আজ ঢাকার নামাজের সময়সূচি ও সূর্যোদয়–সূর্যাস্ত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ৩০ ০৯:২৩:৩২
আজ ঢাকার নামাজের সময়সূচি ও সূর্যোদয়–সূর্যাস্ত
ছবি: সংগৃহীত

আজ রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫; বাংলা ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ এবং হিজরি ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৪৭। রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আজকের নামাজের সময়সূচি নির্ধারণ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং সংশ্লিষ্ট সময়-সূচক সংস্থা। মুসল্লিদের সুবিধার্থে প্রতিটি ফরজ নামাজের শুরু সময় এবং আজ-আগামীকালের সূর্যোদয়–সূর্যাস্তের সম্পূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলো।

আজ জোহরের নামাজ শুরু হবে সকাল ১১টা ৫১ মিনিটে, আর আসরের শুরু ৩টা ৩৫ মিনিটে। মাগরিবের সময় ৫টা ১৪ মিনিটে, এবং এশা শুরু হবে ৬টা ৩২ মিনিটে। আগামীকাল ফজরের সময় শুরু হবে সকাল ৫টা ০৮ মিনিটে।

এ ছাড়া আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে ৫টা ১০ মিনিটে, আর আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৬টা ২২ মিনিটে। দিনের দৈর্ঘ্য কমে আসা এবং শীতের আমেজ বাড়ায় নামাজের সময়েও ধীরে ধীরে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

মুসল্লিদের অনুপম সুবিধার্থে এ সময়সূচি অনুসরণ করে নামাজ আদায় করার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সময় অনুযায়ী নামাজ পালন করতে পারলে ইবাদতের শুদ্ধতা ও পূর্ণতা বজায় থাকে বলেও আলেমদের অভিমত।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।


আসমান থেকে নাজিল মান্না–সালওয়া: অলৌকিক খাদ্যের গল্প

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ৩০ ০৮:৪৮:৩৭
আসমান থেকে নাজিল মান্না–সালওয়া: অলৌকিক খাদ্যের গল্প
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি ঐতিহ্যে মান্নাসালওয়া এমন এক অলৌকিক খাদ্য, যা আল্লাহ তায়ালা নিজ কুদরতে আসমান থেকে নাজিল করেছিলেন বনী ইসরাঈলের জন্য। যখন হজরত মুসা (আ.) প্রায় ছয় লাখ অনুসারী নিয়ে ময়দানে তীহে অবস্থান করছিলেন, তখন ভয়াবহ খাদ্যসংকট দেখা দেয়। সে সংকটে হজরত মুসা (আ.) আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, যাতে তাঁর জাতির জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা হয়। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করে এক নয়, দুইটি আসমানি খাদ্য পাঠানএগুলোই ছিল “মান্না” এবং “সালওয়া”।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন:

হেবনীইসরাঈল! আমিতোমাদেরশত্রুথেকে উদ্ধার করেছি, তোমাদের সঙ্গে তুর পাহাড়ের ডান পাশে সাক্ষাতের নির্ধারণ করেছি, এবং তোমাদের কাছে মান্না ও সালওয়া নাজিল করেছি।”

(সুরা ত্বহা, ৮০)

মান্না আসলে কী ছিল?

তাফসির অনুযায়ী মান্না ছিল এক ধরনের মিষ্টি স্বাদের আসমানি খাদ্য। এটি শিশিরের মতো সূক্ষ্ম বিন্দু আকারে গাছের পাতা, ছোট গাছপালা ও পাথরের ওপর জমে থাকত। এর রং ছিল দুধের মতো শুভ্র এবং স্বাদ ছিল মধুর চেয়েও মিষ্টি। কেউ এটিকে স্বর্গীয় চিনি, কেউ আল্লাহ কর্তৃক নাজিল এক ধরনের প্রাকৃতিক মধু-সদৃশ রস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হাদিসে ছত্রাক বা মাশরুমকেও মান্নার অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ আছে। বলা হয়, মান্না এমনভাবে আসমান থেকে পড়ত যেভাবে বরফ ঝরে।

সালওয়া কী ছিল?

সালওয়া ছিল এক ধরনের বিশেষ পাখিযাকে অধিকাংশ আলেম “বাটের পাখি” (quail) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এই পাখিগুলো বিশাল ঝাঁকে ঝাঁকে বনী ইসরাঈলের শিবিরে নেমে আসত এবং পালাত না। মানুষ সহজেই সেগুলো ধরে ভুনা করে খেত। মরুভূমির কষ্টকর পরিবেশে সালওয়ার নরম ভুনা মাংস ছিল এক বিরল আসমানি নেয়ামত।

কেন এ খাদ্য প্রতিদিন সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল?

আল্লাহর নির্দেশ ছিলমান্নাসালওয়াপ্রতিদিন শুধু সেদিনের প্রয়োজন অনুযায়ী সংগ্রহ করতে হবে; কোনোভাবেই পরের দিনের জন্য জমা করা যাবে না। এটি ছিল আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা ও আনুগত্যের পরীক্ষা। কিন্তু অনেকেই ভয় ও লোভের কারণে গোপনে এই খাদ্য জমা করতে থাকে। তাদের এই অবাধ্যতার ফলেই জমা করা মান্না নষ্ট হয়ে যায় এবং সালওয়ার মাংস পচে যায়। এর পরপরই এই আসমানি খাদ্য নাজিল বন্ধ হয়ে যায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এই ঘটনায় মন্তব্য করেছেন:যদি বনী ইসরাঈল অবাধ্যতা না করত, তবে কখনো খাবার নষ্ট হতো না এবং মাংস পচত না।”

এ হাদিসের অর্থ হচ্ছেখাদ্য নষ্ট হওয়া এবং মাংস পচে যাওয়া মানব ইতিহাসে প্রথম দেখা দেয় তাদের অবাধ্যতার পর।

স্বাদ, রূপ, গন্ধমান্নাসালওয়া কেমন ছিল?

মান্না ছিল তুষারের মতো শুভ্র, শিশিরের মতো ঝকঝকে, মধুর মতো মিষ্টি। সালওয়ার মাংস ছিল পুষ্টিকর, নরম এবং মরুভূমিতে বিরল এক বিলাসবহুল খাদ্য। আল্লাহর এই নেয়ামত এতটাই অসাধারণ ছিল যে মানুষ কোনো পরিশ্রম ছাড়াই প্রতিদিন প্রস্তুত খাবার পেয়ে যেত।

কিন্তু মানুষের লোভ ও অবিশ্বাসের কারণে এই নেয়ামতও নষ্ট হয়ে যায়। এ ঘটনাই প্রমাণ করে, আল্লাহর নেয়ামত তখনই টিকে থাকে যখন মানুষ কৃতজ্ঞ হয়, অনুগত হয় এবং আল্লাহর ওপর ভরসারাখে


বেনামাজির ছয় ভয়াবহ দুনিয়াবি শাস্তি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৭ ০৯:১৩:৪১
বেনামাজির ছয় ভয়াবহ দুনিয়াবি শাস্তি
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে নামাজ প্রতিটি মুসলিমের জন্য কঠোরভাবে ফরজ। নামাজ ছাড়া আল্লাহর নৈকট্য পাওয়া যায় না এবং ইহকাল-পরকাল কোনোটিতেই মুক্তি সম্ভব নয় এমনটাই স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কোরআন ও হাদিসে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।” (সুরা আনকাবুত, আয়াত ৪৫)। আবার নামাজ সময়মতো আদায়ের গুরুত্ব বর্ণনা করে আল্লাহ বলেন, “নামাজ মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ করা হয়েছে।” (সুরা আন-নিসা, আয়াত ১০৩)।

কোরআনে এমনও সতর্ক করা হয়েছে যারা নামাজের ব্যাপারে উদাসীন, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর ধ্বংস ও দুর্ভোগ। সুরা আল-মাউন-এর ৪–৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “দুর্ভোগ তাদের জন্য, যারা নামাজে গাফেল।” ইসলামী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নামাজ ত্যাগ শুধু আখিরাতেই শাস্তির কারণ নয়; বরং দুনিয়ার জীবনেও নামাজ না পড়া মানুষের ওপর নেমে আসে অশান্তি, অনটন, মানসিক চাপ ও অপ্রাপ্তি।

হাদিসে দুনিয়াতেই নামাজ ত্যাগকারীর জন্য ছয়টি শাস্তির কথা উল্লেখ রয়েছে। সেগুলোর প্রতিটিই একজন মুসলিমের জীবনকে আলোকিত পথ থেকে বিচ্যুত করে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়।

প্রথমত, নামাজ ত্যাগ করলে ব্যক্তির জীবনে বরকত কমে যায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তির আসরের নামাজ কাজা হলো, তার পরিবার ও সম্পদ যেন ধ্বংস হলো।” (মুসলিম, হাদিস ১৩০৪)। আরেক হাদিসে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, “নামাজ হলো ঈমানদার ও কাফেরের মধ্যে সীমারেখা। যে ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ত্যাগ করল, সে কুফরির কাজ করল।” (তিরমিজি ২৬২০, আবু দাউদ ৪৬৭৮)।

দ্বিতীয়ত, নামাজ ত্যাগকারীর মুখমণ্ডলে আল্লাহর নূরের প্রতিফলন থাকে না। সে হারায় ঈমানদারের স্বাভাবিক আভা, যা আল্লাহর আনুগত্যে পাওয়া যায়।

তৃতীয়ত, নামাজ ত্যাগ করলে ব্যক্তি দুনিয়ার অন্য কোনো নেক আমলের পূর্ণ প্রতিদান লাভ করতে পারে না। কারণ নামাজই হলো সকল ইবাদতের মেরুদণ্ড।

চতুর্থত, দোয়া গ্রহণে বাধা সৃষ্টি হয়। কেউ তার জন্য দোয়া করলে তা কবুল হয় না এমন হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে।

পঞ্চমত, নামাজ ত্যাগকারী আল্লাহর সৃষ্টিজগতের কাছে অপ্রিয় হয়ে পড়ে। ফেরেশতা, মানুষ, জিন সকল সৃষ্টিজীবই তার প্রতি বিতৃষ্ণা অনুভব করে।

ষষ্ঠত, ইসলামের শান্তি, সুরক্ষা ও আল্লাহর প্রতিশ্রুতি থেকেও সে বঞ্চিত হয়। (শারহুল আকিদাতুত তাহাবি, পৃ. ২৬৮)

আখিরাতে এর পরিণতি আরও ভয়াবহ। হাদিসে এসেছে, নিয়মিত নামাজ আদায়কারী ব্যক্তির জন্য কিয়ামতের দিনে নামাজ হবে আলো, দলিল এবং মুক্তির কারণ। আর বেনামাজি সেই আলো, সুরক্ষা ও সুপারিশ কিছুই পাবে না। (মুসনাদে আহমদ ৬৫৭৬)

ধর্মীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন মুসলিম দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নামাজের জন্য মাত্র এক ঘণ্টা সময় বের না করতে পারা তার দুর্ভাগ্যেরই পরিচয়। আল্লাহ আমাদের চোখ, কান, হাত, পা, সুস্থতা অগণিত নিয়ামত দিয়েছেন। এর শুকরিয়া আদায় করতে হলে নিয়মিত নামাজের বিকল্প নেই।

আলেমদের আহ্বান, নামাজ ত্যাগের ক্ষতি এত বেশি যে এর পরিবর্তে পৃথিবীর কোনো লাভই মূল্যবান নয়। তাই প্রতিটি মুসলিমের উচিত, নামাজের গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যথাসময়ে আদায় করা।


২৭ নভেম্বর আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৭ ০৮:০৫:৪০
২৭ নভেম্বর আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জনের সর্বোত্তম মাধ্যম। সময়মতো নামাজ আদায়কারীদের জন্য রয়েছে অসীম সওয়াব এবং গুনাহ মাফের প্রতিশ্রুতি। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথম কাতারের মর্যাদা, আজানের আহ্বানে সাড়া দেওয়া এবং ফজর–এশার জামাত আদায়ের তুলনাহীন ফজিলত সম্পর্কে বলেছেন ‘মানুষ যদি জানত প্রথম কাতারের মর্যাদা কত উচ্চ, তাহলে প্রয়োজন হলে লটারি করত। আর ফজর ও এশার নামাজের সওয়াব যদি জানত, তাহলে হামাগুঁড়ি দিয়ে হলেও নামাজে হাজির হতো।’ (মুসলিম, হাদিস ৮৬৭)

এই আধ্যাত্মিক প্রেরণা সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫- ১২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বাংলা, ০৫ জমাদিউস সানী ১৪৪৬ হিজরি ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

আজ ফজর শুরু হয়েছে ভোর ৫টা ০১ মিনিটে। জোহর ১১টা ৪৬ মিনিটে, আসর ৩টা ৩৫ মিনিটে, সূর্যাস্ত ৫টা ১১ মিনিটে এবং মাগরিবের সময় ৫টা ১৪ মিনিট। এশার নামাজ আদায় করা যাবে সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিট থেকে।

আগামীকাল শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) ফজরের সময় হবে ভোর ৫টা ০২ মিনিটে। তাহাজ্জুদ ও সেহরির শেষ সময় ৫টা ০১ মিনিট, আর সূর্যোদয় ৬টা ২২ মিনিটে।

বিভাগীয় শহরগুলোর জন্য সময়ের সামান্য পার্থক্য নির্ধারণ করে দিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ঢাকা সময়ের তুলনায় চট্টগ্রামে ৫ মিনিট এবং সিলেটে ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে। খুলনায় সময় যোগ হবে ৩ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট, রংপুরে ৮ মিনিট এবং বরিশালে ১ মিনিট।

সঠিক সময় জানা থাকলে নামাজ আদায় আরও সহজ হয় এবং মুসল্লিরা মসজিদে সময়মতো উপস্থিত হয়ে ফজিলতের অংশীদার হতে পারেন।


শক্তিশালী হয়েও ভূমিকম্পে যেভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল ইতিহাসের তিনটি জাতি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৬ ২০:৫৩:১১
শক্তিশালী হয়েও ভূমিকম্পে যেভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল ইতিহাসের তিনটি জাতি
ছবিঃ সংগৃহীত

চোখের পলকে একটি আস্ত জনপদ মাটির নিচে তলিয়ে যাওয়া কিংবা আকাশচুম্বী অট্টালিকা ধুলোয় মিশে যাওয়া ইতিহাসের পাতায় এমন ঘটনা নিছক কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে এমন কিছু জাতির কথা যারা তাদের শক্তি সম্পদ এবং অহংকারের চূড়ায় পৌঁছেও রক্ষা পায়নি আল্লাহর গজব থেকে। সীমালঙ্ঘন আর পাপাচারের শাস্তি হিসেবে তাদের ওপর নেমে এসেছিল ভয়াবহ ভূমিকম্প যা মুহূর্তের মধ্যে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল তাদের অস্তিত্ব।

নবী সালেহ আ. এর জাতি কওমে সামুদ ছিল তৎকালীন সময়ের এক অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী জাতি। তারা পাহাড় কেটে বিশাল সব অট্টালিকা তৈরি করত যা তাদের স্থাপত্যশৈলী ও শক্তির প্রমাণ দিত। কিন্তু সম্পদের প্রাচুর্য তাদের অন্ধ করে দিয়েছিল। তারা আল্লাহর একত্ববাদকে অস্বীকার করে এবং নিজেদের শক্তি নিয়ে দম্ভ করতে থাকে। তাদের হেদায়েতের জন্য আল্লাহ যখন নবী সালেহ আ. কে পাঠালেন তখন তারা তাঁকে উপহাস করে অলৌকিক নিদর্শন দাবি করে। আল্লাহর নির্দেশে পাহাড় ভেদ করে বেরিয়ে আসে এক অলৌকিক উটনী। কিন্তু সামুদ জাতির কিছু অবাধ্য লোক সেই উটনীকে হত্যা করে আল্লাহর সতর্কবার্তাকে অমান্য করে। এর পরিণতি হয় ভয়াবহ। এক বিকট শব্দ ও প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পে পুরো জাতি ধ্বংস হয়ে যায় এবং তাদের শক্তপোক্ত ঘরবাড়িগুলোই তাদের কবরস্থানে পরিণত হয় যেখানে তারা মুখ থুবড়ে পড়ে রইল।

অন্যদিকে নবী শুয়াইব আ. এর জাতি মাদিয়ানবাসীরা ছিল মূলত ব্যবসায়ী। কিন্তু তাদের বাণিজ্যের মূলধন ছিল প্রতারণা। তারা ওজনে কম দিত মানুষের অধিকার হরণ করত এবং আল্লাহর বিধান নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রূপ করত। নবী শুয়াইব আ. তাদের সততার পথে আহ্বান জানালে তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করে এবং নিজেদের কুকর্ম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। তাদের এই অন্যায়ের শাস্তি হিসেবে আল্লাহর পক্ষ থেকে নেমে আসে প্রচণ্ড এক ভূমিকম্প। মুহূর্তের মধ্যে ধুলিসাৎ হয়ে যায় তাদের সাজানো জনপদ। যারা নবীর কথায় কর্ণপাত করেনি এবং পাপে লিপ্ত ছিল তারা নিজ নিজ ঘরেই মৃত অবস্থায় পড়ে রইল।

কওমে লুত বা নবী লুত আ. এর জাতির অপরাধ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং জঘন্য। তারা এমন এক পাপাচার বা সমকামিতায় লিপ্ত হয়েছিল যা ইতিহাসের আর কোনো জাতি আগে করেনি। নবী লুত আ. তাদের বারবার সতর্ক করলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করে এবং তাঁকে নিয়ে উপহাস করে। অবশেষে আল্লাহর আদেশে ফেরেশতারা এসে সেই জনপদকে উল্টে দেন। একই সঙ্গে তাদের ওপর বর্ষিত হয় পোড়ামাটির পাথর। তাফসীর অনুযায়ী ভূমিকম্প বজ্রপাত ও পাথর বৃষ্টির এক সম্মিলিত শাস্তিতে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় তাদের সভ্যতা এবং পৃথিবীর বুক থেকে মুছে যায় তাদের নামনিশানা।

সামুদ মাদিয়ান এবং লুত এই তিনটি জাতিই ছিল তাদের সময়ের শ্রেষ্ঠ এবং শক্তিশালী। কিন্তু যখনই তারা ন্যায় নীতি ও স্রষ্টার বিধান লঙ্ঘন করে পাপের সাগরে ডুবেছে তখনই তাদের জন্য পৃথিবী হয়ে উঠেছে শাস্তির এক ভয়াল ক্ষেত্র। তাদের এই ধ্বংসের ইতিহাস আজও মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে শক্তি বা সম্পদ নয় বরং ন্যায় ও সত্যের পথই কেবল চূড়ান্ত মুক্তির দিশা দিতে পারে।


২৬ নভেম্বরের নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৬ ১০:৩৫:৫৬
২৬ নভেম্বরের নামাজের সময়সূচি
ছবি: সংগৃহীত

আজ বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫; বাংলা তারিখ ১১ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ এবং হিজরি ০৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৭। দিনের সূচনায় রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা থেকে প্রকাশিত নামাজের সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিটি নামাজের সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ভোরের প্রথম আলো থেকে রাতের শেষ প্রহর পর্যন্ত সময় অনুযায়ী ইবাদত পুরণের সুযোগ-সুবিধা জানাতে এই সময়সূচি মুসল্লিদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

আজ জোহরের সময় শুরু হবে সকাল ১১টা ৪৯ মিনিটে, যখন সূর্য মধ্যগগনে অবস্থান করতে থাকে। এরপর দুপুর গড়িয়ে বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে শুরু হবে আসর নামাজের সময়, যা দিনের দ্বিতীয়ার্ধের ইবাদতের সূচক। দিনের আলো নিভে আসার মুহূর্তে মাগরিবের সময় নির্ধারিত হয়েছে বিকেল ৫টা ১৪ মিনিটে, ঠিক সূর্যাস্তের পরপরই।

রাতে এশার নামাজের সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে, যা দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততা শেষে শীতলতার সঙ্গে রাতের ইবাদতে নিবেদিত হওয়ার আহ্বান জানায়। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ফজরের সময় শুরু হবে ভোর ৫টা ০৬ মিনিটে, আর নতুন দিনের সূচনা হিসেবে আগামীকাল ঢাকায় সূর্যোদয় হবে সকাল ৬টা ২১ মিনিটে। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ১১ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।


পশ্চিম আকাশে সূর্যোদয় ও দাজ্জালসহ কেয়ামতের ১০টি ভয়াবহ আলামত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৫ ১৮:৪৯:৩৫
পশ্চিম আকাশে সূর্যোদয় ও দাজ্জালসহ কেয়ামতের ১০টি ভয়াবহ আলামত
ছবিঃ সংগৃহীত

আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিনকে বিভিন্ন নামে নামকরণ করেছেন যেন মানুষ সেটাকে স্মরণে রেখে উপদেশ গ্রহণ এবং এ বিষয়ে চিন্তা করে। এগুলোর অন্যতম হলো বিচার দিবস ফায়সালার দিন হিসাবের দিন পরিতাপের দিন মহাসমাবেশের দিন এবং পুনরুত্থান দিবস। মহাগ্রন্থ আল কোরআনে বলা হয়েছে কেয়ামতের দিন হবে এক ভয়াবহ ও বিভীষিকাময় দিন এবং এই ভয়াবহতা যে কত ব্যাপক হবে তা কল্পনা করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন সেদিন মানুষ বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মতো হবে। অন্য আয়াতে তিনি বলেন যেদিন কেয়ামত উপস্থিত হবে সেদিন মানুষ পলায়ন করবে তার ভাই থেকে এবং তার মা বাবা স্ত্রী ও সন্তান থেকে। সেদিন তাদের প্রত্যেকের অবস্থা হবে গুরুতর যা তাকে সম্পূর্ণভাবে ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে। রাব্বুল আলামিন আরও বলেন হে মানুষ তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো। কেয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়ংকর ব্যাপার। যেদিন তোমরা তা প্রত্যক্ষ করবে সেদিন প্রত্যেক স্তন্যধাত্রী তার দুগ্ধপোষ্য শিশুর কথা ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী নারী গর্ভপাত করে ফেলবে। আর তুমি মানুষকে দেখবে মাতালের মতো অথচ তারা নেশাগ্রস্ত নয়। মূলত আল্লাহর শাস্তি খুব কঠিন হওয়ায় মানুষের অবস্থা এরূপ হবে।

হাদিস শরীফে এসেছে হজরত আয়েশা রা. বলেন আমি মহানবী সা. কে বলতে শুনেছি কেয়ামতের দিন মানুষ উলঙ্গ হয়ে খতনাবিহীন অবস্থায় কবর থেকে হাশরের ময়দানে এসে দাঁড়াবে। এ কথা শুনে আমি জিজ্ঞেস করলাম হে আল্লাহর রাসুল নারী পুরুষ সবাই কি উলঙ্গ থাকবে কারণ এমন হলে তো খুবই লজ্জার ব্যাপার। উত্তরে হুজুর সা. বললেন হে আয়েশা সেদিনের পরিস্থিতি এত ভয়ংকর হবে যে কেউ কারও দিকে তাকানোর কথা কল্পনাও করতে পারবে না।

ভয়াবহ এই কেয়ামত কবে কখন হবে তা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। তবে রাসুল সা. কেয়ামতের কিছু আলামত বলে গিয়েছেন যা দুই ধরনের তথা ছোট আলামত ও বড় আলামত। সর্ববৃহৎ ১০টি আলামত সম্পর্কে হাদিসে এসেছে হজরত হুজাইফা ইবনে উসাইদ রা. জানান তাঁরা রাসুল সা. এর কামরার ছায়ায় বসে কথা বলছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে কেয়ামতের ব্যাপারে আলোচনা উঠলে আওয়াজ উঁচু হয়ে যায়। তখন রাসুল সা. বললেন কেয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না সেটার পূর্বে ১০টি নিদর্শন প্রকাশ পাবে।

এই নিদর্শনগুলো হলো পৃথিবীর পূর্বপ্রান্তে ভূখণ্ড ধস পশ্চিমপ্রান্তে ভূখণ্ড ধস আরব উপদ্বীপে ভূখণ্ড ধস ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়া দাজ্জালের প্রকাশ দাব্বাতুল আরজ প্রকাশ পাওয়া ইয়াজুজ মাজুজ বের হওয়া পশ্চিমপ্রান্ত হতে সূর্যোদয় হওয়া এবং সর্বশেষ আদন দেশের প্রান্ত হতে আগুন উত্থিত হবে যা লোকেদের তাড়িয়ে এক স্থানে একত্রিত করবে। শুবাহ রহ. বলেন এ বর্ণনায় দশম আলামতের কথা উল্লেখ নেই। তবে অন্য বর্ণনায় দশম আলামত হিসেবে কোথাও ঈসা আ. এর অবতরণের কথা উল্লেখ রয়েছে আবার কোথাও উল্লেখ করা হয়েছে যে সর্বশেষ এমন দমকা হাওয়া প্রবাহিত হবে যা মানুষকে উড়িয়ে নিয়ে সমুদ্রে নিক্ষেপ করবে।


কোরআন–হাদিসে গিবতের ভয়াবহ শাস্তির বর্ণনা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৫ ১১:০৬:৩৫
কোরআন–হাদিসে গিবতের ভয়াবহ শাস্তির বর্ণনা
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে গিবত বা পরনিন্দাকে যে ভয়ংকর গুনাহ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। একজন মুসলমানের অনুপস্থিতিতে তার এমন দোষ-ত্রুটি বলা, যা সে নিজে শুনলে অপছন্দ করবে, ইসলামে সেটাকেই গিবত বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের সামনে গিবতের পরিচয় তুলে ধরে বলেন, “তোমার ভাইয়ের এমন বিষয় উল্লেখ করা, যা সে অপছন্দ করে, সেটাই গিবত।” সাহাবিরা জানতে চাইলে যে দোষটি সত্যিই ওই ব্যক্তির মধ্যে থাকলে কী হবে, তখন তিনি জানান, সেটাই গিবত। আর যদি দোষটি তার মধ্যে না থাকে, তাহলে তা মারাত্মক অপবাদ বা ‘বুহতান’।

কোরআনে আল্লাহ তায়ালা গিবতকে অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সুরা হুজুরাতে বলা হয়েছে, “তোমাদের কেউ কি মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবে? নিশ্চয়ই তোমরা তা ঘৃণা করবে।” এই আয়াতের মধ্য দিয়ে গিবতের ভয়াবহতা ও নিন্দনীয় অবস্থানকে চিত্রায়িত করা হয়েছে। অন্যদিকে সুরা হুমাজায় নিন্দুক, কুৎসাকারী ও অন্যের সম্মানহানিকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির ঘোষণা দিয়ে বলা হয়েছে যে তাদের হুতামায় নিক্ষেপ করা হবে, যা আল্লাহর জ্বালানো আগুন, এবং হৃদপিণ্ড পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।

হাদিসেও গিবতকারীদের ভয়াবহ পরিণতির কথা এসেছে। মহানবী (সা.) মিরাজে যাওয়ার সময় তামার নখওয়ালা একদল মানুষকে দেখেন, যারা নিজেদের মুখ ও বুক ক্ষতবিক্ষত করছে। এদের পরিচয় জানতে চাইলে জিবরাইল (আ.) জানান, “এরা দুনিয়ায় মানুষের মাংস ভক্ষণ করত,” অর্থাৎ গিবত করত এবং তাদের সম্মানহানি করত। আরও একটি হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে যে, কোনো মুসলমানের গিবতের বিনিময়ে যে ব্যক্তি এক গ্রাস খাদ্য গ্রহণ করবে, তাকে কিয়ামতে সমপরিমাণ জাহান্নামের আগুন খাওয়ানো হবে।

ইসলামে গিবত করা যেমন হারাম, তেমনি গিবত শোনা সমপরিমাণ পাপ। ইমাম নববি (রহ.) বলেন, গিবত শুনলে মুসলমানের দায়িত্ব হলো গিবতকারীকে বিরত করা। মুখে নিষেধ করতে না পারলে হাত দিয়ে বাধা দেবে, আর যদি তাও সম্ভব না হয়, তাহলে সেই মজলিশকে তৎক্ষণাৎ ত্যাগ করবে। কারণ গিবত শোনাকে সমর্থন করা নিজেই অপরাধ।

আলেমরা মনে করেন, আজকের সমাজে পিছনে কারও দোষ আলোচনা করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে কটূক্তি করা, নিজের মতবিরোধে অন্যের গোপন বিষয় প্রকাশ সবই গিবতের আওতায় পড়ে। অথচ অনেকে এসবকে অপরাধই মনে করেন না। ধর্মীয় শিক্ষার অভাব ও আত্মশুদ্ধির ঘাটতির কারণে মানুষ সহজেই পরনিন্দায় যুক্ত হচ্ছে, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে অশান্তি বাড়াচ্ছে।


২৫ নভেম্বর, আজকের নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৫ ১০:০৪:৩২
২৫ নভেম্বর, আজকের নামাজের সময়সূচি
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ নামাজ মুসলমানের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতগুলোর একটি। সময়মতো নামাজ আদায় করা শুধু ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। হাদিসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি নামাজের সময় আগেই মসজিদে উপস্থিত হয়ে নামাজের জন্য অপেক্ষা করে ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করতে থাকেন। তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময় মতো আদায় করা এবং নিয়মিতভাবে মসজিদে উপস্থিত হওয়া।

আজ সোমবার ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ইংরেজি ১০ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বাংলা এবং ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৭ হিজরি। ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিচে তুলে ধরা হলো।

ঢাকা ও আশপাশের নামাজের সময়

ফজর ৫টা

জোহর ১১টা ৪৯ মিনিট

আসর ৩টা ৩৫ মিনিট

মাগরিব ৫টা ১৪ মিনিট

ইশা ৬টা ৩১ মিনিট

আজ সূর্যাস্ত ৫টা ১১ মিনিট

আজ সূর্যোদয় ৬টা ২০ মিনিট

বিভিন্ন বিভাগের সময়সূচি ঢাকার সঙ্গে কিছুটা ভিন্ন হয়। তাই বিভাগীয় সময় নির্ধারণে নিচের মতো যোগ বা বিয়োগ করতে হবে।

বিয়োগ করতে হবে

চট্টগ্রাম ০৫ মিনিট

সিলেট ০৬ মিনিট

যোগ করতে হবে

খুলনা ০৩ মিনিট

রাজশাহী ০৭ মিনিট

রংপুর ০৮ মিনিট

বরিশাল ০১ মিনিট


তিন জিকিরে গুনাহ মাফ ও জান্নাতের সুসংবাদ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৪ ১০:৩৯:০১
তিন জিকিরে গুনাহ মাফ ও জান্নাতের সুসংবাদ
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে আল্লাহর জিকিরকে বলা হয় মুমিনের অস্ত্র, হৃদয়ের ওষুধ এবং রূহের খাদ্য। বিশেষত কিছু জিকির রয়েছে যেগুলোর গুরুত্ব কোরআন-হাদিসে অত্যন্ত জোর দিয়ে বলা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো- “সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি”, “সুবহানাল্লাহিল আযীম”, “আস্তাগফিরুল্লাহ”।

এই তিনটি পবিত্র বাক্য মুমিনের আখেরাত ও দুনিয়ার জন্য অসীম কল্যাণ ও বরকতের দুয়ার খুলে দেয়।

আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সহজতম উপায়—আস্তাগফিরুল্লাহ

“আস্তাগফিরুল্লাহ” এমন একটি বাক্য, যার মাধ্যমে বান্দা সরাসরি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়। ইসলামের শিক্ষা হলো, আল্লাহ কখনো বান্দাকে হতাশ করেন না। একজন ব্যক্তি যদি আন্তরিকতার সঙ্গে বারবার এই দোয়া পড়েন, আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেন।

নবী করিম (সা.) নিজেও প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ বার ইস্তেগফার করতেন এটাই বলে দেয় এর গুরুত্ব কতটা। এই বাক্য মুমিনের জীবনে ভেতরের অন্ধকার দূর করে দেয়, হৃদয়কে করে আলোকিত।

আমলনামায় পাহাড়সম সওয়াব লিখিত হয়

“সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি” এবং “সুবহানাল্লাহিল আযীম”- এই দুই বাক্যকে হাদিসে বলা হয়েছে “দুইটি অতি প্রিয় বাক্য, জিহ্বায় হালকা, কিন্তু আমলনামায় অত্যন্ত ভারী।” মানুষ দিনে অল্প কিছু সময় ব্যয় করে জিকির করলে প্রতিদিনের আমলে যুক্ত হয় অসাধারণ সওয়াব, যা পরকালে মুমিনের জান্নাতের ওজন বাড়াবে। সওয়াব অর্জনের এতো সহজ মাধ্যম খুব কমই আছে।

জান্নাতে খেজুর গাছ রোপণ—অমূল্য পুরস্কার

নবী করিম (সা.) হাদিসে বলেছেন, “যে ‘সুবহানাল্লাহিল আযীম ওয়া বিহামদিহি’ পাঠ করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছ রোপণ করা হয়।” জান্নাতে একটি গাছ মানে অনন্তকালের জন্য একটি সম্পদ, একটি মর্যাদা এবং একটি ঘর রোপণ। এই পুরস্কার এতটাই মূল্যবান যে, দুনিয়ার সব সম্পদ দিয়েও তার সমতুল্য পাওয়া অসম্ভব। শুধু একটি বাক্য আর জান্নাতে রোপিত হয় এক মূল্যবান সৌগাত।

হৃদয়ে শান্তি, আত্মায় প্রশান্তি

আল্লাহর জিকিরে রয়েছে মনে প্রশান্তি। কোরআনে আছে- “নিঃসন্দেহে আল্লাহর স্মরণেই অন্তরের প্রশান্তি।” এই দোয়াগুলো পড়লে মানুষের ভেতরের দুশ্চিন্তা, স্ট্রেস, ভয় ও মানসিক ভারসাম্যহীনতা দূর হয়। আজকের ব্যস্ত জীবনে জিকিরই হতে পারে মনকে স্থির রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

প্রতিদিন ১০০ বার পাঠ—সৃষ্টিকুলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মর্যাদা

হাদিসে এসেছে, যদি কেউ সকালে ১০০ বার, সন্ধ্যায় ১০০ বার “সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযীম আস্তাগফিরুল্লাহ” পাঠ করে তাহলে সৃষ্টিকুলের মধ্যে তার মর্যাদা সবচেয়ে বেশি হবে, যদি না কেউ তার চেয়ে বেশি জিকির করে। এটি এমন এক আমল, যা খুব কম সময় নিয়েই মুমিনকে পৌঁছে দেয় উচ্চ মর্যাদায়।

মুমিনের জীবনে আধ্যাত্মিক শক্তি যোগায় এই দোয়া

এই তিন দোয়া আল্লাহর পবিত্রতা, মহত্ত্ব ও ক্ষমার স্বীকৃতি দেয়। এগুলো মুমিনকে আল্লাহর আরও কাছে নিয়ে যায়। জিকিরের ফজিলত শুধু দুনিয়ার নয় আখেরাতেও তার প্রভাব অসীম। নিয়মিত পাঠ করলে মানুষ হয়ে ওঠে পরিশুদ্ধ, বিনম্র, আল্লাহভীরু ও আল্লাহভক্ত।

দোয়াগুলো জীবনের জন্য বরকতের উৎস

এই জিকির মুমিনের জীবনে নিয়ে আসে-

  • রিজিকে বরকত
  • গুনাহের পরিশুদ্ধতা
  • অন্তরে শান্তি
  • পরিবারের জন্য রহমত
  • দুনিয়া–আখেরাত উভয়ের সুসংবাদ

আল্লাহর স্মরণ ছাড়া সত্যিকারের শান্তি ও প্রশান্তি পাওয়া যায় না।

জিকিরের গুরুত্ব: সবচেয়ে সহজ, কিন্তু ফলাফল সবচেয়ে বড়

এই তিন দোয়া এমন, যা-

  • কম সময়ে পড়া যায়
  • মুখে সহজ
  • নিয়মিত পাঠ করা যায়
  • এবং যার ফজিলত অপরিমেয়

একজন মুমিনের উচিত প্রতিদিনের রুটিনে জিকিরকে অন্তর্ভুক্ত করা।এর মাধ্যমে হৃদয় হয় পরিশুদ্ধ, মন হয় শান্ত এবং জীবন হয় আল্লাহর রহমতে পরিপূর্ণ।

পাঠকের মতামত:

ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়তে হলে রাষ্ট্রকে অবশ্যই তার সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা পুনরুদ্ধার করতে হবে

ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়তে হলে রাষ্ট্রকে অবশ্যই তার সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা পুনরুদ্ধার করতে হবে

রাষ্ট্রের ধারণাটি একসময় কেবল প্রশাসনিক ক্ষমতা, আইনের শাসন এবং নিরাপত্তা প্রদানের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। কিন্তু আধুনিক বিশ্বে রাষ্ট্রের ভূমিকা এখন... বিস্তারিত