দীর্ঘ চার বছরের বিরতি ভেঙে বড় পর্দায় ফিরেই বক্স অফিসে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন ‘রকিং স্টার’ খ্যাত অভিনেতা যশ। বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানো ‘কেজিএফ’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সাফল্যের পর তাঁর অভিনীত নতুন চলচ্চিত্র ‘টক্সিক: এ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোনআপস’ মুক্তির প্রথম দিনেই প্রেক্ষাগৃহে ঝড় তুলেছে।
মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচকদের নেতিবাচক পর্যালোচনা সত্ত্বেও অগ্রিম বুকিং এবং মুক্তির প্রথম দিনের টিকিট বিক্রিতে সিনেমাটি অভাবনীয় সাড়া পেয়েছে। মুক্তির দিনেই ভারতে ১৫ লাখের বেশি টিকিট বিক্রির মাধ্যমে ছবিটি আয় করেছে প্রায় ৪৯ কোটি রুপি, আর সব মিলিয়ে উদ্বোধনী দিনের মোট আয় ১০০ কোটি রুপির মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে বলে আভাস মিলেছে।
গীতু মোহনদাস পরিচালিত এই গ্যাংস্টার ঘরানার সিনেমায় যশকে একটি দ্বৈত চরিত্রে দেখা গেছে। গীতু ও যশের যৌথ চিত্রনাট্যে নির্মিত এই ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে ১৯৫০-এর দশকের গোয়ার প্রেক্ষাপটে এক তীব্র ও সহিংস প্রতিশোধের আখ্যানকে কেন্দ্র করে, যা প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী রূপকথা হিসেবে পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমায় যশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ নারী চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন কিয়ারা আদভানি, নয়নতারা, তারা সুতারিয়া, রুক্মিণী বসন্ত এবং হুমা কুরেশি। কন্নড় ও ইংরেজি ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্রটি একই সঙ্গে হিন্দি, তামিল ও তেলুগু ভাষায় ভারতজুড়ে প্রদর্শিত হচ্ছে।
মুক্তির আগে থেকেই ট্রেলার ও টিজারে অতিরিক্ত রক্তপাত, সহিংসতা এবং গ্রাফিক যৌন দৃশ্যের উপস্থিতির কারণে সিনেমাটি ব্যাপক আলোচনা ও আইনি জটিলতার মুখে পড়ে। তবে অভিনেতা যশ শুরু থেকেই স্পষ্ট করেছিলেন যে এটি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্মিত এবং এর গভীর আবহ দর্শকদের চমকে দেবে।
পরবর্তীতে সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) কোনো বড় দৃশ্য কর্তন ছাড়াই মাত্র দুটি সাধারণ পরিবর্তনের শর্তে সিনেমাটিকে প্রাপ্তবয়স্কদের ছাড়পত্র বা ‘এ’ সার্টিফিকেট প্রদান করে। মুক্তির পাঁচ দিন আগে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হতেই দর্শকদের মাঝে বিপুল আগ্রহ লক্ষ্য করা যায় এবং মুক্তির আগেই অগ্রিম বুকিং বাবদ আয় ৫৮ কোটি রুপি ছাড়িয়ে যায়।
বিভিন্ন প্রতিকূলতায় ‘টক্সিক’-এর মুক্তির দিনক্ষণ বেশ কয়েক দফা পেছাতে হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে চলতি বছরের মার্চ মাসে ‘ধুরন্ধর ২’-এর সঙ্গে মুক্তির কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তা জুনে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে কারিগরি ও পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় চূড়ান্তভাবে ২৬ আগস্ট মুক্তির তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
সমালোচকদের নেতিবাচক মন্তব্য থাকলেও যশের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে ভক্তদের বাঁধভাঙা উন্মাদনা বক্স অফিসে কোনো প্রভাব পড়তে দেয়নি, বরং সিনেমাটি বড় ধরনের বাণিজ্যিক সাফল্যের ইঙ্গিত দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস