লিটন না কি ওকস? এলিমিনেটরের মহাযুদ্ধে শেষ হাসি হাসবে কে?

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি আসরের লিগ পর্বের উত্তেজনা দুই দিন আগে শেষ হওয়ার পর, এক দিনের সংক্ষিপ্ত বিরতি দিয়ে আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) থেকে শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গড়াচ্ছে নকআউট বা সুপার ফোরের খেলা। ক্রিকেট সমর্থকদের জন্য বিপিএলের এই পর্বটি সবসময়ই বাড়তি রোমাঞ্চ নিয়ে আসে, কারণ লিগ পর্বে কে কেমন করেছে তা ছাপিয়ে এখন মুখ্য হয়ে দাঁড়ায় মাঠের তাৎক্ষণিক পারফরম্যান্স। আজ মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে দুটি হাইভোল্টেজ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, তবে ক্রিকেট প্রেমীদের বড় একটি অংশের নজর থাকবে এলিমিনেটর ম্যাচের দিকে। নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে রংপুর রাইডার্স ও সিলেট টাইটান্স। এই ম্যাচের গুরুত্ব আকাশচুম্বী হওয়ার প্রধান কারণ হলো, আজ যে দল হারবে তাদের টুর্নামেন্ট থেকে চিরতরে বিদায় নিতে হবে। ফলে দুই দলের সামনেই আজ ‘ডু অর ডাই’ বা মরণ-বাঁচন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
রংপুর রাইডার্স এবারের আসরে কাগজে-কলমে অন্যতম সেরা দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই তারা দূরদর্শী কৌশল গ্রহণ করেছে, যার অংশ হিসেবে নকআউট পর্বের জন্য আলাদাভাবে কোনো নতুন বিদেশি খেলোয়াড় না এনে লিগের শুরু থেকেই একঝাঁক তারকা বিদেশি ক্রিকেটারকে দলে ভিড়িয়েছে তারা। কোচ মিকি আর্থারের অধীনে রংপুর রাইডার্স একটি স্থিতিশীল একাদশ গড়ে তুলেছে এবং দলের নেতৃত্বে রয়েছেন লিটন কুমার দাস। লিগের শেষ দুই ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালস এবং নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে তারা পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে। রংপুরের ব্যাটিং অর্ডারে ডেভিড মালান এবং তাওহীদ হৃদয়ের ওপেনিং জুটি দারুণ ছন্দে রয়েছে এবং আজকের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও তাদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। গতকাল বিশ্রামে থাকা রংপুরের ক্রিকেটাররা আজ শারীরিক ও মানসিকভাবে চনমনে হয়েই মাঠে নামবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সিলেট টাইটান্স নকআউট পর্বের লড়াইয়ে নিজেদের বিদেশি শক্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে নিয়েছে। তারা শেষ মুহূর্তে ক্রিস ওকস এবং স্যাম বিলিংসের মতো বিশ্বমানের তারকা ক্রিকেটারদের স্কোয়াডে যুক্ত করেছে। যদিও মিরপুরের স্লো ও টার্নিং কন্ডিশনে বিদেশের মাঠ থেকে সরাসরি এসে মানিয়ে নেওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং, তবুও বড় তারকাদের উপস্থিতি প্রতিপক্ষের ওপর মানসিক চাপ তৈরির পাশাপাশি গেম প্ল্যান পরিবর্তনের সুযোগ করে দেয়। সিলেটের কোচ সোহেল ইসলাম মূলত অভিজ্ঞ বিদেশি তারকাদের ওপর ভরসা করেই নকআউটের বৈতরণী পার হতে চাইছেন। মাঠের লড়াইয়ে তারকাদের স্কিল আর দেশি ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতার মিশেলে সিলেট আজ রংপুরের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। রংপুরের ভক্তরা যেখানে নিজেদের দলের বিদায় দেখতে চাইবেন না, সেখানে সিলেটের মানুষের চাওয়া থাকবে তাদের প্রিয় দল যেন জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে।
দিনের অন্য ম্যাচে প্রথম কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি হবে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স এবং চট্টগ্রাম রয়্যালস। লিগ পর্বে সবচেয়ে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলে টেবিলের শীর্ষে থাকা রাজশাহী ওয়ারিয়র্স আজ ফাইনালে ওঠার প্রথম সুযোগটি হাতছাড়া করতে চাইবে না। বিপরীতে, চট্টগ্রাম রয়্যালস দেশি ক্রিকেটারদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা একটি দারুণ দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। লিগ পর্বে তাদের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। এই ম্যাচের বিজয়ী দল সরাসরি ফাইনালে চলে যাবে, তবে হেরে গেলেও তাদের সামনে আরও একটি সুযোগ থাকবে ফাইনালে ওঠার। সব মিলিয়ে আজ মিরপুরের স্টেডিয়ামে ব্যাটে-বলের এক জমজমাট লড়াইয়ের অপেক্ষায় রয়েছেন ক্রিকেট অনুরাগী দর্শকরা। নকআউট পর্বের এই রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে কারা বিপিএল ২০২৬-এর শিরোপার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তাপ টেনিস কোর্টে, স্পেনের জয় নিয়ে আশাবাদী নাদাল
স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার হাইভোল্টেজ বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তাপ এখন ফুটবল মাঠ ছাড়িয়ে টেনিস কোর্টেও আছড়ে পড়েছে। বিশ্ব কাঁপানো এই মহারণের ঠিক আগমুহূর্তে নিজের পছন্দের দল বেছে নিয়েছেন টেনিস কিংবদন্তি রাফায়েল নাদাল। নিজের জন্মভূমি স্পেনের জয় নিয়ে শতভাগ আশাবাদী হলেও, প্রতিপক্ষ ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতি বরাবরের মতোই গভীর সমীহ ও শ্রদ্ধা ঝরেছে এই মহাতারকার কণ্ঠে।
বিশ্বকাপ ফুটবলের এই মহাকাব্যিক ফাইনালে বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১টায় মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি স্পেন ও আর্জেন্টিনা। বহুল প্রতীক্ষিত এই ট্রফি লড়াইয়ের আগে স্বাভাবিকভাবেই স্পেনের পক্ষে নিজের জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন টেনিস দুনিয়ার অন্যতম সেরা কিংবদন্তি রাফায়েল নাদাল। ক্যারিয়ারে ২২টি গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী এই স্প্যানিশ তারকা, যিনি ২০২৪ সালে পেশাদার টেনিসকে চিরতরে বিদায় জানিয়েছেন, তিনি মনে করেন বর্তমান স্প্যানিশ দলটির বিশ্বকাপ জয়ের সব ধরনের সামর্থ্য রয়েছে। ফাইনাল নিয়ে নিজের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে নাদাল স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমার মনে প্রাণে বিশ্বাস, এবার আমরাই জিতব।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় নাদাল ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে স্পেনের প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের সেই ঐতিহাসিক সোনালী স্মৃতিও রোমন্থন করেন। তিনি লিখেছেন, ‘ছোটবেলা থেকেই ফুটবল আমার অন্যতম প্রিয় একটি খেলা। ফুটবল খেলতে, টেলিভিশনে ম্যাচ দেখতে এবং নিজের জাতীয় দলকে সমর্থন করতে আমি সবসময়ই দারুণ ভালোবাসতাম। ২০১০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার স্টেডিয়ামে সশরীরে উপস্থিত থাকার সেই অসাধারণ অনুভূতি আমি আজও ভুলতে পারিনি। আগামীকাল আবারও তেমন একটি ঐতিহাসিক ম্যাচ উপভোগ করার দারুণ সুযোগ পাচ্ছি। ফাইনালের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা এবং এই দেশটিকে আমি ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি। আমার দেশের দলের জন্য রইল অনেক শুভকামনা। ভামোস এস্পানিয়া!’
ফুটবল খেলাটির সঙ্গে নাদালের পারিবারিক সম্পর্কও অত্যন্ত গভীর। তার আপন চাচা মিগেল অ্যাঞ্জেল নাদাল স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে অতীতে তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছেন এবং ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনা ও মায়োর্কার জার্সিতেও বিপুল সাফল্য পেয়েছেন। স্প্যানিশ রেডিও ‘এল পার্তিদাসো দে কোপে’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নাদাল জানান, তিনি ফাইনাল ম্যাচটি পরিবারের সবার সঙ্গে একসঙ্গে বসে উপভোগ করবেন।
ফাইনালে প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনার শক্তিমত্তা ও রণকৌশল সম্পর্কে বলতে গিয়ে টেনিস কিংবদন্তি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা দল হিসেবে নিজেদের শক্তির জায়গাগুলো খুব নিখুঁতভাবে কাজে লাগাতে পারে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেও তাদের সেই সামর্থ্যের প্রমাণ দেখা গেছে। প্রথমার্ধের খেলা খুব একটা আকর্ষণীয় না হলেও, গোল হজম করার পর তারা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে অসাধারণ ফুটবল খেলেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’
তবে প্রতিপক্ষের রণকৌশল নিয়ে বেশি মাথা না ঘামিয়ে স্পেনের খেলোয়াড়দের নিজেদের স্বাভাবিক খেলায় মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। নাদাল বলেন, ‘মাঠে দুই দলই নিজেদের সেরা শক্তি দিয়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করবে। আমাদের দলেও যথেষ্ট শক্তি ও প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। প্রতিপক্ষ কী করছে বা তাদের কৌশল কী—সেটা ভুলে গিয়ে পুরো বিশ্বকাপজুড়ে আমরা যেভাবে আক্রমণাত্মক ও গোছানো ফুটবল খেলেছি, ফাইনালেও সেই মান ধরে রাখতে হবে। স্পেনের খেলোয়াড়রা যদি নিজেদের সেরা ছন্দ ধরে রাখতে পারে, তবে তাদের হারানো যেকোনো দলের জন্যই খুব কঠিন হবে।’
নাদালের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চলতি টুর্নামেন্টে স্পেনের পারফরম্যান্সের উন্নতি ছিল অত্যন্ত ধারাবাহিক। তিনি উল্লেখ করেন, ‘গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ থেকে শুরু করে আজ ফাইনাল পর্যন্ত দলটি ধাপে ধাপে এবং ধারাবাহিকভাবে নিজেদের খেলার উন্নতি করেছে। আমি মনে করি, লা ফুরিয়া রোজা তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো সময়ে ও সেরা ছন্দে থেকেই ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছেছে।’
নিজের দেশ স্পেনকে সর্বশক্তি দিয়ে সমর্থন করলেও প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা এবং তাদের সফল কোচ লিওনেল স্কালোনির প্রশংসা করতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেননি নাদাল। তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টাইন কোচ লিওর (স্কালোনি) সঙ্গে আমার ব্যক্তিগতভাবে খুব ভালো ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আমি তাকে খুব কাছ থেকে চিনি। তিনি যেভাবে দল পরিচালনা করেন, তা এককথায় অসাধারণ। আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের সঙ্গে গত কয়েক বছরে তিনি যা করে দেখিয়েছেন, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। এ ছাড়া আর্জেন্টিনায় আমার অনেক ভালো বন্ধুও আছেন।’
এমনকি ফাইনালে যদি স্পেন হেরেও যায়, তবে আর্জেন্টিনার কাছে সেই পরাজয়টি তিনি খুব সহজভাবে মেনে নিতে পারবেন বলেও অকপটে স্বীকার করেন নাদাল। টেনিস কিংবদন্তি বলেন, ‘অবশ্যই আমি মাঠের লড়াইয়ে সর্বশক্তি দিয়ে স্পেনকে সমর্থন করব। কিন্তু ফুটবলের ভাগ্যে যদি আমাদের হারতেই হয়, তবে আর্জেন্টিনার কাছে সেই হার মেনে নেওয়া আমার জন্য মানসিকভাব অনেক সহজ হবে। কারণ সেই দলে আমার অনেক বন্ধু ও পরিচিত মানুষ জড়িয়ে আছেন। যদি কারও কাছে ট্রফি হারতেই হয়, তবে আমি চাইব সেটা যেন আর্জেন্টিনা এবং তাদের অসাধারণ কোচের কাছেই হোক।’
/আশিক
ঘরে বসে যেভাবে সরাসরি স্মার্টফোনে দেখবেন বিশ্বকাপ ফাইনালের মহারণ
সমগ্র ক্রীড়াবিশ্বকে বুঁদ করে রাখা ২৩তম ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের মহারণের যাবতীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির বিখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের এই শিরোপা নির্ধারণী চূড়ান্ত লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপসেরা পরাশক্তি স্পেন।
রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় শুরু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ও রোমাঞ্চকর এই মেগা ফাইনাল। আন্তর্জাতিক ফুটবলের দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নের এই ব্লকবাস্টার দ্বৈরথ ঘিরে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা ও উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।
বাংলাদেশের কোটি কোটি দর্শক যাতে ঘরে বসেই নিখুঁতভাবে এই মহাযুদ্ধ উপভোগ করতে পারেন, তার জন্য টেলিভিশন এবং অনলাইন—দুই মাধ্যমেই বিশেষ সম্প্রচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল বিটিভির (বাংলাদেশ টেলিভিশন) পাশাপাশি খেলাটি সরাসরি ও স্পোর্টস কমেন্ট্রিসহ সম্প্রচার করবে স্যাটেলাইট চ্যানেল টি-স্পোর্টস এবং সময় টেলিভিশন।
টেলিভিশন পর্দার বাইরে যারা ডিজিটাল মাধ্যমে খেলা দেখতে চান, তাদের জন্যও রয়েছে নানা বিকল্প। নির্দিষ্ট সাবস্ক্রিপশন সুবিধার আওতায় সাধারণ স্মার্টফোন, ট্যাব কিংবা স্মার্ট টিভিতে মাই রবি অ্যাপ, বাংলালিংকের জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম টফি, গ্রামীণফোনের বায়োস্কোপ এবং আইস্ক্রিন (iScreen) ওটিটি প্ল্যাটফর্মে বিশ্বকাপের এই মেগা ফাইনালটি সরাসরি লাইভ স্ট্রিম করা হবে।
প্রথাগত এই সব বড় মাধ্যমের পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক আরও কয়েকটি বিশেষায়িত প্ল্যাটফর্মেও ফাইনাল ম্যাচটি দেখার সুযোগ পাবেন দর্শকরা। ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্পোর্টসজিফাই (Sportsgify) এবং স্পোর্টজেডএক্স (SportzDX) মোবাইল অ্যাপ থেকেও ফুটবলপ্রেমীরা সহজেই উপভোগ করতে পারবেন বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী এই রোমাঞ্চকর ম্যাচটি।
/আশিক
১৬ বছরের অপেক্ষা শেষ: আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শিরোপার খোঁজে স্পেন
দীর্ঘ ১৬ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ আসর ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইউরোপীয় পরাশক্তি স্পেন। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথমবার ফুটবলের সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরার পর এবার নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার লক্ষ্যে মাঠে নামবে লা ফুরিয়া রোজা। ট্রফি জয়ের এই অন্তিম লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ইউরো কাপ বিজয়ী স্পেন এবং কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মধ্যকার এই হাইভোল্টেজ দ্বৈরথকে ফুটবল দুনিয়ার অনেকেই এখন একটি অঘোষিত ‘ফাইনালিসিমা’র আবহে দেখছেন।
লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল অবশ্য চলতি বিশ্বকাপের শুরুটা খুব একটা স্বপ্নের মতো করতে পারেনি। তবে প্রথম ম্যাচের সেই চরম হতাশা ও ধাক্কা কাটিয়ে উঠে একের পর এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে বিদায় করে এখন তারা বিশ্বজয়ের চূড়ান্ত মঞ্চে এসে দাঁড়িয়েছে।
গ্রুপ পর্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, 'এইচ' গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তুলনামূলক দুর্বল কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল স্পেনকে। পুরো ম্যাচে প্রায় ৭৫ শতাংশ বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে ২৭টি শট নিয়েও গোলের দেখা পায়নি স্প্যানিশরা। কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো পারফরম্যান্সের কাছে আটকে যায় ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নদের সব আক্রমণ।
তবে প্রথম ম্যাচের এই খরা কাটিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচেই নিজেদের চিরচেনা ও আক্রমণাত্মক রূপে ফেরে স্পেন। সৌদি আরবকে ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের আত্মবিশ্বাস পুনরুত্থান করে তারা। তরুণ বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামালের জাদুকরী গোলে শুরু হওয়া সেই ম্যাচে দলের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মিকেল ওয়ারিয়াসাবালের জোড়া গোল এবং একটি আত্মঘাতী গোলের ওপর ভর করে স্পেন বড় জয় তুলে নেয়। এরপর গ্রুপের শেষ ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয় নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করে স্পেন। ম্যাচের একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন আলেক্স বায়েনা।
নকআউট পর্বে পা রেখেই স্পেনের সামনে আসে একের পর এক বড় বাধা। প্রথম নকআউট ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামে তারা। দুর্দান্ত ও ক্ষুরধার আক্রমণ এবং ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগের মেলবন্ধনে অস্ট্রিয়ানদের ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয় লা ফুরিয়া রোজা। দলের পক্ষে মিকেল ওয়ারিয়াসাবাল আবারও জোড়া গোল করেন এবং স্প্যানিশ রক্ষণভাগ পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষকে কার্যত কোনো গোলমুখী সুযোগই তৈরি করতে দেয়নি।
পরবর্তী রাউন্ডে অর্থাৎ শেষ ষোলোর লড়াইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগালের মুখোমুখি হয় স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের ম্যাচ গোলশূন্য থাকায় খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। সেখানে ৯১ মিনিটের মাথায় মিকেল মেরিনোর করা এক জাদুকরী গোলে ১-০ ব্যবধানের নাটকীয় জয় পায় স্পেন। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষেও একই রকম শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ ও নাটকীয়তা দেখা যায়। সেখানেও মিডফিল্ডার মেরিনোর সমীকরণ নির্ধারণী গোলেই ২-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে সেমিফাইনালের টিকিট কাটে দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।
সেমিফাইনালের মেগা ম্যাচে শক্তিশালী ফ্রান্সকে ২-০ গোলে স্তব্ধ করে দিয়ে ফাইনালের মঞ্চে আরোহণ করে স্পেন। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের পায়ে রাখা, নিখুঁত দ্রুত পাসিং ও সুসংগঠিত আক্রমণের মাধ্যমে ফরাসিদের ওপর পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করে খেলে দে লা ফুয়েন্তের দল। মিকেল ওয়ারিয়াসাবাল ও পেদ্রো পোরোর প্রথমার্ধের দুই গোলে ফ্রান্সকে আসর থেকে বিদায় করে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখে স্পেন। কিলিয়ান এমবাপ্পেদের বিশ্বসেরা আক্রমণভাগও সেদিন স্পেনের শক্তিশালী ডিফেন্স লাইনে ফাটল ধরাতে পারেনি।
বিশ্বকাপের এই মহাকাব্যিক শেষ লড়াইয়ে এবার স্পেনের সামনে অপেক্ষা করছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কঠিন ও বড় পরীক্ষা। শিরোপারক্ষার মঞ্চে তাদের প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, যার মাঠের ও মনের নেতৃত্বে রয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা নায়ক লিওনেল মেসি।
একদিকে লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওয়ারিয়াসাবাল ও মিকেল মেরিনোদের নিয়ে গড়া স্পেনের টগবগে তরুণ ও গতিময় শক্তি, অন্যদিকে লিওনেল মেসির পর্বতসম অভিজ্ঞতা এবং আর্জেন্টিনার চেনা জয়ের লড়াকু মানসিকতা; সব মিলিয়ে নিউইয়র্কের এই ফাইনাল ম্যাচটি হতে যাচ্ছে দুই ভিন্ন প্রজন্ম এবং দুই ঘরানার ফুটবল দর্শনের এক অনবদ্য মহারণ। ১৬ বছর পর শিরোপার এত কাছে এসে স্পেন কি তাদের দ্বিতীয় সোনালী ট্রফিটি ঘরে তুলতে পারবে, নাকি মেসির আর্জেন্টিনা নিজেদের বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট অক্ষুণ্ণ রাখবে—তার চূড়ান্ত উত্তর মিলবে রোববারের এই মেগা ফাইনাল শেষে।
/আশিক
১০৩ ম্যাচের গোলবন্যা ও লড়াকু ফুটবল: অনন্য এক বিশ্বকাপের রূপরেখা
বিশ্বকাপ ফুটবলের বৈশ্বিক শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত মহারণের বাঁশি বাজার ঠিক আগমুহূর্তে চলমান টুর্নামেন্টের সার্বিক গতিপ্রকৃতি, অভূতপূর্ব গোলবন্যা এবং মাঠের খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে নিজের অত্যন্ত তথ্যসমৃদ্ধ ও খোলামেলা বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফুটবল কিংবদন্তি টোবিন হিথ।
২০০৮ ও ২০১২ সালের অলিম্পিক গেমসে স্বর্ণপদক বিজয়ী এবং ২০১৫ ও ২০১৯ সালের নারী বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ব্যাক-টু-ব্যাক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করা এই তারকা এবার পুরুষ বিশ্বকাপের ইতিহাসে অনন্য এক নজির গড়েছেন। তিনি ২০২৬ পুরুষ বিশ্বকাপের ফিফা টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের একমাত্র নারী বিশ্লেষক হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করছেন। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক একান্ত ও বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি চলতি বিশ্বকাপের বিভিন্ন চমকপ্রদ দিক নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন।
টোবিন হিথ তার বিশ্লেষণে উল্লেখ করেন, চলতি ফুটবল মহাযজ্ঞের ১০৩টি ম্যাচ শেষে এখন পর্যন্ত বিশ্বমঞ্চে রেকর্ডসংখ্যক ৩০৭টি গোল হয়েছে, যার গাণিতিক গড় হিসাব করলে প্রতি ম্যাচে গোলসংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩টি। ফুটবল ইতিহাসের এই অভূতপূর্ব ও অবিশ্বাস্য গোলবন্যার পেছনে টুর্নামেন্টের পরিবর্তিত নতুন ফরম্যাট এবং দল সংখ্যা বৃদ্ধির যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটিকে প্রধান ও মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন হিথ।
তিনি জানান, আধুনিক ফুটবলের কৌশলগত বিবর্তন ও আধুনিকায়ন এই আসরে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। মাঠের দলগুলো এখন প্রথাগত ফুটবল ছেড়ে উইং এবং ফুল-ব্যাকদের অত্যন্ত নিখুঁত ও আক্রমণাত্মক ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের অনেক ওপর থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত গতিতে কাউন্টার-প্রেস করার কৌশল দলগুলোর খেলায় দেখা যাচ্ছে। বিশ্বের ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের সম্পূর্ণ ভিন্ন ফুটবলশৈলী ও ঘরানা এই টুর্নামেন্টে একে অপরের মুখোমুখি হওয়াতেই আসরটি বিশ্বজুড়ে সাধারণ দর্শকদের জন্য ভীষণ রোমাঞ্চকর ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
এবারের ফুটবল আসরে আফ্রিকার মহাদেশের দলগুলোর প্রদর্শিত অদম্য সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এই মার্কিন নারী তারকা। বিশেষ করে কেপ ভার্দে, মিশর ও আইভরি কোস্টের লড়াকু ফুটবল শৈলী তাকে ভীষণভাবে মুগ্ধ করেছে। টুর্নামেন্টের ফাইনালে নাম লেখানো দুই বিশ্ব পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও স্পেনের বিরুদ্ধে মাঠের লড়াইয়ে কেপ ভার্দে যেভাবে বুক চিতিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, তা ফুটবলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সত্যিই অবিশ্বাস্য ও অভাবনীয়।
তুলনামূলক নিম্ন সারির রক্ষণভাগ নিয়েও পরাশক্তিদের বিরুদ্ধে আফ্রিকার দলগুলোর এমন ভয়ডরহীন ও সাহসী ফুটবল প্রদর্শন আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য নারী বিশ্বকাপেও অত্যন্ত ইতিবাচক ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকারে হিথ অকপটে স্বীকার করেন যে, এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের নান্দনিক ফুটবল তাকে সবচেয়ে বেশি মানসিক উত্তেজনা ও রোমাঞ্চের মধ্যে রেখেছে। ফরাসি শিবিরের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ওসমানে দেম্বেলেদের গতিশীল পাসিং ও আক্রমণভাগের নিখুঁত কম্বিনেশনকে তিনি আধুনিক ফুটবলের এক অভাবনীয় ও চমৎকার উদ্ভাবন হিসেবে আখ্যা দেন।
এর পাশাপাশি জুড বেলিংহাম, আর্লিং হালান্ড এবং লিওনেল মেসির মতো বিশ্বফুটবলের মহাতারকারা টুর্নামেন্টে নিজেদের নামের প্রতি শতভাগ পূর্ণ বিচার করেছেন বলে তিনি মনে করেন। মাঠের লড়াইয়ে তরুণ ও প্রবীণ—এই দুই প্রজন্মের ফুটবলারদের অসাধারণ মেলবন্ধনের কারণে বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ এখন অনেক বেশি নিরাপদ ও সঠিক হাতে রয়েছে বলে তার গভীর বিশ্বাস।
স্পেন দলের তরুণ তুর্কিদের চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সের প্রশংসা করতে গিয়ে হিথ বিশেষভাবে স্প্যানিশ রক্ষণভাগের তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করেন। এত কম বয়সে স্পেনের মূল রক্ষণভাগে কুবার্সির এমন ঠান্ডা মাথার ও পরিপক্ব পারফরম্যান্স ফুটবল বিশ্বের সবাইকে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছে।
একই সঙ্গে মেগা ফাইনালের এই মহাসমর ও রণক্ষেত্রে স্পেনের আরেক তরুণ বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামালের বুট থেকে একটি জাদুকরী ও অতিমানবীয় মুহূর্ত দেখার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। এর পাশাপাশি, ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে এসে ৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি যেভাবে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে সেরা খেলোয়াড় হওয়ার মতো অতিমানবীয় পারফরম্যান্স দেখিয়ে চলেছেন, তাকে ‘অতিপ্রাকৃতিক’ বা অলৌকিক ঘটনা বলে বর্ণনা করেন টোবিন হিথ।
/আশিক
ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা আগে মেসির আবেগঘন বার্তা: 'ট্রফি জেতাই সবকিছু নয়'
বিশ্বকাপ ফুটবলের অন্তিম শিরোপা নির্ধারণী মহারণের বাঁশি বাজতে আর মাত্র হাতেগোনা কয়েক ঘণ্টা বাকি। ফুটবল ক্যারিয়ারের চিরকাঙ্ক্ষিত ও ঐতিহাসিক শেষ বিশ্বকাপ ফাইনালের আঙিনায় দাঁড়িয়ে তীব্র আবেগ ও অনুভূতিতে ভাসলেন আধুনিক ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। স্পেনের বিরুদ্ধে মেগা ফাইনালে মাঠে নামার ঠিক আগমুহূর্তে নিজের প্রিয় সতীর্থ, বিশ্বস্ত কোচিং স্টাফ এবং পুরো আর্জেন্টিনা দলকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হৃদয়স্পর্শী ও অনুপ্রেরণাদায়ী একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন আলবিসেলেস্তেদের এই মহানায়ক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই আবেগঘন বার্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিজের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে দলের সব খেলোয়াড় ও স্টাফদের সঙ্গে কাটানো একটি সুন্দর মুহূর্তের ছবি পোস্ট করে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক মেসি লিখেছেন, দিনশেষে কেবল ট্রফি জেতা কিংবা চ্যাম্পিয়ন হওয়াটাই জীবনের সবকিছু নয়; বরং ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে মূল্যবান ও শ্রেষ্ঠ দিক ছিল এই দীর্ঘ পথচলা, মাঠ ও মাঠের বাইরে একসাথে লড়াই করা এবং একটি একান্নবর্তী পরিবারের মতো প্রতিটি আনন্দ-বেদনার মুহূর্ত নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া।
ফুটবল জাদুকর মেসি আরও উল্লেখ করেন, জাতীয় দলের হয়ে কাটানো এতগুলো বছরের সবচেয়ে সুন্দর ও আকর্ষক বিষয়টি কখনোই শুধু ট্রফি বা মেডেলের তালিকায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং দলগতভাবে পাড়ি দেওয়া পুরো যাত্রাপথটাই ছিল তার জীবনের সেরা অনুভূতি। তিনি জানান, প্রতিদিন সকালে সতীর্থদের সাথে কঠোর অনুশীলন করা, কঠিন ও প্রতিকূল সময়গুলো এক হয়ে পার করা, জয় কিংবা পরাজয়ের অনুভূতি যৌথভাবে বুকে টেনে নেওয়া এবং প্রতিটি মুহূর্তকে মন থেকে উপভোগ করাই মূলত ফুটবলার হিসেবে তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারের এই অন্তিমলগ্নে এসে নিজের জাতীয় দলের সব সতীর্থ, পর্দার অন্তরালের কোচিং স্টাফ এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সাথে যুক্ত প্রতিটি কর্মীর প্রতি গভীর ও বিনম্র কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী এই জীবন্ত কিংবদন্তি। মেসি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, যারা প্রতিদিন প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে নীরবে-নিভৃতে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে দলটিকে একটি অভিন্ন ও মজবুত পরিবারের রূপ দিয়েছেন, আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে তাদের অবদান চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
ফাইনালে ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল ঠিক কী হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে এই মুহূর্তে বাড়তি কোনো মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা নিজের মাথায় নিতে চান না মেসি। তার গভীর বিশ্বাস, বর্তমান এই আলবিসেলেস্তে দলটি ইতিমধ্যে বিশ্বফুটবলের মঞ্চে এমন এক গৌরবময় ইতিহাস রচনা করে ফেলেছে, যা সময়ের আবর্তে কখনো ম্লান বা মুছে যাবে না। দলের এই অদম্য যাত্রা এবং একে অপরকে ঘিরে তৈরি হওয়া মধুর স্মৃতিগুলো আর্জেন্টিনার ফুটবল ঐতিহ্যে চিরকাল অমলিন ও দেদীপ্যমান হয়ে থাকবে বলেও তিনি বিশেষ গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন।
ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি ভক্ত ও ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এই রোমাঞ্চকর ফাইনাল ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে ফুটবলার মেসির ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ; এমনকি এর মাধ্যমে তার আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের গৌরবময় অধ্যায়েরও চিরসমাপ্তি ঘটে যেতে পারে। তবে বহুল প্রতীক্ষিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অধিনায়ক মেসি নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কোনো মন্তব্য না করে, বরং বর্তমানের এই সোনালী মুহূর্তটির ওপরই নিজের সম্পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
/আশিক
মেসি কী করলে জিতবেন গোল্ডেন বুট
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল কেবল শিরোপা নির্ধারণের ম্যাচ নয়, ব্যক্তিগত সাফল্যের দিক থেকেও এটি হতে যাচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইগুলোর একটি। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার মহারণে নির্ধারিত হবে টুর্নামেন্টের সেরা গোলদাতা কে হবেন এবং কার হাতে উঠবে মর্যাদাপূর্ণ গোল্ডেন বুট। এই দৌড়ে বর্তমানে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে এখনও আশা শেষ হয়ে যায়নি আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির। ফাইনালে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে শেষ মুহূর্তে তিনিও ছিনিয়ে নিতে পারেন এই ব্যক্তিগত সম্মান।
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত এমবাপ্পের ঝুলিতে রয়েছে ১০ গোল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি এই মাইলফলকে পৌঁছান এবং গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেন। অন্যদিকে ফাইনালের আগে মেসির সংগ্রহ ৮ গোল, ফলে তিনি রয়েছেন দ্বিতীয় অবস্থানে।
এই অবস্থায় ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মেসি যদি দুই গোল করেন, তাহলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে গোল্ডেন বুট নিশ্চিত হবে না। কারণ, তখন তার গোলসংখ্যাও দাঁড়াবে ১০-এ, যা এমবাপ্পের সমান। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, গোলসংখ্যা সমান হলে বিজয়ী নির্ধারণে একাধিক টাইব্রেকার প্রয়োগ করা হয়।
প্রথম টাইব্রেকার হিসেবে বিবেচনায় আসে অ্যাসিস্ট। বর্তমানে এমবাপ্পে ও মেসি দুজনেরই রয়েছে চারটি করে অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ মেসি যদি শুধু দুই গোল করেন কিন্তু কোনো অ্যাসিস্ট না পান, তাহলে গোল ও অ্যাসিস্ট দুই ক্ষেত্রেই সমতা তৈরি হবে।
এরপর কার্যকর হবে দ্বিতীয় টাইব্রেকার, যেখানে বিবেচনা করা হবে কে কম সময় মাঠে থেকে এই পরিসংখ্যান অর্জন করেছেন। এই সূচকে বর্তমানে এগিয়ে রয়েছেন এমবাপ্পে। ফলে শুধু দুই গোল করলেই মেসির পক্ষে গোল্ডেন বুট জেতা কঠিন হয়ে পড়বে।
ফিফার প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, মেসির সামনে কার্যত দুটি বাস্তবসম্মত পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, ফাইনালে হ্যাটট্রিক করলে তার গোলসংখ্যা হবে ১১, যা এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে সরাসরি গোল্ডেন বুট নিশ্চিত করবে। দ্বিতীয়ত, তিনি যদি দুই গোলের পাশাপাশি অন্তত একটি অ্যাসিস্ট করেন, তাহলে গোলসংখ্যা ও অ্যাসিস্ট দুই দিক থেকেই এমবাপ্পেকে অতিক্রম করতে পারবেন।
এই লড়াইয়ের সঙ্গে আরও একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও জড়িয়ে আছে। মেসি ও এমবাপ্পে দুজনই বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বকালের সেরা গোলদাতাদের তালিকায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে ফাইনালের প্রতিটি গোল, প্রতিটি পাস এবং প্রতিটি মুহূর্ত গোল্ডেন বুটের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
-রাফসান
বিশ্বকাপে ৬ গোল হজম, ফ্রান্সের দুঃস্বপ্নের রাত
বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি কেবল একটি সান্ত্বনার লড়াই ছিল না, বরং তা ফ্রান্সের জন্য পরিণত হয়েছে এক দুঃস্বপ্নের রাতে। গোলের বন্যায় ভেসে যাওয়া এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ ব্যবধানে হেরে শুধু তৃতীয় স্থান হাতছাড়া করেনি ফরাসিরা, একই সঙ্গে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসেও যোগ করেছে একাধিক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড। প্রথমার্ধে রক্ষণভাগের চরম দুর্বলতা এবং ধারাবাহিক ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইংল্যান্ড এমন আধিপত্য দেখায়, যা ফরাসি সমর্থকদের জন্য ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।
সেমিফাইনালে পরাজয়ের হতাশা নিয়েই মাঠে নেমেছিল দুই দল। ফলে ম্যাচটি নিয়ে শুরুতে খুব বেশি উত্তেজনা না থাকলেও খেলার প্রথম কয়েক মিনিটেই চিত্র বদলে যায়। মাত্র ৩ মিনিট এবং ১৬ মিনিটে দুটি দ্রুত গোল করে ইংল্যান্ড ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়। এতে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় ফ্রান্স, যারা নিজেদের ছন্দ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়।
ফরাসি ফুটবলের পরিসংখ্যানভিত্তিক মাধ্যম Stats du Foot-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটের মধ্যেই দুই গোল হজম করল ফ্রান্স। এর আগে সর্বশেষ ২০০৮ সালে রোমানিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল তারা। এছাড়া বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচে অন্তত দুটি করে গোল হজম করার ঘটনাও দীর্ঘ সময় পর আবার দেখতে হলো ফরাসিদের।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগ একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে এবং বুকায়ো সাকা আরও দুটি গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন। বিরতিতে যাওয়ার আগেই স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-০। আন্তর্জাতিক বড় কোনো টুর্নামেন্টে প্রথমার্ধেই চার গোল হজম করার মতো বিব্রতকর অভিজ্ঞতা এর আগে ফ্রান্সের হয়নি। ফলে ম্যাচের মধ্যবিরতিতেই সমর্থক ও বিশ্লেষকদের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়ে দলটি।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেয় ফ্রান্স। ম্যাচের শুরুতেই অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে গোল করে ব্যবধান কমান। এরপর ৫৪ মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলা গোল করলে ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা জাগে। পরে এমবাপ্পে ও ওসমান দেম্বেলে আরও একটি করে গোল করে ব্যবধান কমিয়ে আনেন, যা ম্যাচকে আবারও রোমাঞ্চকর করে তোলে।
কিন্তু ফ্রান্সের প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি। ইংল্যান্ডের হয়ে বুকায়ো সাকা নিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স অব্যাহত রাখেন, আর মাঝমাঠ থেকে জুড বেলিংহাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে দলের আক্রমণে ধার বাড়ান। তাদের কার্যকর ফুটবলের সামনে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি ফরাসিরা। দশ গোলের অবিশ্বাস্য লড়াই শেষে ৬-৪ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করে থ্রি লায়ন্সরা।
-রাফসান
ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন নেতানিয়াহুর
ফিফা বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি কূটনৈতিক বার্তা। আজ রোববার (১৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনা দলের প্রতি প্রকাশ্যে শুভকামনা জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
টাইমস অব ইসরাইল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত রাব্বি শিমন অ্যাক্সেল ওয়ানিশের সঙ্গে এক বৈঠকে নেতানিয়াহু এই শুভেচ্ছা বার্তা দেন। বৈঠকের সময় রাষ্ট্রদূত আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর পক্ষ থেকে একটি ব্যক্তিগত বার্তাও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন।
এর জবাবে নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট মিলেইকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি ইসরাইলের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। পাশাপাশি তিনি আর্জেন্টিনার প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রেই দেশটির প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে এবং বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের জন্যও তিনি আর্জেন্টিনা দলের সাফল্য কামনা করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরাইল ও আর্জেন্টিনার কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও রাজনৈতিক যোগাযোগ আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে নেতানিয়াহুর এই শুভেচ্ছা বার্তাকেও অনেকেই কূটনৈতিক সৌজন্যের অংশ হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে, ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ স্পেন হওয়ায় ম্যাচটি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। কিছু পর্যবেক্ষক মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে স্পেন ও আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অবস্থানের পার্থক্যের কারণে ম্যাচটিকে কেউ কেউ প্রতীকী দৃষ্টিকোণ থেকেও আলোচনা করছেন। তবে ফুটবল প্রতিযোগিতাটি ফিফার অধীনে একটি ক্রীড়া আয়োজন এবং দুই দলের লড়াই মাঠের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।
এদিকে ফাইনালকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ঘিরে নানা ধরনের মন্তব্য ও বিভ্রান্তিকর পোস্টও ছড়িয়ে পড়েছে। পর্যবেক্ষকরা এ ধরনের অনলাইন প্রচারণা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে যাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিচ্ছেন।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের লড়াই ঘিরে যেমন মাঠের উত্তেজনা তুঙ্গে, তেমনি মাঠের বাইরেও কূটনৈতিক শুভেচ্ছা, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনাও সমানভাবে নজর কাড়ছে।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরাইল।
ফাইনালের আগে স্পেনকে সতর্ক করলেন বিশ্বজয়ী কিংবদন্তি ভিসেন্তে দেল বস্ক
ফুটবল বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালের মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে নিজের দেশ স্পেনকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছেন দেশটির কিংবদন্তি ফুটবল ম্যানেজার ভিসেন্তে দেল বস্ক। ২০১০ সালে স্প্যানিশদের প্রথমবারের মতো বিশ্বজয়ের স্বাদ এনে দেওয়া এই মাস্টারমাইন্ডের মতে, আর্জেন্টিনা এমন এক বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ, যারা মাঠের লড়াইয়ে যেকোনো মুহূর্তে প্রতিপক্ষকে চরম ভোগান্তির মধ্যে ফেলতে পারে এবং নিমেষেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে ওস্তাদ।
স্পেনের প্রভাবশালী দৈনিক 'এল পাইস'-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কিংবদন্তি দেল বস্ক বলেন, ফুটবল মাঠে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যেকোনো দলের জন্যই ভীষণ কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। আলবিসেলেস্তেদের সরাসরি 'ভীষণ ঝামেলার প্রতিপক্ষ' হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ম্যাচ নিজেদের পকেটে পুরতে ঠিক কখন কী করতে হবে, সেই কৌশল লুইস স্কালোনির শিষ্যরা খুব ভালো করেই জানে।
চলমান আসরের সেমিফাইনালে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত ফুটবল ও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের উদাহরণ টেনে সাবেক এই স্প্যানিশ কোচ সতর্কবার্তা দেন। তিনি মনে করেন, মাঠের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় ফাইনালে স্পেনকে কিছুটা এগিয়ে রাখা গেলেও, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের বিশাল অভিজ্ঞতা এবং যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মানসিকতা সম্পর্কে স্প্যানিশদের অবশ্যই সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
বর্তমানে ৭৫ বছর বয়সী এই ফুটবল প্রবীণ অবশ্য স্পেনের এবারের আসরের ফুটবল শৈলীতেও বেশ মুগ্ধ ও সন্তুষ্ট। তিনি প্রশংসা করে বলেন, এই টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই স্পেন সম্পূর্ণ নিজেদের পূর্বপরিকল্পনা ও কৌশল অনুযায়ী খেলেছে। মাঠে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার পাশাপাশি বর্তমান তরুণ স্প্যানিশ দলটি তীব্র চাপের মুখেও আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্থিরতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
আগামী রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় ফুটবলের বৈশ্বিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের চূড়ান্ত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। সারা বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী এখন মুখিয়ে আছেন নিউইয়র্কের এই ব্লকবাস্টার ফাইনাল দেখার জন্য।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তাপ টেনিস কোর্টে, স্পেনের জয় নিয়ে আশাবাদী নাদাল
- ঘরে বসে যেভাবে সরাসরি স্মার্টফোনে দেখবেন বিশ্বকাপ ফাইনালের মহারণ
- গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ
- ১৭ ফেব্রুয়ারির গণভোট সাংবিধানিক ছিল না, ওটা ছলচাতুরি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ইরানের চুক্তি বাতিলের ঘোষণাকে পাত্তাই দিলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
- আগাম ভিসা ছাড়াই বাংলাদেশি পাসপোর্টে ঘোরা যাবে বিশ্বের ৩৬টি দেশ
- সংসদে দাবি আদায় না হলে রাজপথে সরকার ভাঙার আন্দোলন: ডা. শফিকুর রহমান
- যুক্তরাষ্ট্রকে কখনো ভুলতে না পারার মতো শিক্ষা দেওয়ার ঘোষণা মোজতবা খামেনির
- ঢাকাসহ ১৭ অঞ্চলে রাতের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস
- ইরানের নির্মাণাধীন ডারখোভিন পারমাণবিক কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা
- ১৬ বছরের অপেক্ষা শেষ: আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শিরোপার খোঁজে স্পেন
- ১০৩ ম্যাচের গোলবন্যা ও লড়াকু ফুটবল: অনন্য এক বিশ্বকাপের রূপরেখা
- ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা আগে মেসির আবেগঘন বার্তা: 'ট্রফি জেতাই সবকিছু নয়'
- ১৩ বছর পর আলোর মুখে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, ট্রাইব্যুনালে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
- আইএইএ-র চোখ ফাঁকি দিয়ে রিয়াদ-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক পরমাণু চালের নেপথ্যে
- মেসি কী করলে জিতবেন গোল্ডেন বুট
- বিশ্বকাপে ৬ গোল হজম, ফ্রান্সের দুঃস্বপ্নের রাত
- আজ বের হওয়ার আগে দেখে নিন কোন মার্কেট বন্ধ
- স্বর্ণ কিনবেন? আগে দেখে নিন আজকের দাম
- ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মূল্য নেই, দাবি খামেনির
- ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন নেতানিয়াহুর
- অন্তরালে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি, ইরানের ক্ষমতার শীর্ষে বড় বিভাজন
- কুমিল্লার দেবিদ্বারে মাদক নির্মূলে ইমামদের ভূমিকা বিষয়ক আলোচনাসভা
- কুমিল্লার ৩ সড়কে লাখো মানুষের ভোগান্তি, ৫ বছরেও নেই সংস্কার
- ফাইনালের আগে স্পেনকে সতর্ক করলেন বিশ্বজয়ী কিংবদন্তি ভিসেন্তে দেল বস্ক
- ইয়ামালকে থামানোর উপায় কী? স্কালোনি বললেন ‘রুমে তালা মেরে রাখা’
- ৮ গোলে মেসি-এমবাপ্পের সমতা, গোল্ডেন বুটের ফয়সালা হবে যেভাবে
- সম্ভাব্য বৃহত্তর যুদ্ধের জন্য মিত্রদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিল ইরান
- কুরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম বার্তা দিল ইরান
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নিয়ে বিশ্লেষকদের রেকর্ড ভাঙা ভবিষ্যৎবাণী
- জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের আইআরজিসির বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- প্রধানমন্ত্রী মুখে মধু আর অন্তরে ছলনা রাখছেন: নাহিদ ইসলাম
- তথ্য বিকৃত করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী
- ১৫০ দিনেই জনগণের আস্থা অর্জন করেছে সরকার: মাহদী আমিন
- ঢাকার দূষণ ও যানজট রোধে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ
- ইরানে হামলার পরিধি বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প, ইসরায়েলে ধেয়ে আসছে আরও ডজনখানেক মার্কিন যুদ্ধবিমান
- স্বর্ণ কিনবেন? আগে জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
- শনিবার বন্ধ রাজধানীর বহু মার্কেট, দেখুন তালিকা
- দেবিদ্বারে আ.লীগ নেতাদের পুনর্বাসন করছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ?
- 'জুলাই সনদ' কি কেবলই ক্ষমতার হাতিয়ার? ফখরুলের বক্তব্যে নতুন রাজনৈতিক বার্তা
- কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলা: সীমান্তে জ্বলছে আগুন, নেপথ্যে কী?
- হরমুজের সেতু উড়িয়ে দিল মার্কিন মিসাইল: ইরানে ভয়াবহ মার্কিন হামলা, কী ঘটছে মধ্যপ্রাচ্যে?
- শহীদ আবু সাঈদ হলেন জুলাই বিপ্লবের ইমাম ও রূহানী নেতৃত্ব: নাহিদ ইসলাম
- ঢাকার দোরগোড়ায় ৭.৫ মাত্রার মহা-ভূমিকম্পের শঙ্কা, ৩-৫ শত বছরের চক্র এখন পূর্ণ
- হরমুজের পর বাব আল-মান্দেবও অবরুদ্ধের ছক, বিশ্বজুড়ে দ্বিগুণ হবে জ্বালানি সংকট
- জিয়া হত্যার খুনি মোজাফফরের ৪৫ বছরের অন্তরাল: বেশির ভাগ সময় কেটেছে ভারতের মাটিতে
- ম্যাচ হেরে মাঠেই মেজাজ হারালেন বেলিংহাম, আর্জেন্টিনার বারকোর মাথায় চড়!
- কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে ৬৫% বেশি প্রাইজমানি নিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে দামি বিশ্বকাপ
- রাত ১টার মধ্যে ঢাকাসহ ১৪ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা
- মার্কিন হামলার জবাবে বাব আল-মান্দেব বন্ধের ছক: হুতিদের চূড়ান্ত নির্দেশ দিল তেহরান
- ২০২৬ বিশ্বকাপ কাঁপানো ৫ বড় বিতর্ক এক নজরে
- ওয়াল্ট রস্টোর আধুনিকীকরণ তত্ত্ব ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
- ফ্রান্স-স্পেন মহারণ, সুপারকম্পিউটার কাকে এগিয়ে রাখছে
- বিশ্ববাজারে ৩ শতাংশ কমল স্বর্ণের দাম, বাংলাদেশেও কি কমবে?
- ট্যালকট পার্সন্সের Pattern Variable তত্ত্ব: আধুনিকতা ও উন্নয়ন ভাবনার রাজনীতি
- ১৯ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
- এক ঘোষণায় কমল স্বর্ণের দাম, কত হলো নতুন মূল্য?
- স্বর্ণ কিনবেন? আগে জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
- সৌদি-হুথি সংঘাত ফের তীব্র, ভেঙে গেল যুদ্ধবিরতি
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, একদিনেই বড় মূল্যহ্রাস
- ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন নেতানিয়াহুর
- বর্ষণ কমলেও সামনে অপেক্ষা করছে নতুন দফার বৃষ্টি
- ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, কোন এলাকাগুলো জানুন
- যৌন নিপীড়ন মামলায় আদালতের রায়ে ৫৬ লাখ ডলার দিলেন ট্রাম্প
- ইরানকে নতুন হুমকি ট্রাম্পের, ‘আরও বড় হামলা আসছে’








