স্মৃতিশক্তি কমছে? মস্তিষ্ককে তুখোড় ও চিরতরুণ রাখতে ৩টি জাদুকরী অভ্যাস

বয়সের সাথে সাথে আমাদের স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া বা যুক্তি দেওয়ার সক্ষমতা কমে আসা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক সুস্থতার জন্য খুব জটিল কোনো ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই, বরং দৈনন্দিন জীবনের তিনটি সহজ অভ্যাসই এক্ষেত্রে যথেষ্ট হতে পারে।
গবেষকদের মতে, নিয়মিত ধাঁধা সমাধান করা, নতুন কিছু শেখা এবং গান শোনা বা বাদ্যযন্ত্র চর্চা করার মাধ্যমে মস্তিষ্কের নিউরনের সংযোগগুলো অনেক বেশি শক্তিশালী হয়, যা সরাসরি স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। শব্দছক, সুডোকু বা জিগস পাজল সমাধান করার মতো কাজগুলো মূলত মানুষের যুক্তিবিদ্যা, গণিত এবং দৃশ্যগত দক্ষতার ওপর নির্ভর করে, যা মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশকে একই সঙ্গে সক্রিয় রেখে সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।
একইভাবে নতুন কোনো ভাষা শেখা, ছবি আঁকা, নিয়মিত লেখালেখি করা কিংবা প্রতিদিনের চেনা রাস্তার বদলে ভিন্ন কোনো পথে কর্মস্থলে যাওয়া মস্তিষ্ককে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে। হার্ভার্ড হেলথ-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরনের সৃজনশীল কাজগুলো মস্তিষ্কের কগনিটিভ ফাংশন বা জ্ঞানীয় ক্ষমতা উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পাশাপাশি নিয়মিত গান শোনা, গান গাওয়া বা গিটার ও পিয়ানোর মতো বাদ্যযন্ত্র বাজানোর চর্চা মস্তিষ্কের নিউরোপ্লাস্টিসিটি বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে মস্তিষ্কের গঠনগত উন্নতি হয় এবং মানসিক চাপ অনেকটাই কমে আসে। তবে এসব অভ্যাসের পাশাপাশি মস্তিষ্কের স্মৃতি ধরে রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত অ্যারোবিক ব্যায়াম অত্যন্ত জরুরি, যা মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। এছাড়া মানুষের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং নিয়মিত কথা বলাও মস্তিষ্ককে দীর্ঘমেয়াদে তীক্ষ্ণ ও কর্মক্ষম রাখতে অত্যন্ত সহায়কের ভূমিকা পালন করে।
/আশিক
এক কয়েল মানেই ১৪০টি সিগারেট! মশা তাড়াতে বিষ নয়, বেছে নিন প্রাকৃতিক উপায়
তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মশার উপদ্রব, যার হাত ধরে ঘরে ঘরে হানা দিচ্ছে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়ার মতো প্রাণঘাতী রোগ। মশা তাড়াতে আমরা সাধারণত কয়েল বা অ্যারোসল ব্যবহার করি, কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, একটি কয়েল ৮ ঘণ্টা জ্বললে প্রায় ১৪০টি সিগারেটের সমান ক্ষতিকর ধোঁয়া উৎপন্ন করে। এই ধোঁয়া আমাদের হার্ট, ফুসফুস ও শ্বাসনালীর মারাত্মক ক্ষতি করে। তাই কৃত্রিম বিষাক্ত পদ্ধতির বদলে প্রাকৃতিক উপায়ে মশা তাড়ানো এখন সময়ের দাবি। ঘরোয়া কিছু সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি অবলম্বন করে আপনি সহজেই মশা মুক্ত থাকতে পারেন।
মশা তাড়াতে কর্পূর অত্যন্ত কার্যকরী; একটি পাত্রে জল নিয়ে তাতে কর্পূরের টুকরো রেখে ঘরের কোণে রেখে দিলে মশা দ্রুত পালিয়ে যায়। এছাড়া লেবু দুই টুকরো করে তাতে লবঙ্গ গেঁথে ঘরের কোণায় বা জানালার গ্রিলে রাখলে মশার উপদ্রব কমে। নিমের তেল ও নারকেল তেলের মিশ্রণ ত্বকে মাখলে মশা কামড়ায় না এবং ত্বকের ইনফেকশন দূর হয়। পুদিনা পাতা ছেঁচে পানিতে ফুটিয়ে সেই ভাপ ঘরে ছড়ালে বা টবে লেমন গ্রাস গাছ লাগালে এর কড়া গন্ধে মশারা ধারেকাছে ঘেঁষে না। এমনকি ব্যবহৃত চা-পাতা রোদে শুকিয়ে ধুনোর মতো পোড়ালে ঘর থেকে মশা-মাছি দ্রুত বিদায় নেয়।
ঘরকে মশা মুক্ত রাখতে বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবহারেও পরিবর্তন আনা যেতে পারে; মশারা সাধারণত হলুদ আলো অপছন্দ করে, তাই সাধারণ বাল্ব বদলে হলুদ ‘বাগ লাইট’ বা সোডিয়াম লাইট ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়া ফ্যান চালু রাখলে বাতাসের গতির কারণে হালকা ওজনের মশারা উড়তে পারে না। পোশাকের ক্ষেত্রে কালো, নীল বা লাল রঙের পরিবর্তে হালকা রঙের কাপড় পরা এবং শোয়ার আগে গায়ে প্রাকৃতিক সুগন্ধি বা রসুনের মিশ্রণ স্প্রে করা যেতে পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাড়ির আশেপাশে পানি জমতে না দেওয়া, কারণ জমানো পানিতেই মশারা বংশবিস্তার করে।
/আশিক
পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে শরীর? ৫টি লক্ষণ দেখলেই সাবধান!
কেবল তীব্র গরম নয়, বছরের যেকোনো ঋতুতেই শরীরে পানির অভাব বা ডিহাইড্রেশন দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শীতকালে আমরা তৃষ্ণা কম অনুভব করায় পানি পানের পরিমাণ কমিয়ে দিই, যা অজান্তেই বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা তৈরি করে। শরীরে পানির পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে দেহ বিভিন্ন সংকেত বা লক্ষণের মাধ্যমে আমাদের সতর্ক করার চেষ্টা করে। এই লক্ষণগুলো সময়মতো শনাক্ত করতে না পারলে কিডনিসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সুস্থ থাকতে ডিহাইড্রেশনের প্রধান লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।
শরীরে পানির ঘাটতি হলে প্রথমেই মুখ, গলা ও ঠোঁট বারবার শুকিয়ে আসতে শুরু করে। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে লালাগ্রন্থি শুকিয়ে যায়, যার ফলে কথা বলতেও অস্বস্তি হতে পারে। ডিহাইড্রেশনের আরেকটি অন্যতম বড় লক্ষণ হলো প্রস্রাবের রঙের পরিবর্তন। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রস্রাব হালকা রঙের হলেও শরীরে পানি কমে গেলে তা গাঢ় হলুদ বা লালচে বর্ণ ধারণ করতে পারে। এছাড়া দীর্ঘ সময় পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও যদি শরীর সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে বা ঝিমুনি আসে, তবে বুঝতে হবে শরীর ভেতর থেকে পানিশূন্যতায় ভুগছে।
পানির অভাব সরাসরি মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলে, যার ফলে হুটহাট তীব্র মাথা ব্যথা হতে পারে কিংবা মাথা ঝিমঝিম করে চোখে অন্ধকার দেখার মতো সমস্যা তৈরি হয়। এমনকি ত্বকের যত্নে দামি প্রসাধন ব্যবহার করার পরও যদি ত্বক অতিরিক্ত খসখসে বা রুক্ষ থাকে, তবে সেটি মূলত ভেতর থেকে পানির অভাবেরই বহিঃপ্রকাশ। এছাড়া শরীরে পানি ও খনিজ উপাদানের ভারসাম্য নষ্ট হলে ঘনঘন পেশিতে টান ধরার মতো যন্ত্রণাদায়ক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয় এবং দ্রুত পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করে শরীরকে সতেজ রাখা প্রয়োজন।
/আশিক
অস্পষ্ট শব্দ ও ভিড়ে কথা শুনতে কষ্ট: জানুন শ্রবণশক্তি হ্রাসের লক্ষণ
চারপাশে সবাই কথা বলছে, কিন্তু আপনি কি ঠিকমতো বুঝতে পারছেন না? ভিড়ের মধ্যে বন্ধুর কথা শুনতে কষ্ট হওয়া কিংবা ফোনের ওপাশে কারও কথা পানির নিচ থেকে ভেসে আসার মতো অভিজ্ঞতা অনেকেরই হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কানে কম শোনার এই সমস্যাকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। প্রতি বছর ৩ মার্চ ‘বিশ্ব শ্রবণ দিবস’ পালিত হয় আমাদের কানের যত্ন ও শ্রবণশক্তি সম্পর্কে সচেতন করার জন্য। আধুনিক জীবনযাত্রা, দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহার এবং অতিরিক্ত শব্দদূষণের ফলে যে কেউ যেকোনো বয়সে এই সমস্যায় পড়তে পারেন।
কানে কম শোনার লক্ষণগুলো প্রথমদিকে খুব সূক্ষ্মভাবে ধরা দেয় বলে অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পারেন না। তবে কিছু সাধারণ লক্ষণ আছে যা দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক হওয়া জরুরি। যেমন, চারপাশের কথাবার্তা অস্পষ্ট বা ঝাপসা মনে হওয়া কানের পর্দা থেকে মস্তিষ্কে সিগন্যাল পৌঁছাতে সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। আবার রেস্তোরাঁ বা ভিড়ের মধ্যে নির্দিষ্ট কারও কথা আলাদাভাবে বুঝতে না পারা শ্রবণশক্তি হ্রাসের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। যদি বারবার অন্যকে ‘কী বললেন?’ বা ‘আরেকবার বলুন’ জিজ্ঞেস করতে হয়, তবে আপনার শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করার সময় এসেছে।
আরও কিছু লক্ষণের মধ্যে রয়েছে অন্যদের তুলনায় টিভির ভলিউম বেশি বাড়ানো এবং আড্ডা বা পারিবারিক জমায়েত এড়িয়ে চলার প্রবণতা তৈরি হওয়া। নিস্তব্ধ পরিবেশেও কানে একটানা বাঁশির মতো শব্দ বা ‘টিনিটাস’ হওয়া স্নায়ুজনিত সমস্যার সংকেত দেয়। এছাড়া ‘স’, ‘ফ’ বা ‘ট’ এর মতো ব্যঞ্জনবর্ণ শুনতে কষ্ট হওয়া উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ শোনার ক্ষমতা কমে যাওয়ার লক্ষণ। সারাদিন অন্যের কথা শোনার চেষ্টা করতে গিয়ে অতিরিক্ত মানসিক ক্লান্তি বা মাথা ধরা এবং অন্যের ওপর অকারণে বিরক্তি প্রকাশ করাও কানে শোনার সমস্যার ফল হতে পারে। এমনকি পাখির ডাক বা ঘড়ির টিকটিক শব্দের মতো প্রকৃতির ছোট ছোট শব্দ হারিয়ে যাওয়াও শ্রবণশক্তির পরিসর কমে যাওয়ার প্রমাণ।
এই ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে সামান্য এই সমস্যা পরবর্তীতে বড় ধরনের শারীরিক ও মানসিক জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সচেতনতা ও সঠিক যত্নই পারে আপনার শ্রবণশক্তিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে।
/আশিক
শীত শেষ হলেও খুশকির যন্ত্রণায় নাজেহাল? ঘরোয়া এই ৫টি উপায়েই মিলবে মুক্তি
সাধারণত শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কমে যাওয়ায় মাথার ত্বক অতিরিক্ত রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে ওঠে, যার ফলে অনেকেরই খুশকির সমস্যা প্রকট হয়। অনেক সময় ছত্রাকজনিত সংক্রমণের কারণে শীত শেষ হলেও এই সমস্যা কমে না। যারা দীর্ঘকাল ধরে খুশকির যন্ত্রণায় ভুগছেন, তারা দামী কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার না করে ঘরোয়া কিছু প্রাকৃতিক সমাধান বেছে নিতে পারেন। নারকেল তেল, লেবুর রস, অ্যালোভেরা এবং অ্যাপল সাইডার ভিনেগারের মতো উপাদান মাথার ত্বকের পিএইচ (pH) ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং চুলকানি দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর। নিয়মিত চুলের যত্নে এই প্রাকৃতিক পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে খুশকি থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
খুশকি দূর করতে হালকা গরম নারকেল তেল ও লেবুর রসের মিশ্রণ দারুণ কাজ করে। এর জন্য ২ টেবিল চামচ নারকেল তেল হালকা গরম করে তাতে সমপরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে মাথার ত্বকে আলতোভাবে ম্যাসাজ করতে হবে। মিশ্রণটি ২০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেললে মাথার ত্বকের চুলকানি কমার পাশাপাশি খুশকি দ্রুত দূর হয়। এছাড়া অ্যাপল সাইডার ভিনেগার ব্যবহারের মাধ্যমেও ভালো ফল পাওয়া যায়। সমপরিমাণ পানি ও ভিনেগার মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে শ্যাম্পু করার পর চুলে ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেললে মাথার ত্বকের অম্লতা ও ক্ষারের ভারসাম্য ঠিক থাকে।
মাথার ত্বকের জ্বালাপোড়া ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে সরাসরি অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা যেতে পারে। জেলটি মাথার ত্বকে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে ত্বক শীতল ও ময়েশ্চারাইজড থাকে। দীর্ঘস্থায়ী খুশকির জন্য মেথি ও দইয়ের প্যাক অত্যন্ত কার্যকরী একটি পদ্ধতি। মেথি সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে বেটে পেস্ট তৈরি করে তার সঙ্গে টক দই মিশিয়ে চুলে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেললে চুলের গোড়া মজবুত হয় ও খুশকি পরিষ্কার হয়। এছাড়া নিয়মিত শ্যাম্পুর সঙ্গে ২-৩ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে চুল পরিষ্কার করলে ছত্রাকজনিত যে কোনো সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
চুলের সুস্বাস্থ্যের জন্য ঘরোয়া প্যাকের পাশাপাশি কিছু জরুরি টিপস অনুসরণ করা প্রয়োজন। চুল সর্বদা পরিষ্কার রাখতে নিয়মিত মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় জিঙ্ক, ভিটামিন বি এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত খাবার রাখা জরুরি যা ভেতর থেকে ত্বকের পুষ্টি নিশ্চিত করে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ খুশকি বাড়িয়ে তোলে, তাই নিয়মিত যোগব্যায়াম বা মেডিটেশন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি চুলের জেল বা হেয়ার স্প্রে ব্যবহার কমিয়ে দিলে খুশকির প্রকোপ থেকে বাঁচা সহজ হয়।
/আশিক
সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে জাদুর মতো কাজ করবে এই ৫টি প্রাকৃতিক পানীয়
দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর শরীরের হারানো শক্তি ও আর্দ্রতা ফিরে পেতে ইফতারে সঠিক পানীয় নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সারাদিন তৃষ্ণার্ত থাকার পর অনেকেই তৃপ্তি মেটাতে এমন কিছু পানীয় বেছে নেন, যা শরীরের উপকারের চেয়ে বরং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি বয়ে আনে। পুষ্টিবিদদের মতে, ইফতারের টেবিলে কৃত্রিম পানীয়র বদলে প্রাকৃতিক ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন পানীয় হওয়া উচিত আমাদের প্রধান পছন্দ।
সাধারণত ইফতারের সময় অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত বা বাজারের বাহারি কোমল পানীয় পান করলে সাময়িক সতেজতা অনুভূত হয়। তবে এই পানীয়গুলো শরীরে দ্রুত ক্লান্তিবোধ তৈরি করে এবং পেট ফাঁপা বা হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করতে এবং পানিশূন্যতা দূর করতে প্রাকৃতিক উৎসের ওপর নির্ভর করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়।
ইফতারের জন্য আদর্শ পানীয় হিসেবে পুষ্টিবিদরা ডাবের পানিকে সবার উপরে স্থান দেন। শরীরকে দ্রুত রিহাইড্রেট করতে এবং পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি মেটাতে এর কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া দুধ ও খেজুরের মিশ্রণ তাৎক্ষণিক শক্তি জোগানোর পাশাপাশি শরীরে ক্যালসিয়ামের জোগান দেয়। তাজা ফলের রস যেমন— তরমুজ, কমলা বা বেদানার জুস ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে, তবে এক্ষেত্রে আলাদা চিনি যোগ না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
পাচনতন্ত্রকে সচল রাখতে এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দিতে লেবু ও মধুর মিশ্রিত পানি দারুণ কার্যকরী। পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে দই, চিয়া সিড বা বিভিন্ন ফলের স্মুদি ও পুষ্টিকর স্যুপ বেছে নেওয়া যেতে পারে। ইফতারে এসব স্বাস্থ্যকর পানীয় কেবল তৃষ্ণাই মেটায় না, বরং দীর্ঘ সময়ের উপবাসের পর শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ফিরে পেতে সাহায্য করে।
/আশিক
ইফতারে চিনির শরবত নাকি গুড়ের? কোনটি স্বাস্থ্যের জন্য বেশি নিরাপদ?
রমজান মাসে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে খেজুরের পরেই আমাদের প্রধান পছন্দ থাকে বিভিন্ন ধরনের শরবত। সাধারণত এই শরবত তৈরিতে সাদা চিনির ব্যবহারই সবচেয়ে বেশি। তবে স্বাস্থ্য সচেতনদের মনে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন— ইফতারের শরবতে চিনির চেয়ে গুড় কি বেশি নিরাপদ? এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত পরামর্শ দিয়েছেন রাজধানীর ড্রীম ফার্টিলিটি কেয়ার ও হেমায়েতপুর সেন্ট্রাল হসপিটালের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান প্রিয়ানা।
পুষ্টিবিদ প্রিয়ানার মতে, সাদা চিনি মূলত আমাদের শরীরে শুধু ক্যালরি সরবরাহ করে, এতে কোনো ধরনের ভিটামিন বা মিনারেল থাকে না। মাত্র এক চা চামচ চিনি থেকে প্রায় ২০ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ফলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, পিসিওএস, ইনফার্টিলিটি থেকে শুরু করে ডায়াবেটিস ও স্থূলতার মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। তাই চিনির বিকল্প হিসেবে আখের বা খেজুরের গুড় ব্যবহার করা কিছুটা ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে। গুড়ে সামান্য পরিমাণে আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা চিনির তুলনায় একে কিছুটা স্বাস্থ্যকর করে তোলে। তবে মনে রাখতে হবে, গুড়ও এক ধরনের চিনিজাতীয় খাবার এবং এর গ্লাইসেমিক প্রভাব অনেক বেশি, তাই এটিও অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়।
বাজার থেকে গুড় কেনার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন এই পুষ্টিবিদ। বিশেষ করে আখের গুড়, তালের গুড় বা খেজুরের গুড় কেনার সময় তা রাসায়নিকমুক্ত ও খাঁটি কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় অনেক ক্ষেত্রে গুড়ে ভেজাল মেশানো হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য উল্টো ক্ষতির কারণ হতে পারে। পুষ্টিগুণের বিচারে খেজুরের গুড় তুলনামূলক কম প্রক্রিয়াজাত এবং মিনারেল সমৃদ্ধ হওয়ায় একে প্রাধান্য দেওয়া যেতে পারে।
তবে চিনি বা গুড়— কোনোটির শরবতকেই শতভাগ নিরাপদ না বলে আরও উন্নত কিছু বিকল্পের কথা জানিয়েছেন ইসরাত জাহান প্রিয়ানা। তিনি পরামর্শ দেন, শরবতে মিষ্টি স্বাদের জন্য সরাসরি খেজুর ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। এছাড়া ইফতারে লেবু-পানি, ফলের পাতলা রস, টক দইয়ের শরবত বা লাচ্ছি এবং ডাবের পানি হতে পারে আদর্শ পানীয়। শরীরের পানিশূন্যতা রোধে স্যালাইনও একটি ভালো বিকল্প। এমনকি চিনির স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে ‘স্টেভিয়া’ পাতা ব্যবহার করা যেতে পারে, যা স্বাদে কিছুটা ভিন্নতা আনলেও স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
/আশিক
ইফতারে মুখরোচক চিকেন কিমা তাওয়া কাবাব: সহজ ঘরোয়া রেসিপি
আটার রুটি, তন্দুরি কিংবা নানের সঙ্গে গরম গরম কাবাবের স্বাদ অতুলনীয়। এছাড়া যেকোনো রাইস বা পোলাওয়ের সঙ্গেও এটি বেশ মানিয়ে যায়। ইফতারে ভিন্নতা আনতে ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন সুস্বাদু 'চিকেন কিমা তাওয়া কাবাব'। এই চমৎকার রেসিপিটি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী জিনিয়া ইসলাম।
উপকরণসমূহ
এই কাবাব তৈরিতে আপনার প্রয়োজন হবে ২৫০ গ্রাম চিকেন কিমা, ৪ টেবিল চামচ মিহি পেঁয়াজ কুচি, ১ চা চামচ কাঁচা মরিচ কুচি, আদা ও রসুন বাটা ১ চা চামচ করে। মশলার মধ্যে লাগবে ১ চা চামচ গরম মসলা গুঁড়া, আধা চা চামচ গোল মরিচ গুঁড়া, আধা চা চামচ চিলি ফ্লেক্স, ১ চা চামচ মরিচ গুঁড়া এবং স্বাদমতো লবণ। স্বাদে বৈচিত্র্য আনতে ব্যবহার করুন ১ টেবিল চামচ গুঁড়া দুধ, ২ চা চামচ লেবুর রস, ১ চা চামচ লেমন জেস্ট (লেবুর খোসা কুচি), আধা চা চামচ চিনি এবং ২ চা চামচ কিসমিস কুচি। এছাড়া ১ চা চামচ জাফরান মিশ্রিত দুধ, ১ চা চামচ কেওড়া পানি, ১টি ডিম, ২ টেবিল চামচ কর্নফ্লাওয়ার এবং ধনেপাতা ও পুদিনা পাতা কুচি ২ টেবিল চামচ করে নিতে হবে। ভাজার জন্য প্রয়োজন হবে ২ থেকে ৩ টেবিল চামচ তেল।
প্রস্তুত প্রণালি
রান্না শুরুর আগে চিকেন কিমা থেকে ভালো করে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। এরপর তেল ছাড়া বাকি সব উপকরণ কিমার সঙ্গে মিশিয়ে অন্তত দশ মিনিট সময় নিয়ে খুব ভালো করে মাখাতে হবে। মাখানো যত নিখুঁত হবে, কাবাব তত বেশি নরম ও জুসি হবে। একটি ননস্টিক প্যানে সামান্য তেল দিয়ে তার ওপর মাখানো কিমা ঢেলে পুরো প্যানে সমানভাবে বিছিয়ে দিন। এবার বাকি তেলটুকু ওপর দিয়ে ঢেলে মাঝারি আঁচে ঢেকে রান্না শুরু করুন।
কাবাবের বিশেষ স্মোকি ফ্লেভারের জন্য অন্য একটি চুলায় কয়লা পুড়িয়ে নিন। অল্প আঁচে কাবাব হতে থাকবে এবং কিছুক্ষণ পর সাবধানে একপাশ উল্টে দিন। ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যেই কাবাব তৈরি হয়ে যাবে। সবশেষে পোড়া কয়লার ওপর সামান্য ঘি ঢেলে ধোঁয়া উঠতে শুরু করলে তা দ্রুত প্যানের ভেতর দিয়ে ঢাকনা আটকে দিন, যাতে ধোঁয়া বাইরে বের হতে না পারে। কিছুক্ষণ পর কাবাব নামিয়ে পছন্দমতো আকারে কেটে নিন। পরিবেশন প্লেটে সালাদ, রাইস, পরোটা কিংবা আটার রুটির সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন এই দারুণ স্বাদের চিকেন কিমা তাওয়া কাবাব।
/আশিক
ইনফ্লুয়েন্সারদের ডায়েট ট্রেন্ড ও ভাইরাল ফুড চ্যালেঞ্জ: স্থূলতা সংকটে নতুন ঝুঁকি
বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থূলতার হার বিভিন্ন জটিল কারণে বাড়ছে। বিশ্ব স্থূলতা দিবস উপলক্ষে, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে, সোশ্যাল মিডিয়া কিভাবে খাবারের অভ্যাস পরিবর্তন করছে এবং স্থূলতা সংকটকে ত্বরান্বিত করছে।ভাইরাল ফুড চ্যালেঞ্জ থেকে শুরু করে ইনফ্লুয়েন্সারদের ডায়েট ট্রেন্ড, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মূলত প্রভাব ফেলছে মানুষ কী খায় এবং তাদের দেহের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি কেমন তার ওপর।
প্রতি বছর ৪ মার্চ বিশ্বব্যাপী 'বিশ্ব স্থূলতা দিবস' পালিত হয়, যা স্থূলতার সাথে সম্পর্কিত স্বাস্থ্য ঝুঁকিগুলো নির্দেশ করে এবং এটি প্রতিরোধের জন্য পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করে।
বিশ্ব স্থূলতা ফেডারেশনের মতে, এই বছরের প্রচারণার থিম হল '৮ বিলিয়ন কারণ স্থূলতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে'। এই থিমের মেসেজ সহজ কিন্তু শক্তিশালী। বৈশ্বিক জনসংখ্যা ৮ বিলিয়ন অতিক্রম করেছে, তাই স্থূলতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ৮ বিলিয়ন কারণ আছে।
প্রচারণাটি জোর দিচ্ছে যে- ব্যক্তিগত, সামাজিক ও প্রতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সবাই স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি এবং ভালো জীবনধারার প্রচার করার দায়িত্ব ভাগাভাগি করবে।
সরকার, স্বাস্থ্য পেশাজীবী এবং নাগরিক সমাজের সংস্থাগুলোকে একসাথে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এবং বিশ্বব্যাপী স্থূলতা সংকট মোকাবিলার কার্যকর কৌশল বাস্তবায়ন করতেও বলা হচ্ছে।
কেন বিশ্বব্যাপী স্থূলতা বাড়ছে
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থূলতার হার বিভিন্ন জটিল কারণে বাড়ছে। এর মধ্যে রয়েছে অস্বাস্থ্যকর খাওয়ার অভ্যাস, অলস জীবনধারা, প্রক্রিয়াজাত খাবারের সহজলভ্যতা এবং এমন পরিবেশ যা কম শারীরিক ক্রিয়াকলাপকে উৎসাহিত করে।
আরেকটি বড় কারণ হলো, দৈনন্দিন জীবনধারার উপর সোশ্যাল মিডিয়ার বাড়তে থাকা প্রভাব।
খাবারের অভ্যাসকে প্রভাবিত করা
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের খাদ্য, দেহের চিত্র এবং ওজন ব্যবস্থাপনার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করেছে।
জনপ্রিয় অনলাইন ফরম্যাট যেমন 'এক দিনে আমি কী খাই' ধরণের ভিডিও, ইনফ্লুয়েন্সার মীল প্ল্যান এবং ভাইরাল ডায়েট চ্যালেঞ্জ প্রায়শই দর্শকদের খাওয়ার অভ্যাস গঠন করে।
ফাস্ট ফুড প্রচার, বড় পরিমাণ খাবার এবং দেখতে আকর্ষণীয় রেসিপিতে ক্রমাগত অস্বাস্থ্যকর খাওয়ার প্যাটার্নকে স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করে এবং খাবারের প্রতি লোভ বা আগ্রহ বাড়ায়।
অলস জীবনধারাকে উৎসাহিত করা
সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার শারীরিক কার্যকলাপ কমাতে পারে। স্ক্রিনে দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রল করা বা কনটেন্ট দেখা প্রায়শই সেই সময়কে নষ্ট করে ফেলে যা ব্যায়াম বা ঘরের বাইরে শারীরিক কার্যকলাপে ব্যবহার করা যেত।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, এই আলসেমি ধরণের আচরণ ওজন বৃদ্ধি এবং স্থূলতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে।
অস্বাস্থ্যকর ডায়েট ট্রেন্ড প্রচার করা
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া অনেক ডায়েট ট্রেন্ড বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন। কেটো প্ল্যান, ডিটক্স ক্লিনস, বেশি সময় ধরে রোজা পালন করা বা শুধুমাত্র লিকুইড ডায়েট প্রায়শই দ্রুত সমাধান হিসেবে উপস্থাপিত হয়, তবে সঠিক চিকিৎসা নির্দেশনা ছাড়া মানুষ এগুলো করে ফেলে।
পেশাদার পর্যবেক্ষণ ছাড়া এই ট্রেন্ড অনুসরণ করলে পুষ্টি ঘাটতি, খাদ্য সংক্রান্ত সমস্যার অভ্যাস এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।
ক্র্যাশ ডায়েট
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে ক্র্যাশ ডায়েট প্রায়শই দ্রুত ওজন কমানোর প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু স্থায়ী ফলাফল দেয় না।
প্রাথমিক ওজন কমা সাধারণত পানি ও পেশী হ্রাসের কারণে হয়, চর্বি নয়। যখন শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না, তখন এটি শক্তি সংরক্ষণে মেটাবলিজম ধীর করে। একজন ব্যক্তি সাধারণ ডায়েটে ফিরে গেলে, ধীর মেটাবলিজম দ্রুত চর্বি সংরক্ষণ এবং দ্রুত ওজন পুনরায় বাড়াতে পারে।
আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় হলো সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত বাস্তবহীন দেহের মান। অনেক প্ল্যাটফর্ম অত্যন্ত পাতলা দেহের ধরণকে ইতিবাচকভাবে প্রচার করে, যা ব্যক্তিদের চরম ডায়েটিং পদ্ধতি অনুসরণ করার মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এই চাপ খাদ্যজনিত সমস্যা, মানসিক চাপ এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর ওজন ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিবাচক দিক
এই উদ্বেগের মধ্যেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়া সম্পূর্ণ ক্ষতিকর নয়। যদি এটি সচেতনভাবে ব্যবহার করা হয়, তবে এটি পুষ্টির বিশ্বাসযোগ্য তথ্য শেয়ার করার, স্বাস্থ্য পেশাদীর সাথে সংযোগ স্থাপনের এবং টেকসই জীবনধারার উপর ভিত্তি করে সমর্থনমূলক কমিউনিটি গঠনের মূল্যবান প্ল্যাটফর্ম হতে পারে।
সূত্র: সামা
রোজা রেখে পেস্ট ছাড়া ব্রাশ ও কুলির সঠিক নিয়ম
পবিত্র এই মাহে রমজান মাসে আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পাশাপাশি আমাদের খাদ্যদ্রব্য গ্রহণের একটি ব্যাপক পরিবর্তন চলে আসে।সেই সাথে পরিবর্তন চলে আসে আমাদের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নেওয়ার নিয়মকানুনেও।
অন্যান্য সময়ের মতোই রমজান মাসে দাঁতের যত্ন নেয়া অত্যন্ত জরুরি। যেহেতু রোজা রাখার কারণে দিনের পুরোটা সময় পানাহার থেকে বিরত থাকা হয় তাই এ রমজান মাসে অনেকেই দাঁতের পরিচর্যা নিয়ে ভাবনায় পড়েন যে কী করা যাবে আর কী করা যাবে না। রমজানে দাঁতের যত্নে কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইফতার ও সাহ্রির পর ব্রাশ জরুরি
দুই বেলা খাবারের পর দাঁত ব্রাশ করা প্রয়োজন। রোজার সময় ইফতার ও সাহ্রির পর ভালোভাবে পেস্ট ও ব্রাশ দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করতে হবে। ইফতারের পর সঙ্গে সঙ্গে সম্ভব না হলে রাতের প্রধান খাবারের পর ব্রাশ করা উচিত। একইভাবে সাহ্রি শেষে, ফজরের নামাজের অজুর আগে দাঁত ব্রাশ করলে মুখে জীবাণু কমে যায়।
মিসওয়াক ও অজুর গুরুত্ব
রোজায় নিয়ম মেনে মিসওয়াক করা যায়। নামাজের অজুর সময় কুলির মাধ্যমে মুখ পরিষ্কার হয়, যা দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক। প্রতিটি অজুর সময় মিসওয়াক ব্যবহার করা যেতে পারে।
সকালে মুখে গন্ধ হলে যা করবেন
রোজা রেখে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখে গন্ধ হলে গড়গড়া না করে সামান্য পানি দিয়ে কুলি করা যাবে, এতে রোজা ভাঙবে না।তবে কুলির পর মুখে জমে থাকা পানি অবশ্যই ফেলে দিতে হবে। প্রয়োজনে পেস্ট ছাড়া শুধু ব্রাশ দিয়েও দাঁত পরিষ্কার করা যেতে পারে। রোজা অবস্থায় মাউথওয়াশ ব্যবহার না করাই ভালো।
খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা
ইফতার থেকে সাহ্রি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। শরবতে ইসুবগুলের ভুসি খেলে পেট ও হজম ভালো থাকে। তেলযুক্ত খাবার কম খেয়ে শাকসবজি বেশি খাওয়া উচিত। শাকের আঁশ দাঁত পরিষ্কার রাখতে সহায়ক এবং এতে ভিটামিন ও মিনারেলও রয়েছে।
যা এড়িয়ে চলবেন
কয়লা, ছাই বা দাঁতের পাউডার ব্যবহার করা যাবে না। গুল বা তামাক সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে। ধুমপান মুখের দুর্গন্ধ বাড়ায়, তাই তা পরিহার করা উচিত।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার ঠিক করতে বৈঠকে বিএনপি, কারা হতে যাচ্ছেন
- ওয়ানডেতে ফিরল বাংলাদেশ! মিরপুরে আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরাজদের বড় পরীক্ষা
- সংসদ ভবনে তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠক: প্রথম অধিবেশন ঘিরে বড় পরিকল্পনা
- গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রথম সংসদ অধিবেশন: নতুন স্পিকার নিয়ে দেশজুড়ে কৌতূহল
- ইসরায়েলজুড়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি! হাইফা-তেল আবিবে বিধ্বংসী হামলা
- তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি বনাম আর্থিক সংকট: কোন পথে হাঁটছে পে স্কেল?
- ডিজেল নিয়ে বন্দরে দ্বিতীয় জাহাজ: কাটছে কি জ্বালানি সংকটের মেঘ?
- স্বর্ণের দামে ফের লাফ! ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়াল বাজুস
- সবচেয়ে বড় হামলার দাবি ইরানের! কাঁপছে ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি
- ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের লাগাম টানছে সরকার; আর চলবে না ইচ্ছেমতো টিউশন ফি!
- আজ ২১ রমজান; জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সঠিক সময়সূচি
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- ইরানের হাইপারসনিক তাণ্ডব! শব্দের চেয়ে ৫ গুণ গতিতে মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত
- বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন বৃষ্টি! রণক্ষেত্র ইরাকের আকাশ
- একই ছকে দুই বলি! হাদির সঙ্গে ইউটিউবার কাফিকেও শেষ করতে চেয়েছিল বিপ্লব
- জ্যাম এড়াতে জেনে নিন আজ রাজধানীর কোথায় কী কর্মসূচি
- আমরা কি আবার সেই পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যাচ্ছি?
- জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ইরানের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন! ৩৪তম দফায় লণ্ডভণ্ড সামরিক ঘাঁটি
- মির্জা ফখরুলের শোকবার্তা
- খাল খননে মেশিন কমিয়ে জনবল বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর
- এক কয়েল মানেই ১৪০টি সিগারেট! মশা তাড়াতে বিষ নয়, বেছে নিন প্রাকৃতিক উপায়
- পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে শরীর? ৫টি লক্ষণ দেখলেই সাবধান!
- কালিগঞ্জের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
- ১৭ বছর ধরে খালের গেট দখল! সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতার আতঙ্কে গ্রামবাসী
- ইরান যুদ্ধ কি তবে শেষের পথে? ট্রাম্পের গলায় এবার সমঝোতার সুর
- পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালা প্রকাশ: শিক্ষার্থীদের মানতে হবে ১০ নিয়ম
- কুসিকের প্রশাসক পদে আলোচনায় ৫ বিএনপি নেতা
- সাগরে লঘুচাপের প্রভাব! বজ্রসহ বৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন সতর্কবার্তা
- ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে খাদ্য ও ওষুধ! ইরান-আজারবাইজান সীমান্তে শান্তির নতুন বার্তা
- ইরানের বিশেষ ছাড়! বাংলাদেশের তেলের জাহাজ চলাচলে মিলল অভয়বার্তা
- বিরোধী দলের পররাষ্ট্রনীতি সামলাতে অভিনব প্রস্তাব: পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি শফিকুর রহমানের
- ভিডিও নেই কেন? ছবি প্রকাশ করেও কেন নিরব ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর?
- ইরান যুদ্ধের উত্তাপ এবার ইরাকে! পূর্ব সীমান্তে বিশাল সেনাবহর মোতায়েন
- ১০ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১০ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ দরপতনের তালিকা প্রকাশ
- ১০ মার্চ ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
- ঈদ পর্যন্ত রেশনিং বন্ধ করে জ্বালানি সরবরাহ অবাধ রাখার দাবি
- ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলে ২৪ ঘণ্টায় আহত ১৯১
- ঈদের ছুটির বাইরে যেসব খাত
- আমদানি-রপ্তানি সচল রাখতে ঈদের ছুটিতে এনবিআরের নির্দেশনা
- ইফতারে চাই নতুন কিছু? ঝটপট বানিয়ে ফেলুন মুচমুচে চিকেন চিজ বল
- বনানীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: অভাবী মানুষের ভাগ্য বদলের বড় বার্তা
- ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন নেতানিয়াহু! তাসনিম নিউজের চাঞ্চল্যকর তথ্য
- খুব শিগগিরই শেষ হচ্ছে ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্পের এই আত্মবিশ্বাসের নেপথ্যে কী?
- ট্রাম্পের এক ঘোষণাতেই কেল্লাফতে! বিশ্ববাজারে তেলের দামে বিশাল ধস
- নারীপ্রধান পরিবারে খুশির জোয়ার: ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
- পাকিস্তানের অর্থনীতিতে বড় আঘাত: তেলের সংকটে স্থবির হচ্ছে দেশ
- ২৪ ঘণ্টায় ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরি যত
- এক লিটার তেলও রপ্তানি হতে দেব না; আইআরজিসির চরম হুঁশিয়ারি
- বাজার অস্থিরতায় বাজুসের বড় সিদ্ধান্ত: কমেছে স্বর্ণ ও রুপার দাম
- বিশ্ববাজারে উত্তেজনা থাকলেও দেশের বাজারে কমলো স্বর্ণের দাম
- আমরা কি আবার সেই পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যাচ্ছি?
- স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন, ২ লাখ ১৯ হাজারে মিলবে এক ভরি
- টানা ছয় দফা বৃদ্ধির পর স্বর্ণের দামে বড় স্বস্তি, নতুন দর কার্যকর আজ
- রোববার থেকে দেশে চালু হচ্ছে নতুন নিয়মে তেল বিক্রি
- স্বর্ণের বাজারে বিশাল ধস! ২২ ক্যারেটের নতুন দাম জানাল জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন
- পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষিকাকে মারধর! সাতক্ষীরায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
- আকাশচুম্বী দামের পর এবার কমছে স্বর্ণের ভরি: নতুন দর জানাল বাজুস
- আল ধাফরা ও ফিফথ ফ্লিটে ইরানের বিধ্বংসী আঘাত: মার্কিন কমান্ডো শিবিরে লাশের পাহাড়
- যুদ্ধবিরতির আলোচনায় চীন ও রাশিয়া: তেহরানের পাশে তিন শক্তি
- ২৪ ঘণ্টায় ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরি যত
- টানা বাড়ার পর স্বর্ণের দামে বিশাল ধস: ভরিতে কমল ৯ হাজার টাকার বেশি
- শনিবার ০৭ মার্চ: ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময় ও গুরুত্ব
- আজকের নামাজের সময়সূচি: ৬ মার্চ ২০২৬








