ট্রাম্পকে বৃদ্ধাঙ্গুলি, নজরদারি এড়িয়ে হরমুজ পার হলো ৩টি জাহাজ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৪ ১৭:২৪:০৩
ট্রাম্পকে বৃদ্ধাঙ্গুলি, নজরদারি এড়িয়ে হরমুজ পার হলো ৩টি জাহাজ
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন নৌ-অবরোধের প্রথম পূর্ণ দিনেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) আনাদোলুর প্রতিবেদনে জানানো হয়, অবরোধের কড়াকড়ির মধ্যেও 'পিস গালফ', 'মুরলিকিশান' ও 'রিচ স্টারি' নামের তিনটি ট্যাংকার সফলভাবে এই জলপথ অতিক্রম করেছে। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এর মধ্যে দুটি জাহাজ আগে থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে।

অবরোধের পর পানামা পতাকাবাহী ‘পিস গালফ’ প্রথম জাহাজ হিসেবে ওমান সাগর থেকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দরের দিকে রওনা হয়েছে। এটি সাধারণত ইরানের ন্যাফথা পরিবহনে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে, চীনা মালিকানাধীন ‘রিচ স্টারি’ প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল মিথানল নিয়ে এবং ‘মুরলিকিশান’ ইরাক থেকে তেল লোড করার উদ্দেশ্যে এই স্পর্শকাতর রুটটি পাড়ি দেয়। যেহেতু এই জাহাজগুলো সরাসরি ইরানের কোনো বন্দরের দিকে যাচ্ছিল না, তাই কারিগরিভাবে এগুলোকে সরাসরি অবরোধের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিও জিয়াকুন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, এই অবরোধ আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলবে।

এদিকে কুয়েত সিটি থেকে আলজাজিরা জানিয়েছে, উপসাগরে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখন উভয় সংকটে পড়েছে—তাদের এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই পক্ষেরই অনুমতি নিতে হচ্ছে। ট্রাম্প সমঝোতার আশা জিইয়ে রাখলেও, ইরানের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিতে হরমুজ প্রণালি এখন এক বিশাল রণক্ষেত্রে রূপ নেওয়ার অপেক্ষায়।

/আশিক


ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা: হরমুজ প্রণালির অভিভাবক হয়ে অর্থ আদায় করবে ওয়াশিংটন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৩ ২০:১৮:৩৪
ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা: হরমুজ প্রণালির অভিভাবক হয়ে অর্থ আদায় করবে ওয়াশিংটন
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষার দায়িত্ব এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজের হাতে নেবে এবং এই নিরাপত্তা প্রদানের বিনিময়ে সুবিধাভোগী অন্যান্য দেশের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আদায় করা হবে। সোমবার (১৩ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন ও আগ্রাসী নীতির কথা স্পষ্ট করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সামগ্রিক পরিচালনার দায়িত্ব সম্ভবত এখন থেকে মার্কিন বাহিনীই পালন করবে এবং ওয়াশিংটনই হবে এই নৌপথের প্রধান অভিভাবক। তবে এই সুরক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তিনি জোরালো দাবি করেন, বিশ্বের যেসব ধনী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত, এই সামরিক ব্যয়ের সিংহভাগ তাদেরই বহন করা উচিত; কারণ ওয়াশিংটন আর কোনো দেশের জন্য বিনামূল্যে এমন ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে না।

বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ও সংবেদনশীল এই নৌপথকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে ইরানের পক্ষ থেকে প্রণালিটি কার্যত অবরুদ্ধ বা বন্ধ করে দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কাকে তীব্র করে তুলেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য তেহরানকে দায়ী করে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, অতীতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সমঝোতা হলেও তেহরান বারবার তা লঙ্ঘন করেছে। তিনি বলেন, আমরা একাধিকবার তাদের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছেছিলাম, কিন্তু প্রতিবারই তারা বিশ্বাসভঙ্গ করেছে; যার কারণে এবার ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কঠোর ও চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হবে।

আমেরিকার এমন হুঁশিয়ারির বিপরীতে পাল্টা অবস্থান জানিয়েছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বাহিনীর পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হলে সবার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে এই অঞ্চলে সব ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ ও উস্কানি বন্ধ করতে হবে। তা না হলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহ খাতে আরও বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সৃষ্টি হতে পারে বলে তারা কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে।

/আশিক


গাজার পুনর্বাসনে ইউরোপীয় কমিশনের ১০০ কোটি ডলারের বিশাল প্যাকেজ ঘোষণা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৩ ১৮:৪৪:১২
গাজার পুনর্বাসনে ইউরোপীয় কমিশনের ১০০ কোটি ডলারের বিশাল প্যাকেজ ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের জরুরি মানবিক সাহায্য এবং প্রাথমিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের জন্য প্রায় ৮৮৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন ইউরো (যা প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ) বরাদ্দের একটি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় কমিশন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ফিলিস্তিনবিষয়ক আন্তর্জাতিক দাতা গোষ্ঠীর একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ‘টিম গাজা ইনিশিয়েটিভ’ নামের এই বিশেষ সহায়তার রূপরেখা প্রকাশ করা হয়। ইউরোপীয় কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে বিপর্যস্ত গাজাবাসীর জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে চলমান ও পরিকল্পিত বিভিন্ন জরুরি পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে এই অর্থ সরাসরি ব্যয় করা হবে।

ইউরোপীয় কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিশাল মানবিক উদ্যোগে ইউরোপের ১২টি রাষ্ট্রসহ জাপান, বিশ্বব্যাংক এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক যৌথভাবে অংশীদার হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তাবিষয়ক শীর্ষ প্রতিনিধি কাজা কালাস এক বিবৃতিতে দাবি করেন, ফিলিস্তিনি জনগণের সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক অংশীদার হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

কাজা কালাস তাঁর বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেন, গাজার সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা মেটানো, অবকাঠামোগত পুনর্গঠন এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদে ধারাবাহিক আর্থিক সাহায্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের মূল প্রক্রিয়াটি ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব নেতৃত্বেই পরিচালিত হতে হবে, তবে এই লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও সক্রিয় সহযোগিতা অপরিহার্য।

/আশিক


যুদ্ধবিরতি ভেঙে মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ সংঘাত, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বিমান হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৩ ১৮:৩৪:১৫
যুদ্ধবিরতি ভেঙে মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ সংঘাত, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বিমান হামলা
সোমবার ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলার ছবিটি প্রকাশ করেছে সেন্টকম। ছবি: এএফপি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত এপ্রিলে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর সোমবার মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও বড় ধরনের সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। কৌশলগত কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে ঘটে যাওয়া এই পাল্টাপাল্টি হামলা দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ অবসানের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, রোববার রাতে তাদের বাহিনী একাধিক ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে অভিযান চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক এই নৌপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজের ওপর ইরানের আক্রমণ করার ক্ষমতা বিনষ্ট করতে মার্কিন যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং ড্রোন ব্যবহার করে একযোগে বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় এই হামলা চালানো হয়।

এদিকে সোমবার দুপুরের দিকে ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানায়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় নতুন করে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর ধারণা, এই বিস্ফোরণগুলো হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর আব্বাস এলাকা থেকে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানের জবাবে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে ইরানও। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার বাহরাইনে বিমান হামলার উচ্চ সতর্কবার্তা সংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়। বাহরাইন সরকারের পক্ষ থেকে তেহরানের বিরুদ্ধে বেসামরিক এলাকা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে।

একই সময়ে কুয়েতি সশস্ত্র বাহিনী তাদের আকাশসীমায় আসা হামলা সফলভাবে প্রতিহত করার দাবি করেছে এবং জর্ডানের সামরিক বাহিনী তাদের ভূখণ্ডে ধেয়ে আসা ইরানের চারটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার কথা নিশ্চিত করেছে।

উভয়পক্ষের এই প্রকাশ্য ও তীব্র সামরিক সংঘাতের মধ্যে তেহরান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি পূর্বশর্ত ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তবে শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো যুদ্ধবিরতি নীতিমালা তারা মেনে চলবে না। গত জুনে সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার প্রসঙ্গ টেনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে শান্তি চুক্তিটি এখন গভীর সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।

বাঘাই আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীরা যতবারই তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে, তেহরানও ততবার নিজেদের অঙ্গীকার থেকে পিছু হটেছে। তবে মাঠপর্যায়ে তীব্র উত্তেজনা বজায় থাকলেও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাতার, ওমান এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

/আশিক


ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুসহ ১৩ বিশ্বনেতাকে হত্যার ‘হিট লিস্ট’ প্রকাশ করল ইরানের গণমাধ্যম

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১২ ১৮:৪৩:৪১
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুসহ ১৩ বিশ্বনেতাকে হত্যার ‘হিট লিস্ট’ প্রকাশ করল ইরানের গণমাধ্যম
ছবি : সংগৃহীত

সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এবার সরাসরি মার্কিন ও ইউরোপীয় শীর্ষ নেতাদের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলার এক ভয়াবহ 'হিট লিস্ট' বা লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রভাবশালী গণমাধ্যম। তেহরানের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও কট্টর রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত ‘হামশাহরি’ পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে এই বিস্ফোরক তালিকা ও ইনফোগ্রাফিকটি প্রকাশ করা হয়। এই তালিকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপদস্থ সামরিক-কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের ছবি ও নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তাঁর বাবার হত্যাকাণ্ডের কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই এই উসকানিমূলক ও চাঞ্চল্যকর তালিকাটি জনসমক্ষে এলো। শনিবার (১১ জুলাই) দেওয়া এক কড়া বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, “প্রতিশোধ আমাদের সমগ্র ইরানি জাতির একক ইচ্ছা এবং এটি যেকোনো মূল্যে অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে। এই অপরাধীরা বিছানায় শান্তিতে মৃত্যুবরণ করার ইচ্ছা মনে নিয়েই কবরে যাবে।” নতুন সর্বোচ্চ নেতা তাঁর বিবৃতিতে সুনির্দিষ্টভাবে 'তালিকা' শব্দটির উল্লেখ করলেও সে সময় তিনি জনসমক্ষে কারও নাম প্রকাশ করেননি।

মোজতবার এই অনমনীয় বিবৃতির রেশ ধরে শনিবার গভীর রাতে হামশাহরি তাদের অনলাইন পোর্টালে একটি বিশেষ ইনফোগ্রাফিক প্রকাশ করে, যেখানে বিশ্বের ১৩ জন প্রভাবশালী বিদেশি নেতার ছবি প্রদর্শন করে তাঁদের সরাসরি ইরানের 'টার্গেট' বা লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যদিও প্রকাশিত এই বিশেষ হিট লিস্টটি ইরানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক বা শাসকদের দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত কি না তা নিশ্চিত করা যায়নি, তবে তেহরানের নীতিনির্ধারক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে গণমাধ্যমটির গভীর ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকায় আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এটি চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

হামশাহরির প্রকাশিত ইনফোগ্রাফিকটিতে প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রাখা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাজ্যের (ব্রিটেন) প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে। এ ছাড়া মার্কিন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ও নীতিনির্ধারক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও রয়েছেন এই তালিকায়। ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে ইরানের এই সরাসরি হিট লিস্টে জায়গা পেয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, ইতালির কট্টরপন্থী প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং জার্মানির বর্তমান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি (AFP) তাদের বিশেষ প্রতিবেদনে বাকি ৫ জন নেতার নাম প্রকাশ করেনি। তবে তারা উল্লেখ করেছে, হামশাহরির এই মারাত্মক ইনফোগ্রাফিকটি অনলাইনে প্রকাশ পেয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করলেও, রোববার (১২ জুলাই) প্রকাশিত পত্রিকার মূল প্রিন্ট বা ছাপা সংস্করণে এটি দেখা যায়নি। কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপের পেছনে একটি বড় ভূরাজনৈতিক কারণ রয়েছে।

চলমান পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ চলাকালে তেহরান সরাসরি অভিযোগ তুলেছিল যে, ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের ওপর সামরিক আগ্রাসন চালানোর জন্য মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের ভূখণ্ড, ঘাঁটি ও আকাশসীমা নির্বিচারে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। ফলে তেহরানের দৃষ্টিতে এই যুদ্ধে ইউরোপীয় নেতারাও ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ যুদ্ধাপরাধের সমান সহযোগী, আর সেই কারণেই তাঁদেরও এই প্রতিশোধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত যেকোনো মুহূর্তে বিশ্ব কাঁপানো আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১২ ১৮:২৪:০৬
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত যেকোনো মুহূর্তে বিশ্ব কাঁপানো আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ও প্রভাবশালী কৌশলগত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘দ্য কিলওয়েন গ্রুপ’-এর সম্মানিত চেয়ারম্যান এবং সাবেক তুখোড় মার্কিন নৌ কর্মকর্তা হারলান উলম্যান এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ভৌগোলিক ও সামরিক দিক থেকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের যে একক ও একচেটিয়া প্রভাব রয়েছে, তা পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে এক চরম ও কঠিন কৌশলগত ফাঁদে ফেলে দিয়েছে।

কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সাবেক এই মার্কিন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ওয়াশিংটনের যুদ্ধনীতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, একেবারে শুরু থেকেই এটি সম্পূর্ণ অস্পষ্ট ও কুয়াশচ্ছন্ন ছিল যে, ইরানের বিরুদ্ধে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত ও চূড়ান্ত লক্ষ্য আসলে কী ছিল। আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে অনেকেই এখন জোরালো প্রশ্ন তুলছেন—ইরানের সাথে এই নজিরবিহীন ও একতরফা যুদ্ধাবস্থা তৈরি করে দিনশেষে হোয়াইট হাউস বা যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কী অর্জন করতে চেয়েছিল, তার কোনো স্পষ্ট জবাব মার্কিন নীতিনির্ধারকদের কাছে নেই।

হারলান উলম্যানের সূক্ষ্ম সামরিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের চেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ও আধুনিক সমরাস্ত্রের আধিপত্য বহুগুণ বেশি হলেও, সেই বিপুল সামরিক ক্ষমতাকে বাস্তবে একটি টেকসই ‘কৌশলগত সাফল্যে’ রূপান্তর করার ক্ষেত্রে এক চরম ও জট পাকানো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে পেন্টাগন।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনীর সামরিক ক্ষমতা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তারা কি এই বোমাবর্ষণের মাধ্যমে ইরানের ওপর এতটা মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক চাপ সৃষ্টি করতে পারবে, যার ফলে তেহরান তাদের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্র নীতি কিংবা মার্কিন-বিরোধী মনোভাব রাতারাতি বদলে ফেলবে? আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে, মার্কিন সামরিক শক্তি দিয়ে ইরানের আদর্শিক নীতি পরিবর্তন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।”

তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক সুবিধার দিক থেকে ইরানই যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধাজনক ও ভালো অবস্থানে রয়েছে। কারণ, তেহরানকে ওয়াশিংটনের মতো বিশাল যুদ্ধাস্ত্রের বহর নিয়ে হামলা চালাতে হবে না; ইরানকে আন্তর্জাতিক মহলে কেবল এইটুকু প্রচ্ছন্ন হুমকি দিতে হবে যে, ‘প্রয়োজন হলে আমরা জ্বালানি সরবরাহের লাইফলাইন হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেব এবং আমাদের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিনপন্থী প্রতিবেশী দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটির ওপর সরাসরি হামলা চালাব।’ ইরানের এই একটিমাত্র মাত্রার হুমকিই বিশ্বের জ্বালানি বাজার ও হোয়াইট হাউসের ওপর এক নজিরবিহীন ও বিশাল মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করার জন্য যথেষ্ট।

উলম্যানের মতে, ইরানি এই মরণকামড়ের বিপরীতে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে মূলত আকাশপথে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও বিমান হামলা চালানো ছাড়া স্থলভাগে তেমন কোনো কার্যকর বা বিকল্প সামরিক উপায় নেই। কিন্তু মার্কিন এই উপর্যুপরি বিমান হামলায় যুদ্ধক্ষেত্রে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট বা ফলপ্রসূ ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না, যা চলমান সংকটে দুই পক্ষের কারও জন্যই কোনো ইতিবাচক বা ভালো ভবিষ্যৎ বয়ে আনতে পারে।

সবশেষে এই প্রবীণ সামরিক বিশ্লেষক গভীর উদ্বেগ ও সতর্কবার্তা জারি করে বলেন, বর্তমানের এই সীমিত আকারের সংঘাতটি যেকোনো মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ব্যাপক ও সর্বগ্রাসী ‘বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে’ রূপ নেওয়ার চরম ঝুঁকি রয়েছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে ধ্বংস করে দিতে পারে। আর সবচেয়ে বড় আশঙ্কার কথা হলো, বর্তমান ভঙ্গুর বিশ্ব অর্থনীতি কোনোভাবেই এই মারাত্মক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও তার ধাক্কা সামাল দিতে মোটেও প্রস্তুত নয়।

নিজের দাবির সপক্ষে বিশ্ব জ্বালানি বাজারের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তুলে ধরে হারলান উলম্যান বলেন, “সমগ্র বিশ্বে প্রতিদিন যে পরিমাণ খনিজ জ্বালানি ও তেল ব্যবহৃত হয়, তার প্রায় ২০ শতাংশ বা এক-পঞ্চমাংশ একমাত্র এই হরমুজ প্রণালির সরু জলপথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়ে থাকে। মার্কিন-ইরান যুদ্ধের জের ধরে যদি এই আন্তর্জাতিক নৌপথটি মাত্র এক দিন, এক সপ্তাহ, এক মাস কিংবা তার চেয়েও দীর্ঘ সময়ের জন্য সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ বা বন্ধ হয়ে যায়, তবে তার চড়া মূল্য দিতে হবে পুরো বিশ্বকে এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর তার এক চরম বিপর্যয়কর ও ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা সামলানো অসম্ভব।”

/আশিক


‘প্রতিশ্রুতি না রাখলে মূল্য দিতে হবে’: গালিবাফ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১২ ১১:১৪:০৭
‘প্রতিশ্রুতি না রাখলে মূল্য দিতে হবে’: গালিবাফ
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নতুন করে কঠোর বার্তা দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও দেশটির শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘একমুখী চুক্তির যুগ শেষ। আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন, অন্যথায় তার মূল্য দিতে হবে।’

নিজের বার্তায় গালিবাফ আরও লেখেন, ‘বাস্তবতা এখন দরজায় কড়া নাড়ছে।’ তার এই মন্তব্যকে সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তেহরানের রাজনৈতিক অবস্থানের স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

পোস্টের সঙ্গে তিনি একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) অংশও সংযুক্ত করেন। সেখানে ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়টি উল্লেখ ছিল। বিশেষভাবে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে’ এই বাক্যটি হাইলাইট করা হয়, যা হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে ইরানের অবস্থানকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং ওই কৌশলগত জলপথের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের মতবিরোধই সাম্প্রতিক সংঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এখানকার যেকোনো সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারেও তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহে টানা তৃতীয়বারের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে রাতভর সামরিক অভিযান চালিয়েছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। হামলায় সামরিক অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে, মার্কিন হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একযোগে হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব অভিযান তাদের প্রতিরক্ষামূলক কৌশলের অংশ এবং দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

-রফিক


মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধাবস্থার মাঝেই ওমানে মুখোমুখি হচ্ছে আমেরিকা ও ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ১৮:৩৪:২২
মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধাবস্থার মাঝেই ওমানে মুখোমুখি হচ্ছে আমেরিকা ও ইরান
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধাবস্থা ও তীব্র সামরিক উত্তেজনার পারদ কিছুটা নামিয়ে আনতে অত্যন্ত আকস্মিকভাবে কূটনৈতিক আলোচনার পথ বেছে নিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ওমানের মাটিতে ইরানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য মার্কিন প্রশাসনের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ও কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন।

মার্কিন শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিবিএস-এর নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই স্পর্শকাতর আলোচনার জন্য তাঁর একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের হাই-প্রোফাইল প্রতিনিধি দল গঠন করেছেন। এই বিশেষ দলের নেতৃত্বে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনার, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবিলম্বে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের সাথে কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার (১১ জুলাই) ওমানের রাজধানী মাস্কাটে এই অত্যন্ত গোপন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে ওয়াশিংটনের এই আকস্মিক উদ্যোগের সমান্তরালে তেহরানও তাদের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা (IRNA) এক বিশেষ বুলেটিনে জানিয়েছে, ওমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর বর্তমান বিপজ্জনক পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে জরুরি আলোচনার উদ্দেশ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আজ ওমান সফরে যাচ্ছেন।

তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ওমান সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আড়ালে মূলত মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পর্দার অন্তরালে সরাসরি সংলাপে বসাই এই সফরের মূল লক্ষ্য। মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীর ওপর একক নিয়ন্ত্রণই এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মূল ও প্রধান এজেন্ডা।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইরানের বিরুদ্ধে একযোগে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল জুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা ও যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। ওই ঐতিহাসিক ও বিধ্বংসী বিমান হামলায় ইরানের তত্কালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হন, যা দুই পক্ষকে সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে দাঁড় করিয়ে দেয়।

পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি যুগান্তকারী সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়, যার অধীনে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সাময়িক যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে সেই সময় দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকদের মধ্যে সফল ও ফলপ্রসূ আলোচনাও সম্পন্ন হয়।

তবে সেই বহুল কাঙ্ক্ষিত শান্তি প্রক্রিয়া বিশ্বমঞ্চে বেশিদিন স্থায়ী হতে পারেনি। গত ৮ জুলাই রাতে হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার দায় ও চুক্তি লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে ওপার থেকে আকস্মিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণা দেন এবং পুনরায় ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় মার্কিন বিমানবাহিনী।

এর চরম জবাবে হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি ইরানও; তারা জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও কমান্ড সেন্টারগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এমন এক চরম ও ভয়াবহ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই আজ ওমানের মাটিতে ফের মুখোমুখি কূটনৈতিক টেবিলে বসতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই শীর্ষ প্রতিনিধিরা। রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে এই বৈঠক কোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি করতে পারবে কিনা, এখন সেদিকেই গভীর আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে সমগ্র বিশ্ববাসী।

সূত্র: সিবিএস


ট্রাম্পের হুমকি, ‘ইরানকে নিশ্চিহ্ন করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র’

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ১১:৫৮:৪১
ট্রাম্পের হুমকি, ‘ইরানকে নিশ্চিহ্ন করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র’
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানকে ঘিরে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, যদি তার বিরুদ্ধে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের গুপ্তহত্যার চেষ্টা করা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এমন সামরিক জবাব দেবে যা দেশটির জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। একই সময়ে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, কোনো চাপ বা সামরিক হুমকির মুখে তেহরান আত্মসমর্পণ করবে না।

শনিবার (১১ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তার নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কোনো হামলা বা হত্যাচেষ্টা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র পূর্বনির্ধারিত সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানকে লক্ষ্য করে বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে ধারাবাহিকভাবে আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই নির্দেশ এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে এবং প্রয়োজন হলে এর মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজন দেখা দিলে ইরানের যেকোনো অংশে বৃহৎ পরিসরের সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা রাখে।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আবারও টানাপোড়েনের মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সামরিক উপস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের এমন কঠোর ভাষার বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং দেশটির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরান কখনোই কোনো বিদেশি শক্তির কাছে নতি স্বীকার করবে না এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় দেশটি সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।

গালিবাফ বলেন, তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই সম্ভাব্য সব ধরনের সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি ধরে রেখেছে। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো সমঝোতা থেকে সরে দাঁড়ায় কিংবা নতুন করে আগ্রাসী অবস্থান নেয়, তাহলে ইরান আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সংঘাতের অবসান অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইরানের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে কখনোই শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না। বরং পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতেই টেকসই সমাধান সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, সামরিক প্রস্তুতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনার পথ সংকুচিত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সামুদ্রিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও পড়তে পারে।

-রফিক


যুদ্ধ নাকি কূটনীতি? ইরান-মার্কিন চরম উত্তেজনার মাঝে তেহরানে কাতার, টেবিলে কঠিন শর্ত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ১০:৫২:৪৯
যুদ্ধ নাকি কূটনীতি? ইরান-মার্কিন চরম উত্তেজনার মাঝে তেহরানে কাতার, টেবিলে কঠিন শর্ত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাসে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন করে জোরদার হয়েছে। থমকে যাওয়া দ্বিপাক্ষিক আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছে। কাতারের এই দলটি ইরানি নীতিনির্ধারক ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে ওয়াশিংটনের সাথে একটি বৃহত্তর ও ফলপ্রসূ আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা। তবে এই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যেই আমেরিকার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং সদিচ্ছা নিয়ে গভীর সংশয় ও চরম অবিশ্বাস প্রকাশ করেছে তেহরান। বিশেষ করে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পূর্বে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নে ওয়াশিংটনের আন্তরিকতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন ইরানি কর্মকর্তারা।

তেহরানের এই অনীহা ও গভীর সংশয়ের পেছনে রয়েছে অতি সাম্প্রতিক কিছু নজিরবিহীন সামরিক ও রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ। সম্প্রতি ইরানের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশে আকস্মিক ও ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় মার্কিন বিমানবাহিনী। এই হামলায় ইরানের বেশ কিছু কৌশলগত সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহু ইরানি নাগরিক হতাহত হন। এই রক্তক্ষয়ী সামরিক আগ্রাসনের পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া সেই সমঝোতা স্মারকটি সম্পূর্ণ বাতিলের ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের এই আকস্মিক ও একমুখী পদক্ষেপের ফলেই ওয়াশিংটনের ওপর থেকে তেহরান সম্পূর্ণ আস্থা হারিয়েছে, যার ফলে কাতারের মধ্যস্থতা মিশন এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

মার্কিন বিমান হামলা ও চুক্তি বাতিলের জবাবে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং দেশটির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক বিশেষ বিবৃতিতে ওয়াশিংটনকে কড়া হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, মার্কিন চাপ বা যেকোনো ধরনের জবরদস্তিমূলক কূটনীতির কাছে ইরান কখনই মাথা নত বা আত্মসমর্পণ করবে না। উল্টো পরিস্থিতি যদি আরও অবনতির দিকে যায়, তবে দেশ রক্ষায় ইরান এখন ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের’ (Full-scale war) জন্য সামরিক ও মানসিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা বারবার জোর দিয়ে বলছেন যে, কোনো ধরনের হুমকি বা ব্ল্যাকমেইলের মুখে তারা আলোচনার টেবিলে বসবেন না।

বর্তমান অচলাবস্থা কাটিয়ে ওয়াশিংটনের সাথে পুনরায় আলোচনা শুরু করার জন্য তেহরান অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং কঠোর কিছু শর্তারোপ করেছে। ইরান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, যেকোনো আলোচনার পূর্বে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই পূর্বে বাতিলকৃত সমঝোতা স্মারকের মূল ধারাগুলো অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে। এই শর্তগুলোর মধ্যে প্রধান শর্ত হলো—সমঝোতা স্মারকের ১ নম্বর ধারা অনুযায়ী লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা। এর পাশাপাশি ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ ব্যবস্থাপনায় ইরানের সার্বভৌম অধিকারকে পূর্ণ স্বীকৃতি দিতে হবে এবং ১০ নম্বর ধারা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল রপ্তানির বৈধ ও অবাধ অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই মৌলিক শর্তগুলো পূরণ না হলে আমেরিকার সাথে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতা সম্ভব নয়।

পাঠকের মতামত: