টিউলিপ সিদ্দিকির মামলা নিয়ে বিষ্ফোড়ক মন্তব্য ব্রিটিশ আইনজীবীদের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৬ ১০:১২:৫২
টিউলিপ সিদ্দিকির মামলা নিয়ে বিষ্ফোড়ক মন্তব্য ব্রিটিশ আইনজীবীদের
ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকি, সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে পূর্বাচল প্লট বরাদ্দ দুর্নীতি মামলার রায় আগামী ১ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হবে। মামলাটি বর্তমানে শুধু বাংলাদেশেই নয়, যুক্তরাজ্যেও বড় রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান জানায়, লন্ডনের বেশ কয়েকজন শীর্ষ আইনজীবী এই মামলাকে ‘পরিকল্পিত, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অন্যায্য’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলামের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠিতে নিজেদের উদ্বেগ তুলে ধরেছেন।

চিঠিতে স্বাক্ষর করা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিটেনের সাবেক বিচারমন্ত্রী রবার্ট বাকল্যান্ড কেসি, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ডমিনিক গ্রিভি, খ্যাতনামা আইনজীবী চেরি ব্লেয়ার কেসি, ফিলিপ সেন্ড কেসি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবী জিওফ্রে রবার্টসন কেসি। তারা অভিযোগ করেছেন যে টিউলিপ সিদ্দিকি তার মামলার বিষয়ে যথাযথ তথ্য পাননি, তার আইনি প্রতিনিধিকে আদালতে পেশ হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং যার সঙ্গে তিনি পরামর্শ করছিলেন তাকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। এমনকি ওই আইনজীবীর মেয়েকে হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। তাদের মতে, এসব ঘটনা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের পরিপন্থী।

টিউলিপ সিদ্দিকি হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেট আসনের নির্বাচিত এমপি এবং যুক্তরাজ্যের নাগরিক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে বসবাস করছেন এবং কোনোভাবেই পলাতক আসামি নন। তবু শেখ হাসিনার পতনের পর গত বছরের আগস্টে টিউলিপ, তার মা, ভাই এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে পূর্বাচল আবাসিক এলাকায় প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনার প্রভাব ব্যবহার করে নিজের মায়ের নামে প্লট বরাদ্দ নিয়েছিলেন টিউলিপ। তিনি অবশ্য শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে শেখ হাসিনা গত সপ্তাহে মৃত্যুদণ্ড পান। তার পরপরই টিউলিপ সিদ্দিকির মামলাটিতেও নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আসে। দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর টিউলিপ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত তিনি সিটি মিনিস্টারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সরকারের মনোযোগ বিচ্যুত করছিল, তাই তিনি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছেড়েছেন।

বাংলাদেশে মামলার রায় ঘোষণার তারিখ ১ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। মামলার রায় দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের। লন্ডনের সংসদ সদস্য, মানবাধিকার সংগঠন ও আইনি মহল ঘটনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


ইরানে আইআরজিসির রেডলাইন ঘোষণা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ২১:৩৩:২৯
ইরানে আইআরজিসির রেডলাইন ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা নজিরবিহীন গণ-আন্দোলন দমনে এবার চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ডস বা আইআরজিসি। আজ শনিবার এক বিশেষ বিবৃতিতে তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করা তাদের জন্য একটি ‘রেডলাইন’ এবং কোনোভাবেই এই সীমারেখা লঙ্ঘন করতে দেওয়া হবে না। আইআরজিসি দাবি করেছে যে কিছু ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনীও ঘোষণা করেছে যে তারা দেশের কৌশলগত অবকাঠামো এবং জনসম্পত্তি রক্ষায় সব ধরণের কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের অর্জন রক্ষা করা তাদের প্রধান অগ্রাধিকার বলে বিবৃতিতে জোর দেওয়া হয়েছে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ এই অস্থিরতার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক হুঁশিয়ারি উত্তেজনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে বিক্ষোভকারীদের ওপর ইরান সরকার গুলি চালালে যুক্তরাষ্ট্রও চুপ করে বসে থাকবে না এবং প্রয়োজনে সরাসরি সামরিক জবাব দেওয়া হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের প্রতিবাদী জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র এই সাহসী মানুষের পাশে আছে। ওয়াশিংটনের এমন প্রকাশ্য সমর্থন এবং তেহরানের অনড় অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে যে ইরান কি তবে একটি বড় ধরণের যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে ইরানের মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংঘাতময় এবং করুণ। তেহরানের পশ্চিমে কারাজ শহরে একটি পৌর ভবনে অগ্নিসংযোগের পর সেখানে ব্যাপক উত্তজনা বিরাজ করছে। সরকারি টেলিভিশনগুলোতে বিভিন্ন শহরে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জানাজার দৃশ্য সম্প্রচার করা হলেও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে বিপুল সংখ্যক সাধারণ বিক্ষোভকারীও গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। বিক্ষোভ ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে রেখেছে। পশ্চিম ইরানের একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন যে তাঁর এলাকায় বিপ্লবী গার্ডস সদস্যরা সরাসরি গুলি চালাচ্ছে। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সঠিকভাবে জানা না গেলেও পরিস্থিতি যে হাতের বাইরে চলে গেছে তা স্পষ্ট।

এদিকে নির্বাসিত ইরানি শাহের ছেলে রেজা পাহলভি এই আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তাঁরা শুধু রাস্তায় না থেকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো দখল করে রাখেন। তিনি দেশটির তেল, গ্যাস ও জ্বালানি খাতের শ্রমিকদের দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। যদি এই খাতের শ্রমিকরা ধর্মঘটে শামিল হন, তবে ইরান সরকারের জন্য অর্থনীতি পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। ট্রাম্পের ‘গুলি চালালে পাল্টা গুলি’ নীতির বিপরীতে খামেনির প্রশাসন কীভাবে বিক্ষোভ সামাল দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক গণজাগরণের ভবিষ্যৎ।


খামেনির ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা বনাম ট্রাম্পের হুমকি: গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে কি ইরান ?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১৮:৪৩:৪৭
খামেনির ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা বনাম ট্রাম্পের হুমকি: গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে কি ইরান ?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া নজিরবিহীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতা দমনে দেশটির প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষিতে এবার সরাসরি সামরিক হামলার কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন ট্রাম্প। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরান বর্তমানে এক বড় ধরণের বিপদের মধ্যে রয়েছে এবং দেশটির সাধারণ মানুষ এখন এমন সব শহরের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেছে যা কয়েক সপ্তাহ আগেও ভাবা অসম্ভব ছিল। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে বিক্ষোভকারীদের শহর দখলের দৃশ্য দেখে ওয়াশিংটন এই কঠোর অবস্থানে পৌঁছেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি ইরান সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি না চালানোই তাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান যে, “তোমরা যদি গুলি চালানো শুরু করো, তবে আমরাও পাল্টা গুলি চালানো শুরু করব।” ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ইরান বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গায় পরিণত হয়েছে এবং তিনি আন্তরিকভাবে আশা করেন যে বিক্ষোভকারীরা নিরাপদ থাকবেন। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের প্রতি এই প্রকাশ্য সমর্থন এবং সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত ইরানজুড়ে উত্তেজনাকে এক নতুন ও ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সরাসরি হুমকির বিপরীতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও তাঁর অবস্থান অত্যন্ত কঠোরভাবে ব্যক্ত করেছেন। আজ সকালে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে খামেনি চলমান এই গণআন্দোলনকে ‘বিদেশি শত্রুর সাজানো চক্রান্ত’ এবং ‘সন্ত্রাসী তৎপরতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র এই বিক্ষোভ উসকে দিয়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও সার্বভৌমত্ব বিনষ্ট করার গভীর ষড়যন্ত্র করছে। খামেনি সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাত ইরানিদের রক্তে রঞ্জিত এবং এই বিক্ষোভকারীরা মূলত বিদেশিদের হয়ে কাজ করা ভাড়াটে সৈন্য। তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যারা রাষ্ট্রীয় সম্পদে হামলা চালাচ্ছে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে তাদের কোনো ধরণের ছাড় দেওয়া হবে না।

বর্তমানে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অত্যন্ত সংঘাতময় এবং রক্তক্ষয়ী রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে যে, গত দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ১৪ জন সদস্য এবং ৪৮ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী রয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে এবং তেহরানের নাগরিকদের মোবাইলে সতর্কবার্তা পাঠানো হচ্ছে যেন তাঁরা সহিংসতা কবলিত এলাকাগুলো এড়িয়ে চলেন। বিশেষ করে বেলুচ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জাহেদান শহরে জুমার নামাজের পর বড় ধরণের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে গুলিবর্ষণে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। যদিও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কিছুটা নমনীয় হয়ে জনগণের অভিযোগ শোনার আহ্বান জানিয়েছেন, তবে কট্টরপন্থী নেতাদের অনড় অবস্থান দেশটিকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।


ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও ইরানে হামলার সম্ভাবনা কম: আরাগচি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১৪:০০:০০
ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও ইরানে হামলার সম্ভাবনা কম: আরাগচি
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেছেন, দেশটির সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ আন্দোলন মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সরাসরি হস্তক্ষেপের কারণেই সহিংস রূপ নিয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) লেবানন সফরকালে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই দুই দেশ প্রকাশ্যেই বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে এবং তাদের প্ররোচনাতেই আন্দোলনের চরিত্র বদলে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে।

আরাগচির মতে, শুরুতে ইরানের জনগণ অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। কিন্তু বিদেশি শক্তি এই স্বাভাবিক অসন্তোষকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটন ও তেলআবিব ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে কাজ করছে, যাতে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থা দুর্বল হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের হুমকি প্রসঙ্গে আরাগচি বলেন, এসব বক্তব্য সত্ত্বেও ইরানে সরাসরি বিদেশি হামলার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ হিসেবে তিনি অতীতের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আগের সামরিক ও রাজনৈতিক চাপের কৌশলগুলো কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে।

ইরানে চলমান এই সংকটের সূচনা হয় গত ২৮ ডিসেম্বর। ওই দিন তীব্র মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং জাতীয় মুদ্রার রেকর্ড দরপতনের প্রতিবাদে তেহরানের ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটে নামেন। কয়েক দিনের মধ্যেই সেই আন্দোলন দেশটির ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে সরকারের বিরুদ্ধে একটি বৃহৎ গণআন্দোলনের রূপ নেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত করে দেয় এবং গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র ও মার্কিন সাময়িকী টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় ১৩ দিনের সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ২০০ ছাড়িয়েছে, যদিও সরকারিভাবে পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে, ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানালেও ইসরাইল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার সতর্ক করে বলেছেন, ইরানি সরকার যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর দমন-পীড়ন চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে বৈরুত থেকে দেওয়া বক্তব্যে আরাগচি জানান, ইরান যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত এবং দেশের জনগণের মনোবল দৃঢ় রয়েছে। তার ভাষায়, বিদেশি হুমকি বা চাপ ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ভাঙতে পারবে না।

-রফিক


খামেনিকে চরম হুমকি! ইরানে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
০০০০ 00 ০০ ০০:০০:০০
খামেনিকে চরম হুমকি! ইরানে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পফাইল ছবি: রয়টার্স

ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতা দমনে দেশটির প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষিতে এবার সরাসরি সামরিক হামলার কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ইরান বর্তমানে এক বড় ধরণের সংকটে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে তিনি সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপের নির্দেশ দিতে পারেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষ এখন এমন সব শহরের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে যা কয়েক সপ্তাহ আগেও কেউ কল্পনা করতে পারেনি। ট্রাম্পের এই কঠোর হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এল যখন ইরানের ৩১টি প্রদেশের সবকটিতেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই হুমকির বিপরীতে কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি চলমান বিক্ষোভকে ‘সন্ত্রাসী তৎপরতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বিদেশি শত্রু—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র—এই বিক্ষোভ উসকে দিয়ে ইরানের জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। খামেনি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অভিযুক্ত করে বলেন যে ট্রাম্পের হাত ইরানিদের রক্তে রঞ্জিত এবং বিক্ষোভকারীরা বিদেশি শক্তির ‘ভাড়াটে’ হিসেবে কাজ করছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে যারা জনসম্পদে হামলা চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার অত্যন্ত কঠোর ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে।

বর্তমানে ইরানের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংঘাতময় এবং রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ১৪ জন সদস্য এবং ৪৮ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী রয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ইরানের কুর্দি ও বালুচ অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে উত্তেজনা এখন চরমে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বেলুচ-অধ্যুষিত জাহেদানে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণে বেশ কয়েকজন আহত ও নিহতের খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি গোপন রাখতে এবং আন্দোলনকারীদের সমন্বয় রুখতে কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।

ইরানের বর্তমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে দেশটির সরকার ও জনগণের মধ্যে এক বিশাল দূরত্ব তৈরি হয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কিছুটা সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং সরকারের প্রতি জনগণের প্রকৃত অভিযোগ শোনার কথা বলেছেন, কিন্তু প্রশাসনের উচ্চমহলের কঠোর মনোভাবে কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। তেহরানের বহু নাগরিক ইতিমধ্যেই পুলিশ থেকে সতর্কতামূলক বার্তা পেয়েছেন যেন তাঁরা সহিংসতা প্রবণ এলাকাগুলো এড়িয়ে চলেন। বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ‘গুলি ফর গুলি’ নীতি এবং খামেনির অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন ও ভয়াবহ যুদ্ধের সূচনা করতে পারে।


গ্রিনল্যান্ড দখল না নিলে রাশিয়া-চীন আসবে: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১০:২২:১৯
গ্রিনল্যান্ড দখল না নিলে রাশিয়া-চীন আসবে: ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ আরও স্পষ্ট করে তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো না কোনোভাবে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় এবং প্রয়োজনে কঠোর পথেও এগোতে প্রস্তুত।

রুশ সংবাদমাধ্যম তাস–এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৈঠকে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করতে সম্ভাব্য ব্যয়ের বিষয়ে। জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, অর্থনৈতিক আলোচনার চেয়ে কৌশলগত বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র না এগোলে সেখানে রাশিয়া বা চীন প্রভাব বিস্তার করতে পারে, যা ওয়াশিংটনের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।

গ্রিনল্যান্ডকে কেন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনতে চান এই প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে মালিকানা প্রয়োজন। লিজ বা অস্থায়ী ব্যবস্থায় কোনো ভূখণ্ডকে পূর্ণভাবে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে জানান, শান্তিপূর্ণ সমাধানই তার অগ্রাধিকার, তবে সে পথে অগ্রগতি না হলে বিকল্প পন্থাও বিবেচনায় থাকবে।

এর আগেও ট্রাম্প একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়া উচিত। ২০২৫ সালের মে মাসে এনবিসি নিউজ–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি। এই অবস্থান আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক বক্তব্যে বলেন, গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতে স্বাধীনতা অর্জন করলে শান্তিপূর্ণ উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সে ক্ষেত্রে সামরিক শক্তি প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে রয়টার্স–কে দেওয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস উল্লেখ করেছে, প্রেসিডেন্টের হাতে সব ধরনের বিকল্প সবসময়ই থাকে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানান, গ্রিনল্যান্ড কেনার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে। উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং ১৯৫১ সালে ন্যাটোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী দ্বীপটির নিরাপত্তার বড় দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।

-রফিক


তরুণদের রক্তে ভাসছে তেহরান! মেশিনগানে ব্রাশফায়ার ও গণকবর? জ্বলছে ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ০৯:৪৬:৩৫
তরুণদের রক্তে ভাসছে তেহরান! মেশিনগানে ব্রাশফায়ার ও গণকবর? জ্বলছে ইরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত মাসে তেহরানে শুরু হওয়া এই আন্দোলন বর্তমানে দেশটির সকল অর্থাৎ ৩১টি প্রদেশেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই গণআন্দোলন দমনে ইরান সরকারের নেওয়া কঠোর অবস্থান এখন আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দার জন্ম দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধুমাত্র রাজধানী তেহরানেই গত বৃহস্পতিবার এক রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ২০০-এর বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে ইরানে আন্দোলনের তীব্রতা চরমে পৌঁছায়। বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে উঠলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী কোনো ধরণের সতর্কতা ছাড়াই সরাসরি গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি ২০২৬) প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনের ওই প্রতিবেদনে তেহরানের এক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, রাজধানীর ছয়টি হাসপাতালে অন্তত ২০৬ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশেরই মৃত্যু হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর ছোঁড়া বুলেটের আঘাতে।

ইরানে এই রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়ন এমন এক সময়ে ঘটছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি খামেনি সরকারকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালায় বা হত্যা করে, তবে এর জন্য দেশটিকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে। যদি এই প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়, তবে এটি স্পষ্ট যে তেহরান প্রশাসন হোয়াইট হাউসের সতর্কতাকে সরাসরি উপেক্ষা করেই রাজপথ রক্তে রাঞ্জিত করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এমন কঠোর অবস্থান হিতে বিপরীত হতে পারে এবং আন্দোলনকে আরও চরমপন্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

টাইম ম্যাগাজিনের সাথে কথা বলা চিকিৎসক নাম গোপন রাখার শর্তে এক লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানান, শুক্রবার ভোরে হাসপাতালগুলো থেকে এসব মরদেহ দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়েছে। উত্তর তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনের সামনে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের ওপর মেশিনগান থেকে ব্রাশফায়ার করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। সেখানে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে অন্তত ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হন। নিহতদের মধ্যে বড় একটি অংশই তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি, যারা দেশের বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবিতে রাজপথে নেমেছিলেন।

টাইম ম্যাগাজিন উল্লেখ করেছে যে, ইরানের অভ্যন্তরে তথ্য আদান-প্রদানের ওপর কড়াকড়ি থাকায় হতাহতের এই বিশাল সংখ্যা তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে শুক্রবার রাতেও তেহরানসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষকে জড়ো হতে দেখা গেছে। গুলির মুখেও রাজপথ না ছাড়ার এই জেদ প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে ইরানে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সেখানে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

সূত্র: টাইমস ম্যাগাজিন


বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর বার্তা তেহরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ১৯:০৫:০৭
বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর বার্তা তেহরানের
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর বিরুদ্ধে তীব্র ও আক্রমণাত্মক ভাষায় অবস্থান নিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ এনে বলেন, ইরানি জনগণের রক্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হাত রঞ্জিত।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দেওয়া এক কঠোর ভাষণে খামেনি দাবি করেন, তথাকথিত ‘১২ দিনের যুদ্ধ’-এ এক হাজারের বেশি ইরানির প্রাণহানির জন্য ট্রাম্প প্রত্যক্ষভাবে দায়ী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে শুধু সাধারণ মানুষই নয়, বরং সামরিক কমান্ডার, পারমাণবিক বিজ্ঞানী এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের ব্যক্তিরাও ছিলেন।

খামেনি ট্রাম্পের আগের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, সংঘাত চলাকালে তিনি নিজেই ‘আদেশ দেওয়ার’ কথা স্বীকার করেছেন, যা কার্যত দায় স্বীকারের সমান। খামেনির ভাষায়, ট্রাম্প একদিকে নিজেকে ইরানি জনগণের বন্ধু হিসেবে উপস্থাপন করেন, অন্যদিকে তার নীতির ফলেই ইরানিদের প্রাণ ঝরে এই দ্বিচারিতা তিনি প্রতারণা হিসেবে আখ্যা দেন।

ভাষণে খামেনি দেশের অভ্যন্তরে সংঘটিত সহিংসতা ও ভাঙচুর নিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি দাবি করেন, তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে জনসম্পত্তি ধ্বংসের পেছনে কিছু গোষ্ঠী রয়েছে, যারা ওয়াশিংটনের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করছে।

তার অভিযোগ, কেউ কেউ বিদেশি শক্তির স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে, যা ইরানি জাতির মর্যাদার পরিপন্থী। খামেনির ভাষায়, ইরানি জনগণ কখনোই ভাড়াটে মানসিকতা বা বিদেশি এজেন্ডা মেনে নেয় না এবং এ ধরনের তৎপরতা জাতি প্রত্যাখ্যান করবে।

ইরানের তরুণ প্রজন্মকে সরাসরি সম্বোধন করে খামেনি জাতীয় ঐক্য ও সতর্কতার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ একটি জাতি যেকোনো বহির্শত্রুকে মোকাবিলা করতে সক্ষম। তার মতে, লক্ষ মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং অস্থিরতা বা চাপের মুখে এই ব্যবস্থা কখনো পিছু হটবে না।

খামেনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য না করে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সংকট ও সমস্যাগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

ভাষণের একপর্যায়ে খামেনি ইতিহাসের বিভিন্ন উদ্ধত শাসকের পতনের উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি ফেরাউন ও নমরুদের পাশাপাশি ইরানের সাবেক শাসক রেজা শাহ ও মোহাম্মদ রেজা শাহের নাম উল্লেখ করেন। তার ইঙ্গিত, ক্ষমতার শীর্ষে থাকা যারা অহংকারে অন্ধ হয়ে ওঠে, শেষ পর্যন্ত তারাও পতনের মুখোমুখি হয়। খামেনির মন্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্পও সেই পরিণতি থেকে ব্যতিক্রম নন।

উল্লেখ্য, অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে ইরান–জুড়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিক্ষোভ জোরালো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ইরানের স্বঘোষিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভির সঙ্গে তার বৈঠক করা এই মুহূর্তে উপযুক্ত হবে না। এতে স্পষ্ট হয়, তেহরানের বর্তমান নেতৃত্বের বিকল্প হিসেবে কাউকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিতে ওয়াশিংটন আপাতত অনিচ্ছুক। যদিও ট্রাম্প ইরানকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংস দমন-পীড়ন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, তিনি এখনো কোনো নির্দিষ্ট বিরোধী নেতার প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা করেননি।

-রফিক


কলকাতায় বাংলাদেশ ভিসা কেন্দ্র খোলা, আবেদন জমা পড়ছে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ১৪:৫০:৪৫
কলকাতায় বাংলাদেশ ভিসা কেন্দ্র খোলা, আবেদন জমা পড়ছে
ছবি: সংগৃহীত

কলকাতার সল্টলেক এলাকার সেক্টর ফাইভে অবস্থিত বাংলাদেশ ভিসা আবেদনকেন্দ্র থেকে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলমান রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটন ভিসা বন্ধের গুজব ছড়ালেও বাস্তবে সেখানে নিয়মিত ভিসা আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

গত বৃহস্পতিবার কয়েকটি ভারতীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সব বাংলাদেশ মিশন থেকে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা প্রদান পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। তবে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। ওইদিন সকাল থেকেই সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে অবস্থিত ভিসা আবেদনকেন্দ্রে অন্যান্য দিনের মতোই নতুন আবেদন গ্রহণ করা হয়।

ভিসা আবেদন করতে আসা একাধিক ভারতীয় নাগরিক জানান, তারা পর্যটন ভিসার জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন এবং কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই সেগুলো গ্রহণ করেছে। আবেদনকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্মীরাও জানিয়েছেন, পর্যটন ভিসাসহ সব ধরনের ভিসা পরিষেবা বর্তমানে চালু রয়েছে।

এ বিষয়ে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপদূতাবাস–এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, পর্যটন ভিসা বন্ধ সংক্রান্ত কোনো লিখিত নির্দেশনা বা সরকারি আদেশ এখনো তাদের হাতে পৌঁছায়নি। ফলে পূর্ববর্তী নিয়ম অনুযায়ী ভিসা আবেদন গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, কলকাতার কয়েকটি গণমাধ্যম মিশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ না করেই পর্যটন ভিসা বন্ধের সংবাদ প্রকাশ করেছে, যার ফলে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলে। শিলিগুড়িতে অবস্থিত বাংলাদেশ ভিসা আবেদনকেন্দ্রটি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থানীয় প্রশাসনিক ও লজিস্টিক কারণে সাময়িকভাবে ওই কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থগিত থাকতে পারে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

-শরিফুল


ইরান সরকারকে হুমকি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৯ ১৩:৩৬:৪৫
ইরান সরকারকে হুমকি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আবারও কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যদি হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, তবে তার জবাবে ইরানকে গুরুতর ও ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দেওয়া এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান–জুড়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলমান এই আন্দোলন দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে।

রক্ষণশীল রেডিও উপস্থাপক হিউ হিউইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানি কর্তৃপক্ষকে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন যে, জনগণের ওপর প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে। তার ভাষায়, “মানুষ হত্যা শুরু হলে আমরা চুপ করে থাকব না, বরং খুব শক্তভাবে আঘাত হানবো।”

সাক্ষাৎকারে হিউইট উল্লেখ করেন, বিক্ষোভ চলাকালে ইতোমধ্যে বহু প্রাণহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, কিছু মৃত্যুর ঘটনা সরাসরি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে না-ও ঘটতে পারে; পদদলিত হওয়া বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতেও হতাহতের আশঙ্কা থাকে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রীয় সহিংসতার কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়।

এর আগেও গত শুক্রবার একই ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি বলেছিলেন, যদি ইরান সরকার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে তাদের পাশে দাঁড়াবে এবং প্রয়োজন হলে ‘উদ্ধারে এগিয়ে আসবে’।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বরাতে জানা গেছে, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত আটজন অপ্রাপ্তবয়স্ক, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

হিউ হিউইটের অনুষ্ঠানে ইরানের আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে সমর্থনের বার্তা দিতে অনুরোধ করা হলে ট্রাম্প বলেন, স্বাধীনতার প্রশ্নে তাদের দৃঢ় থাকতে হবে। তিনি আন্দোলনকারীদের সাহসের প্রশংসা করে বলেন, তারা নিজেদের অধিকার আদায়ে যে অবস্থান নিয়েছেন, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

-রাফসান

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত