নিরপেক্ষ সরকার কি ‘হ্যাঁ’ ভোট চাইতে পারে? গণভোট ঘিরে আইনি জটিলতা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২০ ০৯:০১:৫১
নিরপেক্ষ সরকার কি ‘হ্যাঁ’ ভোট চাইতে পারে? গণভোট ঘিরে আইনি জটিলতা
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন দিন হতে যাচ্ছে, যেখানে একই দিনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত গণভোট। এই গণভোট মূলত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের ওপর ভিত্তি করে আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের ওপর ভিত্তি করে নাগরিকদের রায় নেওয়া হবে। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে যে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা নিয়ে দেশের বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও রাজনৈতিক মহলে এক বিশাল আইনি ও নৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। সরকারের উপদেষ্টা ও কর্মকর্তারা জেলায় জেলায় সফর করে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত তৈরি করছেন এবং সব সরকারি-আধাসরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই প্রচারের জোরদার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের প্রধান প্রশ্ন হলো—একটি নিরপেক্ষ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে গঠিত প্রশাসন কোনো বিশেষ ফলের পক্ষে প্রচার চালাতে পারে কি না।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ এই প্রচারের পক্ষে যুক্তি দিয়ে জানিয়েছেন যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রধানতম এজেন্ডাই ছিল রাষ্ট্র সংস্কার ও বিচার সুনিশ্চিত করা। তাঁর মতে, এই সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হলে জুলাই সনদকে গণভোটে জয়যুক্ত করা অপরিহার্য। একইভাবে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল মন্তব্য করেছেন যে, এটি কোনো ভনভিতা নয় বরং সংস্কারের প্রতি সরকারের যে অঙ্গীকার রয়েছে, সেখান থেকেই তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গণভোটের মাধ্যমে কোনো নতুন সরকার গঠিত হয় না এবং অতীতেও বাংলাদেশে সব গণভোটের সময় সরকার একটি পক্ষ নিয়েছিল। তবে সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক এই ধরণের কর্মকাণ্ডকে সরাসরি ‘আইন ও নীতিবহির্ভূত’ এবং ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, নির্বাচন আয়োজনকারী কোনো নিরপেক্ষ সরকার এর আগে কখনো এভাবে পক্ষ নিয়ে ভোট চাইতে দেখা যায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক রিদওয়ানুল হকের মতেও, অন্তর্বর্তী সরকারের স্পিরিট হওয়া উচিত ছিল অরাজনৈতিক, কিন্তু এই প্রচার রাজনৈতিক দলগুলোর কাজের মতো হয়ে যাচ্ছে।

আইনি জটিলতার দিকটি আরও গভীর হয়েছে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নিয়ে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ডিসি ও ইউএনও-রা নির্বাচন কমিশনের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন এবং তাদের নিরপেক্ষ থাকা আইনত বাধ্যবাধকতা। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না একে ‘বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন যে, সরকার জনগণের করের টাকায় একটি পক্ষের প্রচার চালাচ্ছে, যেখানে ‘না’ সমর্থকদেরও অর্থ জড়িত রয়েছে। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন যে, যে শিক্ষকদের বা ব্যাংক কর্মকর্তাদের সরকার এখন ‘হ্যাঁ’ প্রচার করতে বলছে, তাদের মাধ্যমেই যদি নির্বাচনের দিন নিরপেক্ষভাবে ভোট গ্রহণ করা হয়, তবে সেই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হবে। নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ অবশ্য জানিয়েছেন যে, সরকার চাইলে গণভোট সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচার চালাতে পারে, তবে সেটি যেন প্ররোচনামূলক না হয়।

আসন্ন গণভোটে মূলত চারটি বিষয়ের ওপর রায় চাওয়া হচ্ছে: নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও ইসি গঠন প্রক্রিয়া, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ গঠন ও উচ্চকক্ষের ক্ষমতা, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতা (সর্বোচ্চ ১০ বছর), বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব। জুলাই সনদে বিএনপি ও জামায়াতসহ ২৬টি দল স্বাক্ষর করলেও বিএনপি তাদের ৯টি পয়েন্টে ভিন্নমত দিয়েছে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) চারটি দল এতে এখনো স্বাক্ষর করেনি। বিশেষ করে চারটি ভিন্ন প্রশ্নের ওপর কেবল একটি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের বিধান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, কারণ কোনো একটি প্রস্তাবে দ্বিমত থাকলেও আলাদাভাবে মত প্রকাশের সুযোগ রাখা হয়নি। এই বিতর্ক ও প্রশ্নবিদ্ধ আইনি আবহের মধ্যেই দেশ ১২ ফেব্রুয়ারির সেই ঐতিহাসিক ক্ষণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।


বন্ধ ও অলাভজনক সরকারি কারখানা চালু করতে শিগগিরই সরকারের 'রোড শো'

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ২১:৪৬:২৫
বন্ধ ও অলাভজনক সরকারি কারখানা চালু করতে শিগগিরই সরকারের 'রোড শো'
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বন্ধ ও অলাভজনক সরকারি কারখানাগুলোতে দেশি-বিদেশি বড় অঙ্কের যৌথ বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কাজ শুরু করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজার ও বিনিয়োগকারীদের কাছে এসব কারখানার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তুলে ধরতে শিগগিরই একটি মেগা ‘রোড শো’র আয়োজন করা হবে। এই রোড শো সফল করতে চলতি জুন মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন্ধ কারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান শিপলু সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বর্তমানে বন্ধ থাকা এবং বছরের পর বছর লোকসানে চলা অলাভজনক কারখানাগুলোর বর্তমান বাস্তব অবস্থা, আইনি ও পরিকাঠামোগত সমস্যা, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং করণীয় বিষয়ে বিশদ কর্মপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন।

তিনি আরও জানান, সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুনরায় সচল করতে এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে লাভজনক করার কার্যকর উপায় খুঁজে বের করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। একই সাথে তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর চাপ না বাড়িয়ে এসব কারখানায় বেসরকারি খাত এবং দেশি-বিদেশি যৌথ বিনিয়োগ (FDI) আকর্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে জানান, বন্ধ কারখানা সচল এবং অলাভজনকগুলোকে লাভজনক মডেলে রূপান্তর করতে দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ ও শিল্প বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ কমিটির সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


তীব্র প্রতিবাদের মুখে নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ২০:১৭:৩৫
তীব্র প্রতিবাদের মুখে নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহার
ছবি : সংগৃহীত

প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের সাধারণ গ্রাহকদের ওপর থেকে বাড়তি খরচের চাপ কমাতে অবশেষে আবাসিক খাতের এক অংশের বিদ্যুতের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দেশের সব বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর যৌথ আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এই নতুন ও স্বস্তিদায়ক সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে।

বিইআরসি-র নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানির আবাসিক গ্রাহকশ্রেণির অন্তর্ভুক্ত লাইফলাইন (০-৫০ ইউনিট) বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ৪ টাকা ৬৩ পয়সা এবং আবাসিক প্রথম ধাপের (০-৭৫ ইউনিট) ইউনিট প্রতি ৫ টাকা ২৬ পয়সা পুনর্বহাল বা অপরিবর্তিত নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই সংশোধিত মূল্যহার চলতি জুন মাস থেকেই কার্যকর হবে।

এর আগে গত বুধবার ঘোষিত সরকারের নতুন ট্যারিফ অনুযায়ী, আবাসিক লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছিল। এতে প্রান্তিক মানুষের ব্যবহৃত বিদ্যুতে প্রতি ইউনিটে ৬৯ পয়সা বা প্রায় ১৫ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও সাধারণ মানুষের মাঝে অসন্তোষ তৈরি হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে লাইফলাইন সুবিধাভোগী গ্রাহকের সংখ্যা ১ কোটি ৭৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৮০। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ তথা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) আওতাধীন সমিতিগুলোতেই রয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১টি সংযোগ। গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সরকার এই বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছে।

তবে লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য বাড়তি দাম প্রত্যাহার করা হলেও অন্যান্য খাতে বুধবারের ঘোষিত বড় অঙ্কের মূল্যবৃদ্ধি বহাল থাকছে। নতুন ট্যারিফ অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা শতাংশের হিসাবে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে খুচরা পর্যায়ে গড় মূল্য প্রতি ইউনিট ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ খুচরা বিদ্যুতের গড় দাম বেড়েছে ১ টাকা ৫২ পয়সা বা ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। আবাসিক লাইফলাইন গ্রাহক বাদে অন্য সব শ্রেণির বাণিজ্যিক ও উচ্চ ইউনিটের আবাসিক বিদ্যুতের দাম গত বুধবারের ঘোষণা অনুযায়ী কার্যকর থাকবে।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি রয়েছে: মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ১৭:৪৪:০৩
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি রয়েছে: মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্মের আলোকপাত করতে গিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “আমরা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও দূরদর্শিতার মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তাঁর এই সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ সামনের দিনগুলোতে সমৃদ্ধির পথে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের অসামান্য অবদান স্মরণ করে বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের এক ক্রান্তিকালে তিনি চট্টগ্রাম থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ এবং সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছিলেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের এই ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। সমসাময়িক ভূরাজনীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, কোনো বহিঃশক্তির আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত না করে বাংলাদেশ যেন নিজের পায়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে, দেশের মানুষ এখন ঠিক তেমনই একটি সার্বভৌম বাংলাদেশ দেখতে চায়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সমাজের বিদ্যমান সব পক্ষকে সুষম সমন্বয়ের মাধ্যমে একসঙ্গে দেশের উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ও মিত্রদের সঙ্গে চমৎকার সুসম্পর্ক গড়ে তুলে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। একই সঙ্গে দূরদর্শী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) শিল্পের বিকাশ এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ববাজারে জনশক্তি রপ্তানির সূচনা করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছিলেন তিনিই।

মূল আলোচনা সভাটি শুরু হওয়ার আগে আমন্ত্রিত অতিথিরা পিআইবি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন, কর্ম ও বহুমাত্রিক রাজনৈতিক অবদানভিত্তিক ঐতিহাসিক সংবাদপত্র প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখেন। এই বিশেষ প্রদর্শনীতে তাঁর রাজনৈতিক জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে তাঁর নেওয়া বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ সংবলিত সমসাময়িক সংবাদ প্রতিবেদন, বিরল আলোকচিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল সর্বসাধারণের প্রদর্শনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের 'লাল টেলিফোন'র তার চুরি: ২ চোর ও ভাঙারি ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ১৭:৩৩:৩৪
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের 'লাল টেলিফোন'র তার চুরি: ২ চোর ও ভাঙারি ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সচিবালয়ের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর ‘রেড টেলিফোন’ (লাল টেলিফোন) সংযোগের তামার তার চুরির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় সরাসরি জড়িত চোর এবং চোরাই মাল কেনা ভাঙারি ব্যবসায়ীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

একই সঙ্গে তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি হওয়া ৮ কেজি ২০০ গ্রাম কপার ক্যাবল বা তামার তার। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে সিটিটিসি এবং ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মূল অভিযুক্ত চোর রঞ্জন চন্দ্র (২৫) এবং চোরাই তারের ক্রেতা তথা ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলাম (৩২)। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে রঞ্জন চন্দ্র স্বীকার করেছেন যে, গত ২২ মে গভীর রাতে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবনের ছাদ ও সংযোগ লাইন থেকে তিনি এই তার চুরি করেছিলেন।

পরবর্তীতে গত ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে অবস্থিত একটি ভাঙারির দোকানে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের এই মূল্যবান কপার ক্যাবল রেজাকুল ইসলামের কাছে বিক্রি করে দেন। রঞ্জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একুশে হলের সামনে অভিযান চালিয়ে প্রথমে রেজাকুলকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী চকবাজার থানার হোসেনী দালান রোডের একটি ভাঙারির গুদাম থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সেই বিচ্ছিন্ন হওয়া লাল টেলিফোনের তার উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা আজ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে এই চুরির রহস্য উদ্ঘাটন করেছি। সংশ্লিষ্ট চোর রঞ্জন চন্দ্রের দেওয়া তথ্যে ভাঙারির দোকান থেকে ৮ কেজি তার উদ্ধারসহ দোকানের মালিক রেজাকুলকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।” উল্লেখ্য, গত ১ জুন সচিবালয়ের কর্মীরা অফিসে এসে দেখতে পান যে, পুরাতন ২ নম্বর ভবন থেকে নতুন ১ নম্বর ভবন পর্যন্ত বিস্তৃত টেলিযোগাযোগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লাইনগুলো বিকল হয়ে আছে।

ভবনের ছাদ ও সংযোগ লাইনের বিভিন্ন স্থানে কপার ক্যাবলগুলো কাটা এবং কিছু জায়গায় সম্পূর্ণ গায়েব ছিল। এই চুরির ফলে শুধু সাধারণ টেলিফোনই নয়, বরং সরকারের অতি সংবেদনশীল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘রেড টেলিফোন’ সংযোগগুলো সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল, যা রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটায়।

/আশিক


আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যুতে অবহেলা স্পষ্ট, আইনি ব্যবস্থার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ১৭:২৪:৩০
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যুতে অবহেলা স্পষ্ট, আইনি ব্যবস্থার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সরকারের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, হাসপাতালের একটি বন্ধ কক্ষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না থাকার কারণেই (অক্সিজেন সংকট) এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এই বর্বরোচিত অবহেলার বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে তদন্ত কমিটির আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন গ্রহণ করার পর আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এর আগে গত বুধবার (৩ জুন) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে গঠিত মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেছে। একই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক গঠিত পৃথক তদন্ত কমিটিও আজ বৃহস্পতিবার তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এই লোমহর্ষক ঘটনার প্রকৃত কারণ ও নেপথ্যের ত্রুটি অনুসন্ধানের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

এর মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পৃথক ৩ সদস্যের আরেকটি কমিটি করা হয়। এছাড়া আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের অভ্যন্তরীণ কোনো গাফিলতি ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে নিজস্ব একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল, যার প্রতিবেদনও ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে। তদন্তে অবহেলার বিষয়টি সুনির্দিষ্ট হওয়ায় এখন দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি উঠছে।

/আশিক


ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে হাম: আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় বাবা-মায়েদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ১৭:১১:২৬
ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে হাম: আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় বাবা-মায়েদের কপালে চিন্তার ভাঁজ
ছবি : সংগৃহীত

দেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করা হাম রোগের প্রকোপে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগে এক শিশু এবং হামের তীব্র উপসর্গে বাকি তিন শিশু মারা গেছে। একই সময়ের ব্যবধানে সারা দেশে হাম এবং এর বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ২০৫টি শিশু আক্রান্ত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে মোট ৬০৫ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সারা দেশে আরও ১ হাজার ১৩৬টি শিশু সন্দেহভাজন হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সময়ের পরিসংখ্যানসহ দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৭০৮ জনে।

এর পাশাপাশি গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগী (কনফার্মড কেস) হিসেবে শনাক্ত হয়েছে আরও ৬৯টি শিশু। এই নতুন শনাক্তের ফলে দেশে এখন পর্যন্ত ল্যাব টেস্টে প্রমাণিত মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৯ হাজার ২৬০ জন।

অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি হয়েছিল মোট ৬১ হাজার ১৯৪ জন শিশু। আক্রান্তদের মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা ও সেবা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছে ৫৭ হাজার ১৪২ জন। স্বাস্থ্য বুলেটিনের তথ্যমতে, সামগ্রিক মৃতের সংখ্যার মধ্যে এখন পর্যন্ত ল্যাব টেস্ট ছাড়া কেবল তীব্র উপসর্গ বা সন্দেহজনক হামে মারা গেছে ৫১৪ জন এবং ল্যাব টেস্টে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া হামের কারণে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ৯১টি শিশু।

/আশিক


আজ যুক্তিতর্ক শেষেই জানা যাবে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ের দিন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ১০:৩১:৪৫
আজ যুক্তিতর্ক শেষেই জানা যাবে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ের দিন
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার রায়ের চূড়ান্ত তারিখ আজই ঘোষণা হতে পারে। আজ বৃহস্পতিবার (৪৪ জুন) সকালে মামলাটির উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। আইনি প্রক্রিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি শেষ হওয়ার পরপরই আদালতের পক্ষ থেকে রায়ের দিনক্ষণ জানিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে আইনি সূত্রে জানা গেছে। রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী এই মামলায় আসামিদের জন্য সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করার জোরালো প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এবং আগামী সপ্তাহের শুরুতেই মামলার রায় প্রকাশ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এর আগে গত কার্যদিবসে এই মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে আদালতের কাঠগড়ায় নিজের অপরাধের দায় স্বীকার করে বিচারকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে প্রধান আসামি সোহেল রানা। এ সময় সে নিজের স্ত্রী স্বপ্নার বিষয়ে আদালতকে বলে, ‘আমার বউটা একদম নির্দোষ স্যার।’ তবে তার এই বক্তব্যের মাঝেই বিচারক তাকে থামিয়ে দিয়ে সহ-আসামি স্বপ্নার কাছে জানতে চান তার নিজের কোনো বক্তব্য আছে কি না। জবাবে স্বপ্নাও আদালতের সামনে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করে।

অবশ্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মতে, বিচার প্রক্রিয়ার শেষ মুহূর্তে আসামিদের এই ধরনের আবেগঘন বক্তব্য মূলত আইনি বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত ও বিলম্বিত করার একটি অপকৌশল মাত্র। অন্যদিকে, রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমুল্ল্যাহ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য আসামিপক্ষ থেকে নতুন করে কোনো সাফাই সাক্ষী আদালতের সামনে হাজির করা হবে না।

বিগত মঙ্গলবার এই ট্রাইব্যুনালে টানা ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। ওই দিন শুনানিতে নিহত শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা এবং মা পারভীন আক্তারসহ অন্যান্য সাক্ষীদের দেওয়া জবানবন্দিতে ঘটনার দিন ঠিক কী ঘটেছিল, তার এক লোমহর্ষক চিত্র ফুটে ওঠে। মামলার সরকারি নথি ও তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল শিশু রামিসা আক্তার। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে ফুসলিয়ে নিজেদের ঘরের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য তার মা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

অনুসন্ধানের একপর্যায়ে আসামির বন্ধ ঘরের দরজার সামনে শিশু রামিসার একটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন তার মা। তখন ঘরে ডাকাডাকি করে ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা মিলে জোরপূর্বক দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন। ভেতরে ঢুকে তারা সোহেল রানার শোবার ঘরের মেঝেতে শিশু রামিসার রক্তাক্ত মস্তকবিহীন দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পরবর্তীতে বাথরুমের ভেতরের একটি বড় বালতি থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করা হয়।

এই নৃশংস ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেওয়া হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে স্বপ্নাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল হোতা সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই বর্বরোচিত ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করার পর ২০ মে আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিল আসামি সোহেল রানা।

/আশিক


প্রয়োজনে রাজপথে নামলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ রাজাকার মুক্ত করা হবে: ইশরাক হোসেন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ২০:১৫:৫১
প্রয়োজনে রাজপথে নামলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ রাজাকার মুক্ত করা হবে: ইশরাক হোসেন
ছবি : সংগৃহীত

দেশের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অত্যন্ত বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার নান্দিয়াপাড়ায় অবস্থিত ‘বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন জাদুঘর’ পরিদর্শন করেন তিনি। এরপর চাটখিল উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে আয়োজিত এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের একক কৃতিত্ব যেমন একটি রাজনৈতিক দল জোরপূর্বক নিজেদের দাবি করেছিল, ঠিক একইভাবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের একক কৃতিত্বও আরেকটি দল নিজেদের পকেটস্থ করতে চেয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের একক কৃতিত্ব দাবিদার দলটি দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকে সম্পূর্ণ অন্যায় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি মনগড়া তালিকা প্রস্তুত করেছিল, যা দেশবাসীর কাছে সম্পূর্ণ প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত।

ইশরাক হোসেন আরও উল্লেখ করেন, অন্যদিকে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের একক কৃতিত্ব নিতে চাওয়া এই নতুন দলটি এখন দেশের স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এবং একাত্তরের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের বিতর্কিত ভূমিকা পালন করে চলেছে। এই গোষ্ঠীটি বর্তমানে দেশের ভেতরে নতুন করে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তিনি অত্যন্ত কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায় যদি আবারও রাজপথে নামার প্রয়োজন হয়, তবে মাঠপর্যায়ের জনতাকে সাথে নিয়ে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুরো দেশকে রাজাকার মুক্ত করা সম্ভব হবে।

চাটখিল উপজেলা জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এই মর্যাদাপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সফলভাবে সম্পন্ন হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহাবুব উদ্দিন খোকন।

এছাড়া বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (এসপি সার্কেল) মনিষ দাস, চাটখিল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ, আমেরিকা প্রবাসী বিএনপি নেতা পরান চৌধুরী, চাটখিল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তফা কামাল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু হানিফ, চাটখিল পৌরসভার সাবেক সভাপতি দেওয়ান সামছুল আরেফিন শামীম, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান রানা, এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম হোসেন টিপু ও আলাউদ্দিন ভূইয়া প্রমুখ।

/আশিক


মহামারি রূপ নিচ্ছে হাম? আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় উদ্বেগজনক বৃদ্ধি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ১৭:৫৮:২৭
মহামারি রূপ নিচ্ছে হাম? আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় উদ্বেগজনক বৃদ্ধি
ছবি : সংগৃহীত

সারাদেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রোগটির বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ৭ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, তবে এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হামের সংক্রমণে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আজ বুধবার (৩ জুন) প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক স্বাস্থ্য বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরু করে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই প্রাণহানির ঘটনাগুলো ঘটেছে।

সরকারি সবশেষ হিসাব ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দেশে হাম এবং এর বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে সর্বমোট ৬০১ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ এই সময়ের মোট মৃত্যুর তালিকায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৯০ জন এবং রোগটির বিভিন্ন জটিল উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে বাকি ৫১১ জন।

গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশজুড়ে নতুন করে আরও ৫৫ জনের শরীরে ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে, যার ফলে এ পর্যন্ত মোট নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৯ হাজার ১৯১ জনে এসে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আরও ১ হাজার ২১০ জন শিশুর শরীরে হামের সদৃশ উপসর্গ বা লক্ষণ শনাক্ত করা হয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে মহামারি শুরুর পর থেকে এই পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৭৪ হাজার ৫৭২ জনে পৌঁছেছে।

ভয়াবহ এই সংক্রামক ব্যাধির বিস্তার কার্যকরভাবে রোধ করার জন্য শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো আক্রান্ত শিশুকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য জরুরি পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

/আশিক

পাঠকের মতামত: