বিশেষ প্রতিবেদন

নোবেল পদক উপহার, কূটনীতির নতুন বার্তা: ট্রাম্প–মাচাদো বৈঠক ঘিরে ওয়াশিংটনে কী ইঙ্গিত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ১০:২২:০৩
নোবেল পদক উপহার, কূটনীতির নতুন বার্তা: ট্রাম্প–মাচাদো বৈঠক ঘিরে ওয়াশিংটনে কী ইঙ্গিত

ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ব্যতিক্রমী ও প্রতীকী মুহূর্তের জন্ম দিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প–এর হাতে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক তুলে দিয়ে তিনি কেবল ব্যক্তিগত সৌজন্যই প্রকাশ করেননি, বরং ভেনেজুয়েলা সংকট ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন কূটনৈতিক বার্তাও দিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সরাসরি সাক্ষাৎ করেন মাচাদো। বৈঠক শেষে মাচাদো নিজেই জানান, তিনি তাঁর নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক ট্রাম্পকে উপহার দিয়েছেন। এ ঘটনাকে তিনি ভেনেজুয়েলাবাসীর জন্য ‘ঐতিহাসিক দিন’ হিসেবে অভিহিত করেন।

পদক গ্রহণের পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক চমৎকার নিদর্শন। নিজের প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে তিনি মাচাদোর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বলেন, তিনি একজন অসাধারণ নারী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিকূলতা সহ্য করে আসছেন। ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, তাঁর করা কাজের স্বীকৃতি হিসেবেই মাচাদো তাঁকে এই পদক উপহার দিয়েছেন।

হোয়াইট হাউসের বাইরে সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মাচাদো স্প্যানিশ ভাষায় বলেন, ভেনেজুয়েলার মানুষ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর ভরসা রাখতে পারে। পরে সাংবাদিকদের ইংরেজিতে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হাতে নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক তুলে দিয়েছেন।

এই সাক্ষাৎ এমন এক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হলো, যখন ভেনেজুয়েলার রাজনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে জয় দাবি করা মাচাদো আশা করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট Nicolás Maduro–কে সরিয়ে নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র তাঁর বিরোধী জোটকে সমর্থন দেবে। তবে ট্রাম্প সে সময় মাচাদোর পরিবর্তে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রতিনিধি Delcy Rodríguez–এর সঙ্গে কাজ শুরু করেন, যা বিরোধী শিবিরে হতাশা তৈরি করেছিল।

নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রসঙ্গেও রয়েছে আলাদা মাত্রা। মাচাদো ২০২৫ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। ট্রাম্প নিজে বহুবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছেন। গত বছর মাচাদো এই সম্মান পাওয়ার সময় তিনি প্রকাশ্যে অসন্তোষও জানিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে মাচাদো বলেছিলেন, তিনি তাঁর নোবেল পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান। তবে নোবেল কমিটি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, নোবেল পুরস্কার বাতিল, ভাগ বা হস্তান্তরযোগ্য নয়। নোবেল পিস সেন্টারও এক্সে লিখেছে, পদকের মালিক বদলাতে পারে, কিন্তু নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর উপাধি বদলায় না।

ওয়াশিংটন সফরে মাচাদো মার্কিন কংগ্রেস ও সিনেটরদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকগুলোর লক্ষ্য ছিল ট্রাম্প প্রশাসনকে বোঝানো যে রদ্রিগেজ নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাকে সমর্থন করা একটি কৌশলগত ভুল এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের দায়িত্ব বিরোধী জোটের হাতেই থাকা উচিত।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, মাচাদো ভেনেজুয়েলার বহু মানুষের জন্য এক সাহসী কণ্ঠস্বর এবং ট্রাম্প দেশটির বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে খোলামেলা ও ইতিবাচক আলোচনা প্রত্যাশা করেছিলেন।

এদিকে মাদুরোকে ৩ জানুয়ারি আটক করার পর ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেল খাত পুনর্গঠনে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ৫০ কোটি ডলার মূল্যের ভেনেজুয়েলার তেলের প্রথম বিক্রি সম্পন্ন করেছে এবং নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল বহনের অভিযোগে একাধিক ট্যাংকার জব্দ করেছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প ও দেলসি রদ্রিগেজের মধ্যে ফোনালাপ হয়, যেখানে উভয় পক্ষই আলোচনাকে সৌজন্যমূলক ও ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেন।

সব মিলিয়ে, নোবেল পদক উপহারকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প–মাচাদো বৈঠক শুধু ব্যক্তিগত সৌজন্যের ঘটনা নয়; বরং ভেনেজুয়েলা সংকট, যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমীকরণের দিকনির্দেশনাও এতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে তেল আবিবে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ১৮:৩৩:৫৭
নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে তেল আবিবে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ
ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবিলম্বে পদত্যাগ এবং দেশে আগাম সাধারণ নির্বাচনের দাবিতে রাজধানী তেল আবিবের রাজপথে নেমে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন হাজার হাজার ইসরায়েলি নাগরিক। গতকাল শনিবার (৩০শে মে) রাতে আয়োজিত এই বিশাল গণ-বিক্ষোভে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী জনস্রোত দেখা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো।

বিক্ষোভে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, যুদ্ধাপরাধ বিরোধী জোট এবং নাগরিক সামাজিক সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা নেতানিয়াহু সরকারের যুদ্ধ নীতি এবং অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করে স্লোগান দেন এবং অতি দ্রুত নতুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দাবি জানান।

মিছিলটি তেল আবিবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের প্রাণকেন্দ্র কাপলান স্ট্রিটসহ একাধিক কৌশলগত এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী থিয়েটার স্কয়ার এবং হাবিমা স্কয়ারে সমবেত হয়ে নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল স্লোগান দিতে থাকেন।

একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশ তেল আবিবের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ ধমনী ‘আয়ালন মহাসড়ক’ অবরোধ করলে পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয়। রাজপথ থেকে দাঙ্গাকারীদের সরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের তুমুল ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এই সময় মহাসড়ক অবরুদ্ধ করা এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একটি বড় অংশের দাবি, ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবরের হামাস-ইসরায়েল সংঘাতের সূত্রপাত এবং পরবর্তী সময়ে সরকারের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিভাগের চরম ব্যর্থতার পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করতে একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে। তারা নেতানিয়াহু প্রশাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা এবং নিজেদের ব্যর্থতার দায় এড়ানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলেন।

এদিকে, তেল আবিবের এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-এর মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নতুন করে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েল হোম ফ্রন্ট কমান্ড। সংস্থাটি জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর লাগাতার রকেট ও ড্রোন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় আরও কঠোর নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন ফ্রন্টে ইসরায়েলি স্থল বাহিনী ও হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের তীব্রতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকারী ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে সফল প্রতিরোধ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


ট্রাম্পের সামনে ভালো বিকল্প নেই, বেছে নিতে হবে খারাপ বা আরও খারাপ পথ: আইআরজিসি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ১৭:৫৪:৫৩
ট্রাম্পের সামনে ভালো বিকল্প নেই, বেছে নিতে হবে খারাপ বা আরও খারাপ পথ: আইআরজিসি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে ভালো কোনো বিকল্প বা রাস্তা খোলা নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) রাজনৈতিকবিষয়ক উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদোল্লাহ জাভানি। তাঁর ভাষায়, ট্রাম্পকে এখন হয় ‘খারাপ’ অথবা ‘আরও খারাপ’—এই দুটি প্রতিকূল পথের যেকোনো একটিকে বাধ্য হয়ে বেছে নিতে হবে। গতকাল শনিবার (৩০ মে) তেহরানে দেওয়া এক নীতিগত বক্তব্যে জাভানি এই মন্তব্য করেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাভানি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের পরিচালিত দীর্ঘ সংঘাতের ফলাফল এখন বিশ্ববাসীর সামনে পরিষ্কার। মার্কিন প্রশাসনকে হয় এখন ইরানি জাতির বৈধ অধিকার ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে, নয়তো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আত্মঘাতী আগ্রাসনের পথেই এগোতে হবে।

তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধাবস্থা তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মূলত এক বিশাল কৌশলগত ভুল করেছে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা এবং তেহরানের বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে উৎখাত করা। তবে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক প্রতিরোধের মুখে সেই লক্ষ্য অর্জনে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন আইআরজিসি’র এই শীর্ষ কমান্ডার।

জাভানি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণভাবে ইরানের পক্ষে পরিবর্তিত হয়েছে। জলপথের দিক থেকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’র ওপর ইরান এখন অত্যন্ত প্রভাবশালী ও নিয়ন্ত্রণমূলক অবস্থানে রয়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা নিরসনে ইরান ইতোমধ্যে নিজেদের যৌক্তিক শর্তাবলি বিশ্বমঞ্চে ঘোষণা করেছে এবং এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক দায়িত্ব ও বল সম্পূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে।

ইরানের ভেতরের জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে আইআরজিসির এই নীতি নির্ধারক বলেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে এ বিষয়ে একটি ইস্পাতকঠিন ঐকমত্য রয়েছে যে, যেকোনো মূল্যে ইরানি জনগণের জাতীয় অধিকার নিশ্চিত করতে হবে; তা আন্তর্জাতিক আলোচনার টেবিলেই হোক কিংবা অন্য কোনো উপায়ে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে চূড়ান্ত সতর্ক করে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ যদি আবারও কোনো ভুল হিসাব-নিকাশ করে, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবার আরও বহুগুণ শক্তিশালী, নিখুঁত ও কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

সূত্র : প্রেস টিভি


ইরান চুক্তির খসড়ায় ট্রাম্পের আপত্তি, চুক্তিতে বড় ধরনের সংশোধনীর নির্দেশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ১১:২৫:২১
ইরান চুক্তির খসড়ায় ট্রাম্পের আপত্তি, চুক্তিতে বড় ধরনের সংশোধনীর নির্দেশ
ছবি : সংগৃহীত

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধাবস্থা নিরসন এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক হস্তক্ষেপে তা নতুন পেন্ডুলামে ঝুলছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন দূতদের তৈরি করা সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির খসড়ায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।

গত শুক্রবার (২৯ মে) হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি প্রশাসনিক বৈঠকের পর ট্রাম্প তাঁর আলোচক দলকে এই কঠোর নির্দেশনা দেন বলে মার্কিন সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে।

অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সমঝোতা স্মারকের (MoU) খসড়ায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করবে না—এমন একটি সাধারণ অঙ্গীকার বা রাজনৈতিক সদিচ্ছার কথা রয়েছে। তবে এর বাইরে তেহরানের বর্তমান পারমাণবিক কর্মসূচি বা মজুত নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ছাড় কিংবা শর্তাবলি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ট্রাম্প এই শিথিল ধারায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন এবং চুক্তির বয়ানে আরও কঠোর ও নির্দিষ্ট আইনি ভাষা যুক্ত করার তাগিদ দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, "বিষয়টি মূলত আরও স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করার জন্য। বিশেষ করে ইরান এ যাবৎ যে পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করেছে, তা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আসবে বা নিষ্পত্তি করা হবে এবং সেই পুরো প্রক্রিয়ার সুনির্দিষ্ট সময়সূচি (Timeline) কী হবে—তা চুক্তিতে পরিষ্কার করা অত্যন্ত প্রয়োজন।"

অন্য একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, পারমাণবিক বিষয়ের পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং সেখানে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ধারাগুলোর শব্দচয়ন ও ভাষাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের এই নতুন সংশোধিত প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের সর্বোচ্চ মহলের জবাব বা প্রতিক্রিয়া পেতে অন্তত তিন দিন সময় লাগতে পারে। মার্কিন প্রশাসনের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, "ইরানের উত্তরের জন্য আমরা তাড়াহুড়ো করছি না, কারণ প্রেসিডেন্ট যা চেয়েছেন তা নিশ্চিত করেই আমরা চুক্তি করতে চাই। তবে সপ্তাহের শুরুতেই (চলতি সপ্তাহের প্রথমার্ধে) আমরা এই আলোচনার ইতিবাচক কোনো অগ্রগতির খবর পাওয়ার আশা করছি।"

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের পর দুই পক্ষ একটি অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা এখনও চূড়ান্ত রূপ পায়নি।

সূত্র: আল-জাজিরা


মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের আইআরজিসি'র, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩১ ১১:২০:১৫
মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের আইআরজিসি'র, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের জলসীমা ও আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে (IRIB) প্রচারিত এক জরুরি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, ভূপাতিত করা ড্রোনটি ছিল মার্কিন সামরিক বাহিনীর অত্যন্ত আধুনিক ‘এমকিউ-১’ (MQ-1) মডেলের একটি মানববিহীন আকাশযান। ড্রোনটি ইরানের কৌশলগত জলসীমায় অবৈধভাবে প্রবেশ করে একটি গোপন ‘শত্রুতামূলক ও গোয়েন্দা অভিযান’ পরিচালনার চেষ্টা করছিল।

প্রচারিত বিবৃতিতে আইআরজিসির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানান, ড্রোনটি ইরানের আকাশ ও জলসীমার প্রতিরক্ষা বলয়ের রাডারে আসার সঙ্গে সঙ্গেই সেটিকে নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা হয়। এরপর আইআরজিসির নিজস্ব আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (Missile Defense System) মাধ্যমে সেটিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে আকাশেই ধ্বংস ও ভূপাতিত করা হয়। ঘটনা পর আইআরজিসি বিশ্ববাসীকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, “ইরানের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের বিদেশি আগ্রাসন বা অনুপ্রবেশের জবাব সবসময় এমন দৃঢ়, অনমনীয় ও সিদ্ধান্তমূলকভাবেই দেওয়া হবে।”

তবে স্পর্শকাতর এই ড্রোনটি ঠিক কোন সমুদ্রসীমায় বা ভৌগোলিক অবস্থানে ভূপাতিত করা হয়েছে, ঘটনাটি ঠিক কখন ঘটেছে কিংবা এর ধ্বংসাবশেষ সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে আইআরজিসির সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, তেহরানের পক্ষ থেকে এমন বড় ধরণের সামরিক দাবি করা হলেও, এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া বা সত্যতা স্বীকার করা হয়নি।

আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা দুই দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ককে আরও বেশি জটিল ও সংঘাতময় করে তুলতে পারে। বিশেষ করে এই অঞ্চলে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আকাশ ও সমুদ্রপথে মার্কিন এবং ইরানি বাহিনীর নজরদারি কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকেই এমন মুখোমুখি সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছিল। এর আগেও একাধিকবার মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার নজির রয়েছে তেহরানের, যারা বরাবরই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখার ঘোষণা দিয়ে আসছে।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা


ইসরায়েলের পরবর্তী সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে তুরস্ক ও মিসর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩০ ২১:৩৪:০০
ইসরায়েলের পরবর্তী সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে তুরস্ক ও মিসর
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের রেশ কাটতে না কাটতেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন এক ঝড়ের পূর্বাভাস মিলেছে। ইসরায়েলের পরবর্তী সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে তুরস্ক ও মিসর—এমনটাই দাবি করেছেন ইসরায়েলের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দণ্ডিত সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষক জনাথন পোলার্ড। একই সঙ্গে ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আংকারাকে ‘নতুন ইরান’ এবং ভবিষ্যৎ প্রধান শত্রু হিসেবে দেখানোর যে নতুন প্রবণতা তৈরি হয়েছে, পোলার্ডের সাম্প্রতিক বক্তব্যে মূলত তারই স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের একটি বিশেষ পডকাস্টে জনাথন পোলার্ড সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের পর ইসরায়েলকে সামনে আরো বড় ও বিধ্বংসী আঞ্চলিক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানিদের সঙ্গে ইসরায়েলের যতটা সহজ সময় কেটেছে, তুর্কিদের সঙ্গে ততটা সহজ হবে না। তাদের পরবর্তী যুদ্ধ সম্ভবত হবে তুরস্ক ও মিসরের বিরুদ্ধে এবং খুব শীঘ্রই অঞ্চলে একটি বড় ঝড় ধেয়ে আসছে।

পোলার্ড তাঁর বক্তব্যে সিরিয়ায় তুরস্ক-সমর্থিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ইসরায়েলি বাহিনী দ্বারা দখলকৃত দক্ষিণাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি যুক্তি দেখান, এই ধরনের পদক্ষেপ তুর্কি বাহিনীকে সরাসরি ইসরায়েলি সীমান্তের কাছাকাছি নিয়ে আসবে। সিরিয়ায় তুরস্কের ক্রমবর্ধমান সামরিক ভূমিকা এবং এর আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে তার এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

পোলার্ডের এই বক্তব্য তুরস্ককে একটি বড় সামরিক হুমকি হিসেবে নতুন করে তুলে ধরার বৃহত্তর ইসরায়েলি প্রচেষ্টারই অংশ। এর আগে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট কাতারের সমর্থনে তুরস্ককে ইসরায়েলের প্রধান কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ‘ইরানের স্থলাভিষিক্ত’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। একই সাথে ইসরায়েলি নিরাপত্তা মহলও সিরিয়ায় আংকারার সঙ্গে সম্ভাব্য সরাসরি সামরিক সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করেছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইসরায়েলি সরকার-নিযুক্ত একটি বিশেষ কমিটি সিরিয়ায় তুরস্কের সঙ্গে সম্ভাব্য সরাসরি সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়, যা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎস এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের কাছে হন্তান্তর করা হয়েছিল।

ইসরায়েলের সামরিক threat বা হুমকি মূল্যায়নে এখন ইরানের পাশাপাশি মিসরের নামও বেশ ঘন ঘন উঠে আসছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত একটি ইসরায়েলি নীতি-বিশ্লেষণে উদীয়মান তুর্কি-মিসরীয় নতুন জোটের বিষয়ে তেল আবিবকে সতর্ক করা হয়। ওই সতর্কতায় বলা হয়, ইসরায়েলকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে একটি শক্তিশালী ‘সুন্নি বলয়’ তৈরি হচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে কায়রো ও আংকারা ইসরায়েলের সাথে একসময় কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখলেও, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যার তীব্র সমালোচনা করায় এই দুই মুসলিম রাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সমন্বয় তেল আবিবের জন্য নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

প্রসঙ্গগত, মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা বিশ্লেষক জনাথন পোলার্ডকে ১৯৮৭ সালে মিত্র দেশ ইসরায়েলের কাছে আমেরিকার অত্যন্ত গোপনীয় সামরিক ও কৌশলগত তথ্য পাচারের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এটি ছিল দুই বন্ধু দেশের মধ্যে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও ক্ষতিকর গুপ্তচরবৃত্তির মামলা। দীর্ঘ ৩০ বছর সাজা খাটার পর ২০১৫ সালে তিনি প্যারোলে মুক্তি পান এবং ২০২০ সালে প্যারোলের শর্ত শেষ হলে তিনি ইসরায়েলে পৌঁছান। সে সময় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্বয়ং বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে তাকে স্বাগত জানান এবং তার হাতে ইসরায়েলি নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র তুলে দেন।

ইসরায়েলে স্থায়ী হওয়ার পর থেকেই পোলার্ড দেশটির উগ্র ডানপন্থীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন এবং গাজা দখল ও সেখানে নতুন করে ইহুদি বসতি স্থাপনের পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান নেন। এমনকি বিশ্বের অন্যান্য দেশে বসবাসরত ইহুদিদের নিজ দেশের চেয়ে ইসরায়েলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা এবং প্রয়োজনে আমেরিকার মতো দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করার আহ্বান জানিয়ে তীব্র আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েন এই বিতর্কিত সাবেক গোয়েন্দা।

/আশিক


যাত্রার আগে মার্কিন নৌবাহিনীর সাথে সমন্বয় বাধ্যতামূলক, হরমুজে জারি হলো রেড অ্যালার্ট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩০ ২০:২৭:৩০
যাত্রার আগে মার্কিন নৌবাহিনীর সাথে সমন্বয় বাধ্যতামূলক, হরমুজে জারি হলো রেড অ্যালার্ট
ছবি : সংগৃহীত

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ইরান কর্তৃক নতুন করে নৌ-মাইন পেতে রাখার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে এই সামুদ্রিক এলাকায় চরম সতর্কতা (Emergency Alert) জারি করেছে মার্কিন নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জারি করা এই জরুরি বার্তায় বিশ্ববাজারের বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজের মালিক, অপারেটর ও আন্তর্জাতিক নাবিকদের হরমুজ প্রণালিতে চলমান বিপজ্জনক সামরিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের এই সতর্কবার্তায় পারস্য উপসাগরীয় এই আন্তর্জাতিক জলপথের বর্তমান আঞ্চলিক হুমকির মাত্রাকে ‘ক্রিটিক্যাল’ বা অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। মার্কিন পক্ষের সরাসরি অভিযোগ—ইরান এই কৌশলগত আন্তর্জাতিক জলপথে সম্পূর্ণ বিপজ্জনক ও অবৈধ উপায়ে মাইন পেতে নিজেদের একক সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যে নিয়োজিত নেভিগেশনাল জাহাজ ও সাধারণ নাবিকদের জীবনের জন্য চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর সুরক্ষায় মার্কিন নৌবাহিনী কয়েকটি জরুরি পরামর্শ ও বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে

হরমুজ প্রণালির প্রথাগত ট্রাফিক সেপারেশন স্কিম (টিএসএস) সম্পূর্ণ পরিহার করে বিকল্প ও নিরাপদ পথ দিয়ে জাহাজ পরিচালনা করতে হবে।

ওই জলপথ দিয়ে যেকোনো যাত্রার আগে আবশ্যিকভাবে মার্কিন নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করতে হবে।

প্রণালি পার হওয়ার সময় জাহাজের সার্বক্ষণিক রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল ও কার্যকর রাখতে হবে।

যেকোনো আপদকালীন পরিস্থিতিতে মার্কিন নৌবাহিনীর দেওয়া সমস্ত সামরিক নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে অনুসরণ করতে হবে।

এছাড়া মার্কিন কমান্ডের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী কোনো বাণিজ্যিক বা অন্য কোনো জাহাজকে যদি মাইন পাতার কাজে লিপ্ত থাকতে দেখা যায় কিংবা ইরানকে এই কার্যক্রমে কোনোভাবে সহায়তা করতে চিহ্নিত করা হয়, তবে মার্কিন বাহিনী নিজেদের ও আন্তর্জাতিক জলপথের আত্মরক্ষার স্বার্থে (Right to Self-Defense) ওই জাহাজটিকে সরাসরি সামরিক লক্ষ্যবস্তু বা ধ্বংস করতে দ্বিধা করবে না।

সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন


কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, ট্রাম্পের নতুন যুদ্ধ হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩০ ১০:৫৬:৪৪
কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, ট্রাম্পের নতুন যুদ্ধ হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ সম্প্রসারণের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে হোয়াইট হাউসে দীর্ঘ দুই ঘণ্টাব্যাপী এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চালিয়েও শেষ পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি তিনি। শুক্রবার (২৯ মে) মার্কিন প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে।

বৈঠকটি শুরু হওয়ার ঠিক আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া একটি পোস্টে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, হোয়াইট হাউসের অত্যন্ত সুরক্ষিত ‘সিচুয়েশন রুম’-এ অনুষ্ঠিতব্য এই বিশেষ বৈঠকেই তিনি ইরান-সংক্রান্ত নতুন খসড়া প্রস্তাবের বিষয়ে একটি ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। প্রেসিডেন্টের এমন বার্তার পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি হলেও, বৈঠক শেষ হওয়ার পর হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বড় সিদ্ধান্ত বা চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে এতখানি আত্মবিশ্বাসী থাকা সত্ত্বেও কেন শেষ মুহূর্তে আলোচনাটি ভেস্তে গেল বা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হলো—সে বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বা আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে বৈঠকের আগে ট্রাম্প ইরানের সামনে যে কঠোর শর্তগুলো ছুড়ে দিয়েছিলেন, তা এই অচলাবস্থার মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্রাম্প স্পষ্ট দাবি করেন, চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে যদি দীর্ঘায়িত বা স্থায়ী করতে হয়, তবে ইরানকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দিতে হবে। এর পাশাপাশি ইরানকে ভবিষ্যতে ‘কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার’ আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি বা লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে এবং তাদের কাছে বর্তমানে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণের কাজে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে তদারকি ও অনুমতি দিতে হবে। তবে তেহরানের নীতিনির্ধারকরা শুরু থেকেই সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রধান শর্তগুলোর তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন।

মার্কিন প্রশাসনের এই অনড় অবস্থানের বিপরীতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তেহরানের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে ওয়াশিংটনের সাথে চলমান আলোচনাটি অত্যন্ত সীমিত পরিসরে ও নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের ওপর হচ্ছে এবং এই আলোচনার এজেন্ডায় কোনোভাবেই ইরানের ‘পারমাণবিক ইস্যু’ অন্তর্ভুক্ত নেই। কূটনৈতিক পর্যায়ে এই টানাপোড়েনের মাঝেই সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছু পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনাও ঘটেছে। আর এই হামলার জের ধরে ট্রাম্পও একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আলোচনা সফল না হলে যেকোনো মুহূর্তে আবারও পূর্ণমাত্রার বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরু হতে পারে।

অবশ্য ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে কিছুটা নরম সুরের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি দুই পক্ষের মধ্যে একটি সম্মানজনক সমঝোতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজ ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে যে কঠোর ‘নৌ অবরোধ’ আরোপ করে রেখেছে, তা ধাপে ধাপে তুলে নিতে পারে। আর এমনটি হলে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি আবারও আগের মতো স্বাভাবিক ও নিরাপদভাবে ব্যবহারের বড় সুযোগ তৈরি হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওহাইও বা ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত এই খসড়া চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো—আপাতত যেকোনো উপায়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে নেওয়া, যাতে করে ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরও দীর্ঘমেয়াদি ও বিস্তারিত আলোচনার একটি কূটনৈতিক পথ তৈরি করা যায়। আলোচনার বিষয়টি অত্যন্ত গোপন ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য সংবেদনশীল হওয়ায় তারা পরিচয় গোপন রেখেই এই তথ্যগুলো গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস


বিকল্প লোহিত সাগর রুটেও হুথি আতঙ্ক, তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে এশিয়ার বাজার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ৩০ ১০:৩০:৫৩
বিকল্প লোহিত সাগর রুটেও হুথি আতঙ্ক, তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে এশিয়ার বাজার
ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাত এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নানামুখী কড়াকড়ির কারণে জাপানের অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার সাম্প্রতিক এক বিশেষ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, চলতি ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত তিন মাসের সময়কালে দেশটির সামগ্রিক তেল আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানি পরিস্থিতিও এই সংকটের কারণে বেশ নাজুক হয়ে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সংঘাতের প্রভাবে শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরবের রপ্তানি ২৯ শতাংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল রপ্তানি ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। অন্যদিকে কুয়েত ও ইরাকের মতো দেশগুলোর তেল রপ্তানি ৯০ শতাংশেরও বেশি ধসে পড়ার মারাত্মক আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সংঘাতের প্রাথমিক দিনগুলোতে যুদ্ধরত ইরানের নিজস্ব তেল রপ্তানি পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল ছিল। তবে মে মাসে এসে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ জোরদার হওয়ার কারণে দেশটির তেল রপ্তানি এক ধাক্কায় প্রায় ৮৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে চরম কড়াকড়ি ও ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বিকল্প উপায় হিসেবে সৌদি আরব এখন লোহিত সাগর রুট ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে তেল রপ্তানি সচল রাখার চেষ্টা করছে। তবে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় সৌদি আরবের সামগ্রিক তেল রপ্তানির সক্ষমতা এখন অনেকখানি কমে গেছে। তদুপরি, লোহিত সাগরের এই বিকল্প পথ ব্যবহার করে এশিয়ার বাজারে পৌঁছাতে হলে জাহাজগুলোকে ইয়েমেন উপকূলের বাব এল-মানদাব প্রণালি পাড়ি দিতে হয়। আর ওই অঞ্চলে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র হুথি গোষ্ঠীর শক্তিশালী উপস্থিতি ও আক্রমণাত্মক তৎপরতা এই জলপথটিকেও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

নিক্কেই এশিয়া তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে, বিশ্ববাজারের এই জ্বালানি সংকটে তেল আমদানির পতন সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে জাপানের অর্থনীতিতে। বিগত ২০২৫ সালের মার্চ-মে সময়কালে দেশটি বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম তেল আমদানিকারক রাষ্ট্র হিসেবে তালিকায় ছিল। অথচ ২০২৬ সালের ঠিক একই সময়ে এসে জাপানের তেল আমদানি হ্রাসের এই হার বৈশ্বিকভাবে চতুর্থ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই বিশাল ঘাটতি ও শূন্যতা পূরণে টোকিও প্রশাসন এখন বাধ্য হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদিত তেলের ওপর তাদের কৌশলগত নির্ভরতা দ্রুত বাড়াচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে জাপানের প্রয়োজনীয় মোট তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই সরবরাহ করত মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে সংকটের জেরে মে মাসে এসে সেই আমদানির পরিমাণ কমে মাত্র ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে। এর বিপরীতে, একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে জাপানের তেল আমদানির অনুপাত আগের মাত্র ২ শতাংশ থেকে এক লাফে বৃদ্ধি পেয়ে ২০ শতাংশেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে।

এদিকে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারের এই নজিরবিহীন সংকট সামাল দিতে জাপান সরকার গত মার্চের শেষ দিক থেকেই তাদের জরুরি কৌশলগত তেল মজুত (স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ) থেকে তেল ব্যবহার শুরু করেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, জাপানি নীতিনির্ধারকদের হাতে এখনও দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার ২০০ দিনেরও বেশি সময়ের ব্যবহারের উপযোগী বিশাল তেলের মজুত সুরক্ষিত রয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের পূর্ণমাত্রায় স্বাধীন ও নিরাপদ নৌ-চলাচলের পরিবেশ আবার কখনো ফিরে আসবে কি না, তা নিয়ে বৈশ্বিক কূটনীতিতে চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে। আর এই দীর্ঘমেয়াদি আশঙ্কার কারণে জাপানের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এখন মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প ও বহুমুখী জ্বালানি উৎস খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।

নিক্কেই এশিয়ার এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই তেল সংকটের ক্ষতিকর প্রভাব দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর ওপরও বেশ জোরালোভাবে পড়েছে। এই সময়ে ভিয়েতনামের জাতীয় তেল আমদানি ৫১ শতাংশ এবং মালয়েশিয়ার আমদানি ৪৩ শতাংশ কমে গেছে।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ চীন গত বছর তাদের মোট চাহিদার ৩০ শতাংশ তেলই আমদানি করেছিল মধ্যপ্রাচ্যের বাজার থেকে। তবে চলমান সংঘাতের জেরে মার্চ-মে সময়কালে চীনের সামগ্রিক আমদানি ১৮ শতাংশ কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একইভাবে, ২০২৫ সালে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ ভারতের আমদানিও এই তিন মাসে ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই ক্ষতি পোষাতে ভারত সরকার এখন দ্রুততম সময়ে রাশিয়া ও ভেনিজুয়েলা থেকে বিকল্প পদ্ধতিতে তেলের সরবরাহ বাড়ানোর জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

অন্যদিকে, এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় ইউরোপীয় অঞ্চলের দেশগুলো এই সংকটে তুলনামূলকভাবে অনেক কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো, ইউরোপীয় অঞ্চলের দেশগুলো নর্থ সি, যুক্তরাষ্ট্র, উত্তর আফ্রিকা এবং কাসপিয়ান সাগর অঞ্চল থেকে অনেক আগে থেকেই বহুমুখী রুটে জ্বালানি তেল সরবরাহ পেয়ে থাকে। ফলে এই সংকটকালীন সময়েও মার্চ-মে মাসে গ্রিসের তেল আমদানি উল্টো ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের ৯ শতাংশ এবং স্পেনের ৭ শতাংশ তেল আমদানি বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

/আশিক


কট্টর ইসরায়েল-বিরোধী মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে কেন বিকল্প নেতা ভাবছিল ওয়াশিংটন?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৭ ২০:৩৫:৫৪
কট্টর ইসরায়েল-বিরোধী মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে কেন বিকল্প নেতা ভাবছিল ওয়াশিংটন?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে যুদ্ধ-পরবর্তী সম্ভাব্য ইরানি নেতা হিসেবে একসময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিবেচনা করেছিল বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করেছে। অথচ দীর্ঘ বছর ধরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আহমাদিনেজাদকে অন্যতম প্রধান ইসরায়েলবিরোধী মুখ হিসেবেই চেনা হতো।

তিনি ইসরায়েলের পতন অনিবার্য বলে প্রায়ই কড়া বক্তব্য দিতেন, হলোকাস্ট বা ইহুদি নিধনযজ্ঞের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়েছেন। বৈশ্বিক মঞ্চে তাঁর এই কট্টর অবস্থানের কারণেই ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রায়শই বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে ইরানকে একটি বাস্তব হুমকি হিসেবে প্রমাণ করতে আহমাদিনেজাদের বক্তব্যকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করতেন।

তবে নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক গোপন ‘যুদ্ধ পরবর্তী পরিকল্পনায়’ ওয়াশিংটন ও তেল আবিব এমন একটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভাবছিল, যেখানে আহমাদিনেজাদ ইরানের বিদ্যমান নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে এসে দেশটির ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন। কিন্তু টাইমসের দাবি অনুযায়ী এই গোপন ছকটি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়, কারণ চলমান যুদ্ধের শুরুতেই গৃহবন্দিত্ব থেকে আহমাদিনেজাদকে মুক্ত করার লক্ষ্যে চালানো একটি বিশেষ সামরিক হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগ ওঠে। অবশ্য এই চাঞ্চল্যকর দাবির বিষয়ে মাহমুদ আহমাদিনেজাদ বা তাঁর কোনো ঘনিষ্ঠ সহযোগী এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি এবং বর্তমানে তিনি ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন তাও স্পষ্ট নয়।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এই খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর অনেক মার্কিন ও ইসরায়েলি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চরম ইসরায়েলবিরোধী মতাদর্শের সাথে যুক্ত এবং হলোকাস্টকে অস্বীকার করা একজন নেতার সঙ্গে কোনো পশ্চিমা দেশ বা ইসরায়েল কেন কাজ করার কথা ভাববে—তা নিয়ে তারা প্রকাশ্যেই বড় প্রশ্ন তুলেছেন। আপাতদৃষ্টিতে এই সাংঘর্ষিক ও বিপরীতমুখী তথ্যটি বিশ্লেষকদের আহমাদিনেজাদের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে যে, তাঁর প্রকৃত চরিত্রটি আসলে যতটা সরল মনে করা হয় ততটা নাকি এর পেছনে আরও কোনো গভীর রাজনৈতিক জটিলতা রয়েছে।

এই পুরো বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করতে হলে ফিরে যেতে হবে ২০০৩ সালের দিকে, যখন তিনি তেহরানের মেয়র নির্বাচিত হন। সে সময় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি খুব একটা পরিচিত ছিলেন না। তবে ২০০৫ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রচ্ছন্ন সমর্থনে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আসেন। নির্বাচনের সময় তিনি জনকল্যাণ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্লোগান দিলেও অতি অল্প সময়ের মধ্যেই মূলত ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও হলোকাস্ট নিয়ে আপোসহীন মন্তব্যের কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।

২০০৫ সালে তেহরানের এক সম্মেলনে তিনি পশ্চিমা ও জায়নবাদবিহীন বিশ্ব গড়ার ডাক দেন এবং এর এক বছর পর তেহরানে হলোকাস্ট অস্বীকারকারীদের নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করেন, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় তোলে। তবে সময়ের ব্যবধানে কিছু ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক প্রকাশ্যে বলতে শুরু করেন যে, আহমাদিনেজাদের এমন চরমপন্থী বক্তব্য প্রকৃতপক্ষে ইরানের পারমাণবিক হুমকিকে বিশ্বের সামনে বড় করে তুলে ধরে ইসরায়েলেরই রাজনৈতিক সুবিধা করে দিয়েছিল। ২০০৮ সালে মোসাদের সাবেক প্রধান এফ্রাইম হালেভি তাকে ‘ইসরায়েলের জন্য ইরানের সবচেয়ে বড় উপহার’ হিসেবেও আখ্যা দেন।

অবশ্য আহমাদিনেজাদের সমর্থকেরা এই দাবিকে সবসময় প্রত্যাখ্যান করে এসেছেন। তাদের মতে, তিনি কেবল একটি আদর্শিক ও আক্রমণাত্মক নীতি অনুসরণ করেছিলেন, যা ইসরায়েল ও পশ্চিমের সরাসরি মুখোমুখি অবস্থান নেয়। তবে ২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পর থেকেই আহমাদিনেজাদ ক্রমশ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি এবং দেশটির প্রভাবশালী সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। এর জেরে পরবর্তীতে ইরানের সংবিধিবদ্ধ অভিভাবক পরিষদ বা গার্ডিয়ান কাউন্সিল তাকে একাধিকবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে অযোগ্য ঘোষণা করে।

ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের ইরান প্রোগ্রামের প্রধান রাজ জিম্মিত টাইমসের এই প্রতিবেদন প্রসঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে জানান যে, আহমাদিনেজাদ মূলত জনতাবাদ বা পপুলিজম এবং সুযোগ সন্ধানবাদের এক অদ্ভুত মিশ্রণ ছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক মাধ্যমে নিজের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পুনর্গঠনে তিনি ইংরেজিতে টুইট করা, মার্কিন ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানানো কিংবা মার্কিন র‍্যাপারের বাণী উদ্ধৃত করার পাশাপাশি আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসাও করেছেন। তবে জিম্মিত মনে করেন, পশ্চিমা শ্রোতা ও ইরানের অভ্যন্তরে তুলনামূলক নরম ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা করলেও ৯ কোটির বেশি জনসংখ্যার এই দেশে এককভাবে ক্ষমতা দখলের মতো রাজনৈতিক সমর্থন বা ভিত্তি আহমাদিনেজাদের আর নেই।

বিবিসি পার্সিয়ানের সঙ্গে আলাপকালে তিনজন শীর্ষ মার্কিন বিশেষজ্ঞও আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় ফেরানোর পশ্চিমা পরিকল্পনা সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়ে চরম সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ও কাউন্টার-টেররিজম বিশেষজ্ঞ ম্যাক্স আব্রাহমস মনে করেন, যুদ্ধকালীন সময়ে ছড়ানো ভুল তথ্যের প্রাচুর্যের কারণে এই দাবিকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দেখা উচিত। তাঁর মতে, পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া আহমাদিনেজাদের প্রত্যাবর্তনকে ইসরায়েল স্বাগত জানাবে—এমনটি ভাবা অবাস্তব।

আমেরিকান ফরেন পলিসি কাউন্সিলের ইলান বারম্যানও একে একটি অসম্ভব কল্পনা বলে মনে করেন, কারণ নেতৃত্বের সম্ভাব্য তালিকায় আহমাদিনেজাদ কখনোই প্রথম পছন্দ হতে পারেন না। আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের মাইকেল রুবিন এই প্রতিবেদনকে কল্পনাপ্রসূত আখ্যা দিয়ে বলেন যে, নিউ ইয়র্ক টাইমস এখানে অতিরিক্তভাবে কিছু অজ্ঞাত সূত্রের ওপর নির্ভর করেছে। অবশ্য এর বিপরীতে নিউ ইয়র্ক টাইমস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোরালো দাবি করেছে যে, তারা তাদের প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়ে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী এবং এটি মার্কিন, ইসরায়েলি ও ইরানি কর্মকর্তাদের মতো অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও অবহিত সূত্রের সঙ্গে কথা বলেই তৈরি করা হয়েছে।

অন্য এক প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের ভেতরের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই পরিকল্পনাকে ইরান সম্পর্কে ইসরায়েলের গোয়েন্দা ও নীতিনির্ধারকদের গভীর ভুল বোঝাবুঝির পরিচায়ক হিসেবে দেখছেন। ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের ড্যানি সিট্রিনোভিজ জানান, আহমাদিনেজাদের কোনো বাস্তব রাজনৈতিক ক্ষমতার ভিত্তি নেই এবং ইরানের মূল চালিকাশক্তি আইআরজিসি কখনোই তাকে মেনে নেবে না। ফলে ইরানের বিদ্যমান পুরো ক্ষমতা কাঠামো সম্পূর্ণ ধসে না পড়লে তাঁর ক্ষমতা নেওয়া অসম্ভব ছিল, যা পশ্চিমা হামলায় ঘটেনি। অভিজ্ঞ ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইয়োসি মেলম্যানও এই পরিকল্পনাকে এক ধরনের রাজনৈতিক উন্মাদনা বা অবাস্তব কল্পনা বলে অভিহিত করেছেন।

তবে এত সব সংশয় ও বিতর্কের মাঝেও প্রশ্ন থেকে যায় যে, পশ্চিমা পরিকল্পনাকারীদের খাতায় কেন হঠাৎ আহমাদিনেজাদের নাম উঠে এলো? কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রধান কারণ হতে পারে তাঁর তিনটি অনন্য বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়—দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি, দীর্ঘদিনের সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে দূরত্ব। তিনি ইরানের সাধারণ ও নিম্নবর্গের মানুষের ভাষা বোঝেন এবং ইসলামিক রিপাবলিকের ক্ষমতার অন্দরমহল সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখেন।

খামেনির সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধের কারণে তাকে এখন আর পুরোপুরি বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করা হয় না। ফলে কিছু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে, অস্থিরতার সময়ে মিত্র হিসেবে না হলেও ইরানের বিদ্যমান ক্ষমতার কাঠামোর ভেতরে বড় ধরনের ফাটল বা বিভাজন সৃষ্টি করার জন্য একটি কৌশলগত অস্থায়ী চরিত্র বা ঘুঁটি হিসেবে তাকে ব্যবহারের কথা ভাবা হয়ে থাকতে পারে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ অনেক সমালোচকের মতে, আহমাদিনেজাদের পূর্ববর্তী রাষ্ট্রীয় নীতিমালা ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করেছে, পারমাণবিক সংকটকে আরও তীব্র করেছে এবং শেষ পর্যন্ত তেহরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মোক্ষম রাজনৈতিক অস্ত্র তৈরি করে দিয়েছে। তবে ক্ষমতায় থাকাকালীন কিংবা ক্ষমতা ছাড়ার পর তাঁর রাজনৈতিক জোট পরিবর্তনের প্রবণতাটি ইঙ্গিত দেয় যে, এটি আসলে সম্পূর্ণই ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একটি রাজনৈতিক কৌশল ছিল, কোনো বিদেশী শক্তির সাথে গোপন আঁতাতের অংশ নয়।

বাস্তবিকপক্ষে মাহমুদ আহমাদিনেজাদের সঙ্গে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্কের প্রমাণ মেলেনি, তবে তাঁর মতো কট্টর পশ্চিমা-বিরোধী একজন রাজনীতিকের নাম যুদ্ধ-পরবর্তী বিকল্প নেতা হিসেবে মার্কিন গণমাধ্যমে উঠে আসা ইরানের সমকালীন রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রশ্নটিকে আবারও বিশ্বমঞ্চে বড় করে তুলেছে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

পাঠকের মতামত:

নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬: কোন গ্রেডের মূল বেতন কত টাকা বাড়ছে? দেখে নিন তালিকা

নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬: কোন গ্রেডের মূল বেতন কত টাকা বাড়ছে? দেখে নিন তালিকা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা... বিস্তারিত