দৈনিক এনএভিতে কী বার্তা পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১৩:১০:৩৯
দৈনিক এনএভিতে কী বার্তা পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিপুলসংখ্যক মিউচুয়াল ফান্ড ৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কার্যক্রম শেষে তাদের দৈনিক নিট সম্পদ মূল্য বা এনএভি প্রকাশ করেছে। এই আপডেটগুলো সামগ্রিকভাবে বাজারের বর্তমান চাপ, শেয়ারদরের দুর্বলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পদের অন্তর্নিহিত শক্তির একটি স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছে। ঘোষিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ ফান্ডের ইউনিটপ্রতি এনএভি বর্তমানে ফেস ভ্যালু ১০ টাকার নিচে অবস্থান করলেও কস্ট প্রাইসের ভিত্তিতে এনএভি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি রয়েছে।

বাজারদরের ভিত্তিতে এনএভি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অনেক ফান্ডেই ইউনিটপ্রতি মূল্য ৬ থেকে ৯ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। এটি মূলত সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে সূচকের পতন, বড় শেয়ারে বিক্রির চাপ এবং বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতার প্রতিফলন। বাজারদরের এই দুর্বলতা ফান্ডগুলোর অন্তর্নিহিত সম্পদের মান খারাপ হওয়ার ইঙ্গিত নয়; বরং এটি স্বল্পমেয়াদি বাজার বাস্তবতার ফল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে, কস্ট প্রাইসের ভিত্তিতে এনএভি প্রায় সব ফান্ডেই ১১ থেকে ১২ টাকার ওপরে রয়েছে, কোথাও কোথাও তা আরও বেশি। এর অর্থ হলো, ফান্ডগুলোর পোর্টফোলিওতে থাকা শেয়ার, বন্ড ও অন্যান্য আর্থিক সম্পদ দীর্ঘমেয়াদি হিসেবে এখনও লাভজনক অবস্থানে রয়েছে। বাজার স্বাভাবিক হলে এই ব্যবধান কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ইউনিটহোল্ডারদের জন্য ভবিষ্যতে মূল্য পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেয়।

মোট নিট সম্পদের দিক থেকে দেখা যাচ্ছে, অনেক ফান্ডের আকার কয়েকশ কোটি টাকা থেকে শুরু করে কয়েক হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। বড় আকারের ফান্ডগুলোতে বাজারদরের ভিত্তিতে নিট সম্পদ কিছুটা কমে গেলেও কস্ট প্রাইসের ভিত্তিতে সম্পদের মূল্য অনেক বেশি থাকায় সেগুলোর আর্থিক ভিত্তি তুলনামূলকভাবে শক্ত। এতে বোঝা যায়, এসব ফান্ডে দীর্ঘদিন ধরে সংগৃহীত সম্পদ এখনও কার্যকরভাবে ধরে রাখা হয়েছে।

কিছু ফান্ডে বাজারদরের ভিত্তিতে এনএভি তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে, যা সাধারণত অপেক্ষাকৃত রক্ষণশীল বিনিয়োগ কৌশলের ফল। যেসব ফান্ডের পোর্টফোলিওতে ট্রেজারি বিল, বন্ড বা স্থিতিশীল ডিভিডেন্ড প্রদানকারী শেয়ারের অনুপাত বেশি, সেগুলো বাজারের পতনের সময় তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে দেখা যেতে পারে।

এর বিপরীতে, কয়েকটি ফান্ডে এনএভি ৬–৭ টাকার ঘরে নেমে এসেছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ফান্ডে উচ্চ ঝুঁকির ইকুইটির অনুপাত বেশি থাকায় সাম্প্রতিক বাজার সংশোধনের প্রভাব সেখানে তীব্র হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাজার ঘুরে দাঁড়ালে এই ফান্ডগুলোতেই তুলনামূলক বেশি রিটার্নের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে, যা ঝুঁকিপ্রবণ বিনিয়োগকারীদের জন্য আগ্রহের জায়গা হতে পারে।

বিশ্লেষকদের অভিমত অনুযায়ী, বর্তমান এনএভি চিত্র বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক বার্তা এবং সম্ভাবনার ইঙ্গিত দুটিই বহন করছে। স্বল্পমেয়াদে ইউনিটপ্রতি মূল্য কম থাকলেও কস্ট প্রাইসের সঙ্গে বড় ব্যবধান দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ফান্ডের ব্যবস্থাপনা দক্ষতা, অতীত পারফরম্যান্স, পোর্টফোলিও গঠন এবং ঝুঁকি প্রোফাইল বিশ্লেষণ করা জরুরি।

-রাফসান


শেয়ারবাজারে আজকের লেনদেনের চিত্র কী বলছে

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১৫:০৬:৪৫
শেয়ারবাজারে আজকের লেনদেনের চিত্র কী বলছে
ছবি: সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এর মেইন বোর্ডে লেনদেনের গতি আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কমলেও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। দিনশেষে বাজারে মোট লেনদেনের আর্থিক পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৬১ কোটি টাকার বেশি, যা বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে মাঝারি মাত্রার সক্রিয়তা নির্দেশ করে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, আজ মেইন বোর্ডে মোট ১ লাখ ৬৬ হাজার ২৩২টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এসব লেনদেনে হাতবদল হয়েছে প্রায় ১৬ কোটি ৩৯ লাখ ৯২ হাজার শেয়ার ও ইউনিট। সার্বিকভাবে এই চিত্র বাজারে সতর্ক বিনিয়োগ মনোভাবের পাশাপাশি নির্বাচনী ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবকেও প্রতিফলিত করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আজকের লেনদেনে দেখা গেছে, স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ মুনাফা তুলে নেওয়ার দিকে ঝুঁকেছেন। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষাকৃত বাছাই করা শেয়ারে সীমিত পরিসরে বিনিয়োগ ধরে রেখেছেন। এর ফলে বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা না গেলেও লেনদেনের গতি ছিল নিয়ন্ত্রিত।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাম্প্রতিক নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং করপোরেট ঘোষণার অপেক্ষা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলছে। ফলে অনেকেই নতুন করে বড় বিনিয়োগে না গিয়ে বাজার পর্যবেক্ষণের কৌশল বেছে নিচ্ছেন।।

-রাফসান


২২ জানুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১৫:০৩:৫১
২২ জানুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) লেনদেন শেষে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এ মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। দিনজুড়ে বিক্রির চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকায় দরপতনকারী শেয়ারের সংখ্যা বেড়েছে, যদিও কিছু খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাজারকে পুরোপুরি নেতিবাচক ধারায় যেতে দেয়নি।

দিন শেষে সব ক্যাটাগরি মিলিয়ে মোট ৩৯০টি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৫টির, কমেছে ১৮৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫৬টির। এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট, বাজারে এখনো অনিশ্চয়তা ও সতর্কতা একসঙ্গে কাজ করছে।

ক্যাটাগরি অনুযায়ী বাজারচিত্র

‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ারগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে ভারসাম্য লক্ষ্য করা গেছে। এ ক্যাটাগরিতে ৮৫টি শেয়ারের দর বেড়েছে, ৯৫টির কমেছে এবং ২৭টি শেয়ার অপরিবর্তিত রয়েছে। মোট ২০৭টি শেয়ার এ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হয়েছে।

অন্যদিকে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে দুর্বলতা স্পষ্ট। এই শ্রেণিতে মাত্র ১৭টি শেয়ারের দর বাড়লেও ৫৩টির দর কমেছে। অপরিবর্তিত ছিল ৮টি শেয়ার। ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে দরবৃদ্ধি ও দরপতনের সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি থাকলেও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ছিল তুলনামূলক বেশি।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে লেনদেন কিছুটা স্থিতিশীল ছিল। এখানে ৯টি ইউনিটের দর বেড়েছে, সমান সংখ্যক ইউনিটের দর কমেছে এবং ১৬টি ইউনিট অপরিবর্তিত রয়েছে। করপোরেট বন্ড ও সরকারি সিকিউরিটিজে সীমিত পরিসরে লেনদেন হলেও সরকারি সিকিউরিটিজে দরবৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে।

লেনদেন ও বাজার মূলধন

দিনটিতে মোট ১ লাখ ৬৬ হাজার ২৩২টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। মোট লেনদেন হওয়া শেয়ারের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬ কোটি ৪০ লাখ ইউনিট। আর্থিক মূল্যে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কম।

দিনশেষে শেয়ারবাজারের মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৯ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকায়। এর মধ্যে ইকুইটি খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি, এরপর রয়েছে ঋণপত্র ও মিউচুয়াল ফান্ড।

ব্লক মার্কেটের চিত্র

আজ ব্লক মার্কেটে ২৭টি কোম্পানির মোট ৪০ লাখের বেশি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এসব লেনদেনের আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ১৩১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ব্লক মার্কেটে তুলনামূলকভাবে বেশি লেনদেন হয়েছে টেক্সটাইল, বীমা ও শিল্প খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে, যা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।

বাজার বিশ্লেষণ

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নেওয়ার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, তারল্য পরিস্থিতি এবং করপোরেট ঘোষণার অপেক্ষা বাজারকে এখনো দোদুল্যমান অবস্থায় রেখেছে। স্বল্পমেয়াদে বাজারে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

-রাফসান


২২ জানুয়ারি বাজারে দরপতনের ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১৫:০০:৫১
২২ জানুয়ারি বাজারে দরপতনের ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

বাজারে সামগ্রিক অস্থিরতা ও বিক্রির চাপের মধ্যে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বেশ কয়েকটি শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। দিনশেষে আর্থিক খাত, শিল্প ও মিউচুয়াল ফান্ডভুক্ত কিছু কোম্পানির শেয়ার বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার কারণে শীর্ষ দরপতনকারীর তালিকায় উঠে আসে।

দিনের সবচেয়ে বেশি দরহারানো শেয়ারের তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে মিডাস ফাইন্যান্স। কোম্পানিটির শেয়ার আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৫ টাকায় নেমে আসে। দিনের সর্বোচ্চ ৫ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ক্রমান্বয়ে বিক্রির চাপে দর কমতে থাকে।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরপতনের মুখে পড়ে ওরিয়ন ইনফিউশন। উচ্চমূল্যের এই শেয়ারটি একদিনে ৫ শতাংশের বেশি দর হারিয়ে ৩৬৮ টাকা ২০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে, যা মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে উত্তরা ফাইন্যান্স। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৪ শতাংশ কমে ৯ টাকা ৬০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। আর্থিক খাতের শেয়ারগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান এখানে স্পষ্ট।

চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে থাকা এসপি সিরামিকস এবং ফার্স্ট ফাইন্যান্স–এর শেয়ারদর যথাক্রমে প্রায় ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ ও ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। উৎপাদন ব্যয় ও খাতভিত্তিক অনিশ্চয়তা এসব শেয়ারে বিক্রির চাপ বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তালিকার ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে এপেক্স ট্যানারি। রপ্তানিমুখী এই কোম্পানির শেয়ারদর ৩ শতাংশের বেশি কমে ৬৯ টাকা ১০ পয়সায় নেমে আসে, যা চামড়া খাতের সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জের প্রতিফলন।

মিউচুয়াল ফান্ড খাত থেকেও দরপতনকারীর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড এবং ফিনিক্স ফাইন্যান্স। উভয়টির ইউনিট দর প্রায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ করে কমেছে, যা স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের বিক্রির প্রবণতা নির্দেশ করে।

নবম অবস্থানে থাকা আল-হাজ টেক্সটাইল–এর শেয়ারদর কমেছে ৩ শতাংশের বেশি। দিনের উচ্চ দর থেকে উল্লেখযোগ্য সংশোধনের মধ্য দিয়ে শেয়ারটি ১২৫ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে।

শীর্ষ দশের শেষ অবস্থানে রয়েছে ওআইমেক্স। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৩ শতাংশের বেশি কমে ১২ টাকা ৪০ পয়সায় নেমে আসে, যা টেক্সটাইল খাতে চলমান চাপেরই আরেকটি দৃষ্টান্ত।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক দরপতনের পেছনে রয়েছে মুনাফা তুলে নেওয়া, খাতভিত্তিক অনিশ্চয়তা এবং সামগ্রিক বাজারে আস্থার ঘাটতি। বিনিয়োগকারীরা আপাতত অপেক্ষা ও সতর্ক কৌশল গ্রহণ করায় এসব শেয়ারে বিক্রির চাপ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

-রাফসান


২২ জানুয়ারি বাজারে দরবৃদ্ধির ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১৪:৫৬:৩৭
২২ জানুয়ারি বাজারে দরবৃদ্ধির ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

বাজারে দিনভর ওঠানামার মধ্যেও বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কিছু নির্বাচিত শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। লেনদেন শেষে দেখা যায়, মূলত বিমা ও টেক্সটাইল খাতভুক্ত কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি হয়েছে, যা বাজারের সামগ্রিক মন্দাভাবের মধ্যেও ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে।

দিনের সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ারের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসে এশিয়া ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির শেয়ার আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ৩৪ টাকা ২০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে। দিনের সর্বনিম্ন ৩১ টাকা ১০ পয়সা থেকে শেয়ারটি সর্বোচ্চ দামে পৌঁছায়, যা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে প্রতিফলিত করে।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স–এর শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। লেনদেন শেষে কোম্পানিটির শেয়ার দাঁড়ায় ৩৫ টাকায়, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর বেড়ে ২৯ টাকা ২০ পয়সায় পৌঁছায়, যা প্রায় ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। বিমা খাতে ধারাবাহিক আগ্রহের প্রতিফলন হিসেবেই এই উত্থান দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে থাকা ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স এবং নর্দার্ন ইন্স্যুরেন্স–এর শেয়ার যথাক্রমে প্রায় ৪ দশমিক ৮ এবং ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। উভয় কোম্পানির শেয়ারেই দিনভর সক্রিয় লেনদেন লক্ষ্য করা যায়।

ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা ঢাকা ইন্স্যুরেন্স–এর শেয়ারদর বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ টাকা ১০ পয়সায়। আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ দরবৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের আস্থার ইঙ্গিত দেয়।

মিউচুয়াল ফান্ড খাত থেকেও তালিকায় জায়গা করে নেয় প্রথম জনতা ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড এবং এফবিএফআইএফ মিউচুয়াল ফান্ড। উভয় ফান্ডের ইউনিট মূল্যই প্রায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ করে বেড়েছে, যা দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর বিনিয়োগকারীদের নতুন করে আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।

নবম অবস্থানে উঠে আসে পিপলস ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়ে ৩৯ টাকা ৮০ পয়সায় পৌঁছায়, যা প্রায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে।

তালিকার দশম স্থানে রয়েছে টেক্সটাইল খাতের পরিচিত কোম্পানি রহিম টেক্সটাইল। শেয়ারটির দর ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে ২৬৫ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে, যা খাতভিত্তিক আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিমা খাতে সম্ভাব্য নীতিগত প্রত্যাশা, তুলনামূলক কম দর এবং স্বল্পমেয়াদি মুনাফার সুযোগ শীর্ষ দরবৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে কিছু নির্দিষ্ট শেয়ারে কারিগরি কারণে (টেকনিক্যাল রিবাউন্ড) দরবৃদ্ধিও লক্ষ্য করা গেছে।

-রাফসান


ডিএসই পরিদর্শনে একাধিক তালিকাভুক্ত কারখানা বন্ধের চিত্র

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১২:০০:৩৮
ডিএসই পরিদর্শনে একাধিক তালিকাভুক্ত কারখানা বন্ধের চিত্র
ছবি: সংগৃহীত

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কারখানা কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, কিছু কোম্পানির উৎপাদন আংশিকভাবে চালু থাকলেও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কারখানা দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৩ ও ৪ নভেম্বর ডিএসইর একটি প্রতিনিধিদল ডোমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেড–এর আশুলিয়া, সাভার এবং নরসিংদীর পলাশ এলাকায় অবস্থিত কারখানাগুলো পরিদর্শন করে। পরিদর্শনে দেখা যায়, আশুলিয়া, সাভার ইউনিটটি সচল থাকলেও পলাশ, নরসিংদী ইউনিটটি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে কোম্পানিটির সার্বিক উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে মিশ্র চিত্র উঠে আসে।

ডিএসইর আরেকটি পরিদর্শন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ডেনিম খাতের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক ডেনিমস লিমিটেড–এর কারখানার বাস্তব চিত্র। গত ২২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ডিএসইর প্রতিনিধি দল প্রতিষ্ঠানটির কারখানা পরিদর্শন করে এবং সেখানে কোনো ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম চালু না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। কারখানা বন্ধ থাকায় কোম্পানিটির চলমান ব্যবসা ও পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে সিমেন্ট খাতের কোম্পানি আরামিট সিমেন্ট লিমিটেড–এর ক্ষেত্রেও। ডিএসইর প্রতিনিধিদল গত ২২ জুলাই ২০২৫ তারিখে কোম্পানিটির কারখানা পরিদর্শন করে উৎপাদন ও পরিচালন কার্যক্রম বন্ধ অবস্থায় পায়। দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকায় এই প্রতিষ্ঠানের বাজার উপস্থিতি ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

এ ছাড়া বস্ত্র ও নিটওয়্যার খাতের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান নূরানী ডাইং অ্যান্ড সোয়েটার লিমিটেড–এর কারখানাও বন্ধ অবস্থায় রয়েছে বলে ডিএসই নিশ্চিত করেছে। গত ২১ জুলাই ২০২৫ তারিখে পরিচালিত পরিদর্শনে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ পাওয়া যায়, যা টেক্সটাইল খাতের সামগ্রিক চ্যালেঞ্জকেই আরও স্পষ্ট করেছে।

-রাফসান


এডিএন টেলিকমের ২য় আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ ও ব্যাখ্যা

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১১:৫২:১৭
এডিএন টেলিকমের ২য় আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ ও ব্যাখ্যা
ছবি: সংগৃহীত

ব্যয়চাপ ও মার্জিন সংকোচনের কারণে ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (কিউ২) রাজস্ব প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে পারলেও শেয়ারপ্রতি আয়ে (ইপিএস) কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এডিএন টেলিকম লিমিটেড-এর। আয় বাড়লেও মুনাফার গতি শ্লথ হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোম্পানিটির সাম্প্রতিক আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

কোম্পানির প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ প্রান্তিকে কনসোলিডেটেড ইপিএস দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৬১ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল শূন্য দশমিক ৭৮ টাকা। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৫) কনসোলিডেটেড ইপিএস কমে দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ২৬ পয়সায়, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ১ টাকা ৫৮ পয়সা।

তবে রাজস্ব আয়ের দিক থেকে এডিএন টেলিকম লিমিটেড তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সময়ে কোম্পানিটি প্রায় ১৩ শতাংশ বছরওভার-বছর রাজস্ব বৃদ্ধি অর্জন করেছে। বিশেষ করে কার্যকর বিক্রয় কৌশল এবং কয়েকটি বড় প্রকল্প থেকে আসা আয় এই প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে বলে কোম্পানি সূত্রে জানানো হয়েছে।

এরপরও মুনাফার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে একাধিক ব্যয়সংক্রান্ত কারণে। কর্মী ব্যয় বৃদ্ধি, অবচয় হারে সমন্বয়, কিছু সেবায় মূল্য ক্ষয় এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির প্রভাব কোম্পানির অপারেটিং মার্জিনকে সংকুচিত করেছে। এসব কারণেই রাজস্ব বৃদ্ধির তুলনায় শেয়ারপ্রতি আয়ে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি দেখা যায়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এডিএন টেলিকম লিমিটেডের সহযোগী ও সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক অবদান রাখলেও তাদের পারফরম্যান্স আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা দুর্বল ছিল। এর ফলেই কনসোলিডেটেড নিট মুনাফা কর পরবর্তী পর্যায়ে সামান্য বছরওভার-বছর হ্রাস পেয়েছে।

তবে নগদ প্রবাহের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে স্বস্তির চিত্র উঠে এসেছে। জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৫ সময়ে কোম্পানির কনসোলিডেটেড নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো পার শেয়ার দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৮৫ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৮০ পয়সা। এতে বোঝা যায়, পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ আয় এখনও স্থিতিশীল রয়েছে।

এদিকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে এডিএন টেলিকম লিমিটেডের কনসোলিডেটেড নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) প্রতি শেয়ারে দাঁড়িয়েছে ৩৩ টাকা ০৮ পয়সা, যা ২০২৫ সালের ৩০ জুনে ছিল ৩২ টাকা ৮২ পয়সা। এনএভিতে এই বৃদ্ধি কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ভিত্তি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

-রাফসান


ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বোর্ড সভার ঘোষণা, শেয়ার দামে প্রভাব পড়বে কি

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১১:৪৯:১০
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বোর্ড সভার ঘোষণা, শেয়ার দামে প্রভাব পড়বে কি
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত একাধিক কোম্পানি তাদের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (কিউ২) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের সময়সূচি ঘোষণা করেছে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডিএসই লিস্টিং রেগুলেশনস ২০১৫-এর ১৬(১) ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখে এসব বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শাশাদনি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক আগামী ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনার কথা রয়েছে।

একই দিনে কুয়াসেম ইন্ডাস্ট্রিজ-এর বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হবে দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে। কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈঠকে দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কর্পোরেট সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

এর আগে, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ বিকেল ৩টায় বোর্ড সভা আহ্বান করেছে ফেকদিল ইন্স্যুরেন্স, যেখানে দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক হিসাব অনুমোদনের বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে থাকবে। একই দিনে একই সময়ে কেবিপিপিডব্লিউবিআইএল কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভাও অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিনিয়োগকারীদের নজরে থাকা শিল্পখাতের প্রতিষ্ঠান এপেক্স ফুটওয়্যার আগামী ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ বিকেল ৫টায় তাদের বোর্ড সভা আয়োজন করবে। সভায় চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক কর্মক্ষমতা পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে জ্বালানি খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা ৬টায় বোর্ড সভা আহ্বান করেছে। সভায় দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনার পাশাপাশি কোম্পানির সামগ্রিক আর্থিক অবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, একসঙ্গে একাধিক তালিকাভুক্ত কোম্পানির বোর্ড সভা ও কিউ২ আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের প্রস্তুতি শেয়ারবাজারে স্বল্পমেয়াদে দামের ওঠানামার প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আর্থিক খাত, শিল্প খাত ও জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোর ঘোষণার দিকে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।

-রাফসান


বাজারদর বনাম প্রকৃত মূল্য: মিউচুয়াল ফান্ড বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১১:৪২:০৭
বাজারদর বনাম প্রকৃত মূল্য: মিউচুয়াল ফান্ড বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা নিয়ে বুধবার (২২ জানুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত একাধিক মিউচুয়াল ফান্ড তাদের সর্বশেষ দৈনিক নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) প্রকাশ করেছে। বাজারদরের ভিত্তিতে অধিকাংশ ফান্ডের এনএভি অভিহিত মূল্যের নিচে অবস্থান করলেও ব্যয়মূল্যের হিসাবে ফান্ডগুলোর প্রকৃত সম্পদমূল্য তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে।

বাজারদরের ভিত্তিতে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ভিএএমএল আরবিবিএফ ফান্ডের প্রতিটি ইউনিটের এনএভি দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ৭০ পয়সা, যেখানে ব্যয়মূল্যের হিসাবে একই ইউনিটের মূল্য ১১ টাকা ৪৬ পয়সা। ফান্ডটির মোট নিট সম্পদের পরিমাণ বাজারদরে প্রায় ১ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা হলেও ব্যয়মূল্যে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮১৯ কোটি টাকায়।

ক্যাপিটাল মার্কেটভিত্তিক আরও কয়েকটি ফান্ডেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। ক্যাপমি বিবিএল মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারদরের এনএভি ৭ টাকা ৮৩ পয়সা হলেও ব্যয়মূল্যে তা ১১ টাকা ৪১ পয়সা। অন্যদিকে ক্যাপমি ডিবিবিএল মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারদরের এনএভি নির্ধারিত হয়েছে ৮ টাকা ২৬ পয়সা এবং ব্যয়মূল্যের এনএভি ১০ টাকা ৯৩ পয়সা।

ব্যাংক স্পন্সরড মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ানের বাজারদরের এনএভি ৯ টাকা ১৫ পয়সা হলেও ব্যয়মূল্যে তা ১১ টাকা ১০ পয়সা। একইভাবে এলআর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ানের মোট নিট সম্পদ বাজারদরে ২ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা ছাড়ালেও ব্যয়মূল্যে তা ৩ হাজার ৪৩১ কোটি টাকার বেশি।

মার্কেন্টাইল ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ফার্স্ট ইনভেস্টমেন্ট মিউচুয়াল ফান্ড এবং গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে, বাজারদরের এনএভি অভিহিত মূল্যের নিচে থাকলেও ব্যয়মূল্যের হিসাব বিনিয়োগকারীদের প্রকৃত সম্পদ অবস্থান তুলে ধরছে।

ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারদরের এনএভি দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ৪৪ পয়সা, যেখানে ব্যয়মূল্যের এনএভি প্রায় ১০ টাকা ৯৬ পয়সা। অপরদিকে, সাউথইস্টার্ন মিউচুয়াল ফান্ড সিরিজের ফান্ডগুলো তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। সেমল এফবিএসএলজি ফান্ডের বাজারদরের এনএভি ৯ টাকা ৫২ পয়সা এবং সেমল আইবিবিএল শরীয়াহ ফান্ডের বাজারদরের এনএভি ৯ টাকা ৭৫ পয়সা।

সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে থাকা ফান্ডগুলোর মধ্যে সেমল লার্জ ক্যাপ ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারদরের এনএভি ৯ টাকা ৯৩ পয়সা এবং ব্যয়মূল্যের এনএভি ১১ টাকা ৭৬ পয়সা, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বাজারদরের এনএভি ও ব্যয়মূল্যের এনএভির মধ্যকার ব্যবধান মূলত সামগ্রিক বাজার মনোভাব, তারল্য সংকট এবং স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং চাপের প্রতিফলন। তবে ফান্ডগুলোর মোট নিট সম্পদের শক্ত অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দীর্ঘমেয়াদে ধৈর্যশীল বিনিয়োগকারীদের জন্য এসব ফান্ড সম্ভাবনাময় রয়ে গেছে।

-রাফসান


ডিএসইতে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১৫:১০:১৮
ডিএসইতে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান বোর্ডে বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে লেনদেনের গতি ছিল মাঝারি মাত্রার। দিনভর বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছয় হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়, যা সাম্প্রতিক বাজার প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, আজ প্রধান বোর্ডে মোট ১ লাখ ৮১ হাজার ২৫৬টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এসব লেনদেনে হাতবদল হয়েছে প্রায় ১৯ কোটি ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার ৮৪৮টি শেয়ার ও ইউনিট। দিনশেষে এই লেনদেনের আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৫৬ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই টার্নওভার দেখায় যে বিনিয়োগকারীরা পুরোপুরি বাজার থেকে সরে যাননি, তবে তারা আগের তুলনায় কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। একদিকে কিছু শেয়ারে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে, অন্যদিকে মৌলভিত্তি শক্তিশালী কোম্পানিগুলোতে সীমিত পরিসরে বিনিয়োগ অব্যাহত ছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বিনিয়োগকারীদের আচরণে যে দ্বিধা ও সংযম দেখা যাচ্ছে, আজকের লেনদেন পরিসংখ্যান তারই প্রতিফলন। তবে তারা এটিকে নেতিবাচক সংকেত না ধরে স্বাভাবিক বাজার গতিবিধির অংশ হিসেবেই দেখছেন।

সব মিলিয়ে, ২১ জানুয়ারির লেনদেন চিত্র ইঙ্গিত দেয় যে ডিএসইতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এখনো টিকে আছে, যদিও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তারা আগের তুলনায় বেশি হিসাবি ও সতর্ক হয়ে উঠছেন।

সুত্র: ডিএসই

পাঠকের মতামত: