ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১৭:১৫:৫৯
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) সদস্য আহমাদ আলামুলহোদা নিশ্চিত করেছেন যে, দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, নতুন নেতাকে ইতিমধ্যে ভোটদানের মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয়েছে এবং এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা। আলামুলহোদা আরও জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার দায়িত্ব এখন বিশেষজ্ঞ পরিষদের সচিবালয়ের প্রধান আয়াতুল্লাহ হাশেম হোসাইনি বুশেহরির ওপর ন্যস্ত।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই তাঁর উত্তরসূরি নিয়ে দেশটিতে চরম উত্তেজনা ও গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছিল। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতিতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব কাউন্সিল রাষ্ট্র পরিচালনা করছিল, যার মধ্যে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তবে সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘যত দ্রুত সম্ভব’ স্থায়ী নেতা নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা থাকায় বিশেষজ্ঞ পরিষদ জরুরি বৈঠকে বসে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করে।

যদিও নবনির্বাচিত নেতার নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে আলেমদের বক্তব্য এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মেজো ছেলে মোজতবা খামেনি এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। পরিষদের অন্য এক সদস্য আয়াতুল্লাহ মহসিন হায়দারি আলেকাসি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এমন একজনকে নির্বাচন করা হয়েছে যাকে ‘বড় শয়তান’ বা যুক্তরাষ্ট্র ঘৃণা করে। যেহেতু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি মোজতবা খামেনির নাম উল্লেখ করে তাঁকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেছেন, তাই ধারণা করা হচ্ছে আলেমদের পছন্দের তালিকায় মোজতবা খামেনিই শীর্ষস্থানে রয়েছেন। বুশেহরির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমেই খুব শীঘ্রই ইরানের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।

/আশিক


আমার অনুমোদন ছাড়া ইরানের কোনো সর্বোচ্চ নেতা টিকবেন না: ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১৯:৪৭:৪৭
আমার অনুমোদন ছাড়া ইরানের কোনো সর্বোচ্চ নেতা টিকবেন না: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না। রোববার (৮ মার্চ) ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ কর্তৃক মোজতবা খামেনিকে নির্বাচিত করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ইরানের এই শীর্ষ পদে স্থায়িত্ব পেতে ওয়াশিংটনের ‘অনুমোদন’ বা সম্মতির প্রয়োজন হবে।

ট্রাম্প বলেন, “তাকে আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। যদি তিনি আমাদের অনুমোদন না পান, তবে তিনি বেশি দিন টিকতে পারবেন না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি ভবিষ্যতে অন্য কোনো মার্কিন সরকারকে একই সমস্যার সমাধানে নতুন করে যুদ্ধ বা সামরিক অভিযানে জড়াতে দেখতে চান না। ট্রাম্পের ভাষায়, “আমি চাই না পাঁচ বছর পর মানুষকে আবারও একই পরিস্থিতিতে ফিরতে হোক... বা তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র চলে আসুক।” তিনি এর আগে মোজতবা খামেনিকে ‘লাইটওয়েট’ বা অযোগ্য হিসেবেও অভিহিত করেছিলেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ট্রাম্পের এই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, নতুন নেতা নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এখানে বিদেশি কোনো শক্তির হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। রোববার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, “আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কাউকে হস্তক্ষেপ করতে দেব না। এটি সম্পূর্ণভাবে ইরানের জনগণের সিদ্ধান্ত।” তিনি আরও যোগ করেন যে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেছে এবং ট্রাম্পের বরং এই যুদ্ধের ধ্বংসলীলার জন্য ক্ষমা চাওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর ৯ দিন পর ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করা হয়। ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশ্লেষক বারবারা স্লাভিনের মতে, ট্রাম্পের এই অনমনীয় মনোভাব এবং মোজতবা খামেনিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা আগামী দিনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

/আশিক


তুরস্ক লক্ষ্য করে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১৮:৫২:৫৭
তুরস্ক লক্ষ্য করে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনা এবার তুরস্কের আকাশসীমায় পৌঁছেছে। ইরান থেকে তুরস্ক লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে আঙ্কারা। সোমবার (৯ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। তবে ইরান শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরান থেকে ছোড়া হয়েছিল এবং এটি ইরাক ও সিরিয়ার আকাশসীমা অতিক্রম করে তুরস্কের দিকে আসছিল। তবে তুরস্কের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার আগেই পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন থাকা ন্যাটোর শক্তিশালী বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এটি মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস হওয়ার পর এর কিছু অবশিষ্টাংশ তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গাজিয়ানতেপ এলাকায় আছড়ে পড়ে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি।

তুরস্কের সরকারি কর্মকর্তারা এই ঘটনার পর কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, দেশের আকাশসীমা এবং নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় তুর্কি সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। আঙ্কারা স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যে, দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার অধিকার তুরস্ক সংরক্ষণ করে।

অন্যদিকে, ইরান এই হামলার অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ‘সাজানো’ বলে দাবি করেছে। সোমবার তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই বলেন, গত এক সপ্তাহে তুরস্ক, সাইপ্রাস বা আজারবাইজানে ইরান থেকে কোনো ধরনের সামরিক আক্রমণ চালানো হয়নি। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্কে ফাটল ধরাতে শত্রুপক্ষ এই ধরনের হামলার নাটক সাজাতে পারে। ইরান বারবার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কথা বললেও তুরস্কের এই দাবি অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

/আশিক


ইরানের নতুন অধ্যায়ে রাশিয়ার সমর্থন; মোজতবা খামেনিকে পুতিনের বিশেষ বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১৬:৫৪:৫২
ইরানের নতুন অধ্যায়ে রাশিয়ার সমর্থন; মোজতবা খামেনিকে পুতিনের বিশেষ বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিযুক্ত হওয়ায় আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রেমলিন থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পুতিন তাঁর বার্তায় মোজতবা খামেনির নেতৃত্বের ওপর গভীর আস্থা প্রকাশ করে আশা প্রকাশ করেছেন যে, তিনি তাঁর প্রয়াত পিতার অসমাপ্ত কাজগুলো অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

রুশ প্রেসিডেন্ট মোজতবা খামেনির প্রশংসা করে বলেন, বর্তমানে ইরান যে কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেই সংকটময় মুহূর্তে তিনি ইরানি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষম হবেন। পুতিন তাঁর বিবৃতিতে এই কঠিন সময়ে তেহরানের প্রতি মস্কোর অটল সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, রাশিয়া সবসময় তার ইরানি বন্ধুদের পাশে থাকবে এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সংহতি বজায় রাখা হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে রাশিয়ার এই প্রকাশ্য সমর্থন ও সংহতি তেহরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মূলত দুই দেশের দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত করতেই পুতিন এই অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের কাছেও একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা।


ডিজিটাল নীরবতায় ইরান: দশম দিনে পড়ল পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১৬:৩৩:৩৭
ডিজিটাল নীরবতায় ইরান: দশম দিনে পড়ল পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে সরকারি সিদ্ধান্তে আরোপিত নজিরবিহীন ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট আজ সোমবার (৯ মার্চ) দশম দিনে পদার্পণ করেছে। এর ফলে দেশটির প্রায় ৯ কোটি মানুষ গত ১০ দিন ধরে বহির্বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘নেটব্লকস’ তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানি নাগরিকেরা টানা ২১৬ ঘণ্টা ধরে বৈশ্বিক ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন, যা সমসাময়িক ডিজিটাল ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ শাটডাউন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

নেটব্লকসের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানে ইন্টারনেটের সংযোগ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে। এই চরম শাটডাউনের ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন ভেঙে পড়েছে, তেমনি বহির্বিশ্বের সঙ্গে সব ধরনের তথ্য আদান-প্রদানও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নতুন নেতৃত্বের অধীনে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির খবর যেন বাইরে না আসতে পারে, সেজন্যই এই কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে।

দীর্ঘ ১০ দিনের এই ডিজিটাল নীরবতায় ইরানের সাধারণ নাগরিকেরা জরুরি সেবা, ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারছেন না। তথ্যের অবাধ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করার এই চরম পন্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংস্থাগুলো। ইন্টারনেট না থাকায় দেশটির অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা এবং যোগাযোগ নির্ভর খাতগুলো এখন সম্পূর্ণ অচল, যা ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হানছে। বর্তমানে হাতেগোনা কয়েকটি সরকারি দপ্তর ছাড়া সাধারণ জনগণের জন্য ইন্টারনেটে প্রবেশের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।

তথ্যপ্রযুক্তির এই শূন্যতার কারণে ইরানের ভেতরে বর্তমানে ঠিক কী ঘটছে, তা বহির্বিশ্বের জন্য জানা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। নেটব্লকস উল্লেখ করেছে, এটি অত্যন্ত পরিকল্পিত একটি ব্ল্যাকআউট যার মাধ্যমে ৯ কোটি মানুষের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই ডিজিটাল অচলাবস্থা কতদিন স্থায়ী হবে সে সম্পর্কে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়নি। আন্তর্জাতিক মহলের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে তেহরান তাদের এই অবস্থান থেকে সরে আসে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

/আশিক


জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল করতে জি৭র জরুরি পদক্ষেপ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১৪:০৪:০৬
জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল করতে জি৭র জরুরি পদক্ষেপ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে তৈরি হওয়া অস্থিরতা মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তা করছে বিশ্বের প্রধান উন্নত অর্থনীতির জোট জি৭। আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কৌশলগত মজুদ থেকে তেল ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জি৭ভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীরা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলার উপায় হিসেবে স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে তেল সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ জি৭ জোটের অন্তত তিনটি দেশ এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বলে জানা গেছে।

ফিনান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর সমন্বয়ে সোমবার জি৭ভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে আইইএ’র নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল-ও অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। সূত্রের মতে, এক বিরল টেলিফোন আলোচনার মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করবেন জি৭ অর্থমন্ত্রীরা।

সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড তেলের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও পরিবহন খাতে ব্যয়ের চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে অনেক দেশেই মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ছে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের ধারণা, পরিস্থিতি সামাল দিতে আইইএ’র তত্ত্বাবধানে থাকা জরুরি মজুদ থেকে ৩০০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়া হতে পারে। এই পরিমাণ আইইএ’র মোট কৌশলগত মজুদের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের সমান। বর্তমানে সংস্থাটির অধীনে জরুরি ব্যবহারের জন্য প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানি তেল সংরক্ষিত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জরুরি মজুদ থেকে তেল বাজারে ছাড়া হলে স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কমানো এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমাধান খোঁজা জরুরি বলে তারা মনে করছেন।

সূত্র:ফিন্যান্সিয়াল টাইমস,রয়টার্স,ওয়েল প্রাইস,আল-জাজিরা


শত্রুপক্ষের সহযোগীদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের হুঁশিয়ারি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১৩:১৩:৫৭
শত্রুপক্ষের সহযোগীদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের হুঁশিয়ারি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে অবস্থানরত ইরানিদের মধ্যে যারা দেশের শত্রুপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করবে বা তাদের কর্মকাণ্ডে সহায়তা দেবে, তাদের সম্পদ আইন অনুযায়ী বাজেয়াপ্ত করা হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদেশে বসবাসকারী কোনো ইরানি নাগরিক যদি ইরানের বিরুদ্ধে কার্যক্রম পরিচালনাকারী শত্রু শক্তির সঙ্গে সমন্বয়, সহযোগিতা বা সমর্থন করে, তাহলে আইন অনুযায়ী তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইরানের আইন অনুযায়ী এ ধরনের কার্যক্রম জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়।

ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর আরও জানিয়েছে, এই ঘোষণা মূলত চলতি বছরের অক্টোবর মাসে অনুমোদিত একটি আইনের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। আইনটির শিরোনাম হচ্ছে গুপ্তচরবৃত্তি এবং জায়নিস্ট শাসনব্যবস্থা (ইসরায়েল) ও শত্রু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার শাস্তি বাড়ানোর আইন।

উক্ত আইনের প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌম স্বার্থের বিরুদ্ধে শত্রু রাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ, তথ্য সরবরাহ বা সহযোগিতা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন শাস্তির বিধান রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গোয়েন্দা তৎপরতার প্রেক্ষাপটে তেহরান সরকার জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে এই ধরনের কঠোর আইনি পদক্ষেপের দিকে ঝুঁকছে।

তারা মনে করেন, এই আইন মূলত বিদেশে অবস্থানরত ইরানি নাগরিকদের মধ্যে যারা শত্রু রাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বা রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা করছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্যেই সতর্কবার্তা হিসেবে জারি করা হয়েছে।

ইরানের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে এই আইন প্রয়োগ করা হবে এবং যে কেউ শত্রু রাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

সূত্র: আল জাজিরা


ক্ষমতা গ্রহণ করেই রণক্ষেত্রে নতুন নেতা: তেহরানের প্রথম বড় মুভমেন্ট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১২:৩৮:২১
ক্ষমতা গ্রহণ করেই রণক্ষেত্রে নতুন নেতা: তেহরানের প্রথম বড় মুভমেন্ট
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সরাসরি নির্দেশনায় ইসরায়েল অভিমুখে প্রথমবারের মতো বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। সোমবার (৯ মার্চ) ভোরের দিকে এই আক্রমণ চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন আইআরইবি। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ত্রিমুখী সংঘাতের ধারাবাহিকতায় এটি তেহরানের পক্ষ থেকে নতুন এক ধাপের সামরিক পদক্ষেপ।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাঈদ মোজতবা খামেনির নির্দেশে সোমবার ভোরে 'জায়নবাদী শক্তি' বা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে একগুচ্ছ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিই তাঁর নির্দেশনায় পরিচালিত প্রথম সামরিক অভিযান। প্রচারের সময় একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ছবিও প্রদর্শন করা হয়, যার গায়ে লেখা ছিল ‘আপনার নির্দেশের অপেক্ষায়, সাঈদ মোজতবা’। এই হামলার মাধ্যমে মোজতবা খামেনি তাঁর নেতৃত্বের শুরুতেই সামরিক সক্ষমতার কঠোর বার্তা দিলেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাতের প্রথম দিনেই ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর ঠিক ৯ দিনের মাথায় প্রভাবশালী সংস্থা ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। ইরানের শাসনতান্ত্রিক কাঠামোতে সর্বোচ্চ নেতার পদটি সবচেয়ে ক্ষমতাধর এবং তিনি একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থায় সামরিক, গোয়েন্দা, অর্থনীতি ও রাজনীতিসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ খাতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক ক্ষমতা সর্বোচ্চ নেতার হাতে ন্যস্ত। মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে এই প্রথম হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল ও ভয়াবহ রূপ দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই হামলার কী ধরনের প্রতিক্রিয়া আসে, তার ওপরই নির্ভর করছে অঞ্চলের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা।

/আশিক


ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি সংঘাত: উপসাগরীয় তিন দেশে ইরানের নজিরবিহীন আক্রমণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১২:১১:৫০
ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি সংঘাত: উপসাগরীয় তিন দেশে ইরানের নজিরবিহীন আক্রমণ
ছবি : সংগৃহীত

সোমবার (৯ মার্চ) ভোররাতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে, যখন পারস্য উপসাগরীয় তিন দেশ কাতার, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ইরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার নতুন এক তরঙ্গ আছড়ে পড়ে। এই সুসংগঠিত ও নজিরবিহীন আক্রমণে বাহরাইনে অন্তত ৩২ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরান থেকে ধেয়ে আসা এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বৃষ্টির ফলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে এক চরম আতঙ্ক ও যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

কাতারের রাজধানী দোহায় স্থানীয় সময় রাত ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করা হয় এবং বাসিন্দাদের মোবাইলে জরুরি বার্তা পাঠিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই দোহাবাসী আকাশের ওপর বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান, যা ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্য করে কাতারি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধমূলক মিসাইলের পাল্টা আঘাত। প্রত্যক্ষদর্শীরা অন্তত ১২ থেকে ১৩টি শক্তিশালী বিস্ফোরণের কথা জানিয়েছেন। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী সফলভাবে কাতার অভিমুখী একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

আক্রমণের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে বাহরাইনে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী মানামার দক্ষিণের সিতরা এলাকায় ইরানি ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন নাগরিক আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশু ও কিশোর-কিশোরীও রয়েছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতেও রাতভর এবং সোমবার সকাল পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে এসব হুমকি মোকাবিলা করছে। তবে ফুজাইরাহ তেল শিল্প এলাকায় একটি ড্রোন ভূপাতিত করার সময় সেটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই সরাসরি আক্রমণাত্মক অবস্থান প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যের ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি ও পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের দিকে মোড় নিয়েছে। বর্তমানে আক্রান্ত দেশগুলোর আকাশসীমা ও সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই হামলার সমুচিত জবাব দেওয়ার বিষয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা


যুদ্ধের ময়দানে এবার মুখোমুখি সৌদি-ইরান? রিয়াদের কড়া সতর্কবার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১১:৪২:০৪
যুদ্ধের ময়দানে এবার মুখোমুখি সৌদি-ইরান? রিয়াদের কড়া সতর্কবার্তা
ছবি : সংগৃহীত

আরব অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর ইরান যদি নির্বিচারে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রাখে, তবে চলমান যুদ্ধে দেশটির ‘সর্বোচ্চ পরাজয়’ ঘটতে পারে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি আরব। গতকাল রোববার (৮ মার্চ) রিয়াদের পক্ষ থেকে তেহরানের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করা হয়। মূলত গত শনিবার সৌদি আরবের অন্যতম বৃহৎ তেলক্ষেত্র ‘শায়েবাহ অয়েল ফিল্ড’-এ ইরানি ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠার পরদিনই সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, কোনো বাস্তব ভিত্তি ছাড়াই ইরান আরব দেশগুলোকে লক্ষ্য করে যুক্তিহীন ও নির্বিচার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বিবৃতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কঠোর সমালোচনা করে বলা হয়, তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব পদক্ষেপের মধ্যে বিস্তর ‘অমিল’ রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধের কথা বললেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। রিয়াদ স্পষ্ট করেছে যে, তেহরানের এমন উস্কানিমূলক আচরণ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরান যদি তাদের এই আক্রমণাত্মক নীতি পরিবর্তন না করে এবং নির্বিচার হামলা চালিয়ে যেতে থাকে, তবে চলমান সংঘাত দেশটির জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ও পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। পাশাপাশি এই পরিস্থিতির ফলে রিয়াদ ও তেহরানের বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যতের ওপর গভীর ও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো ইরানকে সরাসরি এমন কঠোর ভাষায় সতর্ক করল সৌদি আরব।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে সৌদি আরবের এই অবস্থান পরিবর্তনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এতদিন পর্যন্ত সৌদি আরব এই সংঘাত থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখলেও নিজেদের তেলক্ষেত্রে হামলার পর তারা সরাসরি তেহরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিল। এই সতর্কবার্তার ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের ব্যাপ্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সৌদি আরবের এই হুমকির পর ইরান তাদের রণকৌশলে কোনো পরিবর্তন আনে কি না অথবা পাল্টাহুমকি দেয় কি না।

সূত্র: অ্যান্ডারসন হেরাল্ড

পাঠকের মতামত: