এক ইঞ্চি জমিও ছাড় দেব না! যুদ্ধের ময়দান থেকে জাতির উদ্দেশে পেজেশকিয়ান

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১২:৪৭:০৬
এক ইঞ্চি জমিও ছাড় দেব না! যুদ্ধের ময়দান থেকে জাতির উদ্দেশে পেজেশকিয়ান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যেই জাতির উদ্দেশে এক উদ্দীপনামূলক ভাষণ দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এই ভাষণে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং রাজপথে নামার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে বলেছেন যে, ইরানের এক ইঞ্চি জমিও শত্রুর কবলে যেতে দেওয়া হবে না এবং দেশের মাটি ও পানি রক্ষায় প্রতিটি নাগরিকের এগিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি। তাঁর মতে, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই হবে শত্রুর মোকাবিলায় ইরানের প্রধান শক্তি।

ভাষণের সারসংক্ষেপে দেখা যায়, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন পেজেশকিয়ান। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ইরান তার ভ্রাতৃপ্রতিম প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী, কিন্তু শত্রু রাষ্ট্রগুলো এই অঞ্চলে বিভেদ তৈরির হীন চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যখন ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়, তখন তেহরান তার মোক্ষম জবাব দিতে বাধ্য হচ্ছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ওই নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে ইরানের কোনো বৈরিতা রয়েছে। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যারা ইরানকে আক্রমণ করার সাহস দেখাবে, তাদের বিরুদ্ধে তেহরান অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে থেকে জোরালো জবাব দেবে।

মাসুদ পেজেশকিয়ান বর্তমান পরিস্থিতিকে দেশের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে অভিহিত করে জনগণকে একতাবদ্ধ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, জাতীয় ঐক্য ও সংহতির মাধ্যমেই ইরান যেকোনো বহিঃশক্তির আগ্রাসন নস্যাৎ করতে সক্ষম। শত্রুর যেকোনো ধরনের উসকানি বা দখলদারিত্বের প্রচেষ্টাকে রুখে দিতে ইরানি বাহিনী ও জনগণ প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি তাঁর ভাষণে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মূলত যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে জনগণের মনোবল চাঙ্গা করতেই প্রেসিডেন্টের এই বিশেষ ভাষণটি প্রচারিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আলজাজিরা


ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়োল্লাসে জল ঢেলে দিল ইরান: ৬ মাস যুদ্ধের নতুন ছক

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১০:২০:৫০
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়োল্লাসে জল ঢেলে দিল ইরান: ৬ মাস যুদ্ধের নতুন ছক
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযানের মুখে ইরান তাদের সক্ষমতা নিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছে। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক শক্তি ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, বর্তমান আকার ও তীব্রতার যুদ্ধ ইরান অন্তত আরও ছয় মাস চালিয়ে যেতে পুরোপুরি সক্ষম। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে আইআরজিসির মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনির এই চাঞ্চল্যকর বক্তব্যটি প্রকাশ করা হয়েছে। নাইনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, যুদ্ধের বর্তমান যে মাত্রা রয়েছে, তা মোকাবিলা করার মতো রসদ ও শক্তিমত্তা তেহরানের ভাণ্ডারে ‘অন্তত’ আগামী আধা বছরের জন্য মজুদ রয়েছে।

ইরানি মুখপাত্রের এই দাবিটি মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মূল্যায়নের সম্পূর্ণ বিপরীত একটি চিত্র তুলে ধরেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত কয়েক দিন ধরে বারবার দাবি করে আসছেন যে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো সামরিক অভিযানগুলো অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে এবং তেহরানের কোমর ভেঙে গেছে। চলতি সপ্তাহেই এক বক্তব্যে ট্রাম্প দম্ভোক্তি করে বলেছিলেন যে, তারা এই যুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করছেন এবং ইরানের তথাকথিত ‘শয়তানি সাম্রাজ্য’ তারা প্রায় গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্পের এমন দাবির পর আইআরজিসির পক্ষ থেকে এই পাল্টা যুদ্ধের সক্ষমতার ঘোষণা দেওয়া হলো।

উল্লেখ্য যে, আইআরজিসি কেবল ইরানের একটি সাধারণ সামরিক বাহিনী নয়, বরং এটি দেশটির অন্যতম শক্তিশালী ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি প্রতিষ্ঠান। সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি ইরানের শিক্ষা, অর্থনীতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই বাহিনীর বিশাল নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব রয়েছে। ফলে আইআরজিসির পক্ষ থেকে যখন যুদ্ধের মেয়াদ নিয়ে এমন সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়, তখন তা আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়োল্লাসের বিপরীতে ইরানের এই দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও প্রলম্বিত ও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


আল ধাফরা ও ফিফথ ফ্লিটে ইরানের বিধ্বংসী আঘাত: মার্কিন কমান্ডো শিবিরে লাশের পাহাড়

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ০৯:৪৯:৫৪
আল ধাফরা ও ফিফথ ফ্লিটে ইরানের বিধ্বংসী আঘাত: মার্কিন কমান্ডো শিবিরে লাশের পাহাড়
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা প্রতিবেশী তিনটি দেশে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে শক্তিশালী পাল্টা হামলা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই সাঁড়াশি অভিযানে মোট ২২০ জন মার্কিন সৈন্য ও কমান্ডার হতাহত হয়েছেন। ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি শনিবার এক বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইরানের এই মরণপণ হামলায় সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামো ও সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি হামলার বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, বাহরাইনে মোতায়েন থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী ‘ফিফথ ফ্লিট’-এ চালানো ইরানি হামলায় অন্তত ২১ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আল ধাফরা’ বিমানঘাঁটিতে চালানো আক্রমণে হতাহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ২০০ জন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত বা আহত হয়েছেন বলে তেহরান দাবি করছে। এছাড়া পারস্য উপসাগরের উত্তর অংশে চলাচলকারী যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজকেও ইরান তাদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে এবং সেখানে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।

এই সংঘাতের সূত্রপাত নিয়ে ইরান বলছে যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে তাদের ওপর নতুন করে ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, এর প্রায় আট মাস আগেও উসকানিমূলকভাবে তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছিল এই জোট। তেহরানের ভাষ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় ইসলামি বিপ্লবের পরম নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, শত শত নিরীহ বেসামরিক নাগরিক এবং বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার নিহত হন।

এই শোকাবহ ঘটনার দ্রুত প্রতিশোধ নিতেই ইরান বর্তমানে ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের এই আক্রমণগুলো কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক স্বার্থকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে এবং যেসব দেশে এসব মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেই দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি ইরানের পূর্ণ সম্মান রয়েছে।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন মোড়: এবার ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় আঘাত হানল ইরান

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ০৯:২৭:৩৬
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন মোড়: এবার ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় আঘাত হানল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সন্নিকটে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, হামলার সময় ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং এর পরপরই সেখানে ব্যাপক বিমান বিধ্বংসী গোলাবর্ষণ শুরু হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, ঘাঁটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনগুলোকে আকাশেই প্রতিহত করার চেষ্টা করছিল যার ফলে এই গোলাবর্ষণ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে এই ড্রোন হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে এখন পর্যন্ত মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ কিংবা ইরাকি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা তথ্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করেছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শনিবার রাতে তারা উত্তর ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহর কিরিয়াত শমোনা লক্ষ্য করে বেশ কিছু রকেট নিক্ষেপ করেছে।

স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টায় এই রকেট হামলা চালানো হয়। এর আগে একই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকেও তারা ওই শহরটিকে লক্ষ্য করে বেশ কিছু ড্রোন হামলা চালিয়েছিল বলে দাবি করেছে। মূলত ইরান ও হিজবুল্লাহর এই সমন্বিত ড্রোন ও রকেট হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ ধারণ করেছে।

সূত্র: ইরাকি নিউজ


খামেনি পরবর্তী ইরানের হাল ধরবেন কে? দ্রুত ঘোষণার দাবি শীর্ষ দুই আয়াতুল্লাহর

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৭ ১৯:২২:৪৬
খামেনি পরবর্তী ইরানের হাল ধরবেন কে? দ্রুত ঘোষণার দাবি শীর্ষ দুই আয়াতুল্লাহর
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর শূন্যতা পূরণে দ্রুত নতুন উত্তরসূরি ঘোষণার তাগিদ দিয়েছেন দেশটির দুই প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা। আজ শনিবার (৭ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। দেশটির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অস্থিতিশীলতা এড়াতে শীর্ষ ধর্মীয় গুরু আয়াতুল্লাহ হুসেইন নুরি হামেদানি এবং আয়াতুল্লাহ নাসের মাকারেম শিরাজি এই আহ্বান জানান।

এক বিবৃতিতে আয়াতুল্লাহ নুরি হামেদানি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শত্রুদের হীন চক্রান্ত নস্যাৎ করতে এবং জাতির ঐক্য ও সংহতি অটুট রাখতে দ্রুত নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা অপরিহার্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বহিঃশক্তির আগ্রাসন মোকাবিলায় দেশের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীকে নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য এই সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, নতুন নেতৃত্বের ঘোষণা জনগণের মনোবল বৃদ্ধি করবে এবং জাতীয় সংহতিকে আরও সুদৃঢ় করবে।

একই সুরে কথা বলেছেন আরেক শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ নাসের মাকারেম শিরাজি। তিনি গুরুত্বারোপ করে বলেন, সময়মতো এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হলে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। তিনি মনে করেন, নেতৃত্বের দ্রুত পরিবর্তন প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটাতে এবং বিশ্বমঞ্চে ইরানের অবস্থান শক্ত রাখতে সহায়ক হবে।

আলি খামেনির আকস্মিক মৃত্যুর পর থেকে ইরানের ক্ষমতা কাঠামোর শীর্ষপদে কে আসছেন, তা নিয়ে দেশটির ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলছে। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে শীর্ষ দুই ধর্মীয় নেতার এই প্রকাশ্য আহ্বান ইরানের নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞ পরিষদের (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

/আশিক


হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তছনছ মার্কিন ঘাঁটি

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৭ ১৯:০৬:২৯
হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তছনছ মার্কিন ঘাঁটি
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত আক্রমণের মুখে পাল্টা আঘাতের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ২৫তম দফার এই অভিযানে তারা প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক ‘হাইপারসনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) বিকেলে আইআরজিসির পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং বিভিন্ন সামরিক সহায়তা কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে এই বিধ্বংসী হামলা চালানো হয়েছে। এই বিশেষ অভিযানে তারা নিজেদের তৈরি হাইপারসনিক ‘ফাতাহ’ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ‘এমাদ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। উল্লেখ্য, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি গতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়ে যেতে সক্ষম। ঘণ্টায় ৬ হাজার ১৭৪ কিলোমিটার বা ৩ হাজার ৮৩৬ মাইল বেগে ছুটতে পারায় আধুনিক কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষেই একে রুখে দেওয়া প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হয়।

সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি), যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করে। তেহরানে চালানো সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তা নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ইরান ‘প্রতিশোধ’ হিসেবে ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। হাইপারসনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এই যুদ্ধকে এখন এক নতুন ও ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে গেল।

/আশিক


প্রতিবেশীদের ওপর আর হামলা নয়, হঠাৎ নমনীয় সুর ইরানি প্রেসিডেন্টের!

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৭ ১৬:৪৪:৫৬
প্রতিবেশীদের ওপর আর হামলা নয়, হঠাৎ নমনীয় সুর ইরানি প্রেসিডেন্টের!
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর প্রতি এক নজিরবিহীন ও নমনীয় বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান প্রতিবেশী কোনো দেশকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে চায় না। তবে শর্ত হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, সেসব দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যদি ইরানের ওপর কোনো আক্রমণ চালানো হয়, তবেই কেবল তার পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। শনিবার (৭ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানান, দেশের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ গতকাল এই নতুন সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। এই নীতি অনুযায়ী, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে আর সরাসরি কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেবে না, যতক্ষণ না সেসব দেশ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো উস্কানি বা হামলা আসে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংঘটিত বিভিন্ন হামলার প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট।

এদিকে, ইরানের এই অবস্থান এবং চলমান পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য আরব লীগ জরুরি বৈঠক ডেকেছে। আগামীকাল রবিবার (৮ মার্চ) সংস্থাটির সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক বিশেষ বৈঠকে বসবেন। আরব লীগের সহকারী মহাসচিব হোসাম জাকি জানিয়েছেন, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, জর্ডান এবং মিসরের অনুরোধে এই জরুরি সভার আয়োজন করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বর্তমান অস্থিতিশীলতার কারণে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।

অন্য এক ঘটনায়, ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি 'যুদ্ধাপরাধের' অভিযোগ তুলেছে ইসরায়েল। গত শুক্রবার এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আইডিএফ-এর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি দাবি করেন, ইরান যুদ্ধের ময়দানে নিষিদ্ধ 'ক্লাস্টার বোমা' ব্যবহার করছে। ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, তাদের সামরিক ও বেসামরিক জনপদে বেশ কয়েকবার এই নিষিদ্ধ বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ক্লাস্টার বোমার ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়ায় একে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করছে তেল আবিব। ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি রাখছে।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্রতর: লেবাননে ১২ নিহত, ইরানে নতুন হামলা

ইসরাফিল আলম
ইসরাফিল আলম
ডেস্ক রিপোর্টার (মধ্যপ্রাচ্য)
মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৭ ১৩:২১:৪১
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্রতর: লেবাননে ১২ নিহত, ইরানে নতুন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননের পূর্বাঞ্চল ও ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশে একাধিক বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এতে করে আঞ্চলিক সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত হয়ে বৃহত্তর যুদ্ধের রূপ নিচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় বেকা উপত্যকার নাবি শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং আরও ৩৩ জন আহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকের সংখ্যাই বেশি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এই হামলার ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন লেবানন ধীরে ধীরে বৃহত্তর মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্টে পরিণত হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবানন এবং রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরগুলোতে ব্যাপক পরিসরে বাধ্যতামূলক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে এসব এলাকা থেকে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতি লেবাননে নতুন মানবিক সংকট তৈরি করছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৯৫ হাজার মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

একই সময়ে ইরানেও নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের কেন্দ্রীয় প্রদেশ ইসফাহানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিমের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

ইসফাহান প্রদেশের গভর্নরের দপ্তরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা আকবর সালেহি জানিয়েছেন, এই হামলায় নিহতদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান ইসফাহান শহরসহ প্রদেশটির আরও সাতটি শহরে হামলা চালিয়েছে।

এই হামলার ফলে ইসফাহান শহর ছাড়াও লেনজান এবং বোরখার অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্তত ৮০টি বাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। অনেক স্থানে আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত ইতোমধ্যেই বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। ইরান, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে লেবানন, সিরিয়া এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলগুলোও এই সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তাহলে এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে মানবিক সংকটের পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি তাই কেবল একটি আঞ্চলিক সামরিক সংঘর্ষ নয়; বরং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।


সৌদি আরবের তেলের খনিতে ইরানের ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৭ ১২:১১:২৫
সৌদি আরবের তেলের খনিতে ইরানের ড্রোন হামলা
ছবি : সংগৃহীত

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ এবার সৌদি আরবের তেলের খনি পর্যন্ত গড়িয়েছে। প্রথমবারের মতো সৌদি আরবের একটি তেলের খনি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে সৌদি আরবের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) ড্রোনগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে ইরানের ড্রোনগুলো শায়েবাহ তেল খনিকে লক্ষ্য করে ধেয়ে আসছিল। তবে সৌদি সামরিক বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মোট ৬টি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করে দেয়, ফলে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। শুধু তেলের খনি নয়, সৌদিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ‘প্রিন্স সুলতান এয়ারবেইস’ লক্ষ্য করেও ইরান একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। তবে সেটিও দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।

এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল মূলত ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে সৃষ্ট দীর্ঘস্থায়ী উত্তজনা থেকে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে এ বিষয়ে সংলাপ চললেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। এর পরপরই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে তাদের আক্রমণ শুরু করে।

বর্তমানে ইরান এই হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোতে নিয়মিতভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। সৌদি আরবে সাম্প্রতিক এই হামলা সেই প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

/আশিক


তেহরানের আকাশে কালো ধোঁয়া: বিমানবন্দরের ভেতরে জ্বলছে সারিবদ্ধ বিমান

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৭ ১০:৩২:৫৭
তেহরানের আকাশে কালো ধোঁয়া: বিমানবন্দরের ভেতরে জ্বলছে সারিবদ্ধ বিমান
ছবি : সংগৃহীত

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যকার সংঘাত আজ শনিবার (৭ মার্চ) সপ্তম দিনে পদার্পণ করেছে। দুই দেশের যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে হামলার তীব্রতা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে আত্মসমর্পণ না করবে, ততক্ষণ এই সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী তেহরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র মেহরাবাদ বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিমানবন্দরের কাছে বিকট শব্দে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং এর পরপরই চারপাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। হামলার পর বিমানবন্দরের ভেতরে বেশ কিছু বিমানে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয়রা। তবে এই নির্দিষ্ট হামলায় ঠিক কতজন হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছিল যে, তারা ইরানের ওপর দ্বিতীয় ধাপের আরও বড় ও ব্যাপক অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। তেহরানের প্রধান এই বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা সেই অভিযানেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। সাত দিন ধরে চলমান এই যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: