স্বৈরাচার ঠেকাতে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার সুপারিশ: আলী রীয়াজ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১২:১৭:১২
স্বৈরাচার ঠেকাতে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার সুপারিশ: আলী রীয়াজ
ছবি : সংগৃহীত

ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কোনো ব্যক্তিবিশেষের পক্ষে স্বৈরাচার হয়ে ওঠা রোধ করতেই দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, দেশের বিদ্যমান রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বারবার একক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়েছে। এই প্রবণতা বন্ধ করতে ব্যক্তিবিশেষের ওপর নির্ভর না করে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমেই এর মোকাবিলা করতে হবে।

গতকাল সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন এই সভার আয়োজন করে।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ তার বক্তব্যে ‘জুলাই সনদে’ বর্ণিত উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠিত হলে একদিকে যেমন সকল দল ও জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে, তেমনি সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রেও সকলের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা এমন একটা রাষ্ট্র চেয়েছিলাম যেখানে সমতা, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু গত ৫৪ বছরেও সেই রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারিনি। দলীয় বিবেচনায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে ব্যক্তিতান্ত্রিক ক্ষমতার লোভ চরিতার্থ করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের তরুণরা এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার একটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

আসন্ন গণভোটকে রাষ্ট্র সংস্কারের ‘ভিত্তি তৈরির নির্বাচন’ হিসেবে অভিহিত করেন আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, রাষ্ট্র ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তনগুলোকে যদি আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি দিতে হয়, তবে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় প্রয়োজন। ভবিষ্যতে আর যেন কোনো ফ্যাসিবাদ জন্ম নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করা সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব।

একই সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার এক কঠোর সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, “গণভোট যদি ব্যর্থ হয়, তবে পরের বার আপনার-আমার সন্তানকে জীবন দিতে হবে। ফ্যাসিবাদ পথ চিনে গেছে, তাই তা খুব দ্রুতই আবার ফিরে আসতে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে জুলাই সনদ ও গণভোটে জনগণের সম্মতি অপরিহার্য।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের প্রচারে কোনো বিধিনিষেধ নেই উল্লেখ করে মনির হায়দার সরকারি কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, এই ভোটে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রার্থী নেই, এটি জাতীয় এজেন্ডা। এ বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক, রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান এবং রাজশাহী পুলিশ কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান। সভায় বিভাগের সকল জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।


পে-স্কেল নিয়ে দুঃসংবাদ! বড় সিদ্ধান্তের পথে সরকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ২১:১২:৩৪
পে-স্কেল নিয়ে দুঃসংবাদ! বড় সিদ্ধান্তের পথে সরকার
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল বা নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন এক সমীকরণ। দেশের চলমান আর্থিক সংকট এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার আপাতত নতুন পে-স্কেল ঘোষণা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে জাতীয় বেতন কমিশনকে তাদের সুপারিশমালা ও একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পে-কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা থেকে জানা গেছে, আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কমিশনের চূড়ান্ত সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করে প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হবে। কমিশন মূলত বেতনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ধাপের অনুপাত ১:৮ চূড়ান্ত করার পথে রয়েছে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১ টাকা হলে সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন হবে ৮ টাকা।

সর্বনিম্ন বেতন কত হতে পারে? নতুন কাঠামোতে সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিনটি পৃথক প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়েছে

প্রথম প্রস্তাব: ২১ হাজার টাকা।

দ্বিতীয় প্রস্তাব: ১৭ হাজার টাকা।

তৃতীয় প্রস্তাব: ১৬ হাজার টাকা। কমিশন মূল্যস্ফীতি এবং একটি পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬ জন ধরে ব্যয়ের হিসাব কষছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উভয়েই জানিয়েছেন, নির্বাচনের ঠিক আগে এমন বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। অর্থ উপদেষ্টা জানান, নির্ধারিত সময়ে কমিশন প্রতিবেদন জমা দিলেও এটি কার্যকর করার দায়িত্ব থাকবে নতুন সরকারের ওপর। তবে অন্তর্বর্তী সরকার একটি সময়োপযোগী কাঠামো তৈরি করে যাবে। নির্বাচনের আগে সরকারি কর্মচারীরা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন। মূলত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে কোনো বড় ধরণের আর্থিক চাপ নিতে চাইছে না বর্তমান প্রশাসন।


বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের ৪ প্রেস কর্মকর্তাকে অব্যাহতি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১৭:২১:৫১
বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের ৪ প্রেস কর্মকর্তাকে অব্যাহতি

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে দায়িত্বরত চারজন প্রেস কর্মকর্তাকে অবিলম্বে তাঁদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি নিয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট চার কর্মকর্তা হলেন মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বাংলাদেশ কন্স্যুলেট জেনারেল অফিসের প্রথম সচিব (প্রেস) মো. আরিফুর রহমান, সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (প্রেস) আসাদুজ্জামান খান এবং জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (প্রেস) মো. ইমরানুল হাসান।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে, এই কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াটি গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়েছিল। ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে এই ৪ কর্মকর্তাকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ১৩ এপ্রিল সেই আদেশটি সাময়িকভাবে বাতিল করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট মিশনগুলোতে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে উল্লিখিত প্রতিটি মিশনে নতুন প্রেস কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের অনুকূলে প্রয়োজনীয় আর্থিক সরকারি আদেশও জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে এই কর্মকর্তাদের আবশ্যিকভাবে এবং অবিলম্বে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি নিতে হবে। পরবর্তী পদায়নের লক্ষ্যে তাঁদের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর প্রেস উইংয়ের কাজে নতুন গতিশীলতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে এবং প্রবাসীদের সাথে যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে নতুন কর্মকর্তারা দ্রুতই তাঁদের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।


শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বড় কাটছাঁট : আরএডিপির নতুন চিত্র

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১৭:০৩:৩৩
শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বড় কাটছাঁট : আরএডিপির নতুন চিত্র
ছবি : সংগৃহীত

আজ শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চলতি অর্থবছরের জন্য ২ লাখ কোটি টাকার সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মূল এডিপির তুলনায় এটি প্রায় ১৩ শতাংশ বা ৩০ হাজার কোটি টাকা কম। পরিকল্পনা কমিশনের তথ্যানুযায়ী, সরকারি অর্থায়ন অংশে ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান অংশে ১৪ হাজার কোটি টাকা কাটছাঁট করা হয়েছে। ফলে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে বরাদ্দ হয়েছে ৭২ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি এবং মন্ত্রণালয়গুলোর চাহিদাপ্রাপ্তি কম হওয়ায় এই বরাদ্দ কমানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশোধিত এডিপিতে খাতভিত্তিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে স্বাস্থ্য খাত। বাস্তবায়ন সক্ষমতার অভাব এবং প্রশাসনিক ধীরগতির কারণে এই খাতে বরাদ্দ মূল বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ৭৪ শতাংশ কমানো হয়েছে। ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ এখন মাত্র ৪ হাজার ৭১৮ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। একইভাবে শিক্ষা খাতে ৩৫ শতাংশ এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে বড় ধরণের কাটছাঁট করা হয়েছে। অন্যদিকে ব্যতিক্রম হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিবেশ ও পানি সম্পদ খাতে ২০ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, যা সরকারের পরিবেশবান্ধব নীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বরাদ্দের দিক থেকে বরাবরের মতোই শীর্ষে রয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত। মোট ৩৮ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে এই খাতটি মোট এডিপির এক-পঞ্চমাংশ দখল করে আছে। তবে এই খাতেও মূল বরাদ্দের তুলনায় ৩৫ শতাংশ অর্থ কমানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দে স্থানীয় সরকার বিভাগ ৩৭ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা পেয়ে সবার উপরে রয়েছে। বর্তমান সংশোধিত কর্মসূচিতে মোট ১ হাজার ৩৩০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে চলতি অর্থবছরেই ২৮৬টি প্রকল্প সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন যুক্ত করলে আরএডিপির মোট আকার দাঁড়ায় ২ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা।


জেঁকে বসছে শীত, ১৩ জেলার জন্য বড় দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১১ ২১:৩৭:৩৬
জেঁকে বসছে শীত, ১৩ জেলার জন্য বড় দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর
ছবি : সংগৃহীত

দেশের উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীতের তীব্রতা এখন চরমে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ রংপুর বিভাগের আটটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই ১৩টি জেলায় রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ নিচে নেমে আসায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। আজ সন্ধ্যায় দেওয়া পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই শৈত্যপ্রবাহ আপাতত অব্যাহত থাকতে পারে এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা আরও সামান্য কমতে পারে। তবে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াচিত্রের বিশ্লেষণে দেখা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের শ্রীলঙ্কা উপকূলে অবস্থানরত নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। তবে এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। অন্যদিকে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান করছে, যা শীতের তীব্রতা বাড়াতে প্রধান ভূমিকা রাখছে। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

শীতের পাশাপাশি ঘন কুয়াশা এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নদী অববাহিকাগুলোতে শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। এর ফলে নৌযান ও সড়কপথে যান চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যান্য অঞ্চলেও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা বিরাজ করবে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, অতিরিক্ত কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় যানবাহন চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এই কনকনে শীতে শিশু ও বৃদ্ধদের ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে রক্ষায় বিশেষ যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


প্রধান উপদেষ্টার জাপান সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বড় তথ্য জানালেন সচিব

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১১ ২১:০৮:২৪
প্রধান উপদেষ্টার জাপান সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বড় তথ্য জানালেন সচিব
ছবি : সংগৃহীত

আজ রোববার সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্ত্রী আকি আবে। বর্তমানে তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘ফাউন্ডেশন ফর এনকারেজমেন্ট অফ সোশ্যাল কন্ট্রিবিউশন’-এর একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (AUW)-এর ১২তম সমাবর্তনে অংশ নিতে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন। বৈঠকে ড. ইউনূস প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সাথে তাঁর সুদীর্ঘ ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করেন এবং দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, আকি আবে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাঁর নির্বাচন-পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ড. ইউনূস তাঁর তিনটি প্রধান অগ্রাধিকারের কথা জানান

নারীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা এবং প্রবাসীরা যাতে বিদেশ থেকে ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে দেশে থাকা পরিবারের স্বাস্থ্যের খোঁজ রাখতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা।

দেশের বিশাল যুব সমাজকে নতুন নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ বা স্টার্টআপে উদ্বুদ্ধ করা।

শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণ নিশ্চিত করার বৈশ্বিক লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা।

মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় জাপান সফরটি মূলত সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদানের অংশ। ফাউন্ডেশনটি বিশ্বজুড়ে গবেষণামূলক কাজের জন্য পরিচিত, বিশেষ করে সমুদ্র বিষয়ক গবেষণায় তাদের বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। ড. ইউনূস এই সফরে গিয়ে সমুদ্রসম্পদ ও ব্লু-ইকোনমি বা নীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করবেন। প্রধান উপদেষ্টা মনে করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর এটি হবে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের নতুন সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরার এক চমৎকার সুযোগ।


আচরণবিধি রক্ষায় কঠোর প্রশাসন: সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা জারি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১১ ১৮:৫১:৪০
আচরণবিধি রক্ষায় কঠোর প্রশাসন: সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা জারি
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচনি মাঠের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে প্রশাসন। সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, অনেক প্রার্থী বা তাঁদের সমর্থকরা বিভিন্ন সেমিনার, সংবর্ধনা কিংবা যুব সমাবেশের আড়ালে ভোটারদের জমায়েত করে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। এক্ষেত্রে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভেন্যু হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবহার। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি ছাড়াই স্থানীয় প্রভাব বা অনুরোধে মাঠ বা হলরুম ব্যবহারের মৌখিক অনুমতি দিচ্ছেন। এই প্রবণতাকে নির্বাচনি আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো এই নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, নির্বাচনপূর্ব সময়ে আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন করা বাধ্যতামূলক। কোনো অবস্থাতেই রিটার্নিং অফিসারের সুনির্দিষ্ট অনুমতি ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরণের সমাবেশের আয়োজন করা যাবে না। প্রার্থীরা যাতে সংবর্ধনা বা সামাজিক অনুষ্ঠানের নামে নির্বাচনি প্রচারণার সুবিধা নিতে না পারেন, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব এখন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং স্থানীয় প্রশাসনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নির্বাচনি উত্তাপ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ১২ ফেব্রুয়ারির এই দ্বৈত নির্বাচনকে (সংসদ নির্বাচন ও গণভোট) একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তাই কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি আইন লঙ্ঘন করে ভেন্যু ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। নির্বাচনের এই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি রিটার্নিং অফিসাররা প্রতিটি এলাকায় নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালাবেন। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্দেহজনক কোনো জমায়েত দেখা দিলে তা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ মূলত সকল প্রার্থীর জন্য একটি সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করতে সহায়ক হবে।


গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালাবে অন্তর্বর্তী সরকার: প্রেসসচিব

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১১ ১৭:১৩:২২
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালাবে অন্তর্বর্তী সরকার: প্রেসসচিব
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই সাথে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একটি ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই গণভোটে ভোটাররা মূলত চারটি প্রশ্নের ওপর ভিত্তি করে তাঁদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ মতামত প্রদানের সুযোগ পাবেন। সরকারের পক্ষ থেকে এই গণভোট বা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানো হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, এ ধরণের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক বিষয়ে সরকারের প্রচারণা চালানোর ক্ষেত্রে কোনো আইনগত বাধা নেই। সরকারের এই উদ্যোগটি মূলত নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি হিসেবে পরিচিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের অংশ।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের এই নির্বাচন ব্যাপক গুরুত্ব পাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে প্রেস সচিব জানান, আসন্ন নির্বাচনে ইইউ একটি বড় ধরণের পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে সম্মত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হওয়ার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোনো পর্যবেক্ষক দল পাঠায়নি। এবারের নির্বাচনে তাদের এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা দেখছে। সরকার সকল রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং কাউকে কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।

নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেছেন শফিকুল আলম। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য বা ‘মিসইনফরমেশন’ ছড়ানোকে তিনি নির্বাচনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বিদায়ী বা পতিত সরকারের অনুসারীরা নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে ইন্টারনেটে মিথ্যা তথ্য ছড়াতে পারে। তবে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন যে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে অনেক ভালো এবং যেকোনো ধরণের নাশকতা বা গুজব মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে নরসিংদীর সাম্প্রতিক একটি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ভুল তথ্যের অপব্যবহার নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহমেদ জানান, মুদি ব্যবসায়ী মণি চক্রবর্তীর মৃত্যু কোনো সাম্প্রদায়িক হামলার কারণে হয়নি, বরং এটি ছিল পারিবারিক কলহের জেরে ঘটা একটি হত্যাকাণ্ড। প্রেস উইং থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তাঁরা যেকোনো স্পর্শকাতর বিষয়ে বিবৃতি দেওয়ার আগে ঘটনার সত্যতা গুরুত্বের সাথে যাচাই করে নেন। সামগ্রিকভাবে, ১২ ফেব্রুয়ারির এই দ্বৈত ভোটাভুটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছে সরকার।


পাবনা-১ ও ২ আসনে নির্বাচন স্থগিত করল ইসি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ২০:৪৫:০৬
পাবনা-১ ও ২ আসনে নির্বাচন স্থগিত করল ইসি
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজলেও পাবনার দুটি সংসদীয় আসনে ভোটের আকাশে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। গত ৬ জানুয়ারি ইসি সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা জনসমক্ষে আসে আরও কয়েক দিন পর। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচনি এলাকা ৬৮ পাবনা-১ ও ৬৯ পাবনা-২ এর সীমানা সংক্রান্ত সিএমপি আপিল বিভাগের ৫ জানুয়ারির আদেশের প্রেক্ষিতেই ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের এই দুটি আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ইতিমধ্যে এই আদেশের অনুলিপি পাবনার জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আইনি প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক বিতর্ক চলমান ছিল। গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেটে সাঁথিয়া উপজেলার পুরোটা নিয়ে পাবনা-১ এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলা মিলিয়ে পাবনা-২ আসন চূড়ান্ত করা হয়েছিল। তবে এই পুনর্বিন্যাসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। আপিল বিভাগের সর্বশেষ আদেশের পর কমিশন অত্যন্ত দ্রুততার সাথে স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিলেও বিষয়টি নিয়ে গত শুক্রবার বড় ধরণের ধোঁয়াশা তৈরি হয়। শুক্রবার গণমাধ্যমে এই স্থগিতের খবর প্রকাশিত হলে ইসির জনসংযোগ শাখার পক্ষ থেকে তা ‘সঠিক নয়’ বলে দাবি করা হয়েছিল। সে সময় জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক সংবাদটিকে গুজব হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রচার বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

তবে শনিবার বিকেলে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুক্রবারের সেই বড় ধরণের বিভ্রান্তি দূর করেন। তিনি স্বীকার করেন যে হাইকোর্টের নির্দেশনা পাওয়ার পর কিছু ‘তথ্যগত অসম্পূর্ণতা’ ছিল যা দূর করার পর এই স্থগিতাদেশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে গতকাল যা মৌখিকভাবে বলা হয়েছিল, আজ সেটিই দাপ্তরিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। সচিবের মতে, অসম্পূর্ণতাগুলো দূর করতেই এই সামান্য সময়ের প্রয়োজন ছিল এবং গতকালের কথা আজ তোলার কোনো প্রয়োজন নেই। এই স্থগিতাদেশের ফলে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে নির্বাচনের নতুন সময়সূচি কবে ঘোষণা করা হবে তা নিয়ে স্থানীয় ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র কৌতূহল দেখা দিয়েছে।

এই অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তে পাবনার রাজনৈতিক মহলে বিশেষ করে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের মধ্যে প্রচার-প্রচারণা নিয়ে এক ধরণের আকস্মিক স্থবিরতা নেমে এসেছে। পাবনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে ইসির পক্ষ থেকে স্থগিতের দাপ্তরিক নির্দেশ পাওয়ার পর যাবতীয় নির্বাচনি কার্যক্রম পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাবনার অন্য তিনটি আসনে প্রস্তুতি স্বাভাবিক থাকলেও পাবনা-১ ও ২ নিয়ে ইসির এই চূড়ান্ত ঘোষণা সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়েছে।


১৫ বছর ছিলাম পাকিস্তানের দালাল, এখন ভারতের: আসিফ নজরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১৭:১৭:৫১
১৫ বছর ছিলাম পাকিস্তানের দালাল, এখন ভারতের: আসিফ নজরুল
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক সংলাপে আসিফ নজরুল তাঁর ব্যক্তিগত সততা এবং পরিবারের বিরুদ্ধে চলা মিথ্যে প্রচারণার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি জানান যে ছয় মাস আগে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করা সত্ত্বেও কেউ আমেরিকায় তাঁর কথিত বাড়ির সন্ধান দিতে পারেনি, অথচ এখনও এক ধরণের ‘বদমাইশ’ চক্র এই গুজব ছড়িয়ে যাচ্ছে। ড. নজরুলের মতে, তাঁর নামে কুৎসা রটালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ভিউ’ বেশি পাওয়া যায় এবং আর্থিক মুনাফা বা মনিটাইজেশন সহজ হয় দেখেই একটি শ্রেণি এই হীন কাজে লিপ্ত রয়েছে। তিনি একে নিছক সমালোচনা নয় বরং একটি বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে অভিহিত করেন।

জুলাই বিপ্লবের ঘটনাগুলোতে আসামিদের জামিন পাওয়া প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল তাঁর সীমাবদ্ধতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন যে এই মামলাগুলোতে ৯০ শতাংশ জামিন হয়েছে হাইকোর্ট থেকে, যেখানে আইন উপদেষ্টার সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। বিচারক নিয়োগ বা অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ও প্রধান বিচারপতির অধীনে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন কেন এই দায় তাঁর ওপর চাপানো হচ্ছে। ড. নজরুল আক্ষেপ করে বলেন যে কোনো ভুল হলে বিচারকের সমালোচনা না করে দায়ভার কেবল তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়াটা এক ধরণের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাংবাদিকতা বা পেশাদারী বিদ্বেষের শামিল।

অধ্যাপক আসিফ নজরুল সরকারের সমালোচকদের প্রতি বস্তুনিষ্ঠ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে সরকার যদি দশটির মধ্যে চারটি কাজও করে তবে সেটির স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। ঢালাওভাবে ‘কিছুই হয়নি’ বলার প্রবণতা সমালোচনাকে একটি পেশা বা স্রেফ আত্মতৃপ্তির বিষয়ে পরিণত করে যা দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। তিনি ইসলাম ধর্মের শিক্ষা অনুযায়ী সকলকে আত্মসমালোচনার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেন। বক্তব্যের শেষভাগে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে রাজনৈতিক দল, এনজিও এবং সংবাদমাধ্যম—সবাইকে আগে নিজেদের ভেতর সংস্কার আনতে হবে। নিয়ত পরিষ্কার রেখে সবাই যদি সৎভাবে কাজ করে, তবে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছাবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত