খামেনির উত্তরসূরি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা: ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন পথে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ০৫:২৮:৫৬
খামেনির উত্তরসূরি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা: ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন পথে?

ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে মোজতবা খামেনির নিয়োগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর আগ্রহ ও বিশ্লেষণের বিষয় হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলি বিশ্লেষকদের মতে, নেতৃত্বে এই পরিবর্তন ইসরায়েলের সামরিক বা কৌশলগত নীতিতে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আনবে না।

ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের যুক্তি হলো, তাদের দৃষ্টিতে সমস্যা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি নয়; বরং পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থা। তাই নেতৃত্বে পরিবর্তন হলেও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে তাদের বর্তমান নীতি অব্যাহত রাখবে।

তবে একই সঙ্গে ইসরায়েল সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে—এই পরিবর্তন ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোর ভেতরে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, নাকি নতুন ফাটলের সম্ভাবনা তৈরি করছে। বিশেষ করে যদি ক্ষমতা উত্তরাধিকার সূত্রে একই পরিবারের ভেতরেই থেকে যায়, তবে তা ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ

দোহা থেকে আল জাজিরার বিশ্লেষক আলি হাশেম জানিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে বর্তমান পরিস্থিতি প্রায় এক ধরনের ডি-ফ্যাক্টো যুদ্ধের মতো। কারণ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে এসব অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনা।

তার মতে, নতুন সুপ্রিম লিডার নির্বাচনের ঘটনায় উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন থাকবে। একই সঙ্গে তারা এটাও পর্যবেক্ষণ করবে যে মোজতবা খামেনি নেতৃত্বে এসে কোনো নতুন কৌশল বা নীতিগত পরিবর্তন আনেন কি না। তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা আপাতত কম বলেই মনে করা হচ্ছে।

ইরানের সামরিক বাহিনীর আনুগত্য ঘোষণা

ইরানের সামরিক বাহিনী এবং প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) ইতোমধ্যেই নতুন সুপ্রিম লিডারের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী মোজতবা খামেনিকে “ন্যায়পরায়ণ, জ্ঞানী ও সক্ষম নেতা” হিসেবে অভিহিত করেছে।

IRGC-ও তাদের বিবৃতিতে জানায়, তারা নতুন সুপ্রিম লিডারের প্রতি “আন্তরিক ও আজীবন আনুগত্য” ঘোষণা করছে এবং তার নির্দেশ বাস্তবায়নে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে ইসলামী বিপ্লব কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং এটি একটি ধারাবাহিক রাজনৈতিক ও আদর্শিক ব্যবস্থা।

বিশ্লেষকদের মতামত

স্টিমসন ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক বারবারা স্লাভিন মনে করেন, খামেনির ছেলেকে নতুন নেতা হিসেবে বেছে নেওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার যৌক্তিকতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠতে পারে।

তার ভাষায়, “একজন কঠোরপন্থী নেতাকে হত্যা করে যদি তার জায়গায় আরও কঠোর একজন নেতা আসে, তাহলে পুরো যুদ্ধের যুক্তিই প্রশ্নের মুখে পড়ে।”

অন্যদিকে বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির বিশ্লেষক রামি খুরি মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত মূলত একটি শক্ত রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। তার মতে, “ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে জানিয়ে দিচ্ছে—তোমরা আমাদের ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলে, কিন্তু সেই ব্যবস্থাই এখন আরও দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।”

ইরানের অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া

তেহরান থেকে পাওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে দেশটির ভেতরে তথ্যপ্রবাহ অনেকটাই সীমিত হয়ে গেছে। অনেক পর্যবেক্ষক ধারণা করেছিলেন, নতুন সুপ্রিম লিডার নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় আরও সময় লাগবে। তাই দ্রুত এই ঘোষণা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হয়েছে।

তবে ইরানের অভ্যন্তরে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। সংস্কারপন্থী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আপাতত সেই আন্দোলনগুলো অনেকটাই স্তব্ধ হয়ে গেছে।

যুদ্ধের বিস্তার ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

ইসরায়েল ইতোমধ্যেই সতর্ক করে বলেছে, খামেনির যেকোনো উত্তরসূরিও তাদের সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া নতুন কোনো ইরানি নেতা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকতে পারবেন না।

এর জবাবে ইরানের নেতারা স্পষ্টভাবে বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণের অধিকার শুধুমাত্র ইরানের জনগণ ও তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর।

এদিকে যুদ্ধ এখন নবম দিনে প্রবেশ করেছে। ইসরায়েলের হামলায় তেহরানের আশপাশের কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যাওয়ায় রাজধানীর আকাশে ঘন ধোঁয়া দেখা গেছে। একই সময়ে IRGC দাবি করেছে যে তাদের কাছে ছয় মাস পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুদ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতের শেষ কোথায় হবে তা এখনো অনিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তা মনে করছেন, যুদ্ধ এক মাস বা তারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক রাজনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করতে পারে।


ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার: কে এই মোজতবা খামেনি?

ইসরাফিল আলম
ইসরাফিল আলম
ডেস্ক রিপোর্টার (মধ্যপ্রাচ্য)
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ০৫:১৫:৫১
ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার: কে এই মোজতবা খামেনি?
আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। ছবি- আল-জাজিরা।

ইরানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ পরই এই সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস।

৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি এখন ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে তার ৪৭ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের সময় নেতৃত্ব দেবেন। ঘোষণার পরপরই ইরানের প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC), সামরিক বাহিনী এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতারা নতুন নেতার প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছেন।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি নতুন নেতার চারপাশে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, নতুন সুপ্রিম লিডারের আনুগত্য করা “ধর্মীয় ও জাতীয় দায়িত্ব”।

মোজতবা খামেনি কখনো কোনো নির্বাচনে অংশ নেননি বা জনভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হননি। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি তার বাবার ঘনিষ্ঠ বৃত্তে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এবং বিশেষ করে IRGC-এর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। অনেক বছর ধরেই তাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, তার নির্বাচন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর কঠোরপন্থী গোষ্ঠীগুলো এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ফলে চলমান যুদ্ধের মধ্যে স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সমঝোতা বা আলোচনায় যাওয়ার সম্ভাবনা কম।

আল জাজিরার বিশ্লেষক আলি হাশেম বলেন, মোজতবা খামেনিকে দীর্ঘদিন ধরে “তার বাবার গেটকিপার” হিসেবে দেখা হতো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিষয়ে তার অবস্থানও বাবার মতোই কঠোর। তাই তার নেতৃত্বে আরও সংঘাতমুখী নীতি দেখা যেতে পারে, অন্তত যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতিতে।

অন্যদিকে বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির জননীতি বিশেষজ্ঞ রামি খুরি মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত মূলত “ধারাবাহিকতার সংকেত” এবং একই সঙ্গে একটি রাজনৈতিক বার্তা। তার ভাষায়, “ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে জানিয়ে দিচ্ছে—তোমরা আমাদের ব্যবস্থাকে ভেঙে দিতে চেয়েছিলে, কিন্তু এখন যে নেতা এসেছে তিনি আগের চেয়েও কঠোর।”

এরই মধ্যে ইসরায়েল আগেই সতর্ক করে বলেছে, খামেনির যেকোনো উত্তরসূরিকেও তারা লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, ওয়াশিংটনের অনুমোদন ছাড়া নতুন সুপ্রিম লিডার “দীর্ঘদিন টিকতে পারবেন না”।

তবে ইরানি নেতারা স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচন করার অধিকার শুধু ইরানের জনগণ ও তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর। পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, “ইরানের ভাগ্য কোনো বিদেশি শক্তি নয়, ইরানের জনগণই নির্ধারণ করবে।”

এদিকে যুদ্ধ এখন নবম দিনে গড়িয়েছে। তেহরানের আকাশে ধোঁয়ার ঘন স্তর দেখা গেছে, কারণ ইসরায়েল রাজধানীর আশপাশের কয়েকটি তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে IRGC দাবি করেছে যে তাদের কাছে কমপক্ষে ছয় মাস যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করেননি, যদিও তিনি দাবি করছেন যুদ্ধ প্রায় জিতেই গেছে। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের শেষ কোথায় হবে তা এখনো অনিশ্চিত, এবং যুদ্ধ আরও এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে চলতে পারে।


ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১৭:১৫:৫৯
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) সদস্য আহমাদ আলামুলহোদা নিশ্চিত করেছেন যে, দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, নতুন নেতাকে ইতিমধ্যে ভোটদানের মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয়েছে এবং এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা। আলামুলহোদা আরও জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার দায়িত্ব এখন বিশেষজ্ঞ পরিষদের সচিবালয়ের প্রধান আয়াতুল্লাহ হাশেম হোসাইনি বুশেহরির ওপর ন্যস্ত।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই তাঁর উত্তরসূরি নিয়ে দেশটিতে চরম উত্তেজনা ও গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছিল। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতিতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব কাউন্সিল রাষ্ট্র পরিচালনা করছিল, যার মধ্যে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তবে সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘যত দ্রুত সম্ভব’ স্থায়ী নেতা নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা থাকায় বিশেষজ্ঞ পরিষদ জরুরি বৈঠকে বসে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করে।

যদিও নবনির্বাচিত নেতার নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে আলেমদের বক্তব্য এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মেজো ছেলে মোজতবা খামেনি এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। পরিষদের অন্য এক সদস্য আয়াতুল্লাহ মহসিন হায়দারি আলেকাসি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এমন একজনকে নির্বাচন করা হয়েছে যাকে ‘বড় শয়তান’ বা যুক্তরাষ্ট্র ঘৃণা করে। যেহেতু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি মোজতবা খামেনির নাম উল্লেখ করে তাঁকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেছেন, তাই ধারণা করা হচ্ছে আলেমদের পছন্দের তালিকায় মোজতবা খামেনিই শীর্ষস্থানে রয়েছেন। বুশেহরির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমেই খুব শীঘ্রই ইরানের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।

/আশিক


‘বড় শয়তান’ যার নাম নিয়েছে, তিনিই কি তবে ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১৬:২৫:৪০
‘বড় শয়তান’ যার নাম নিয়েছে, তিনিই কি তবে ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা?
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতৃত্ব নির্ধারণকারী সংস্থা ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর সদস্যদের মধ্যে এ বিষয়ে প্রায় সংখ্যাগরিষ্ঠ ঐকমত্য তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। সংস্থাটির সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি আজ রোববার মেহের নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেছেন যে, নতুন নেতা নির্বাচন নিয়ে পরিষদের ভেতরে একটি বড় ধরনের সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে এখনো কিছু ছোটখাটো প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে, যা নিরসনের কাজ চলছে।

বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বৈঠক করা বা ভোট দেওয়া পরিষদের সদস্যদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। নূর নিউজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে পরিষদের আরেক সদস্য আয়াতুল্লাহ মহসিন হায়দারি আলেকাসি জানিয়েছেন যে, সশরীরে উপস্থিত হয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব না-ও হতে পারে। তবে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন যে, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার দেওয়া একটি বিশেষ পরামর্শ অনুসরণ করে ইতিমধ্যে একজন প্রার্থীকে বাছাই করা হয়েছে। খামেনির সেই পরামর্শ অনুযায়ী, ইরানের পরবর্তী শীর্ষ নেতা এমন একজন হওয়া উচিত যাকে ‘শত্রুরা ঘৃণা করবে’ এবং কখনো প্রশংসা করবে না।

বাছাই করা এই সম্ভাব্য উত্তরসূরি সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়ে আলেকাসি আরও বলেন যে, এমনকি খোদ ‘বড় শয়তান’ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রও তাঁর নাম উল্লেখ করেছে। এই মন্তব্যটি মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের দিকেই ইঙ্গিত করছে। উল্লেখ্য যে, গত কয়েক দিন আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে আয়াতুল্লাহ খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে তাঁর কাছে একটি ‘অগ্রহণযোগ্য’ বিকল্প হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। ট্রাম্পের এমন বিরোধিতার পর ইরানি আলেমদের এই মন্তব্য মোজতবা খামেনিরই পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে। এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করছে পুরো বিশ্ব।

সূত্র: রয়টার্স


ডাবল-ট্যাপ হামলার কবলে নাজাফাবাদ: ইরানের মধ্যাঞ্চলে নিহতের মিছিল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১৬:১২:১১
ডাবল-ট্যাপ হামলার কবলে নাজাফাবাদ: ইরানের মধ্যাঞ্চলে নিহতের মিছিল
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর নাজাফাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীর এক ভয়াবহ 'ডাবল-ট্যাপ' ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই মর্মান্তিক ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলাটি চালানো হয়েছে যাতে করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সর্বোচ্চ হয়। প্রথম দফা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর যখন স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীরা হতাহতদের সাহায্য করতে এবং ধ্বংসস্তূপ সরাতে ঘটনাস্থলে দ্রুত জড়ো হন, ঠিক তখনই সেখানে দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানে।

আল-জাজিরা ফার্স নিউজের বরাতে একজন পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য প্রকাশ করেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে দ্বিতীয় হামলাটি মূলত উদ্ধারকাজে নিয়োজিত মানবিক সহায়তাকারীদের লক্ষ্য করেই চালানো হয়েছিল। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে একই স্থানে দুইবার হামলা চালানোর এই বিশেষ কৌশলটি 'ডাবল-ট্যাপ' নামে পরিচিত, যা উদ্ধার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং বেসামরিক মৃত্যুর সংখ্যা বাড়াতে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই আকস্মিক হামলায় নাজাফাবাদ এলাকায় বর্তমানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং উদ্ধারকাজ পরিচালনায় চরম বিঘ্ন ঘটছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যে এই ধরনের হামলার ঘটনা উত্তেজনাকে আরও চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ইরানের পক্ষ থেকে এই আক্রমণকে অত্যন্ত কাপুরুষোচিত এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষ ও উদ্ধারকর্মীদের টার্গেট করে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে আহতদের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা


ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে সতর্ক করল চীন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১৫:২৮:৫৪
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে সতর্ক করল চীন
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যে কোনো প্রচেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য তা গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।

রোববার (৮ মার্চ) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়াং ই বলেন, সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে বর্তমান সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজাই একমাত্র কার্যকর পথ।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বব্যবস্থা এমন এক পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে পারে না যেখানে শক্তিশালী রাষ্ট্র নিজের ক্ষমতার জোরে অন্য দেশের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়। তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি এবং সংলাপভিত্তিক সমাধান।

ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বক্তব্য প্রসঙ্গে ওয়াং ই বলেন, তথাকথিত “রঙিন বিপ্লব” বা বাহ্যিকভাবে রাজনৈতিক পরিবর্তন চাপিয়ে দেওয়ার ধারণা ইরানের জনগণের মধ্যে সমর্থন পায় না। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আলোচনাভিত্তিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়াই সবচেয়ে কার্যকর পথ।

তিনি আরও বলেন, ইরানসহ প্রতিটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করা আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি। তাই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন, যাতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে।

ওয়াং ই এই সংঘাতকে একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি এমন একটি সংঘর্ষ যা কখনও শুরু হওয়া উচিত ছিল না এবং যার ফলে কোনো পক্ষই প্রকৃত লাভবান হবে না। তার মতে, সশস্ত্র সংঘাত কেবল ঘৃণা ও অবিশ্বাস বাড়ায় এবং নতুন সংকটের জন্ম দেয়।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার মূলত সেই অঞ্চলের জনগণেরই থাকা উচিত। বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়া স্থানীয় দেশগুলোকেই নিজেদের আঞ্চলিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্স কাউন্সিলের একটি গোপন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি বড় ধরনের সামরিক হামলাও চালায়, তবুও ইরানের সামরিক ও ধর্মীয় ক্ষমতার কাঠামো সহজে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা কম। এই বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যায় যে সামরিক পন্থায় দ্রুত রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটানো বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন।

ওয়াং ই কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে হবে। সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করা এবং যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব।

তিনি আরও জানান, চীন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত, যাতে আঞ্চলিক শান্তি পুনরুদ্ধার, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায়।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বুধবার (৪ মার্চ) ওয়াং ই ঘোষণা দেন যে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীন একটি বিশেষ দূত পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যার লক্ষ্য হবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ ও মধ্যস্থতা জোরদার করা।

-রফিক


মার্কিন সেনা বন্দির দাবি ইরানের; ওয়াশিংটনের কড়া প্রতিবাদে তুঙ্গে উত্তেজনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১২:১৭:৩৬
মার্কিন সেনা বন্দির দাবি ইরানের; ওয়াশিংটনের কড়া প্রতিবাদে তুঙ্গে উত্তেজনা
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন সেনাকে বন্দি করার দাবি করেছে ইরান, তবে ওয়াশিংটন এই তথ্যকে সরাসরি ‘মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, তার মধ্যেই এই নতুন স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হলো। শনিবার (৭ মার্চ) ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে দাবি করেন যে, বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আটক করতে সক্ষম হয়েছে। লারিজানি অভিযোগ তুলেছেন যে, হোয়াইট হাউস এই ঘটনাটি বিশ্ববাসীর কাছ থেকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

আলী লারিজানি তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রশাসন দাবি করছে ওই সেনারা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারিয়েছেন, কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো তারা বর্তমানে ইরানের হেফাজতে বন্দি অবস্থায় আছেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মার্কিন সরকার এই সত্য খুব বেশিদিন গোপন রাখতে পারবে না এবং শীঘ্রই সব প্রকাশ পাবে। ইরানের এই চাঞ্চল্যকর দাবির পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর একজন মুখপাত্র আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কোনো মার্কিন সেনা আটক হওয়ার তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট। তিনি ইরানের এই দাবিকে দেশটির শাসকগোষ্ঠীর ‘মিথ্যাচার ও প্রতারণার’ একটি নিকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, তেহরান পরিকল্পিতভাবে আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেড় শতাধিক স্কুলছাত্রীসহ এক হাজারের বেশি মানুষ নিহতের ঘটনায় ইরান চরম প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠেছে। ওই হামলার পর থেকেই ইরান ও তার মিত্ররা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় অনবরত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। বর্তমান এই বন্দি নাটক এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পুরো অঞ্চলকে এক ভয়াবহ ও অনিশ্চিত পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড।


ইরানের দাবি, ২৪ ঘণ্টায় ২২০ মার্কিন সেনা হতাহত

শরিফুল ইসলাম
শরিফুল ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১১:৫৪:০০
ইরানের দাবি, ২৪ ঘণ্টায় ২২০ মার্কিন সেনা হতাহত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরান দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের সশস্ত্র বাহিনী একাধিক দেশে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনার ওপর পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইরানের সামরিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, এসব হামলায় মোট প্রায় ২২০ জন মার্কিন সৈন্য ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত বা আহত হয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শনিবার এক বিবৃতিতে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি বলেন, সাম্প্রতিক অভিযানের অংশ হিসেবে বাহরাইনে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিটকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত ২১ জন মার্কিন নৌসেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ইরানি সামরিক কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটি আল ধাফরা বিমানঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই হামলার ফলে সেখানে অবস্থানরত প্রায় ২০০ জন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত বা আহত হয়েছেন।

এছাড়া পারস্য উপসাগরের উত্তরাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে বলেও দাবি করেছে তেহরান। যদিও এসব হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর। ইরানের অভিযোগ, ওই হামলায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এর কয়েক মাস আগে থেকেই ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোর ওপর ধারাবাহিকভাবে উসকানিমূলক আক্রমণ চালানো হচ্ছিল।

ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ওই হামলায় ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার এবং শত শত বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। যদিও এই দাবি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান দ্রুত পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে।

ইরানি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, এসব হামলার লক্ষ্য কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা এবং কৌশলগত স্বার্থ। তাদের দাবি, যেসব দেশের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেই দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের কোনো বৈরিতা নেই এবং তারা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে।


ইসরায়েলে জরুরি অবস্থা: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টির মুখে দিশেহারা আইডিএফ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১১:৫০:২৮
ইসরায়েলে জরুরি অবস্থা: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টির মুখে দিশেহারা আইডিএফ
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের বহুল আলোচিত ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’-এর আওতায় ২৭তম দফা শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, শনিবার এক বিশেষ বিবৃতিতে আইআরজিসি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। এই সমন্বিত আক্রমণে ইসরায়েলের অধিকৃত উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে আরও দাবি করেছে যে, এবারের অভিযানে তাদের মহাকাশ বিভাগ প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক ও কঠিন জ্বালানিচালিত ‘খেইবার-শেকান’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষম এই বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ইসরায়েলের হাইফা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থানে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের ড্রোন ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকে লক্ষ্য করে ‘মেরিনা’ নামক একটি এলাকায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে বলে সশস্ত্র বাহিনীটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

পাল্টা এই অভিযানের পরিধি কেবল স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তুতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। আইআরজিসির নৌবাহিনী বাহরাইনে মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী পঞ্চম নৌবহরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনাতেও আক্রমণ চালিয়েছে, যার মধ্যে সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর সামরিক সহায়তা কেন্দ্রটি অন্যতম।

ইরানের এই আকস্মিক ও বিধ্বংসী হামলার পর ইসরায়েলের অধিকৃত বিভিন্ন অঞ্চলে বারবার সতর্কবার্তা হিসেবে সাইরেন বেজে উঠছে এবং সেখানে এক ধরনের জরুরি পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত গত সপ্তাহে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার চূড়ান্ত প্রতিশোধ নিতেই ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’ শুরু করে তেহরান, যা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সমর সমীকরণকে চরম উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

/আশিক


২৪ ঘণ্টায় ১০৮ বার কম্পন! আমেরিকাজুড়ে কি বড় কোনো দুর্যোগের পূর্বাভাস?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১১:১২:৫৮
২৪ ঘণ্টায় ১০৮ বার কম্পন! আমেরিকাজুড়ে কি বড় কোনো দুর্যোগের পূর্বাভাস?
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে হঠাৎ করেই ঘন ঘন ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে যা সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৮টি মৃদু মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। ভূকম্পন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউএসজিএস (USGS)-এর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, গত ২৪ ঘণ্টায় পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১ দশমিক ৫ বা তার বেশি মাত্রার মোট ১০৮টি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এই প্রবণতা গত এক সপ্তাহ ধরেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং গত সাত দিনে মোট ভূমিকম্পের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩১টিতে। এছাড়া গত ৩০ দিনের হিসাব অনুযায়ী দেশটিতে প্রায় ৩ হাজার ৭০৭টি ছোট-বড় ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে অনুভূত হওয়া এই ভূমিকম্পগুলোর বেশিরভাগই ছিল তুলনামূলক কম মাত্রার এবং সেভাবে কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য মতে, নেভাদার লাভলকে ১.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছে যার গভীরতা ছিল প্রায় ৪ কিলোমিটার। এর আগে টেক্সাসের ভ্যান হর্নে ১.৯ মাত্রার এবং ক্যালিফোর্নিয়ার সোলেদাদে ২.০ মাত্রার মৃদু কম্পন অনুভূত হয়। এছাড়া হাওয়াইয়ের আগ্নেয়গিরি প্রবণ এলাকা, আলাস্কার সোলডোটনা ও হ্যাপি ভ্যালি, নিউ মেক্সিকোর লাভিং এবং টেক্সাসের বেশ কিছু অঞ্চলেও স্বল্প মাত্রার কম্পন রেকর্ড করেছে পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো।

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হেনেছে লুইজিয়ানার কুশাট্টায় যার মাত্রা ছিল ৪.৯। তবে চলতি মাসের সামগ্রিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পটি রেকর্ড করা হয়েছে আলাস্কার উনালাস্কায় যার মাত্রা ছিল ৬.১। অন্যদিকে চলতি বছর এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পের সাক্ষী হয়েছে আলাস্কার স্যান্ড পয়েন্ট এলাকা যেখানে রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৩। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, আলাস্কা, ক্যালিফোর্নিয়া ও হাওয়াই ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চল হওয়ায় সেখানে ছোট মাত্রার ভূমিকম্প হওয়া একটি নিয়মিত ঘটনা এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলো বড় কোনো বিপদ বা ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় না।

/আশিক

পাঠকের মতামত: