ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে এসেছি তাই যা ধরি শেষ করে ছাড়ি বলে হুঙ্কার মমতার

ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর পরিচালনায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন যদি ভোটার তালিকা থেকে একটিও নাম বাদ যায় তবে তিনি বিজেপির সরকার ভেঙে দেবেন।
সম্প্রতি বিমান সংস্থার লাইসেন্সসংক্রান্ত ত্রুটির কারণে হেলিকপ্টার উড়তে না পারার ঘটনায় আরও একবার তিনি নিজের ক্ষোভ ঝাড়লেন বিজেপির ওপর। ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির উদ্দেশে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন ওরে আমার সাথে খেলতে যাস না।
মূলত পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী হেলিকপ্টারে করে বনগাঁ যাওয়ার কথা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু বিমান সংস্থার লাইসেন্সসংক্রান্ত ত্রুটির কারণে শেষ মুহূর্তে হেলিকপ্টারটি উড়তে না পারায় শেষ পর্যন্ত সড়কপথেই অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে হয় তাঁকে। মঙ্গলবার তিনি বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁয় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বিরোধী কর্মসূচিতে অংশ নেন।
জানা গেছে মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগের দিন হেলিকপ্টারটির মহড়া হয়েছিল এবং তখন লাইসেন্সজনিত কোনো সমস্যার কথা জানানো হয়নি। কিন্তু সফরের ঠিক আগে মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয় যে হেলিকপ্টারটি উড়তে পারবে না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিজেপিকে হুঙ্কার দেন মুখ্যমন্ত্রী।
বনগাঁর সভায় তিনি বিদ্রূপের সুরে প্রথমে ক্ষমা চেয়ে নেন কারণ তাঁর আসতে একটু দেরি হয়েছে। এরপর তিনি বলেন দেরি হওয়ার পেছনে একটা মজা আছে। বহু মাস তিনি হেলিকপ্টার ব্যবহার করেন না। অনেকগুলো অনুষ্ঠান থাকায় সেদিন তাঁর হেলিকপ্টারে করে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু হঠাৎ খবর এলো হেলিকপ্টার যাবে না। তিনি মন্তব্য করেন নির্বাচন তো শুরুই হয়নি তার আগেই সংঘাত শুরু হয়ে গেল।
বিজেপিকে লক্ষ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন তিনি বিজেপিকে বারবার বলেন তাঁর সাথে যেন খেলতে না আসে। নিজের রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করে মমতা যোগ করেন তিনি ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে এসেছেন। তিনি বলেন যা ধরেন শেষ না করা পর্যন্ত ছাড়েন না। সুতরাং তাঁর হেলিকপ্টার বাতিল করলেও তাঁর কিছু যায় আসে না বরং তিনি সড়কপথেই মানুষের কাছে পৌঁছে যাবেন।
যুদ্ধ থামেনি, আরও বড় হামলার বার্তা দিল ইসরায়েল
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ইরানকে ঘিরে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এখনো শেষ হয়নি এবং সামনে আরও কঠিন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সামরিক নেতৃত্বও জানিয়েছে, পরিস্থিতির প্রয়োজন হলে আরও বড় পরিসরের অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইসরায়েলের হাতজেরিম বিমানঘাঁটিতে বিমানবাহিনীর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আকাশে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা ইসরায়েলের কৌশলগত অগ্রাধিকার। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অস্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ভারসাম্য রক্ষায় এই সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ইঙ্গিত দেন যে, চলমান সংঘাতকে সমাপ্ত বলে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বরং সামনের সময়কে আরও জটিল বলে উল্লেখ করে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ধরে রাখার আহ্বান জানান।
একই অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামির বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয়। তার দাবি, নতুন পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও বিস্তৃত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তিনি সেনাসদস্যদের সর্বক্ষণ প্রস্তুত থাকার নির্দেশনাও দেন।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজও একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, প্রয়োজন দেখা দিলে ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বা তৃতীয় দফার সামরিক অভিযান চালানোর সক্ষমতা ইসরায়েলি বাহিনীর রয়েছে। তিনি দাবি করেন, সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় বিমানবাহিনীসহ পুরো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। এর আগে পাকিস্তরের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে গেছে। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার খবর সামনে এসেছে। ওয়াশিংটন এসব অভিযানের যৌক্তিকতা তুলে ধরলেও তেহরান সেগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং আগ্রাসী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। সেই সংঘাতের প্রতিক্রিয়ায় ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছিল।
-রাফসান
ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনার দাবি, কী বলছে ইসরাইল?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনা করছে ইরান—এমন দাবি করেছে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা। বিষয়টি নিয়ে ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে আগেই সতর্ক করেছে বলেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এ দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকার কিংবা ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি, ফলে অভিযোগটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এমন কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছে, যার ভিত্তিতে তারা ট্রাম্প প্রশাসনকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে অবহিত করেছে। ওই তথ্যে দাবি করা হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এদিকে সিএনএন-এর এক পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের শেয়ার করা গোয়েন্দা তথ্যটি শুধু সাধারণ হুমকি নয়; বরং ট্রাম্পকে হত্যার একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মার্কিন কর্মকর্তারা মূল্যায়ন করছেন। তবে ওই পরিকল্পনার প্রকৃতি, সম্ভাব্য বাস্তবায়ন পদ্ধতি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এ পর্যন্ত হোয়াইট হাউস, মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থা কিংবা তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না আসায় অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
এর আগেও ওয়াশিংটন একাধিকবার অভিযোগ করেছিল যে, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে কয়েকটি হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনা করেছিল এবং মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সেসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। যদিও ইরান অতীতেও এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
চলতি সপ্তাহে ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিতে তুরস্ক সফরকালে ট্রাম্প নিজেও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরান তাকে তাদের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে এবং এ কারণে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অবনতি এবং ইসরাইলকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই নতুন দাবি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এমন অভিযোগ সামনে এলে কূটনৈতিক যোগাযোগ, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আরও বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হতে পারে।
তবে এ মুহূর্তে প্রকাশিত তথ্যের বেশিরভাগই গোয়েন্দা সূত্রভিত্তিক দাবি। যেহেতু সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি, তাই ঘটনাটির প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হতে আরও সরকারি তথ্য ও স্বাধীন যাচাইয়ের অপেক্ষা করতে হবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, সিএনএন।
শান্তি চুক্তি ভেঙে ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হামলা চালাল আমেরিকা
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক সংঘাতকে আরও বিধ্বংসী রূপ দিয়ে ইরানের ওপর বোমাবর্ষণের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। টানা দ্বিতীয় রাতের মতো পরিচালিত এই ব্যাপক ও সুনির্দিষ্ট বিমান অভিযানে গত ৪৮ ঘণ্টায় ইরানের অভ্যন্তরে অন্তত ১৭০টি সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানার আনুষ্ঠানিক দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতার ইতিহাসে এটিকে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ একতরফা বিমান হামলা বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।
বুধবার (৮ জুলাই) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম তদারককারী প্রধান সংস্থা সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক জরুরি বিবৃতিতে জানায়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক সাধারণ নাবিকদের ওপর তেহরানের নিয়মিত হামলা চালানোর যে সক্ষমতা রয়েছে, তা চিরতরে অবশ ও দুর্বল করে দিতেই এই জোরালো সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেন্টকমের এই দাবির মধ্য দিয়েই মূলত বুধবার গভীর রাতেও ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো উপর্যুপরি বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখে।
মার্কিন এই ভয়াবহ আগ্রাসনের বিপরীতে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগপ্রধান হোসেন কেরমানপোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক পোস্টে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত ৭ ও ৮ জুলাই দেশের মোট পাঁচটি বড় প্রদেশে চালানো এই মার্কিন হামলায় এখন পর্যন্ত ১৪ জন ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও অন্তত ৭৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেন, দুই দেশের মধ্যে পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকা অবস্থাতেই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে মার্কিন বাহিনী এই কাপুরুষোচিত হামলা শুরু করেছে।
এদিকে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন যুদ্ধবিমানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তেহরানের সঙ্গে সংযুক্ত দেশের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত রেলসেতু সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এর ফলে সামরিক রসদ সরবরাহের প্রধান রুট ইরান-তেহরান রেল করিডরের একটি বড় অংশ মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এর পাশাপাশি ইরানের অত্যন্ত স্পর্শকাতর বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের আশপাশের এলাকাগুলো লক্ষ্য করেও মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
অথচ এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে, গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আরও বৃদ্ধি করতে এবং একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছিল। তবে বর্তমানের এই নজিরবিহীন ও ভয়াবহ হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় দুই দেশের সেই দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সমঝোতার ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি ভেস্তে গিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এই যুদ্ধাবস্থার সূত্রপাত মূলত হরমুজ প্রণালিতে একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি নৌবাহিনীর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ওই ঘটনার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে বিশ্বমঞ্চে একতরফা ঘোষণা দেন। আর এই ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ওপর এই ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে।
আক্রমণের পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প সরাসরি লেখেন, আগের দিন মার্কিন ও আন্তর্জাতিক জাহাজে ইরানি আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব হিসেবেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি তেহরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও বিধ্বংসী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যদিও এই আগ্রাসী বার্তার ঠিক আগেই তিনি এক ভাষণে বলেছিলেন, এই অভিযানটি কোনো দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রূপ নেবে না এবং খুব দ্রুতই তা শেষ হয়ে আসবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই অতর্কিত ও ভয়াবহ হামলার জবাবে হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি ইরানও; তারাও সমপরিমাণ পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পারস্য উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত শক্তিশালী পঞ্চম নৌবহরের (ফিফথ ফ্লিট) মূল সদর দপ্তরকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করলে গোটা বাহরাইন জুড়ে মার্কিন ঘাঁটিতে একাধিকবার রেড সাইরেন বেজে ওঠে এবং সেনারা বাঙ্কারে আশ্রয় নেয়। একই সময়ে কুয়েত ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর দিকেও ইরান একযোগে বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে জর্ডানের রাজকীয় সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব আকাশসীমা ভেদ করে মার্কিন ঘাঁটির দিকে ধেয়ে যাওয়া ইরানের কয়েকটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডান—এই চারটি দেশেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত বড় ও কৌশলগত সামরিক স্থাপনা ও বিমানঘাঁটি রয়েছে, যা এখন সরাসরি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
/আশিক
রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট: জার্মানিতে গরমে মৃত্যুর রেকর্ড
চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরু থেকে জুন মাসের শেষ নাগাদ ইউরোপের দেশ জার্মানিতে তীব্র ও ভয়াবহ তাপপ্রবাহের কারণে ৫ হাজার ১২০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বার্লিনভিত্তিক জনস্বাস্থ্যবিষয়ক বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট (আরকেআই) তাদের সর্বশেষ বিশেষ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
আরকেআই-এর প্রকাশিত বার্ষিক তাপজনিত মৃত্যুবিষয়ক এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের গ্রীষ্মে রেকর্ড হওয়া মৃত্যুর সংখ্যা দেশটির বিগত বছরগুলোর বার্ষিক গড় মৃত্যুর হারকে অনেক বড় ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেছে। পূর্ববর্তী ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যবর্তী বছরগুলোতে জার্মানিতে তীব্র গরমে গড়ে প্রায় ২ হাজার ৯০০ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল, যার তুলনায় এবারের পরিস্থিতি অনেক বেশি বিধ্বংসী। দেশটির ফেডারেল পরিসংখ্যান অফিসের মৃত্যুর রেকর্ড এবং জার্মান আবহাওয়া অধিদপ্তরের (ডিডব্লিউডি) সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
গবেষণা সংস্থাটির গাণিতিক অনুমান অনুযায়ী, মূলত গত ২২ থেকে ২৮ জুনের সপ্তাহটিতেই জার্মানিতে সবচেয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যায় এবং কেবল ওই এক সপ্তাহেই মৃত্যুর সংখ্যা ৪ হাজার ৩১০ জনে গিয়ে ঠেকে। ওই নির্দিষ্ট সময়ে ইউরোপের এই দেশটির বেশ কিছু অঞ্চলের তাপমাত্রা ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পার হয়ে গিয়েছিল। এর আগে এপ্রিলের শুরু থেকে ২১ জুন পর্যন্ত প্রাথমিক সময়ে রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট আনুমানিক ৮১০ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট করেছেন যে, ওই মৃত্যুর প্রায় সবগুলো ঘটনাই মূলত ১৫ থেকে ২১ জুনের মধ্যবর্তী চরম বৈরী সপ্তাহে রেকর্ড করা হয়েছিল।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বয়োবৃদ্ধ ও প্রবীণ ব্যক্তিরাই এই চরম ও অনাকাঙ্ক্ষিত আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গত ২৮ জুন পর্যন্ত তীব্র গরমে মৃতদের মধ্যে ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিক ছিলেন প্রায় ২6 হাজার ৯৫০ জন। এ ছাড়া বয়স বৃদ্ধির অন্যান্য ধাপে ৭৫ থেকে ৮৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ১ হাজার ৩২০ জন, ৬৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় ৫show শত ৫০ জন এবং ৬৫ বছরের কম বয়সী অপেক্ষাকৃত তরুণ ও যুবকদের মধ্যে আনুমানিক ৩০০ জন গরমে মারা গেছেন।
জার্মান আবহাওয়া অধিদপ্তর (ডিডব্লিউডি) জানিয়েছে, আবহাওয়ার নিয়মতান্ত্রিক রেকর্ড শুরু হওয়ার পর থেকে ২০১৯ সালের ঐতিহাসিক জুনের পর ২০২৬ সালের জুন মাসটি ছিল দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় উষ্ণতম ও উত্তপ্ত জুন। জুনের শেষের দিকে তীব্র দাবদাহের কারণে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত অতিক্রম করেছিল। এমনকি গত ২৭ জুন দেশটির ৪৬টি প্রধান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে তাপমাত্রা একযোগে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে নথিবদ্ধ করা হয়েছিল, যা দেশটির সামগ্রিক জনজীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনে।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
মার্কিন হামলার জবাবে এবার সরাসরি পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিল ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তেহরান কোনোভাবেই চুপ করে থাকবে না, বরং মার্কিন বাহিনীকে সমপরিমাণ পাল্টা আঘাত করা হবে বলে জোরালো হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের জাতীয় সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। একই সঙ্গে তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি কেবল এবং কেবলই ইরানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই উন্মুক্ত থাকবে, এখানে ওয়াশিংটনের কোনো ধরনের সামরিক হুমকি বা দাদাগিরি বরদাশত করা হবে না।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে তেহরানের এই অনমনীয় ও কঠোর অবস্থানের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় সরাসরি মার্কিন প্রশাসন ও পেন্টাগনকে উদ্দেশ্য করে স্পিকার গালিবাফ লিখেছেন, ওয়াশিংটন এখনো হয়তো অনুধাবন করতে পারেনি যে তাদের একতরফা দাদাগিরি, আন্তর্জাতিক আইন অমান্য ও শান্তি চুক্তি ভঙ্গের নীতি আর কখনো জবাবহীন বা পার পেয়ে যাবে না।
মার্কিন সামরিক ভীতি প্রদর্শনকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে ইরানি স্পিকার সরাসরি সতর্কবার্তা পাঠিয়েছেন যে, আঘাত করলে পাল্টা আঘাত পেতে হবে—এটাই তেহরানের বর্তমান নীতি। তিনি ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে অযথা উসকানি ও ছটফটানি বন্ধ করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, অন্যথায় মার্কিন বাহিনী এই অঞ্চলে এমন এক গভীর ও অন্তহীন সংকটে নিমজ্জিত হবে যা থেকে বের হওয়ার পথ তারা খুঁজে পাবে না। পারস্য উপসাগরের এই কৌশলগত সমুদ্রপথের ওপর ইরানের একক ও সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট করেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল ব্যবস্থা কেবল ইরানের নিজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনার অধীনেই সচল থাকবে এবং সেখানে মার্কিনদের কোনো অন্যায্য দাবি খাটবে না।
এই কূটনৈতিক বাদানুবাদ ও উত্তেজনার মধ্যেই মাঠপর্যায়ে সামরিক পদক্ষেপ জোরদার করেছে তেহরান। জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক জোটের কৌশলগত আজরাক বিমান ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একযোগে ১০টি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। এই ভয়াবহ ও সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে ইরানের এলিট সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
আইআরজিসির দেওয়া বিশেষ বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, জর্ডানের ওই ঘাঁটিতে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের মূল কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার বা প্রধান সামরিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এই নিখুঁত হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে আইআরজিসি মার্কিন প্রশাসনকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে আরও যোগ করেছে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে যদি হামলা অব্যাহত রাখা হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বাকি সব সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ক্রমান্বয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।
তারা স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, সন্ত্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী যদি ইরানের ভূখণ্ড বা স্বার্থে আবারও কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানোর ধৃষ্টতা দেখায়, তবে এই অঞ্চলের অন্য কোনো মার্কিন সামরিক ছাউনিই ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আওতা ও ভয়াবহ আঘাত থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারবে না।
/আশিক
যুক্তরাষ্ট্রকে গালিবাফের হুঁশিয়ারি, ‘হামলার জবাব হবেই’
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। এবার ওয়াশিংটনকে সরাসরি কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে এবং এই বাস্তবতা যুক্তরাষ্ট্রকে মেনে নিতে হবে।
বুধবার (৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো উপলব্ধি করতে পারেনি যে আগ্রাসন, আধিপত্যবাদ এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গেরও মূল্য দিতে হয়। তার ভাষায়, ইরানের ওপর হামলা চালানো হলে পাল্টা আঘাত অনিবার্য এবং তেহরান নিজেদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গেও কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন ইরানের স্পিকার। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ ইরানের নির্ধারিত নীতিমালার আওতাতেই পরিচালিত হবে। কোনো বিদেশি চাপ, হুমকি কিংবা সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গালিবাফ আরও বলেন, অযথা শক্তি প্রদর্শন পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলবে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যদি সংঘাত বাড়ানোর পথে এগোয়, তাহলে এর পরিণতিও তাদেরই বহন করতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলবে ইরানের শর্তে, কোনো বিদেশি শক্তির নির্দেশে নয়।
এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় অন্তত আটজন ইরানি সেনা নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোরে বন্দর আব্বাস ও বুশেহর এলাকায় পরিচালিত হামলায় নিহতরা দেশটির বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্য ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ‘শাস্তিমূলক প্রতিক্রিয়ার’ প্রথম ধাপে তাদের নৌ ও মহাকাশ ইউনিট যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান ও আলি আল সালেম সামরিক ঘাঁটি এবং বাহরাইনের জুফায়ের ও শেখ ইসা ঘাঁটি হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।
তবে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আইআরজিসির দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা ও কঠোর রাজনৈতিক বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাত তীব্র হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই, ইরনা, আইআরআইবি
ইরানে আরও ৯০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই নতুন মাত্রা পাচ্ছে। ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন করে প্রায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে—এমন সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতেই সর্বশেষ এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, অভিযানে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা, ড্রোন সংরক্ষণাগার, নৌ-সামরিক স্থাপনা এবং উপকূলজুড়ে সামরিক রসদ সরবরাহ অবকাঠামোসহ বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব স্থাপনা আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করছিল।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযান আগের রাতে পরিচালিত হামলার ধারাবাহিক অংশ। সেন্টকম বলছে, প্রথম দফার অভিযানের পর নতুন গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা হয় এবং পরবর্তী পর্যায়ে সেগুলোতে নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে।
এর মাত্র একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, তারা ইরানের ৮০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। সর্বশেষ অভিযানের পর দুই দিনের ব্যবধানে মার্কিন বাহিনীর দাবি অনুযায়ী হামলার সংখ্যা প্রায় ১৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছেছে। যদিও এসব দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, ইরান এই হামলাকে দেশটির সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করেছে। তেহরান ইতোমধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করে। ফলে সেখানে যেকোনো সামরিক সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। কূটনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ জোরদার না হলে পরিস্থিতি দ্রুত আরও জটিল রূপ নিতে পারে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার দাবি এবং লক্ষ্যবস্তুর সংখ্যা সেন্টকমের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে এসব দাবির পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতি বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
-রফিক
‘হত্যার তালিকায় আমি এক নম্বরে’- ট্রাম্প
ইরানকে ঘিরে আবারও উত্তপ্ত বক্তব্য দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের কথিত ‘হত্যার তালিকায়’ তার নাম শীর্ষে রয়েছে। একই সঙ্গে তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে প্রয়োজনে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তাজনিত বিবেচনায় কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া বোয়িং উড়োজাহাজে তিনি দেশে ফিরবেন না। পরিবর্তে পূর্বে এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত একটি উড়োজাহাজে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবেন।
আলোচনার একপর্যায়ে ট্রাম্প রসিকতার সুরে বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত একটি তথাকথিত তালিকায় হত্যার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তার নাম এক নম্বরে রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে এক নম্বরে থাকতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলেও মন্তব্য করেন।
ট্রাম্পের বক্তব্যে উঠে আসে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সাম্প্রতিক উত্তেজনার বিষয়টিও। তার অভিযোগ, জুন মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সমঝোতার পরও ইরান একাধিকবার চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে।
তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার স্থাপনা এবং নৌ-সম্পদে হামলা চালায়। পরবর্তীতে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে এসব হামলায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি বলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানান ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকবে বলে তিনি মনে করেন না। তার দাবি, তেহরান ধারাবাহিকভাবে এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা ওই সমঝোতার পরিপন্থী।
ট্রাম্প আরও বলেন, প্রয়োজন দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক অভিযান পরিচালনা করবে। তার দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক অভিযানে এক রাতেই ইরানের ২৮টি নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
তার ভাষায়, ইরানের হাতে যদি পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, তবে তারা তা ব্যবহার করত বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। তাই কূটনৈতিক আলোচনা সফল না হলেও যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে আপসহীন থাকবে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সক্ষমতা রাখে। পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া তিনি বলেন, পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে ইরানের বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। যদিও ইরান এখন পর্যন্ত এসব দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সেগুলো তার বক্তব্য হিসেবেই উপস্থাপিত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: সামা টিভি
আজ রাতেও ইরানে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গত রাতে ইরানের ওপর অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুনির্দিষ্ট উপায়ে সামরিক বিমান হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই ধারা অব্যাহত রাখতে সম্ভবত আজ রাতেও ইরানের নির্দিষ্ট সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে আরও একটি ভয়াবহ ও বিধ্বংসী আক্রমণ চালানো হবে।
বুধবার (৮ জুলাই) তুরস্কে চলমান উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের এক ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে পাশে নিয়ে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, পূর্ববর্তী সংঘাতের পর তেহরানকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে একটি মৃদু বা সামান্য সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইরানি কর্তৃপক্ষ তাদের নীতি বা অবস্থানে কোনো ধরনের ইতিবাচক সংশোধন না আোনায় মার্কিন সামরিক বাহিনী আজ রাতেই তাদের ওপর পুনরায় বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করতে যাচ্ছে।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন জোটের দুই প্রধান মিত্র বাহরাইন ও কুয়েতের অন্তত ৮৫টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের পক্ষ থেকে আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই নজিরবিহীন হামলার ঘটনার পরপরই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে পূর্বঘোষিত সব ধরনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি সমাপ্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আঙ্কারায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ‘অশুভ ও নিকৃষ্ট মানুষদের শাসন’ বলে বর্ণনা করেন এবং দেশটির পুরো প্রশাসনকে ‘উন্মাদ’ বলে অভিহিত করেন।
তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ইরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সব সুযোগ এখন চিরতরে শেষ হয়ে গেছে। তিনি আর দেশটির প্রশাসনের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক বা যোগাযোগ রাখতে চান না। একই সঙ্গে কড়া ভাষায় ইরানিদের অত্যন্ত ক্ষতিকর ও দুষ্ট হিসেবে আখ্যায়িত করে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, এই ধরনের শাসনব্যবস্থা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি মরণব্যাধি ক্যানসারের মতো; আর সবাই ভালো করেই জানে যে শরীরকে বাঁচাতে হলে শুরুতেই সেই ক্যানসারকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরোপুরি ছেঁটে ফেলতে হয়।
সূত্র : এনবিসি নিউজ
পাঠকের মতামত:
- নাহিদ, আসিফ ও পাটওয়ারীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য নুরের
- টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে ভয়াবহ বিপর্যয়
- স্পেন-বেলজিয়াম মহারণ, সেমির টিকিট কার হাতে
- আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম
- ১৪ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে সংকেত
- উত্তরাঞ্চলে দুই নতুন নদীবন্দর নির্মাণে সরকারি ঘোষণা
- যুদ্ধ থামেনি, আরও বড় হামলার বার্তা দিল ইসরায়েল
- আজ মাঠে স্পেন-বেলজিয়াম, জমজমাট ক্রীড়া সূচি
- ৩৪ ম্যাচের অপরাজিত মরক্কোকে বিদায় দিল ফ্রান্স
- ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনার দাবি, কী বলছে ইসরাইল?
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, বাজুসের নতুন দামে বড় ছাড়
- শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট ও দোকান থাকবে বন্ধ
- শান্তি চুক্তি ভেঙে ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হামলা চালাল আমেরিকা
- রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট: জার্মানিতে গরমে মৃত্যুর রেকর্ড
- মার্কিন হামলার জবাবে এবার সরাসরি পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিল ইরান
- অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে নেওয়া ৬১ কোটির লুটপাটের প্রকল্প বাতিল ঘোষণা
- প্রাকৃতিক দুর্যোগে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক বিপর্যয়, ১৫ জনের প্রাণহানি
- ফিফার নতুন নিয়মের সুবিধা নিয়ে সেমিফাইনালের পথে চার পরাশক্তি
- দেশের ১৯ অঞ্চলে রাতের মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস
- অপ্টার সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস: বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠছে চার পরাশক্তি
- ডলারের দরপতনের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন
- আর্জেন্টিনার বিতর্কিত জয়ের পর মেসিকে ‘লুজার’ বলে তীব্র কটাক্ষ ভারতীয় অভিনেত্রীর
- সিলেটে বিএসএফের পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিল বিজিবি
- অনেক রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে: রিজভী
- শান্তি চুক্তি ভেঙে ইরানে দ্বিতীয় দিনের মতো আমেরিকার ব্যাপক বিমান হামলা
- শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় কোনো কূটনৈতিক ঘাটতি নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- আগামী ৫ বছরে বিদেশে ১ কোটি দক্ষ কর্মী পাঠানোর মেগা পরিকল্পনা সরকারের
- ৯ জুলাই ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- শেয়ারবাজারে বড় ধাক্কা, কোন ১০ শেয়ার সবচেয়ে দর বেশি কমল
- ডিএসইতে বিনিয়োগকারীদের নজর কাড়ল এই ১০ শেয়ার
- দেবিদ্বারের প্রতিটি ইউনিয়নে মাঠ উপহার প্রধানমন্ত্রীর, কী বলছেন বিএনপি নেতারা?
- বিশ্বকাপ ফাইনালে তারকাদের মহাউৎসব, জানুন বিস্তারিত
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, আবার কমল দেশের স্বর্ণের দাম
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে টানা ৯ দিনের ছুটি ঘোষণা
- যুক্তরাষ্ট্রকে গালিবাফের হুঁশিয়ারি, ‘হামলার জবাব হবেই’
- ইরানে আরও ৯০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের
- ফন্টেইনের ৬৮ বছরের রেকর্ড ভাঙবেন মেসি?
- ‘হত্যার তালিকায় আমি এক নম্বরে’- ট্রাম্প
- মেসির পেনাল্টি মিস নিয়ে তর্ক, সংঘর্ষে নিহত ১
- কুমিল্লা আন্তঃজেলার ৭ ডাকাত সর্দার গ্রেফতার খুন, ধর্ষণ, ডাকাতিসহ ১৫-২০টি করে মামলা
- ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের শীর্ষ পদ থেকে জাবের ও জুমার পদত্যাগ
- আজ রাতেও ইরানে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- এফবিআইয়ের কঠোর তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনার ফুটবল প্রশাসন
- আর্জেন্টিনার বিতর্কিত জয় নিয়ে এবার মুখ খুললেন বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তিরা
- মাঠের উত্তেজনা ছাড়িয়ে আর্জেন্টিনার জয়ে কাঠগড়ায় রেফারিং, জবাব দিলেন মেসি
- জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বৃহস্পতিবার থেকে নির্দিষ্ট এলাকায় ২৪ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধের ঘোষণা
- স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- মার্কিন প্রেসিডেন্টের এক ঘোষণায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস
- ঢাকার ট্রাফিক জট নিরসনে চার মাসের মেগা পরিকল্পনা কাঁচপুরে
- নির্বাচনে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ১১ দলকে হারানো হয়েছে: শফিকুর রহমান
- নরওয়ের বিপক্ষে নেইমার খেলবেন? জানালেন আনচেলত্তি
- ‘ইরান এখন সমঝোতায় মরিয়া’, খামেনির দাফনে ‘এক সপ্তাহ সময়’ দিলাম: ট্রাম্প
- আরাগচি-গালিবাফ হত্যাচেষ্টার খবর নাকচ ইসরায়েলের
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত ভরি
- ফন্টেইনের ৬৮ বছরের রেকর্ড ভাঙবেন মেসি?
- ‘নেতানিয়াহু জানেন, আসল বস কে’- ট্রাম্প
- ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’: সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার শিক্ষা
- ‘অন্য ভাষায় জবাব পাবেন’ ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান
- তাপপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু, এবার ঝড়-বন্যার নতুন শঙ্কা
- আমির-গৌরীর বিয়ে, আলোচনায় গৌরীর সম্পদের পরিমাণ
- দেশে ৯০ দিনের তেল মজুত, বড় পরিকল্পনা সরকারের
- খামেনির শোক র্যালিতে জনসমুদ্র, প্রতিশোধের লাল পতাকায় মুখর তেহরান
- ৫ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- স্বর্ণ কিনতে বাড়তি খরচ, কার্যকর নতুন মূল্যতালিকা
- ৬ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার








