হুয়াওয়ের ম্যাট ৮০ সিরিজে বিপ্লবী কিরিন ৯০৩০ চিপ উন্মোচন

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৬ ১১:১৬:০৯
হুয়াওয়ের ম্যাট ৮০ সিরিজে বিপ্লবী কিরিন ৯০৩০ চিপ উন্মোচন
ছবি: সংগৃহীত

চীনের প্রযুক্তি জায়ান্ট হুয়াওয়ে মঙ্গলবার তাদের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাট ৮০ সিরিজের স্মার্টফোন উন্মোচন করেছে, যেখানে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে স্বয়ং-উন্নত কিরিন ৯০৩০ এবং কিরিন ৯০৩০ প্রো চিপসেট। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চাপে নিজস্ব সেমিকন্ডাক্টর সক্ষমতা বৃদ্ধির যে প্রচেষ্টা কোম্পানিটি গত এক বছর ধরে চালিয়ে যাচ্ছে, এ লঞ্চ সেই কৌশলেরই বড় মাইলফলক।

হুয়াওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাট ৮০ প্রো-এর ১২ জিবি র‌্যাম সংস্করণে ব্যবহার করা হয়েছে কিরিন ৯০৩০ চিপ, আর ম্যাট ৮০ প্রো-এর ১৬ জিবি সংস্করণ, ম্যাট ৮০ প্রো ম্যাক্স এবং বিলাসবহুল ম্যাট ৮০ আরএস মডেল চালিত হচ্ছে আরও উন্নত কিরিন ৯০৩০ প্রো–তে। তবে সিরিজের বেসিক ম্যাট ৮০ মডেলে রয়ে গেছে পুরোনো কিরিন ৯০২০ প্রসেসর।

লাইভস্ট্রিম করা উন্মোচন অনুষ্ঠানে হুয়াওয়ে কনজিউমার বিজনেস গ্রুপের প্রধান রিচার্ড ইউ চেংডং দাবি করেন, কিরিন ৯০৩০ প্রো–সমৃদ্ধ ম্যাট ৮০ প্রো এবং প্রো ম্যাক্স গত বছরের ম্যাট ৭০ প্রো+–এর তুলনায় ৪২ শতাংশ বেশি পারফরম্যান্স দেয়। একইভাবে, কিরিন ৯০৩০ যুক্ত ম্যাট ৮০ প্রো ম্যাট ৭০ প্রো–এর তুলনায় ৩৫ শতাংশ দ্রুত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। যদিও চিপগুলোর অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তিগত নকশা সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি হুয়াওয়ে।

এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হলো কয়েক মাস ধরে চীনা টেক ব্লগ ও সংবাদমাধ্যমে চলমান জল্পনা হুয়াওয়ের নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোনে থাকছে সর্বাধুনিক নিজস্ব তৈরি চিপ। এর আগে পিউরা ৮০ সিরিজ এবং সেপ্টেম্বরে উন্মোচিত ম্যাট এক্সটিএস ফোল্ডেবল ডিভাইস চালাতে কিরিন ৯০২০ ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়।

ম্যাট ৮০ সিরিজে রয়েছে চারটি মডেল ম্যাট ৮০, ম্যাট ৮০ প্রো, ম্যাট ৮০ প্রো ম্যাক্স ও ম্যাট ৮০ আরএস যার প্রারম্ভিক দাম ৪,৬৯৯ ইয়ান (প্রায় ৬৬১ মার্কিন ডলার)। বেসিক ম্যাট ৮০ মডেলের দাম গত বছরের সমান র‌্যাম-স্টোরেজযুক্ত ম্যাট ৭০-এর তুলনায় কম, যা হুয়াওয়ের বাজার দখল কৌশলেরই আরেকটি ইঙ্গিত।

একই অনুষ্ঠানে হুয়াওয়ে তাদের নতুন ফোল্ডেবল হ্যান্ডসেট ম্যাট এক্স৭–ও উন্মোচন করেছে, যার দাম শুরু ১২,৯৯৯ ইয়ান থেকে। ক্রমবর্ধমান মেমোরি চিপমূল্যের বাজারে এই লঞ্চ দেশীয় প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

ইতোমধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী শাওমি সতর্ক করেছে যে আগামী বছর স্মার্টফোনের দাম বাড়তে পারে। মেমোরি চিপের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতিষ্ঠানটি অক্টোবরেই রেডমি কে৯০-এর দাম বাড়িয়েছে। শাওমির প্রেসিডেন্ট লু ওয়েইবিং বলেছেন, তারা পণ্যের মিশ্রণ উন্নত করে এবং গড় বিক্রয়মূল্য বাড়িয়ে বাজারে টিকে থাকার কৌশল নিচ্ছেন।

অন্যদিকে, অ্যাপলের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চীনে অক্টোবর মাসে আইফোন বিক্রি গত বছরের তুলনায় ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। সে মাসে চীনের মোট স্মার্টফোন বিক্রির এক-চতুর্থাংশই ছিল আইফোন, যা ২০২২ সালের পর অ্যাপলের সর্বোচ্চ মার্কেট শেয়ার।

শাওমি অক্টোবরে বাজারে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে, যা গত এক দশকের বেশি সময়ে প্রথম। তাদের ১৭ সিরিজ বিক্রি ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপরীতে, হুয়াওয়ের স্মার্টফোন বিক্রি অক্টোবরে ১৯ শতাংশ কমে গেছে যা ম্যাট ৮০ সিরিজের প্রতি বাড়তি প্রত্যাশা তৈরি করেছে।


জেগে উঠেছে মিল্কিওয়ের দানব! নাসার মহাকাশযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ২১:১৪:৪২
জেগে উঠেছে মিল্কিওয়ের দানব! নাসার মহাকাশযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে ২০২৬ সালটি একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের গ্যালাক্সির কেন্দ্রের কৃষ্ণগহ্বর ‘স্যাজিটারিয়াস এ-স্টার’-এর প্রকৃত আচরণ শনাক্ত করার মাধ্যমে। জাপান, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত আন্তর্জাতিক মহাকাশযান ‘এক্সআরআইএসএম’-এর পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এই কৃষ্ণগহ্বরটি আগে যতটা অলস মনে করা হতো, বাস্তবে তা মোটেও তেমন নয়। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রধান বিজ্ঞানী স্টিফেন ডিকারবি এবং তাঁর দল গবেষণায় দেখতে পেয়েছেন যে, গত এক সহস্রাব্দের মধ্যে এই কৃষ্ণগহ্বরটি বেশ কয়েকবার অত্যন্ত উচ্চমাত্রার বিকিরণ নিঃসরণ করেছে। এই আবিষ্কারটি বিজ্ঞানীদের সামনে মহাবিশ্বের বিবর্তন এবং গ্যালাক্সির কেন্দ্রের গতিশীলতা বোঝার এক নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে।

কৃষ্ণগহ্বর নিজে কোনো আলো ছড়ায় না কারণ এর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এতই প্রবল যে আলোও সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। তবে স্যাজিটারিয়াস যখন এর চারপাশে থাকা গ্যাস ও ধূলিকণা প্রচণ্ড টানে কাছে টেনে নেয়, তখন ঘর্ষণের ফলে উৎপন্ন তাপ থেকে শক্তিশালী এক্স-রে বিকিরণ তৈরি হয়। গবেষকরা গ্যালাক্সির কেন্দ্রের কাছে থাকা একটি বিশালাকার গ্যাস মেঘের দিকে নজর দিয়ে দেখতে পান যে, ওই মেঘটি আসলে অতীতে কৃষ্ণগহ্বর থেকে বেরিয়ে আসা এক্স-রে প্রতিফলিত করছে। এই বিরল ঘটনাটি মহাকাশে এক ধরণের ‘মহাজাগতিক আয়না’ হিসেবে কাজ করেছে, যার মাধ্যমে কয়েকশ বছর আগের মহাজাগতিক সক্রিয়তা এখন বিজ্ঞানীদের নজরে এল।

২০২৩ সালে উৎক্ষেপণের পর থেকে এক্সআরআইএসএম মহাকাশযানের উচ্চ সংবেদনশীল যন্ত্রগুলো মহাকাশ থেকে আসা এক্স-রে এবং মহাজাগতিক কণাগুলোকে নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হয়েছে। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, বিকিরণের উৎস কোনো বিচ্ছিন্ন নক্ষত্র নয় বরং খোদ কৃষ্ণগহ্বর নিজেই। ৪০ লাখ সূর্যের সমান ভরের এই দানবীয় কৃষ্ণগহ্বরের এমন অদ্ভুত ও সক্রিয় আচরণ আগে কখনো প্রমাণিত হয়নি। এই আবিষ্কার কেবল আমাদের গ্যালাক্সির ইতিহাসকে নতুন করে লিখতে সাহায্য করবে না, বরং মহাবিশ্বের অন্যান্য বিশাল কৃষ্ণগহ্বরগুলো কীভাবে কাজ করে সে সম্পর্কেও বিজ্ঞানীদের আরও গভীর ধারণা দেবে।


দিন-রাত কখন সমান হয় জানেন কি, জানুন বিজ্ঞানের  ব্যাখ্যা

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ২১:৩৮:১০
দিন-রাত কখন সমান হয় জানেন কি, জানুন বিজ্ঞানের  ব্যাখ্যা
ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীতে ঋতু পরিবর্তনের পেছনে যে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাগুলো কাজ করে, তার মধ্যে অয়ন (Solstice) ও বিষুব (Equinox) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই এই দুটি শব্দকে এক মনে করলেও বাস্তবে এগুলো একে অপরের বিপরীতধর্মী ঘটনা। সূর্যের তুলনায় পৃথিবীর অবস্থান ও কাতের ভিন্নতার কারণেই এই দুই প্রাকৃতিক ঘটনার সৃষ্টি হয়।

পৃথিবীর কাত ও ঋতুর জন্ম

পৃথিবী নিজের অক্ষে প্রায় ২৩.৫ ডিগ্রি কাত হয়ে সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তন করে। এই কাতের কারণেই বছরের বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশ সূর্যের আলো বেশি বা কম পায়। যদি পৃথিবী কাত না হতো, তাহলে সূর্য সারাবছর বিষুবরেখার ওপরেই অবস্থান করত, সব জায়গায় সমান আলো পড়ত এবং পৃথিবীতে কোনো ঋতু পরিবর্তন হতো না। সেই ক্ষেত্রে অয়ন বা বিষুব চিহ্নিত করারও প্রয়োজন পড়ত না।

বিষুব কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ

বিষুব (Equinox) বছরে দুইবার ঘটে একবার মার্চ মাসে (প্রায় ২১ মার্চ) এবং আরেকবার সেপ্টেম্বর মাসে (প্রায় ২৩ সেপ্টেম্বর)। এই দিনগুলোতে সূর্য ঠিক বিষুবরেখার ওপর অবস্থান করে। এর ফলে পৃথিবীর প্রায় সব জায়গায় দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান হয়।

উত্তর গোলার্ধে মার্চের বিষুবকে বলা হয় বসন্ত বিষুব, যা বসন্ত ঋতুর সূচনা করে। অন্যদিকে সেপ্টেম্বরের বিষুবকে বলা হয় শরৎ বিষুব, যা শরৎ ঋতুর শুরু নির্দেশ করে।

অয়ন কীভাবে দিন-রাতের চরমতা তৈরি করে

অয়ন (Solstice)-ও বছরে দুইবার ঘটে জুন এবং ডিসেম্বর মাসে। এই সময় সূর্যের অবস্থান বিষুবরেখা থেকে সবচেয়ে বেশি উত্তর বা দক্ষিণে সরে যায়।

  • গ্রীষ্ম অয়ন (২০ বা ২১ জুন): উত্তর গোলার্ধে বছরের সবচেয়ে দীর্ঘ দিন এবং সবচেয়ে ছোট রাত। এ সময় উত্তর মেরু সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকে এবং সূর্যের কিরণ কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে পড়ে।
  • শীত অয়ন (২১ বা ২২ ডিসেম্বর): উত্তর গোলার্ধে বছরের সবচেয়ে ছোট দিন এবং সবচেয়ে দীর্ঘ রাত। তখন সূর্যের কিরণ মকরক্রান্তি রেখার ওপর লম্বভাবে পড়ে।

দক্ষিণ গোলার্ধে এই সময়গুলোতে ঋতুর চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো থাকে।

অয়ন ও বিষুবের মৌলিক পার্থক্য

বিষুবের মূল বৈশিষ্ট্য হলো সমান দিন ও রাত, আর অয়নের বৈশিষ্ট্য হলো দিন বা রাতের চরম দৈর্ঘ্য। বিষুব ঋতুর ভারসাম্য নির্দেশ করে, আর অয়ন ঋতুর চূড়ান্ত অবস্থানকে প্রকাশ করে।

কেন এগুলো মানবজীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

অয়ন ও বিষুব শুধু জ্যোতির্বিজ্ঞানের ঘটনা নয়, কৃষি, আবহাওয়া, পরিবেশ ও মানবসভ্যতার সময় নির্ধারণে এগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে। হাজার বছর ধরে মানুষ এই দিনগুলোকে কেন্দ্র করে ফসলের সময়, উৎসব ও ক্যালেন্ডার নির্ধারণ করে আসছে।

সূত্র: ব্রিটানিকা


জ্বালানি সংকটে নতুন আশার আলো! সূর্য আর পানিতেই বাজিমাত বিজ্ঞানীদের

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ২১:৪০:৪৯
জ্বালানি সংকটে নতুন আশার আলো! সূর্য আর পানিতেই বাজিমাত বিজ্ঞানীদের
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে পরিবেশবান্ধব বা ‘সবুজ’ হাইড্রোজেন উৎপাদনের পথে অন্যতম প্রধান অন্তরায় ছিল ব্যয়বহুল ধাতু প্লাটিনামের ব্যবহার। তবে সেই চিরাচরিত ধারণা ভেঙে দিয়ে সুইডেনের চালমার্স ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির একদল বিজ্ঞানী কেবল পানি ও সূর্যালোক ব্যবহার করে হাইড্রোজেন গ্যাস তৈরির একটি বৈপ্লবিক ও সাশ্রয়ী পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। বিজ্ঞানবিষয়ক প্রভাবশালী সাময়িকী ‘অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস’-এ প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফলটি জ্বালানি খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাইড্রোজেনকে ভবিষ্যতের আদর্শ জ্বালানি বলা হয় কারণ এটি ব্যবহারের ফলে উপজাত হিসেবে কেবল পানি নির্গত হয়, যা পরিবেশের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করে না। কিন্তু এতদিন এই গ্যাস উৎপাদনে অনুঘটক হিসেবে প্লাটিনাম ব্যবহার করতে হতো, যা অত্যন্ত বিরল এবং মূলত দক্ষিণ আফ্রিকা ও রাশিয়ার খনি থেকে উত্তোলিত হয়। প্লাটিনাম উত্তোলনের প্রক্রিয়াটি যেমন পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি এর আকাশচুম্বী মূল্যের কারণে বাণিজ্যিকভাবে সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদন করা ছিল অত্যন্ত কঠিন। এই বাণিজ্যিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই সুইডিশ বিজ্ঞানীরা ভিন্ন পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন।

প্লাস্টিকের জাদুতে জ্বালানি উৎপাদন সুইডিশ গবেষক দলটি প্লাটিনামের বিকল্প হিসেবে বিশেষ এক ধরণের পরিবাহী প্লাস্টিকের ‘ন্যানোপার্টিকল’ বা অতি ক্ষুদ্র কণা তৈরি করেছেন। এই গবেষণা দলের প্রধান অধ্যাপক এরগ্যাং ওয়াং জানিয়েছেন, তাঁরা প্লাস্টিকের আণবিক গঠন এমনভাবে পরিবর্তন করেছেন যাতে এটি পানির সাথে সহজেই মিশে যেতে পারে। এই রূপান্তরিত প্লাস্টিক কণাগুলো সূর্যালোক শোষণ করে পানির অণুকে ভেঙে হাইড্রোজেন গ্যাসে রূপান্তর করতে সক্ষম। ল্যাবরেটরিতে করা পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাধারণ পানিভর্তি পাত্রে এই কণাগুলো মিশিয়ে তার ওপর সূর্যালোক ফেললে মুহূর্তের মধ্যেই হাইড্রোজেনের বুদ্‌বুদ তৈরি হতে শুরু করে।

গবেষকদের দাবি অনুযায়ী, এই পদ্ধতির দক্ষতা অবিশ্বাস্য। মাত্র এক গ্রাম ওজনের এই বিশেষ প্লাস্টিক উপাদান ব্যবহার করে এক ঘণ্টায় প্রায় ৩০ লিটার হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব। এই উদ্ভাবনটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে হাইড্রোজেন উৎপাদনের খরচ যেমন কয়েক গুণ কমে আসবে, তেমনি বিরল ধাতুর জন্য নির্দিষ্ট কিছু দেশের ওপর নির্ভরতাও কমবে।

তবে এই সাফল্যের মাঝে একটি সাময়িক সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। বর্তমান প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক বিক্রিয়া সচল রাখতে ভিটামিন-সি ব্যবহার করতে হচ্ছে। গবেষক দলটি এখন এমন একটি উন্নত সংস্করণের ওপর কাজ করছেন, যেখানে কোনো বাড়তি রাসায়নিক ছাড়াই কেবল পানি ও আলোর সাহায্যে পূর্ণাঙ্গভাবে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন আলাদা করা যাবে। যদিও এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে আরও কয়েক বছর গবেষণার প্রয়োজন হতে পারে, তবে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন তাঁরা হাইড্রোজেন অর্থনীতির মূল চাবিকাঠিটি খুঁজে পেয়েছেন।


কৃষ্ণগহ্বরের তাণ্ডবে ফুটছে আদি মহাবিশ্ব: শুরুর জগত নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন তথ্য 

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ২১:৪৬:৪১
কৃষ্ণগহ্বরের তাণ্ডবে ফুটছে আদি মহাবিশ্ব: শুরুর জগত নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন তথ্য 
ছবি : সংগৃহীত

মহাবিশ্ব কীভাবে গড়ে উঠেছে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের প্রচলিত ধারণাকে নতুন করে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে একটি অভিনব গ্যালাক্সি ক্লাস্টার। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিগ ব্যাংয়ের মাত্র ১৪০ কোটি বছর পরেই ‘এসপিটি২৩৪৯–৫৬’ নামের এই গ্যালাক্সি ক্লাস্টারটি বিজ্ঞানীদের ধারণার তুলনায় অন্তত পাঁচ গুণ বেশি তাপমাত্রায় উত্তপ্ত ছিল। মহাকাশ বিজ্ঞানের প্রচলিত তত্ত্ব অনুযায়ী, এত চরম তাপমাত্রা কেবল অনেক পরে গঠিত পরিণত ও স্থিতিশীল গ্যালাক্সি ক্লাস্টারেই দেখা যাওয়ার কথা। কিন্তু আদি মহাবিশ্বের এই অপরিণত ক্লাস্টারের এমন রুদ্রমূর্তি বিজ্ঞানীদের রীতিমতো স্তম্ভিত করে দিয়েছে।

কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বিজ্ঞানী দাজি ঝো জানান, চিলির শক্তিশালী আলমা (ALMA) টেলিস্কোপ ব্যবহার করে ১২০০ কোটি বছর আগের এই ক্লাস্টারটি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এটি বর্তমান সময়ের অনেক পরিণত ক্লাস্টারের চেয়েও বেশি শক্তিশালী এবং এর গ্যাস পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক বেশি গরম। সাধারণত গ্যালাক্সি ক্লাস্টারগুলো হাজার হাজার গ্যালাক্সি, ডার্ক ম্যাটার এবং অতি উত্তপ্ত গ্যাস (প্লাজমা) মহাকর্ষ বলের মাধ্যমে ধরে রাখে। আগে ধারণা করা হতো, ক্লাস্টারগুলো ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হওয়ার সময় মহাকর্ষীয় টানের ফলে গ্যাস উত্তপ্ত হয়। তবে নেচার সাময়ীকিতে প্রকাশিত এই গবেষণা সেই দীর্ঘদিনের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে।

গবেষকদের মতে, এই চরম তাপমাত্রার মূল কারণ হতে পারে ক্লাস্টারটির কেন্দ্রে থাকা তিনটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল বা দানবীয় কৃষ্ণগহ্বর। এই কৃষ্ণগহ্বরগুলো বিপুল পরিমাণ শক্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে, যার ফলে সংলগ্ন গ্যাস প্লাজমা অবস্থায় কয়েক কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ফুটছে। এর পাশাপাশি এই ক্লাস্টারে থাকা ৩০টিরও বেশি সক্রিয় গ্যালাক্সি আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির তুলনায় কয়েক গুণ দ্রুত নক্ষত্র তৈরি করছে। এই আবিষ্কার এটাই প্রমাণ করে যে, আদি মহাবিশ্ব আমরা যতটা শান্ত ভেবেছিলাম, তার চেয়ে অনেক বেশি ঘটনাবহুল, শক্তিশালী এবং উত্তপ্ত ছিল।


সোনা ও প্লাটিনামের পাহাড় কি আকাশেই ভাসছে? গ্রহাণু নিয়ে গবেষকদের অবাক দাবি

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ২১:২০:৫৩
সোনা ও প্লাটিনামের পাহাড় কি আকাশেই ভাসছে? গ্রহাণু নিয়ে গবেষকদের অবাক দাবি
ছবি : সংগৃহীত

মহাকাশে ভেসে থাকা বিশাল সব গ্রহাণু এতদিন কেবল মহাজাগতিক বিস্ময় হিসেবে গণ্য হলেও, বর্তমান গবেষকরা একে আগামীর ‘সম্পদের আধার’ হিসেবে বিবেচনা করছেন। স্পেনের ইনস্টিটিউট অব স্পেস সায়েন্সেস–এর নেতৃত্বাধীন একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল দাবি করেছে যে, মহাকাশে থাকা গ্রহাণুগুলো থেকে প্লাটিনাম, সোনা ও লোহার মতো মহামূল্যবান ধাতুর পাশাপাশি পানিও সংগ্রহ করা সম্ভব। এই আবিষ্কারের বিস্তারিত তথ্য সম্প্রতি ‘মান্থলি নোটিসেস অফ দ্য রয়াল অ্যাস্ট্রোনমিকাল সোসাইটি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মহাকাশে থাকা মোট গ্রহাণুর প্রায় ৭৫ শতাংশই হচ্ছে ‘সি-টাইপ’ বা কার্বনসমৃদ্ধ। এসব গ্রহাণুর রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এগুলোতে এমন বিপুল পরিমাণ খনিজ রয়েছে যার আর্থিক মূল্য কয়েক হাজার কোটি ডলারের সমান হতে পারে। গবেষকদের মতে, এই গ্রহাণুগুলো থেকে পানি সংগ্রহ করা তুলনামূলক সহজ ও বাস্তবসম্মত। সংগৃহীত এই পানি ভবিষ্যতে দূরপাল্লার মহাকাশযানের জ্বালানি হিসেবে অথবা মহাকাশ স্টেশনে নভোচারীদের অতি প্রয়োজনীয় সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে এই বিশাল সম্ভাবনার পথে বড় কিছু বাধা ও চ্যালেঞ্জও শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। গ্রহাণুতে সফলভাবে অবতরণ করা, সেখান থেকে খনিজ উত্তোলন এবং তা পৃথিবীতে বা মহাকাশে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার প্রযুক্তি এখনও সম্পূর্ণ প্রস্তুত নয়। এছাড়া বর্তমান মহাকাশ আইন বা ১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ অনুযায়ী, মহাকাশের কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের মালিকানা কোনো দেশ দাবি করতে পারে না। ফলে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতাও এই মহাকাশ খনি খনন প্রক্রিয়ার জন্য বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। তা সত্ত্বেও, সৌরজগতের শুরুর দিকের ইতিহাস বহনকারী এই গ্রহাণুগুলোই যে আগামীর বৈশ্বিক অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।


আগুনের আংটি থেকে রক্তিম চাঁদ, ২০২৬ সালে দেখা যাবে ৪টি বড় গ্রহণ

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ২১:০১:৫৫
আগুনের আংটি থেকে রক্তিম চাঁদ, ২০২৬ সালে দেখা যাবে ৪টি বড় গ্রহণ
ছবি : সংগৃহীত

জ্যোতির্বিজ্ঞান ও পঞ্জিকার গণনায় দেখা যাচ্ছে যে ২০২৬ সাল মহাকাশপ্রেমীদের জন্য অত্যন্ত রোমাঞ্চকর হতে চলেছে। এ বছর পৃথিবীর আকাশে মোট চারটি গ্রহণের বিরল দৃশ্য দেখা যাবে। এর মধ্যে দুটি সূর্যগ্রহণ এবং দুটি চন্দ্রগ্রহণ সংগঠিত হবে। বছরের শুরুতেই বিজ্ঞানীরা মহাজাগতিক এই ঘটনাগুলোর সঠিক সময় ও দৃশ্যমানতার তালিকা প্রকাশ করেছেন।

২০২৬ সালের সূর্যগ্রহণের সূচি

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণটি হবে একটি বলয়াকার গ্রহণ, যা মহাকাশে ‘আগুনের আংটি’ বা ‘রিং অব ফায়ার’ তৈরি করবে। তবে এই মহাজাগতিক দৃশ্য বাংলাদেশ বা ভারত থেকে দেখা যাবে না। এটি মূলত দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে, জাম্বিয়া, মোজাম্বিক, তানজানিয়া, মরিশাস, অ্যান্টার্কটিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ থেকে প্রত্যক্ষ করা যাবে।

১২ আগস্ট ২০২৬: বছরের দ্বিতীয় সূর্যগ্রহণটি হবে শ্রাবণ মাসের অমাবস্যা তিথিতে। এই গ্রহণটি উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা, আর্কটিক অঞ্চল, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং স্পেনের আকাশে দৃশ্যমান হবে।

২০২৬ সালের চন্দ্রগ্রহণের সূচি

৩ মার্চ ২০২৬: এ বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণটি হবে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। মহাকাশ বিজ্ঞানে এই গ্রহণের গুরুত্ব অপরিসীম কারণ এটি বাংলাদেশ ও ভারতসহ এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বহু দেশ থেকে পরিষ্কারভাবে দেখা যাবে।

২৮ আগস্ট ২০২৬: বছরের দ্বিতীয় এবং সর্বশেষ চন্দ্রগ্রহণটি হবে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। বিরল এই পূর্ণগ্রাস গ্রহণটি বাংলাদেশ কিংবা ভারত থেকে দেখা সম্ভব হবে না। তবে ইউরোপ, আফ্রিকা এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সাক্ষী হতে পারবেন।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে এই গ্রহণগুলো কেবল মহাজাগতিক সৌন্দর্য নয়, বরং বিজ্ঞানের গবেষণার ক্ষেত্রেও নতুন পথ উন্মোচন করবে। বিশেষ করে ৩ মার্চের আংশিক চন্দ্রগ্রহণ নিয়ে এশীয় অঞ্চলের মানুষের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ কাজ করছে।


ডার্ক এনার্জি আর স্থির নয়: মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ২১:১৮:৫৩
ডার্ক এনার্জি আর স্থির নয়: মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
ছবি : সংগৃহীত

মহাকাশ বিজ্ঞানের অন্যতম ভিত্তি হলো মহাবিশ্বের নিরন্তর প্রসারণ। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা এই বৈজ্ঞানিক তত্ত্বে বড় ধরণের ধাক্কা দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলের ইয়োনসি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়াং উক লি-র নেতৃত্বে একদল গবেষক দাবি করেছেন যে মহাবিশ্ব আগের মতো দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে না বরং এর প্রসারণের গতি ধীরে ধীরে কমে আসছে। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘মান্থলি নোটিসেস অব দ্য রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি’-তে প্রকাশিত এই গবেষণা মহাবিশ্বের শেষ পরিণতি নিয়ে নতুন আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে।

গবেষণার মূল কেন্দ্রে রয়েছে ‘ডার্ক এনার্জি’—যাকে মহাবিশ্বকে প্রসারিত করার প্রধান শক্তি হিসেবে ধরা হয়। বিজ্ঞানীরা এতদিন মনে করতেন ডার্ক এনার্জির শক্তি স্থির বা ধ্রুবক। কিন্তু নতুন বিশ্লেষণে দেখা গেছে এই রহস্যময় শক্তি সময়ের সাথে সাথে দুর্বল হয়ে পড়ছে। ১৯৯৮ সালে যখন ডার্ক এনার্জি আবিষ্কৃত হয় তখন ধারণা করা হয়েছিল এর প্রভাবে মহাবিশ্ব ‘বিগ রিপ’ বা সবকিছু ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এখন গবেষকরা বলছেন মহাবিশ্ব ধীরে ধীরে উল্টো পথে অর্থাৎ ‘বিগ ক্রাঞ্চ’ বা সংকোচনের দিকে ধাবিত হতে পারে।

গবেষক দলটি তাদের দাবির সপক্ষে ‘টাইপ-১এ সুপারনোভা’ বা তারার ভয়াবহ বিস্ফোরণ বিশ্লেষণ করেছেন। আগে মহাজাগতিক দূরত্ব মাপার জন্য এই উজ্জ্বলতাকে মানদণ্ড ধরা হতো। তবে নতুন তথ্যে দেখা গেছে সুপারনোভার উজ্জ্বলতা দূরত্বের চেয়েও তারার বয়সের ওপর বেশি নির্ভর করে। বয়স্ক তারার বিস্ফোরণ বেশি উজ্জ্বল হওয়ায় পূর্বের অনেক দূরত্ব পরিমাপ এখন ভুল বলে প্রমাণিত হতে পারে। যদি ডার্ক এনার্জি সত্যিই দুর্বল হতে থাকে তবে মহাবিশ্ব এক সময় প্রসারণ থামিয়ে নিজের কেন্দ্রাভিমুখে সংকুচিত হওয়া শুরু করবে।

যদিও মহাকাশ বিজ্ঞানীরা বলছেন এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। মহাবিশ্বের এই সম্ভাব্য ধ্বংস বা পরিবর্তনের সময়কাল এখনও প্রায় ১৯.৫ বিলিয়ন বছর দূরে। তবে এই গবেষণা যদি পুরোপুরি সত্য প্রমাণিত হয় তবে আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদ থেকে শুরু করে মহাজাগতিক বিবর্তন—সবকিছুই নতুন করে লিখতে হবে। মহাবিশ্বের এই নতুন সমীকরণ বিজ্ঞানীদের ভাবনার জগতকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।


ভারসাম্য হারাচ্ছে জলবায়ু তবে কি ধেয়ে আসছে পরবর্তী তুষারযুগ?

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ৩১ ২১:০৮:০০
ভারসাম্য হারাচ্ছে জলবায়ু তবে কি ধেয়ে আসছে পরবর্তী তুষারযুগ?
ছবি : সংগৃহীত

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং তুষারযুগ— আপাতদৃষ্টিতে দুটি বিপরীতধর্মী বিষয় মনে হলেও বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এরা আসলে একটি নিবিড় চক্রে আবদ্ধ। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে, উষ্ণায়ন যে হারে বাড়ছে, তা পরবর্তী তুষারযুগকে সময়ের আগেই টেনে আনতে পারে। প্রখ্যাত ‘সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রচলিত ধারণাকে এক প্রকার চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর জলবায়ু নিয়ন্ত্রণের অন্যতম প্রাকৃতিক ব্যবস্থা হলো শিলাক্ষয় বা পাথরের ক্ষয়। সাধারণত বাতাসের কার্বন ডাই অক্সাইড জলীয় বাষ্পের সঙ্গে মিশে বৃষ্টির মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে। এই অ্যাসিডিক জল যখন সিলিকেট পাথরের উপর পড়ে, তখন এক রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে এবং পাথর ক্ষয়ে যায়। এই ক্ষয়ে যাওয়া পাথরের সঙ্গে কার্বন গিয়ে মেশে সমুদ্রে, যা পরে চুনাপাথর হিসেবে সমুদ্রগর্ভে জমা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডল থেকে প্রচুর কার্বন ডাই অক্সাইড অপসারিত হয়, যা পৃথিবীকে শীতল করতে সহায়তা করে।

গবেষকদলের প্রধান অ্যান্ডি রিজওয়েল জানিয়েছেন, পৃথিবী যত উষ্ণ হবে, পাথরের ক্ষয় তত দ্রুত ঘটবে। এর ফলে বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন অপসারিত হয়ে সমুদ্রগর্ভে জমা হওয়ার গতি বেড়ে যাবে। এক পর্যায়ে এটি অক্সিজেনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে এবং কার্বন চক্রকে এমনভাবে প্রভাবিত করতে পারে যে পৃথিবী স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি শীতল হয়ে যাবে। অর্থাৎ, যে উষ্ণায়নকে আমরা এখন বিপদ ভাবছি, সেটিই প্রকৃতিকে এমনভাবে উসকে দিতে পারে যে বিশ্ব আবার বরফে ঢাকা এক তুষারযুগের দিকে ধাবিত হবে।

এর আগেও পৃথিবীতে একাধিক তুষারযুগ এসেছে, যার অনেকগুলোই ছিল অত্যন্ত তীব্র। সেই চরম শীতলতা কেন এসেছিল, তার উত্তর খুঁজতে গিয়েই বিজ্ঞানীরা এই স্বয়ংক্রিয় শীতলকরণ প্রক্রিয়ার কথা জানতে পারেন। গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, উষ্ণায়নকে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এই প্রাকৃতিক চক্রটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং মানবসভ্যতা এক নতুন মহাহিমযুগের অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।


মৃত্যুর পর মানবদেহে কী ঘটে, জানাচ্ছে বিজ্ঞান

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ৩১ ১২:১৪:৪২
মৃত্যুর পর মানবদেহে কী ঘটে, জানাচ্ছে বিজ্ঞান
ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীতে জন্ম যেমন অবধারিত, তেমনি মৃত্যুও অমোঘ সত্য। কিন্তু মৃত্যু ঘটার পর মানবদেহে ঠিক কী ধরনের শারীরিক ও জৈবিক পরিবর্তন শুরু হয়, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষের জানাশোনা খুবই সীমিত। আধুনিক ফরেনসিক বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের আলোকে জানা যায়, মৃত্যুর পরপরই মানবদেহে একের পর এক নাটকীয় ও জটিল প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত দেহকে কঙ্কালে রূপান্তরিত করে।

মৃত্যুর মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই শরীরে প্রথম দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা দেয়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় প্যালর মর্টিস। এ সময় দেহের ত্বক ধীরে ধীরে ফ্যাকাশে হয়ে ওঠে। কারণ, হৃদস্পন্দন বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্ত চলাচল থেমে যায় এবং দেহের সূক্ষ্ম রক্তনালি বা ক্যাপিলারিগুলোতে আর রক্ত প্রবাহিত হয় না। এই প্রক্রিয়া সবার ক্ষেত্রেই একই হলেও গাঢ় ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রে এটি তুলনামূলক কম চোখে পড়ে।

মৃত্যুর পর শরীরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। সাধারণভাবে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ০.৮৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (বা ১.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট) হারে দেহ ঠান্ডা হয়। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, শরীর ঠান্ডা হয়ে গেলেও এর ভেতরে তখনও অসংখ্য অণুজীব সক্রিয় থাকে। বিজ্ঞানীরা মৃতদেহকে অনেক সময় একটি ক্ষুদ্র বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করেন।

মৃত্যুর কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় অটোলাইসিস নামের একটি প্রক্রিয়া, যার অর্থ নিজেকে নিজেই হজম করা। অক্সিজেনের অভাবে কোষগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং কোষের ভেতরে থাকা এনজাইমগুলো কোষের ঝিল্লি ভেঙে ফেলতে শুরু করে। ফলে কোষ ধ্বংস হয় এবং রক্তনালির ভেতর থেকে রক্তকণিকা বেরিয়ে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

এই রক্ত জমে যাওয়ার ফলে ত্বকের নিচে বেগুনি-নীলচে বা লালচে দাগ তৈরি হয়, যাকে বলা হয় লিভর মর্টিস। যদিও এই প্রক্রিয়া মৃত্যুর প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হয়, সাধারণত কয়েক ঘণ্টা না পেরোলে তা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয় না।

মৃত্যুর দুই থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে দেহে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে, যাকে বলা হয় রিগর মর্টিস। জীবিত অবস্থায় পেশির ভেতরে থাকা অ্যাকটিন ও মায়োসিন নামের প্রোটিন একে অপরের সঙ্গে যুক্ত ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পেশির সংকোচন-প্রসারণ ঘটায়। কিন্তু মৃত্যুর পর রাসায়নিক বন্ধন তৈরি হয়ে যায়, যা পেশিকে স্থায়ীভাবে সংকুচিত করে ফেলে।

এর ফলে শরীর শক্ত হয়ে যায় এবং নড়াচড়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও মরচুয়ারি কর্মীদের জন্য এই সময় মৃতদেহ নিয়ে কাজ করা তুলনামূলক কঠিন হয়ে ওঠে।

মানবদেহে বিপুল পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া বাস করে, যেগুলো জীবিত অবস্থায় মূলত অন্ত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা তাদের অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ছড়াতে বাধা দেয়। কিন্তু মৃত্যুর পর সেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আর সক্রিয় থাকে না।

ফলে ব্যাকটেরিয়াগুলো প্রথমে অন্ত্র ও আশপাশের টিস্যু হজম করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে তারা রক্তনালির মাধ্যমে হৃদযন্ত্র, যকৃত এবং মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, মৃত্যুর প্রায় ৫৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাকটেরিয়া শরীরের প্রধান অঙ্গগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

এই পর্যায়কে বলা হয় পিউট্রিফ্যাকশন বা পচন। ব্যাকটেরিয়া ও পোকামাকড়ের লার্ভা শরীরের কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও অন্যান্য যৌগ ভেঙে গ্যাস তৈরি করে। এসব গ্যাস পেট ফাঁপিয়ে তোলে এবং একপর্যায়ে ত্বক ফেটে যেতে পারে। তখন আরও পোকামাকড় মৃতদেহে আকৃষ্ট হয়।

পচনের গতি নির্ভর করে মৃত্যুর কারণ, পরিবেশের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এমনকি মৃতের পোশাকের ধরনেও।

এই স্বাভাবিক পচন প্রক্রিয়া ধীর করার জন্য মানুষ যুগে যুগে নানা উপায় আবিষ্কার করেছে। অতীতে ভিনেগার, মধু, মদ বা ব্র্যান্ডির মতো উপাদান ব্যবহার করে মৃতদেহ সংরক্ষণ করা হতো।

আধুনিক যুগে বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি হলো এম্বালমিং। এতে দেহের শিরা থেকে রক্ত বের করে ফরমালডিহাইডভিত্তিক সংরক্ষণকারী তরল ধমনীতে প্রবেশ করানো হয়। শরীরের গহ্বর থেকেও তরল অপসারণ করে সংরক্ষণকারী পদার্থ দেওয়া হয়।

সূত্র: ব্রিটানিকা

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত