ইরানের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা ধ্বংসের দাবি নেতানিয়াহুর

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক চাঞ্চল্যকর দাবিতে জানিয়েছেন যে, ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের সবচেয়ে বড় পেট্রোকেমিক্যাল কারখানাটি সফলভাবে ধ্বংস করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ইরান সরকারের আয়ের প্রধান উৎসগুলো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। নেতানিয়াহুর মতে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অর্থের উৎসগুলো পরিকল্পিতভাবে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।
একই সময়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইরানের দুটি বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। আইডিএফের দাবি অনুযায়ী, এই ধ্বংসাত্মক অভিযানের ফলে ইরানের সামগ্রিক পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ৮৫ শতাংশেরও বেশি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এটি ইরানের অর্থনীতির জন্য এক বিশাল ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইডিএফ আরও দাবি করেছে যে, ইরানের আসালুয়ে এলাকায় অবস্থিত একটি নির্দিষ্ট স্থাপনা দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান তৈরির মূল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ওই স্থাপনাটি ধ্বংস করার মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে বলে মনে করছে ইসরায়েল।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে এখনো এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তেলের বাজার এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে এই হামলার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র : বিবিসি
সংজ্ঞাহীন অবস্থায় মোজতবা খামেনি? ৩৯ দিন পর চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস
ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গন ও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অতর্কিত হামলায় দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নিলেও দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে রয়েছেন। এবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'টাইমস'-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি বর্তমানে অচেতন বা সংজ্ঞাহীন অবস্থায় কোম শহরে চিকিৎসাধীন আছেন।
কূটনৈতিক মেমোর বরাতে ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, মোজতবা খামেনি মূলত ২৮ ফেব্রুয়ারির সেই ভয়াবহ হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই সঙ্কটাপন্ন যে, তিনি ইরান সরকারের কোনো নীতিনির্ধারণী বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছেন না। এই প্রথমবারের মতো তাঁর সঠিক অবস্থান এবং শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ পেল। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই স্পর্শকাতর নথিটি ইতিমধ্যে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে।
এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সর্বাত্মক যুদ্ধ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) টানা ৩৯ দিনে পা রাখল। দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই লড়াইয়ে ইরানে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। দেশটির নতুন নেতৃত্ব সংকটের মুখে থাকায় প্রশাসনিক স্তরেও চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। যুদ্ধের ৩৯তম দিনে এসেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, বরং পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে।
মোজতবা খামেনির এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং তাঁর অসুস্থতার খবর ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা কাঠামোতে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করতে পারে। যদি টাইমস-এর এই রিপোর্ট সত্য হয়, তবে ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং চলমান যুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ইরান সরকারের পক্ষ থেকে মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
/আশিক
কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য: বাহরাইনে বাজছে বিপদের সাইরেন, নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে মানুষ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাহরাইনে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির সরকার সাধারণ নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন করে হামলার আশঙ্কায় পুরো দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক জরুরি বার্তায় নাগরিকদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে বা আন্ডারগ্রাউন্ড শেল্টারে অবস্থান নিতে বলা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং পাল্টাপাল্টি হামলার আশঙ্কায় বাহরাইন সরকার এই আগাম নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
এদিকে, ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তারা ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ৯৮তম ধাপের আওতায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তারা কুয়েতের আল-আদিরি ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের হেলিকপ্টার অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া ইরাকের বাগদাদ ও উত্তরাঞ্চলীয় এলাকায় ইরানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর পাঁচটি অবস্থানে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসির প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি ইসরায়েলি মালিকানাধীন ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রে এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরে তেল আবিব, হাইফা, বেয়ার শেবা ও পেতাহ টিকভার সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে তারা আঘাত হেনেছে। নৌবাহিনীর অভিযানে একটি ইসরায়েলি কনটেইনার জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পাশাপাশি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ 'ইউএসএস ট্রিপোলি'কে পিছু হটতে বাধ্য করার দাবিও করেছে তেহরান। অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে যে তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইসফাহান ও লোরেস্তান অঞ্চলে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোনসহ একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে পুরো অঞ্চলে এখন যুদ্ধের দামামা বাজছে।
/আশিক
হাইফায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে লণ্ডভণ্ড ইসরায়েল
ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহর হাইফাতে ইরানের শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি বহুতল আবাসিক ভবন পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই ভয়াবহ হামলায় ভবনের নিচে চাপা পড়ে চারজন প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল। সোমবার (৬ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধারকারী দল চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং এই এলাকার অন্য একটি হামলায় আরও চারজন গুরুত্বর আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকারী সংস্থা সোমবার ভোরের দিকে জানিয়েছে, হোম ফ্রন্ট কমান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানের পর নিখোঁজ চার ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে দুই জন ৮০ বছর বয়সী প্রবীণ দম্পতি রয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া বাকি দুটি মরদেহের মধ্যে একজন ৪০ বছর বয়সী ব্যক্তি এবং অন্যজন ৩৫ বছর বয়সী এক নারী। ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর শেষ মরদেহটি উদ্ধার করা হয়, যা এই ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতাকেই ফুটিয়ে তুলছে।
এর আগে রোববার গভীর রাতে উদ্ধারকারীরা জানিয়েছিলেন যে, ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে ভবনটি ধসে পড়ার গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে এবং অন্তত চারজন বাসিন্দা নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চলাকালীন ভবনটির আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত নিহতদের নাম বা বিস্তারিত পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি স্থানীয় প্রশাসন। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভবনটি কেবল ধ্বংসই হয়নি, বরং আশপাশের অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাতের জেরে হাইফা শহরের সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইরানের এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় এমন সরাসরি আঘাত বেসামরিক নাগরিকদের জীবনকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। উদ্ধারকারী দল তাদের কাজ শেষ করলেও পুরো এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ এখনও চলছে।
/আশিক
সিসিটিভি ফুটেজে ফাঁস: ইসরায়েলের পারমাণবিক নকশা কি ইরানের হাতে?
ইসরায়েলের অত্যন্ত গোপনীয় ও স্পর্শকাতর সামরিক স্থাপনা 'ডিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্র'-এর মানচিত্র বা ম্যাপ ইরানের মুজতবা খামেনির সামনে প্রদর্শিত হওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজের মতো দেখতে ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মুজতবা খামেনি হেঁটে যাচ্ছেন এবং তাঁর সামনের পর্দায় ইসরায়েলের এই পারমাণবিক কেন্দ্রের বিস্তারিত মানচিত্র ভেসে উঠছে। এই ঘটনাটি ইরান ও ইসরায়েলের চলমান ছায়া যুদ্ধ ও গোয়েন্দা তৎপরতার এক নতুন এবং বিপজ্জনক দিক উন্মোচন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত এই ডিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্রটি ১৯৬২ থেকে ১৯৬৪ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়, যার বর্তমান নাম ‘শিমন পেরেজ নেগেভ নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টার’। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র ও উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, এই কেন্দ্রে মূলত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা হয় এবং ধারণা করা হয় যে এখানে ৮০ থেকে ৪০০টি পারমাণবিক বোমা অত্যন্ত গোপন কোনো স্থানে সংরক্ষিত আছে। তবে এই বিশাল স্থাপনাটিতে বেসামরিক ব্যবহারের জন্য কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় না, যা এর সামরিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মুজতবা খামেনির সামনে এই মানচিত্রের প্রদর্শনী মূলত ইরানের উন্নত গোয়েন্দা নজরদারি এবং নিখুঁত লক্ষ্য নির্ধারণের সক্ষমতাকেই বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে। এর মাধ্যমে তেহরান এই বার্তাই দিতে চেয়েছে যে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের যেকোনো অতি-সংবেদনশীল সামরিক বা কৌশলগত স্থাপনায় আঘাত হানার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই ম্যাপ প্রদর্শনের পর মুজতবা খামেনি যেকোনো সময় ডিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্রে বড় ধরনের হামলার অনুমোদন দিতে পারেন।
ইসরায়েলের মতো নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থাকা একটি দেশের এমন গোপন স্থাপনার নকশা ইরানের হাতে পৌঁছে যাওয়া দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের ছিদ্র বা দুর্বলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁসের ফলে ইসরায়েলের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার যেকোনো প্রচেষ্টা কেবল দুই দেশের জন্যই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের পরিবেশ ও নিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, উইকিপিডিয়া
হরমুজ সংকট নিরসনে একটি শর্ত দিল ইরান
ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যকার উত্তেজনা এক নতুন মোড় নিয়েছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, চলমান যুদ্ধের ফলে তাদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না। রবিবার (৫ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের যোগাযোগ বিষয়ক উপ-প্রধান সাইয়্যেদ মেহদি তাবাতাবেয়ী এই কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ট্রানজিট ফি বা যাতায়াত মাশুলের ওপর ভিত্তি করে একটি ‘নতুন আইনি কাঠামো’র মাধ্যমে এই ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করতে হবে।
একই সাথে তাবাতাবেয়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির কড়া সমালোচনা করেছেন। হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তাকে ‘চরম হতাশা ও ক্ষোভ’ থেকে উদ্ভূত ‘আজেবাজে কথা’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। ইরানের দাবি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক এই জলপথটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন কোনো অর্থনৈতিক ও আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ তুলে নেওয়া হবে না।
এদিকে, ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে নিজের মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ অত্যন্ত আপত্তিকর ও বিব্রতকর শব্দ ব্যবহার করে একটি পোস্ট দিয়ে খোদ নিজ দেশেই তোপের মুখে পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে এই মন্তব্য নিয়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। বিরোধী শিবিরের প্রভাবশালী সিনেটররা ট্রাম্পের এই মানসিক অবস্থাকে বিপজ্জনক বলে আখ্যা দিয়েছেন। মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এক বার্তায় ট্রাম্পকে ‘মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন’ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, যুদ্ধের এক মাস পার হওয়ার পর ইস্টার সানডের দিনে প্রেসিডেন্টের এমন প্রলাপ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি এই যুদ্ধ বন্ধে কংগ্রেসকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
আরেক ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি ট্রাম্পের এই আচরণকে ‘সম্পূর্ণ উন্মাদনা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার সদস্য হলে তিনি এই মুহূর্তে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে প্রেসিডেন্টকে অপসারণের বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করতেন। মারফির মতে, ট্রাম্পের নেওয়া সিদ্ধান্তের কারণে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে আরও বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। দুই দেশের এই অনড় অবস্থান এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সূত্র: দ্য ডন, দ্য ডেইলি সাবাহ
তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা, লক্ষ্যবস্তু বিশ্ববিদ্যালয়
ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে সোমবার (৬ এপ্রিল) ভোররাত থেকে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী। বিবিসি ফার্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের হামলায় সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি তেহরানের স্বনামধন্য শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর সংলগ্ন একটি গ্যাস স্টেশনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হামলার পর তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় আকাশ প্রচণ্ড ধোঁয়ায় ছেয়ে যেতে দেখা গেছে।
তেহরানের ৯ নম্বর জেলা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গ্যাস স্টেশনে আঘাত হানার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো শরিফ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরকার ইনফরমেশন টেকনোলজি সেন্টার ভবন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদও এই হামলার হাত থেকে রক্ষা পায়নি। উল্লেখ্য, বর্তমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ইরানের বেশ কয়েকটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধারাবাহিকভাবে হামলার শিকার হচ্ছে।
রাজধানীর বাইরেও ইরানের অন্যান্য শহরে বড় ধরনের সামরিক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। ভাহিদ অনলাইনের তথ্যমতে, রাত ১টার দিকে বোরোজের্দ শহরের ওপর দিয়ে নিচু উচ্চতায় বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিমান উড়ে যেতে দেখা গেছে, যা সাধারণ সময়ের তুলনায় অন্তত পাঁচ গুণ বেশি ছিল। এছাড়া সোমবার সকালে শিরাজ ও কওম শহরেও শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। কওম প্রদেশের নিরাপত্তা পরিচালক জানিয়েছেন, শহরের একটি আবাসিক এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে। উদ্ধারকাজে বিঘ্ন না ঘটাতে তিনি সাধারণ মানুষকে দুর্ঘটনাস্থলে ভিড় না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আলোচনার জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি হুঙ্কার দিয়েছেন যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চুক্তিতে না এলে ইরানের সবকিছু গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
যদিও ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তেহরানের সাথে আলোচনা চলছে এবং সোমবারের মধ্যেই একটি রফা হতে পারে, তবে ইরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের কোনো ধরনের আলোচনা বা যোগাযোগ হচ্ছে না।
/আশিক
যৌথ হামলায় নিহত ইরানি শীর্ষ কমান্ডার: উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের একজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। নিহত এই কর্মকর্তার নাম ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসউদ জারেই। ইরানের বার্তা সংস্থা মেহেরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেনারেল জারেই শাহিন শহরে অবস্থিত দেশটির সেনাবাহিনীর এয়ার ডিফেন্স কলেজের প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তাঁর মৃত্যু ইরানের সামরিক কাঠামোর জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ হামলা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত নাজুক করে তুলেছে। এই ধারাবাহিক অভিযানে এ পর্যন্ত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দুই হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ব্যাপক প্রাণহানি ও হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই হামলার পাল্টা জবাব দিতে ইরানও ব্যাপক সামরিক তৎপরতা শুরু করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েল ছাড়াও জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে মূলত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইরানের এই শক্ত অবস্থানের ফলে ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা বিদেশি সেনাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সামরিক অভিযানের পাশাপাশি ইরান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ তৈরির কৌশলও গ্রহণ করেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তেহরান। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু
চিরতরে বদলে গেল হরমুজ প্রণালি! ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বন্ধ হচ্ছে পথ?
ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী কমান্ড রোববার (৫ এপ্রিল ২০২৬) এক কঠোর বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য হরমুজ প্রণালি আর কখনও আগের অবস্থায় ফিরবে না। আইআরজিসি জানায়, কৌশলগত কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং বিদেশি আধিপত্যের যুগ এখন শেষ।
ইরান একটি নতুন ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ গড়ে তুলছে, যেখানে উপসাগরীয় দেশগুলোই পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এই অনড় অবস্থানের মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন। এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান চুক্তিতে না এলে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে আরও স্পষ্ট করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আগামী মঙ্গলবার ইরানে ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে’ এবং ‘ব্রিজ ডে’ (বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের দিন) হবে। তিনি মঙ্গলবার পূর্ব উপকূলীয় সময় রাত ৮টায় একযোগে এসব হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে মার্কিন আল্টিমেটাম ও হুমকির মুখেও দমে যায়নি ইরান।
বৈশ্বিক তেল ও জ্বালানি পরিবহনের এই লাইফলাইনটিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পাশাপাশি তারা এখন এই প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর ‘ট্রানজিট ফি’ বা যাতায়াত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে। ইরান ও আমেরিকার এই মুখোমুখি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
/আশিক
এক রণাঙ্গনে লড়াই, তিন রণাঙ্গনে জয়! শহীদ ইমামের কালজয়ী সংগ্রামের মহাকাব্য
শহীদ ইমাম মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের রণাঙ্গনে এক নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন এবং একটি রণাঙ্গনে লড়াই করে তিনি অন্য দুটি রণাঙ্গনেও বিজয়ী হয়েছেন। তাসনিম নিউজ এজেন্সির ‘ইমাম ও নেতৃত্ব’ গ্রুপের লেখক মেহেদী খোদাইয়ের এক বিশেষ প্রতিবেদনে আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনেয়ীর শাহাদাত পরবর্তী স্মৃতি ও তাঁর জীবনের সাফল্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। লেখক উল্লেখ করেছেন যে, এই শহীদ নেতা তাঁর দেখা সবচেয়ে সফল ব্যক্তি।
তাঁর জীবন, ব্যক্তিগত ও সামাজিক চরিত্রের দিকে তাকালে সাফল্যের তালিকাটি দীর্ঘ হবে, তবে তাঁর নেতৃত্বকালে যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে এটি বলা যায় যে, তিনি এক রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে তিন রণাঙ্গনে জয়ী হয়েছেন। শহীদ ইমামের বিপ্লবী সংগ্রামে তিনটি সমন্বিত ও আন্তঃসংযুক্ত রণাঙ্গন অন্তর্ভুক্ত ছিল: আত্ম-অহংকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম (শিরক ও আল্লাহর উপাসনার রণাঙ্গন), ইরানের অভ্যন্তরীণ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের রণাঙ্গন এবং বৈশ্বিক ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামের রণাঙ্গন। এই তিনটিই মূলত ‘মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের সংগ্রামের’ অন্তর্ভুক্ত।
প্রথম পর্যায়: আত্মসংগ্রাম, বহুঈশ্বরবাদ বর্জন এবং আল্লাহর বন্দেগি
হাজ্জ কাসিম রফিক খোসবাখতের উক্তি অনুযায়ী, যিনি শহীদের জীবনযাপন করেন, তিনিই শহীদ হন। আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী আজীবন শহীদের জীবনযাপন করেছেন। তাঁর জীবনের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল শিরক বর্জন এবং আল্লাহর ইবাদতের পথে আত্মার সাথে অবিরাম সংগ্রাম। একেশ্বরবাদ ছিল তাঁর ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দু।
তিনি কঠোর সংযম ও সরলতার সর্বোচ্চ শিখরে জীবনযাপন করেছেন। তিনি কখনো কোনো পদ বা পদমর্যাদা খোঁজেননি, বরং দায়িত্বই তাঁর পিছু নিয়েছে। ইমাম খোমেইনি (রহ.)-এর মৃত্যুর পর শাসনব্যবস্থার নেতৃত্ব গ্রহণে তাঁর অনিচ্ছা থাকলেও বিশেষজ্ঞদের অনুরোধে ধর্মীয় ও বিপ্লবী কর্তব্যের খাতিরে তিনি তা গ্রহণ করেন। বর্তমানে তাঁর ন্যায়পরায়ণ উত্তরাধিকারী হিসেবে বিশেষজ্ঞরা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা হোসেইনি খামেনেয়ীকে মনোনীত করেছেন।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় ফ্রন্ট: অভ্যন্তরীণ স্বৈরাচার ও বৈশ্বিক ঔদ্ধত্যের সঙ্গে যুগপৎ সংগ্রাম
শহীদ ইমাম ১৯৬২ সাল থেকে অভ্যন্তরীণ স্বৈরাচার ও বৈশ্বিক ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম শুরু করেছিলেন, ১৯৮৯ সালে দ্বিতীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও তা অব্যাহত রাখেন। তাঁর নেতৃত্বে প্রজাতন্ত্র ও গণতন্ত্র রক্ষার মাধ্যমে দেশে পুনরায় স্বৈরাচারের ফেরার পথ রুদ্ধ হয়।
বিশেষ করে ১৩৭৬ ও ১৩৮৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি জনগণের ভোট ও নির্বাচনের ফলাফল রক্ষা করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তিনি জনগণের ভোটের অভিভাবক হিসেবে কাজ করেছেন এবং জনগণের অবস্থানকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন। তাঁর দৃষ্টিতে জনগণই ছিল দেশের নেতা ও ঐশ্বরিক নিদর্শন। এটি পাহলভী শাহদের মতো ক্ষমতালোভী স্বৈরশাসকদের সম্পূর্ণ বিপরীত, যারা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে নিজের দেশের মানুষকে হত্যা করতে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সহায়তা নিয়েছিল।
বৈশ্বিক ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে বিজয় ও বর্তমান পরিস্থিতি
অঞ্চল ও বিশ্বের সমসাময়িক ইতিহাস দেখিয়েছে যে, অধিকাংশ স্বৈরাচারী সরকারই ঔদ্ধত্যপূর্ণ শক্তিগুলোর ওপর নির্ভরশীল। ইমাম খোমেইনী (রহ.) যেমন আমেরিকান প্রভু ও পুতুল পাহলভী শাসকদের বিতাড়িত করেছিলেন, শহীদ ইমাম সেই অর্জনকে রক্ষা করতে জনগণকে সচেতন ও অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন করে তুলেছিলেন।
তিনি একদিকে বিশাল সামাজিক শক্তি তৈরি করেছেন এবং অন্যদিকে বৈজ্ঞানিক আন্দোলন ও সশস্ত্র বাহিনীকে সুসজ্জিত করেছেন। শত্রুদের কঠোর নিষেধাজ্ঞা, অন্তর্ঘাত এবং বিজ্ঞানীদের গুপ্তহত্যার ৪৭ বছরের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আজ ইসলামী ইরান পশ্চিম এশীয় অঞ্চল থেকে আমেরিকাকে বিতাড়িত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
শহীদ ইমাম আল্লাহর ওপর ভরসা করে মিথ্যার বিরুদ্ধে এক যুদ্ধে তিনবার জয়ী হয়েছেন: প্রথমবার আত্মার কামনা-বাসনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যা তাঁকে শাহাদাতের যোগ্য করেছে, দ্বিতীয়বার অভ্যন্তরীণ স্বৈরাচার খণ্ডন ও বিতাড়নের ময়দানে এবং তৃতীয়বার পশ্চিম এশীয় অঞ্চল থেকে বৈশ্বিক ঔদ্ধত্য বিতাড়নের ময়দানে।
যদিও ১৪০৪ সালটি ইরানি জাতির জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল—কারণ তাদের ওপর দুটি সামরিক ও একটি নিরাপত্তা যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং তারা তাদের প্রিয় নেতাকে হারিয়েছিল—তথাপি আমেরিকা ও ইসরায়েলকে নতজানু করা এবং এই অঞ্চল থেকে তাদের বিতাড়িত করা হবে বছরের পর বছরের সংগ্রামের সেই পুরস্কার যা মহান আল্লাহ তাদের প্রদান করবেন।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি
পাঠকের মতামত:
- ইরানের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা ধ্বংসের দাবি নেতানিয়াহুর
- ভ্যাকসিন কিনতে খরচ ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে ইরানের থাবা, ১৫ মার্কিন সেনা আহত
- মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা: নীরবতার বদলে জবাবদিহি দরকার
- কৌশলগতভাবে তেহরানের কাছে পরাজিত ট্রাম্প: ইরান
- আজকের টাকার রেট: ডলার ও ইউরোর সর্বশেষ বিনিময় হার জানুন
- গীতি কবিতায় বিশেষ অবদান রাখায় সম্মাননা পেলেন সিরাজিয়া পারভেজ টুটুল
- সংজ্ঞাহীন অবস্থায় মোজতবা খামেনি? ৩৯ দিন পর চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস
- ভোর ৫টার ঝটিকা অভিযান: ধানমন্ডি থেকে যেভাবে ধরা পড়লেন শিরীন শারমিন
- কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য: বাহরাইনে বাজছে বিপদের সাইরেন, নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে মানুষ
- সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সংসদ: ডাবল শিফট অধিবেশনে ১৩৩ বিলের লড়াই
- মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে
- সোনার বাজারে আগুন, ভরি ছাড়াল যত
- এক রাতের মধ্যেই ইরানকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার হুমকি ট্রাম্পের
- আজ ঢাকায় কোথায় কী কর্মসূচি, জানুন এক নজরে
- নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, সময় মেনে ইবাদত করুন
- এক রাতে তিন বড় ম্যাচ, টিভিতে আজকের যত খেলা
- ঢাকাসহ ১৩ জেলায় ঝড়ের সতর্কবার্তা
- ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন সূচনা, ভারত সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
- ইরানের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় এশিয়ার দেশগুলো
- গভীর রাতে সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিন আটক
- চার ঘণ্টায় ইরান অচল করার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
- কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা, আহত ১৫ মার্কিন সেনা
- টঙ্গীর মিলগেট বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ও তেলের বাজার: নতুন অর্থনৈতিক সংকটের মুখে বিশ্ব
- চাঁদের ‘অন্ধকার অংশ’ দেখতে যাচ্ছে মানুষ: ৫০ বছর পর প্রথম রোমাঞ্চকর যাত্রা
- মঙ্গলবার সকালে বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- হাইফায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে লণ্ডভণ্ড ইসরায়েল
- সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, স্থায়ী সমাধান চাই: যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত জানাল ইরান
- তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর নতুন মোড়: ৩ জনের ডিএনএ টেস্টের নির্দেশ
- সংস্কার থেকে সরে এলে আবারও চব্বিশ হবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ
- পর্দার আড়ালে কী ঘটেছিল? এপস্টেইন নথিতে জিজি হাদিদের নাম
- লালমাইতে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে ছাই ৩ বসতঘর
- নর্দমা থেকে ফ্যাসিবাদ তুলে আনার চেষ্টা রুখে দেবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান
- সিসিটিভি ফুটেজে ফাঁস: ইসরায়েলের পারমাণবিক নকশা কি ইরানের হাতে?
- হরমুজ সংকট নিরসনে একটি শর্ত দিল ইরান
- খেলাপি ঋণের পাহাড়: সাড়ে ৫ লাখ কোটির তথ্য দিলেন আমির খসরু
- একনেকের প্রথম বৈঠক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ৬ প্রকল্প অনুমোদন
- সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশনের ঈদ পুনর্মিলনী ও কৃতী শিক্ষার্থী সম্মাননা অনুষ্ঠিত
- আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- আজকের শেয়ারবাজারে কারা সবচেয়ে বেশি লোকসানে
- আজকের বাজারে কারা এগিয়ে, দেখুন শীর্ষ তালিকা
- যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানের দুই ধাপের পরিকল্পনা, কী আছে এতে
- ১৮ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে হাহাকার, লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত
- সতর্ক হোন! ডায়াবেটিসের এই লক্ষণগুলো অবহেলা করলে বাড়ছে বড় ঝুঁকি
- ফুটবল বিশ্বকে চমকে দেওয়া আল্টিমেটাম: বিশ্বকাপে কি দেখা যাবে না ইরানকে?
- মধ্যপ্রাচ্যে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব: শান্তির পথে কি হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান?
- হুমকির শেষে আল্লাহর নাম: ট্রাম্পের বিতর্কিত পোস্ট ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
- তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা, লক্ষ্যবস্তু বিশ্ববিদ্যালয়
- যৌথ হামলায় নিহত ইরানি শীর্ষ কমান্ডার: উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য
- সোনায় সোহাগা নয়, আগুনের ছোঁয়া! ভরিতে নতুন রেকর্ড উচ্চতা
- ভারতের বিপক্ষে মহাযুদ্ধ! কাল সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের মেগা ফাইনাল
- স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ভরিতে বেড়েছে যত
- ৩১ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ইরানের পক্ষে লড়বে চেচেন যোদ্ধারা! কাদিরভ বাহিনীর ‘জিহাদ’ ঘোষণা
- কালিগঞ্জে কাটুনিয়া রাজবাড়ী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াহাব চূড়ান্ত বরখাস্ত
- চীনের ৫ দফা প্রস্তাব! ইরান যুদ্ধ থামাতে বেইজিং-ইসলামাবাদ ঐতিহাসিক চুক্তি
- এক লাফে ভরিতে বাড়ল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা: স্বর্ণের বাজারে আগুন
- আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- শেষ ৪ মিনিটের ঝড়ে উড়ে গেল ক্রোয়েশিয়া! ব্রাজিলের বিধ্বংসী জয়
- ০১ এপ্রিল ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ০১ এপ্রিল ডিএসই: দরপতনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি
- মার্কেট বন্ধের নতুন সময়সূচি! আন্তর্জাতিক সংকটে দেশের বাজারে নতুন নিয়ম
- নতুন নিয়মে সন্ধ্যার পর যেসব বিপণিবিতান খোলা থাকবে
- ৩ এপ্রিল: আজকের নামাজের সময়সূচি








