বাউল অধিকার ও নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে ৭৫ জন বিশিষ্ট নাগরিকের গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ
-(5).jpg)
দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের ৭৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক মানিকগঞ্জে বাউলশিল্পী আবুল সরকারকে গ্রেপ্তার এবং তাঁর ভক্ত–অনুরাগীদের ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। রোববার প্রকাশিত নাগরিক বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে অংশ নিতে যাওয়া সাধারণ মানুষের ওপর যে নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে তা শুধু বাউল সম্প্রদায়ের ওপর নয়, বরং সমগ্র দেশের নাগরিক নিরাপত্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় স্থানীয় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা হামলাকারীদের বাধা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, ফলে বহু মানুষ রক্তাক্ত হয়েছেন। তাঁদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর “ধর্ম অবমাননা”র অভিযোগকে কেন্দ্র করে ‘তৌহিদি জনতা’ নামের একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে এবং মানিকগঞ্জের এই হামলা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। সংবাদমাধ্যমে হামলাকারীদের নাম, ছবি ও রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ পাওয়ায় তাদের ‘মব’ হিসেবে দায়মুক্তি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে বিবৃতিতে বলা হয়। বিবৃতিদাতারা সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের চিহ্নিত গোষ্ঠীকে ছাড় দিলে তা সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার এমন সময়ে প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়েছে যখন বহু বছর ধরে দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা আঘাতের মুখে পড়েছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় নাগরিকের মত প্রকাশের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলেও সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বাউলদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মিছিল, তাদের প্রকাশ্যে জবাই করার হুমকি, গ্রেপ্তার হওয়া আবুল সরকারের মুক্তি না পাওয়া এবং হামলার পরেও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের অভাব—এসবই নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সরকারের অদক্ষতা তুলে ধরেছে।
নাগরিক বিবৃতিতে পাঁচটি নির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে। প্রথম দাবি, মানিকগঞ্জসহ সারা দেশে বাউলশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয় দাবি, মানিকগঞ্জে হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের আইনের মুখোমুখি করতে হবে এবং ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহার করতে হবে। তৃতীয়ত, ধর্মীয় অনুভূতির নামে উসকানি, হামলা ও সহিংসতা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। চতুর্থ দাবি, “ধর্ম অবমাননা”র অভিযোগে আটক বাউলশিল্পী আবুল সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনের আওতায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং এসব মামলার অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে। পঞ্চম দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারকে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করতে হবে যে দেশের বাউল, শিল্পী, লেখক, সাংবাদিক, একাডেমিক ও সব নাগরিকের শান্তিপূর্ণ মত প্রকাশ, গান গাওয়া এবং সমাবেশ করার সাংবিধানিক অধিকার তারা রক্ষা করবে এবং তার প্রমাণ হিসেবে বাস্তব পদক্ষেপ নেবে।
এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের ৭৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অর্থনীতিবিদ জিয়া হাসান; দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রুবাইয়াত মান্নান রাফি; শিক্ষক ও নাট্যকর্মী সামিনা লুৎফা; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ মোহাম্মদ শাহান; স্থপতি মারজিয়া মিথিলা; শিক্ষক–গবেষক–অধিকারকর্মী আহমেদ আবিদ; অ্যাক্টিভিস্ট এমডি রাশেদ; লেখক সুবাইল বিন আলম; বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সারা হোসেন; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাদিক মাহবুব ইসলাম; শিক্ষক ও লেখক ফাহমিদুল হক; অর্থনীতিবিদ ইসলামুল হক; গবেষক মীর হুযাইফা আল মামদূহ; গণমাধ্যমকর্মী ও উন্নয়নকর্মী তাজওয়ার মাহমিদ; জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির ডক্টরাল ফেলো আসিফ বিন আলী; ব্রেইনের এক্সিকিউটিভ মেম্বার আসিফ ইকবাল; ডিয়াস্পোরা এলায়েন্স ফর ডেমোক্রেসির শামারুহ মির্জা; অর্থনীতি গবেষক ও অ্যাক্টিভিস্ট হুমায়ুন কবির; সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী মৌমিতা জান্নাত; লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট অনুপম সৈকত শান্ত; কৌশিক আহমেদ; সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট রঞ্জন কুমার দে; লেখক ও সংগঠক নাহিদ হাসান; সাংবাদিকতার শিক্ষক আর রাজী; শিক্ষক মানস চৌধুরী; উন্নয়নকর্মী কামরুজ্জামান রিপন; লেখক, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও শিক্ষক মো. আদনান আরিফ সালিম; লেখক ও সাংবাদিক হাসনাত শোয়েব; গবেষক ও শিল্পী জাকারিয়া সুরেশ্বরী; শিল্পী শহীদুল ইসলাম শিশির; গবেষক ও নাট্যকর্মী আশিক ইসতিয়াক; অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক গবেষক ও লেখক ড. মোবাশ্বার হাসান; উপন্যাসিক আশীফ এন্তাজ রবি; স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা সজীব তানভীর; নৃবিজ্ঞান গবেষক পুন্নি কবীর; টাইমস অব বাংলাদেশের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার তাকী মোহাম্মদ জোবায়ের; অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুরশীদ সেলিন; কবি ও অধিকারকর্মী ফেরদৌস আরা রুমী; ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট ইশরাত জাহান প্রীতিলতা; লেখক ও সাংবাদিক সাবিদিন ইব্রাহিম; কবি ও সাংবাদিক রহমান মুফিজ; গবেষক রাইসুল ইসলাম আকাশ; পলিসি রিসার্চ অ্যানালিস্ট হাসনাত কালাম সুহান; শিক্ষক–গবেষক–অনুবাদক টিনা নন্দী; নৃবিজ্ঞানী ও চলচ্চিত্রকার রাফসান আহমেদ; আইনজীবী মাসুদ রানা; লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট রাহাত মুস্তাফিজ; ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির জিএসজি বিভাগের সিনিয়র লেকচারার এবং সত্য নিউজের নির্বাহী সম্পাদক মো. অহিদুজ্জামান; গণিতবিদ ও অ্যাক্টিভিস্ট নাফিসা রায়হানা; রাজনৈতিক কর্মী ও অস্ট্রেলিয়াস্থ সরকারি কর্মকর্তা সৈয়দ সামনান; স্থপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আমিনুল ইসলাম ইমন; সাংবাদিক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক আলমগীর স্বপন; প্রবাসী চিকিৎসক ও গবেষক শাহেদ ইকবাল; শিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ; প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও রাজনীতিক ফিরোজ আহমেদ; সাংবাদিক ও ফ্যাক্টচেকার কদরুদ্দিন শিশির; যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাইফুল খোন্দকার; সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সালাহউদ্দিন ভূঁইয়া; অর্থনীতিবিদ গালিব ইবনে আনোয়ারুল আজীম; সাংবাদিক মুক্তাদির রশীদ; যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টারের পিএইচডি গবেষক মো. ইমরান হোসেন ভূঁইয়া; দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার ইতিহাস গবেষক আলতাফ পারভেজ; সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ইমতিয়াজ মির্জা; লেখক ও রাজনৈতিক কর্মী তুহিন খান; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মনোবিজ্ঞানী কামাল চৌধুরী; আইনজীবী ও ওয়াশিংটন ডিসির আমেরিকান ইউনিভার্সিটির কর্পোরেট আইন প্রভাষক এহতেশামুল হক; সিডনি পলিসি অ্যান্ড অ্যানালাইসিস সেন্টার; অ্যাক্টিভিস্ট রাসেল হিমাদ্রী; শার্প, পলিসি ওয়াচ বিডির ফাউন্ডিং মেম্বার রন্টি চৌধুরী; সোশ্যাল ইনোভেশন স্পেশালিস্ট আশরাফুল হাসান; রাজনৈতিক কর্মী ফারুক সাদিক; কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক রেসাত আমিন প্রিয়া; ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক সফিকুর রহমান; কাউন্টারপয়েন্টের নির্বাহী সম্পাদক জ্যোতি রহমান এবং কবি ও সাংবাদিক রাফসান গালিব।
পিলখানা হত্যার প্রতিটি খুনিকে আইনের আওতায় আনা হবে: মির্জা ফখরুল
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর সাজার ব্যবস্থা করা হবে বলে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন যে ২০০৯ সালের এই কালো দিনে বিডিআরের ৫৭ জন চৌকস সেনা কর্মকর্তাসহ প্রায় ৭২ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল যা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং একটি কলঙ্কিত অধ্যায়। তাঁর মতে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চিরতরে ভেঙে দেওয়া এবং একযোগে এত বিপুল সংখ্যক মেধাবী সেনা কর্মকর্তাকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মনোবল গুঁড়িয়ে দেওয়ার এক গভীর দেশবিরোধী চক্রান্ত করা হয়েছিল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ষড়যন্ত্রকারীরা চেয়েছিল আমাদের সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করতে কিন্তু এদেশের সচেতন জনগণ স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন যে বিএনপি সরকার গঠনের মাধ্যমে পুনরায় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সুযোগ পেয়েছে এবং এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পিলখানা ট্র্যাজেডির প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
তিনি বিশ্বাস করেন যে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত জাতির বুক থেকে কলঙ্কের এই বোঝা নামবে না। পরিশেষে তিনি দেশের জন্য জীবন বিসর্জন দেওয়া বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং পিলখানায় নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
/আশিক
পিলখানা হত্যার এমন বিচার হবে যা ইতিহাসে নজির হয়ে থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ‘শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন যে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের জন্য নতুন করে আর কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান যে গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যথোপযুক্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়েই একটি তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল এবং সেই কমিশনের রিপোর্ট বর্তমান সরকারের হাতে রয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন যে আজ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় যথাযথ গুরুত্বের সাথে শহীদ সেনা দিবস পালন করা হয়েছে যেখানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা জীবন দিয়েছেন তাদের আত্মত্যাগকে চিরভাস্বর অভিহিত করে তিনি বলেন যে পিলখানা হত্যাকাণ্ড শুধু বাংলাদেশের নয় বরং পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস একটি ঘটনা।
সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন যে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল উদ্দেশ্য উদঘাটনের জন্য তৎকালীন সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও দীর্ঘ সময়েও তার ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গঠিত জাতীয় কমিশনের রিপোর্টটি বর্তমানে সরকারের সামনে রয়েছে এবং সেখানে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে গত সরকার ওই রিপোর্ট বাস্তবায়নে তেমন কোনো উদ্যোগ না নিলেও বর্তমান সরকার কমিশনের দেওয়া সুপারিশগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।
বিশেষ করে বিচারিক প্রক্রিয়ায় থাকা মামলাগুলো দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি অন্যান্য সুপারিশগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। শহীদ পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন যে এই হত্যাকাণ্ডের এমনভাবে যথাযথ বিচার করা হবে যাতে ভবিষ্যতে আর কখনো এমন বর্বরোচিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মূলত আমাদের গর্বিত সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র ছিল এবং যারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না তারাই এই ধরনের ন্যক্কারজনক কাজ করতে পারে।
/আশিক
বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন
পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে ২০০৯ সালে সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শহীদ সেনাসদস্যদের স্মরণে রাজধানীর বনানীস্থ সামরিক কবরস্থানে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে শহীদদের বীরত্ব ও ত্যাগের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার ও সত্য উদ্ঘাটনের এই নতুন আবহে দিনটি আজ রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে।
এদিন সকাল ১০টার দিকে বনানী সামরিক কবরস্থানে বীর শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান জ্ঞাপন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থেকে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন এবং পরে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে আয়োজিত বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
শোকাবহ এই শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি আরও উপস্থিত ছিলেন তিন বাহিনীর প্রধানরা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা যারা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। উল্লেখ্য যে আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক বিভীষিকাময় ও কলঙ্কিত দিন হিসেবে পরিচিত কারণ ২০০৯ সালের এই দিনে রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর এবং বর্তমান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে ৫৭ জন চৌকশ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল।
ইতিহাসের সেই বর্বরোচিত ও কলঙ্কিত অধ্যায়টি দীর্ঘ সময় অবহেলিত থাকলেও ২০২৪ সালের পর থেকে বর্তমান সরকারের উদ্যোগে দিনটি ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে যথাযোগ্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে। আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত শহীদ পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের সকল ষড়যন্ত্র উন্মোচন করার বিষয়ে পুনরায় দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
/আশিক
পিলখানা হত্যার নেপথ্যে ছিল সার্বভৌমত্ব বিরোধী তৎপরতা: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন যে দেশ ও জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোই হোক আজকের জাতীয় শহীদ সেনা দিবসের মূল প্রত্যয়। আজ বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, পিলখানায় সংঘটিত নারকীয় সেনা হত্যাযজ্ঞের ১৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ২০০৯ সালের সেই কালো দিনের কথা স্মরণ করে বলেন যে ২৫ ফেব্রুয়ারি আমাদের ইতিহাসের এক কলঙ্কিত দিন যখন বিডিআর সদর দফতর পিলখানায় ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল।
তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে ২০০৯ সালের পর দীর্ঘ সময় এই দিনটিকে যথাযোগ্য গুরুত্ব ও মর্যাদার সাথে পালন করা হয়নি। তবে ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে এই দিনটি পুনরায় রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে যা আমাদের জাতীয় সংহতির পরিচয় দেয়। আজকের এই বিশেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী সকল শহীদের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে যেহেতু এটি একটি বিচারাধীন বিষয়, তাই এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলার অবকাশ নেই। তবে তিনি দেশবাসীকে সচেতন করে বলেন যে নাগরিক হিসেবে আমাদের সবার উপলব্ধিতে থাকা জরুরি যে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী এক গভীর তৎপরতা বিদ্যমান ছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী সময়ে নানা রকম মিথ্যা তথ্য এবং সুপরিকল্পিত অপতথ্য দিয়ে সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল যাতে এই জঘন্য অপরাধের পেছনের প্রকৃত রহস্য আড়ালে থাকে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে সশস্ত্র বাহিনীকে একটি স্বাধীন দেশের সম্মান, বীরত্ব এবং গৌরবের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন যে ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে আমাদের গৌরবময় সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে না পারে, আজ আমাদের সকলকে পুনরায় সেই শপথে বলীয়ান হতে হবে। দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকারই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
/আশিক
বিজিবি না কি বিডিআর? নাম ও পরিচয় পরিবর্তনের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত
রক্তক্ষয়ী পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর আজ। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ৫৭ জন চৌকস সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার সেই ক্ষত আজও দগদগে। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবারের পিলখানা দিবস পালিত হচ্ছে ভিন্ন আবহে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনের আগের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর নাম বদলে পুনরায় ‘বিডিআর’ রাখা এবং তাদের আগের ইউনিফর্ম পুনর্বহালের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত অনুবিভাগের যুগ্মসচিব রেবেকা খান জানিয়েছেন, বিডিআর নাম ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। এখন কেবল ফাইল প্রসেসের অপেক্ষা। বিজিবি বা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক চাহিদা এলেই দ্রুততম সময়ে এই পরিবর্তনের কাজ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দিনটিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের বিষয়েও তাঁর বাণীতে গুরুত্বারোপ করেছেন।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ উদ্ঘাটনে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত ‘জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন’ তাদের রিপোর্টে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার ও প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার তথ্য দিয়েছিল। কমিশনের রিপোর্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসসহ বেশ কয়েকজন নেতার নাম আসলেও বর্তমান সরকার সেই রিপোর্টে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা দিয়েছেন, প্রকৃত সত্য বের করতে সরকার নতুন করে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করবে।
তবে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে ভিন্নমত দেখা গেছে। গত বছর এক অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান স্পষ্ট করে বলেছিলেন, এই বর্বরতা কোনো সেনাসদস্য করেনি, এটি ছিল তৎকালীন বিডিআর সদস্যদের কাজ। এর বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো সংশয় থাকা উচিত নয়। অন্যদিকে, ২০০৯ সালের সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) মইন ইউ আহমেদ সম্প্রতি জানিয়েছেন, তৎকালীন সরকার তদন্তে তাকে যথাযথ সহযোগিতা করেনি।
পিলখানার সেই দুই দিনের নৃশংসতা আজও বাঙালির হৃদয়ে বড় এক বেদনার নাম। শহীদদের স্মরণে আজ সকাল থেকেই বনানী সামরিক কবরস্থানে ও পিলখানায় শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।
/আশিক
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন জনগণের কাছে বোধগম্য: প্রধানমন্ত্রী
পিলখানায় সংঘটিত নারকীয় সেনা হত্যাযজ্ঞের নেপথ্যে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী গভীর ষড়যন্ত্র বিদ্যমান ছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের পর এখন মুক্ত বাংলাদেশে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জনগণের কাছে অত্যন্ত বোধগম্য।
তারেক রহমান তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় দিনটিকে যথাযোগ্য গুরুত্ব দেওয়া না হলেও, ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে এটি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “সশস্ত্র বাহিনী আমাদের সম্মান ও গৌরবের প্রতীক। ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে না পারে, আজ আমাদের সেই শপথে বলীয়ান হতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজ বর্তমানে চলমান। বিচারাধীন বিষয় হওয়ায় বিস্তারিত মন্তব্য না করলেও তিনি মনে করিয়ে দেন যে, এই ঘটনার পর নানা ধরনের অপতথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। শহীদদের মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোই হোক এই দিবসের মূল প্রত্যয়।
/আশিক
৫ আগস্টের পর নিরীহদের আসামি করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনামলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের জন্য বড় সুখবর দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের করা আরও ১ হাজার ২০২টি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে এবং সুবিধা হাসিলের জন্য নিরীহ মানুষকে আসামি করে যে সব ‘হয়রানিমূলক’ মামলা করা হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “কিছু সুবিধাবাদী শ্রেণি ব্যক্তিগত সুবিধা চরিতার্থ করতে নিরীহ লোকদের আসামি করেছে, যা আমাদের নজরে এসেছে। আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর; কেউ যাতে অহেতুক হয়রানির শিকার না হন, তা যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত করা হবে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, ঢালাওভাবে সব মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে না। হত্যা, মাদক, অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধের মামলাগুলো এই তালিকার বাইরে থাকবে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলোই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এর আগে ১ হাজার ৬টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। মামলাগুলো প্রকৃতপক্ষেই রাজনৈতিক কি না, তা আরও সতর্কতার সাথে যাচাই করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হচ্ছে এবং আজ-কালের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
/আশিক
জাকাত ও ফিতরা কত দেবেন? জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ
২০২৬ সালের (১৪৪৭ হিজরি) জাকাত ও সদকায়ে ফিতরের নেসাব এবং পরিমাণ ঘোষণা করেছে রাজধানীর জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার ফতোয়া বিভাগ। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রতিষ্ঠানটির দারুল ইফতা থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ইসলামি শরিয়তের মানদণ্ড অনুযায়ী ৫২.৫ ভরি রুপার বর্তমান বাজারমূল্য ধরে এ বছর জাকাতের নেসাব ধরা হয়েছে ২,৩০,০০০ টাকা।
স্বর্ণালংকারের জাকাত আদায়ের হিসাব
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী, স্বর্ণের খাদ ও মজুরি বাদ দিয়ে জাকাতযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট স্বর্ণমূল্যের ওপর ২.৫% হারে জাকাত প্রদান করতে হবে।
| স্বর্ণের মান | বাজারমূল্য (প্রতি ভরি) | ১৫% বাদে জাকাতযোগ্য মূল্য |
| ২২ ক্যারেট | ২৫৮,৮২৫ টাকা | ২,২০,০০০ টাকা |
| ২১ ক্যারেট | ২৪৭,১০০ টাকা | ২,১০,০০০ টাকা |
| ১৮ ক্যারেট | ২১১,৭৬০ টাকা | ১,৮০,০০০ টাকা |
| সনাতন | ১৭৩,৩৩০ টাকা | ১,৫০,০০০ টাকা |
সদকায়ে ফিতরের হিসাব
সামর্থ্য অনুযায়ী আটা, যব, খেজুর, কিসমিস বা পনিরের যেকোনো একটির মাধ্যমে ফিতরা আদায় করা যাবে। জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার হিসাব অনুযায়ী এ বছরের ফিতরার হার হলো
| খাদ্যদ্রব্য | পরিমাণ | প্রতি কেজি দর | ১টি ফিতরা |
| গম/ আটা | ১.৬৫ কেজি | ৬০/- | ১০০/- |
| যব | ৩.৩ কেজি | ১৩৬/- | ৪৫০/- |
| খেজুর | ৩.৩ কেজি | ৬০৬/- | ২,০০০/- |
| পনির | ৩.৩ কেজি | ৮০৩/- | ২,৬৫০/- |
| কিশমিশ | ৩.৩ কেজি | ৮৫০/- | ২,৮০০/- |
দারুল ইফতার প্রধান মুফতি মনসূরুল হক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রুপার বাজারদর এলাকাভেদে ভিন্ন হতে পারে, তাই নিজ নিজ এলাকার দর যাচাই করে জাকাত পরিশোধ করা উত্তম। উল্লেখ্য, জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ বছরের শুরু ও শেষে থাকা শর্ত, তবে ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার জন্য ঈদের দিন সকালে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকাই যথেষ্ট।
/আশিক
পুলিশের শীর্ষ পদে রদবদল: আলী হোসেন ফকিরের হাতে নতুন মিশন
বাংলাদেশ পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অতিরিক্ত আইজিপি ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর প্রধান মো. আলী হোসেন ফকির। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে তাঁকে। বিসিএস (পুলিশ) ১৫তম ব্যাচের এই চৌকস কর্মকর্তার আইজিপি পদে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি পুলিশ বাহিনীর ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাগেরহাটের সন্তান মো. আলী হোসেন ফকিরের কর্মজীবন ছিল চড়াই-উতরাইয়ে পূর্ণ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে তিনি প্রথম দফায় চাকরি হারান। পরবর্তীতে তাঁকে দ্বিতীয় দফায় বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। দীর্ঘ সময় বঞ্চনার শিকার হওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে চাকরিতে ফেরার সুযোগ পান।
পুনরায় চাকরিতে ফেরার পর প্রথমে এসপি পদমর্যাদায় দায়িত্ব পান তিনি। এরপর যোগ্যতার ভিত্তিতে সুপার নিউমারারি ডিআইজি এবং গত বছরের ১১ আগস্ট অতিরিক্ত আইজিপি (গ্রেড-২) পদে পদোন্নতি লাভ করেন। সর্বশেষ এপিবিএন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আজ সরকার তাঁকে বাহিনীর সর্বোচ্চ পদে আসীন করল। পুলিশ সংস্কার এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি আজ থেকেই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- ২৫ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ২৫ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
- ২৫ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, দেখুন বোর্ডভিত্তিক বৃত্তির চিত্র
- বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন গভর্নর হলেন যিনি
- ফিতরার হার নির্ধারণ : জনপ্রতি সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ যত টাকা
- পিলখানা হত্যার প্রতিটি খুনিকে আইনের আওতায় আনা হবে: মির্জা ফখরুল
- বিএনপির সংরক্ষিত আসনে দেবিদ্বারের সাহসী মুখ রেহেনা পারভীন
- দেবীদ্বারের গুনাইঘর বায়তুল আজগর সাত গম্বুজ জামে মসজিদ
- রোজায় পানিশূন্যতা বিদায় হবে নিমিষেই: সুস্থ থাকতে মেনে চলুন এই জাদুকরী নিয়ম
- ওজন কমাতে চান না কি মেদ ঝরাতে? দই ও ঘোলের গুণাগুণ জেনে নিন
- জেনে নিন আজকের বাজারে মুদ্রার বিনিময় হার
- পিলখানা হত্যার এমন বিচার হবে যা ইতিহাসে নজির হয়ে থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন
- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা! পরমাণু আলোচনার মুখে ৩শ মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন
- পিলখানা হত্যার নেপথ্যে ছিল সার্বভৌমত্ব বিরোধী তৎপরতা: প্রধানমন্ত্রী
- আজ বুধবার: রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- বিয়ের মৌসুমে কপালে চিন্তার ভাঁজ: ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম
- অনলাইনে ও মোবাইলে যেভাবে দেখবেন জুনিয়র বৃত্তির ফলাফল
- বিজিবি না কি বিডিআর? নাম ও পরিচয় পরিবর্তনের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত
- নৈতিকতার প্রশ্নে আপস নেই: ছাত্রশিবিরের অধিবেশনে জামায়াত আমিরের বড় বার্তা
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজকের ঢাকা: কোথায় কোন কর্মসূচি? যানজট এড়াতে জেনে নিন রুট ম্যাপ
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- আজ ৭ রমজান: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
- ভোটের রাজনীতিতে আসিফ মাহমুদ: ঢাকা দক্ষিণে এনসিপির বড় বাজি
- পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন জনগণের কাছে বোধগম্য: প্রধানমন্ত্রী
- গ্যাসের গন্ধ পেলেই যা করবেন: সিলিন্ডার বিস্ফোরণ এড়াতে জরুরি টিপস
- ৫ আগস্টের পর নিরীহদের আসামি করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- জাকাত ও ফিতরা কত দেবেন? জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ
- ইউনিভার্সিটির শিক্ষক হলেন ডাকসুর আলোচিত সেই ভিপি প্রার্থী
- সাতক্ষীরায় সংরক্ষিত নারী আসন: নেতাকর্মীদের পছন্দের শীর্ষে সেতারা নাসরিন নিশি
- শতাধিক পরিবারকে নিয়ে তালসরা ইসলামি সততা সংগঠনের ইফতার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
- অবুঝ নয় জাতি: রাষ্ট্রপতির আচরণ নিয়ে জামায়াত আমিরের কড়া সমালোচনা
- রোজায় ওজন কমাতে চান? ইফতারে কলা খাওয়ার ৫টি দারুণ কারণ
- নতুন দামে আজ থেকেই মিলবে এলপি গ্যাস
- ইফতারে প্রশান্তি! মাত্র কয়েক মিনিটে তৈরি করুন তরমুজের বিশেষ শরবত
- মঈন খানের হাত ধরে নতুন রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন স্থায়ী কমিটির সদস্য
- ৩ দফা দাবিতে শাহবাগ থানা ঘেরাও করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
- পুলিশের শীর্ষ পদে রদবদল: আলী হোসেন ফকিরের হাতে নতুন মিশন
- ১০ মার্চ থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, মাসে পাবে যত টাকা
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কড়া নির্দেশ ছয় সিটি প্রশাসকের কাছে
- ২৪ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ২৪ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
- ২৪ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- অনলাইনে ঈদযাত্রার অগ্রিম ট্রেন টিকিট বিক্রি যেদিন থেকে
- লঘুচাপের প্রভাবে ৫ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা জানাল অধিদপ্তর
- পেঁয়াজুতে এবার চিংড়ির স্বাদ! ইফতারের আড্ডা জমিয়ে দিতে বিশেষ রেসিপি
- যুদ্ধ নাকি সমঝোতা: কোন পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান?
- ১৭ বছর পর নতুন মোড়: বিডিআর মামলায় এবার আসামি শেখ হাসিনা
- অনলাইনে ও মোবাইলে যেভাবে দেখবেন জুনিয়র বৃত্তির ফলাফল
- হু হু করে কমল সোনার দাম
- আবারও বাড়ল স্বর্ণ-রুপার দাম: নতুন দরে নাকাল সাধারণ ক্রেতারা
- স্বর্ণের দামে ফের রেকর্ড! ভরিতে বাড়ল ২ হাজার ২১৬ টাকা
- ৫ আগস্টের সেই ৪০ মিনিট! বঙ্গভবনের ভেতর যা ঘটেছিল জানালেন রাষ্ট্রপতি
- সব রেকর্ড ভাঙল স্বর্ণ! আজ থেকে নতুন রেট কার্যকর
- চাকরির টাকায় সংসার না চললে ছেড়ে দিন, দুর্নীতির কোনো ক্ষমা নেই: আইনমন্ত্রী
- তালসরায় গাউসিয়া কমিটির মানবিক উদ্যোগ: দুস্থদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ
- তিন স্তরের যাচাই শেষে ফ্যামিলি কার্ড: জেনে নিন আবেদনের সব নিয়ম
- ফ্যামিলি কার্ডের জন্য প্রস্তুত ১৩ জেলা: উদ্বোধনের তারিখ জানালেন প্রধানমন্ত্রী
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দর কত? জেনে নিন বাজুসের নতুন মূল্যতালিকা
- সাতক্ষীরায় সংরক্ষিত নারী আসন: নেতাকর্মীদের পছন্দের শীর্ষে সেতারা নাসরিন নিশি
- স্বর্ণের বাজারে টানা দরপতন: দুই দফায় কমল প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা
- স্বাধীনতার পর প্রথম মন্ত্রী: কুমিল্লা বরুড়াবাসীর স্বপ্ন পূরণ করতে চান জাকারিয়া তাহের
- শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় অমর একুশে পালন করল কালিগঞ্জবাসী: বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ








