৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৭ ০৮:৫৩:৫৩
৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন?
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট একই দিনে আয়োজনের সিদ্ধান্ত এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। নির্বাচন কমিশন তিনটি সম্ভাব্য তারিখ বিবেচনায় রেখেছে ৫, ৮ এবং ১২ ফেব্রুয়ারি। এর মধ্যে ৮ ফেব্রুয়ারিকেই কমিশন প্রাধান্য দিচ্ছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ওই দিনই সারাদেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবার তফসিল ঘোষণার সময় থেকে ভোটগ্রহণের সময়সীমা কিছুটা বাড়িয়ে প্রায় দুই মাস রাখা হচ্ছে। কমিশন সূত্র বলছে, ৭ অথবা ৮ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে তফসিল ঘোষণা করবেন।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হবে। আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলও নিশ্চিত করেন যে নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল একইদিনে প্রকাশ করা হবে। এর আগে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেছিলেন, ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকেই একসঙ্গে নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন করা হবে। এদিকে উপদেষ্টা পরিষদ অনুমোদিত ‘গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫’ জারির পর গণভোট আয়োজনের পূর্ণাঙ্গ আইনগত কাঠামো এখন নির্বাচন কমিশনের হাতে রয়েছে।

এবারের গণভোটে ভোটারদের ‘জুলাই চার্টার’ নামে পরিচিত সাংবিধানিক সংস্কার ইস্যুতে একটি প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে হবে। সংসদ নির্বাচনে ব্যবহৃত ব্যালট হবে সাদা এবং গণভোটে রঙিন ব্যালট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে দেশের মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ১ হাজার ২৩৪ জন। এবার প্রবাসী ভোটাররা অ্যাপের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালটে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে পারবেন। পাঁচ কোটির বেশি তরুণ এবার প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন এবং তারা নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

ভোটগ্রহণের জন্য ইসি ইতোমধ্যে সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র এবং ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭৩৯টি ভোটকক্ষ চূড়ান্ত করেছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে গড়ে প্রায় তিন হাজার ভোটারের জন্য ভোট প্রদানের ব্যবস্থা থাকবে। এদিকে নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আট লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর এক লাখ সদস্য নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন এবং বিজিবির ১ হাজার ২১০ প্লাটুন মাঠে থাকবে। সারা দেশকে লাল, হলুদ এবং সবুজ জোনে ভাগ করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে এবং ভোটের আগে-পরে ১০ দিন সেনা মোতায়েন করা হবে।

নির্বাচন কমিশন একই দিনে ভোট ও গণভোট পরিচালনার সক্ষমতা যাচাই করতে আগামী শনিবার শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ মক ভোটিংয়ের আয়োজন করছে। এতে বুথ ও ভোটকক্ষের সংখ্যা বৃদ্ধি, ভোটার ব্যবস্থাপনা এবং ব্যালট ব্যবস্থাপনা কতটা সময়সাপেক্ষ হবে, তা মূল্যায়ন করা হবে। কমিশনের লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি নির্বিঘ্ন নির্বাচন আয়োজন করা, যাতে ভোটারদের কোনো ধরনের ভোগান্তি না হয়।

ইসির আইনগত কাঠামোয় বেশকিছু নতুন বিধান সংযোজন করা হয়েছে। আদালত ঘোষিত পলাতক কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। প্রার্থীর হলফনামায় বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে দিতে হবে। আচরণবিধি ভঙ্গের ক্ষেত্রে জরিমানা বাড়িয়ে দেড় লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একক প্রার্থী থাকলে ‘না’ ভোটের বিকল্প চালু করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন পরিবেশবান্ধব প্রচারণার ওপর গুরুত্ব দিয়ে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে, তবে ছোট আকারের প্রচারপত্র ব্যবহার করা যাবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারকে নির্বাচনি অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে সোশ্যাল মিডিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষ মনিটরিং ডেস্কও গঠন করা হবে।

নির্বাচনের সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখতে ইসি অনেক আগেই ২৭ ধরনের সামগ্রী সংগ্রহ করেছে। ব্যালট বাক্স, অমোচনীয় কালি, সিল, প্যাডসহ প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম ইতোমধ্যে গুদামে মজুত রয়েছে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য তিন লাখের বেশি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স প্রয়োজন হবে, যার বড় অংশই আগে থেকেই প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত ব্যালট বাক্সও তৈরি করা হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি নিয়েও সরব আলোচনা চলছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত কর্মকাণ্ডের কারণে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণ নিয়েও কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। এদিকে বিএনপি ২৩৭টি সম্ভাব্য আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। জামায়াতে ইসলামী ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও ১৫০ আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করতে পারে। বেশকিছু ইসলামি এবং বামপন্থী দল বিএনপির সঙ্গে সমন্বয় করছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি আজ চার দলকে নিয়ে একটি নতুন জোট ঘোষণার পরিকল্পনা করছে।

সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হবে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন শুরু থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল। মক ভোটিংয়ের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের সব বাস্তবতা যাচাই করে চূড়ান্ত সমন্বয় করা হবে। এদিকে নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ জানিয়েছেন, ভোটের তারিখ নির্বাচন করতে আলোচনা চলছে এবং কমিশনের সভা শেষে তারিখ চূড়ান্ত করে জানানো হবে।

সবশেষে কমিশনের আরেক সদস্য আবদুল রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই নির্বাচন ও গণভোটের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য এ বছর একটি স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ এবং সর্বোপরি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া।

সূত্রঃ আমার দেশ পত্রিকা


অন-অ্যারাইভাল ভিসা স্থগিত ঘোষণা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ২১:০৮:৫৬
অন-অ্যারাইভাল ভিসা স্থগিত ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং বিদেশিদের অনিয়ন্ত্রিত আগমন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ‘অন-অ্যারাইভাল ভিসা’ সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন যে, নির্বাচনের সময় অনেক সময় এমন কিছু মানুষ দেশে আসার চেষ্টা করেন যারা কাম্য নয় এবং তাদের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। মূলত এই বিশেষ নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করেই সাময়িকভাবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, নিয়মিত প্রক্রিয়ায় দূতাবাস থেকে ভিসা সংগ্রহ করে বিদেশিদের বাংলাদেশে আসার পথ খোলা রয়েছে; কেবল তাৎক্ষণিক ভিসা প্রদানের বিষয়টিই এখন স্থগিত থাকবে।

একই ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বাহরাইনে একটি বাসায় বসে পোস্টাল ব্যালট গণনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান যে, বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে এবং এটি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত এই ঘটনাটি নিয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন। এটি নির্বাচনের স্বচ্ছতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গাজায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ বা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশের সৈন্য পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে উপদেষ্টার কাছে দীর্ঘ সময় জানতে চাওয়া হয়। এ বিষয়ে তৌহিদ হোসেন একটি অত্যন্ত নীতিগত ও স্পষ্ট বার্তা প্রদান করেন। তিনি জানান যে, গাজায় ফোর্স পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং বিষয়টি কেবল প্রাথমিক আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিনটি কঠোর শর্তের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, কোনো অবস্থাতেই প্রতিকূল পরিবেশে বাংলাদেশ সেখানে যাবে না। প্রথমত, বাংলাদেশ কোনো অবস্থাতেই সেখানে যুদ্ধ করতে বা লড়াইয়ে অংশ নিতে যাবে না। দ্বিতীয়ত, সেখানে এমন একটি শক্তিশালী ও সুনির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকতে হবে যাদের সাথে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব হবে। এই সব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এবং আলোচনার ফলাফল ইতিবাচক না হলে বাংলাদেশ গাজা মিশনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে না।

মিয়ানমার সীমান্তে চলমান সংঘাত ও সেখানে জান্তা বাহিনীর সাথে বিদ্রোহীদের লড়াইয়ের ফলে উদ্ভূত উত্তজনা নিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বর্তমান কূটনৈতিক পদক্ষেপের কথা জানান। তিনি বলেন যে, সীমান্তে অস্থিতিশীলতা ও সংঘাতের প্রতিবাদে ইতোমধ্যে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কড়া আপত্তি জানানো হয়েছে। তবে সীমান্তের বর্তমান অবস্থার সুনির্দিষ্ট ও মুহূর্তের তথ্য এই মুহূর্তে তার কাছে নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপদেষ্টা জানান যে, এই বিষয়টি মূলত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান নিবিড়ভাবে তদারকি করেন। বর্তমানে তিনি ব্যক্তিগত কারণে দেশের বাইরে অবস্থান করায় মাঠ পর্যায়ের সবশেষ বিস্তারিত তথ্যগুলো তিনি দেশে ফেরার পর আরও সঠিকভাবে জানানো সম্ভব হবে। সরকার সীমান্ত পরিস্থিতি সজাগ দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ফিরলে এ বিষয়ে আরও বড় পদক্ষেপ বা তথ্য জানা যাবে।


গণভোটই হবে ফ্যাসিবাদ ঠেকানোর প্রধান হাতিয়ার: আলী রীয়াজ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ২০:৫৭:১৫
গণভোটই হবে ফ্যাসিবাদ ঠেকানোর প্রধান হাতিয়ার: আলী রীয়াজ
ছবি: সমকাল

নতুন করে দেশ পুনর্গঠন এবং দীর্ঘ ১৬ বছরের লুটপাট ও দুর্নীতির অবসান ঘটাতে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রংপুরের আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান।

গণভোট সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে তিনি বলেন, এই ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে আগামী দিনে তরুণ প্রজন্মের কাছে কেমন বাংলাদেশ হস্তান্তর করা হবে।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ তার বক্তব্যে দেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের মাধ্যমেই নতুন বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। তিনি বলেন, “তরুণরা যদি একটি নতুন এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পেতে চায়, তবে তাদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমেই সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

জুলাই আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরে অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, জুলাই সনদ কেবল কাগজে লেখা কোনো দলিল নয়। এটি শহীদদের রক্ত দিয়ে লেখা একটি পবিত্র অঙ্গীকার। তিনি আরও যোগ করেন, “এই সনদের প্রতিটি লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে গণভোটে জনগণের রায় অত্যন্ত জরুরি। শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে আমাদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।”

গণভোটের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অধ্যাপক আলী রীয়াজ স্পষ্ট করেন যে, এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলকে ক্ষমতায় বসানোর লড়াই নয়। বরং এটি দেশের দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের লড়াই। তিনি বলেন, “গণভোটে কোনো ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া হচ্ছে না। জনগণ যদি এই সংস্কারে সম্মতি দেয়, তবে কোনো রাজনৈতিক দলেরই ক্ষমতা থাকবে না সেই সংস্কার প্রক্রিয়াকে আটকে রাখার।”

তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছর ধরে জনগণের টাকা যেভাবে লুটপাট হয়েছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের মাধ্যমে সেই দুর্নীতির পথ অনেকাংশেই বন্ধ করা সম্ভব হবে।

ভবিষ্যতে দেশে যাতে পুনরায় কোনো ফ্যাসিবাদী শাসনের উত্থান না ঘটে, সে বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন অধ্যাপক রীয়াজ। তিনি মনে করেন, গণভোটই হচ্ছে ফ্যাসিবাদ ঠেকানোর অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। তার মতে, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই কেবল আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে পারে।

রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আরেক বিশেষ সহকারী মনির হায়দারসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে গণভোট নিয়ে সচেতনতা আরও বাড়বে।


গাজা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সরকারের শর্ত: যা বললেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ১৮:৫৬:০৪
গাজা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সরকারের শর্ত: যা বললেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
ছবি : সংগৃহীত

গাজায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ (আইএসএফ) বা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। তবে এই প্রস্তাব নিয়ে বর্তমানে উচ্চপর্যায়ে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা সরকারের এই অবস্থানের কথা পরিষ্কার করেন।

তিনটি কঠোর শর্তে অনড় ঢাকা গাজা মিশনে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, আইএসএফ বাহিনীতে শেষ পর্যন্ত কারা থাকবে বা কারা থাকবে না, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে এই মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি তিনটি সুনির্দিষ্ট শর্তের ওপর নির্ভর করছে।

উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, "মূল কথা হলো, আমরা তিনটি শর্তের কথা জানিয়েছি। যেকোনো পরিস্থিতিতে এই পরিবেশ সৃষ্টি না হলে আমরা সেখানে যাব না। আমরা ওখানে লড়াই করতে বা যুদ্ধে অংশ নিতে যাব না। যদি এমন কোনো পরিবেশ থাকে যেখানে কারও সাথে যোগাযোগ সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রেও আমরা যাব না। আমাদের এই শর্তগুলো অত্যন্ত পরিষ্কার।" তিনি আরও জানান, পরিবেশ অনুকূল হলে তবেই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী চিন্তাভাবনা করা হবে।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে এসে এ ধরনের বড় আন্তর্জাতিক জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে চলে আসছে সত্য, তবে রাষ্ট্র ও সরকার কিন্তু থেকে যায়। একটি সরকার পরিবর্তন হলেই মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু বদলে যায় না।" এর মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা রক্ষার ইঙ্গিত দেন।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ রাখার বিষয়ে উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সাময়িকভাবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া চীনের সহায়তায় বাংলাদেশের সামরিক অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্য কোনো দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ বাংলাদেশ নেবে না। মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সীমান্তে হতাহতের ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

বিতর্কের প্রেক্ষাপট গাজায় প্রস্তাবিত এই আন্তর্জাতিক বাহিনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আগ্রহের কথা প্রথম জানান অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরে ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

ফিলিস্তিনের দীর্ঘদিনের মিত্র ও ‘বন্ধু’ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ কেন মার্কিন প্রস্তাবিত একটি বাহিনীতে যোগ দিতে চাইছে, বিশেষ করে এটি যদি জাতিসংঘের সরাসরি তত্ত্বাবধানে না হয়—তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে প্রেস সচিব শফিকুল আলমও অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।


ওষুধের বাজারে উত্তাপ: কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণনে লাগাম টানছে সরকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ১০:০৮:০৩
ওষুধের বাজারে উত্তাপ: কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণনে লাগাম টানছে সরকার
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসার ব্যয়ের বোঝা কমাতে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগের তালিকাভুক্ত ১৩৫টি ওষুধের পরিবর্তে এখন ২৯৫টি ওষুধকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে তালিকায় থাকা প্রতিটি ওষুধের মূল্য রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হবে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের এই হালনাগাদ তালিকা এবং ওষুধের মূল্য নির্ধারণ নীতির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান জানান, পূর্বের তালিকার সাথে নতুন করে আরও ১৩৫টি ওষুধ যুক্ত করায় এখন মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৫টি।

সরকারের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, এই ২৯৫টি ওষুধ দেশের অন্তত ৮০ শতাংশ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্য চাহিদা মেটাবে এবং সাধারণ মানুষের ৮০ শতাংশ রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই তালিকা চূড়ান্ত করার আগে ওষুধ বিশেষজ্ঞ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি, গবেষক এবং ওষুধ শিল্প মালিকসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে পৃথক আলোচনা ও সুপারিশ গ্রহণ করা হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মোট স্বাস্থ্যব্যয়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ব্যয় হয় ওষুধের পেছনে। এই ব্যয়ের বোঝা কমাতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রীতিনীতি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মেনেই নতুন নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ওষুধের দাম পুনর্নির্ধারণ না করায় অনেক কোম্পানি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল। এর পরিবর্তে তারা ‘ইন্ডিকেটিভ প্রাইস’ (আইপি) ওষুধের ওপর জোর দিত, যেগুলোর দাম কোম্পানিগুলো নিজেরা নির্ধারণ করতে পারে। চিকিৎসকরাও এই বেশি দামের ওষুধগুলো বেশি লিখতেন, ফলে বাজারে সস্তা অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।

অধ্যাপক হামিদ আরও বলেন, নতুন ফর্মুলাভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি কার্যকর হলে কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণন বা মার্কেটিং কার্যক্রম কমে আসবে। যেহেতু দাম নির্দিষ্ট থাকবে, তাই অতিরিক্ত মার্কেটিং খরচ করলে তা কোম্পানির নিজস্ব মুনাফা থেকেই দিতে হবে, যা ওষুধের দাম বাড়িয়ে উসুল করার সুযোগ থাকবে না।

সরকারের এই নতুন তালিকায় জনস্বাস্থ্যের ব্যাপক উপকারের কথা বলা হলেও ওষুধ শিল্প মালিকদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব এবং ডেল্টা ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাকির হোসেন অভিযোগ করেছেন যে, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বা মূল্য নির্ধারণ নীতি নিয়ে মন্ত্রণালয় তাঁদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি।

তিনি জানান, তাঁরা প্রাইসিং সাব-কমিটির কাছে গিয়ে প্রস্তাব দিয়ে আসলেও চূড়ান্ত তালিকায় কোন ওষুধগুলো রাখা হয়েছে বা দাম নির্ধারণের পলিসি কী—সে বিষয়ে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। কেবল গণমাধ্যমের মাধ্যমেই তাঁরা বিষয়টি জানতে পেরেছেন।

সব মিলিয়ে, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের এই বিশাল তালিকা এবং কঠোর মূল্য নিয়ন্ত্রণ নীতি বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা খরচ অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।


সরকারি কর্মচারীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা, কোন গ্রেডে কত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১৪:৫৪:০৮
সরকারি কর্মচারীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা, কোন গ্রেডে কত
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো নিয়ে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত নতুন পে স্কেল ঘোষণার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার। অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে নির্বাচন–পূর্ব সময়ে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা সম্ভব নয় বলে সরকার স্পষ্ট করেছে। তবে পে স্কেল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য একটি স্বস্তির বার্তা দিয়েছে সরকার—নতুন কাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা বহাল থাকবে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক চাপ ও আসন্ন ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার পে স্কেল ঘোষণার ঝুঁকি নিতে চায়নি। নির্বাচন আয়োজন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তবে পে স্কেল প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়নি। বরং কমিশনকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বাস্তবসম্মত কাঠামো প্রস্তুত করা যায়। কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে এবং নির্বাচন শেষে দায়িত্ব গ্রহণকারী নতুন সরকারের কাছে তা হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।

সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সময়ের স্বল্পতা এবং ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির কারণে নির্বাচন–পূর্ব সময়ে নতুন পে স্কেল ঘোষণার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা নেই। ফলে আপাতত বিদ্যমান বেতন কাঠামোর আওতায় সরকারি চাকরিজীবীরা যে সুযোগ–সুবিধা পাচ্ছেন, সেটিই বহাল থাকবে।

এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে স্কেল ঘোষণা করার প্রশ্নই ওঠে না। তার মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়া বাস্তবসম্মত নয় এবং এতে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বেতন কমিশনকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, কমিশনের সুপারিশ ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য একটি নীতিগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

২০২৫ সালে মহার্ঘ ভাতা নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা হয়। ওই বছরের ১ জুলাই থেকে মহার্ঘ ভাতা ঘোষণার বিষয়টি গুরুত্ব পায় এবং বাজেট–পরবর্তী আলোচনায় প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য ১৫ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০ গ্রেডের কর্মীদের জন্য ২০ শতাংশ হারে ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব আসে। তবে পরবর্তীতে সরকার ভাতা কাঠামোর পরিবর্তে পুরো পে স্কেল পুনর্গঠনের দিকেই অগ্রসর হয়।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এখন সিদ্ধান্ত হয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীরা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন। সে হিসাবে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মীরা ১৫ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০ গ্রেডের কর্মীরা ২০ শতাংশ হারে ভাতা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা অষ্টম জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন–ভাতা পাচ্ছেন, যা ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছিল। এর আগে ২০০৯ সালের ১ জুলাই সপ্তম বেতনকাঠামো ঘোষণা করা হয়। সাধারণত পাঁচ বছর পরপর নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার রেওয়াজ থাকলেও অষ্টম বেতনকাঠামোর পর প্রায় নয় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন কাঠামো কার্যকর হয়নি।

এই দীর্ঘ বিরতির ফলে অনেক সরকারি কর্মচারীর বেতন গ্রেড সর্বোচ্চ ধাপে পৌঁছে গেছে। একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের ৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে, যা এখনো চালু রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান–এর নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনের মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা, যা জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তেই প্রায় সমাপ্ত হবে। ফলে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপরই বর্তাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

-রাফসান


স্বৈরাচার ঠেকাতে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার সুপারিশ: আলী রীয়াজ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১২:১৭:১২
স্বৈরাচার ঠেকাতে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার সুপারিশ: আলী রীয়াজ
ছবি : সংগৃহীত

ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কোনো ব্যক্তিবিশেষের পক্ষে স্বৈরাচার হয়ে ওঠা রোধ করতেই দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, দেশের বিদ্যমান রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বারবার একক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়েছে। এই প্রবণতা বন্ধ করতে ব্যক্তিবিশেষের ওপর নির্ভর না করে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমেই এর মোকাবিলা করতে হবে।

গতকাল সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন এই সভার আয়োজন করে।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ তার বক্তব্যে ‘জুলাই সনদে’ বর্ণিত উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠিত হলে একদিকে যেমন সকল দল ও জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে, তেমনি সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রেও সকলের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা এমন একটা রাষ্ট্র চেয়েছিলাম যেখানে সমতা, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু গত ৫৪ বছরেও সেই রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারিনি। দলীয় বিবেচনায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে ব্যক্তিতান্ত্রিক ক্ষমতার লোভ চরিতার্থ করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের তরুণরা এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার একটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

আসন্ন গণভোটকে রাষ্ট্র সংস্কারের ‘ভিত্তি তৈরির নির্বাচন’ হিসেবে অভিহিত করেন আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, রাষ্ট্র ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তনগুলোকে যদি আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি দিতে হয়, তবে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় প্রয়োজন। ভবিষ্যতে আর যেন কোনো ফ্যাসিবাদ জন্ম নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করা সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব।

একই সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার এক কঠোর সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, “গণভোট যদি ব্যর্থ হয়, তবে পরের বার আপনার-আমার সন্তানকে জীবন দিতে হবে। ফ্যাসিবাদ পথ চিনে গেছে, তাই তা খুব দ্রুতই আবার ফিরে আসতে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে জুলাই সনদ ও গণভোটে জনগণের সম্মতি অপরিহার্য।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের প্রচারে কোনো বিধিনিষেধ নেই উল্লেখ করে মনির হায়দার সরকারি কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, এই ভোটে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রার্থী নেই, এটি জাতীয় এজেন্ডা। এ বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক, রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান এবং রাজশাহী পুলিশ কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান। সভায় বিভাগের সকল জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।


পে-স্কেল নিয়ে দুঃসংবাদ! বড় সিদ্ধান্তের পথে সরকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ২১:১২:৩৪
পে-স্কেল নিয়ে দুঃসংবাদ! বড় সিদ্ধান্তের পথে সরকার
ছবি : সংগৃহীত

দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল বা নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন এক সমীকরণ। দেশের চলমান আর্থিক সংকট এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার আপাতত নতুন পে-স্কেল ঘোষণা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে জাতীয় বেতন কমিশনকে তাদের সুপারিশমালা ও একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পে-কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা থেকে জানা গেছে, আগামী ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কমিশনের চূড়ান্ত সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করে প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হবে। কমিশন মূলত বেতনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ধাপের অনুপাত ১:৮ চূড়ান্ত করার পথে রয়েছে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১ টাকা হলে সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন হবে ৮ টাকা।

সর্বনিম্ন বেতন কত হতে পারে? নতুন কাঠামোতে সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিনটি পৃথক প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়েছে

প্রথম প্রস্তাব: ২১ হাজার টাকা।

দ্বিতীয় প্রস্তাব: ১৭ হাজার টাকা।

তৃতীয় প্রস্তাব: ১৬ হাজার টাকা। কমিশন মূল্যস্ফীতি এবং একটি পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬ জন ধরে ব্যয়ের হিসাব কষছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উভয়েই জানিয়েছেন, নির্বাচনের ঠিক আগে এমন বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। অর্থ উপদেষ্টা জানান, নির্ধারিত সময়ে কমিশন প্রতিবেদন জমা দিলেও এটি কার্যকর করার দায়িত্ব থাকবে নতুন সরকারের ওপর। তবে অন্তর্বর্তী সরকার একটি সময়োপযোগী কাঠামো তৈরি করে যাবে। নির্বাচনের আগে সরকারি কর্মচারীরা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন। মূলত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে কোনো বড় ধরণের আর্থিক চাপ নিতে চাইছে না বর্তমান প্রশাসন।


বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের ৪ প্রেস কর্মকর্তাকে অব্যাহতি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১৭:২১:৫১
বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের ৪ প্রেস কর্মকর্তাকে অব্যাহতি

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে দায়িত্বরত চারজন প্রেস কর্মকর্তাকে অবিলম্বে তাঁদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি নিয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট চার কর্মকর্তা হলেন মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বাংলাদেশ কন্স্যুলেট জেনারেল অফিসের প্রথম সচিব (প্রেস) মো. আরিফুর রহমান, সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (প্রেস) আসাদুজ্জামান খান এবং জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (প্রেস) মো. ইমরানুল হাসান।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে, এই কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াটি গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়েছিল। ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে এই ৪ কর্মকর্তাকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ১৩ এপ্রিল সেই আদেশটি সাময়িকভাবে বাতিল করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট মিশনগুলোতে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে উল্লিখিত প্রতিটি মিশনে নতুন প্রেস কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের অনুকূলে প্রয়োজনীয় আর্থিক সরকারি আদেশও জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে এই কর্মকর্তাদের আবশ্যিকভাবে এবং অবিলম্বে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি নিতে হবে। পরবর্তী পদায়নের লক্ষ্যে তাঁদের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর প্রেস উইংয়ের কাজে নতুন গতিশীলতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে এবং প্রবাসীদের সাথে যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে নতুন কর্মকর্তারা দ্রুতই তাঁদের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।


শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বড় কাটছাঁট : আরএডিপির নতুন চিত্র

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১৭:০৩:৩৩
শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বড় কাটছাঁট : আরএডিপির নতুন চিত্র
ছবি : সংগৃহীত

আজ শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চলতি অর্থবছরের জন্য ২ লাখ কোটি টাকার সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মূল এডিপির তুলনায় এটি প্রায় ১৩ শতাংশ বা ৩০ হাজার কোটি টাকা কম। পরিকল্পনা কমিশনের তথ্যানুযায়ী, সরকারি অর্থায়ন অংশে ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান অংশে ১৪ হাজার কোটি টাকা কাটছাঁট করা হয়েছে। ফলে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে বরাদ্দ হয়েছে ৭২ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি এবং মন্ত্রণালয়গুলোর চাহিদাপ্রাপ্তি কম হওয়ায় এই বরাদ্দ কমানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশোধিত এডিপিতে খাতভিত্তিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে স্বাস্থ্য খাত। বাস্তবায়ন সক্ষমতার অভাব এবং প্রশাসনিক ধীরগতির কারণে এই খাতে বরাদ্দ মূল বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ৭৪ শতাংশ কমানো হয়েছে। ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ এখন মাত্র ৪ হাজার ৭১৮ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। একইভাবে শিক্ষা খাতে ৩৫ শতাংশ এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে বড় ধরণের কাটছাঁট করা হয়েছে। অন্যদিকে ব্যতিক্রম হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিবেশ ও পানি সম্পদ খাতে ২০ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, যা সরকারের পরিবেশবান্ধব নীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বরাদ্দের দিক থেকে বরাবরের মতোই শীর্ষে রয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত। মোট ৩৮ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে এই খাতটি মোট এডিপির এক-পঞ্চমাংশ দখল করে আছে। তবে এই খাতেও মূল বরাদ্দের তুলনায় ৩৫ শতাংশ অর্থ কমানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দে স্থানীয় সরকার বিভাগ ৩৭ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা পেয়ে সবার উপরে রয়েছে। বর্তমান সংশোধিত কর্মসূচিতে মোট ১ হাজার ৩৩০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে চলতি অর্থবছরেই ২৮৬টি প্রকল্প সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন যুক্ত করলে আরএডিপির মোট আকার দাঁড়ায় ২ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত