প্রতিদিনের প্লেটেই লুকিয়ে আছে সুস্থ ভবিষ্যৎ

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ৩০ ১৩:৪০:৫১
প্রতিদিনের প্লেটেই লুকিয়ে আছে সুস্থ ভবিষ্যৎ
ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক ব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকা এখন আর কেবল ব্যায়ামের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং প্রতিদিন আমরা কী খাচ্ছি, কখন খাচ্ছি এবং কীভাবে খাচ্ছি এই তিনটি বিষয়ই আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের মূল নিয়ামক হয়ে উঠেছে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটের আধিক্য রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট করে, শক্তি কমায় এবং দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ জীবনযাপনের জন্য কঠোর ডায়েট নয়, বরং সচেতন ও টেকসই খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।

সকালের খাবারকে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার বলা হয়। শুধুমাত্র রুটি, সিরিয়াল বা ফল দিয়ে দিন শুরু করলে দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ক্লান্তি ও ক্ষুধা ফিরে আসে। তাই সকালের খাবারে প্রোটিন যুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। ডিম, দই, ডাল, বাদাম বা বীজের সঙ্গে শাকসবজি বা গোটা শস্য যুক্ত হলে হজম ধীর হয়, শক্তি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং মনোযোগ বাড়ে।

প্রতিটি খাবারে ভারসাম্য কেন জরুরি

একটি স্বাস্থ্যকর খাবার মানে শুধু কম খাওয়া নয়, বরং সঠিক অনুপাতে খাওয়া। কার্বোহাইড্রেট শক্তির উৎস হলেও একে একা খেলে রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বাড়ে। প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং ফাইবারের সঙ্গে কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করলে এই শোষণ ধীর হয়।

  • কার্বোহাইড্রেট: শক্তির জন্য
  • প্রোটিন: পেশি ও হরমোনের ভারসাম্যের জন্য
  • স্বাস্থ্যকর চর্বি: দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে
  • ফাইবার: রক্তে চিনির ওঠানামা কমাতে

ফাইবার: নীরব স্বাস্থ্যরক্ষক

ফাইবার বা আঁশ হজম প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এটি খাবারের পর রক্তে শর্করার তীব্র বৃদ্ধি রোধ করে এবং দীর্ঘসময় তৃপ্তি দেয়। শাকসবজি, ফলের খোসা, ডাল, লেবু ও গোটা শস্য নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে কোষ্ঠকাঠিন্য, স্থূলতা ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমে।

খাবার বাদ দেওয়া নয়, সময় মেনে খাওয়া জরুরি

অনেকেই ওজন কমানোর আশায় খাবার বাদ দেন। কিন্তু এতে উল্টো ফল হয়—রক্তে শর্করা কমে গিয়ে পরে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে অল্প অল্প করে খেলে গ্লুকোজের ভারসাম্য বজায় থাকে, হঠাৎ ক্ষুধা কমে এবং সারাদিন শক্তি নিয়ন্ত্রিত থাকে।

খাবারের মাঝে কী খাবেন

বিস্কুট, চিপস বা মিষ্টি জাতীয় খাবার রক্তে শর্করার দ্রুত ওঠানামার কারণ হয়। এর পরিবর্তে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন বাদাম, বীজ, সেদ্ধ ডিম, দই বা ভাজা ডাল বেছে নিলে শক্তি স্থির থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় স্ন্যাকিং কমে।

পানি ও সচেতন খাওয়ার অভ্যাস

অনেক সময় আমরা তৃষ্ণাকে ক্ষুধা ভেবে ফেলি। পর্যাপ্ত পানি পান হজম, ত্বক ও শক্তির জন্য অপরিহার্য। পাশাপাশি ধীরে ধীরে খাবার খাওয়া, ভালো করে চিবানো এবং খাবারের সময় মোবাইল বা টিভি এড়িয়ে চলা তৃপ্তি বাড়ায় ও অতিরিক্ত খাওয়া কমায়।

ঘরোয়া খাবার ও কম প্রক্রিয়াজাত খাদ্য

বাড়িতে রান্না করা খাবারে লবণ, চিনি ও তেলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার কমালে প্রদাহ, হরমোনের অস্থিরতা ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।

সুস্থ থাকার জন্য একদিনে সব বদলে ফেলার প্রয়োজন নেই। ছোট ছোট পরিবর্তন সকালে প্রোটিন যোগ করা, ফাইবার বাড়ানো, সময়মতো খাওয়া ও পানি পান এই অভ্যাসগুলোই ধীরে ধীরে শরীর ও মনকে সুস্থতার পথে এগিয়ে নেয়। খাদ্য যখন জীবনধারার অংশ হয়ে ওঠে, তখন সুস্থতা আর লক্ষ্য নয় বরং স্বাভাবিক বাস্তবতা হয়ে দাঁড়ায়।


তরুণদের হার্ট অ্যাটাক: রিপোর্টে সব স্বাভাবিক থাকলেও লুকিয়ে থাকতে পারে বড় বিপদ

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ২০:১৩:৪২
তরুণদের হার্ট অ্যাটাক: রিপোর্টে সব স্বাভাবিক থাকলেও লুকিয়ে থাকতে পারে বড় বিপদ
ছবি : সংগৃহীত

তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইদানীং হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে যা চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। অনেক সময় দেখা যায় যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা সুস্থ জীবনযাপন করছেন, তাদেরও লিপিড প্রোফাইল রিপোর্টে সবকিছু স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও অকালেই প্রাণ হারাতে হচ্ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, প্রচলিত এইচডিএল বা এলডিএল কোলেস্টেরলের বাইরেও শরীরে এক নীরব ঘাতক লুকিয়ে থাকতে পারে যার নাম লিপোপ্রোটিন। এটি মূলত এমন এক ধরনের কোলেস্টেরল যা নিঃশব্দে রক্তনালিতে চর্বি জমায় এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। এই উপাদানের সবচেয়ে ভয়ের দিক হলো এটি সম্পূর্ণ জিনগত বা বংশগত। অর্থাৎ খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন বা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেও এর মাত্রা খুব একটা কমানো সম্ভব হয় না। ফলে অনেক স্বাস্থ্যসচেতন মানুষও অজান্তে এই প্রাণঘাতী ঝুঁকির মধ্যে থেকে যান।

বিশেষজ্ঞদের মতে রক্তে লিপোপ্রোটিনের মাত্রা বেশি থাকলে রক্তনালিতে দ্রুত প্রদাহ সৃষ্টি হয় যা কোনো পূর্বলক্ষণ ছাড়াই হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে যাদের পেটের মেদ, ডায়াবেটিস বা পরিবারে অল্প বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস রয়েছে, তাদের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি।

এমনকি সাধারণ এলডিএল কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ভেতরে ভেতরে রক্তনালির ক্ষতি চলতে পারে। যেহেতু লিপোপ্রোটিনের মাত্রা জন্মগতভাবে নির্ধারিত হয় এবং সারা জীবন প্রায় অপরিবর্তিত থাকে, তাই চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন জীবনে অন্তত একবার এই পরীক্ষাটি করা জরুরি। বিশেষ করে ১৮ বছর বয়সের মধ্যেই এটি পরীক্ষা করে নিলে ভবিষ্যতের বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

যদিও লিপোপ্রোটিনের মাত্রা সরাসরি কমানো কঠিন, তবে সঠিক সচেতনতার মাধ্যমে এর ঝুঁকি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা সর্বনিম্ন রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাবার গ্রহণ এবং ধূমপান বা মদ্যপান থেকে দূরে থাকাই হলো এর প্রধান সুরক্ষা কবচ।

অনেক ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক সবসময় হুট করে ঘটে না বরং শরীর আগে থেকেই বিভিন্ন সতর্ক সংকেত দেয় যা আমরা বুঝতে পারি না। লিপোপ্রোটিন ঠিক তেমনই এক অদৃশ্য ঝুঁকি যা একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই আগেভাগে ধরা সম্ভব। সঠিক সময়ে সচেতন হতে পারলে অকাল মৃত্যুর হাত থেকে নিজেকে এবং প্রিয়জনকে বাঁচানো সম্ভব বলে মনে করছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন


স্ক্রিনের নেশায় চোখের বারোটা? ঘরোয়া উপায়ে ফেরান চোখের জ্যোতি

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১২:১৩:০০
স্ক্রিনের নেশায় চোখের বারোটা? ঘরোয়া উপায়ে ফেরান চোখের জ্যোতি
ছবি : সংগৃহীত

ডিজিটাল প্রযুক্তির এই যুগে আমাদের দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে ল্যাপটপ, স্মার্টফোন কিংবা টিভির স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে। অফিসের কাজ থেকে শুরু করে বিনোদন—সবকিছুতেই স্ক্রিনের ওপর নির্ভরশীলতা চোখের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।

এই ডিজিটাল আসক্তির কারণে অনেকেরই চোখ শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে, আবার কারো চোখের মণি ভারী হয়ে আসার মতো অস্বস্তি দেখা দিচ্ছে। এসব ছোটখাটো সমস্যা অবহেলা করলে ভবিষ্যতে বড় কোনো বিপদের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে ঘরোয়া কিছু সহজ কৌশলের মাধ্যমে চোখের এই ক্লান্তি দূর করে সতেজতা বজায় রাখা সম্ভব।

একটানা কোনো স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে আমরা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম সময় চোখের পাতা ফেলি। এর ফলে চোখের মণি ও চারপাশের পেশিতে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। দীর্ঘক্ষণ পড়াশোনা, একটানা ড্রাইভিং বা অফিসে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে বসে থাকার কারণে চোখের বিশ্রামের প্রয়োজন হয় সবচেয়ে বেশি।

চোখের এই ক্লান্তি কাটাতে কোল্ড কমপ্রেস বা শীতল স্পর্শ বেশ কার্যকর। এটি চোখের ফোলাভাব কমাতে দ্রুত আরাম দেয়। এর জন্য বাজার থেকে জেল প্যাক কিনে ব্যবহার করা যায় অথবা বাড়িতেই পাতলা পরিষ্কার কাপড় ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে চিপে চোখ বন্ধ করে ৮ থেকে ১০ মিনিট চোখের ওপর দিয়ে রাখলে অনেক আরাম মেলে।

কাজের মাঝখানে যখনই চোখ ক্লান্ত লাগবে, তখনই হাতের তালুর সাহায্যে উষ্ণতা বা ভাপ দেওয়া যেতে পারে। দুই হাতের তালু একে অপরের সঙ্গে ঘষে হালকা গরম করে নিয়ে চোখ বন্ধ করে আলতোভাবে চোখের ওপর রাখলে পেশিগুলো শিথিল হতে শুরু করে। এছাড়া রান্নাঘরে থাকা সাধারণ কিছু প্রাকৃতিক উপাদানও চোখের যত্নে বেশ উপকারী।

যেমন, শসা কুচি বা গোল স্লাইস করে চোখের ওপর রাখলে জ্বালাপোড়া ও চোখের নিচের কালো দাগ কমে। ব্যবহৃত ঠান্ডা গ্রিন টি ব্যাগ বা টাটকা অ্যালোভেরা জেলও চোখের সতেজতা ফেরাতে দারুণ কাজ করে।

বিশেষজ্ঞরা চোখের সুরক্ষায় একটি বিশেষ সূত্রের কথা বলেন, যাকে বলা হয় ‘২০-২০-২০ নিয়ম’। এই নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ২০ মিনিট পর পর স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে ২০ ফুট দূরে থাকা কোনো বস্তুর দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকতে হবে। এতে চোখের ফোকাস করার পেশিগুলো প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পায়। এসব পদ্ধতি চোখের সাধারণ ক্লান্তি কাটাতে সাহায্য করলেও, যদি চোখে দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমস্যা বা তীব্র ব্যথা অনুভব হয়, তবে দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

/আশিক


ত্বকের জাদুকরী পানীয় গোলাপজল: রূপচর্চায় এর ৩টি অজানা ব্যবহার

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ১২:১৬:২৯
ত্বকের জাদুকরী পানীয় গোলাপজল: রূপচর্চায় এর ৩টি অজানা ব্যবহার
ছবি : সংগৃহীত

রূপচর্চায় গোলাপজল একটি অনন্য উপাদান, যা সব ধরনের ত্বকের জন্য নিরাপদ এবং কার্যকর। বিশেষ করে গরমের দিনে ত্বকের জ্বালা ভাব কমাতে, আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং সতেজতা ফেরাতে এর জুড়ি নেই। একে ত্বকের 'পানীয়' বলা হয় কারণ এটি ত্বককে ভেতর থেকে প্রাণবন্ত করে তোলে। কেবল টোনার হিসেবেই নয়, ঘরোয়া রূপচর্চায় গোলাপজল ব্যবহারের আরও তিনটি দারুণ উপায় রয়েছে।

প্রথমত, গোলাপজল দিয়ে বরফ তৈরি করে ত্বকে ব্যবহার করা যায়।

বরফের ট্রে-তে গোলাপজল জমিয়ে সেই টুকরো মেকআপ করার আগে এক মিনিট মুখে ঘষে নিলে মেকআপ সহজে গলে যায় না এবং ত্বক উজ্জ্বল দেখায়।

দ্বিতীয়ত, এটি দিয়ে সহজেই ফেশিয়াল মিস্ট তৈরি সম্ভব। একটি স্প্রে বোতলে গোলাপজল ভরে ফ্রিজে রেখে দিলে রোদে পোড়া ত্বকে তাৎক্ষণিক স্বস্তি মেলে।

এছাড়া চোখের ফোলা ভাব ও ক্লান্তি দূর করতে ঠান্ডা গোলাপজলে ভেজানো তুলো চোখের ওপর ৫ মিনিট রাখলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়। নিয়মিত এই অভ্যাসে চোখের নিচের কালো দাগ বা ডার্ক সার্কেলও কমে আসে।

/আশিক


যেসব লক্ষণে বুঝবেন শরীরে কমছে টেস্টোস্টেরন: অবহেলা করলেই মহাবিপদ!

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৯ ১২:১০:৫৬
যেসব লক্ষণে বুঝবেন শরীরে কমছে টেস্টোস্টেরন: অবহেলা করলেই মহাবিপদ!
ছবি : সংগৃহীত

পুরুষের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার মূল চাবিকাঠি হলো টেস্টোস্টেরন হরমোন। এটি কেবল যৌনস্বাস্থ্যের সঙ্গেই নয়, বরং পেশির শক্তি, হাড়ের গঠন, মেজাজ এবং স্মৃতিশক্তির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। চিকিৎসকদের মতে, সাধারণত ৪০ বছর বয়সের পর থেকে এই হরমোনের মাত্রা প্রতি বছর গড়ে ১ শতাংশ করে কমতে শুরু করে। তবে আধুনিক জীবনযাত্রার চাপে অনেক সময় অল্প বয়সেই এই ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, যা অনেকেই সাধারণ ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যান।

টেস্টোস্টেরন কমে গেলে শরীর বেশ কিছু সংকেত দেয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও সারাক্ষণ ক্লান্তি অনুভব করা, কাজে মনোযোগের অভাব, খিটখিটে মেজাজ এবং যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া। এছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম করার পরেও পেশির শক্তি কমে আসা এবং পেটের চারপাশে মেদ জমা এই হরমোন হ্রাসের বড় লক্ষণ। এন্ডোক্রিনোলজিস্ট বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, দীর্ঘদিন এই সমস্যা বজায় থাকলে হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ধূমপান ও স্থূলতাকে এই হরমোন কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বাজারচলতি বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের বিষয়ে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ এগুলোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এবং তা শরীরের জন্য উল্টো ক্ষতিকর হতে পারে। সঠিক সময়ে লক্ষণ চিনে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

/আশিক


ফেরী, নৌকা, গাড়ি, পথ- সফর নিরাপদ করতে রাসুল (সা.)-এর শেখানো দোয়া

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ০৯:৪৫:৫৭
ফেরী, নৌকা, গাড়ি, পথ- সফর নিরাপদ করতে রাসুল (সা.)-এর শেখানো দোয়া
ছবি: সংগৃহীত

মানুষের জীবনে ভ্রমণ একটি অনিবার্য বাস্তবতা। প্রতিদিনই মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করে। তবে ভ্রমণ যত সহজ হয়েছে, ততই বেড়েছে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা। তাই নিরাপদ সফর নিশ্চিত করতে ইসলাম কেবল শারীরিক সতর্কতার ওপরই জোর দেয়নি, বরং আধ্যাত্মিক সুরক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছে।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ভ্রমণের প্রতিটি ধাপের জন্য নির্দিষ্ট কিছু দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন, যা একজন মুমিনকে আল্লাহর সুরক্ষার ছায়ায় রাখে এবং মানসিক প্রশান্তি প্রদান করে।

১. বাড়ি থেকে বের হওয়ার দোয়া

ভ্রমণের সূচনা হয় ঘর থেকে বের হওয়ার মাধ্যমে। এই সময় মহানবী (সা.) একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া পড়তে নির্দেশ দিয়েছেন-

আরবি:بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ وَ لَا حَوْلَ وَ لَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللَّهِ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি। আল্লাহর ওপরই ভরসা করলাম। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই।

গুরুত্ব: হাদিস অনুযায়ী, এই দোয়া পাঠ করলে আল্লাহ নিজেই বান্দার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান এবং শয়তান দূরে সরে যায়।

২. যানবাহনে ওঠার দোয়া

যানবাহনে আরোহনের সময় মহানবী (সা.) আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন-

আরবি:بسم الله الرحمن الرحيمسُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَوَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنقَلِبُونَ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। সুবহানাল্লাজি সাখখারালানা হা-যা ওয়া-মা-কুন্না লাহু মুকরিনিন, ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনকালিবুন।

অর্থ: তিনি পবিত্র, যিনি এই বাহনকে আমাদের জন্য অনুগত করেছেন, অথচ আমরা নিজেরা তা আয়ত্ত করতে সক্ষম ছিলাম না। আমরা অবশ্যই আমাদের প্রভুর দিকে ফিরে যাব।

বিশ্লেষণ: এই দোয়া মানুষের মধ্যে কৃতজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করে, যা নিরাপদ আচরণে সহায়তা করে।

৩. সফরের পূর্ণাঙ্গ দোয়া

ভ্রমণকালীন নিরাপত্তা, সহজতা ও সুরক্ষার জন্য একটি দীর্ঘ দোয়া রয়েছে-

আরবি:

اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ فِي سَفَرِنَا هَذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى

اللَّهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هَذَا وَاطْوِ عَنَّا بُعْدَهُ

اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ وَالْخَلِيفَةُ فِي الأَهْلِ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَآبَةِ الْمَنْظَرِ

وَسُوءِ الْمُنْقَلَبِ فِي الْمَالِ وَالأَهْلِ

উচ্চারণ (সংক্ষেপে): আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা… (পূর্ণ উচ্চারণ উপরে বর্ণিত অনুযায়ী)

অর্থ (সারাংশ): হে আল্লাহ! আমাদের সফর সহজ করো, দূরত্ব কমাও, তুমি আমাদের সফরের সঙ্গী এবং পরিবারের রক্ষক। সফরের কষ্ট, খারাপ দৃশ্য ও ক্ষতি থেকে আমাদের রক্ষা করো।

গুরুত্ব: এই দোয়া সফরের শারীরিক, মানসিক ও পারিবারিক সব ঝুঁকিকে অন্তর্ভুক্ত করে।

৪. নৌকা, ফেরী বা জাহাজে ভ্রমণের দোয়া

নৌপথে যাত্রার সময় কোরআনে বর্ণিত দোয়া-

আরবি: بِسْمِ اللَّهِ مَجْرَاهَا وَمُرْسَاهَا إِنَّ رَبِّي لَغَفُورٌ رَحِيمٌ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি মাজরিহা ওয়া মুরসাহা, ইন্না রাব্বি লা গাফুরুর রহিম।

অর্থ: আল্লাহর নামেই এর গতি ও স্থিতি। নিশ্চয়ই আমার প্রভু ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

৫. পথে কোথাও থামলে যে দোয়া

ভ্রমণের মাঝপথে অবস্থান করলে পড়তে বলা হয়েছে-

আরবি: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ الله التَّامَّاتِ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ

উচ্চারণ: আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক।

অর্থ: আমি আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালেমার মাধ্যমে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।

এই দোয়া পড়লে ঘরে ফেরা পর্যন্ত কোনো ক্ষতি হবে না হাদিসে এমন নিশ্চয়তা এসেছে।

বর্তমান সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা, নৌ দুর্ঘটনা এবং ভ্রমণ ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এসব দোয়ার গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা ভ্রমণের আগে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে এবং সচেতন থাকে, তারা তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিতে পড়ে।

ভ্রমণ কেবল শারীরিক চলাচল নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, প্রতিটি যাত্রার শুরু, মাঝপথ এবং সমাপ্তিতে আল্লাহর ওপর নির্ভরতা মানুষের নিরাপত্তা ও প্রশান্তি নিশ্চিত করে। তাই ভ্রমণে বের হওয়ার সময় এই দোয়াগুলো পাঠ করা একজন মুমিনের জন্য শুধু আমল নয়, বরং একটি সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।


পুরুষের টাক পড়া রুখবে এসেনশিয়াল অয়েল; জেনে নিন ব্যবহারের জাদুকরী কৌশল

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১৯:৩৩:৪৫
পুরুষের টাক পড়া রুখবে এসেনশিয়াল অয়েল; জেনে নিন ব্যবহারের জাদুকরী কৌশল
ছবি : সংগৃহীত

ত্রিশ বা চল্লিশের কোঠায় পৌঁছালে অনেক পুরুষের মধ্যেই চুল ঝরে টাক পড়ার প্রবণতা দেখা দেয়। ঘন চুল ঝরতে শুরু করলে মানসিক হতাশাও বাড়ে। বাজারচলতি অনেক প্রসাধনী চুল পড়া রোধের দাবি করলেও সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রায়ই সংশয় থাকে। এমন পরিস্থিতিতে রাসায়নিক উপাদানের বদলে প্রাকৃতিক এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করে পুরুষেরা চুলের বিশেষ যত্ন নিতে পারেন। তবে কোন তেল কীভাবে ব্যবহার করলে সঠিক ফল পাওয়া যাবে, সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।

টাক পড়া রুখতে জেরেনিয়াম তেল অত্যন্ত কার্যকর। এর প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল গুণাগুণ চুল পড়া বন্ধের পাশাপাশি চুলের পিএইচের ভারসাম্য বজায় রাখে। মাথার তালুর চুলকানি বা সংক্রমণ কমাতেও এটি বেশ সহায়ক। ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৫ ফোঁটা জেরেনিয়াম তেলের সঙ্গে ২ চা চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট মাথার তালুতে মালিশ করতে হবে। এরপর ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। তবে এক্ষেত্রে অতিরিক্ত রাসায়নিক যুক্ত শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার এড়িয়ে চলাই ভালো।

চুল পড়া কমাতে টি ট্রি অয়েলও ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণাগুণ মাথার ত্বকের নানা সমস্যা দূর করে। ব্যবহারের সহজ উপায় হলো নিয়মিত শ্যাম্পুর বোতলে ১০-১৫ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে নেওয়া। শ্যাম্পু করার সময় এটি মেখে দুই-তিন মিনিট রেখে তারপর ধুয়ে ফেলতে হবে। এছাড়া মাথা ঠান্ডা রাখতে এবং দ্রুত চুল পড়া বন্ধ করতে পেপারমিন্ট এসেনশিয়াল অয়েল বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

চুলের রুক্ষ ভাব দূর করতে এবং নতুন চুল গজাতে ল্যাভেন্ডার অয়েলের ব্যবহারও জনপ্রিয়। নারকেল তেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল মিশিয়ে চুলে মালিশ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে চুলের গোড়া মজবুত হয় এবং অকালে টাক পড়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসে।

/আশিক


গ্যাস্ট্রিকমুক্ত থাকতে চাইলে বদলান ৫টি অভ্যাস

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৪ ১১:৪৫:৩৭
গ্যাস্ট্রিকমুক্ত থাকতে চাইলে বদলান ৫টি অভ্যাস
ছবি : সংগৃহীত

ভাজাপোড়া খাবার আর অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে গ্যাস্ট্রিক এখন আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। বুক জ্বালাপোড়া করলেই আমরা টপাটপ গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে ফেলি, যা দীর্ঘমেয়াদে লিভার বা কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

অথচ পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক গ্ল্যান্ড থেকে অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণ কমানোর জন্য কেবল জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনাই যথেষ্ট। দীর্ঘ সময় খালি পেটে না থাকা, অতিরিক্ত চা-কফি বর্জন এবং পর্যাপ্ত ঘুম এই সমস্যা থেকে মুক্তির মূল চাবিকাঠি। এছাড়া রাতের খাবার দ্রুত শেষ করা এবং খাওয়ার পরপরই শুয়ে না পড়ার অভ্যাস গড়লে গ্যাস্ট্রিকের যন্ত্রণা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

প্রাকৃতিক উপায়ে গ্যাস্ট্রিক নিয়ন্ত্রণে পুদিনা পাতা, মৌরি এবং টকদই জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। পুদিনা পাতা হজম শক্তি বাড়িয়ে বুক জ্বালাপোড়া কমায়, আর খাওয়ার পর মৌরি চিবিয়ে খেলে পেট ফাঁপা দূর হয়। টকদইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড হজম প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে পাকস্থলীতে অ্যাসিড জমতে বাধা দেয়।

এই সামান্য কিছু সচেতনতা আর ঘরোয়া টোটকা মেনে চললে ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সুস্থ থাকা সম্ভব। নিজেকে সুস্থ রাখতে অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার ও ধূমপান থেকে দূরে থাকার কোনো বিকল্প নেই।

/আশিক


ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে একবেলার প্রশান্তি: ঢাকার কাছেই সেরা ৫টি পিকনিক স্পট

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ১৮:১৪:২৯
ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে একবেলার প্রশান্তি: ঢাকার কাছেই সেরা ৫টি পিকনিক স্পট
ছবি : সংগৃহীত

রোজার সংযম শেষে ঈদ মানেই পুনর্মিলন। আর এই আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে ঢাকার চারপাশেই গড়ে উঠেছে অসাধারণ সব পর্যটন কেন্দ্র। এবারের ঈদে দর্শনার্থীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকা স্থানগুলো হলো

গাজীপুরের নুহাশ পল্লী ও সাফারি পার্ক

প্রকৃতি ও সাহিত্যের মেলবন্ধন যারা খুঁজছেন, তাদের প্রথম পছন্দ প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের নুহাশ পল্লী। এখানে কৃত্রিমতাহীন গ্রামীণ স্নিগ্ধতা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। অন্যদিকে, অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক অন্যতম আকর্ষণ। উন্মুক্ত পরিবেশে বাঘ, সিংহ ও বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ শিশুদের জন্য এটি একটি বড় শিক্ষণীয় স্থান হয়ে উঠেছে।

বিলাসবহুল রিসোর্ট (সারাহ ও ড্রিম স্কয়ার)

গাজীপুরেই অবস্থিত সারাহ রিসোর্ট তার অত্যাধুনিক সুইমিং পুল ও সবুজ বাগানের জন্য পরিচিত। এছাড়া স্থাপত্য ও প্রকৃতির অপূর্ব সমন্বয় দেখা যায় ড্রিম স্কয়ার রিসোর্টে। নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে জল ও জঙ্গলের কাব্য একটি অনন্য কাব্যিক গন্তব্য।

জিন্দা পার্ক, রূপগঞ্জ

পরিবেশবান্ধব ভ্রমণের জন্য নারায়ণগঞ্জের জিন্দা পার্ক একটি আদর্শ উদাহরণ। সুপরিকল্পিত লেক, শত প্রজাতির গাছ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে এটি বর্তমানে ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় পিকনিক স্পট।

ঐতিহাসিক সোনারগাঁও ও পানাম সিটি

ইতিহাস প্রেমীদের জন্য পানাম সিটি যেন টাইম মেশিনে অতীতে ফিরে যাওয়া। সারি সারি প্রাচীন ভবন আর তার পাশেই বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর বাংলার লোকজ ঐতিহ্যকে জীবন্ত করে রেখেছে।

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি, মানিকগঞ্জ

স্থাপত্যশৈলী ও ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে মানিকগঞ্জের বালিয়াটি জমিদার বাড়ি। বিশাল দালান আর স্মৃতিময় পরিবেশ পর্যটকদের দারুণভাবে টানে।

ঢাকার ভেতরে বিনোদন কেন্দ্র

শহরের ভেতরে হাতিরঝিল এখন আধুনিক আড্ডার কেন্দ্রবিন্দু। সন্ধ্যার আলোকসজ্জা ও ওয়াটার বাস ভ্রমণ ঈদের আনন্দকে রাঙিয়ে দেয়। এছাড়া প্রাতঃভ্রমণকারীদের প্রিয় রমনা পার্ক এবং তরুণদের নতুন আড্ডাস্থল বিচারপতি শাহাবুদ্দিন পার্ক এখন উৎসবমুখর।

ঈদের স্পেশাল রসনাবিলাস

ঘোরার পাশাপাশি খাওয়া-দাওয়ায় ঐতিহ্য ধরে রেখেছে পুরান ঢাকার হাজীর বিরিয়ানি। তবে আধুনিক রুচির তরুণদের ভিড় দেখা যাচ্ছে বনানীর যাত্রা বিরতি, টাগোর টেরেস কিংবা টেরাকোটা টেইলস-এর মতো নান্দনিক রেস্তোরাঁগুলোতে।

/আশিক


পেট ফাঁপা ও বুক ভার ভাব; ঈদের খাবারের পর অস্বস্তি দূর করার সহজ উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ১০:৪০:৪১
পেট ফাঁপা ও বুক ভার ভাব; ঈদের খাবারের পর অস্বস্তি দূর করার সহজ উপায়
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই বাহারি সব খাবারের আয়োজন। সেমাই, পোলাও, রোস্ট থেকে শুরু করে খাসির রেজালা—কি নেই মেন্যুতে! তবে এই খুশির জোয়ারে নিজের ঘরের পাশাপাশি আত্মীয়র বাড়িতেও কবজি ডুবিয়ে খাওয়ার পর শুরু হয় আসল বিপত্তি।

অনেকেরই বুক ভার লাগা, পেট ফাঁপা বা হাঁসফাঁস অনুভূতির মতো অস্বস্তিকর সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘ বিরতির পর অতিরিক্ত খাবার খেলে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যাওয়ায় এমনটা হওয়া খুবই স্বাভাবিক।

তবে দুশ্চিন্তার কিছু নেই, এই অস্বস্তি থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে আপনি কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করতে পারেন। খাওয়ার পর পেটে গ্যাস বা ভারী ভাব অনুভূত হলে সাথে সাথেই শুয়ে না পড়ে ১০-১৫ মিনিট হালকা পায়চারি করুন।

এতে হজম প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। টাইট পোশাক এড়িয়ে ঢিলেঢালা পোশাক পরলে পেটের ওপর চাপ কমবে এবং স্বস্তি মিলবে। এছাড়া আদা চা বা পুদিনা পাতা কুচি চিবিয়ে খেলে প্রাকৃতিক উপায়ে গ্যাসের সমস্যা দূর হয়। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত ঠান্ডা পানীয় বা কার্বোনেটেড ড্রিংক সাময়িক আরাম দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা হজমের ক্ষতি করতে পারে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: