মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জ এখন ঘরে বসেই: জানুন সহজ নিয়ম

ঢাকাবাসীর দৈনন্দিন যাতায়াতকে আধুনিক ও গতিশীল করতে মেট্রোরেল এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এখন থেকে স্টেশনের কাউন্টারে লাইনে না দাঁড়িয়েই ঘরে বসে অনলাইনে র্যাপিড পাস বা এমআরটি পাস রিচার্জ করা সম্ভব হচ্ছে। গত ২৫ নভেম্বর থেকে ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে এই রিচার্জ সুবিধা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী স্টেশনের দীর্ঘ লাইনের বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন এবং সময় সাশ্রয় করতে পারছেন।
অনলাইনে রিচার্জ করার জন্য যাত্রীদের প্রথমেই র্যাপিড পাসের নির্ধারিত
ওয়েবসাইটে(https://www.rapidpass.com.bd/) গিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন করতে হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য এবং মোবাইল ওটিপি বা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড দিয়ে একবার নিবন্ধন সম্পন্ন হলে পরবর্তীতে শুধু লগইন করেই রিচার্জ করা যাবে। বিশেষ করে বিকাশ অ্যাপের সাজেশন সেকশন থেকে সরাসরি ‘মেট্রোরেল’ অপশন নির্বাচন করে এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা সম্ভব। রিচার্জ অপশনে গিয়ে কার্ডের তথ্য ও টাকার পরিমাণ উল্লেখ করে বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে পেমেন্ট সম্পন্ন করা যায়। রিচার্জ সফল হলে ব্যবহারকারীর মোবাইলে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিতকরণ খুদে বার্তা পাঠানো হবে।
অনলাইন রিচার্জের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ১০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে বিকাশ ব্যবহার করে রিচার্জ করলে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ১০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক পাওয়ার সুযোগও রয়েছে। তবে অনলাইনে টাকা জমা দেওয়ার পর কার্ডটি স্টেশনের অ্যাড ভ্যালু মেশিন বা এভিএম-এ একবার স্পর্শ করতে হবে। এই মেশিন স্পর্শ করার আগ পর্যন্ত রিচার্জটি ‘পেন্ডিং’ হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে। একটি পেন্ডিং রিচার্জ সফলভাবে কার্ডে যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে পুনরায় অনলাইন রিচার্জ করা যাবে না।
নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ কিছু বিশেষ শর্তারোপ করেছে। ব্ল্যাকলিস্টেড বা অবৈধ কোনো কার্ড অনলাইনে রিচার্জ করা যাবে না। কোনো যাত্রী যদি এভিএম-এ কার্ড স্পর্শ করার আগে ভুলবশত করা রিচার্জ বাতিল করতে চান, তবে সাত দিনের মধ্যে অনুরোধ সাপেক্ষে তা বাতিল করা সম্ভব। এক্ষেত্রে মূল টাকা থেকে ৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জ কেটে নেওয়া হবে। বর্তমানে কার্ড রিফান্ড কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও অনলাইন রিচার্জের এই আধুনিকায়ন সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে যা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে আরও এক ধাপ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আভিজাত্যের তকমা হারাচ্ছে ধানমন্ডি: ৩১ বছর পর কোন বড় অ্যাকশনে সরকার?
রাজধানীর অন্যতম সুপরিকল্পিত ও অভিজাত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত ধানমন্ডি এখন তার চিরচেনা রূপ হারাতে বসেছে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে ওঠা রেস্তোরাঁ, হাসপাতাল, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং নানাবিধ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কারণে পুরো এলাকাটি এখন তীব্র যানজট, পার্কিং সংকট, শব্দদূষণ এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এই চেনা অবক্ষয় থেকে ধানমন্ডিকে বাঁচাতে এবং এর আবাসিক বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ ৩১ বছর পর ১৯৯৫ সালের ‘বাণিজ্যিক ব্যবহার নীতিমালা’ আমূল সংশোধন, পরিমার্জন ও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ বিষয়ে একাধিক কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত পুরোনো নিয়মই বলবৎ থাকবে, তবে বর্তমান নিয়মের তোয়াক্কা না করে যারা অবৈধভাবে ব্যবসা চালাচ্ছেন, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ক্র্যাকডাউনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, একটি আদর্শ নগরীর প্রধান শর্ত হলো আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার সুস্পষ্ট বিভাজন। কিন্তু ধানমন্ডি ও গুলশানের মতো ভিআইপি এলাকায় সেই নকশা এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এক মাঠপর্যায়ের জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ধানমন্ডির প্রায় ৪৮ শতাংশ ভবনই এখন কোনো না কোনোভাবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এলাকার ১,৫৯২টি ভবনের মধ্যে মাত্র ৮২৩টি পুরোপুরি আবাসিক রয়েছে; বাকি ৫৩২টি মিশ্র এবং ২৩৭টি ভবন সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। অথচ, ১৯৯৫ সালের মূল নীতিমালায় কেবল মিরপুর রোড, সাতমসজিদ রোড, গ্রিন রোড এবং পুরাতন ২ ও ২৭ নম্বর সড়কের পাশে সীমিত পরিসরে ব্যবসার অনুমতি ছিল। গত তিন দশকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক নজরদারির শিথিলতার সুযোগ নিয়ে পুরো ধানমন্ডিকে একটি ঘিঞ্জি বাণিজ্যিক জোনে পরিণত করা হয়েছে, যা বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মানকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
"ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় নিয়ম ভেঙে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অনেকেই কোনো নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা করছেন না। এভাবে আর কতদিন চলবে! সরকার এগুলোকে একটা শৃঙ্খলায় আনার চেষ্টা করছে এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
— মো. মনিরুজ্জামান মিঞা, অতিরিক্ত সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার এখন নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা শহরের যেকোনো আবাসিক প্লটের মূল মাস্টারপ্ল্যান পরিবর্তন বা বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজউক (RAJUK)-কে অবশ্যই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। এছাড়া, অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে গঠিত একটি বিশেষ কমিটিকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে অংশীজনদের সাথে আলোচনা করে নতুন নীতিমালার খসড়া জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ও রাজউকের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎ নীতিমালায় ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত নিজস্ব পার্কিং সুবিধা থাকাকে বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে জুড়ে দেওয়া হবে, যাতে গ্রাহকদের গাড়ি রাস্তার ওপর পার্কিং করে আর কৃত্রিম যানজট ও জনদুর্ভোগ তৈরি করতে না পারে।
কাঁটাবনে ভয়াবহ আগুন, প্রাণ হারালেন দুই আইনজীবীর সহকারী, নেপথ্যে কী?
রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের কাঁটাবন এলাকায় অবস্থিত ‘আল বারাকা টাওয়ার’ নামের একটি ১৪ তলা আবাসিক ভবনে মধ্যরাতে এক ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৬ জুন) দিবাগত রাত ১টা ৫ মিনিটের দিকে বহুতল এই ভবনটির ১২ তলার দুটি ফ্ল্যাটে হঠাৎ করেই আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়া ভবনের ১১ ও ১৩ তলাসহ চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। গভীর ঘুমে মগ্ন থাকা ভবনের বাসিন্দারা প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন এবং অনেকেই জীবন বাঁচাতে ভবনের ছাদে গিয়ে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পলাশী ও সিদ্দিকবাজার স্টেশন থেকে একে একে ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে রাত ৩টা ৮ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
দুর্ভাগ্যবশত, এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ ও মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়ে দুই তরুণের অকালমৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন— মো. জনি (২৪) এবং মো. আবদুস সালাম (২০)। তারা দুজনই পেশাগতভাবে আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সহকারী বা ক্লার্ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর মধ্যে আবদুস সালাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমানের ক্লার্ক হিসেবে কাজ করতেন; তাঁর বাড়ি বগুড়ার কাহালু উপজেলায়। অন্যদিকে, মো. জনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফের ছেলে ব্যারিস্টার মোয়াজের ক্লার্ক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন; তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায়। জানা গেছে, ভবনটির ওই নির্দিষ্ট ফ্লোরটিতে আইনজীবীদের চেম্বার ছিল। আগুন লাগার পর তারা ভেতরে আটকে পড়ে মোবাইল ফোনে বাইরে থাকা পরিচিতদের কাছে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়ার তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় একপর্যায়ে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অচেতন ও মুমূর্ষু অবস্থায় ওই দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ এবং জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান। সেখানে রাত সাড়ে ৩টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁদের দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিউমার্কেট থানার পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বহুতল এই ভবনটিতে কোনো কার্যকর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না এবং বিল্ডিং কোডও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি, যার ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং উদ্ধার অভিযান চালাতে ফায়ার ফাইটারদের চরম বেগ পেতে হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
SEO Keywords:
ধানমন্ডির বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস
রাজধানীর ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোডে একটি বহুতল ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করছে।
বুধবার (১০ জুন) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে ভবনটিতে আগুন লাগে। খবর পাওয়ার পর মোহাম্মদপুর ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার ফরিদা ইয়াসমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাত মসজিদ রোডের একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদের ওপর থাকা একটি কক্ষে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।
জানা গেছে, ভবনটিতে বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস পণ্যের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সির অফিস রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য জানায়নি ফায়ার সার্ভিস।
/আশিক
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু: ভরিপ্রতি ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবিতে রিট
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত মাসের শেষভাগে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। আজ রবিবার (৭ জুন) সকালে হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ। রিটে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
দায়েরকৃত এই রিট আবেদনে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন জানানো হয়েছে। রিটকারী আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ অভিযোগ করে বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে মূলত এই নির্মম ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।
পুরো ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও গাফিলতি ছিল বলে দাবি করেন তিনি। একই সাথে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত এই হাসপাতাল ভবনটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) যথাযথ নিয়ম ও বিল্ডিং কোড মেনে নির্মাণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এই আইনজীবী। তিনি আরও জানান, চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আসার পূর্বেই অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে জরুরি ভিত্তিতে ২০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও রিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার (৮ জুন) হাইকোর্টের এই দ্বৈত বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে নিবিড় পর্যবেক্ষণে ভর্তি থাকা ছয়টি নবজাতক শিশু মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একে একে মারা যায়। এই রহস্যজনক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষে এখন আদালতের দ্বারস্থ হলেন এই আইনজীবী।
/আশিক
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: তদন্তে ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিট
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোম ডিসপোজাল ইউনিট। হাসপাতালটির ভেতরে কোনো ধরনের বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে এই নিহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, মূলত সেই রহস্য উদঘাটন ও তদন্ত করতেই বিশেষায়িত এই দলটিকে সেখানে পাঠানো হয়েছে।
আজ বুধবার (২৭ মে) দুপুরে ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিটের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তারা ঘটনাস্থলে এসেছেন। বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করার জন্য তারা বেশ কিছু আধুনিক প্রযুক্তির ডিভাইস ও সরঞ্জাম সাথে নিয়ে এসেছেন। যে বিশেষ কক্ষে নবজাতকরা চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মারা গেছে, সেই কক্ষের ভেতরের বাতাস ও পরিবেশ এই ডিভাইসগুলোর সাহায্যে বিশদভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। সেখানে কোনো ধরনের ক্ষতিকারক বা বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়েছিল কি না, এবং ছড়ালে তা ঠিক কোন ধরনের গ্যাস ও কী পরিমাণে উপস্থিত ছিল, তা এই কারিগরি তদন্ত শেষেই সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব হবে।
বোম ডিসপোজাল ইউনিটের আসার আগেই আজ সকালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সিআইডির সদস্যরা হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ রুমসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্থান থেকে প্রয়োজনীয় আলামত ও নমুনা সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করেছেন, যা ল্যাবরেটরি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, আজ বুধবার সকালের দিকে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় একে একে ছয়টি নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটিকে একটি আকস্মিক দুর্ঘটনা বলে দাবি করলেও, নিহত শিশুদের পরিবারের সদস্যরা একে অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ তুলছেন। স্বজনদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, নবজাতক ওয়ার্ডে থাকা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসির গ্যাস লিকেজ হয়ে পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সেই বিষাক্ত গ্যাস শ্বাসের সাথে শরীরে প্রবেশের কারণেই মূলত শিশুরা মারা গেছে।
/আশিক
পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা: ৪৭ পৃষ্ঠার চার্জশিটে পৈশাচিকতার লোমহর্ষক বিবরণ
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় আদালতে ৪৭ পৃষ্ঠার এক চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটার মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে দ্রুততম তদন্ত শেষ করে গত রবিবার পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এই চার্জশিট জমা দেন। পরে মামলাটি পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হলে বিচারক মাসরুর সালেকিন তা আনুষ্ঠানিকভাবে আমলে নেন। আদালত আগামী ১ জুন এই মামলার অভিযোগ গঠনের (চার্জ ফ্রেম) শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য এই মামলায় আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, প্রধান অভিযুক্তের পক্ষে আইনি সহায়তার জন্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুসা কলিমুল্লাহকে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী করা হয়েছে। অভিযোগপত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২০ মে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মূল অভিযুক্ত ও অটোরিকশা মেকানিক সোহেল রানা (৩০) নিজের ওপর আনা পাশবিক অপরাধের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দেন।
তিনি জানান, সাবলেট বাসার অন্য সদস্যরা প্রতিদিন সকালে কাজে চলে যাওয়ার পর তিনি নিয়মিত ঘরে বসে মাদক সেবন করতেন। ঘটনার দিন অর্থাৎ গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাশের বাসার শিশু রামিসাকে একাকী দেখে নিজের ঘরে ডেকে নেন সোহেল। এরপর তাকে বাথরুমে নিয়ে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করেন। রামিসা চিৎকার করতে চাইলে তিনি তার মুখ শক্ত করে চেপে ধরেন এবং মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে নির্যাতন চালান।
জবানবন্দিতে সোহেল আরও স্বীকার করেন, ধর্ষণের একপর্যায়ে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তিনি ধরে নেন রামিসা মারা গেছে। এরপর অপরাধের প্রমাণ চিরতরে মুছে ফেলার ও লাশ গুমের উদ্দেশ্যে একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির মাথা কেটে ধড় থেকে আলাদা করাসহ মরদেহ বিকৃত করার চেষ্টা করেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেও চিকিৎসকেরা এই পৈশাচিকতার সত্যতা পেয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, মাথা বিচ্ছিন্ন করার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শকের (Shock) ফলেই মূলত রামিসার মৃত্যু হয় এবং তার শরীরের ক্ষতগুলো সে জীবিত থাকা অবস্থাতেই তৈরি করা হয়েছিল।
সোহেলের জবানবন্দিতে অপরাধের পর পালিয়ে যাওয়ার রোমহর্ষক ঘটনাপ্রবাহও উঠে এসেছে। তিনি জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সবাই যখন রামিসাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল, তখন রামিসার মা সোহেলদের ঘরের দরজার সামনে মেয়ের জুতো দেখতে পান। তিনি চিৎকার করে রামিসাকে ডাকতে থাকেন এবং কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের জড়ো করে দরজায় ধাক্কা দিতে শুরু করেন। সোহেল বলেন, ‘পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আমার স্ত্রী আমাকে পালিয়ে যেতে বলে।
আমি তখন রেঞ্জ দিয়ে জানালার গ্রিল ভেঙে ফেলি। লোকজন যখন বাইরে থেকে প্রধান দরজায় সমানে ধাক্কা দিচ্ছিল, তখন আমার স্ত্রী ভেতর থেকে দরজা শক্ত করে চেপে ধরে রেখে আমাকে জানালা দিয়ে পালাতে সাহায্য করে।’ সোহেল নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার পরই তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বাইরের মানুষের জন্য ঘরের দরজা খুলে দেয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের দ্রুততম বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন পিপি ও নিহতের পরিবার।
/আশিক
পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার লোমহর্ষক চার্জশিট দাখিল
রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা এবং পরবর্তীতে মরদেহ টুকরো টুকরো করে গুমের চেষ্টার ঘটনায় আদালতে চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে পুলিশ। গত ১৯ মে পল্লবীর একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে সংঘটিত এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নথিতে।
রোববার (২৪ মে ২০২৬) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওহিদুজ্জামান। আদালত সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়ে মামলাটি পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি করা হয়েছে।
দাখিলকৃত চার্জশিটে ঘটনার মূল হোতা ও অটোরিকশা মেকানিক সোহেল রানার বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও নৃশংস খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে তার দ্বিতীয় স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে স্বামীকে এই নৃশংস অপরাধের আলামত গোপন ও পালিয়ে যেতে সরাসরি সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তের তথ্যমতে, আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের পরকীয়া প্রেমের জেরে বিয়ে হয়েছিল এবং তারা পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের ২ নম্বর লেনের একটি তিন রুমের ফ্ল্যাটের একটি রুম ভাড়া নিয়ে থাকত।
ওই ফ্ল্যাটের বাকি দুটি রুমে মাসুদ পারভেজ এবং জেসমিন আক্তার নামে এক চাকরিজীবী দম্পতি থাকতেন, যারা ঘটনার দিন সকাল ৬টার মধ্যে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে যান। এই সুযোগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফ্ল্যাটের ভেতরে থাকা প্রতিবেশী শিশু রামিসাকে ফুসলিয়ে নিজের রুমে ডেকে নেয় সোহেল এবং অ্যাটাচড বাথরুমে নিয়ে তাকে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করে।
ধর্ষণের সময় শিশু রামিসা চিৎকার শুরু করলে সোহেল তার মুখ ও গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে। চার্জশিটের বিবরণ অনুযায়ী, হত্যার পর অপরাধ ধামাচাপা দিতে ও লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে রুম থেকে ধারালো ছুরি এনে রামিসার মাথা কেটে ধড় থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করা হয়। এরপর দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে এবং ধারালো ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে নিথর দেহটি বাথরুম থেকে এনে শোবার ঘরের খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। আর বিচ্ছিন্ন মাথাটি ঘরের ভেতরে একটি বড় প্লাস্টিকের বালতির মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
এদিকে শিশু রামিসাকে দীর্ঘক্ষণ খুঁজে না পেয়ে পরিবারের লোকজন ও তার মা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সোহেলদের রুমের দরজার সামনে রামিসার একটি জুতো পড়ে থাকতে দেখে মায়ের সন্দেহ হয় এবং তিনি চিৎকার করে প্রতিবেশীদের জড়ো করেন। লোকজন দরজা ভাঙার চেষ্টা করলে ঘরের ভেতর থাকা সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না পুরো ঘটনা দেখেও প্রধান দরজা ভেতর থেকে শক্ত করে আটকে দেয় এবং স্বামীকে সহযোগিতার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে ক্ষুব্ধ জনতা দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে খাটের নিচে রামিসার রক্তাক্ত মরদেহ ও বালতিতে কাটা মাথা উদ্ধার করে।
এ সময় সোহেলের অবস্থান জানতে চাইলে স্ত্রী স্বপ্না মিথ্যা নাটক সাজিয়ে দাবি করে যে, সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেছে। তবে পুলিশি তৎপরতায় পরবর্তী সময়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। এই পৈশাচিক ও অবর্ণনীয় অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
/আশিক
লাশ উদ্ধারের ৫ দিনের মাথায় চূড়ান্ত অভিযোগপত্র: রামিসা হত্যায় দ্রুততম বিচারের রেকর্ড
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী নিষ্পাপ শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা ও লাশ খণ্ডিত করার চাঞ্চল্যকর মামলায় ফরেনসিক ও আইনি তদন্তে এক মেগা অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি পাষণ্ড সোহেল রানার ডিএনএ (DNA) প্রোফাইলিংয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) তদন্তকারী কর্মকর্তাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট থেকে এই অকাট্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণগুলো সংগ্রহ করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, রামিসা হত্যা মামলার মূল তদন্ত কার্যক্রম ইতিমধ্যেই শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। সিআইডির ডিএনএ রিপোর্ট এবং ফরেনসিক ল্যাবের ভিসেরা ও ময়নাতদন্তের এই অকাট্য রিপোর্টগুলো হাতে পাওয়ায় আজ দুপুর থেকেই আদালতে পেশ করার জন্য চূড়ান্ত চার্জশিট বা অভিযোগপত্র তৈরির কাজ শুরু করেছে পল্লবী থানা পুলিশ।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামীকাল রোববার (২৪ মে) সকালের মধ্যেই ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (CMM) আদালতে এই মেগা চার্জশিট দাখিল করা হতে পারে। উল্লেখ্য, আজ দুপুর ও বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই খুনি সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ‘মৃত্যুদণ্ড’ আগামী এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করার যে সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক ডেডলাইন দিয়েছিলেন—পুলিশের এই অতি দ্রুততম চার্জশিট দাখিলের পদক্ষেপ তারই বাস্তব প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর পল্লবীর একটি বহুতল আবাসিক ভবনের তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ, যা পুরো দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি করে। ঘটনার পরপরই ঘরের জানালার গ্রিল ভেঙে মূল অভিযুক্ত লম্পট সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে তাঁর সহযোগী ও স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করে পুলিশ।
পরবর্তীতে ওই দিন সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (DB) ও পল্লবী থানার একটি বিশেষ টিম প্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা এলাকায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর গত বুধবার (২০ মে) ঢাকার আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে শিশু রামিসাকে একাকী ফ্ল্যাটে পেয়ে প্রথমে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে গলা টিপে হত্যা করে লাশ খণ্ডবিখণ্ড করার লোমহর্ষক ও নৃশংস স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি (১৬৪ ধারা) দেয় এই নরপিশাচ।
/আশিক
দৈনিক আজাদ বাণী পত্রিকার ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

শহিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
সত্যের সন্ধানে সচেষ্ট দৈনিক আজাদ বাণী পত্রিকার উদ্দ্যোগে ৪ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার বিকাল ৫ টায় রাজধানীর শিশু কল্যাণ পরিষদ হলে গোল টেবিল বৈঠকে ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে গণ মাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা ও কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভাপতিত্বে দৈনিক আজাদ বাণী’র প্রকাশক ও সম্পাদক লায়ন এইচ এম ইব্রাহিম ভৃইয়া। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও গবেষক সৈয়দ দিদার বখত, প্রধান আলোচক সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী।
আন্তর্জাতিক প্রবাসী মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এ এইচ এম মনিরুজ্জামান। নিচিচা চেয়ারম্যান যুবরাজ খান। ব্রেন্ড এন্ড লাইফ হাসপাতালের পরিচালক মোঃ ফখরুল ইসলাম, দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা প্রকাশক ও সম্পাদক কবি অশোক ধর। সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন, কেন্দ্রীয় কমিটি’র সাংগঠনিক সচিব কবি মহিবুর রহমান চৌধুরী, মানবাধিকার ব্যক্তিত্ব মনিরুল ইসলাম মনির প্রমুখ।
মহিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে গণ মাধ্যমের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভালো, যোগ্য ব্যক্তি কে সংবাদ পরিবেশনে নিয়োগ করার আহবান জানাই। সাংবাদিকদের কলমের মাধ্যমে একটি দেশ ও একটি সমাজ অনেক ক্ষেত্রে আলোকিত হয়। শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে আরোও বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা দীর্ঘদিন যাবত পদোন্নতি বঞ্চিত, শিক্ষকরা যে বেতন পান তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকার শিক্ষকদের কল্যাণে একটি সম্মানজনক বেতন কাঠামো করার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি। বেশিরভাগ শিক্ষক ঋণগ্রস্থ। তিনি শিক্ষকদের কল্যাণে একটি কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করে এই ঋণের বোঝা থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানাচ্ছি। আর বেশিরভাগ মহিলা শিক্ষক অনেক দূর দূরান্তে শিক্ষকতা করছেন, বদলী নীতিমালা সহজ করে মহিলা শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য আহবান জানাচ্ছি।
এসময় বক্তারা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম এর প্রতি বেশি গুরুত্ব আরোপ করেন।
পাঠকের মতামত:
- ৬ জুলাই ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৬ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৬ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- খামেনির শোক র্যালিতে জনসমুদ্র, প্রতিশোধের লাল পতাকায় মুখর তেহরান
- সহিহ হাদিসে জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত হওয়ার ১২ আমল
- ‘আমেরিকাই একমাত্র নয়, ভারতের মতো বড় বন্ধু আছে’-ভ্যান্সকে জবাব নেতানিয়াহুর
- বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতালের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ, না মানলে বাতিল হবে লাইসেন্স
- তাপপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু, এবার ঝড়-বন্যার নতুন শঙ্কা
- প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
- আজকের ক্রীড়া সূচি, একদিনে তিন বড় লড়াই
- হালান্ডের আঘাতে ভাঙল ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ স্বপ্ন, কান্নাভেজা বিদায় নেইমারের
- অ্যাজটেকার আগুনে ইংল্যান্ডের বেঁচে ফেরা, মেক্সিকোকে কাঁদিয়ে শেষ আটে টুখেলের দল
- প্রিয় দল হেরেছে? মন ভালো রাখার ৭ কার্যকর উপায়
- কলকাতার সেনা আবাসিকে কেন তিন বাংলাদেশি জেনারেল? নতুন তথ্য ঘিরে বাড়ছে নানা প্রশ্ন
- ডেঙ্গুর নতুন হটস্পট ১৪ জেলা, বাড়ছে বড় শঙ্কা
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- আজ রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- খামেনির জানাজায় জনস্রোত, তেহরানের বার্তা কী?
- ৬ জুলাইয়ের নামাজের সময় প্রকাশ, জেনে নিন এখনই
- স্বর্ণ কিনতে বাড়তি খরচ, কার্যকর নতুন মূল্যতালিকা
- আমির-গৌরীর বিয়ে, আলোচনায় গৌরীর সম্পদের পরিমাণ
- সোমবার টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- নিরাপত্তা কৌশল যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না ঠেলে, পিজিআরকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
- ওপারে তীব্র যুদ্ধ ও আতঙ্কের মাঝে মিয়ানমার সীমান্তে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদারের ঘোষণা
- বিএনপি যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই কুমিল্লার উন্নয়ন হয়: গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী
- মেক্সিকোর মাটিতে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ ঘিরে চরম উত্তেজনা, সর্বোচ্চ সতর্কতায় প্রশাসন
- অত্যন্ত বিপজ্জনক ও রাক্ষুসে রূপ নিয়ে ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’
- ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনে দেশজুড়ে সরকারের বহুমাত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা
- নির্ভরযোগ্য ডাটাই সঠিক পরিকল্পনা ও জাতীয় উন্নয়নের মূল ভিত্তি: আমির খসরু
- সারা দেশের আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস ছাত্রদল-বিএনপি পুড়িয়ে দিয়েছিল: রাকিব
- আজ রাতে ইতিহাস বদলানোর মিশনের আগেই বড় ধাক্কা খেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল
- ওসলো থেকে মার্সেই: নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়হীন থাকার চার ঐতিহাসিক কারণ
- পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানালেন ইরানি রাষ্ট্রদূত
- জুলাই হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত বিচারেই রক্তাক্ত অধ্যায়ের অবসান ঘটবে: ভিপি নুর
- পণ্যবাহী জাহাজে অজ্ঞাত হামলাকারীদের হানা, লোহিত সাগরের নৌপথে নতুন উত্তেজনা
- দুপুরের রেস্তোরাঁয় আকস্মিক অসুস্থতার পর চিরবিদায় নিলেন দেশের গুণী অধ্যাপক
- ৫ জুলাই ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৫ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৫ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- খামেনির কফিনের সামনে বদরের আয়াত: সৌদিকে কী বার্তা দিল ইরান?
- আজ রাজধানীতে যেসব গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচি
- টানা দুই দফা দাম বৃদ্ধি, কোথায় থামবে স্বর্ণের বাজার
- ‘নেতানিয়াহু জানেন, আসল বস কে’- ট্রাম্প
- দেবকে নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য শুভশ্রীর
- নরওয়ের বিপক্ষে নেইমার খেলবেন? জানালেন আনচেলত্তি
- ‘বাংলাদেশ নীতি’তেই শক্তিশালী হবে প্রতিরক্ষা: রাষ্ট্রপতি
- ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’: সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার শিক্ষা
- দাফন চলাকালীন হামলার চেষ্টা হলে আমেরিকা-ইসরায়েলকে ধ্বংস করার হুমকি তেহরানের
- ইতিহাসে আর্জেন্টিনার জন্য সুখবর, ব্রাজিল শিবিরে তাড়া করছে জয়হীন দুঃসংবাদ
- ফ্যাসিবাদ ও মৌলবাদকে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য যৌথ হুমকি: আইনমন্ত্রী
- নরওয়ের বিপক্ষে নেইমার খেলবেন? জানালেন আনচেলত্তি
- ‘ইরান এখন সমঝোতায় মরিয়া’, খামেনির দাফনে ‘এক সপ্তাহ সময়’ দিলাম: ট্রাম্প
- আরাগচি-গালিবাফ হত্যাচেষ্টার খবর নাকচ ইসরায়েলের
- এলপিজির নতুন দর নিয়ে বড় ঘোষণা আজ
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত ভরি
- স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন মূল্য
- রোনালদোর ম্যাচসেরা পুরস্কার ঘিরে তুমুল বিতর্ক
- দোহায় আজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, দাবি ট্রাম্পের
- ‘নেতানিয়াহু জানেন, আসল বস কে’- ট্রাম্প
- দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের খবর নাকচ ইরানের
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- খামেনির কফিন ঘিরে আবেগে ভাসছে তেহরান
- ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’: সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার শিক্ষা
- আরাগচি-গালিবাফকে ঘিরে হত্যার পরিকল্পনা ইসরায়েলের, ইরানকে আগাম সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের
- সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারে গতি, সূচকে শক্তিশালী উত্থান

.jpg)






