সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় বাধা নিয়ে ইসির শঙ্কা প্রকাশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১৭:০৪:১০
সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় বাধা নিয়ে ইসির শঙ্কা প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ শতাংশ অস্ত্র এবং ৩০ শতাংশ গুলি এখনো নিখোঁজ রয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা না গেলে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেলের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।

নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ জানান, নির্বাচনের সময় দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ অস্ত্রের প্রবেশ ঠেকাতে বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ব্যবহার করে যাতে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী অস্ত্রের ঝনঝনানি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য নির্বাচনের আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো সম্পূর্ণ ‘সিল’ করে দেওয়া হবে। একই সাথে সীমান্ত এলাকাগুলোতেও কড়া নজরদারি ও সিল করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দেশজুড়ে চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়ানো হবে এবং সাড়াঁশি অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সভায় নির্বাচন কমিশনার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একটি বিশেষ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “এক এলাকার সন্ত্রাসীরা যাতে অন্য এলাকায় গিয়ে নিরাপদ আশ্রয় নিতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে।” সন্ত্রাসীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে কোনো ধরনের অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি বরদাশত করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়।


গণহত্যার বিচার শুরু: কাঠগড়ায় সালমান-আনিসুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১২:৪২:১৯
গণহত্যার বিচার শুরু: কাঠগড়ায় সালমান-আনিসুল
প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ফাইল ফটো

চব্বিশের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় কারফিউ জারি করে আন্দোলন দমন এবং হত্যার উসকানি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আজ থেকে আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারিক প্যানেলে এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য ইতোমধ্যেই তাদের কারাগারে থেকে আদালতে আনা হয়েছে। এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

প্রসিকিউশন তাদের বক্তব্যে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছে যে, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের উত্তাল সময়ে আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট ফোনালাপ হয়েছিল। সেই ফোনালাপে আন্দোলন দমনে কঠোর কারফিউ জারি এবং নিরীহ ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে মিথ্যা মামলা দেওয়ার নীলনকশা তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। মানবতাবিরোধী এই অপরাধের মামলায় মোট ২৮ জন সাক্ষী রয়েছেন, যাদের জবানবন্দির মাধ্যমেই ঘটনার ভয়াবহতা উঠে আসবে। একই ট্রাইব্যুনালে আজ কল্যাণপুরের জাহাজবাড়িতে নয়জন যুবককে পরিকল্পিতভাবে জঙ্গি সাজিয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা অন্য একটি মামলারও গুরুত্বপূর্ণ শুনানি রয়েছে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সাফাই সাক্ষীকে জেরা করবে প্রসিকিউশন। আজকের শুনানির জন্য সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের পাশাপাশি হাসানুল হক ইনুকেও ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট গ্রেপ্তারের পর থেকেই সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক কারাগারে অন্তরীণ আছেন। জুলাই-আগস্টের এই গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডের বিচারের দিকে এখন সারা দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে।

/আশিক


সচিবালয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূতের চমক: প্রধানমন্ত্রীর হাতে যুবরাজের বিশেষ বার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১২:২৫:০৪
সচিবালয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূতের চমক: প্রধানমন্ত্রীর হাতে যুবরাজের বিশেষ বার্তা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সরকার গঠন ও দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান সৌদি রাষ্ট্রদূত। এ সময় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পক্ষ থেকে পাঠানো বিশেষ অভিনন্দন বার্তাও প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন তিনি।

সাক্ষাতকালে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ের এই বৈঠকে সৌদি আরব ও বাংলাদেশের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সৌদি রাষ্ট্রদূত গুরুত্বারোপ করেন। মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার, বিনিয়োগ এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও তাদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে, সকাল ৯টার দিকে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নিজের কার্যালয়ে অফিস করতে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সরকারি কাজের গতিশীলতা ফেরাতে নিয়মিত সচিবালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী। সৌদি রাষ্ট্রদূতের এই সফর নতুন সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন ও বন্ধুত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

/আশিক


অস্বাভাবিক ব্যয়ের কবলে নতুন দুই মেট্রো রেল: খরচের অঙ্ক আগের চেয়েও দ্বিগুণ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ০৯:১২:২৭
অস্বাভাবিক ব্যয়ের কবলে নতুন দুই মেট্রো রেল: খরচের অঙ্ক আগের চেয়েও দ্বিগুণ
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরা-মতিঝিল মেট্রো রেল নির্মাণে যে ব্যয় হয়েছিল, নতুন দুটি পথে তা দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রো রেল নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে যেখানে ১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল, সেখানে নতুন দুই পথে খরচ দাঁড়াচ্ছে কিলোমিটারে ৩ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত নতুন দুই মেট্রো রেল পথে মোট ব্যয়ের প্রাক্কলন দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এই বিপুল ব্যয় ও ঋণের বোঝা মেট্রো রেল নির্মাণকেই বড় ধরণের অনিশ্চয়তার মুখে ফেলছে।

অন্তর্বর্তী সরকার এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও, এখন নির্বাচিত বিএনপি সরকারের ওপর এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ভার পড়েছে। নির্মাণকাজ শুরুর অপেক্ষায় থাকা এই দুটি পথের একটি হলো এমআরটি লাইন-১ (কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর এবং নর্দ্দা থেকে পূর্বাচল), যার দৈর্ঘ্য ৩১ কিলোমিটারের বেশি। অন্যটি হলো এমআরটি লাইন-৫ উত্তর (সাভারের হেমায়েতপুর থেকে মিরপুর ও গুলশান হয়ে ভাটারা), যার দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ কিলোমিটার।

বিশ্লেষকদের মতে, মেট্রো রেল নির্মাণে এত বেশি ব্যয়ের প্রধান কারণ হলো দরপত্রে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুযোগ কম থাকা। বর্তমানে প্রতিযোগিতা শুধু জাপানি ঠিকাদারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় খরচ অস্বাভাবিক বাড়ছে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদও জানিয়েছেন যে, প্রকল্পের অর্থায়নে জাপানি ঋণদাতা সংস্থা জাইকা বেশ কিছু প্রকৌশলগত শর্ত জুড়ে দেওয়ায় ঠিকাদার নিয়োগে প্রতিযোগিতা কমে গেছে।

২০১৯ সালে এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা ধরা হলেও ঠিকাদারদের প্রস্তাবিত দর অনুযায়ী তা এখন ৯৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে লাইন-৫ প্রকল্পের প্রাক্কলন ছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা, যা বর্তমানে ৮৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছানোর উপক্রম হয়েছে। অথচ প্রতিবেশী দেশ ভারতে জমি অধিগ্রহণ ও বেতন বাদে প্রতি কিলোমিটার মেট্রো রেল নির্মাণে খরচ হয় মাত্র ১৫০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকা। ভারতও বিদেশি ঋণে প্রকল্প করে, কিন্তু তারা এমন কোনো শর্ত মানে না যা ঠিকাদার নিয়োগে প্রতিযোগিতা নষ্ট করে।

ডিএমটিসিএল কর্মকর্তারা দুটি প্যাকেজে ঠিকাদারদের অস্বাভাবিক দর প্রস্তাবের পেছনে ‘যোগসাজশের’ সন্দেহ করছেন। গত বছরের জুনে কচুক্ষেত থেকে ভাটারা অংশের দরপত্র খোলা হলে দেখা যায়, প্রাক্কলিত ব্যয় ৩ হাজার ৯৬৮ কোটি টাকার বিপরীতে জাপানের তাইসি ও দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং (যৌথ) প্রায় ১৫ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা দর হাঁকিয়েছে, যা প্রাক্কলিত ব্যয়ের তুলনায় ৩৯১ দশমিক ৩১ শতাংশ বেশি।

টাকার অঙ্কে এখানে বাড়তি ব্যয় হবে ১১ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। জাইকার শর্তানুযায়ী ঠিকাদারের দরে ভুল না থাকলে সর্বনিম্ন দরদাতাই কাজ পাবে, কিন্তু অস্বাভাবিক দরের কারণে ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ এই প্রস্তাব গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাইকা এই বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি অবগত থাকলেও তাদের ক্রয়সংক্রান্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

উত্তরা থেকে মতিঝিল পথে চলাচলকারী মেট্রো রেল থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আয় হলেও ২০৩০-৩১ সাল পর্যন্ত বছরে ঋণের কিস্তি হিসেবে ৪৬৫ কোটি থেকে ৭৪০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে প্রকল্প দুটির ভবিষ্যৎ ও ব্যয় কমানোর উপায় জানতে চেয়ে গত জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনে চিঠি দিয়েছে ডিএমটিসিএল।

বুয়েটের অধ্যাপক সামছুল হকের মতে, এমন বিপুল ব্যয়ে মেগা প্রকল্প করলে বাংলাদেশ দেউলিয়া হয়ে যাবে। তাই নতুন সরকারের প্রধান কাজ হওয়া উচিত ঋণের শর্ত পরিবর্তন করে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা। এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মেট্রো রেলের পাশাপাশি মনোরেল চালু করা হবে। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এখন দেখার বিষয়—তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এই বিশাল ব্যয়ের প্রকল্প নিয়ে কী ধরণের নীতি গ্রহণ করে।

সৌজন্যে : প্রথম আলো


ববি হাজ্জাজের মাস্টারপ্ল্যান: শিক্ষাক্রমে আসছে তৃতীয় ভাষা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ২২:০৭:৪৫
ববি হাজ্জাজের মাস্টারপ্ল্যান: শিক্ষাক্রমে আসছে তৃতীয় ভাষা
ছবি : সংগৃহীত

সরকার বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি একটি বিদেশি ভাষাকে তৃতীয় ভাষা হিসেবে ধাপে ধাপে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই বড় পরিকল্পনার কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার ও উচ্চশিক্ষার বৈশ্বিক চাহিদা বিবেচনায় রেখে আরবি, চীনা, জাপানি বা ফরাসি ভাষাগুলোকে শিক্ষাক্রমের তালিকায় পর্যায়ক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা করা হচ্ছে। এটি শিক্ষার্থীদের বহুভাষিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

ববি হাজ্জাজ তাঁর বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, আমরা নতুনভাবে গণতন্ত্রের পদযাত্রায় উত্তীর্ণ হয়েছি এবং দীর্ঘ দুই দশক পর আপনাদের সঙ্গে নতুন করে স্বাধীনতা উপভোগ করছি। এই নতুন যাত্রায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ভাষা শিক্ষাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সবার আগে মাতৃভাষা অর্থাৎ বাংলা ভাষা সঠিক ও সুন্দরভাবে শিখতে হবে। ভাষা শিক্ষার মান বা মাত্রাকে বিশ্বমাপের করতে হবে যাতে আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি দেশ, জাতি এবং ভাষার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে কোনো ধরণের কুরাজনীতি পছন্দ করে না। আমাদের সকলের ওপর পবিত্র দায়িত্ব আছে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করার। একই সঙ্গে দেশের দীর্ঘদিনের ইতিহাস ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে রক্ষা করার জন্য কাজ করে যেতে হবে। শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন পরিবর্তন আনতে চান যেখানে মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটবে। ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

/আশিক


জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের তারিখ ঘোষণা করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ২২:০৩:২১
জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের তারিখ ঘোষণা করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ১২ মার্চ অথবা এর দুই-এক দিন আগেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম ঐতিহাসিক অধিবেশন বসতে যাচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নবনির্বাচিত সংসদের এই প্রথম অধিবেশনে প্রধান কাজ হবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা। এছাড়া এই অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ এবং প্রথা অনুযায়ী শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। রাষ্ট্রপতির আহ্বানে এই অধিবেশন শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের নতুন পথচলা শুরু হতে যাচ্ছে।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংসদীয় দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের (এমপি) গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এই অধিবেশন আহ্বান করবেন।

উল্লেখ্য, বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে, পুরোনো সংসদের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন সংসদের অধিবেশন বসা নিয়ে কিছুটা সময় লাগত। যেমন দ্বাদশ সংসদের সদস্যরা ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি শপথ নিলেও প্রথম অধিবেশন বসেছিল ৩০ জানুয়ারি, কারণ একাদশ সংসদের মেয়াদ শেষ হয়েছিল ওই বছরের ২৯ জানুয়ারি। তবে এবার পূর্ববর্তী কোনো কার্যকর সংসদ না থাকায় অধিবেশন শুরু করতে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ২৯৭টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তাদের জোটের তিন শরিক দল আরও তিনটি আসনে বিজয়ী হয়েছে এবং ফলাফল স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরাই এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পেয়ে সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাদের ১১ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসনে জয়ী হয়েছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন, যারা মূলত বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে পরিচিত।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নৌবাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১৯:০১:৫৫
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নৌবাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান। আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে নৌবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের এক পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। দুই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

নৌবাহিনীর ওই পোস্টে আরো বলা হয়, সাক্ষাৎকালে দেশের জলসীমার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সুনীল অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা কাজে লাগানো, সমুদ্রসম্পদ রক্ষা এবং বিশেষ করে নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পেশাদারি মনোভাব, দেশপ্রেম এবং সমুদ্রসীমা সুরক্ষায় তাদের নিরলস প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, একটি শক্তিশালী নৌবাহিনী দেশের অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।

বাংলাদেশের জলসীমা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ। ‘শান্তিতে ও সংগ্রামে, সমুদ্রে, দুর্জয়’—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে নৌবাহিনী দেশের সমুদ্রসীমার অতন্দ্র প্রহরীর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই ইতিবাচক মনোভাব নৌবাহিনীর সকল স্তরের সদস্যদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/আশিক


ভয়ভীতিমুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ গড়ার অঙ্গীকার করলেন জহির উদ্দিন স্বপন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১৭:২৯:১২
ভয়ভীতিমুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ গড়ার অঙ্গীকার করলেন জহির উদ্দিন স্বপন
ছবি : সংগৃহীত

ভয়ভীতিমুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ বাংলাদেশে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হলো সরকারের সকল পরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরা। তবে এটি একার পক্ষে সম্ভব নয়; এ কাজে গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, কোনো পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন হবে না, যদি গণমাধ্যমকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করতে না দেওয়া হয়। সে কারণেই তিনি গণমাধ্যমের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন এবং গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়াকে নিজের প্রধান কর্তব্য বলে মনে করেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, একটি দেশে স্বাধীন গণমাধ্যম না থাকলে সেখানে গণতন্ত্র কখনোই টেকসই হতে পারে না। আবার জবাবদিহিতা ছাড়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও পূর্ণতা পায় না। সেই কারণেই সরকার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমের প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সাংবাদিকতাকে একটি স্বতন্ত্র পেশা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো সমস্যা বা সংকট সাংবাদিকতার নিজস্ব কাঠামো ও নীতিমালার মধ্যেই সমাধান হওয়া উচিত। অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক বা মন্ত্রণালয়ভিত্তিক হস্তক্ষেপ পেশাগত স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে বিধায় তিনি এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে গণমাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং ওয়েজ বোর্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সময়োপযোগী করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজও বাস্তবায়ন করা হবে এবং আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে সরকারের পরিকল্পনার অগ্রগতি জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নদীর জোয়ার-ভাটার পানি কৃষকের জমিতে পৌঁছে দিতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের বিশাল পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া পায়রা বন্দরকে রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে ভাঙ্গা থেকে পায়রা পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে। ভোলার গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহ নিয়ে তিনি জানান, ভোলা-বরিশাল সেতু ও গ্যাস সরবরাহ নেটওয়ার্ক একসঙ্গে পরিকল্পনা করা হচ্ছে এবং কুয়াকাটাকে একটি আধুনিক বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে, যা শিগগিরই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নির্ধারণ করে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হবে। নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে 'পরিবার কার্ড' কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী দেশে প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবার রয়েছে। প্রতিটি পরিবারে একজন নারী সদস্য এই কার্ডের মালিক হবেন এবং প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে যা পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করা হবে। বেকারত্ব সমস্যা সমাধানকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে কর্মসংস্থানের মানচিত্র তৈরি করতে হবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনে তরুণদের কর্মমুখী করে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

/আশিক


রমজানেই ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সুখবর: তৃতীয় কর্মদিবসেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা তারেক রহমানের

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১৬:২৮:৪৩
রমজানেই ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সুখবর: তৃতীয় কর্মদিবসেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা তারেক রহমানের
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা নিয়ে ব্রিফিং। ছবি : কালবেলা

নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা দেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। তবে এই সম্মানী ভাতার পরিমাণ ঠিক কত টাকা হবে, তা এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করেনি সরকার। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই দেশের কয়েকটি এলাকায় এই কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করবে বলে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে জানানো হয়েছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গেটে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে পাশে রেখে মাহদী আমিন জানান, নির্বাচনের আগে বিএনপির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল দেশের প্রতিটি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের ধর্মগুরুদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানি ভাতা প্রদান করা। ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকার ঈদুল ফিতরের আগেই প্রাথমিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি প্রান্তে এই সেবা চালু করা হবে।

সম্মানী ভাতার পরিমাণ কত হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন জানান, বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে কাজ চলছে এবং শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে ভাতার অংক চূড়ান্ত করা হবে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, আজ ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় কর্মদিবস। নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি আজ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।

সালেহ শিবলী আরও জানান, আজ তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অফিস করেছেন তারেক রহমান। কার্যালয়ে প্রবেশের আগে তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের ব্রিফ করেন এবং অনেক পুরাতন কর্মজীবীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা আজ নিজ নিজ দপ্তরের পলিসি কার্যক্রম নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মতৎপরতা থেকে স্পষ্ট যে, সরকার জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

/আশিক


যেদিন থেকে শুরু ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম, জানালেন তথ্য মন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১৩:৩৯:৩৫
যেদিন থেকে শুরু ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম, জানালেন তথ্য মন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চলতি মাস থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে এই কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে এতে অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা যুক্ত করা হবে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।

মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করা হচ্ছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত পরিকল্পনার উল্লেখ করে বলেন, উন্নয়ন কাঠামোর কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে পশ্চাৎপদ ও প্রান্তিক নারীদের। তাদের আর্থিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই অগ্রগতি সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। প্রতিটি পরিবারের নারী সদস্যকেই এই কার্ডের মালিক হিসেবে বিবেচনা করা হবে, যাতে পারিবারিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় নারীর সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। শুরুতে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ সহায়তা দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে খাদ্য সহায়তা, স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা ভর্তুকি ও কর্মসংস্থান সহায়তা যুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ। তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এসব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন এবং সাংবাদিকদের জন্য ওয়েজবোর্ড হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

-রফিক

পাঠকের মতামত: