এক সময়ের খামেনি অনুগতরাই কেন এখন বিক্ষোভে? নেপথ্যের কারণ জানুন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১১ ২১:২৭:০৬
এক সময়ের খামেনি অনুগতরাই কেন এখন বিক্ষোভে? নেপথ্যের কারণ জানুন
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এখন এক ঐতিহাসিক মোড় নিয়েছে। যে ব্যবসায়ীরা এক সময় ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন এবং চার দশক ধরে বর্তমান শাসনের অন্ধ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তাঁরাই এখন রাজপথে নেমে এসেছেন। তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারসহ দেশের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দুই দশকে বাজারের ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতা যেভাবে সংকুচিত করা হয়েছে, এটি তারই চরম বহিঃপ্রকাশ।

বিক্ষোভের মূল কারণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মাহমুদ আহমাদিনেজাদের আমলে ‘বেসরকারিকরণের’ নামে ইরানের অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং বিভিন্ন বড় বড় ধর্মীয় ফাউন্ডেশনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এর ফলে আমদানি লাইসেন্স থেকে শুরু করে বৈদেশিক মুদ্রার সুবিধা—সবকিছুই এই প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর কুক্ষিগত হয়। অন্যদিকে, সাধারণ ও ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়ীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। গত দুই দশকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে সাধারণ ব্যবসায়ীদের বাণিজ্য পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়লেও আইআরজিসি নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আধিপত্য বজায় রেখেছে, যা এই বিশাল ব্যবসায়ী শ্রেণির মধ্যে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

বর্তমান সংকটে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে মুদ্রাস্ফীতি ও ইরানি মুদ্রার ভয়াবহ দরপতন। নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা না পারছেন মাল কিনতে, না পারছেন বিক্রি করতে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভ কেবল দ্রব্যমূল্যের প্রতিবাদ নয়, এটি ইরানের শাসনকাঠামোর ভেতরে দীর্ঘদিনের জমে থাকা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষের ফল। খামেনি শাসনের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ভিত্তি হিসেবে পরিচিত এই ব্যবসায়ী শ্রেণির সাথে রাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান দূরত্ব ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বিদ্রোহ দমনে সরকার যদি ব্যর্থ হয়, তবে ইরানের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় ধরণের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।


এক দিনেই ইরানকে শেষ করে দেব: ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১২ ২১:৫১:১৬
এক দিনেই ইরানকে শেষ করে দেব: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা কোনো প্রকার সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর ইরানকে লক্ষ্য করে কঠোরতম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি সরাসরি বলেছেন যে, ওয়াশিংটন এখন যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং উপযুক্ত সময়ে ইরানকে ‘শেষ করে দেওয়া’ হবে। ট্রাম্পের এই রণংদেহী বার্তা মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, তিনি চাইলে মাত্র এক দিনেই ইরানকে পঙ্গু করে দিতে পারেন। তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে ইরানের পুরো জ্বালানি ব্যবস্থা, প্রতিটি অয়েল প্ল্যান্ট এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো দখল করে নেওয়া, যা দেশটির অস্তিত্বের ওপর বিশাল আঘাত হানবে বলে তিনি দাবি করেন। মূলত পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান কোনো ছাড় না দেওয়ায় ট্রাম্প এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের নতুন নির্দেশে। তিনি মার্কিন নৌবাহিনীকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় সেসব জাহাজ আটক করার নির্দেশ দিয়েছেন, যারা ইরানকে ‘টোল’ প্রদান করবে। ট্রাম্পের সাফ কথা, “যে ইরানকে টোল দেবে, সে সমুদ্রে নিরাপদে চলতে পারবে না।” একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বসানো সামুদ্রিক মাইনগুলো ধ্বংস করার ঘোষণাও দিয়েছেন। ইরান যদি মার্কিন বা অন্য কোনো জাহাজে হামলা চালায়, তবে তার জবাব হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। খুব শিগগিরই এই নৌ-অবরোধ (Blockade) কার্যকর হতে যাচ্ছে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

/আশিক


হরমুজ প্রণালি কি এবার রণক্ষেত্র? ট্রাম্পের অবরোধের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১২ ২১:২১:৩৩
হরমুজ প্রণালি কি এবার রণক্ষেত্র? ট্রাম্পের অবরোধের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক ও অর্থনৈতিক অ্যাকশনে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ রোববার (১২ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় যেসব জাহাজ ইরানকে টোল দেবে, সেগুলোকে যেন সরাসরি আটক করা হয়।

ট্রাম্পের মতে, ইরান মাইন পাতার ভয় দেখিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে এবং বিশ্বজুড়ে এক ধরনের ‘চাঁদাবাজি’ শুরু করেছে। তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা তেহরানকে অবৈধভাবে টোল দেবে, তারা সমুদ্রে কোনো ধরনের নিরাপত্তা পাবে না।

এই ঘোষণার মাধ্যমে ট্রাম্প মূলত হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল আদায়ের প্রচেষ্টাকে নসাৎ করতে চাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, ইরান যেখানেই মাইন পেতে থাকুক না কেন, তা অপসারণের কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্র শুরু করবে এবং যদি কোনো ইরানি বাহিনী মার্কিন বা শান্তিপূর্ণ জাহাজে হামলা চালায়, তবে তার জবাব হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ইতিমধ্যে তাদের সামরিক শক্তির বড় অংশ হারিয়েছে এবং এই বিপর্যয়ের জন্য দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচিই দায়ী। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, খুব শিগগিরই ইরানের ওপর একটি বিশাল নৌ-অবরোধ (Blockade) শুরু হতে যাচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোও অংশ নেবে। এই ঘোষণার ফলে পারস্য উপসাগরে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা


হরমুজে পেতে রাখা মাইন হারিয়ে ফেলেছে ইরান! নজিরবিহীন সংকটে বিশ্ব তেলপথ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১২ ২০:২১:৫১
হরমুজে পেতে রাখা মাইন হারিয়ে ফেলেছে ইরান! নজিরবিহীন সংকটে বিশ্ব তেলপথ
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মাঝে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান শুরুর পর আইআরজিসি (ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর) এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অসংখ্য নৌ-মাইন পেতেছিল।

কিন্তু এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, ইরান চাইলেও দ্রুত এই পথটি পুরোপুরি খুলে দিতে পারছে না। কারণ, খোদ আইআরজিসি-ই এখন শনাক্ত করতে পারছে না যে প্রণালির ঠিক কোন কোন জায়গায় তারা মাইন স্থাপন করেছিল।

মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, আইআরজিসি ছোট আকারের রণতরী ব্যবহার করে এই মাইনগুলো পেতেছিল। তবে সব স্থানের তথ্য সঠিকভাবে নথিভুক্ত বা রেকর্ড করা হয়নি। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, আইআরজিসির নথিতে যেসব জায়গায় মাইন থাকার কথা উল্লেখ আছে, জোয়ার-ভাটা বা সমুদ্রের স্রোতের কারণে তার বেশির ভাগই এখন সেখান থেকে সরে গেছে বা ভেসে অন্য স্থানে চলে গেছে। ফলে এই অদৃশ্য মাইনগুলো এখন বৈশ্বিক নৌ-বাণিজ্যের জন্য এক ভয়াবহ আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।

গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হলেও, এই মাইন সমস্যার কারণে জলপথটি এখনই নিরাপদ ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছে না। শনাক্ত করা মাইনগুলো অপসারণ করাও প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ।

এই পরিস্থিতিতে তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে ওই অঞ্চলে ‘সমুদ্র মাইনের ঝুঁকি’ উল্লেখ করে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে বিকল্প পথ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই তেল পরিবহন পথটি কবে নাগাদ পুরোপুরি নিরাপদ হবে, তা নিয়ে নতুন করে সংশয় দেখা দিয়েছে।

/আশিক


পুতিন-পেজেশকিয়ান ফোনালাপ: মধ্যপ্রাচ্যে কি নতুন মোড় ঘটাবে রাশিয়া?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১২ ১৯:৩৮:৩১
পুতিন-পেজেশকিয়ান ফোনালাপ: মধ্যপ্রাচ্যে কি নতুন মোড় ঘটাবে রাশিয়া?
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই ব্যর্থ হওয়ার পর সক্রিয় হয়ে উঠেছে ক্রেমলিন। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলাপ করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

ইন্টারফ্যাক্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ফোনালাপে পুতিন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সব ধরনের কূটনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জোরালো অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ভ্লাদিমির পুতিন চলমান সংকট নিরসনে কেবল সামরিক নয়, বরং একটি টেকসই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে একটি ন্যায়সঙ্গত এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রাশিয়ার সদিচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর পুতিনের এই সরাসরি সম্পৃক্ততা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন যখন ইরানের ওপর নতুন করে নৌ-অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরির হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, ঠিক তখন রাশিয়ার এই প্রস্তাব তেহরানের জন্য একটি বড় কৌশলগত সমর্থন হিসেবে কাজ করতে পারে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে পুতিনের এই মধ্যস্থতার প্রস্তাবকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী বলে মনে করছে বিশ্ব সম্প্রদায়।

সূত্র: আলজাজিরা।


হরমুজ প্রণালি অবরোধের ঘোষণা ট্রাম্পের! এবার কি সরাসরি সামরিক সংঘাত?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১২ ১৯:১৪:৩১
হরমুজ প্রণালি অবরোধের ঘোষণা ট্রাম্পের! এবার কি সরাসরি সামরিক সংঘাত?
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালি নিয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী অবিলম্বে এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী সব জাহাজ অবরোধ করার প্রক্রিয়া শুরু করবে। মূলত ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে এবং তাদের অর্থনৈতিক আয়ের পথে বাধা সৃষ্টি করতেই ওয়াশিংটন এই চরম পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে অত্যন্ত সরাসরি ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি লেখেন, ‘আমরা যেকোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ বা বের হতে বাধা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করব।’

ট্রাম্পের এই ঘোষণা দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনাকে সামরিক সংঘাতের কিনারে নিয়ে দাঁড় করিয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা চালু হতে পারে যেখানে নির্দিষ্ট জাহাজগুলোকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে, কিন্তু ইরানের আপত্তির কারণে তা এখন বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।

সবচেয়ে বড় ঘোষণা হিসেবে ট্রাম্প মার্কিন নৌবাহিনীকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানকে যারা টোল প্রদান করবে, সেসব জাহাজকে থামিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ট্রাম্পের মতে, এই টোল আদায় ‘অবৈধ’ এবং যারা তেহরানকে এই অর্থ পরিশোধ করবে, তাদের সমুদ্রে কোনো নিরাপদ চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে না। এই ঘোষণার ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্যবাহী জাহাজগুলো এখন সরাসরি মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা


ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি বনাম ইরানের বাস্তবতা: কার দখলে বিশ্বের প্রধান তেলপথ?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১২ ১৮:০৭:৩০
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি বনাম ইরানের বাস্তবতা: কার দখলে বিশ্বের প্রধান তেলপথ?
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এক নতুন নাটকীয় মোড় নিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবাই ঘোষণা করেছেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি এখন পুরোপুরি তেহরানের নিয়ন্ত্রণে এবং এখান দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজকে এখন থেকে ইরানি মুদ্রা ‘রিয়াল’-এ টোল দিতে হবে। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর হাজি বাবাইয়ের এই চাঞ্চল্যকর বক্তব্যটি প্রকাশ করেছে।

ইসলামাবাদে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই ব্যর্থ হওয়ার পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে এমন কঠোর ঘোষণা এল। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রোববার সংবাদ সম্মেলন করে সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার খবর নিশ্চিত করলেও হরমুজ ইস্যু নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবারই তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দাবি করেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালি শিগগিরই সবার জন্য খুলে দেওয়া হবে।

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল এই পথে জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে যে, মাইন অপসারণ অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের দুটি ডেস্ট্রয়ার জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে।

তবে ইরান এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়ে বলেছে, এমন কোনো নৌযান সেখানে প্রবেশ করেনি। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, কোনো সামরিক জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া

ইরানের এই ‘টোল’ আদায়ের পরিকল্পনাকে সরাসরি ‘অবৈধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থার (আইএমও) প্রধান আরসেনিও ডমিঙ্গুয়েজ।

আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হরমুজের মতো আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন প্রণালিতে টোল আদায়ের অধিকার কোনো দেশের নেই এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়কে এই নজিরবিহীন ব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি বৈশ্বিক শিপিং বা নৌ-বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হবে।

/আশিক


ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি! এবার কি সমুদ্রপথে অবরুদ্ধ হচ্ছে ইরান?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১২ ১৩:০২:১৪
ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি! এবার কি সমুদ্রপথে অবরুদ্ধ হচ্ছে ইরান?
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের ওপর এবার ‘নৌ-অবরোধ’ আরোপের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১২ এপ্রিল) নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি নিবন্ধ শেয়ার করার মাধ্যমে তিনি এই ইঙ্গিত দেন।

আলোচনার টেবিলে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা পার করার পরও কোনো সমঝোতা না আসায়, ওয়াশিংটন এখন তেহরানের ওপর চরম অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ তৈরির কৌশল অবলম্বন করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের শেয়ার করা ওই নিবন্ধে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ কার্যকর করা হলে দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। বিশেষ করে তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেলে ইরানের আয়ের প্রধান উৎসটিই রুদ্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে ইরান থেকে তেল আমদানিকারক দেশগুলোর ওপরও ওয়াশিংটনের চাপ বৃদ্ধি পাবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও, এই নিবন্ধটি শেয়ার করার মাধ্যমে তিনি তেহরানকে এক কঠোর বার্তা দিলেন যে, মার্কিন শর্ত না মানলে সমুদ্রপথে ইরানকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হবে।

এই কৌশলটিকে মূলত ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে নেওয়া আগের মার্কিন পদক্ষেপের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওয়াশিংটন চায় অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে ইরানকে এতটা কোণঠাসা করতে যাতে তারা নমনীয় হতে বাধ্য হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের নৌ-অবরোধ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

শান্তি আলোচনার ব্যর্থতার পর জেডি ভ্যান্স পাকিস্তান ত্যাগ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্পের এই তৎপরতা পারস্য উপসাগরে যুদ্ধের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তেহরান যদি শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল স্থলভাগেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সমুদ্রসীমায় এক ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া


ইরান-মার্কিন দ্বন্দ্বে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট? অস্থির হতে শুরু করেছে তেলের দাম

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১২ ১২:৫০:০৯
ইরান-মার্কিন দ্বন্দ্বে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট? অস্থির হতে শুরু করেছে তেলের দাম
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতার কালো মেঘ দেখা দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই কূটনৈতিক ব্যর্থতার প্রভাবে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়তে পারে।

বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৪.২৫ ডলারে থাকলেও, ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনা বাড়লে তা দ্রুত ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিনিয়োগকারীদের প্ল্যাটফর্ম পলিমার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, ডব্লিউটিআই (WTI) তেলের দাম চলতি মাসেই ১০৫ ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা প্রবল।

জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রতিনিধি দল এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্পিকারের মধ্যকার এই আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর দুই পক্ষই একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছে। ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ময়দানে যা পায়নি তা আলোচনার টেবিলে আদায় করতে চেয়েছিল; অন্যদিকে ভ্যান্সের দাবি, ইরান পারমাণবিক ইস্যুতে নমনীয় হতে রাজি নয়।

সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পুনরায় সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদি যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে যায়, তবে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের অন্যতম ধমনী হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারের প্রায় ১২ শতাংশ তেল লোহিত সাগর দিয়ে পরিবাহিত হয়। মার্চের শুরুতে তেলের দাম ১১৯ ডলারে উঠলেও পরে তা ৮৭ ডলারে নেমেছিল, কিন্তু আলোচনার অচলাবস্থার খবরে তা আবার ৯২ ডলার ছাড়িয়ে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

সূত্র: ট্রেডিং ভিউ


হরমুজ প্রণালিতে মুখোমুখি দুই পরাশক্তি: ট্রাম্পের নির্দেশে শুরু হলো বড় অভিযান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১২ ১২:১৪:৫৫
হরমুজ প্রণালিতে মুখোমুখি দুই পরাশক্তি: ট্রাম্পের নির্দেশে শুরু হলো বড় অভিযান
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে পেতে রাখা সামুদ্রিক মাইন অপসারণ এবং একটি ‘নিরাপদ জলপথ’ তৈরির লক্ষ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ সেখানে প্রবেশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মূলত বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে উদ্ধার করতেই এই অভিযান শুরু হয়েছে।

তবে তেহরান মার্কিন বাহিনীর এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে সামরিক জাহাজ প্রবেশের চেষ্টার বিরুদ্ধে ‘কঠোর’ হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরুর পর এই প্রথম হরমুজ প্রণালিতে এমন কোনো অভিযানের ঘোষণা দিল ওয়াশিংটন। সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, ‘ইউএসএস ফ্র্যাঙ্ক ই. পিটারসন’ এবং ‘ইউএসএস মাইকেল মারফি’ নামের দুটি যুদ্ধজাহাজ এই মাইন অপসারণ অভিযানে অংশ নিচ্ছে।

ভবিষ্যতে এই অভিযানে পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোনও যুক্ত করা হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পথটি ‘পরিষ্কার করার’ কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিকে ‘জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান’ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার চূড়ান্ত অধিকার কেবল ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের পক্ষ থেকে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে কেবল বেসামরিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে; তবে কোনো সামরিক জাহাজ প্রবেশের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহকারী এই জলপথটিতে নতুন করে যুদ্ধের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: