আমিরাতের পর এবার কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন দম্ভ গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১৬:৩৬:১০
আমিরাতের পর এবার কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন দম্ভ গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইরান
ছবি : সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর এবার কুয়েতে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কুয়েতের আল আদিরি বিমানঘাঁটিতে তাদের এই অভিযান অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) ইরানের সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আল জাজিরা এই চাঞ্চল্যকর খবরটি প্রকাশ করেছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় বিমানঘাঁটির ভেতরে অবস্থিত মার্কিন হেলিকপ্টার মেরামত কেন্দ্র, বিশাল জ্বালানি ট্যাংক এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি কমান্ড সেন্টার পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

এর আগে কুয়েত সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে এবং সেগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়েছে। তবে কুয়েত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। ফারস নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হামলার পর বিমানঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে এবং সেখান থেকে এখনো ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে, যা মাইলের পর মাইল দূর থেকেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতের ঘাঁটিতে ইরানের এই সরাসরি হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অস্থির করে তুলবে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন। ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক স্বার্থ ও স্থাপনা রয়েছে, সেগুলোকে লক্ষ্য করেই তাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে এই ঘটনা পুরো অঞ্চলে এক ভয়াবহ যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি করেছে।

/আশিক


ইসরায়েলজুড়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি! হাইফা-তেল আবিবে বিধ্বংসী হামলা

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১১ ১১:৩৭:০১
ইসরায়েলজুড়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি! হাইফা-তেল আবিবে বিধ্বংসী হামলা
ছবি : সংগৃহীত

গত কয়েক ঘণ্টায় ইসরায়েলের হাইফা, তেল আবিব ও জেরুজালেমসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে নতুন করে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর এটি এখন পর্যন্ত চালানো সবচেয়ে শক্তিশালী ও ভয়াবহ হামলাগুলোর একটি। এই অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, মঙ্গলবার রাতের এই অভিযানে তারা তাদের অন্যতম শক্তিশালী ‘খোরামশাহর’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। আইআরজিসি আরও জানায়, তেল আবিবের দক্ষিণে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র লক্ষ্য করে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে। এছাড়া হাইফা, পশ্চিম জেরুজালেম এবং বীর ইয়াকুব এলাকার সামরিক স্থাপনাগুলোও এই হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল।

সীমান্তের বাইরেও ইরান তাদের অভিযানের পরিধি বাড়িয়েছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, ইরাকের এরবিল শহরে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং বাহরাইনের মানামায় যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে তারা সফলভাবে হামলা চালিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় অঞ্চলজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি আরব জানিয়েছে যে তাদের একটি তেলক্ষেত্রের দিকে ধেয়ে আসা দুটি ড্রোন তারা আকাশেই ধ্বংস করেছে, যা এই সংঘাতের আঁচ প্রতিবেশি দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

/আশিক


সবচেয়ে বড় হামলার দাবি ইরানের! কাঁপছে ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১১ ১০:২৬:৩৬
সবচেয়ে বড় হামলার দাবি ইরানের! কাঁপছে ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় ও বিধ্বংসী সামরিক অভিযান চালিয়েছে তারা। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি-র বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, রাতভর চালানো এই অভিযানে ইসরায়েলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু এবং মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে নিশানা করে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করা হয়েছে। তেহরানের দাবি, এই শক্তিশালী হামলায় তারা নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র 'খোররামশাহর' ব্যবহার করেছে।

আইআরজিসি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, এই পরিকল্পিত ও তীব্র হামলা অব্যাহত থাকবে। তাদের লক্ষ্য এখন স্পষ্ট—শত্রুর সম্পূর্ণ ও নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ। বিবৃতিতে আরও জোর দিয়ে বলা হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের ওপর থেকে যুদ্ধের হুমকি পুরোপুরি নির্মূল না হচ্ছে, ততক্ষণ এই লড়াই থামবে না। তেহরানের এই অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে এক চূড়ান্ত উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার পেন্টাগনে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, শত্রুকে সম্পূর্ণ ও চূড়ান্তভাবে পরাজিত না করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে। হেগসেথ উল্লেখ করেন যে, এই পুরো প্রক্রিয়াটি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নির্ধারিত সময়সূচি ও পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। ওয়াশিংটনের এমন অবস্থানে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, তারাও এই লড়াইয়ে কোনো প্রকার ছাড় দিতে রাজি নয়।

বুধবার সকালে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে মুহুর্মুহু সাইরেন বেজে ওঠায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে যে, ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সুনির্দিষ্ট সতর্কবার্তা পাওয়ার পরই দেশজুড়ে সাইরেন বাজানো হয়। আইডিএফ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। যদিও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

/আশিক


ইরানের হাইপারসনিক তাণ্ডব! শব্দের চেয়ে ৫ গুণ গতিতে মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১১ ০৯:৩১:২৮
ইরানের হাইপারসনিক তাণ্ডব! শব্দের চেয়ে ৫ গুণ গতিতে মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত
ছবি : সংগৃহীত

ইরান তাদের সামরিক অভিযানে এক বিধ্বংসী ও নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে। ৩৪তম দফার এই বিশাল হামলায় ইরান প্রথমবারের মতো হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি আরও তিন ধরনের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এবং ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি দ্রুতগতিসম্পন্ন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের এই আঘাত মূলত ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।

এই দফার হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবির কাছে অবস্থিত আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের জুফায়ার বিমান ঘাঁটিতে মোতায়েন করা মার্কিন সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়। একই সঙ্গে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে রামাত ডেভিড বিমান ঘাঁটি এবং হাইফার বেসামরিক বিমানবন্দরেও আক্রমণ চালানো হয়েছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেল আবিবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ইসরায়েলের অতি গোপনীয় ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলোতে সরাসরি আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।

এদিকে ইরানের এই ঘোষণার পরপরই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোঁড়া হাইপারসনিক ও অন্যান্য উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শনাক্ত করতে পেরেছে। বর্তমানে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছে। তবে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের গতি ও ক্ষমতার কারণে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যুহ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

/আশিক


বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন বৃষ্টি! রণক্ষেত্র ইরাকের আকাশ

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১১ ০৯:২৬:০১
বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন বৃষ্টি! রণক্ষেত্র ইরাকের আকাশ
ছবি : সংগৃহীত

ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের একটি লজিস্টিক সহায়তা ক্যাম্পে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এই হামলার সংবাদ নিশ্চিত করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। মার্কিন দূতাবাসের সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকা এই সহায়তা ক্যাম্পটি লক্ষ্য করে ড্রোন ছোঁড়া হয়। তবে এই হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরেই বাগদাদের এই উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা ওই অঞ্চলে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের একটি সাম্প্রতিক হামলা। গত রবিবার (৮ মার্চ) রাতে বৈরুতের রামাদা হোটেলে ইসরায়েলি বাহিনী এক ‘ইচ্ছাকৃত সন্ত্রাসী হামলা’ চালায় বলে দাবি করেছে ইরান। এই হামলায় ইরানের চারজন উচ্চপদস্থ কূটনীতিক নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির-সাঈদ ইরাভানি মঙ্গলবার জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে লেখা এক জরুরি চিঠিতে এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত চার কূটনীতিককে ‘শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করেছে তেহরান। ইরাভানি তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, ইসরায়েলি সেনারা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। বৈরুতে ইরানি কূটনীতিকদের এই হত্যাকাণ্ড এবং বাগদাদে মার্কিন ক্যাম্পে ড্রোন হামলার ঘটনা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক মহলে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

/আশিক


ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে খাদ্য ও ওষুধ! ইরান-আজারবাইজান সীমান্তে শান্তির নতুন বার্তা

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১৬:৪৮:৪৭
ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে খাদ্য ও ওষুধ! ইরান-আজারবাইজান সীমান্তে শান্তির নতুন বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও আজারবাইজানের মধ্যে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া চরম উত্তেজনার মাঝে এক নাটকীয় মোড় লক্ষ্য করা গেছে। তেহরানের বিরুদ্ধে আকাশপথে হামলার অভিযোগ তোলার মাত্র কয়েক দিন পরই আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ইরানে বড় ধরনের মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে আজারবাইজান। বাকুর এই পদক্ষেপকে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি প্রশমনের একটি শক্তিশালী সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত যেন ককেশাস অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই দুই দেশ এই ইতিবাচক কূটনৈতিক পথে হাঁটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে আজারবাইজান অভিযোগ করেছিল যে, একটি ইরানি ড্রোন তাদের বিমানবন্দরে আঘাত হেনেছে এবং একটি স্কুলের পাশে বিস্ফোরিত হয়েছে। ইরান সীমান্তবর্তী নাখিচেভান অঞ্চলে ঘটা এই ঘটনায় চারজন আহত হওয়ার পর আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ তাঁর সশস্ত্র বাহিনীকে প্রতিশোধমূলক হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তেহরান থেকে নিজ দেশের কূটনীতিকদের ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। যদিও ইরানের সামরিক বাহিনী শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ইসরায়েলের উস্কানি হিসেবে অভিহিত করে আসছিল।

উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই গত ৮ মার্চ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান টেলিফোন করেন আলিয়েভকে। ফোনালাপে পেজেশকিয়ান নিশ্চিত করেন যে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের আশ্বাস দেন। এই আলোচনার পরই আজারবাইজানের জরুরি পরিস্থিতি মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার কয়েক টন খাদ্য ও ওষুধবাহী সহায়তা ইরানে পাঠানোর ঘোষণা দেয়। দুই নেতার এই সরাসরি যোগাযোগ এবং বাকুর পক্ষ থেকে পাঠানো ত্রাণ সামগ্রী নির্দেশ করছে যে, দুই দেশই বর্তমান সংকটকে আর দীর্ঘায়িত করতে চায় না।

ইরান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, আজারবাইজানের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েল বাকুর ভূখণ্ড ব্যবহার করে তেহরানের ওপর গোয়েন্দাগিরি ও হামলার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ইরানে বড় হামলা চালানোর পর বাকু তেহরানকে আশ্বস্ত করেছিল যে তাদের মাটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এছাড়া ইরানে বসবাসরত বিশাল সংখ্যক জাতিগত আজারি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব নিয়েও তেহরানের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। তবে বর্তমান এই মানবিক সহায়তা ও অর্থনৈতিক প্রকল্প নিয়ে আলোচনার ফলে দুই দেশের শীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল


ভিডিও নেই কেন? ছবি প্রকাশ করেও কেন নিরব ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর?

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১৬:১০:০৯
ভিডিও নেই কেন? ছবি প্রকাশ করেও কেন নিরব ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর?
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শারীরিক অবস্থা এবং তাঁর বেঁচে থাকা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে রহস্য দানা বেঁধেছিল, তা নিরসনে এবার নতুন একটি ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম 'টাইমস অব ইসরায়েল' প্রধানমন্ত্রীর একটি ছবি প্রকাশ করে দাবি করেছে যে, ছবিটি গতকাল সোমবার (৯ মার্চ) ধারণ করা হয়েছে। মূলত গত কয়েক দিন ধরে হিব্রু ভাষার বিভিন্ন মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর গুরুতর আহত হওয়া বা মৃত্যুর যে জোরালো গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, এই ছবি প্রকাশের মাধ্যমে তার একটি পরোক্ষ জবাব দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

এর আগে ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির হিব্রু সংস্করণে নেতানিয়াহুর অন্তর্ধান নিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য ও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত চ্যানেলে প্রায় তিন-চার দিন ধরে নতুন কোনো ভিডিও বা ছবি প্রকাশিত হয়নি এবং তাঁর নামে আসা সাম্প্রতিক বার্তাগুলো ছিল কেবল লিখিত। যেখানে আগে প্রতিদিন একাধিক ভিডিও বার্তা আসত, সেখানে এই দীর্ঘ নিরবতা জনমনে ব্যাপক সন্দেহ তৈরি করেছিল। এছাড়া ৮ মার্চ থেকে তাঁর বাসভবনের চারপাশে নজিরবিহীন নিরাপত্তা এবং ড্রোন হামলা মোকাবিলায় বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের খবর এই জল্পনাকে আরও উসকে দেয়।

রহস্য আরও ঘনীভূত হয় যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফের নির্ধারিত ইসরায়েল সফর হঠাৎ বাতিল করা হয়। এই সফরের বাতিলের পেছনে কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে বলে অনেকে ধরে নেন। পাশাপাশি ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে নেতানিয়াহুর টেলিফোন আলাপের কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ না করে কেবল একটি লিখিত বিবরণ প্রকাশ করাও এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি করেছিল।

বর্তমানে প্রকাশিত ছবিটি সেই রহস্যের চাদর কিছুটা সরালেও ইসরায়েল সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এখনো কোনো জোরালো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা ভিডিও ফুটেজ সামনে আসেনি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনও আলোচনা চলছে যে, পরিস্থিতি কি আসলেই স্বাভাবিক নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর সমীকরণ রয়েছে। তবে টাইমস অব ইসরায়েলের প্রকাশিত এই ছবিটি আপাতত উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কিছুটা স্থিতিশীল করার প্রচেষ্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে।

/আশিক


ইরান যুদ্ধের উত্তাপ এবার ইরাকে! পূর্ব সীমান্তে বিশাল সেনাবহর মোতায়েন

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১৬:০৪:০৮
ইরান যুদ্ধের উত্তাপ এবার ইরাকে! পূর্ব সীমান্তে বিশাল সেনাবহর মোতায়েন
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে চলমান সংঘাতের রেশ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূর্ব সীমান্তে অতিরিক্ত সেনাসদস্য মোতায়েন করেছে ইরাক। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, শুধু সেনা মোতায়েনই নয়, বরং সীমান্তজুড়ে নজরদারিও বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। ইরাক ও ইরানের সীমান্ত এলাকা মূলত দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ার সুযোগ নিয়ে ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীগুলো নিয়মিত যাতায়াত করে থাকে, যা বর্তমানে বাগদাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সীমান্তের এই বিশেষ তৎপরতার মাধ্যমে বাগদাদ প্রশাসন মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে চাইছে। ইরাক কোনোভাবেই চায় না তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ইরানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরানের ওপর হামলা চালাক। এর মাধ্যমে মূলত ইরাক তার নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ২০২৩ সালে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা চুক্তির প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতি প্রমাণ করতে চায় বাগদাদ। ওই চুক্তির আওতায় ইরাক তার উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় ইরানি কুর্দি বিদ্রোহীদের তৎপরতা দমনে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছিল।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরাকের উত্তরাঞ্চলের বেশ কিছু স্থানে ইরান ইতোমধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ওই অঞ্চলের কিছু বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে মদত দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এই জটিল রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে ইরাক নিজের ভূমিকে অন্য দেশের যুদ্ধের ময়দান হতে দিতে চায় না। নতুন করে কোনো বড় ধরনের সংঘাত বা অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই ইরাক সরকার সীমান্তে এই বিশেষ সতর্কতা ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে।

/আশিক


এক লিটার তেলও রপ্তানি হতে দেব না; আইআরজিসির চরম হুঁশিয়ারি

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১০:৩০:১৮
এক লিটার তেলও রপ্তানি হতে দেব না; আইআরজিসির চরম হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এক নতুন ও চরম সংঘাতের রূপ নিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকে, তবে এই অঞ্চল থেকে বিশ্ববাজারে ‘এক লিটার তেলও’ রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না। ইরানের এই হুমকির ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং এর প্রভাব ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে পড়তে শুরু করেছে।

আইআরজিসির এই হুমকির বিপরীতে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ইরানকে সতর্ক করে বলেন, তারা যদি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার সামান্যতম পদক্ষেপও নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে এমন ভয়াবহ হামলা চালাবে যা তারা এর আগে কখনো কল্পনাও করেনি। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানকে এ যাবৎকালের চেয়ে ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী হামলার মুখোমুখি হতে হবে এবং তাদের এমন সব গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হবে যা দেশটির পুনরুত্থানকে প্রায় অসম্ভব করে তুলবে।

বর্তমান রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক ও পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল ইতোমধ্যে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে যুদ্ধ দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে, তবে আইআরজিসি সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, এই যুদ্ধের সমাপ্তি কখন হবে তা ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নির্ধারণ করবে, মার্কিন বাহিনী নয়। তারা আরও দাবি করেছে যে, অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং ভবিষ্যতের পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেছেন যে, তিনি কোনো ধ্বংসযজ্ঞ চান না, তবে মার্কিন স্বার্থ বিঘ্নিত হলে ইরানকে ‘মৃত্যু, আগুন ও ধ্বংসযজ্ঞের’ মোকাবিলা করতে হবে। ট্রাম্পের এমন অনমনীয় অবস্থান এবং ইরানের পাল্টা প্রতিরোধের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি এখন এতটাই নাজুক যে, সামান্য ভুল পদক্ষেপ থেকেও একটি বিশাল আঞ্চলিক সংঘাতের সূত্রপাত হতে পারে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


একের পর এক বিস্ফোরণে কাঁপছে তেহরান: নিহতের সংখ্যা বাড়ছে

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১০ ১০:১১:২৮
একের পর এক বিস্ফোরণে কাঁপছে তেহরান: নিহতের সংখ্যা বাড়ছে
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি জনবহুল আবাসিক এলাকায় ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৪০ জন ইরানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই রক্তক্ষয়ী হামলার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারও তেহরানের আকাশ বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে। তবে সর্বশেষ এই বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা সম্ভব হয়নি।

বিস্ফোরণের এই ধারা কেবল রাজধানী তেহরানেই সীমাবদ্ধ নেই; সোমবার সারা দিন জুড়ে প্রতি এক বা দুই ঘণ্টা অন্তর অন্তর ইরানের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটছে। তেহরানের পাশাপাশি ইসফাহানসহ দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলোকেও পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বিশেষ করে ইসফাহানে অবস্থিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিকটবর্তী এলাকায় হামলা হওয়ায় জনমনে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া ইসফাহানের গভর্নরের কার্যালয়েও বড় ধরনের হামলা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনার পাশাপাশি ইরানের ঐতিহাসিক নিদর্শনেও আঘাত হেনেছে হামলাকারীরা। বোমা হামলায় ইউনেসকো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত একটি প্রাচীন প্রাসাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত কয়েক দিনের টানা অভিযানে ইরানের সাধারণ নাগরিক ও জাতীয় সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এক চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: