বাংলাদেশ ইস্যুতে আজ ভারত-আইসিসি বৈঠকে যা থাকছে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১১ ০৯:৫৬:৫৫
বাংলাদেশ ইস্যুতে আজ ভারত-আইসিসি বৈঠকে যা থাকছে
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে না যাওয়ার বিষয়ে যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তা আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর জন্য ব্যক্তিগত ও পেশাগত—উভয় দিক থেকেই এক বড় চ্যালেঞ্জ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ রোববার গুজরাটের বরোদরায় ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার প্রথম ওয়ানডে ম্যাচের ফাঁকে বিসিসিআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন তিনি।

মূলত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশে দলের ভারতে আসতে অনীহার যে তাৎক্ষণিক সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার একটি সম্মানজনক সমাধান খুঁজে বের করাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। বিসিবি ইতিমধ্যেই আইসিসিকে দেওয়া দ্বিতীয় চিঠিতে পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, বিষয়টি এখন আর কেবল লজিস্টিক বা সাধারণ নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি এখন একটি দেশের ‘জাতীয় মর্যাদা’র প্রশ্নে রূপ নিয়েছে।

বিসিবির এই কঠোর অবস্থানের নেপথ্যে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে আইপিএল থেকে তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের অনাকাঙ্ক্ষিত বিদায়ে বিসিসিআইয়ের ভূমিকা। এই ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার ও ক্রিকেট বোর্ড নিরাপত্তা শঙ্কা প্রকাশ করে টুর্নামেন্টের ভেন্যু ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানায়।

যদিও আইসিসি এখন পর্যন্ত বিসিবির এই চিঠির কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর দেয়নি, তবে আজকের বৈঠকে পুরো টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং বিসিবির উত্থাপিত দাবিগুলো নিয়ে গভীর পর্যালোচনা হবে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে যদি ভারতেই খেলতে হয়, তবে বাংলাদেশের দলের প্রতিটি সদস্যের জন্য ‘ম্যান-টু-ম্যান’ বা ব্যক্তিগত পর্যায়ের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে দাবি বিসিবি তুলেছে, তা আইসিসি ও বিসিসিআই কীভাবে সমন্বয় করবে সেটিই এখন মূল দেখার বিষয়।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, জয় শাহর বর্তমান ভূমিকা অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাঁকে এখানে কেবল ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনের একজন শক্তিশালী মুখ হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক ক্রিকেটের একজন নিরপেক্ষ অভিভাবক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে।

বাংলাদেশের শঙ্কার মূলে কী রয়েছে এবং আইসিসির পূর্ববর্তী আশ্বাসগুলো কেন বিসিবির কাছে যথেষ্ট মনে হয়নি, তা চিহ্নিত করা আজকের বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য। জয় শাহকে এমন একটি প্রস্তাব বা পরিকল্পনা দাঁড় করাতে হবে যা বিসিবি সানন্দে গ্রহণ করতে পারে এবং যেখানে বাংলাদেশ কোনো চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে মনে করবে না।

বিশ্বকাপের অখণ্ডতা বজায় রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দলকে টুর্নামেন্টে নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। আজকের এই বৈঠকের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রকৃত ভবিষ্যৎ এবং ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কের গতিপথ।


সুইসদের বিপক্ষে অপরাজেয় রেকর্ডের আত্মবিশ্বাস নিয়ে সেমিফাইনালের লক্ষ্যে মেসিরা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ২০:৪৭:৪৪
সুইসদের বিপক্ষে অপরাজেয় রেকর্ডের আত্মবিশ্বাস নিয়ে সেমিফাইনালের লক্ষ্যে মেসিরা
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের স্মৃতি জড়ানো যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির বিখ্যাত অ্যারোহেড স্টেডিয়ামেই আবারও ফিরছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ওঠার মহাসমীকরণে বা কোয়ার্টার ফাইনালের হাইভোল্টেজ ম্যাচে এই ভেন্যুতেই আলবিসেলেস্তেরা মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের লড়াকু দল সুইজারল্যান্ডের।

ফুটবলীয় ইতিহাস ও পরিসংখ্যান অবশ্য এই দ্বৈরথে স্পষ্ট ব্যবধানে আর্জেন্টিনার পক্ষেই কথা বলছে। কারণ, সুইসদের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ফুটবলের দীর্ঘ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচেই হারের মুখ দেখেনি তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আগামী রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় বিশ্বকাপের শেষ ও চতুর্থ কোয়ার্টার ফাইনালে সেমির টিকিট কাটার লক্ষ্যে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড।

দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের অতীত ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত তারা সর্বমোট সাতটি ম্যাচে একে অপরের বিরুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ম্যাচ ছিল সরাসরি বিশ্বকাপের মঞ্চে—প্রথমটি ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে এবং দ্বিতীয়টি ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিন বা শেষ ষোলোর লড়াইয়ে।

সরাসরি সাতবারের দেখায় পাঁচটিতেই শেষ হাসি হেসেছে আর্জেন্টিনা, আর বাকি দুটি ম্যাচ অমীমাংসিত বা ড্র হয়েছে। আজ থেকে ৬০ বছর আগে ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে সুইজারল্যান্ডকে ২-০ গোলে অনায়াসে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। আর দুই দলের সর্বশেষ স্মরণীয় দেখা হয়েছিল ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে। সেই আসরের রাউন্ড অব সিক্সটিনে ১-০ গোলের নাটকীয় জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটেছিল আলবিসেলেস্তেরা।

ব্রাজিলের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মূল সময়ে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি টাইব্রেকারের দিকে যাচ্ছে, ঠিক তখনই অতিরিক্ত সময়ের ১১৮তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে লিওনেল মেসির জাদুকরী পাস থেকে ডি-বক্সে বল পান আনহেল ডি মারিয়া। নিখুঁত শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে উল্লাসে ভাসিয়েছিলেন তিনি।

এবারের ২০২৬ আসরে আর্জেন্টিনার সেই ট্রফিজয়ী তারকা ডি মারিয়া আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ায় দলে না থাকলেও, বরাবরের মতোই দলকে নেতৃত্ব দিতে আছেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। রাউন্ড অব সিক্সটিনে মিশরের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানের শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ও গোল করে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

এদিকে ফুটবলীয় এক দারুণ সংযোগ হিসেবে, ২০১৪ সালের সেই ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় ম্যাচের তিন ফুটবলার দীর্ঘ ১২ বছর পর আবারও এই বিশ্বকাপে একে অপরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। তাঁরা হলেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি অধিনায়ক লিওনেল মেসি, সুইজারল্যান্ডের বর্তমান অধিনায়ক ও মাঝমাঠের চালিকাশক্তি গ্রানিত জাকা এবং দলটির অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার রিকার্ডো রদ্রিগেজ।

কানসাসের চেনা মাঠে এবারও কি অতীতের সেই অপরাজেয় ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সেমিফাইনালে পা রাখবে আর্জেন্টিনা, নাকি শক্তিশালী বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বধ করে প্রথমবারের মতো জয় তুলে নিয়ে নতুন রূপকথা লিখবে সুইজারল্যান্ড—সেই চূড়ান্ত উত্তর মিলবে অ্যারোহেড স্টেডিয়ামের মাঠের লড়াইয়ে।

/আশিক


মার্কার অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান: গতির বিচারে ক্রীড়াবিজ্ঞানকে বিস্মিত করছেন মেসি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ২০:৩১:০৯
মার্কার অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান: গতির বিচারে ক্রীড়াবিজ্ঞানকে বিস্মিত করছেন মেসি
ছবি : সংগৃহীত

৩৯ বছর বয়সে এসেও বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে লিওনেল মেসির অবিশ্বাস্য ও জাদুকরী পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমী ও ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের স্তম্ভিত করে দিয়েছে। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে যেভাবে তিনি একের পর এক ম্যাচে আলো ছড়াচ্ছেন, তা দেখে অনেকেই তাঁর বয়সকে সংখ্যা ছাড়া আর কিছুই মনে করছেন না; মাঠের গতিতে তাঁকে ২৫ বছর বয়সী কোনো উদ্যমী তরুণের মতোই সাবলীল দেখাচ্ছে। স্প্যানিশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও মেসির এই অসাধারণ শারীরিক ক্ষিপ্রতা ও ম্যাচ ফিটনেসের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন যে, মেসি এখন বিশ্বজুড়ে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য এক জীবন্ত অনুপ্রেরণার নাম।

মেগা এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত মাত্র ৫টি ম্যাচ খেলে ব্যক্তিগত ৮টি গোল করার গৌরব অর্জন করেছেন আর্জেন্টিনার এই প্রাণভ্রমরা। গোল্ডেন বুটের শীর্ষ দৌড়ে থাকা এই ফুটবল জাদুকর শুধু মাঠের ভেতরেই রাজত্ব করছেন না, বরং মাঠের বাইরের চরম সুশৃঙ্খল জীবনযাপন ও নিয়মতান্ত্রিক শৃঙ্খলার কারণেই তিনি বয়সের এই কঠিন বাঁধাকে অনায়াসে জয় করতে সক্ষম হয়েছেন।

অথচ বেশ কিছুদিন আগে, মেসি যখন ইউরোপীয় ফুটবলের পাট চুকিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দিয়েছিলেন, তখন সমালোচকদের অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে মেসির বর্ণিল ক্যারিয়ারের বুঝি গোধূলি লগ্ন শুরু হয়ে গেছে। তবে বর্তমানের বাস্তবতা সেই ধারণাকে পুরোপুরি ভুল প্রমাণ করেছে। আমেরিকার মেজর লিগ সকার (এমএলএস) যে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং শারীরিকভাবে কতটা কঠিন ও চাহিদাপূর্ণ একটি লিগ, তা মেসি মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই বুঝিয়ে দিয়েছেন।

এমএলএস-এর দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর ভ্রমণ সূচি, কৃত্রিম টার্ফে (আর্টিফিশিয়াল টার্ফ) খেলার চ্যালেঞ্জ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈচিত্র্যময় জলবায়ুর বৈরিতা সামলে যেভাবে তিনি নিজেকে সর্বোচ্চ ফিট রেখেছেন, তা তাঁর পেশাদারিত্বের এক পরম উৎকর্ষতা প্রকাশ করে। মায়ামিতে তাঁর সতীর্থ সের্হিও রেগুইলোনও অকপটে স্বীকার করেছেন যে, বিশ্বমঞ্চে মেসির এই দুর্দান্ত ফর্ম পরোক্ষভাবে প্রমাণ করে যে এমএলএস আদতে কতটা মানসম্মত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি ফুটবল লিগ।

ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, মেসির এই অসামান্য ও দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের পেছনে আকস্মিক কোনো জাদুমন্ত্র নেই, বরং রয়েছে বছরের পর বছর ধরে করা কঠোর পরিকল্পনা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা। তাঁর পরিবার, মার্কেটিং পার্টনার এবং বিশেষায়িত যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ দল অত্যন্ত সুচারুভাবে মাঠের বাইরের সব ধরনের মানসিক চাপ ও মিডিয়া হাইপ থেকে তাঁকে দূরে রাখে, যাতে তিনি মাঠে নেমে কেবল শতভাগ ফুটবলেই মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন।

এ ছাড়া, ইন্টার মায়ামি ক্লাব কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ সহায়তায় বছরের শুরুতে সুপরিকল্পিত প্রাক-মৌসুম (প্রি-সিজন) কঠোর প্রশিক্ষণ এবং ফিজিও থেরাপির আধুনিক ও সঠিক ব্যবহার তাঁকে বিশ্বকাপের মতো আসরের জন্য শারীরিকভাবে সর্বোচ্চ চূড়ায় প্রস্তুত হতে সাহায্য করেছে। পাশাপাশি নিজের চিরচেনা খাদ্যভ্যাসে আমূল পরিবর্তন আনার মতো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তগুলোও এখন দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনছে, যা তাঁকে বয়সের ভার থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দিয়েছে।

তাঁর এই বয়সে এসেও শারীরিক সক্ষমতার সবচেয়ে বিস্ময়কর দিকটি আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে তাঁর দৌড়ের গতির নিখুঁত পরিসংখ্যানে। স্প্যানিশ খ্যাতনামা ক্রীড়া পত্রিকা ‘মার্কা’-এর প্রকাশিত ডেটা অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মেসির ক্যারিয়ারের স্বর্ণযুগে তাঁর সর্বোচ্চ গতি যেখানে ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৩২ থেকে ৩৪ কিলোমিটারের কাছাকাছি; সেখানে ৩৯ বছর বয়সে এসে চলমান বিশ্বকাপে তিনি ঘণ্টায় ৩০.৯ কিলোমিটার সর্বোচ্চ গতি তুলেছেন।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের চেয়েও বর্তমান সময়ে এসে তাঁর গতির এই ইতিবাচক পরিবর্তন শারীরবৃত্তীয় দিক থেকে এক রহস্যময় ও অভূতপূর্ব উন্নতি, যা চিকিৎসা ও ক্রীড়াবিজ্ঞানের আধুনিক ইতিহাসেও অত্যন্ত বিরল। আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনিও মনে করেন, মেসি আসলে তাঁর সহজাত সামর্থ্যের সেরা ও বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবহার করছেন এবং তিনি যখনই প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে সুযোগ পান, তখনই মাঠে এক বিধ্বংসী ও অপ্রতিরোধ্য গোলিং মেশিনে পরিণত হন।

চলতি আসরে মেসির এই দুর্দান্ত ও রাজকীয় পথচলা দেখে এখন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে নতুন এক রোমাঞ্চকর প্রশ্ন উঁকি দিতে শুরু করেছে; লিওনেল মেসি কি তবে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপেও আলবিসেলেস্তেদের জার্সিতে মাঠ কাঁপাবেন? ৪৩ বছর বয়সে গিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের রেকর্ড সপ্তম বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন পূরণ করা আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব ও কাল্পনিক মনে হলেও, মেসির সাম্প্রতিক ফর্ম, নিখুঁত ফিটনেস ও ফুটবলের প্রতি প্রবল ইচ্ছাশক্তির কাছে যেকোনো অসম্ভবই যেন সম্ভব হতে পারে।

তিনি নিজে যতদিন না বুটজোড়া তুলে রাখার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, ততদিন পর্যন্ত মাঠের ফুটবলে তাঁকে থামিয়ে দেওয়া কোনো প্রতিপক্ষের ডিফেন্সের পক্ষেই সম্ভব নয়। আপাতত বৈশ্বিক ফুটবলে তাঁর পায়ের জাদুতে মুগ্ধ হওয়ার প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করতে প্রস্তুত পুরো বিশ্ববাসী, কারণ লিওনেল মেসি কেবল একজন ক্ষণজন্মা খেলোয়াড় নন, তিনি ফুটবলের ইতিহাসের এক অমর ও জীবন্ত মহাকাব্য।

সূত্র: মার্কা


মন্তিয়েল বনাম মোলিনা: সুইজারল্যান্ড ম্যাচে রাইটব্যাকে কে পাচ্ছেন সুযোগ?

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ১৯:৩৬:০১
মন্তিয়েল বনাম মোলিনা: সুইজারল্যান্ড ম্যাচে রাইটব্যাকে কে পাচ্ছেন সুযোগ?
ছবি : সংগৃহীত

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনা দলে বড় ধরনের কোনো রদবদল বা আকস্মিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন না দলটির প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। স্থানীয় সময় শুক্রবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করেন যে, শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে যে দলটি জয় এনে দিয়েছিল, সেই উইনিং কম্বিনেশনই তিনি সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও প্রায় অপরিবর্তিত রাখতে পারেন। তবে চূড়ান্ত একাদশের দুটি সুনির্দিষ্ট পজিশন নিয়ে এখনও তাঁর মনে কিছুটা দোলাচল রয়েছে এবং সেই সিদ্ধান্ত ম্যাচের দিনই নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময় আগামী রোববার (১২ জুলাই) সকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসের বিখ্যাত অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর বা নকআউট পর্বের হাইভোল্টেজ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আলবিসেলেস্তেরা।

এই বাঁচা-মরার লড়াইয়ের আগে দলের রণকৌশল নিয়ে প্রধান কোচ স্কালোনি বলেন, “আমি আগেও একই দল একাধিকবার মাঠে নামিয়েছি এবং সফল হয়েছি। এবারও তার ব্যতিক্রম না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কৌশলগত কারণে কিছু ছোটখাটো পরিবর্তন আসতে পারে, তবে আপাতত আগের ম্যাচের স্কোয়াডের কাছাকাছিই থাকছি। মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে আমাদের ছেলেরা অনেক ভালো দিক দেখাতে পেরেছে, যা ধরে রাখা জরুরি।”

স্কালোনির কোচিং স্টাফের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন অনুযায়ী, মিশরের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে নাটকীয় ও বিতর্কিত জয়ের ম্যাচে দল দীর্ঘ সময় পিছিয়ে থাকলেও সামগ্রিকভাবে মাঠের নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্জেন্টিনারই। তারা প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে পর্যাপ্ত গোলের সুযোগ তৈরি করতে পেরেছিল, তবে ফরোয়ার্ডদের ফিনিশিংয়ের চরম ঘাটতি এবং ডিফেন্সের কিছু মারাত্মক রক্ষণাত্মক ভুল ম্যাচটিকে শেষ পর্যন্ত কঠিন করে তোলে। সে কারণেই সুইজারল্যান্ডের লড়াকু দলের বিপক্ষেও একই আক্রমণাত্মক কৌশল ও চেনা কাঠামো ধরে রাখতে চান মাস্টারমাইন্ড স্কালোনি। তবে কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে ম্যাচের একদম শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করেই তিনি খেলোয়াড়দের ফিটনেস দেখে চূড়ান্ত একাদশ ঘোষণা করবেন।

বর্তমানে স্কালোনির সামনে একাদশ সাজানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দুটি প্রশ্ন বা বিকল্প রয়েছে রাইটব্যাক এবং মিডফিল্ড পজিশন নিয়ে। রাইটব্যাক পজিশনে গনসালো মন্তিয়েল ও নাহুয়েল মোলিনার মধ্যে একাদশে জায়গা পাওয়ার তীব্র লড়াই চলছে। অন্যদিকে মাঝমাঠ বা মিডফিল্ডে নিকোলাস গনসালেস জায়গা পেতে পারেন অভিজ্ঞ অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের পরিবর্তে, যদিও টিম ম্যানেজমেন্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ম্যাক অ্যালিস্টারই রেসের দৌড়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন।

সম্ভাব্য পরিবর্তনের তালিকায় থাকা এই দুই ফুটবলারই মিশরের বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত ও ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। আক্রমণভাগে অবশ্য তরুণ তুর্কি জুলিয়ান আলভারেজের জায়গা আপাতত সম্পূর্ণ নিরাপদ বলেই মনে হচ্ছে, যদিও ডাগআউটে থাকা লাউতারো মার্তিনেজের সঙ্গে তাঁর একাদশে থাকার নীরব প্রতিদ্বন্দ্বিতা অব্যাহত রয়েছে।

সব মিলিয়ে নকআউট পর্বের কঠিন সমীকরণে একাদশে বড় ধরনের কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা রদবদলের ঝুঁকি নেবেন না স্কালোনি। কেবল মাঠের প্রয়োজন ও প্রতিপক্ষের শক্তি বিবেচনা করে নির্দিষ্ট কিছু পজিশনে সামান্য পরিবর্তন আনবেন, কারণ নকআউট পর্বে প্রতিটি ক্ষুদ্র সিদ্ধান্তই যেকোনো দলের টুর্নামেন্টের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে কিংবা বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দিতে পারে।

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ

এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (গোলরক্ষক); নাহুয়েল মোলিনা বা গনসালো মন্তিয়েল, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস তালিয়াফিকো; রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার বা নিকোলাস গনসালেস; লিওনেল মেসি (অধিনায়ক) ও জুলিয়ান আলভারেজ।

/আশিক


স্পেন-বেলজিয়াম মহারণ, সেমির টিকিট কার হাতে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১০ ১২:৫২:১৯
স্পেন-বেলজিয়াম মহারণ, সেমির টিকিট কার হাতে
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আজ চোখ থাকবে ইউরোপের দুই শক্তিশালী ফুটবল পরাশক্তি স্পেন ও বেলজিয়ামের লড়াইয়ে। দুই দলের লক্ষ্য একটাই—শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করে শিরোপার আরও এক ধাপ কাছে পৌঁছে যাওয়া। তবে মাঠের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকবে কে, তা নির্ধারণ করবে কৌশল, ধৈর্য, রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা।

এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে স্পেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, টুর্নামেন্টে এখনো একটি গোলও হজম করেনি লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। শেষ ষোলোতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে স্প্যানিশদের। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে বদলি হিসেবে নেমে মিকেল মেরিনোর করা গোলই নিশ্চিত করে স্পেনের জয়।

সেই গোলের পেছনেও ছিল কোচের কৌশলগত সিদ্ধান্তের ছাপ। বদলি হিসেবে মাঠে নামা ফাবিয়ান রুইস ও ফেরান তোরেস আক্রমণ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। ফলে স্পেনের স্কোয়াডের গভীরতাও প্রতিপক্ষের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

তবে স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের আক্রমণ নয়, বরং দুর্ভেদ্য রক্ষণভাগ। পাও কুবারসি, আয়মেরিক লাপোর্তে এবং গোলরক্ষক উনাই সিমন এখন পর্যন্ত প্রতিপক্ষের সব আক্রমণ সফলভাবে ঠেকিয়ে দিয়েছেন। সংগঠিত ডিফেন্স, দ্রুত বল পুনরুদ্ধার এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ স্পেনকে এই বিশ্বকাপের অন্যতম ভারসাম্যপূর্ণ দলে পরিণত করেছে।

অন্যদিকে, বেলজিয়ামও শেষ আটে এসেছে দারুণ এক জয় নিয়ে। শেষ ষোলোতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় রয়েছে রেড ডেভিলরা। ম্যাচে জোড়া গোল করেন চার্লস ডি কেটেলারে, আর বাকি দুই গোল আসে হ্যান্স ভানাকেন ও রোমেলু লুকাকুর পা থেকে।

তবে বেলজিয়ামের যাত্রা খুব একটা মসৃণ ছিল না। গ্রুপ পর্বে মিশর ও ইরানের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছিল দলটিকে। এমনকি নকআউটের আগের ম্যাচেও সেনেগালের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের লড়াইয়ে জয় নিশ্চিত করতে হয়। ফলে আক্রমণভাগ যতটা উজ্জ্বল, রক্ষণে ততটাই অস্থিরতার ইঙ্গিত দেখা গেছে।

ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, ম্যাচে বলের দখল ও খেলার গতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবে স্পেন। বিপরীতে বেলজিয়াম অপেক্ষাকৃত নিচু রক্ষণ গড়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণের কৌশল বেছে নিতে পারে। বিশেষ করে উইঙ্গার জেরেমি ডকুর গতি এবং লুকাকুর ফিনিশিংকে কাজে লাগিয়ে স্পেনের রক্ষণে চাপ তৈরি করার পরিকল্পনা থাকবে তাদের।

এই ম্যাচে দুই দলের কোচের কৌশলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্পেন চাইবে ধৈর্য ধরে ছোট ছোট পাসে খেলা গড়ে তুলতে, আর বেলজিয়াম সুযোগ পেলেই দ্রুতগতির আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চমকে দিতে চাইবে। ফলে ট্যাকটিক্যাল লড়াই, রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা এবং গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর সক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণ করতে পারে।

-রাফসান


আজ মাঠে স্পেন-বেলজিয়াম, জমজমাট ক্রীড়া সূচি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১০ ১০:৩৭:৫৬
আজ মাঠে স্পেন-বেলজিয়াম, জমজমাট ক্রীড়া সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য শুক্রবারের দিনটি হতে যাচ্ছে দারুণ ব্যস্ত। ফুটবল, ক্রিকেট ও টেনিস তিনটি জনপ্রিয় খেলাতেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। তবে দিনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন ও বেলজিয়ামের মুখোমুখি সংঘর্ষ, যেখানে জয়ী দল নিশ্চিত করবে সেমিফাইনালের টিকিট।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির এই লড়াইকে ঘিরে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে তুমুল আগ্রহ। আক্রমণাত্মক ফুটবল, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং কৌশলগত লড়াই সব মিলিয়ে ম্যাচটি হতে পারে এবারের টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দ্বৈরথ। দুই দলই শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামবে এবং একটি ভুলই বদলে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য।

ফুটবলের উত্তেজনার পাশাপাশি ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্যও রয়েছে বিশেষ আয়োজন। ইংল্যান্ড ও ভারতের মধ্যকার নারী টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ শুরু হবে শুক্রবার বিকেলে। দুই শক্তিশালী দলের এই লাল বলের লড়াই আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

টেনিসপ্রেমীদের নজর থাকবে উইম্বলডন চ্যাম্পিয়নশিপের পুরুষ এককের সেমিফাইনালে। বিশ্বের সেরা তারকারা ঘাসের কোর্টে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে লড়াই করবেন। ঐতিহ্যবাহী এই গ্র্যান্ড স্ল্যামের শেষ পর্যায়ের ম্যাচগুলো বরাবরের মতোই রোমাঞ্চে ভরপুর হওয়ার আভাস দিচ্ছে।

একই দিনে ক্রিকেট ও টেনিসের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থাকায় বিশ্বের ক্রীড়াঙ্গনজুড়েই থাকবে ব্যস্ততা ও উত্তেজনা।

আজকের ক্রীড়া সূচি

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ (কোয়ার্টার ফাইনাল)

ফুটবল বিশ্বকাপ এখন শেষ আটের লড়াইয়ে পৌঁছে যাওয়ায় প্রতিটি ম্যাচই শিরোপার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ। স্পেন ও বেলজিয়ামের মতো দুই শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হওয়ায় সমর্থকদের প্রত্যাশাও তুঙ্গে।

স্পেন বনাম বেলজিয়াম

রাত ১:০০টা

বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময় টিভি

নারী টেস্ট ক্রিকেট (প্রথম দিন)

ইংল্যান্ড বনাম ভারত

বিকেল ৪:০০টা

সনি স্পোর্টস ১

উইম্বলডন ২০২৬

পুরুষ এককের সেমিফাইনাল

সন্ধ্যা ৬:০০টা

স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১ ও স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২


৩৪ ম্যাচের অপরাজিত মরক্কোকে বিদায় দিল ফ্রান্স

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১০ ১০:৩৩:২৫
৩৪ ম্যাচের অপরাজিত মরক্কোকে বিদায় দিল ফ্রান্স
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বে দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে দিদিয়ের দেশামের দল। এই জয়ের মাধ্যমে শুধু শেষ চারেই জায়গা করে নেয়নি ফরাসিরা, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলে মরক্কোর টানা ৩৪ ম্যাচের অপরাজিত থাকার অবিশ্বাস্য ধারারও ইতি টেনেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল ফ্রান্স। তবে মরক্কোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনু প্রথমার্ধে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। এমনকি পেনাল্টি থেকেও ফ্রান্সকে গোল করতে দেননি তিনি। তার অসাধারণ দৃঢ়তায় বিরতিতে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই গতি আরও বাড়িয়ে দেয় ফরাসিরা। মিডফিল্ড ও দুই প্রান্ত ব্যবহার করে ধারাবাহিক আক্রমণ চালাতে থাকে তারা। মরক্কোর রক্ষণভাগ দীর্ঘ সময় চাপ সামাল দিলেও শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পের দুর্দান্ত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের সামনে ভেঙে পড়ে।

ম্যাচের অচলাবস্থা ভাঙেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী ও নিখুঁত শট মরক্কোর জালে জড়িয়ে গেলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে ইউরোপের দলটি এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।

দ্বিতীয় গোলেও ছিল এমবাপ্পের গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ডি-বক্সের সামনে চমৎকার পাস বাড়িয়ে দেন তিনি। সেই বল থেকে উসমান দেম্বেলে শট নিলে তা খুব বেশি জোরালো না হলেও মরক্কোর রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে ডান পাশের নিচের কোণা দিয়ে জালে প্রবেশ করে। ব্যবধান ২-০ হওয়ার পর ম্যাচে ফেরার মতো সুযোগ আর তৈরি করতে পারেনি মরক্কো।

মরক্কো অবশ্য পুরো ম্যাচজুড়েই লড়াকু ফুটবল উপহার দেয়। পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার ফরাসি রক্ষণকে ব্যস্ত রাখলেও শেষ মুহূর্তে কার্যকর ফিনিশিংয়ের অভাব তাদের হতাশ করেছে। আফ্রিকার প্রতিনিধিরা বলের জন্য লড়াই করেছে, মাঝমাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়েছে এবং শেষ পর্যন্ত হার না মানা মানসিকতা দেখিয়েছে, কিন্তু ফ্রান্সের অভিজ্ঞতা ও আক্রমণভাগের ধারাল পারফরম্যান্সের সামনে সেটি যথেষ্ট ছিল না।

এই জয়ের মাধ্যমে ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা দৌড়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান আরও স্পষ্ট করল ফ্রান্স। এমবাপ্পে আবারও বড় ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে প্রমাণ করলেন কেন তিনি বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে, হারলেও বিশ্বকাপজুড়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল, শক্তিশালী রক্ষণ এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য মরক্কো সমর্থকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

৩৪ ম্যাচের দীর্ঘ অপরাজিত অভিযানের সমাপ্তি হলেও মরক্কোর এই যাত্রা আফ্রিকান ফুটবলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আর ফ্রান্স এখন তাকিয়ে থাকবে সেমিফাইনালের দিকে, যেখানে আরেকটি জয় তাদের বিশ্বকাপ ফাইনালের আরও কাছে পৌঁছে দিতে পারে।

-রাফসান


ফিফার নতুন নিয়মের সুবিধা নিয়ে সেমিফাইনালের পথে চার পরাশক্তি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ২০:৪২:৪০
ফিফার নতুন নিয়মের সুবিধা নিয়ে সেমিফাইনালের পথে চার পরাশক্তি
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরে পরাশক্তি দেশগুলোর মধ্যকার দ্বৈরথ মানেই বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মাঝে অন্যরকম এক উন্মাদনা। মাঠের এই তীব্র রোমাঞ্চকে টুর্নামেন্টের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ধরে রাখতে এবং শীর্ষ দলগুলোকে প্রতিযোগিতায় দীর্ঘ সময় টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে একটি সম্পূর্ণ নতুন কৌশলগত কাঠামো চালু করেছিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। গত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ফিফা কর্তৃক প্রণীত সেই বিশেষ নিয়মের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও কার্যকারিতা এখন স্পষ্ট রূপ পেয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে।

নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দলকে ড্রয়ের সময় এমন একটি বিশেষ বিন্যাসে সাজানো হয়, যাতে তারা সেমিফাইনালের মঞ্চে পৌঁছানোর আগে কোনোভাবেই মাঠের লড়াইয়ে একে অপরের মুখোমুখি না হতে পারে। এই নিয়মের ফলে গ্রুপ পর্বে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারলে ফেভারিট দলগুলোর জন্য টুর্নামেন্টের ফাইনালের পথ অনেকটাই কণ্টকমুক্ত ও সহজ হয়ে যায়। ড্রয়ের গাণিতিক বিন্যাস অনুসারে, র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দলকে সম্পূর্ণ দুই ভিন্ন অংশে বিভক্ত করা হয়। সে সময়ে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে থাকা স্পেন এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা আর্জেন্টিনাকে ড্রয়ের বিপরীত দুই ভাগে রাখা হয়েছিল। অনুরূপভাবে, র‌্যাঙ্কিংয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডকেও বিপরীত অংশে স্থাপন করা হয়।

তবে ফিফার তৈরি করা এই বিশেষ সুবিধা ভোগ করার পেছনে দলগুলোর জন্য একটি অত্যন্ত কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছিল; চার দলকেই বাধ্যতামূলকভাবে নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন বা গ্রুপসেরা হতে হতো। শেষ পর্যন্ত মাঠের লড়াইয়ে স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড—চারটি দলই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে পা রাখায় ফিফার সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাটি শতভাগ সফল ও কার্যকর হয়েছে। এর ফলে চলমান কোয়ার্টার ফাইনালে এই চার পরাশক্তির কেউই একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে না, বরং প্রত্যেকেই পেয়েছে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপক্ষ। শেষ আটের সমীকরণে এখন স্পেনের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা লড়বে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে, ফ্রান্সের সামনে আফ্রিকার একমাত্র প্রতিনিধি মরক্কো এবং ইংল্যান্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে নামবে নরওয়ে।

টুর্নামেন্টের একদম শুরুর দিকেই বড় দলগুলোর পারস্পরিক বিদায় বা ছিটকে যাওয়া এড়ানো এবং শেষ দিকে দর্শকদের আরও আকর্ষণীয় ও হাইভোল্টেজ ম্যাচ উপহার দেওয়ার লক্ষ্যেই মূলত সিডিংয়ের এই আধুনিক পদ্ধতিটি ফুটবলে যুক্ত করেছে ফিফা। ফুটবলের জন্য এটি নতুন মনে হলেও, একই ধরনের ‘সিডিং’ বা বাছাই পদ্ধতি লন টেনিসের উইম্বলডনসহ বিভিন্ন গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্ট এবং ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন ফরম্যাটের ড্রয়ে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে ব্যবহার হয়ে আসছে। এমনকি গত গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপেও এই র‌্যাঙ্কিংভিত্তিক কাঠামোটি পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল, যে আসরের ফাইনালে প্যারিস সেন্ট জার্মেইকে (পিএসজি) পরাস্ত করে শিরোপা জিতেছিল চেলসি।

বর্তমান ফুটবলীয় পরিসংখ্যান ও মাঠের শক্তিমত্তার বিচারে কোয়ার্টার ফাইনালের চারটি ম্যাচেই স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডকে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রাখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। সুপারকম্পিউটারের গাণিতিক হিসাব এবং বিশেষজ্ঞদের অনুমান সত্যি করে এই চার দল যদি নিজ নিজ ম্যাচে জয়ী হতে পারে, তবে সেমিফাইনালের মঞ্চে ফুটবলপ্রেমীরা ইতিহাসের অন্যতম সেরা দুটি পরাশক্তি লড়াই উপভোগ করতে পারবেন; যার এক পাশে থাকবে স্পেন বনাম ফ্রান্স এবং অন্য পাশে লড়বে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। তবে ফুটবলের আকর্ষণ বাড়ানোর এই নিয়মের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে নতুন বিতর্কেরও জন্ম হয়েছে।

বিশ্ব ফুটবলের প্রভাবশালী ও বড় দলগুলোকে সুবিধা পাইয়ে দিতে ফিফা সবসময় অতিরিক্ত পক্ষপাতিত্ব করে—এমন পুরোনো অভিযোগ এই নিয়মের কারণে আরও জোরালো হয়েছে। আর সেই চলমান বিতর্কের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার মাঠের কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও রেফারিং বিতর্ক।

/আশিক


অপ্টার সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস: বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠছে চার পরাশক্তি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ২০:২৩:৫৫
অপ্টার সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস: বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠছে চার পরাশক্তি
ছবি : সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মঞ্চ এখন সেমিফাইনালে ওঠার জমজমাট শেষ আটের লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালের এই টানটান উত্তেজনার মধ্যেই ফুটবলভিত্তিক নামী পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ‘অপ্টা’ তাদের শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারের সর্বশেষ গাণিতিক পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন ফুটবলীয় চলক ও ডেটা বিশ্লেষণ করে তৈরিকৃত এই মডেলে টুর্নামেন্টের শেষ চারে ওঠার দৌড়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রাখা হয়েছে বিশ্ব ফুটবলের চার পরাশক্তি—ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে।

চলতি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া দলগুলোর ভৌগোলিক বিন্যাসে ইউরোপের একচ্ছত্র আধিপত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শেষ আটের আটটি দলগুলোর মধ্যে ছয়টিই এসেছে ইউরোপ মহাদেশ থেকে, যার মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড। বাকি দুটি টিকিটের একটি ধরে রেখেছে দক্ষিণ আমেরিকার একমাত্র প্রতিনিধি আর্জেন্টিনা এবং অপরটি রয়েছে আফ্রিকার ফুটবল ইতিহাসের গৌরব ও একমাত্র প্রতিনিধি মরক্কোর পকেটে।

বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অপ্টা জানিয়েছে, তাদের সুপারকম্পিউটারটি প্রায় ১০ হাজার পৃথক সিমুলেশন বা কৃত্রিম ম্যাচ পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিটি কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের এই সম্ভাব্য ফলাফল ও পরিসংখ্যান নির্ধারণ করেছে। এই গাণিতিক পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে দলগুলোর সাম্প্রতিক মাঠের পারফর্ম্যান্স, স্কোয়াডে থাকা খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ফর্ম ও পরিসংখ্যান এবং দলগুলোর অতীত ঐতিহাসিক রেকর্ডকে অন্যতম প্রধান নিয়ামক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

সুপারকম্পিউটারের এই পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে আফ্রিকান দল মরক্কোর জয় পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কম। ফরাসিদের সেমিফাইনালের টিকিট কাটার সম্ভাবনা যেখানে আকাশচুম্বী ৭২ দশমিক ১০ শতাংশ ধরা হয়েছে, সেখানে মরক্কোর শেষ চারে যাওয়ার সম্ভাবনা আটকে রয়েছে মাত্র ২৭ দশমিক ৯০ শতাংশে। একইভাবে স্পেন বনাম বেলজিয়ামের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচেও সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে স্পষ্ট ও ফেভারিট দল হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হিসাবে স্পেনের সেমিফাইনালে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা ৭০ দশমিক ৭২ শতাংশ, আর বিপরীতে বেলজিয়ামের ভাগ্য অনুকূলে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ২৯ দশমিক ২৮ শতাংশ।

অপর দুটি কোয়ার্টার ফাইনালের ক্ষেত্রেও পরিসংখ্যানের পাল্লা হেলে রয়েছে ফেভারিটদের দিকেই। ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ের মধ্যকার দ্বৈরথে থ্রি-লায়ন্সদের শেষ চারে ওঠার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে ৬১ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং আর্লিং হালান্ডের নরওয়ের সম্ভাবনা ৩৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অন্যদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার শেষ আটের লড়াইয়ে লিওনেল মেসিদের শেষ চারে যাওয়ার সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৬৩ দশমিক ৬২ শতাংশ, যার বিপরীতে সুইসদের জয়ের গাণিতিক সম্ভাবনা কেবল ৩৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

উল্লেখ্য, এর আগে টুর্নামেন্টের শেষ ষোলোর বা নকআউট পর্বের প্রথম ধাপের পূর্বাভাস প্রদানের ক্ষেত্রেও ব্যাপক সফলতার পরিচয় দিয়েছিল অপ্টার এই বিশেষ প্রযুক্তি। নকআউট পর্বের প্রথম রাউন্ডের ১৬টি ম্যাচের মধ্যে ১৪টি ম্যাচেরই সম্ভাব্য বিজয়ী দল কে হতে যাচ্ছে, তা নিখুঁত ও সঠিকভাবে অনুমান করতে পেরেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এর বাইরে শেষ ষোলোর আটটি ম্যাচের মধ্যে ছয়টি ম্যাচের অবিকল ম্যাচের ফলাফলও তাদের পূর্বের পূর্বাভাসের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছিল।

অপ্টার এই জটিল গাণিতিক বিশ্লেষণের পাশাপাশি ব্রাজিলের জনপ্রিয় ও প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’-এর ফুটবল বিশ্লেষণভিত্তিক বিখ্যাত টুল ‘ক্রিস্টাল বল’-ও কোয়ার্টার ফাইনালের সম্ভাব্য ফল নিয়ে নিজস্ব মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে। ব্রাজিলীয় এই কৃত্রিম টুলের মূল্যায়নেও দেখা গেছে যে, ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনা নিজ নিজ ম্যাচে প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে এগিয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে এই দুই পরাশক্তি পুনরায় মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাকেও তারা উড়িয়ে দিচ্ছে না। ক্রিস্টাল বলের নিখুঁত হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালের পর ২০২৬ সালের মেগা ফাইনালেও ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার আবারও দেখা হওয়ার একটি গাণিতিক সম্ভাবনা রয়েছে, যার হার প্রায় ১০ দশমিক ৫ শতাংশ।

পরিসংখ্যানের বাইরে মাঠের পারফর্ম্যান্সেও চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত ও আক্রমণাত্মক ছন্দে রয়েছে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা দল। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া সব দলের মধ্যে এই দুটি দলই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৪টি করে গোল করার গৌরব অর্জন করেছে। পাশাপাশি চলতি আসরের ব্যক্তিগত গোলদাতার তালিকায় ৮টি গোল নিয়ে এককভাবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন আর্জেন্টিনার জাদুকর লিওনেল মেসি। গোল্ডেন বুটের এই লড়াইয়ে তাঁর ঠিক পেছনেই ৭টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে ঘাড়ের ওপর নিশ্বাস ফেলছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড।

/আশিক


বিশ্বকাপ ফাইনালে তারকাদের মহাউৎসব, জানুন বিস্তারিত

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ১১:৩৬:৩৬
বিশ্বকাপ ফাইনালে তারকাদের মহাউৎসব, জানুন বিস্তারিত
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল শুধু শিরোপা নির্ধারণের ম্যাচ হিসেবেই নয়, বিনোদনের দিক থেকেও ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। ফুটবল বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদ্‌যাপনের আবহে এবার প্রথমবারের মতো ফাইনালের বিরতিতে আয়োজন করা হচ্ছে সুপার বোলের আদলে বিশেষ হাফটাইম শো। ফিফার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে বিশ্বের জনপ্রিয় কয়েকজন সংগীত তারকা একই মঞ্চে পারফর্ম করবেন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

আগামী ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ফাইনাল ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষে নির্ধারিত ১১ মিনিটের বিশেষ পরিবেশনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে আন্তর্জাতিক পপ তারকা শাকিরা, জাস্টিন বিবার, ম্যাডোনা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড বিটিএস-এর। ফুটবল ও সংগীত—দুই ভুবনের সবচেয়ে বড় তারকাদের একত্রে দেখা যাবে বলে ইতোমধ্যেই ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ফিফা জানিয়েছে, এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য কেবল দর্শকদের বিনোদন দেওয়া নয়; বরং ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন শিক্ষা তহবিলের জন্য অর্থ সংগ্রহ করাও এর অন্যতম লক্ষ্য। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষায় সহায়তার জন্য ১০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

হাফটাইম শোকে আরও বর্ণাঢ্য করে তুলতে থাকছেন আফ্রিকার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বার্না বয়, ভেনেজুয়েলার বিশ্বখ্যাত অর্কেস্ট্রা পরিচালক গুস্তাভো দুদামেল, ব্রিটিশ ব্যান্ড কোল্ডপ্লে-এর সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত পিএস বাইশ কোরাস এবং শিশুদের জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান সিসেমি স্ট্রিট-এর বহুল পরিচিত মাপেট চরিত্রগুলো। ফলে এই পরিবেশনা সব বয়সী দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষ এই আয়োজনের সৃজনশীল পরিকল্পনার দায়িত্ব পালন করছেন কোল্ডপ্লে-এর প্রধান গায়ক ক্রিস মার্টিন। ফিফার সঙ্গে যৌথভাবে তিনি এমন একটি বৈশ্বিক মঞ্চ তৈরি করতে কাজ করছেন, যেখানে ফুটবল, সংগীত এবং মানবিক উদ্যোগ একসঙ্গে মিলিত হবে।

এ আয়োজন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন কানাডিয়ান পপ তারকা জাস্টিন বিবার। তিনি বলেন, “ফিফা বিশ্বকাপ এমন একটি আয়োজন, যা পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষকে একই আবেগে একত্রিত করতে পারে। খুব কম বৈশ্বিক আয়োজনেরই এমন শক্তি রয়েছে।”

স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে ‘Justice World Tour’ বাতিল করার পর চলতি বছরের বসন্তে ক্যালিফোর্নিয়ার কোচেলা মিউজিক ফেস্টিভ্যালে মঞ্চে ফেরেন বিবার। গত চার বছরে সেটিই ছিল তার সবচেয়ে বড় লাইভ পারফরম্যান্স। বিশ্বকাপের ফাইনালে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি আবারও বৈশ্বিক দর্শকের সামনে হাজির হতে যাচ্ছেন।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও দর্শকদের মাতিয়েছিলেন শাকিরা ও বার্না বয়। তাদের পরিবেশিত অফিসিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’ টুর্নামেন্টজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং বিভিন্ন স্টেডিয়ামে নিয়মিত বাজানো হচ্ছে। ফাইনালের মঞ্চেও তারা নতুন চমক নিয়ে হাজির হতে পারেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনা চলছে।

অন্যদিকে মাঠের লড়াইও এখন পৌঁছে গেছে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে। কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও মরক্কো, স্পেন ও বেলজিয়াম, নরওয়ে ও ইংল্যান্ড, এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা খেলবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। চারটি ম্যাচ থেকেই নির্ধারিত হবে বিশ্বকাপের শেষ চারের লড়াই।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। শেষ ষোলোর পর গোলদাতার তালিকার শীর্ষে থাকা এই মহাতারকার গোলসংখ্যা এখন ৮। তার ঠিক পেছনে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ড, দুজনেরই গোল ৭টি। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন করেছেন ৬ গোল।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল হবে শুধু ফুটবলের নয়, বৈশ্বিক বিনোদন জগতেরও অন্যতম বড় আয়োজন। বিশ্বসেরা ফুটবলারদের লড়াইয়ের পাশাপাশি শাকিরা, ম্যাডোনা, জাস্টিন বিবার, বিটিএস এবং আরও অনেক তারকার অংশগ্রহণে এই হাফটাইম শো বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে। ফুটবল, সংগীত ও মানবিক উদ্যোগের এই অনন্য সমন্বয় কোটি কোটি দর্শকের জন্য স্মরণীয় এক বৈশ্বিক উৎসবে পরিণত হবে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: