মোজতবা খামেনির নিয়োগ নিয়ে ট্রাম্পের রহস্যময় নীরবতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ০৯:৫০:১৮
মোজতবা খামেনির নিয়োগ নিয়ে ট্রাম্পের রহস্যময় নীরবতা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নিয়োগ প্রসঙ্গে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও রহস্যময় উত্তর দিয়ে বলেন, ‘দেখা যাক কী হয়।’ ইরানের এই শীর্ষ নেতৃত্বের পরিবর্তন নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জল্পনা থাকলেও ট্রাম্পের এমন নীরবতা কূটনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের এই অবস্থান থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, তেহরানের নতুন শাসনব্যবস্থার প্রতি ওয়াশিংটন এখনই কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে আগ্রহী নয়।

একই সাক্ষাৎকারে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান বা যুদ্ধ সমাপ্তির বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ করার সিদ্ধান্তটি একক কোনো বিষয় হবে না, বরং এটি হবে একটি ‘পারস্পরিক’ সিদ্ধান্ত। এই বিষয়ে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবেন বলে জানান। ট্রাম্পের মতে, দুই দেশের মধ্যে এই সংক্রান্ত প্রাথমিক আলোচনা ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং সঠিক সময়ে সব দিক বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ অবস্থান ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ট্রাম্পের বক্তব্যে এটি পরিষ্কার যে, ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় আসার আগে তিনি তাঁর প্রধান মিত্র ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন। মোজতবা খামেনির দায়িত্ব গ্রহণ এবং ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য আলোচনার ফলাফলই নির্ধারণ করবে আগামী দিনে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা কোন দিকে মোড় নেবে।

সূত্র: আল-জাজিরা


মার্কিন নিরস্ত্রীকরণ প্রচেষ্টাকে 'সেকেলে কল্পনা' বলে উড়িয়ে দিল উত্তর কোরিয়া

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ২১:৫৩:৩৮
মার্কিন নিরস্ত্রীকরণ প্রচেষ্টাকে 'সেকেলে কল্পনা' বলে উড়িয়ে দিল উত্তর কোরিয়া
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রচেষ্টাকে ‘সেকেলে কল্পনা’ আখ্যা দিয়ে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি কোনোভাবেই আলোচনাযোগ্য নয় বলে সাফ ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধান নেতা কিম জং উনের ক্ষমতাধর বোন কিম ইয়ো জং। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বহুল আলোচিত পিয়ংইয়ং সফরের ঠিক আগমুহূর্তে তিনি এই কড়া বার্তা দিলেন। আজ রবিবার (৭ জুন) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি মার্কিন প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন।

বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, "পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের অবস্থান একেবারেই আলোচনার বিষয় নয় এবং উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক মর্যাদার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হুমকি সহ্য করবে না।" গত মাসে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক-পরবর্তী মার্কিন অবস্থানেরও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

ওই বৈঠকের পর হোয়াইট হাউস দাবি করেছিল—ওয়াশিংটন ও বেইজিং কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার অভিন্ন লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছে। কিম ইয়ো জং এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অবাস্তব আখ্যা দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা এখনও তাদের সেকেলে স্বপ্ন থেকে জাগতে পারেননি। দেশের নেতার নির্দেশনায় আত্মরক্ষামূলক পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা ক্রমাগত শক্তিশালী করার নীতি একটি অপরিবর্তনীয় পথ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দফায় দফায় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে তাদের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে আসছে এবং ২০২৩ সালে সংবিধানেও নিজেদের ‘পারমাণবিক রাষ্ট্র’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই অনমনীয় অবস্থানের মাঝেই দীর্ঘ সাত বছর পর দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে পিয়ংইয়ংয়ের জন্য বেইজিংয়ের এই সফর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে চলতি সপ্তাহেই কিম জং উন দেশের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার সূচকীয় হারে সম্প্রসারণ এবং আগামী পাঁচ বছরে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন আড়াই গুণ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে হাজার হাজার সেনা পাঠিয়ে মস্কোর কাছ থেকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলায় উত্তর কোরিয়া এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। কিম ইয়ো জংয়ের এই সর্বশেষ বক্তব্য স্পষ্ট ইঙ্গিত করে যে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের সমঝোতায় যেতে পিয়ংইয়ং আপাতত বিন্দুমাত্র প্রস্তুত নয়।

সূত্র : এএফপি


ট্রাম্প-নেতানিয়াহু দ্বন্দ্ব তুঙ্গে: ট্রাম্পের নিষেধ সত্ত্বেও বৈরুতে ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ল ইসরায়েল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ২০:১৫:২৩
ট্রাম্প-নেতানিয়াহু দ্বন্দ্ব তুঙ্গে: ট্রাম্পের নিষেধ সত্ত্বেও বৈরুতে ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ল ইসরায়েল
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কড়া আপত্তি ও হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় নতুন করে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল যে, বৈরুতে এ ধরনের হামলা ইরানের বড় ধরনের সামরিক প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে চলমান ভঙ্গুর কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণ ব্যাহত করবে। তেহরান ইতোমধ্যে এই হামলাকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের চলমান দুর্বল যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট ও চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

আজ রবিবার (৭ জুন) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় বিকট শব্দে একাধিক বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রধান সদর দপ্তর থাকা এলাকাটিকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিশেষ করে আল-মরাইযেহ এলাকায় একটি বহুতল ভবনকে লক্ষ্য করে পরপর তিনটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান।

এদিকে এই হামলার পরপরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুদ্ধমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক যৌথ বিবৃতিতে দাবি করেছেন, হিজবুল্লাহর মূল কার্যালয় লক্ষ্য করেই এই সফল আক্রমণ চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের দখলকৃত উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহর অব্যাহত রকেট ও ড্রোন হামলার জবাবেই এই বিমান হামলা চালানো অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক জরুরি ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে স্পষ্ট সতর্ক করেছিলেন যে, বৈরুতকে লক্ষ্য করে কোনো ধরনের হামলা চালানো ওয়াশিংটনের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। ট্রাম্পের সেই কঠোর বার্তার পর ইসরায়েল সাময়িকভাবে দাহিয়েহে হামলার পরিকল্পনা স্থগিতও করেছিল।

ট্রাম্পের ওই ফোনালাপের পর ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, যদি দাহিয়েহে পুনরায় হামলা চালানো হয়, তবে তারা ইসরায়েলি দখলকৃত মূল ভূখণ্ডে সরাসরি পাল্টা আঘাত হানবে। তবে পরে ইসরায়েলের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘চ্যানেল ১৫’ জানায়, রোববারের এই আকস্মিক হামলার ঠিক আগমুহূর্তে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ মার্কিন প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেছিল।

হিজবুল্লাহ ও লেবানন গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ইসরায়েলের ব্যাপক ও ধারাবাহিক হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে, যখন ইরান-মার্কিন উত্তেজনার জেরে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ অভিযান শুরু হয়। এদিকে ইরান গত ৮ এপ্রিলের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি মেনে নিলেও শুরুতেই শর্ত দিয়েছিল যে, হিজবুল্লাহসহ মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সমস্ত আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর সব ধরনের হামলা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।

তবে হিজবুল্লাহ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক চাপ সত্ত্বেও তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ লড়াই চালিয়ে যাবে এবং পশ্চিমা চাপে লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে সংগঠনটিকে নিরস্ত্র করার যেকোনো অভ্যন্তরীণ প্রচেষ্টাও তারা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছে। উল্লেখ্য, চলমান এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে ইসরায়েলি বর্বর হামলায় লেবাননে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় দুই মিলিয়ন (২০ লাখ) বেসামরিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

সূত্র: প্রেস টিভি


দক্ষিণ লেবাননের ৫ শহরে ইসরায়েলের নতুন বিমান হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ১৭:৩৩:২১
দক্ষিণ লেবাননের ৫ শহরে ইসরায়েলের নতুন বিমান হামলা
ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ও কৌশলগত এলাকায় নতুন করে তীব্র বিমান হামলা ও ভারী কামানের গোলাবর্ষণ শুরু করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, দক্ষিণ লেবাননের কালাউইয়া, আল-কাত্রানি, বাইব্লোস, রিহান এবং দেইর কিফা শহরের একাধিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া বারাশিত ও চাকরা এলাকায় রাতভর ব্যাপক গোলাবর্ষণ করেছে ইসরায়েলি আর্টিলারি ইউনিট। সীমান্ত অঞ্চলে ক্রমাগত এই হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যবর্তী সংঘাতময় পরিস্থিতি নতুন করে আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণ লেবাননে চালানো এই বিশেষ অভিযানে তারা লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রায় ১৫০টি কৌশলগত অবকাঠামো ও সামরিক অবস্থান পুরোপুরি ধ্বংস করেছে। আইডিএফের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাদের বিমান ও গোলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল হিজবুল্লাহর গোপন অস্ত্রাগার, আন্ডারগ্রাউন্ড কমান্ড সেন্টার, রকেট উৎক্ষেপণ প্যাড এবং সীমান্তসংলগ্ন অন্যান্য সামরিক স্থাপনা।

পাল্টা জবাবে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযানে থাকা ইসরায়েলি সেনাবহর এবং সীমান্তসংলগ্ন একটি প্রধান ইসরায়েলি আর্টিলারি পজিশন লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। হিজবুল্লাহর পাল্টা প্রতিরোধের মুখে উত্তর ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ড্রোন হামলার আশঙ্কায় দফায় দফায় সতর্কতাসূচক সাইরেন বাজতে থাকে। আইডিএফ নিশ্চিত করেছে যে, শনিবার রাতে হিজবুল্লাহর একটি শক্তিশালী সুইসাইড ড্রোন দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন থাকা ইসরায়েলি বাহিনীর অগ্রবর্তী অবস্থানের খুব কাছাকাছি আঘাত হানতে সক্ষম হয়।

/আশিক


কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ১২:২৯:৪১
কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যে আবারও বাহরাইন ও কুয়েতের দিকে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন ছুড়েছে ইরান। গতকাল শনিবার (৬ জুন) ভোরের দিকে চালানো এই আকস্মিক হামলার বেশিরভাগই আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বাহরাইন কর্তৃপক্ষ। ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক বিশেষ প্রতিবেদনে আজ রবিবার (৭ জুন) এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সামরিক স্থাপনা ও বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানের ভাষ্যমতে, এর আগে পারস্য উপসাগরের কেশম দ্বীপ ও সিরিক এলাকার ইরানি উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনায় মার্কিন বাহিনী যে বিমান হামলা চালিয়েছিল, তা ছিল মূলত দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন; আর তারই পাল্টা জবাব হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে বাহরাইন সরকার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানকে অনতিবিলম্বে উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে এমন উসকানিমূলক সামরিক তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা বলছেন, নতুন করে শুরু হওয়া এই প্রত্যক্ষ সংঘর্ষের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে গত কয়েক মাস ধরে চলা নাজুক ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে নতুন করে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

/আশিক


যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে উৎসবের কাছে ভয়াবহ গোলাগুলি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ১২:২৫:৫১
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে উৎসবের কাছে ভয়াবহ গোলাগুলি
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের টলেডো শহরে একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসবস্থলের কাছে আকস্মিক এক ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ১২ জন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ও স্থানীয় নাগরিক আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার (৬ জুন) রাতে ওল্ড ওয়েস্ট এন্ড ফেস্টিভ্যাল এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। রক্তাক্ত এই ঘটনার পর জড়িত বন্দুকধারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে স্থানীয় কাউন্টি পুলিশ। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা আজ রবিবার (৭ জুন) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

টলেডো পুলিশ বিভাগ তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক জরুরি বার্তায় জানিয়েছে, ওল্ড ওয়েস্ট এন্ড ফেস্টিভ্যাল এলাকায় আকস্মিক গুলিবর্ষণের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশের একাধিক টহল দল। সেখানে পৌঁছে উৎসবের প্রবেশমুখের কাছ থেকে একাধিক গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের জরুরি দল।

পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি ঘটেছে কি না বা আহতদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা কতটা আশঙ্কাজনক, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ওহাইও চিকিৎসা কর্তৃপক্ষ।

গোলাগুলির কারণ এবং হামলাকারীরা সংখ্যায় কতজন ছিল তা এখনো স্পষ্ট নয়। টলেডো পুলিশের গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং হামলাকারীদের অবস্থান শনাক্ত করতে ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ নিবিড় অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এদিকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় বাসিন্দা এবং উৎসবে আসা দর্শনার্থীদের সাময়িকভাবে দুর্ঘটনাস্থল ও তার আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলার জরুরি আহ্বান জানিয়েছে টলেডো সিটি প্রশাসন। উৎসবের মাঝে এমন আকস্মিক বন্দুক হামলার ঘটনায় পুরো ওহাইও অঙ্গরাজ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

/আশিক


ফিলিস্তিনিদের বিয়ের অনুষ্ঠানে ইসরাইলি যুদ্ধবিমানের বর্বরতা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ২১:৪৮:৫৯
ফিলিস্তিনিদের বিয়ের অনুষ্ঠানে ইসরাইলি যুদ্ধবিমানের বর্বরতা
ছবি : সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা সিটিতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান লক্ষ্য করে ইসরাইলি বিমান বাহিনীর বর্বর হামলায় অন্তত পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা আজ শনিবার (৬ জুন) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই নিদারুণ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গাজা থেকে আল জাজিরার মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদক হানি মাহমুদ জানিয়েছেন, আনন্দঘন পরিবেশে বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে হঠাৎ করেই একটি নির্দিষ্ট তাঁবুকে লক্ষ্য করে দুটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান। মুহূর্তের মধ্যে পুরো অনুষ্ঠানস্থল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং ঘটনাস্থলেই হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে চাপা পড়ে থাকায় এবং বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তীব্র আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কোন সময়ে এবং গাজা সিটির সুনির্দিষ্ট কোন এলাকায় এই হামলা চালানো হয়েছে, তা নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেনি আল জাজিরা।

এদিকে গাজার ঐতিহাসিক আল-শিফা হাসপাতালের একটি নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা সূত্র গণমাধ্যমটিকে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ডজনেরও বেশি মানুষ মারাত্মকভাবে দগ্ধ ও আহত হয়েছেন। রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে এবং বর্তমানে জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিয়ের মতো একটি সামাজিক ও আনন্দঘন অনুষ্ঠানে ইসরাইলের এমন কাপুরুষোচিত বিমান হামলা স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নতুন করে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।

/আশিক


ইরানের বেশিরভাগ ড্রোন ও মিসাইল কারখানা ধ্বংস করা হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ২০:১২:৪৯
ইরানের বেশিরভাগ ড্রোন ও মিসাইল কারখানা ধ্বংস করা হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে অত্যন্ত নিখুঁত ও বিস্তারিত তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা যৌথ বিমান হামলার মুখে তেহরানের অধিকাংশ ড্রোন ও মিসাইল কারখানা ইতোমধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে। গত শুক্রবার (৫ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘এনবিসি নিউজ’-এর বিখ্যাত সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিস্ফোরক দাবি করেন।

সাক্ষাৎকারে নিজের স্বভাবসুলভ দৃঢ়তায় ট্রাম্প বলেন, “ইরানের ড্রোনগুলো বর্তমানে কোথায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে এবং তাদের ড্রোন তৈরির প্রধান প্রধান কারখানাগুলো ঠিক কোন কোন স্থানাঙ্কে অবস্থিত, সে সম্পর্কে আমরা পুরোপুরি অবগত।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, তাদের সুনির্দিষ্ট অভিযানের ফলে ইরানের অধিকাংশ ড্রোন কারখানা মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং একইভাবে দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের বেশিরভাগ ভূগর্ভস্থ স্থাপনাও অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে।

তবে পারস্য উপসাগরে চলমান এই সংঘাতের মাঝে ইরানের সামরিক তহবিলে বর্তমানে ঠিক কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অবশিষ্ট রয়েছে—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে সুরক্ষার স্বার্থে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান ট্রাম্প।

অবশিষ্ট সক্ষমতার বিষয়ে ধারণা দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “নিশ্চিতভাবেই তেহরানের হাতে এখনও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়ে গেছে। তবে যদি শতকরা হিসেবে বলতে হয়, তবে হয়তো তাদের আগের মোট ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার মাত্র ২১ বা ২২ শতাংশ এখন টিকে আছে।” ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, একটি দেশের জন্য এই পরিমাণ অস্ত্রও ‘অনেক’ বা ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া তীব্র যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি যৌথ বিমান হামলার আগের সক্ষমতার তুলনায় এটি একেবারেই নগণ্য।

সামরিকভাবে এত বিপর্যস্ত হওয়ার পরও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এখনো কোনো চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি বা যুদ্ধবিরতি না হওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন ট্রাম্প। এর পেছনে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ‘অতিরিক্ত অহংকার ও আত্মমর্যাদা’কে দায়ী করে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় তারা নিজেরাও বিশ্বাসই করতে পারছে না যে তারা আজ এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়েছে, যেখানে তাদের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব কার্যত ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।

তারা অত্যন্ত গর্বিত জাতি। ফলে আজ তাদের এমন কিছু শর্তে টেবিলে বসতে হচ্ছে, যা তারা অতীতে কখনো কল্পনাও করেনি। কিন্তু শান্তি চুক্তি করা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প খোলা নেই।” অবশ্য এর আগে গত বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প কিছুটা ইতিবাচক সুর টেনে দাবি করেছিলেন যে, পর্দার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ‘বেশ ভালোই এগোচ্ছে’। সম্ভাব্য কোনো চূড়ান্ত চুক্তির সময়সীমা নিয়ে তিনি যোগ করেন, “এটি শেষ মুহূর্তে ভেস্তেও যেতে পারে, তবে সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহান্তের মধ্যেই একটি বড় সমঝোতা চলে আসতে পারে।”

/আশিক


হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধের কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান, কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ১৭:৪১:৩৮
হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধের কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান, কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ছায়াযুদ্ধ এবার সরাসরি প্রকাশ্য ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রধান এবং কৌশলগত সামরিক স্থাপনায় শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। একইসঙ্গে তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে মার্কিন বা মিত্রজোটের পক্ষ থেকে আর কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে বিশ্ব তেল-গ্যাস রপ্তানির প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা আজ শনিবার (৬ জুন) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অননুমোদিত বাণিজ্যিক ও জ্বালানি ট্যাংকার চলাচল নিয়ে তৈরি হওয়া তীব্র উত্তেজনার জেরে ইরানের কেশম ও সিরি দ্বীপে তাদের সামরিক যোগাযোগ টাওয়ারে ড্রোন হামলা চালায় মার্কিন বিমানবাহিনী। পেন্টাগনের এই আচমকা আগ্রাসনের জবাবেই ইরানের অ্যারোস্পেস ফোর্স তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা আঘাত হানে। ইরানি বাহিনী কুয়েতের কৌশলগত ‘আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি’ এবং বাহরাইনে মোতায়েন থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘৫ম ফ্লিটের সদর দপ্তর’ লক্ষ্য করে একের পর এক দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

আইআরজিসির প্রকাশিত বিশদ তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতের সূত্রপাত হয় শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে একটার দিকে, যখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে বের হওয়ার চেষ্টা করছিল চারটি রহস্যময় ট্যাংকার জাহাজ। ইরানি নৌবাহিনীর কঠোর সতর্কবার্তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এবং কোনো পূর্ব-সমন্বয় ছাড়াই তারা জোরপূর্বক এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আইআরজিসি একটি ট্যাংকারে সরাসরি হামলা চালিয়ে সেটিকে অবরুদ্ধ করে।

এই ঘটনার পর বাকি তিনটি জাহাজ উল্টো পথে ফিরে যায়। তবে এর মাত্র আধ ঘণ্টার ব্যবধানে, রাত দুটার দিকে কেশম ও সিরি দ্বীপে অবস্থিত আইআরজিসির দুটি প্রধান টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে সুনির্দিষ্ট মার্কিন ড্রোন হামলা চালানো হয়। যার চূড়ান্ত ও বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়া হিসেবে ভোররাতেই কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি ছড়ায় তেহরান। বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও সতর্ক করেছে যে, এই ধরনের আগ্রাসনমূলক তৎপরতা আবারও ঘটলে ইরানের জবাব আর সীমিত থাকবে না এবং এর ফলে যদি হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করতে হয়, তবে তার সব অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক দায়ভার পুরোপুরি মার্কিন-ইসরায়েল জোটকেই বহন করতে হবে।

/আশিক


ইরানের সাথে সংঘাত নিয়ে খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি: ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ১১:৫১:৪৬
ইরানের সাথে সংঘাত নিয়ে খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে প্রথম মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ প্রায় ১০০ দিনের কাছাকাছি পৌঁছালেও তিনি দাবি করেছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে দেওয়া হবে না এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁর প্রশাসন অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পদক্ষেপ নিচ্ছে। ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘এনবিসি নিউজ’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “বিশ্বের বহু যুদ্ধ বছরের পর বছর ধরে চলে, কিন্তু আমরা মাত্র তিন মাসের মধ্যেই এই জটিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।” তবে যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও তিনি স্পষ্ট করে জানান, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের এখনও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা শান্তি চুক্তি হয়নি।

ইরানের সাথে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্প আরও যোগ করেন, ইরানের বর্তমান নীতিনির্ধারকদের সাথে একটি টেকসই সমঝোতায় পৌঁছানো মোটেও সহজ কাজ নয় এবং চলমান আলোচনা প্রক্রিয়ার ভেতর এখনও বেশ কিছু গভীর ভূরাজনৈতিক জটিলতা রয়ে গেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্র এখনই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে না জড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার পথ খুঁজছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: