৈধ উপায়ে মাইন পেতে নিজেদের একক সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যে নিয়োজিত নেভিগেশনাল জাহাজ ও সাধারণ নাবিকদের জীবনের জন্য চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর সুরক্ষায় মার্কিন নৌবাহিনী কয়েকটি জরুরি পরামর্শ ও বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে
হরমুজ প্রণালির প্রথাগত ট্রাফিক সেপারেশন স্কিম (টিএসএস) সম্পূর্ণ পরিহার করে বিকল্প ও নিরাপদ পথ দিয়ে জাহাজ পরিচালনা করতে হবে।
ওই জলপথ দিয়ে যেকোনো যাত্রার আগে আবশ্যিকভাবে মার্কিন নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করতে হবে।
প্রণালি পার হওয়ার সময় জাহাজের সার্বক্ষণিক রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল ও কার্যকর রাখতে হবে।
যেকোনো আপদকালীন পরিস্থিতিতে মার্কিন নৌবাহিনীর দেওয়া সমস্ত সামরিক নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে অনুসরণ করতে হবে।
এছাড়া মার্কিন কমান্ডের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী কোনো বাণিজ্যিক বা অন্য কোনো জাহাজকে যদি মাইন পাতার কাজে লিপ্ত থাকতে দেখা যায় কিংবা ইরানকে এই কার্যক্রমে কোনোভাবে সহায়তা করতে চিহ্নিত করা হয়, তবে মার্কিন বাহিনী নিজেদের ও আন্তর্জাতিক জলপথের আত্মরক্ষার স্বার্থে (Right to Self-Defense) ওই জাহাজটিকে সরাসরি সামরিক লক্ষ্যবস্তু বা ধ্বংস করতে দ্বিধা করবে না।
সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, ট্রাম্পের নতুন যুদ্ধ হুঁশিয়ারি
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ সম্প্রসারণের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে হোয়াইট হাউসে দীর্ঘ দুই ঘণ্টাব্যাপী এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চালিয়েও শেষ পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি তিনি। শুক্রবার (২৯ মে) মার্কিন প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে।
বৈঠকটি শুরু হওয়ার ঠিক আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া একটি পোস্টে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, হোয়াইট হাউসের অত্যন্ত সুরক্ষিত ‘সিচুয়েশন রুম’-এ অনুষ্ঠিতব্য এই বিশেষ বৈঠকেই তিনি ইরান-সংক্রান্ত নতুন খসড়া প্রস্তাবের বিষয়ে একটি ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। প্রেসিডেন্টের এমন বার্তার পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি হলেও, বৈঠক শেষ হওয়ার পর হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বড় সিদ্ধান্ত বা চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে এতখানি আত্মবিশ্বাসী থাকা সত্ত্বেও কেন শেষ মুহূর্তে আলোচনাটি ভেস্তে গেল বা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হলো—সে বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বা আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে বৈঠকের আগে ট্রাম্প ইরানের সামনে যে কঠোর শর্তগুলো ছুড়ে দিয়েছিলেন, তা এই অচলাবস্থার মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্প স্পষ্ট দাবি করেন, চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে যদি দীর্ঘায়িত বা স্থায়ী করতে হয়, তবে ইরানকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দিতে হবে। এর পাশাপাশি ইরানকে ভবিষ্যতে ‘কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার’ আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি বা লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে এবং তাদের কাছে বর্তমানে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণের কাজে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে তদারকি ও অনুমতি দিতে হবে। তবে তেহরানের নীতিনির্ধারকরা শুরু থেকেই সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রধান শর্তগুলোর তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন।
মার্কিন প্রশাসনের এই অনড় অবস্থানের বিপরীতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তেহরানের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে ওয়াশিংটনের সাথে চলমান আলোচনাটি অত্যন্ত সীমিত পরিসরে ও নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের ওপর হচ্ছে এবং এই আলোচনার এজেন্ডায় কোনোভাবেই ইরানের ‘পারমাণবিক ইস্যু’ অন্তর্ভুক্ত নেই। কূটনৈতিক পর্যায়ে এই টানাপোড়েনের মাঝেই সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছু পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনাও ঘটেছে। আর এই হামলার জের ধরে ট্রাম্পও একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আলোচনা সফল না হলে যেকোনো মুহূর্তে আবারও পূর্ণমাত্রার বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরু হতে পারে।
অবশ্য ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে কিছুটা নরম সুরের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি দুই পক্ষের মধ্যে একটি সম্মানজনক সমঝোতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজ ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে যে কঠোর ‘নৌ অবরোধ’ আরোপ করে রেখেছে, তা ধাপে ধাপে তুলে নিতে পারে। আর এমনটি হলে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি আবারও আগের মতো স্বাভাবিক ও নিরাপদভাবে ব্যবহারের বড় সুযোগ তৈরি হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওহাইও বা ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত এই খসড়া চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো—আপাতত যেকোনো উপায়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে নেওয়া, যাতে করে ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরও দীর্ঘমেয়াদি ও বিস্তারিত আলোচনার একটি কূটনৈতিক পথ তৈরি করা যায়। আলোচনার বিষয়টি অত্যন্ত গোপন ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য সংবেদনশীল হওয়ায় তারা পরিচয় গোপন রেখেই এই তথ্যগুলো গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
বিকল্প লোহিত সাগর রুটেও হুথি আতঙ্ক, তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে এশিয়ার বাজার
ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাত এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নানামুখী কড়াকড়ির কারণে জাপানের অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার সাম্প্রতিক এক বিশেষ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, চলতি ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত তিন মাসের সময়কালে দেশটির সামগ্রিক তেল আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানি পরিস্থিতিও এই সংকটের কারণে বেশ নাজুক হয়ে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সংঘাতের প্রভাবে শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরবের রপ্তানি ২৯ শতাংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল রপ্তানি ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। অন্যদিকে কুয়েত ও ইরাকের মতো দেশগুলোর তেল রপ্তানি ৯০ শতাংশেরও বেশি ধসে পড়ার মারাত্মক আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংঘাতের প্রাথমিক দিনগুলোতে যুদ্ধরত ইরানের নিজস্ব তেল রপ্তানি পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল ছিল। তবে মে মাসে এসে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ জোরদার হওয়ার কারণে দেশটির তেল রপ্তানি এক ধাক্কায় প্রায় ৮৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে চরম কড়াকড়ি ও ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বিকল্প উপায় হিসেবে সৌদি আরব এখন লোহিত সাগর রুট ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে তেল রপ্তানি সচল রাখার চেষ্টা করছে। তবে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় সৌদি আরবের সামগ্রিক তেল রপ্তানির সক্ষমতা এখন অনেকখানি কমে গেছে। তদুপরি, লোহিত সাগরের এই বিকল্প পথ ব্যবহার করে এশিয়ার বাজারে পৌঁছাতে হলে জাহাজগুলোকে ইয়েমেন উপকূলের বাব এল-মানদাব প্রণালি পাড়ি দিতে হয়। আর ওই অঞ্চলে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র হুথি গোষ্ঠীর শক্তিশালী উপস্থিতি ও আক্রমণাত্মক তৎপরতা এই জলপথটিকেও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
নিক্কেই এশিয়া তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে, বিশ্ববাজারের এই জ্বালানি সংকটে তেল আমদানির পতন সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে জাপানের অর্থনীতিতে। বিগত ২০২৫ সালের মার্চ-মে সময়কালে দেশটি বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম তেল আমদানিকারক রাষ্ট্র হিসেবে তালিকায় ছিল। অথচ ২০২৬ সালের ঠিক একই সময়ে এসে জাপানের তেল আমদানি হ্রাসের এই হার বৈশ্বিকভাবে চতুর্থ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই বিশাল ঘাটতি ও শূন্যতা পূরণে টোকিও প্রশাসন এখন বাধ্য হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদিত তেলের ওপর তাদের কৌশলগত নির্ভরতা দ্রুত বাড়াচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে জাপানের প্রয়োজনীয় মোট তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই সরবরাহ করত মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে সংকটের জেরে মে মাসে এসে সেই আমদানির পরিমাণ কমে মাত্র ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে। এর বিপরীতে, একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে জাপানের তেল আমদানির অনুপাত আগের মাত্র ২ শতাংশ থেকে এক লাফে বৃদ্ধি পেয়ে ২০ শতাংশেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে।
এদিকে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারের এই নজিরবিহীন সংকট সামাল দিতে জাপান সরকার গত মার্চের শেষ দিক থেকেই তাদের জরুরি কৌশলগত তেল মজুত (স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ) থেকে তেল ব্যবহার শুরু করেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, জাপানি নীতিনির্ধারকদের হাতে এখনও দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার ২০০ দিনেরও বেশি সময়ের ব্যবহারের উপযোগী বিশাল তেলের মজুত সুরক্ষিত রয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের পূর্ণমাত্রায় স্বাধীন ও নিরাপদ নৌ-চলাচলের পরিবেশ আবার কখনো ফিরে আসবে কি না, তা নিয়ে বৈশ্বিক কূটনীতিতে চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে। আর এই দীর্ঘমেয়াদি আশঙ্কার কারণে জাপানের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এখন মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প ও বহুমুখী জ্বালানি উৎস খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।
নিক্কেই এশিয়ার এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই তেল সংকটের ক্ষতিকর প্রভাব দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর ওপরও বেশ জোরালোভাবে পড়েছে। এই সময়ে ভিয়েতনামের জাতীয় তেল আমদানি ৫১ শতাংশ এবং মালয়েশিয়ার আমদানি ৪৩ শতাংশ কমে গেছে।
বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ চীন গত বছর তাদের মোট চাহিদার ৩০ শতাংশ তেলই আমদানি করেছিল মধ্যপ্রাচ্যের বাজার থেকে। তবে চলমান সংঘাতের জেরে মার্চ-মে সময়কালে চীনের সামগ্রিক আমদানি ১৮ শতাংশ কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একইভাবে, ২০২৫ সালে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ ভারতের আমদানিও এই তিন মাসে ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই ক্ষতি পোষাতে ভারত সরকার এখন দ্রুততম সময়ে রাশিয়া ও ভেনিজুয়েলা থেকে বিকল্প পদ্ধতিতে তেলের সরবরাহ বাড়ানোর জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
অন্যদিকে, এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় ইউরোপীয় অঞ্চলের দেশগুলো এই সংকটে তুলনামূলকভাবে অনেক কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো, ইউরোপীয় অঞ্চলের দেশগুলো নর্থ সি, যুক্তরাষ্ট্র, উত্তর আফ্রিকা এবং কাসপিয়ান সাগর অঞ্চল থেকে অনেক আগে থেকেই বহুমুখী রুটে জ্বালানি তেল সরবরাহ পেয়ে থাকে। ফলে এই সংকটকালীন সময়েও মার্চ-মে মাসে গ্রিসের তেল আমদানি উল্টো ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের ৯ শতাংশ এবং স্পেনের ৭ শতাংশ তেল আমদানি বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
/আশিক
কট্টর ইসরায়েল-বিরোধী মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে কেন বিকল্প নেতা ভাবছিল ওয়াশিংটন?
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে যুদ্ধ-পরবর্তী সম্ভাব্য ইরানি নেতা হিসেবে একসময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিবেচনা করেছিল বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করেছে। অথচ দীর্ঘ বছর ধরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আহমাদিনেজাদকে অন্যতম প্রধান ইসরায়েলবিরোধী মুখ হিসেবেই চেনা হতো।
তিনি ইসরায়েলের পতন অনিবার্য বলে প্রায়ই কড়া বক্তব্য দিতেন, হলোকাস্ট বা ইহুদি নিধনযজ্ঞের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়েছেন। বৈশ্বিক মঞ্চে তাঁর এই কট্টর অবস্থানের কারণেই ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রায়শই বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে ইরানকে একটি বাস্তব হুমকি হিসেবে প্রমাণ করতে আহমাদিনেজাদের বক্তব্যকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করতেন।
তবে নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক গোপন ‘যুদ্ধ পরবর্তী পরিকল্পনায়’ ওয়াশিংটন ও তেল আবিব এমন একটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভাবছিল, যেখানে আহমাদিনেজাদ ইরানের বিদ্যমান নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে এসে দেশটির ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন। কিন্তু টাইমসের দাবি অনুযায়ী এই গোপন ছকটি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়, কারণ চলমান যুদ্ধের শুরুতেই গৃহবন্দিত্ব থেকে আহমাদিনেজাদকে মুক্ত করার লক্ষ্যে চালানো একটি বিশেষ সামরিক হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগ ওঠে। অবশ্য এই চাঞ্চল্যকর দাবির বিষয়ে মাহমুদ আহমাদিনেজাদ বা তাঁর কোনো ঘনিষ্ঠ সহযোগী এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি এবং বর্তমানে তিনি ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন তাও স্পষ্ট নয়।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এই খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর অনেক মার্কিন ও ইসরায়েলি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চরম ইসরায়েলবিরোধী মতাদর্শের সাথে যুক্ত এবং হলোকাস্টকে অস্বীকার করা একজন নেতার সঙ্গে কোনো পশ্চিমা দেশ বা ইসরায়েল কেন কাজ করার কথা ভাববে—তা নিয়ে তারা প্রকাশ্যেই বড় প্রশ্ন তুলেছেন। আপাতদৃষ্টিতে এই সাংঘর্ষিক ও বিপরীতমুখী তথ্যটি বিশ্লেষকদের আহমাদিনেজাদের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে যে, তাঁর প্রকৃত চরিত্রটি আসলে যতটা সরল মনে করা হয় ততটা নাকি এর পেছনে আরও কোনো গভীর রাজনৈতিক জটিলতা রয়েছে।
এই পুরো বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করতে হলে ফিরে যেতে হবে ২০০৩ সালের দিকে, যখন তিনি তেহরানের মেয়র নির্বাচিত হন। সে সময় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি খুব একটা পরিচিত ছিলেন না। তবে ২০০৫ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রচ্ছন্ন সমর্থনে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আসেন। নির্বাচনের সময় তিনি জনকল্যাণ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্লোগান দিলেও অতি অল্প সময়ের মধ্যেই মূলত ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও হলোকাস্ট নিয়ে আপোসহীন মন্তব্যের কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।
২০০৫ সালে তেহরানের এক সম্মেলনে তিনি পশ্চিমা ও জায়নবাদবিহীন বিশ্ব গড়ার ডাক দেন এবং এর এক বছর পর তেহরানে হলোকাস্ট অস্বীকারকারীদের নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করেন, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় তোলে। তবে সময়ের ব্যবধানে কিছু ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক প্রকাশ্যে বলতে শুরু করেন যে, আহমাদিনেজাদের এমন চরমপন্থী বক্তব্য প্রকৃতপক্ষে ইরানের পারমাণবিক হুমকিকে বিশ্বের সামনে বড় করে তুলে ধরে ইসরায়েলেরই রাজনৈতিক সুবিধা করে দিয়েছিল। ২০০৮ সালে মোসাদের সাবেক প্রধান এফ্রাইম হালেভি তাকে ‘ইসরায়েলের জন্য ইরানের সবচেয়ে বড় উপহার’ হিসেবেও আখ্যা দেন।
অবশ্য আহমাদিনেজাদের সমর্থকেরা এই দাবিকে সবসময় প্রত্যাখ্যান করে এসেছেন। তাদের মতে, তিনি কেবল একটি আদর্শিক ও আক্রমণাত্মক নীতি অনুসরণ করেছিলেন, যা ইসরায়েল ও পশ্চিমের সরাসরি মুখোমুখি অবস্থান নেয়। তবে ২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পর থেকেই আহমাদিনেজাদ ক্রমশ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি এবং দেশটির প্রভাবশালী সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। এর জেরে পরবর্তীতে ইরানের সংবিধিবদ্ধ অভিভাবক পরিষদ বা গার্ডিয়ান কাউন্সিল তাকে একাধিকবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে অযোগ্য ঘোষণা করে।
ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের ইরান প্রোগ্রামের প্রধান রাজ জিম্মিত টাইমসের এই প্রতিবেদন প্রসঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে জানান যে, আহমাদিনেজাদ মূলত জনতাবাদ বা পপুলিজম এবং সুযোগ সন্ধানবাদের এক অদ্ভুত মিশ্রণ ছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক মাধ্যমে নিজের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনর্গঠনে তিনি ইংরেজিতে টুইট করা, মার্কিন ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানানো কিংবা মার্কিন র্যাপারের বাণী উদ্ধৃত করার পাশাপাশি আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসাও করেছেন। তবে জিম্মিত মনে করেন, পশ্চিমা শ্রোতা ও ইরানের অভ্যন্তরে তুলনামূলক নরম ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা করলেও ৯ কোটির বেশি জনসংখ্যার এই দেশে এককভাবে ক্ষমতা দখলের মতো রাজনৈতিক সমর্থন বা ভিত্তি আহমাদিনেজাদের আর নেই।
বিবিসি পার্সিয়ানের সঙ্গে আলাপকালে তিনজন শীর্ষ মার্কিন বিশেষজ্ঞও আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় ফেরানোর পশ্চিমা পরিকল্পনা সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়ে চরম সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ও কাউন্টার-টেররিজম বিশেষজ্ঞ ম্যাক্স আব্রাহমস মনে করেন, যুদ্ধকালীন সময়ে ছড়ানো ভুল তথ্যের প্রাচুর্যের কারণে এই দাবিকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দেখা উচিত। তাঁর মতে, পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া আহমাদিনেজাদের প্রত্যাবর্তনকে ইসরায়েল স্বাগত জানাবে—এমনটি ভাবা অবাস্তব।
আমেরিকান ফরেন পলিসি কাউন্সিলের ইলান বারম্যানও একে একটি অসম্ভব কল্পনা বলে মনে করেন, কারণ নেতৃত্বের সম্ভাব্য তালিকায় আহমাদিনেজাদ কখনোই প্রথম পছন্দ হতে পারেন না। আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের মাইকেল রুবিন এই প্রতিবেদনকে কল্পনাপ্রসূত আখ্যা দিয়ে বলেন যে, নিউ ইয়র্ক টাইমস এখানে অতিরিক্তভাবে কিছু অজ্ঞাত সূত্রের ওপর নির্ভর করেছে। অবশ্য এর বিপরীতে নিউ ইয়র্ক টাইমস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোরালো দাবি করেছে যে, তারা তাদের প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়ে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী এবং এটি মার্কিন, ইসরায়েলি ও ইরানি কর্মকর্তাদের মতো অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও অবহিত সূত্রের সঙ্গে কথা বলেই তৈরি করা হয়েছে।
অন্য এক প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের ভেতরের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই পরিকল্পনাকে ইরান সম্পর্কে ইসরায়েলের গোয়েন্দা ও নীতিনির্ধারকদের গভীর ভুল বোঝাবুঝির পরিচায়ক হিসেবে দেখছেন। ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের ড্যানি সিট্রিনোভিজ জানান, আহমাদিনেজাদের কোনো বাস্তব রাজনৈতিক ক্ষমতার ভিত্তি নেই এবং ইরানের মূল চালিকাশক্তি আইআরজিসি কখনোই তাকে মেনে নেবে না। ফলে ইরানের বিদ্যমান পুরো ক্ষমতা কাঠামো সম্পূর্ণ ধসে না পড়লে তাঁর ক্ষমতা নেওয়া অসম্ভব ছিল, যা পশ্চিমা হামলায় ঘটেনি। অভিজ্ঞ ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইয়োসি মেলম্যানও এই পরিকল্পনাকে এক ধরনের রাজনৈতিক উন্মাদনা বা অবাস্তব কল্পনা বলে অভিহিত করেছেন।
তবে এত সব সংশয় ও বিতর্কের মাঝেও প্রশ্ন থেকে যায় যে, পশ্চিমা পরিকল্পনাকারীদের খাতায় কেন হঠাৎ আহমাদিনেজাদের নাম উঠে এলো? কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রধান কারণ হতে পারে তাঁর তিনটি অনন্য বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়—দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি, দীর্ঘদিনের সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে দূরত্ব। তিনি ইরানের সাধারণ ও নিম্নবর্গের মানুষের ভাষা বোঝেন এবং ইসলামিক রিপাবলিকের ক্ষমতার অন্দরমহল সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখেন।
খামেনির সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধের কারণে তাকে এখন আর পুরোপুরি বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করা হয় না। ফলে কিছু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে, অস্থিরতার সময়ে মিত্র হিসেবে না হলেও ইরানের বিদ্যমান ক্ষমতার কাঠামোর ভেতরে বড় ধরনের ফাটল বা বিভাজন সৃষ্টি করার জন্য একটি কৌশলগত অস্থায়ী চরিত্র বা ঘুঁটি হিসেবে তাকে ব্যবহারের কথা ভাবা হয়ে থাকতে পারে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ অনেক সমালোচকের মতে, আহমাদিনেজাদের পূর্ববর্তী রাষ্ট্রীয় নীতিমালা ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করেছে, পারমাণবিক সংকটকে আরও তীব্র করেছে এবং শেষ পর্যন্ত তেহরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মোক্ষম রাজনৈতিক অস্ত্র তৈরি করে দিয়েছে। তবে ক্ষমতায় থাকাকালীন কিংবা ক্ষমতা ছাড়ার পর তাঁর রাজনৈতিক জোট পরিবর্তনের প্রবণতাটি ইঙ্গিত দেয় যে, এটি আসলে সম্পূর্ণই ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একটি রাজনৈতিক কৌশল ছিল, কোনো বিদেশী শক্তির সাথে গোপন আঁতাতের অংশ নয়।
বাস্তবিকপক্ষে মাহমুদ আহমাদিনেজাদের সঙ্গে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্কের প্রমাণ মেলেনি, তবে তাঁর মতো কট্টর পশ্চিমা-বিরোধী একজন রাজনীতিকের নাম যুদ্ধ-পরবর্তী বিকল্প নেতা হিসেবে মার্কিন গণমাধ্যমে উঠে আসা ইরানের সমকালীন রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রশ্নটিকে আবারও বিশ্বমঞ্চে বড় করে তুলেছে।
সূত্র : বিবিসি বাংলা
ইরান যুদ্ধে মেলেনি সাফল্য: সম্মানজনক বিদায়ের পথ খুঁজছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
চলমান ইরান সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান বা আশানুরূপ কোনো সাফল্য পাননি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের একটি বড় অংশই বর্তমানে মনে করছে, এই সামরিক সংঘাতের অবসান যখনই হোক না কেন—তাতে মার্কিন স্বার্থে অবস্থার খুব একটা ইতিবাচক পরিবর্তন হবে না।
সম্প্রতি দেশটিতে পরিচালিত বিভিন্ন জনমত জরিপে উঠে এসেছে যে, মার্কিন জনগণ এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ নিয়ে চরম বিরক্ত এবং তারা ইরানের কাছ থেকে বড় ধরনের কোনো ছাড় পাওয়ার আশাও করছে না। সংক্ষেপে বলতে গেলে, এই যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্মানের সঙ্গে বেরিয়ে আসার মতো কোনো মসৃণ পথ খুঁজে পাবেন—এমন আস্থা সাধারণ মানুষের মনে বেশ কম।
অবশ্য সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে বেশ কিছু অগ্রগতির লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। কিন্তু যখনই সম্ভাব্য চুক্তির বিভিন্ন বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে শুরু করে, তখনই ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকানের অনেক কট্টরপন্থী নেতা নেতিবাচক বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন স্পষ্ট করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, এই সম্ভাব্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা ইরানকে উল্টো আরও বেশি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান যদি তাদের কঠোর অবস্থানে অনড় থাকে, তবে এমন কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই যা ট্রাম্পের রাজনৈতিক সম্মান রক্ষা করবে। আবার সামনেই মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন, তাই যুদ্ধ যেন কোনোভাবেই ব্যালট বক্সে রিপাবলিকানদের জন্য বড় সমস্যার কারণ হয়ে না দাঁড়ায়, সেটি নিশ্চিত করাও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।
এমন এক জটিল রাজনৈতিক অবস্থায় একাধিক জনমত জরিপ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বর্তমানে মার্কিন ভোটারদের প্রধান চাওয়া হলো অনতিবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ হোক। গত সপ্তাহে প্রকাশিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের একটি জরিপ অনুযায়ী, নিবন্ধিত ভোটারদের মাত্র ৩৯ শতাংশ মনে করেন নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া উচিত। এর বিপরীতে সর্বোচ্চ ৬১ শতাংশ মানুষের মত হলো, একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করা প্রয়োজন।
একইভাবে, নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের যৌথ জরিপের ফলাফল দেখাচ্ছে, ৫২ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার স্পষ্ট বলেছেন যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত তাদের সামরিক অভিযান বন্ধ করা।
জরিপের এই সামগ্রিক ফলাফলগুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, অবস্থা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে মোটামুটি সুবিধাজনক শর্তে কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হলেও তা মার্কিনিদের যুদ্ধকালীন ব্যয়ের তুলনায় বড় কোনো অর্জন হিসেবে গণ্য হবে না। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি সমস্ত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুবিধাজনক একটি চুক্তি নিশ্চিত করতে সক্ষম হনও, তবুও তাঁর সামনে আরেকটি বড় সমস্যা রাজত্ব করছে।
সেটি হলো—চুক্তির বিশ্বস্ততার ক্ষেত্রে আমেরিকানরা আর তাঁকে আগের মতো বিশ্বাস করছে না। উদাহরণ হিসেবে সিএনএনের সাম্প্রতিক একটি জরিপের ফলাফল সামনে আনা যায়, যেখানে দেখা গেছে মাত্র ২০ শতাংশ আমেরিকান ইরানের বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ওপর ‘প্রচণ্ড’ আস্থা রাখছেন। বিপরীতে দেশের ৫৯ শতাংশ মানুষের তাঁর ওপর ‘খুব একটা’ বা একেবারেই কোনো আস্থা নেই।
চাপের মুখে পড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে তাঁর আগের কিছু কঠোর ও অনড় দাবি থেকে সরে এসেছেন। যেমন, যুদ্ধের শুরুতে একসময় তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে ‘ইরান শর্তহীন আত্মসমর্পণ’ করলেই কেবল যুদ্ধ বন্ধ হবে। আবার অন্য সময়ে তিনি বলেছিলেন, এই যুদ্ধে তাঁর মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোতে ইরানের অর্থ সরবরাহের পথ চিরতরে বন্ধ করা। তবে চলমান শান্তি আলোচনার শর্তগুলো পর্যবেক্ষণ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের আগের সেই কঠোর লক্ষ্যগুলো বর্তমানে অনেকটাই শিথিল বা হালকা হয়ে গেছে।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করেন, ট্রাম্প আসলে এই সংঘাতের শুরুতেই দুটি মারাত্মক কৌশলগত ভুল করেছেন। প্রথমত, যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে বা যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতি সামলানোর পথ নিয়ে তাঁর কাছে কোনো স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ছিল না। দ্বিতীয়ত, তিনি আমেরিকার সাধারণ জনগণের কাছে এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারেননি। উল্টো, তিনি শুরুতেই সফলতার মানদণ্ড ও প্রত্যাশা এত উঁচুতে বেঁধে দিয়েছিলেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সেগুলো শতভাগ অর্জন করা তাঁর জন্য বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
/আশিক
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও তীব্র আকাশপথ ঝুঁকি: ফ্লাইট বাতিল করছে বিশ্বের শীর্ষ এয়ারলাইনস
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিমান সংস্থাগুলো বিভিন্ন দেশে তাদের ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ কিংবা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে যাতায়াতকারী দূরপাল্লার অনেক বাণিজ্যিক বিমান এখন মধ্যপ্রাচ্যের স্পর্শকাতর আকাশপথ সম্পূর্ণ এড়িয়ে বিকল্প রুটে চলাচল করছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, দুবাই, বাগদাদ, এরবিল, তেল আবিব, বৈরুত, দোহা, রিয়াদ ও আবুধাবির মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গন্তব্যগুলোতে বেশ কয়েকটি নামী বিমান সংস্থা তাদের নিয়মিত ফ্লাইট অপারেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
গ্রিসের অন্যতম প্রধান বিমান সংস্থা এজিয়ান এয়ারলাইনস আগামী আগস্ট মাসের শেষ সময় পর্যন্ত দুবাইগামী তাদের সমস্ত ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে। এর পাশাপাশি ইরাকের বাগদাদ ও এরবিল রুটেও জুলাই মাস পর্যন্ত তাদের বিমান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তুরস্কের পেগাসাস এয়ারলাইনসও উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ইরাক, ইরান, কুয়েত, বাহরাইন, রিয়াদ ও আবুধাবিগামী তাদের নিয়মিত ফ্লাইটগুলো স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
নিরাপত্তা শঙ্কায় জার্মানির বিখ্যাত লুফথানসা গ্রুপও বাগদাদ, তেহরান, বৈরুত, দুবাই ও রিয়াদসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি প্রধান গন্তব্যে ফ্লাইট বন্ধ রাখার পূর্বনির্ধারিত সময়সীমা আরও বাড়িয়েছে। বিশ্বস্তরে বিমান চলাচলের এই অচলাবস্থার তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে এয়ার ফ্রান্স, কেএলএম, জাপান এয়ারলাইনস, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ও এয়ার কানাডার মতো বৈশ্বিক সংস্থাগুলো। এই বিমান সংস্থাগুলোও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে তাদের ফ্লাইট পুরোপুরি বাতিল বা সীমিত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলের চলমান সামরিক সংঘাত এবং আকাশপথের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে এই সতর্ক অবস্থান বেছে নিয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যগামী সাধারণ যাত্রীদের আন্তর্জাতিক যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এবং বৈশ্বিক বিমান পরিবহন খাতে এর একটি বড় ধরনের নেতিবাচক ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
/আশিক
ডেমোক্র্যাট ও গণমাধ্যম পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছে: ট্রাম্প
ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের ধরণকে কেন্দ্র করে মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া একটি বিবৃতিতে তিনি আমেরিকার মূলধারার সংবাদমাধ্যম এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাট নেতাদের বিরুদ্ধে নিজের চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং সিএনএনের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক সাংবাদিকতার অভিযোগ এনেছেন।
তার দাবি, এই সংবাদমাধ্যমগুলো চলমান সংকট নিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি আড়াল করছে এবং প্রতিবেদনগুলোতে পরোক্ষভাবে ইরানের পক্ষ অবলম্বন করে খবর প্রচার করছে। নিজের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট দল এবং গণমাধ্যমকে একই কাতারে এনে তিনি মন্তব্য করেন যে, তারা এখন পুরোপুরি লক্ষ্যচ্যুত এবং তাদের সাধারণ রাজনৈতিক জ্ঞান লোপ পেয়েছে।
আসন্ন মার্কিন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইরান সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক কূটনীতি এখন অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংবেদনশীল সময়ে ট্রাম্পের এমন কঠোর মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও যুদ্ধকালীন সংবাদ প্রকাশের ভূমিকা নিয়ে দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা
তীব্র গরম ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝেই শুরু হলো হজের প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ
পবিত্র হজের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘রমি জামারাত’ বা শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপ পর্ব শুরু হয়েছে। ফজরের নামাজ আদায় শেষ করে লাখ লাখ হাজি মুজদালিফা থেকে মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। মিনায় পৌঁছে হাজিরা পর্যায়ক্রমে বড় শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভ লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করছেন। এই আনুষ্ঠানিকতাকে কেন্দ্র করে মিনা এখন লাখো মুসলিমের পদচারণায় মুখরিত।
ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১১, ১২ এবং ১৩ তারিখ—এই তিন দিন ধরে হাজিরা জামারাতের নির্ধারিত তিনটি স্তম্ভেই পাথর নিক্ষেপ করে থাকেন। এই স্তম্ভ তিনটি যথাক্রমে আল-উলা বা ছোট, আল-উস্তা বা মেজ এবং আল-আকাবা বা বড় শয়তানের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এই ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা পূরণের জন্য হাজিরা আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পাথর সংগ্রহ করে নিজেদের কাছে রেখেছিলেন, যা এখন তারা নির্দিষ্ট নিয়মে নিক্ষেপ করছেন।
বর্তমান সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে পুরো অঞ্চলে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৫ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান সৌদি আরবে হজ পালন করতে সমবেত হয়েছেন। সব ধরনের উদ্বেগ পাশে ঠেলে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে হাজিরা তাদের হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতাগুলো সম্পন্ন করছেন।
ইসলাম ধর্মের মূল পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে হজ অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জীবনে অন্তত একবার এই পবিত্র ইবাদত পালন করা ফরজ বা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেই বাধ্যবাধকতা থেকেই প্রতি বছর বিশ্বের নানা দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ মক্কায় সমবেত হন।
চলতি বছর হজ মৌসুমে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে তীব্র দাবদাহ দেখা দিয়েছে, যেখানে তাপমাত্রা ইতোমধ্যে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। এই তীব্র গরমের কারণে হাজিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে সৌদি প্রশাসন। তীব্র রোদ ও গরম থেকে বাঁচতে হাজিদের সবসময় ছাতা ব্যবহার করাসহ পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- সালাহকে অধিনায়ক করে মিসরের ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা, বড় চমক হামজা
- খুলনা ঘরের ভেতর শাশুড়ি ও দুই শিশুসহ একই পরিবারের ৩ জনকে নৃশংস হত্যা
- ইসরায়েলের পরবর্তী সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে তুরস্ক ও মিসর
- ইউটিউবে বিনামূল্যে দেখা যাবে বিশ্বকাপের ১০৪ ম্যাচ, নেপথ্যে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
- একা কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না বিএনপি, প্রয়োজন জনগণের অংশগ্রহণ: আমির খসরু
- পুরোনো আইফোন কেনার আগে সাবধান! সেটিংসের Genuine Part দেখেই ফ্রেশ ভাববেন না
- যাত্রার আগে মার্কিন নৌবাহিনীর সাথে সমন্বয় বাধ্যতামূলক, হরমুজে জারি হলো রেড অ্যালার্ট
- জিয়া ও খালেদা জিয়ার প্রদর্শিত পথই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মূল ঠিকানা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- বৈষম্যবিরোধী রাজনীতির আড়ালে টাকা লুটেছেন আসিফ ও হাসনাত
- আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুমৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুমৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- দেশ কোনো সরকার, দল বা ব্যক্তির একার নয়: ২০ কোটি মানুষই এর মালিক
- ১ জুলাইয়ের ডেডলাইন ধরে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়, চূড়ান্ত পর্যায়ে নবম পে স্কেল
- মির্জা ফখরুল ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে মাজার জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর
- মাংস খাওয়ার পর বমি ও তীব্র পেট ব্যথা? অবহেলা করলে হতে পারে জীবনঝুঁকি
- শহীদ জিয়ার স্বনির্ভর উন্নয়ন ভাবনা নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণার উৎস: রাষ্ট্রপতি
- কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, ট্রাম্পের নতুন যুদ্ধ হুঁশিয়ারি
- দুপুরের মধ্যে ৫ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- বিয়ের মৌসুমে সোনা ও রুপার বাজারে আগুন, অলঙ্কার কিনতে পকেটে টান ক্রেতাদের
- ৩০ মে ২০২৬: ঢাকা ও দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরের নামাজের সঠিক সময়ঘণ্টা
- শহিদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে বিএনপির আট দিনের কর্মসূচি
- বিকল্প লোহিত সাগর রুটেও হুথি আতঙ্ক, তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে এশিয়ার বাজার
- কঙ্কর নিক্ষেপ শেষেই শুরু ফিরতি যাত্রা, জেদ্দা থেকে প্রথম ফ্লাইটে দেশে ফিরছেন হাজিরা
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় ধস, দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে আন্তর্জাতিক দর
- এখন থেকে চিড়িয়াখানায় দেখা যাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে
- একই উপজেলায় ২ শিশু খুন: বিচার ও সমবেদনা আদায়ে প্রশাসন ও সমাজের চরম বৈষম্য
- ভোঁতা ছুরিতেই বাড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, মাংস কাটার আগে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার উপায়
- কট্টর ইসরায়েল-বিরোধী মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে কেন বিকল্প নেতা ভাবছিল ওয়াশিংটন?
- আগামীকাল পবিত্র ঈদুল আজহা: জেনে নিন ঈদের রাতের অপরিসীম গুরুত্ব ও ফজিলত
- কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়, মনের পশুত্বকে পরাভূত করার দীক্ষা: প্রধানমন্ত্রী
- কোরবানি হচ্ছে না ভাইরাল মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ফিরল খামারে
- জলাতঙ্ক রোগে ভুগছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ভ্যাকসিন না দিলে সুস্থ হবেন না: রাশেদ খাঁন
- আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: তদন্তে ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিট
- ইরান যুদ্ধে মেলেনি সাফল্য: সম্মানজনক বিদায়ের পথ খুঁজছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও তীব্র আকাশপথ ঝুঁকি: ফ্লাইট বাতিল করছে বিশ্বের শীর্ষ এয়ারলাইনস
- সরকারি পরিসংখ্যানে ভয়াবহ চিত্র: দুই মাসের ব্যবধানে হামের গ্রাসে সাড়ে ৫০০ শিশু
- রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ ভিআইপিদের উপস্থিতিতে মুখরিত হবে জাতীয় ঈদগাহ
- ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া নিলেই জরিমানা, মহাখালীতে কড়া হুঁশিয়ারি সেতুমন্ত্রী রবিউল আলমের
- চতুর্থ থেকে দশম গ্রেডের বেতন বৃদ্ধির খসড়া রূপরেখা: কার কত বাড়ছে?
- কুরবানির মাংস বণ্টনের সুন্নতি নিয়ম: জেনে নিন তিন ভাগের সঠিক বণ্টন পদ্ধতি
- মেসির চোট নিয়ে ধোঁয়াশা: ইন্টার মায়ামির স্বস্তির বার্তার পর স্কালোনির নতুন দুঃসংবাদ
- ঈদের দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া?
- ভঙ্গুর অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা সংকট: ১০০ দিনের মাথায় কেমন চলছে নতুন সরকার?
- ডেমোক্র্যাট ও গণমাধ্যম পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছে: ট্রাম্প
- উৎসবের মুখে ফের চড়া স্বর্ণের বাজার, জেনে নিন ২১ ও ১৮ ক্যারেটের নতুন ভরি কত
- তাড়াতাড়ি পালাও: অবৈধ বাংলাদেশিদের রাজ্য ছাড়ার কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দু অধিকারীর
- তীব্র গরম ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝেই শুরু হলো হজের প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ
- মন্ত্রিত্ব মানেই হীরা-জহরতের ছড়াছড়ি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- এভারেস্টে উড়ল লাল-সবুজ: তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে নুরুন্নাহার নিম্নির বিশ্বজয়
- লেবানন জুড়ে ইসরায়েলের ভয়াবহ বোমাবর্ষণ: ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার মুখে
- একটি গরুর দাম ৫৯ কোটি টাকা! গিনেস বুকে নাম তুলে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়
- রামিসা হত্যা ও ফারিয়া ধর্ষণের প্রতিবাদ: চট্টগ্রামে ফুলেশ্বরী অ্যাসোসিয়েশনের মিছিল
- মহিষটির চুল দারুণ! ট্রাম্পের নামে ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশটের আসল সত্য ফাঁস
- ভারতের উত্তর প্রদেশে কঠোর বিধিনিষেধের ঘেরাটোপে ২০২৬ সালের ঈদুল আজহা
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ২৬ মে ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- ৯ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় মেহেরপুরে যুবকের মৃত্যুদণ্ড
- শিশু রামিসা হত্যা মামলা বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি
- কালিগঞ্জে জমি দখলের অভিযোগ,প্রাণনাশের হুমকির দাবি
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আর্জেন্টিনার কাছে ব্রাজিলের অন্যরকম হার!
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- আজ থেকেই কার্যকর হচ্ছে সোনা-রুপার নতুন আকাশচুম্বী দাম
- সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে আজ পবিত্র ঈদুল আজহা: উৎসবের আমেজে কোরবানি ও ঈদ জামাত
- কোরবানি হচ্ছে না ভাইরাল মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ফিরল খামারে
- দেশের চার জেলায় দুপুর ১টার মধ্যে ধেয়ে আসছে ঝড়-বৃষ্টি: আবহাওয়া অফিসের মেগা অ্যালার্ট








