গণভোটই হবে ফ্যাসিবাদ ঠেকানোর প্রধান হাতিয়ার: আলী রীয়াজ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ২০:৫৭:১৫
গণভোটই হবে ফ্যাসিবাদ ঠেকানোর প্রধান হাতিয়ার: আলী রীয়াজ
ছবি: সমকাল

নতুন করে দেশ পুনর্গঠন এবং দীর্ঘ ১৬ বছরের লুটপাট ও দুর্নীতির অবসান ঘটাতে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রংপুরের আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান।

গণভোট সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে তিনি বলেন, এই ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে আগামী দিনে তরুণ প্রজন্মের কাছে কেমন বাংলাদেশ হস্তান্তর করা হবে।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ তার বক্তব্যে দেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের মাধ্যমেই নতুন বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। তিনি বলেন, “তরুণরা যদি একটি নতুন এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পেতে চায়, তবে তাদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমেই সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

জুলাই আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরে অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, জুলাই সনদ কেবল কাগজে লেখা কোনো দলিল নয়। এটি শহীদদের রক্ত দিয়ে লেখা একটি পবিত্র অঙ্গীকার। তিনি আরও যোগ করেন, “এই সনদের প্রতিটি লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে গণভোটে জনগণের রায় অত্যন্ত জরুরি। শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে আমাদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।”

গণভোটের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অধ্যাপক আলী রীয়াজ স্পষ্ট করেন যে, এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলকে ক্ষমতায় বসানোর লড়াই নয়। বরং এটি দেশের দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের লড়াই। তিনি বলেন, “গণভোটে কোনো ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া হচ্ছে না। জনগণ যদি এই সংস্কারে সম্মতি দেয়, তবে কোনো রাজনৈতিক দলেরই ক্ষমতা থাকবে না সেই সংস্কার প্রক্রিয়াকে আটকে রাখার।”

তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছর ধরে জনগণের টাকা যেভাবে লুটপাট হয়েছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের মাধ্যমে সেই দুর্নীতির পথ অনেকাংশেই বন্ধ করা সম্ভব হবে।

ভবিষ্যতে দেশে যাতে পুনরায় কোনো ফ্যাসিবাদী শাসনের উত্থান না ঘটে, সে বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন অধ্যাপক রীয়াজ। তিনি মনে করেন, গণভোটই হচ্ছে ফ্যাসিবাদ ঠেকানোর অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। তার মতে, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই কেবল আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে পারে।

রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আরেক বিশেষ সহকারী মনির হায়দারসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে গণভোট নিয়ে সচেতনতা আরও বাড়বে।


যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়, এটি কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১২:০২:১১
যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়, এটি কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতকে একটি ‘দুঃখজনক ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ উভয় পক্ষকেই বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে এই যুদ্ধ কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়। ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাতে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে এই সংঘাত পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে, যা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়।

সফরের প্রাপ্তি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ওআইসি বৈঠকের সাইডলাইনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতির পদের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে ব্যাপক সমর্থন মিলেছে। ওআইসি সদস্য দেশগুলো আশ্বস্ত করেছে যে, তারা কেবল ভোটই দেবে না, বরং বাংলাদেশের পক্ষে প্রচারণাও চালাবে। এই গৌরবময় পদের জন্য বাংলাদেশ এবার সাইপ্রাসের সাথে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই নেতৃত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা এখন অনেক উজ্জ্বল বলে তিনি মনে করছেন।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়েও ওআইসি বৈঠকে সরব ছিল বাংলাদেশ। ভূমি ক্রয় সংক্রান্ত ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিতর্কিত আইনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এটি আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেছি। বিমানবন্দরে এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের এই বলিষ্ঠ অবস্থান আগামী দিনে দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

/আশিক


আজ জামায়াতের ইফতারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১০:৩০:১৭
আজ জামায়াতের ইফতারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র) এই মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দলগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আজ দিনের শুরুতেই সরকারি কাজে ব্যস্ত সময় কাটাবেন। সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অধীনস্থ দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন তিনি। এরপর বিকেলে তিনি সরাসরি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতের ইফতার মাহফিলে যোগ দেবেন। এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইফতার মাহফিলের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম। সেই বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রী এই আমন্ত্রণে সদয় সম্মতি জানিয়েছিলেন।

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান টেলিফোনে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীকে সপরিবারে অংশ নেওয়ার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও এই ইফতার মাহফিলে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে। পবিত্র রমজান মাসে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের এই সম্মিলন সাধারণ মানুষের মাঝেও বিশেষ কৌতূহল ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই উপস্থিতি আগামী দিনের রাজনৈতিক সমঝোতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

/আশিক


উপদেষ্টা পরিষদের বাইরে থেকেই আসত সরকারের বড় সিদ্ধান্ত: সাখাওয়াত হোসেন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১০:১১:১৪
উপদেষ্টা পরিষদের বাইরে থেকেই আসত সরকারের বড় সিদ্ধান্ত: সাখাওয়াত হোসেন
ছবি : সংগৃহীত

সদ্য সমাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী ও ‘বড় সিদ্ধান্তগুলো’ মূলত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় নির্ধারিত হতো না, বরং পরিষদের বাইরে থেকেই নেওয়া হতো বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন।

বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বিদায়ী সরকারের দেড় বছরের কার্যক্রমের বিভিন্ন অজানা অধ্যায় নিয়ে মুখ খোলেন। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার আক্ষেপ করে বলেন যে, দীর্ঘ সময় নির্বাচন কমিশনে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন পদ্ধতি বা রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে সরকারের কেউ কখনো তাঁর পরামর্শ নেয়নি। তিনি কেবল নামমাত্র উপদেষ্টা ছিলেন এবং বড় সিদ্ধান্তগুলোর ক্ষেত্রে তাঁকে কনসালট্যান্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।

সাক্ষাৎকারে সাখাওয়াত হোসেন সরকারের ভেতর একটি ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বা প্রভাবশালী মহলের অস্তিত্বের প্রতি স্পষ্ট ইঙ্গিত করেন। তিনি জানান, ২৭ জনের বিশাল উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনার আগেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাইরে থেকে নির্ধারিত হয়ে আসত। বিশেষ করে নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তাঁর সামনে উপস্থাপন না করা হলেও তিনি শুনেছেন যে একটি নির্দিষ্ট পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপণ করতে চেয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়াকে তিনি একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন। তাঁর এই বক্তব্যে এটি পরিষ্কার যে, সরকারের ভেতরেই ক্ষমতার একটি সমান্তরাল কেন্দ্র ছিল যা অনেক উপদেষ্টাই জানতেন না।

২০২৪ সালের অগাস্টে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পাওয়ার পর পুলিশের ব্যবহৃত ‘সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু’ বোরের রাইফেলের ব্যবহার নিয়ে তাঁর করা মন্তব্যগুলো সে সময় বেশ আলোচিত হয়েছিল। সাক্ষাৎকারে তিনি পুনরায় বিষয়টি উত্থাপন করে বলেন, পুলিশের এই মারাত্মক মারণাস্ত্র কীভাবে সাধারণ মানুষের হাতে গেল এবং ভিডিওতে দেখা লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরা অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা আসলে কারা ছিল, তা নিয়ে তিনি তদন্ত করতে চেয়েছিলেন। এমনকি হেলিকপ্টারে থাকা স্নাইপারদের অনেকের শারীরিক গঠন ও চেহারা আমাদের দেশের মানুষের মতো ছিল না বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সাখাওয়াত হোসেনের সন্দেহ ছিল যে এই স্নাইপাররা সম্ভবত ‘বহিরাগত’ ছিল। তবে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে তদন্ত শুরুর আগেই মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় তাঁকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

সাবেক এই উপদেষ্টা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাত-আট দিনের মাথায় তিনি উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। তিনি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সরাসরি বলেছিলেন যে তাঁর পক্ষে এই পদে থাকা সম্ভব নয় এবং থাকলে প্রধান উপদেষ্টাও বিব্রত হতে পারেন। তবে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ অনুরোধ ও আশ্বাসে তিনি শেষ পর্যন্ত থেকে যান এবং পরবর্তী সময়ে শ্রম ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সফলভাবে নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করা এই বিশেষজ্ঞ এখন দেশে একটি নির্বাচিত সরকার আসার পর নিজের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জনসমক্ষে নিয়ে এলেন।

সূত্র: চ্যানেল ওয়ানে প্রদত্ত সাক্ষাৎকার


শিশুর প্রশ্ন-আংকেল রোজা রাখেন? প্রধানমন্ত্রীর উত্তর-জ্বি সবগুলো রেখেছি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১৮:৩২:২৪
শিশুর প্রশ্ন-আংকেল রোজা রাখেন? প্রধানমন্ত্রীর উত্তর-জ্বি সবগুলো রেখেছি
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর নৌবাহিনী সদরদপ্তর মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক প্রটোকলের বাহুল্য ছাড়াই সাধারণ পোশাকে মসজিদে প্রবেশ করেন। নামাজ শেষে বেরিয়ে আসার সময় মসজিদ চত্বরে উপস্থিত একদল শিশু-কিশোর তাকে ঘিরে ধরে। মুহূর্তটি দ্রুতই একটি উষ্ণ ও মানবিক আবহ তৈরি করে, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

জুমা শেষে নেভি হেডকোয়ার্টার মসজিদের সামনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটির একটি ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে শিশুদের চোখেমুখে কৌতূহল ও আনন্দের ছাপ। তাদের একজন সরাসরি প্রশ্ন করে বসে, তিনি রোজা রেখেছেন কি না। শিশুর সরল প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে জবাব দেন যে তিনি সবগুলো রোজা পালন করছেন।

এরপর শিশুদের মধ্যেও শুরু হয় নিজেদের রোজা রাখার গল্প। কেউ বলে সে কয়েকটি রোজা রেখেছে, কেউ আবার গর্ব করে জানায় সবগুলোই পালন করেছে। এ সময় এক শিশুকে তার বন্ধুরা মজা করে বলে ফেলে যে সে সেদিন সকালে খেয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামান্য হাস্যরসের পরিবেশ তৈরি হলেও প্রধানমন্ত্রী শিশুটিকে স্নেহভরে কাছে টেনে নেন। তিনি কোমল কণ্ঠে জানতে চান, আসলে সে কয়টি রোজা পালন করেছে। শিশুটি কিছুটা লজ্জিত ভঙ্গিতে স্বীকার করে যে আজকের একটি বাদে বাকিগুলো রেখেছে।

শিশুদের ধর্মীয় অনুরাগ ও আন্তরিকতায় প্রধানমন্ত্রী দৃশ্যতই আনন্দিত হন। তিনি উপস্থিত প্রতিটি শিশুর সঙ্গে কথা বলেন, তাদের মাথায় হাত রেখে দোয়া করেন এবং পড়াশোনায় মনোযোগী থাকার পরামর্শ দেন। সেখানে উপস্থিত অনেক অভিভাবক ও দর্শনার্থী এ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিও ধারণ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি প্রকাশের পর নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিশুদের সঙ্গে এমন সহজ ও মানবিক যোগাযোগ একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। কেউ কেউ এটিকে প্রটোকলমুক্ত, স্বাভাবিক সামাজিক সম্পৃক্ততার উদাহরণ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।

-রফিক


স্বজনপ্রীতি নয়, যাচাই করে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১৭:২১:০৩
স্বজনপ্রীতি নয়, যাচাই করে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ
ছবি: সংগৃহীত

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সরকারি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা দলীয় প্রভাব বরদাশত করা হবে না। তিনি স্পষ্ট করে জানান, প্রকৃত দরিদ্র ও উপযুক্ত সুবিধাভোগীদের হাতে সহায়তা পৌঁছে দিতে হলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে সুবিধাভোগী চিহ্নিত করার জন্য চেয়ারম্যান ও দুইজন সমাজসেবককে অন্তর্ভুক্ত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি যাচাই কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাই করে দলীয় প্রভাবমুক্ত পরিবেশে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ নিশ্চিত করবে।

শুক্রবার বরিশাল সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সঠিক বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। মন্ত্রী বলেন, সরকারি সহায়তা যদি প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে না পৌঁছে, তবে রাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে।

সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী গণমাধ্যম খাতের কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, তথ্য মন্ত্রণালয় যেই সময় গড়ে উঠেছিল, তখন প্রযুক্তিনির্ভর গণমাধ্যমের বিস্তার ছিল না। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও বহুমাত্রিক তথ্যপ্রবাহের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নীতিমালা আধুনিকায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, নীতিনির্ধারক, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিসম্মত এবং জবাবদিহিতামূলক গণমাধ্যম কাঠামো গড়ে তোলা হবে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতা একে অপরের পরিপূরক। পেশাগত মানদণ্ড বজায় রেখে গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে একটি সুসংহত জবাবদিহিতা কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।

বরিশাল আদালতপাড়ায় সাম্প্রতিক ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে বিস্তারিত জানবেন। প্রয়োজন হলে আইনমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে অনুষ্ঠানে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬১ জনের মাঝে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-এর অনুদানের ২ কোটি ১৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ করেন তিনি। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালক, পথচারী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে সচেতন হতে হবে। ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে মানা, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও প্রশিক্ষণ এবং যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

পরিবহন শ্রমিক নেতাদের একাংশের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, হয়রানি এবং অঘোষিত ধর্মঘটের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হন। এই অরাজক অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আইন বহির্ভূত কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করতে হবে।

জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ এবং ফারজানা ইসলাম। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন।

-রফিক


ইউনূস সরকারের আমলে ৬৫টি প্রকল্পে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৭ ১০:৫৭:৫৮
ইউনূস সরকারের আমলে ৬৫টি প্রকল্পে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি
ছবি: সংগৃহীত

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় কমানো, অপচয় রোধ এবং দক্ষতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি বা একনেকের বৈঠকের কার্যবিবরণী বিশ্লেষণে ভিন্ন চিত্র সামনে এসেছে।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেড় বছরে অন্তত ৬৫টি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে অতিরিক্ত যোগ হয়েছে প্রায় ৭৯ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, এই সময়ে একনেকের ১৯টি বৈঠকে ৮৭টি চলমান প্রকল্প সংশোধন করা হয়। গড়ে প্রতি বৈঠকে প্রায় পাঁচটি প্রকল্পে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এর মধ্যে মাত্র সাতটি প্রকল্পে ব্যয় কমানো হয়েছে, মোট সাশ্রয় ৯৫০ কোটি টাকা। যা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর আগের ব্যয়ের তুলনায় মাত্র ২.৪৫ শতাংশ। বিপরীতে ৬৫টি প্রকল্পে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরও ১৫টি প্রকল্পে ব্যয় অপরিবর্তিত থাকলেও সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।ঢ়এই ৬৫টি প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা। সংশোধনের পর তা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ গড়ে প্রায় ৩৫.৬৭ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইউনূস সরকারের প্রথম একনেক বৈঠকেই গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ১,৩০৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫৭১ কোটি টাকা করা হয়। একই বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নারী ক্ষমতায়ন কর্মসূচির ব্যয় বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১,৬৩০ কোটি টাকা।

মেয়াদের শেষ দিকে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় সংশোধন করে ১ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। ২০১৬ সালে অনুমোদিত প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। সংশোধনে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২২.৬৩ শতাংশ।

ঢাকার পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে ব্যয় ৪,৫৯৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৬ হাজার ১৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ বেড়েছে ১১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা, যা প্রায় আড়াই গুণ।

সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২ এ অতিরিক্ত ৭,১৫৫ কোটি টাকা যোগ হয়েছে। মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে বেড়েছে ৬,৬০৪ কোটি টাকা। চট্টগ্রামের পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্পে ১,৪১০ কোটি টাকা এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলার একটি প্রকল্পে ১,৩২৪ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের ছোট স্টেডিয়াম প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে ব্যয় ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ওতবে একটি উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম রয়েছে। ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৩২ হাজার ৭১৮ কোটি টাকায় নামানো হয়েছে। এতে সাশ্রয় হয়েছে ৭৫৪ কোটি টাকা। মূলত স্টেশন এলাকা উন্নয়ন ও কিছু জমি অধিগ্রহণ বাদ দেওয়ার মাধ্যমে এই সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছরে ১৩৫টি নতুন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে, যার মোট ব্যয় ২ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। এর বড় অংশ চট্টগ্রাম জেলায় বাস্তবায়িত হবে। অন্যদিকে ২১টি জেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশি-বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা। তাদের বিদায়ের সময় তা দাঁড়ায় ১৮ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকায়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বড় দেনার বোঝা রেখে যায় আগের সরকার।

এই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে কঠোর ব্যয় নিয়ন্ত্রণের প্রত্যাশা ছিল বেশি। অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে গঠিত শ্বেতপত্র কমিটি আগের সরকারের সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় পৌনে তিন লাখ কোটি টাকা অপচয়ের অভিযোগ তোলে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় দক্ষতা বাড়ানো এবং প্রকল্প অনুমোদনে কড়াকড়ি আরোপ ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। ছোট কিন্তু উচ্চ প্রভাবসম্পন্ন প্রকল্পে অগ্রাধিকার এবং বিদেশি সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প দ্রুত যাচাইয়ের নীতিগত ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু বাস্তব পরিসংখ্যান বলছে, প্রকল্প সংশোধনের পুরনো সংস্কৃতি পুরোপুরি ভাঙা যায়নি। ব্যয় কমানোর অঙ্গীকারের বিপরীতে ৬৫টি প্রকল্পে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি জনগণের অর্থ ব্যবস্থাপনায় নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এখন নজর থাকবে, বর্তমান সরকার প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত সংস্কার আনতে পারে কি না।

-রফিক


ডিএমপিতে বড় ধামাকা! এক প্রজ্ঞাপনেই বদলে গেল ঢাকার পুলিশি কমান্ড

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ২১:৫৫:৩০
ডিএমপিতে বড় ধামাকা! এক প্রজ্ঞাপনেই বদলে গেল ঢাকার পুলিশি কমান্ড
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পরবর্তী কমিশনার হিসেবে নতুন কোনো কর্মকর্তা যোগদান না করা পর্যন্ত বর্তমান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত আইজি) মো. সরওয়ার কমিশনারের দায়িত্ব পালন করবেন। বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অ্যাডিশনাল ডিআইজি (পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১) শামীমা ইয়াছমিন খন্দকার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্থায়ীভাবে কেউ ডিএমপি কমিশনারের পদে নিয়োগ না পাওয়া পর্যন্ত মো. সরওয়ারই ডিএমপির যাবতীয় প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রমের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে আকস্মিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। যদিও চুক্তির মেয়াদ অনুযায়ী আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত তাঁর দায়িত্ব পালনের কথা ছিল, তবে মেয়াদের আগেই তিনি বিদায় নিলেন। বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের এই জাঁদরেল কর্মকর্তা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে ভূতাপেক্ষভাবে চাকরিতে পুনর্বহাল করে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর ডিএমপির ৩৮তম কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। দুই বছরের সেই চুক্তিভিত্তিক মেয়াদের মাঝপথেই তাঁর এই প্রস্থান পুলিশ প্রশাসনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অন্যদিকে ডিএমপির দায়িত্ব পাওয়া মো. সরওয়ার আলমের বাহিনীতে সুনাম রয়েছে বিশেষ করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় তাঁর দক্ষতার কারণে। গত বছরের ৭ জানুয়ারি এসবি থেকে তাঁকে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল এবং পরে তিনি ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত ১১ আগস্ট তিনি অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পদোন্নতি পান। রাজধানীতে অসহনীয় যানজট নিরসনে তাঁর কার্যকর পদক্ষেপ ও অবদান সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। নতুন কমিশনার নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত ঢাকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার গুরুদায়িত্ব এখন এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তার কাঁধেই বর্তালো।

/আশিক


গণভোটের ফলাফলে নাটকীয় মোড়: এক ঝটকায় কমলো হ্যাঁ ভোটের সংখ্যা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৯:৪৯:৫৭
গণভোটের ফলাফলে নাটকীয় মোড়: এক ঝটকায় কমলো হ্যাঁ ভোটের সংখ্যা
ছবি : সংগৃহীত

গত ১২ ফেব্রুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে সারা দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই দিনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছিল বহুল আলোচিত গণভোট। এই ভোটে দেশের সাধারণ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ সূচক সিল মেরে সরকারের সংস্কার উদ্যোগের প্রতি তাদের সমর্থন ও বিরোধিতার রায় দেন। প্রাথমিক ফলাফল গণনার পর গত ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছিল যে, বিপুল ভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে। তবে আজ বৃহস্পতিবার জানা গেছে, সেই ফলাফল থেকে প্রায় ১০ লাখ ‘হ্যাঁ’ ভোট বাদ দিয়ে একটি সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করেছে কমিশন।

এর আগে বুধবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত অতিরিক্ত গেজেটের মাধ্যমে এই সংশোধনী প্রকাশ করা হয়। পুনরায় প্রকাশিত গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগের গেজেটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি। সেখান থেকে ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি ‘হ্যাঁ’ ভোট বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের পক্ষে বর্তমান রায়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৬২ লাখ ৫১ হাজার ৩০০টি। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এবং সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবের বিষয়ে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম গেজেটের হিসাব অনুযায়ী ‘না’ ভোটের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি এবং বাতিল ভোটের সংখ্যা ছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি। সেই হিসাবে মোট বৈধ ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬ জন। তবে সংশোধিত গেজেটে ‘না’ ভোটের সংখ্যাও ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টিতে। সার্বিকভাবে বাতিল করা ভোটের সংখ্যা আগের চেয়ে ১২ হাজার ৫৫৯টি বেড়েছে এবং মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি কমেছে। নির্বাচন কমিশন এই সংশোধনীর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা না করলেও জানিয়েছে যে, কমিশনের আদেশক্রমেই এই নতুন গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে যা জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক বৈধতা চূড়ান্ত করবে।

/আশিক


কথা রাখলেন তারেক রহমান: ১২ লাখ কৃষকের ঋণের বোঝা শেষ!

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ১৮:৫৭:৫০
কথা রাখলেন তারেক রহমান: ১২ লাখ কৃষকের ঋণের বোঝা শেষ!
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। আজ বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সংবাদ মাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে, শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে নিয়োজিত দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কৃষি খাতের মেরুদণ্ড শক্তিশালী করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের কাছে কৃষকদের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাওনা প্রায় ১৫৫০ কোটি টাকা এই মওকুফ সুবিধার আওতায় আসবে। এর ফলে দেশের প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক সরাসরি ঋণের দায় হতে মুক্ত হতে পারবেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও উল্লেখ করেন যে, ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পাওয়ায় কৃষকরা এখন তাঁদের সঞ্চিত অর্থ উন্নত মানের বীজ বা আধুনিক সেচ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়ার ফলে কৃষকদের ক্রেডিট রেকর্ড বা ঋণমান উন্নত হবে, যা তাঁদের ভবিষ্যতে পুনরায় ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে ঋণ পেতে সহায়তা করবে এবং স্থানীয় মহাজনদের উচ্চ সুদের হাত থেকে রক্ষা করবে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি ফিরবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, এর আগে ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করে কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছিল; সেই ধারাবাহিকতায় এবারের এই সিদ্ধান্তও গ্রামীণ মূল্যস্ফীতি হ্রাস এবং গ্রাম থেকে নগরমুখী অভিবাসন রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: