ইরান সংকট নিয়ে পুতিন–নেতানিয়াহুর ফোনালাপ, আলোচনায় যা ছিল

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে সম্ভাব্য ইরানি হামলার হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা যখন বাড়ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইরানকেন্দ্রিক সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয় শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি)।
রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফোনালাপে ভ্লাদিমির পুতিন ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রাশিয়ার ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন যে, অঞ্চলটিতে অস্থিরতা এড়াতে মস্কো রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও সক্রিয় করতে প্রস্তুত।
ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্য ও তেহরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে। আলোচনায় পুতিন জোর দেন যে, সামরিক উত্তেজনার পরিবর্তে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি, বিভিন্ন স্তরে পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়েও উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।
এই ফোনালাপের পেছনে রয়েছে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া। গত বছরের শেষ দিকে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের অবমূল্যায়নের ফলে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই আন্দোলন সহিংস রূপ নিলে যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানায় এবং সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনার কথাও তোলে।
এর জবাবে তেহরান স্পষ্ট করে জানায়, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ হলে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। এই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে এমন আশঙ্কা কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে।
তবে সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে তেহরান। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ঘোষণা করেন, দেশটিতে অস্থিরতা বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বড় ধরনের বিক্ষোভ আর নেই।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেশেশকিয়ান অর্থনৈতিক সংস্কার অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি চলমান সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেন এবং দাবি করেন, বিদেশি শক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানিদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানান, যাতে উগ্রপন্থীরা জনগণের প্রকৃত দাবি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে না পারে।
-রফিক
বন্দর থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সব ধ্বংসের ছক আঁকলেন ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত এখন চূড়ান্ত উত্তেজনার দিকে ধাবিত হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যতদিন প্রয়োজন ততদিন ইরানের প্রতিটি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর নৌ-অবরোধ জারি থাকবে। শুধু তাই নয়, তেহরান যদি দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের ওপর নতুন করে ভয়াবহ সামরিক হামলা চালানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পেন্টাগন প্রধান।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান যদি ভুল পথ বেছে নেয়, তবে কেবল বন্দর অবরোধই নয় বরং দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জ্বালানি ভাণ্ডার এবং জাতীয় অবকাঠামোর ওপর সরাসরি বোমাবর্ষণ শুরু করবে মার্কিন বাহিনী।
গত সোমবার থেকে ইরানি বন্দরগুলোতে শুরু হওয়া এই অবরোধ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ড্যান কেইন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, অবরোধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৩টি জাহাজকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠাতে বাধ্য করেছে মার্কিন নৌবাহিনী।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ আরও দাবি করেন, গত এক মাসের যুদ্ধে বিধ্বস্ত স্থাপনাগুলো থেকে ইরান তাদের অবশিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম ও ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার উদ্ধারের যে চেষ্টা চালাচ্ছে, তা পেন্টাগনের নজরদারিতে রয়েছে। তাঁর মতে, ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন পুরোপুরি অচল এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া অস্ত্রগুলো প্রতিস্থাপনের সক্ষমতা তেহরানের আর অবশিষ্ট নেই।
তবে পেন্টাগনের এই আত্মবিশ্বাসী দাবির বিপরীতে মাঠপর্যায়ের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। এর আগে পিট হেগসেথ দাবি করেছিলেন যে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু এর ঠিক কয়েকদিন পরেই একটি মার্কিন অত্যাধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে সেই দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানায় তেহরান।
ওই বিমানের পাইলট ও ক্রুদের উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েক ঘণ্টা দীর্ঘ একটি জটিল বিশেষ অভিযান চালাতে হয়েছিল। এমনকি ইরান দাবি করেছে যে সেই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের আরও অন্তত তিনটি বিমান তারা বিধ্বস্ত করেছে। ফলে ওয়াশিংটনের অবরোধের হুমকির মুখে ইরান যে নীরব থাকবে না, তা বেশ স্পষ্ট।
/আশিক
বিচ্ছিন্ন দক্ষিণ লেবানন! বিমান হামলায় ধ্বংস হলো কৌশলগত সংযোগ পথ
শান্তি আলোচনার গুঞ্জন চললেও মাঠপর্যায়ে ইসরায়েলি তাণ্ডব থামছেই না। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) দক্ষিণ লেবাননের সংযোগ রক্ষাকারী সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত ‘কাসমিয়েহ সেতু’টি বিমান হামলায় গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ (NNA) জানিয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে পর পর দুটি শক্তিশালী হামলা চালিয়ে টাইর ও সিডন শহরকে সংযুক্ত করা এই বিশাল সেতুটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে ওই একই এলাকায় একটি ড্রোন হামলাও চালিয়েছিল ইসরায়েল।
কাসমিয়েহ সেতুটি দক্ষিণ লেবাননের জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত ছিল, যা দেশটির পশ্চিম, মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র বড় পথ। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সেতু ধ্বংস করার মাধ্যমে দক্ষিণ লেবাননকে দেশের বাকি অংশ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার চেষ্টা করছে ইসরায়েল।
উল্লেখ্য, এই সেতুটি এর আগেও কয়েক দফা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এবার তা আর ব্যবহারের উপযোগী নেই। মূলত হিজবুল্লাহর গত ২ মার্চের সীমান্ত হামলার পর থেকেই ২০২৪ সালের নভেম্বরের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে লেবাননের গভীরে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে নেতানিয়াহু সরকার।
লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ইসরায়েলের এই অব্যাহত হামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
আহতের সংখ্যা ৭ হাজার ছাড়িয়েছে এবং প্রায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ধ্বংস হওয়া কাসমিয়েহ সেতুটি সেই মানবিক বিপর্যয়কে আরও প্রকট করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ এর ফলে ত্রাণ ও জরুরি ওষুধ সরবরাহ এখন পুরোপুরি বাধাগ্রস্ত হবে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
যুদ্ধে ইতি টানার সময় কি তবে এল? রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর তথ্য
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে এবার বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান শিগগিরই দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যদিও এই ঐতিহাসিক বৈঠকের সুনির্দিষ্ট সময় বা স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে দুই দেশের মধ্যে পরমাণু ইস্যুসহ প্রধান সংকটগুলো নিয়ে আলোচনার পথ প্রশস্ত হচ্ছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই ভয়াবহ যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে দুই পক্ষ বেশ কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো বড় ধরনের মতভেদ রয়ে গেছে। বিশেষ করে বর্তমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির অর্ধেকের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও মৌলিক দাবিগুলোর ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে এখনো বিশাল দূরত্ব বিদ্যমান।
এই সংকট নিরসনে নেপথ্যে বড় ভূমিকা পালন করছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তাঁর সাম্প্রতিক তেহরান সফর দুই দেশের মধ্যকার বরফ গলাতে এবং ভুল বোঝাবুঝি কমাতে কার্যকর প্রভাব ফেলেছে বলে ওই ইরানি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। মূলত আসিম মুনিরের মধ্যস্থতাতেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং তেহরান-ওয়াশিংটনের মধ্যে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফেরার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এখন পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে দ্বিতীয় দফার এই শান্তি আলোচনার দিকে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
বিশ্ব তেলের বাজারে হাহাকার? হরমুজ সংকটে দুই পরাশক্তির চরম টক্কর
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধের মুখে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে ইরানের প্রধান সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, গত সোমবার থেকে অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজই এই ব্যুহ ভেঙে পার হতে পারেনি।
বুধবার দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক হালনাগাদ তথ্যে জানিয়েছে, অবরোধের প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ১০টি জাহাজকে জোরপূর্বক ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনের এই অনড় অবস্থানে পারস্য উপসাগর এলাকায় এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ইরানের উপকূলে যাতায়াতকারী যেকোনো জাহাজকে তারা আটকে দেবে অথবা ফিরিয়ে দেবে। তবে ইরান ছাড়া অন্য দেশগুলোর উদ্দেশ্যে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে বিশেষ নজরদারিতে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো—হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিপরীতে ইরান যে মোটা অংকের 'ট্রানজিট ফি' আদায়ের চেষ্টা করছিল তা বন্ধ করা এবং তেহরানের তেল রপ্তানি শূন্যে নামিয়ে এনে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।
এদিকে ইরান এই নৌ-অবরোধকে সরাসরি ‘দস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এর প্রতিশোধ নিতে তেহরান কেবল হরমুজ নয়, বরং পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগরের নৌ-চলাচলও লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে মার্কিন বাহিনী তাদের অবস্থানে অনড়।
গত বুধবার ‘ইউএসএস স্প্রুয়ান্স’ নামক একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার বন্দর আব্বাস থেকে ছেড়ে আসা ইরানের একটি কার্গো জাহাজকে সফলভাবে মাঝপথ থেকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থান যেকোনো সময় একটি বড় ধরনের নৌ-যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
সূত্র: এনবিসি নিউজ, স্ট্রেইট টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট
‘পিকচার আভি বাকি হ্যায়’ ট্রাম্পকে ইরানের বার্তা
বিশ্ব রাজনীতিতে বাকযুদ্ধ নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে এই কূটনৈতিক সংঘাত নতুন এক মাত্রা পেয়েছে। এবার সেই লড়াইয়ে যুক্ত হয়েছে বলিউডের নাটকীয়তা, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ইরানকে লক্ষ্য করে একাধিক কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের নৌ শক্তি আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়েছে।
এই বক্তব্যের পরপরই তেহরান কৌশলগতভাবে পাল্টা বার্তা দেয়। মুম্বাইয়ে অবস্থিত ইরানি কনস্যুলেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে ইরানের উন্নত স্পিডবোট ও ক্ষেপণাস্ত্র মহড়ার দৃশ্য তুলে ধরা হয়।
তবে ভিডিওটির সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল এর ক্যাপশন। সেখানে ব্যবহার করা হয় শাহরুখ খান অভিনীত ওম শান্তি ওম সিনেমার জনপ্রিয় সংলাপ- “পিকচার আভি বাকি হ্যায়”।
এই সংলাপের মাধ্যমে ইরান একটি প্রতীকী বার্তা দিতে চেয়েছে তাদের সামরিক সক্ষমতা এখনো পুরোপুরি প্রকাশ পায়নি এবং পরিস্থিতির শেষ অধ্যায় এখনো বাকি। অর্থাৎ ট্রাম্পের মন্তব্যকে তারা অসম্পূর্ণ ও আগেভাগে দেওয়া মূল্যায়ন হিসেবে দেখছে।
ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। অনেক নেটিজেন এই ঘটনাকে ‘সংলাপ যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করে হাস্যরসাত্মক প্রতিক্রিয়া জানালেও, এর পেছনে কৌশলগত বার্তা রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
পারস্য উপসাগর অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান এই ভিডিওর মাধ্যমে তাদের নৌ সক্ষমতা তুলে ধরেছে এবং একই সঙ্গে একটি মনস্তাত্ত্বিক বার্তা দিয়েছে যে তারা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।
নিজেকে ‘যিশু’ দাবি করলেন ট্রাম্প! পোপকে আক্রমণে উত্তাল আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পোপ লিও চতুর্দশকে ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং নিজেকে যিশুর মতো উপস্থাপন করে একটি এআই-তৈরি ছবি শেয়ার করার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে দেশটির ক্যাথলিক সমাজ। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনার ফলে ট্রাম্প তাঁর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও রক্ষণশীল ক্যাথলিক মিত্রদের একটি বিশাল অংশের সমর্থন হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন।
বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ নিয়ে হোয়াইট হাউস ও ভ্যাটিকানের বিপরীতমুখী অবস্থান শ্বেতাঙ্গ রক্ষণশীলদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট করে তুলেছে, যা অনেক ক্যাথলিক নেতা ‘অনৈতিক’ এবং ‘গির্জার ওপর সরাসরি আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ট্রাম্পের একসময়ের অন্ধ সমর্থক হিসেবে পরিচিত টেক্সাসের বিশপ জোসেফ স্ট্রিকল্যান্ড এখন সরাসরি তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করছেন। একসময় ট্রাম্পের বাসভবন পবিত্র করার অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও স্ট্রিকল্যান্ড এখন বলছেন, অনৈতিক আচরণ ঢাকতে ধর্মকে ব্যবহার করা এক অন্ধকার সময়ের ইঙ্গিত। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, সর্বোচ্চ ক্ষমতা কোনো রাজনৈতিক নেতার হাতে নয় বরং খ্রিষ্টের হাতে।
অন্যদিকে, ফ্যামিলি ইনস্টিটিউট অব কানেকটিকাট-এর নির্বাহী পরিচালক পিটার উলফগ্যাং দাবি করেছেন, পোপকে আক্রমণ করে ট্রাম্প পুরো ক্যাথলিক সমাজকে আঘাত করেছেন। এমনকি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র বিশপ রবার্ট ব্যারনও এই ঘটনার জন্য পোপের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্যমতে, ইরান ইস্যু এবং ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী মনোভাবের কারণে বর্তমানে ক্যাথলিকদের ডান ও বামপন্থী উপদলগুলো পোপের শান্তির বার্তার পক্ষে একজোট হয়েছে। ভ্যাটিকানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পোপ কোনো ব্যক্তির বিরোধিতা করছেন না বরং যুদ্ধের পেছনের অমানবিক নীতির বিরোধিতা করছেন।
ক্যাথলিক ভোটাররা ট্রাম্পের ক্ষমতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হওয়ায় এই গোষ্ঠীটির মনবদল আগামী নির্বাচনে তাঁর জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: বিবিসি
মহাকাশ থেকে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের থাবা! নেপথ্যে চীনের গোপন স্যাটেলাইট
মহাকাশ প্রযুক্তিতে চীনের সরাসরি সহযোগিতায় এবার মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কৌশলের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান। ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কক্ষপথে থাকা একটি অত্যাধুনিক চীনা স্যাটেলাইট কিনে সেটির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে ইরান। গত বছর অত্যন্ত গোপনে চীনের ‘আর্থ আই কোম্পানি’র কাছ থেকে ‘টিইই-০১বি’ নামক এই স্যাটেলাইটটি সংগ্রহ করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
মূলত ‘ইন-অরবিট ডেলিভারি’ মডেলের মাধ্যমে মহাকাশে স্যাটেলাইট স্থাপনের পর সেটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি বেইজিং ভিত্তিক সংস্থা ‘এমপোস্যাট’-এর গ্রাউন্ড স্টেশন নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ায় বর্তমানে এশিয়া থেকে লাতিন আমেরিকা পর্যন্ত বিশাল এলাকায় নজরদারি চালানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে ইরান।
এই স্যাটেলাইটের নজরদারির তীব্রতা কতটা ভয়াবহ, তার প্রমাণ পাওয়া যায় গত মার্চ মাসে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসের ওপর দিয়ে এই স্যাটেলাইটটি বেশ কয়েকবার প্রদক্ষিণ করে উচ্চমানের ছবি সংগ্রহ করেছে। কাকতালীয়ভাবে সেই সময়ই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই ঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছিলেন।
এছাড়াও জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি এয়ার বেস, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং ইরাকের এরবিল বিমানবন্দরেও এই স্যাটেলাইট দিয়ে নিখুঁত তথ্য সংগ্রহ করেছে আইআরজিসি। এমনকি কুয়েত, জিবুতি এবং ওমানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বাহরাইনের অ্যালুমিনিয়াম প্ল্যান্ট ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেসামরিক অবকাঠামোও এখন ইরানের রাডারের নিচে রয়েছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, চীনের সরকারি অনুমোদন ছাড়া এমন স্পর্শকাতর প্রযুক্তি হস্তান্তর অসম্ভব। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে, চীন সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও ইরানকে প্রযুক্তিগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক সহায়তা দিয়ে নেপথ্যে থেকে শক্তি জোগাচ্ছে। যদিও বেইজিং এই সামরিক সহায়তার বিষয়টি অস্বীকার করেছে, তবে রাশিয়ার পর এবার চীনের এই আধুনিক স্যাটেলাইট ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যা পেন্টাগনের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
৩৪ বছর পর মুখোমুখি! ট্রাম্পের জাদুতে সংলাপে ইসরায়েল-লেবানন
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বরফ গলতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) সরাসরি সংলাপে বসছেন ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ নেতারা। বুধবার রাতে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন।
তিনি লিখেছেন, "ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির অবকাশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘ ৩৪ বছর কোনো কথা হয়নি। এই ঐতিহাসিক বৈঠকটি আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত হবে।"
এই অভাবনীয় অগ্রগতির নেপথ্যে ছিল গত মঙ্গলবার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠক। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আয়োজনে সেই বৈঠকে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ এবং ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার অংশ নেন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা, স্টেট ডিপার্টমেন্টের উপদেষ্টা মাইকেল নিডহ্যাম এবং জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই শান্তি প্রক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর কোনো প্রতিনিধিকে রাখা হয়নি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে লেবাননে হামলার মাত্রা কমিয়ে আনতে অনুরোধ করেছিলেন এবং ইসরায়েল সেই অনুযায়ী তাদের অভিযান কমিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ২ মার্চ হিজবুল্লাহর সীমান্ত হামলার পর থেকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি আক্রমণ তীব্র হয়। লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, গত দেড় মাসে ২ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এই সরাসরি সংলাপ সেই ভয়াবহ সংঘাত থামানোর শেষ ভরসা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
/আশিক
যুদ্ধ না কি শান্তি? যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকটের ৪টি ভয়ংকর দৃশ্যপট
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত এখন এমন এক জটিল এবং রহস্যময় মোড় নিয়েছে, যেখানে যুদ্ধ এবং কূটনীতি একই সমান্তরালে চলছে। পাকিস্তানে ২০ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সমাধান ছাড়াই শেষ হলেও দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখনো টিকে আছে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি অবরোধের হুমকি এবং তেহরানে পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের নতুন তৎপরতা এই সংকটকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি কোন দিকে যেতে পারে, তার চারটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
১. ‘কৌশলগত বিরতি’ হিসেবে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি
লড়াইয়ের মাঝে ঘোষিত এই যুদ্ধবিরতিকে অনেক বিশেষজ্ঞ টেকসই শান্তির বদলে একটি 'কৌশলগত বিরতি' হিসেবে দেখছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, শুরু থেকেই এই চুক্তিতে অস্পষ্টতা ছিল—কোনটি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন আর কোন ধরনের লক্ষ্যবস্তু এর আওতায় পড়বে, তা নিয়ে দুই পক্ষই ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষক বেহনাম বেন তালেবলু মনে করেন, দুই দেশের নীতিগত মৌলিক পার্থক্যগুলো এই যুদ্ধের ফলে আরও বেড়েছে। ফলে এই বিরতি সম্ভবত দুই পক্ষকে নিজেদের শক্তি পুনর্গঠন এবং পরবর্তী পর্যায়ের প্রস্তুতির সুযোগ দিচ্ছে। যদি কোনো পক্ষ চাপ বাড়ানোর প্রয়োজন মনে করে, তবে তারা বিদ্যুৎকেন্দ্র বা সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলবে।
২. ‘ছায়াযুদ্ধ’ বা নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা
পুরোদমে যুদ্ধের বদলে সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হলো একটি ‘নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা’র পথে হাঁটা। একে বিশ্লেষকরা বর্ণনা করছেন ‘ছায়াযুদ্ধ’ (Shadow War) হিসেবে। এর অর্থ হলো, দেশ দুটি সরাসরি বিশাল কোনো যুদ্ধে জড়াবে না, আবার সামরিক পদক্ষেপ থেকেও বিরত থাকবে না।
এক্ষেত্রে প্রক্সি বা মিত্র শক্তিগুলোর ভূমিকা প্রধান হয়ে উঠবে। ইরাক বা লোহিত সাগরে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি এবং এসব নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা চাপ সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তার ঘটাতে পারে। তবে এই ‘ছায়াযুদ্ধ’ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ; কারণ যেকোনো একটি ভুল হিসাব বা ভুল সিদ্ধান্ত মুহূর্তের মধ্যেই একে একটি অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধে রূপান্তর করতে পারে।
৩. নীরব কূটনীতি অব্যাহত থাকা
পাকিস্তানে আলোচনা ব্যর্থ হওয়া মানেই কিন্তু কূটনীতির পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। আলোচনার আয়োজক হিসেবে পাকিস্তান এখনো তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গোপন বার্তা আদান-প্রদান চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া কাতার, ওমান, এমনকি সৌদি আরব ও মিশরের মতো দেশগুলোও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে নেপথ্যে সক্রিয় রয়েছে।
তবে মূল সমস্যা হলো অবিশ্বাসের দেয়াল। যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা এবং ইরানের ১০ দফা পাল্টা প্রস্তাব থেকে স্পষ্ট যে, দুই পক্ষই নিজেদের দাবিতে অনড়। ফলে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও অদূর ভবিষ্যতে কোনো বিস্তৃত চুক্তি হওয়া কঠিন।
৪. দীর্ঘস্থায়ী নৌ-অবরোধ ও ট্রাম্পের নতুন কৌশল
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নতুন কৌশলের মূলে রয়েছে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর দীর্ঘমেয়াদী সামুদ্রিক অবরোধ। এর লক্ষ্য হলো ইরানের তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে অর্থনীতিকে পঙ্গু করা এবং ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা চীনকে চাপে ফেলা। বিশ্লেষকরা মনে করেন, পর্যাপ্ত গোয়েন্দা নজরদারি থাকলে এই অবরোধ কার্যকর হতে পারে।
তবে এর বড় মাশুলও গুণতে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রকে। কারণ মার্কিন নৌবাহিনীকে দীর্ঘ সময় ইরানের সীমান্তের কাছে মোতায়েন রাখতে হবে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং হামলার ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রলয়ঙ্করী প্রভাব ফেলবে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক ‘কাঠামোগত অস্থিতিশীলতার’ যুগে প্রবেশ করেছে, যেখানে যুদ্ধ এবং শান্তি—দুটোই একসাথে চলছে। খেলার নিয়মগুলো এখানে অস্পষ্ট এবং ফলাফল অনিশ্চিত। দুই পক্ষই সামরিক সরঞ্জামের ওপর ভরসা রাখছে, আবার আলোচনার জানালাও কিছুটা খোলা রেখেছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- বিদায় বেলায় অশ্রুসিক্ত শিক্ষার্থীরা: মরিচা ছায়েদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে দোয়া মাহফিল
- চরভদ্রাসন উপজেলায় তীব্র লোডশেডিং, বিপর্যস্ত জনজীবন ও শিক্ষাকার্যক্রম
- অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করায়, ৪০ হাজার টাকা জরিমানা
- খুব শিগগিরই রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে কুমিল্লার আলোচনা
- সতর্কবার্তা: শুক্রবার ৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়!
- বিরতির সময় গান? ২০২৬ বিশ্বকাপে ইনফান্তিনোর বিশাল চমক
- জুলাই সনদ ও ইশতেহার বাস্তবায়নই মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- বন্দর থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সব ধ্বংসের ছক আঁকলেন ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
- হরমুজে পা রাখলেই ধ্বংস হবে মার্কিন জাহাজ: মোহসেন রেজায়ির হুঁশিয়ারি
- পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে ‘বিশৃঙ্খলার দেবতা’! মহাকাশে টানটান উত্তেজনা
- বিচ্ছিন্ন দক্ষিণ লেবানন! বিমান হামলায় ধ্বংস হলো কৌশলগত সংযোগ পথ
- আমেরিকার চোখে ধুলা! রণতরী এড়িয়ে পারস্য উপসাগরে ইরানের সুপার ট্যাংকার
- যুদ্ধে ইতি টানার সময় কি তবে এল? রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর তথ্য
- বিশ্ব তেলের বাজারে হাহাকার? হরমুজ সংকটে দুই পরাশক্তির চরম টক্কর
- ইতিহাসের সাক্ষী ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন: জাইমার হাতে দাদির স্বর্ণপদক
- ‘পিকচার আভি বাকি হ্যায়’ ট্রাম্পকে ইরানের বার্তা
- বৈশাখের তাণ্ডব শুরু? শিলাবৃষ্টির আশঙ্কায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কতা
- হাসিন আমলের হয়রানিমূলক মামলার দিন শেষ! শুরু হচ্ছে গণপ্রত্যহার
- টাকা পাঠানোর আগে দেখে নিন আজকের লেটেস্ট কারেন্সি রেট
- নিজেকে ‘যিশু’ দাবি করলেন ট্রাম্প! পোপকে আক্রমণে উত্তাল আমেরিকা
- জাহাজবাড়ি ‘জঙ্গি নাটক’ হত্যা মামলা: আজ কাঠগড়ায় শেখ হাসিনাসহ ৮ জন
- শেয়ারবাজারে সুবাতাস! শেষ কার্যদিবসে সাড়ে ৫ গুণ প্রতিষ্ঠানের দাম বৃদ্ধি
- এসএসসিতে ভয়ংকর সাইলেন্ট এক্সপেল: বুঝতেই পারবে না খাতা বাতিল!
- ইংল্যান্ডের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে টাইগাররা! ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে বড় পরিবর্তনের হাতছানি
- মহাকাশ থেকে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের থাবা! নেপথ্যে চীনের গোপন স্যাটেলাইট
- ডায়াবেটিস কি তবে শেষ? ছোলার পানির জাদুকরী ক্ষমতা!
- ৩৪ বছর পর মুখোমুখি! ট্রাম্পের জাদুতে সংলাপে ইসরায়েল-লেবানন
- যুদ্ধ না কি শান্তি? যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকটের ৪টি ভয়ংকর দৃশ্যপট
- আমেরিকাকে চরম চাপে ফেলল ইরান! হরমুজ নিয়ে নতুন প্রস্তাব
- সর্বোচ্চ সম্মাননায় খালেদা জিয়া: আজ পদক দেবেন প্রধানমন্ত্রী
- এক লাফে ২ হাজার টাকা বৃদ্ধি! স্বর্ণের বাজারে আগুন দেখছে বাংলাদেশ
- হরমুজে নতুন শর্ত, ইরানের প্রস্তাবে চমক
- ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলে ৩৯ হামলার দাবি হিজবুল্লাহর
- ঢাকার আজকের আবহাওয়া আপডেট
- সূর্যোদয়-সূর্যাস্তসহ আজকের নামাজ সময় প্রকাশ
- খেলাপ্রেমীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ সূচি এক নজরে, চোখ রাখুন টিভিতে
- বৃহস্পতিবার ঢাকার যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে
- জিনপিং আমাকে জড়িয়ে ধরবেন: চীনের প্রতি ট্রাম্পের নমনীয় বার্তায় অবাক বিশ্ব
- চিরবিদায় নিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ নাজিম উদ্দিন: রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন
- আদালতের আদেশ অমান্য! কালিগঞ্জে মসজিদের জমি দখলে নিতেই তুলকালাম
- আমেরিকাকে বুড়ো আঙুল! চড়া দামে বিশ্ব কাঁপিয়ে দিচ্ছে ইরানি তেল
- বিশ্ব কাঁপানো ১০০ ব্যক্তিতে তারেক রহমান: ‘টাইম’ ম্যাগাজিনে বাংলাদেশের জয়জয়কার
- রকেট বৃষ্টিতে কাঁপছে উত্তর ইসরায়েল!
- লোহিত সাগরও বন্ধের হুমকি! এবার কি তবে বিশ্ব বাণিজ্যে ধস নামাবে ইরান?
- দ্বিতীয় দফার সংকেত! তেহরানে পাকিস্তান প্রতিনিধিদের এন্ট্রি: উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য
- ইংলিশ মিডিয়ামে বিপুল ফি: কড়া হুঁশিয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর
- অমুক্তিযোদ্ধাদের ধরতে বড় অভিযান: বিপাকে হাজারো ভুয়া গেজেটধারী
- হরমুজ প্রণালী দিয়ে দাপটে পার হলো ইরানি সুপার ট্যাংকার
- সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য কিছু না কিছু রেখেছি: তারেক রহমান
- ট্রাম্পের দাবি বনাম বাস্তবতা: আগামী ২ দিনে কি আসলেই বসছে ইসলামাবাদ সংলাপ?
- ৪০ দিন পর খুলল আল-আকসা, আবেগে ভাসলেন মুসল্লিরা
- আজ ২৪ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- টানা দুই দিন ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- এক লাফে ২ হাজার টাকা বৃদ্ধি! স্বর্ণের বাজারে আগুন দেখছে বাংলাদেশ
- আজকের নামাজের সময়সূচি, দেখে নিন সম্পূর্ণ তালিকা
- আদালতের আদেশ অমান্য! কালিগঞ্জে মসজিদের জমি দখলে নিতেই তুলকালাম
- আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন বিস্তারিত
- হরমুজে দিনে মাত্র ১৫ জাহাজ, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের নতুন শর্ত
- আওয়ামী প্রশ্ন: নিষিদ্ধের রাজনীতি নাকি ফ্যাসিবাদী কাঠামোর ব্যবচ্ছেদ?
- ১৪ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- পাকিস্তান-ইসরাইল উত্তেজনা, কড়া প্রতিক্রিয়া ইসরাইলের
- চার অঞ্চলে ঝড়ের সতর্কতা, বৃষ্টি সম্ভাবনা
- ডিএসই আপডেট, লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় বাংলাদেশি নারী নিহত
- আজকের লাইভ খেলা, কখন কোথায় দেখবেন








