সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ কেন হলো না? রহস্য ভেদ করলেন চিফ হুইপ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১১ ১৬:১৪:১১
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ কেন হলো না? রহস্য ভেদ করলেন চিফ হুইপ
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করেছে বিএনপির সংসদীয় দল। বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সংসদ ভবনে সংসদ নেতার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চিফ হুইপ জানান, প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল সংসদ উপনেতা এবং স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার পদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। সংসদীয় সভায় প্রধানমন্ত্রী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংসদে আচরণ এবং কার্যপ্রণালী বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। যেহেতু বর্তমানে স্পিকারের পদ শূন্য, তাই কালকের অধিবেশন শুরু হবে খালি চেয়ার দিয়ে এবং জ্যেষ্ঠ কোনো নেতার সভাপতিত্বে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের পদ দেওয়ার প্রস্তাব প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী উদারতা দেখিয়ে এই প্রস্তাবটি দিয়েছিলেন, তবে এখন পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। যদি সাড়া পাওয়া যায়, তবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামীকালকের অধিবেশনে আইনমন্ত্রী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করবেন।

এই অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সব দলের সদস্যদের নিয়ে একটি ‘বিশেষ কমিটি’ গঠন করা হবে, যারা নির্ধারণ করবেন কোন অধ্যাদেশগুলো বহাল থাকবে এবং কোনগুলো বাতিল হবে। এছাড়া প্রথম দিনের বৈঠকেই কার্য উপদেষ্টা, প্রিভিলেজ কমিটি এবং হাউস কমিটি গঠন করা হবে।

অধিবেশনের শুরুতে রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করা হবে যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের ত্যাগ নিয়ে আলোচনা করা হবে। জুলাই জাতীয় সনদে উল্লিখিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ প্রসঙ্গে চিফ হুইপ পরিষ্কার করেছেন যে, বর্তমানে সংবিধানে এর অন্তর্ভুক্ত না থাকায় তারা শপথ নেননি, তবে ভবিষ্যতে সংবিধানে যুক্ত হওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

চিফ হুইপ তাঁর লিখিত বক্তব্যে মানুষের ভোটের ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্র সুসংহত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সংসদ হবে একটি কার্যকর ও প্রাণবন্ত প্রতিষ্ঠান যেখানে গঠনমূলক আলোচনা ও সুস্থ বিতর্কের পরিবেশ বজায় থাকবে। দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য দূর করাই এই সরকারের প্রধান অঙ্গীকার বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।

/আশিক


কোনো ফ্যাসিস্টের দোসর যেন সংসদ কলুষিত না করে: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৬:২০:৫৬
কোনো ফ্যাসিস্টের দোসর যেন সংসদ কলুষিত না করে: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের ওপর আনা শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এক তেজস্বী ও আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে ইঙ্গিত করে স্পিকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন যেন কোনোভাবেই সংসদ কলুষিত না হয়।

নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার মিছিল নিয়ে আমরা এই সংসদকে ফ্যাসিস্টমুক্ত করেছিলাম। আজ হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এখানে বসার সুযোগ পেয়েছি। আপনার (স্পিকার) প্রতি নিবেদন থাকবে, কোনো ফ্যাসিস্ট বা তার দোসর যেন এই মহান সংসদে বক্তব্য দিয়ে সংসদকে কলুষিত করতে না পারে।” তিনি জুলাই গণহত্যার বিচারসহ বিগত সময়ের গুম-খুন, লুটপাট এবং শরীফ ওসমান হাদী হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে পিলখানা, শাপলা চত্বর, আবরার ফাহাদ এবং সীমান্তে নিহত ফেলানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ইয়ামিন এবং শিশু রিয়া গোপসহ নিহত সকল ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার কমিশনের শপথ এবং একটি বৈষম্যহীন, আধিপত্যবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার ডাক দেন।

একই অধিবেশনে স্পিকার যখন রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার অনুরোধ জানান, তখন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে কক্ষ ত্যাগ করে বেরিয়ে যান (ওয়াকআউট করেন)।

/আশিক


চুপ্পুর ভাষণ শুনবে না বিরোধী দল: প্রথম অধিবেশনেই সংসদের উত্তপ্ত চিত্র

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৬:০৬:২২
চুপ্পুর ভাষণ শুনবে না বিরোধী দল: প্রথম অধিবেশনেই সংসদের উত্তপ্ত চিত্র
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সংসদ কক্ষ। সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই এর প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে অধিবেশন শুরু হলে পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই প্রতিবাদ জানায় বিরোধী জোট। রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরুর প্রাক্কালে ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন এবং উচ্চস্বরে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বারবার সংসদ সদস্যদের শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং সংসদীয় রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তবে বিরোধী দলের সদস্যরা তাতে কর্ণপাত না করে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন এবং একপর্যায়ে কক্ষ ত্যাগ করে বেরিয়ে যান।

উল্লেখ্য, জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই বিরোধী জোট বর্তমান রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক বৈধতা এবং তাঁর পদে থাকা নিয়ে আগে থেকেই তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছিল। দলীয় ফোরামে আলোচনার মাধ্যমে তারা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির ভাষণ তারা সংসদে গ্রহণ করবে না। আজকের এই ওয়াকআউটের মাধ্যমে সেই আপত্তিরই চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটল।

/আশিক


‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্পিকারকে বললেন শফিকুর রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৪:৪০:৫২
‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্পিকারকে বললেন শফিকুর রহমান
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দায়িত্ব গ্রহণ করায় তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই শুভেচ্ছা জানান। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে সংসদ পরিচালনায় তাদের সফলতা কামনা করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বর্তমান সংসদ একটি বিশেষ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে গঠিত হয়েছে। তার ভাষায়, “আজকের সংসদ জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়ানো সংসদ।” তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গঠিত এই সংসদ জনগণের প্রত্যাশা বহন করছে এবং দেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ডা. শফিকুর রহমান স্পিকারের প্রতি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সংসদ পরিচালনার ক্ষেত্রে স্পিকারের কাছে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। সংসদে সকল সদস্য যেন সমান সুযোগ পান এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়—এটাই তার প্রত্যাশা।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, দেশের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তিনি সংসদে উপস্থিত তরুণ নেতাদের কথা উল্লেখ করে নিজেকেও সেই ধারার অংশ হিসেবে অভিহিত করেন।

স্পিকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনি একজন লড়াকু মুক্তিযোদ্ধা। আপনি পারবেন।” তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পিকারের নেতৃত্বে সংসদে ন্যায় ও ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

বক্তব্যের শেষাংশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ পরিচালনায় তিনি কেবল ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। বক্তব্য শেষ করার সময় তিনি ইংরেজিতে বলেন, “We want justice.”

-রফিক


খামেনির মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে শোকপ্রস্তাব গৃহীত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৪:৩৪:৩৩
খামেনির মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে শোকপ্রস্তাব গৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ও শিয়া মুসলিমদের অন্যতম প্রভাবশালী ধর্মগুরু আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি হোসেইনী খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তার স্মরণে একটি আনুষ্ঠানিক শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যা পরে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

অধিবেশনের শুরুতেই প্রয়াত এই নেতার কর্মময় জীবন, ধর্মীয় নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের ওপর আলোকপাত করে একটি বিস্তারিত শোকপ্রস্তাব পাঠ করা হয়। এতে বলা হয়, খামেনির মৃত্যুতে বিশ্ব এক প্রভাবশালী ধর্মীয় চিন্তাবিদ, দূরদর্শী নেতা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে।

শোকপ্রস্তাবে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে ইরানের জনগণের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে সংসদ সদস্যরা এই ক্ষতিকে বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

সংসদে উপস্থাপিত শোকপ্রস্তাবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জীবন ও সংগ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, তিনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল ইরানের ঐতিহাসিক শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের জীবন শেষে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ৮৬ বছর বয়সে তিনি শাহাদাৎ বরণ করেন।

তার মৃত্যুর পর ইরানে রাষ্ট্রীয়ভাবে সাত দিনের সরকারি ছুটি এবং চল্লিশ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে বলে শোকপ্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।

শোকপ্রস্তাবে খামেনির শিক্ষাজীবনের কথাও তুলে ধরা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর তিনি ধর্মীয় শিক্ষার জন্য ইরানের কোম এবং ইরাকের নাজাফের বিখ্যাত ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্রে উচ্চতর ধর্মতাত্ত্বিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। এই সময় তিনি ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির সান্নিধ্যে আসেন এবং ধীরে ধীরে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভীর শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে একাধিকবার কারাবরণও করতে হয়। তবে এসব বাধা তার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানের নতুন রাষ্ট্রীয় কাঠামো গঠনে খামেনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বিপ্লব-পরবর্তী সরকারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৮০ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলাকালে তিনি ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করেন। তার নেতৃত্বে এই বাহিনী ধীরে ধীরে ইরানের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে খামেনি নির্বাচিত হন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ইরানের রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় কাঠামোর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ছিলেন এবং দেশটির নীতিনির্ধারণী কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে গৃহীত এই শোকপ্রস্তাবটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভাষান্তর করে ইরানের প্রয়াত নেতার পরিবারের কাছে পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংসদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমবেদনা জানানো হবে।

-রাফসান


সংসদের প্রথম দিনে কূটনীতিক ও বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৪:২৮:৩৭
সংসদের প্রথম দিনে কূটনীতিক ও বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) সকাল ১১টা ৫ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। স্পিকারের চেয়ার আপাতত খালি রেখে অধিবেশন শুরু করা হয়। সংসদের কার্যক্রম শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে পরিবেশকে ধর্মীয় আবহে উদ্বোধন করা হয়।

অধিবেশন শুরুর কিছুক্ষণ পর, বেলা প্রায় সোয়া ১১টার দিকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তব্যের সূচনাতেই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণআন্দোলন ও রাজনৈতিক সংগ্রামে প্রাণ উৎসর্গকারী সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর সংসদ পরিচালনার প্রাথমিক দায়িত্ব পালনের জন্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সরকারি দলের সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার প্রস্তাব দেন সংসদ নেতা তারেক রহমান। তার এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেন সরকারি দলের আরেক সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্রস্তাবের প্রতি বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও সমর্থন জানানো হয়। বিরোধী দলীয় উপনেতা এবং জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরও খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বের প্রস্তাবকে সমর্থন করেন। এতে সংসদের শুরুতেই একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক পরিবেশের ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

প্রথম অধিবেশন উপলক্ষে জাতীয় সংসদ ভবনের চারপাশের দর্শক গ্যালারি এবং স্পিকারের দুই পাশের ভিভিআইপি লাউঞ্জ আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সংসদ সচিবালয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট নাগরিক, কূটনীতিক এবং সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এই ঐতিহাসিক অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

ভিভিআইপি গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন।

স্পিকারের ডান পাশের গ্যালারিতে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। সেখানে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান, তার মা সৈয়দা ইকবাল মান্দবানু, তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান, এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিনী শামিলা রহমান সিঁথি।

এছাড়া সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার, তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, এবং জুবাইদা রহমানের বড় বোন শাহিনা খান বিন্দু।

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারাও এই অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এ টি এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।

সংসদের বাম পাশের গ্যালারিতে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। সেখানে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিসেন্টসেন, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা, এবং পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারসহ আরও কয়েকটি দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি।

এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় গুলিবিদ্ধ ছাত্রনেতা গোলাম নাফিজকে রিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া রিকশাচালক নুর মুহাম্মদও বিশেষ অতিথি হিসেবে দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন। তার উপস্থিতি আন্দোলনের মানবিক দিক ও সাধারণ মানুষের ভূমিকার প্রতীক হিসেবে অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

-রফিক


স্পিকার আর কোনো দলের নন, পুরো সংসদের অভিভাবক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১৪:১৩:০১
স্পিকার আর কোনো দলের নন, পুরো সংসদের অভিভাবক
ছবি: BNP Media Cell

জাতীয় সংসদের স্পিকার কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি নন; বরং তিনি পুরো সংসদের অভিভাবক এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রমনা জনগণ আজ নতুন সংসদের দিকে গভীর প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে সরকার ও সংসদ সদস্যরা সংসদকে কার্যকর ও অর্থবহ করে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদে নতুন স্পিকারের উদ্দেশে দেওয়া শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ বাধাগ্রস্ত ছিল এবং জনগণের ভোটাধিকার কার্যত সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল।

তারেক রহমান বলেন, গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের মানুষের মৌলিক রাজনৈতিক অধিকার সংকুচিত ছিল। সেই সময়ে জনগণকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল এবং জাতীয় সংসদ এমন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল, যেখানে জনগণের অধিকার রক্ষার পরিবর্তে তা ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।

তিনি আরও বলেন, অতীতের বহু সংসদ সদস্য নিজেদের এমপি পরিচয়ে পরিচিত হলেও তারা প্রকৃত অর্থে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন না। তবে বর্তমান সংসদ ভিন্ন বাস্তবতার প্রতিফলন। এই সংসদ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে এবং এটি সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের জনগণের সংসদ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাণ হলো যুক্তিনির্ভর আলোচনা ও গঠনমূলক বিতর্ক। তিনি বলেন, অকারণ বিরোধিতার সংস্কৃতি নয়, বরং যৌক্তিক সমালোচনা, তথ্যভিত্তিক বিতর্ক এবং গণতান্ত্রিক আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সংসদকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে চান তারা।

এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সংসদের কার্যক্রমকে সুষ্ঠু ও ভারসাম্যপূর্ণভাবে পরিচালনা করতে স্পিকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসদের বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিনিধিদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে কার্যকর বিতর্ক ও আলোচনার পরিবেশ তৈরি করার দায়িত্ব স্পিকারের ওপরই বর্তায়।

জাতীয় সংসদের সদস্যদের পক্ষ থেকে স্পিকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংসদ পরিচালনার ক্ষেত্রে স্পিকার যাতে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে জন্য সংসদ সদস্যরা তাকে সর্বাত্মক সহায়তা করবেন।

বক্তব্যের শেষ অংশে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্পিকারকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি সংসদের সফলতা ও কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ যেন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারে এবং দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে এটাই সবার প্রত্যাশা। বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, “আল্লাহ হাফেজ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।”

-রফিক


আসিফ নজরুলের বার্তা: এই সংসদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১২:১৫:২১
আসিফ নজরুলের বার্তা: এই সংসদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঐতিহাসিক প্রথম অধিবেশনে দর্শনার্থী হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) অধিবেশন শুরুর আগে সংসদ ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই সংসদকে নিয়ে নিজের গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, "বহু বছর পর বাংলাদেশে একটি প্রকৃত সংসদের অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সংসদের প্রতিনিধিরা প্রকৃত অর্থেই জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। ফলে এই সংসদের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকবে এবং এটি একটি জবাবদিহিমূলক সংসদ হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

সাবেক এই আইন উপদেষ্টা এমন একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশের সাক্ষী হতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন, যেখানে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। তাঁর মতে, এই সংসদই হবে দেশের ভবিষ্যৎ সংস্কার ও টেকসই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।

/আশিক


ত্রয়োদশ সংসদের ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১২:০৭:০৯
ত্রয়োদশ সংসদের ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই নতুন ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বর্তমান সরকারের ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

অধিবেশন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সভাপতি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, ডেপুটি স্পিকার পদে শুধুমাত্র একটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। তিনি সংসদকে অবহিত করেন যে, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।

নির্বাচনী প্রক্রিয়া অনুযায়ী, সভাপতি কায়সার কামালের নাম প্রস্তাব করার জন্য নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে আহ্বান জানান। প্রস্তাবটি সমর্থন করেন সংসদ সদস্য আশরাফউদ্দিন। পরবর্তীতে প্রস্তাবটি সংসদ কক্ষে কণ্ঠভোটে দেওয়া হলে সকল সংসদ সদস্যের সম্মতিতে ‘হ্যাঁ’ ধ্বনি জয়যুক্ত হয় এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন এবং গত ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।

/আশিক


জুলাই শহীদদের স্বপ্ন পূরণ করবে এই সংসদ: সংসদ ভবনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃঢ় অঙ্গীকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১২ ১১:৪৫:০৪
জুলাই শহীদদের স্বপ্ন পূরণ করবে এই সংসদ: সংসদ ভবনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃঢ় অঙ্গীকার
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে যোগ দিতে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ একে ‘জনগণের প্রত্যাশিত সংসদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে সংসদ ভবনে প্রবেশের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এই সংসদের মাধ্যমেই দেশে গণতন্ত্রের নতুন পদযাত্রা শুরু হবে এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, “আজকের এই দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি জনআকাঙ্ক্ষা, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এবং গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণের সংসদ।” তাঁর মতে, দীর্ঘ লড়াই ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই সংসদ জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

আজকের এই ঐতিহাসিক অধিবেশনের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পর বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত সকল শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। ভাষণ শেষে প্রধানমন্ত্রী ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন পরিচালনার জন্য (স্পিকার নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সভাপতি হিসেবে) বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: