বৃহস্পতিবারের রাশিফল: জেনে নিন আপনার দিনটি কেমন যাবে

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২০ ০৯:৫৫:২৮
বৃহস্পতিবারের রাশিফল: জেনে নিন আপনার দিনটি কেমন যাবে
ছবিঃ সংগৃহীত

মেষ [২১ মার্চ-২০ এপ্রিল]

দাম্পত্য জীবনে শান্তি বজায় রাখার জন্য জীবনসঙ্গীর মতামতকে আজ বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সঞ্চিত অর্থে টান পড়তে পারে। বিশেষ করে বাসার ইলেকট্রনিক সামগ্রী, বৈদ্যুতিক মিটার বা পানির কল মেরামতের জন্য আজ বাড়তি খরচের ধাক্কা আসতে পারে, যা শিক্ষার্থীদের মন কিছুটা বিষণ্ণ করে দিতে পারে।

বৃষ [২১ এপ্রিল-২০ মে]

আজকের দিনটি আপনার জন্য বেশ আনন্দের বার্তা নিয়ে আসতে পারে। বাড়িতে কোনো মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হতে পারে। ব্যবসায়ীরা তাদের মজুদ পণ্যের দাম বাড়তে দেখবেন। দূর থেকে কোনো শুভ সংবাদ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিঃসন্তান দম্পতিদের কোল আলোকিত হতে পারে। প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং উপহার পাওয়ার যোগ রয়েছে।

মিথুন [২১ মে-২০ জুন]

বাণিজ্যিক বা ব্যবসায়িক সফর আজ আপনার জন্য লাভজনক প্রমাণিত হতে পারে। যারা দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানের প্রত্যাশায় ছিলেন, তাদের মুখে আজ হাসির ঝলক ফুটতে পারে। তবে লটারি, জুয়া, রেস বা শেয়ার বাজারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিন এবং আশ্রিত ব্যক্তিদের থেকে সাবধান থাকুন। সন্তানরা আজ আপনার কথা মেনে চলবে।

কর্কট [২১ জুন-২০ জুলাই]

অর্থকড়ি লেনদেনে আজ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। আয় এবং ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকায় সঞ্চয়ের খাতা শূন্যই থাকতে পারে। পিতা-মাতার কাছ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা পাবেন। তবে মিথ্যা কোনো দুর্নাম বা বদনামের ভাগীদার হতে পারেন। শিক্ষার্থীদের জন্য দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দাম্পত্য সুখ অটুট রাখতে সঙ্গীর মতামতকে প্রাধান্য দিন।

সিংহ [২১ জুলাই-২০ আগস্ট]

আজ ধন উপার্জনের চেয়ে ধনক্ষয় বা ব্যয়ের পাল্লাই ভারী হতে পারে। কর্মক্ষেত্রে সহকর্মী ও অংশীদারদের মন জুগিয়ে চলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অত্যাবশ্যকীয় কোনো বিবাহ কার্যক্রমে বাধা আসার আশঙ্কা রয়েছে। আশ্রিত বা প্রতিপালিত ব্যক্তিদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন। দূর থেকে কোনো অপ্রিয় সংবাদ মনকে ভারাক্রান্ত করতে পারে। বাড়ির ইলেকট্রনিক সামগ্রী মেরামতে ভোগান্তি হতে পারে।

কন্যা [২১ আগস্ট-২২ সেপ্টেম্বর]

সন্তানদের গতিবিধির ওপর আজ তীক্ষ্ণ নজর রাখা প্রয়োজন, কারণ তা আপনার জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ধৈর্য, সাহস ও মনোবল আজ বৃদ্ধি পাবে। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ ও বিবাদের মীমাংসা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জীবনসঙ্গী ও শ্বশুরবাড়ি থেকে আজ ভরপুর সহযোগিতা পাবেন। প্রেমিক যুগলের জন্য দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। লৌকিকতা পরিহার করার চেষ্টা করুন।

তুলা [২৩ সেপ্টেম্বর-২২ অক্টোবর]

সহকর্মীরা আজ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেও নিজের রাগ, জেদ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। আয় বুঝে ব্যয় করার দিকে নজর দিতে হবে। মনে কোনো কারণে ভয়, লজ্জা বা দুর্বলতা কাজ করতে পারে। শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে কৌশলী হয়ে কাজ উদ্ধার করতে হবে। সন্তানদের গতিবিধির দিকে খেয়াল রাখুন এবং বিষাক্ত পোকামাকড় থেকে নিজেকে সাবধানে রাখুন।

বৃশ্চিক [২৩ অক্টোবর-২১ নভেম্বর]

আজ আপনি পিতা-মাতার কাছ থেকে ভরপুর সহযোগিতা পাবেন। পরিবারে নতুন কোনো ছোট্ট অতিথির আগমন ঘটতে পারে। চারদিক থেকে উন্নতির সুযোগ আসতে পারে। বিদেশভ্রমণ বা বিদেশ থেকে দেশে ফেরার জন্য দিনটি শুভ। শিক্ষার্থীদের মন আনন্দে ভরে থাকবে। শত্রু ও বিরোধীপক্ষের সব কুপরিকল্পনা নস্যাৎ হয়ে যাবে।

ধনু [২২ নভেম্বর-২০ ডিসেম্বর]

দাম্পত্য জীবনে ঐক্য বজায় রাখা আজ কিছুটা কঠিন হতে পারে। তবে পরিবারে নতুন মুখের আগমনে গৃহ মুখর থাকবে। হারানো কোনো প্রিয় জিনিস বা সম্পর্ক ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সহকর্মী ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের পূর্ণ সহযোগিতা পাবেন। ভেঙে যাওয়া প্রেম বা বন্ধুত্ব পুনরায় জোড়া লাগতে পারে। তবে আত্মীয়রূপী কিছু খারাপ মানুষ সংসারে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করতে পারে।

মকর [২১ ডিসেম্বর-১৯ জানুয়ারি]

আজকের দিনটি আপনার জন্য ধৈর্য, সাহস ও মনোবলে পূর্ণ একটি রাজকীয় দিন হতে পারে। তবে দ্রুতগতির যানবাহন এড়িয়ে চলা উচিত। সন্তানদের সাফল্যে গর্বিত হওয়ার সুযোগ আসবে। সফলতার চাবিকাঠি আজ আপনার হাতেই থাকবে। প্রেম, রোমান্স, বিনোদন ও ভ্রমণের জন্য দিনটি শুভ। মন ধর্মীয় কাজের দিকে ঝুঁকবে এবং ভাইবোনদের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় হবে।

কুম্ভ [২০ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি]

আশ্রিত বা প্রতিপালিত ব্যক্তিদের থেকে আজ সাবধান থাকা জরুরি। হারানো নেতৃত্ব বা কর্তৃত্ব ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ধার-কর্জ বা ঋণ থেকে মুক্তি মিলতে পারে। কর্ম ও ব্যবসায় উন্নতির ধারা অব্যাহত থাকবে এবং শূন্য পকেট অর্থে পূর্ণ হবে। শিক্ষার্থীদের জীবন ধন্য হতে পারে। প্রেম, বন্ধুত্ব ও ভ্রমণের জন্য দিনটি শুভ। বাড়িতে নতুন আসবাবপত্র কেনার যোগ রয়েছে।

মীন [১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ]

পিতা-মাতা ও গুরুজনদের সহযোগিতা পাবেন। পরিবারে ছোট্ট নতুন মুখের আগমনে আনন্দ বাড়বে। ধীরে ধীরে জীবনের দুর্যোগ কাটতে শুরু করবে এবং নতুন স্বপ্ন পূরণ হবে। প্রেমিক-প্রেমিকাদের মনের অভিমান ভাঙবে। ভাগ্যলক্ষ্মীর কৃপা আজ আপনার ওপর বর্ষিত হবে। গৃহ বা যানবাহন পরিবর্তনের সুযোগ আসতে পারে। বিদ্যা, বুদ্ধি ও জ্ঞানের চর্চায় সুফল মিলবে।


রোজায় ক্লান্তিবোধ কমবে নিমিষেই: শক্তি ধরে রাখার ৪টি সেরা কৌশল

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১২:০২:০০
রোজায় ক্লান্তিবোধ কমবে নিমিষেই: শক্তি ধরে রাখার ৪টি সেরা কৌশল
ছবি : সংগৃহীত

রোজা রাখার অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা থাকলেও শরীর ক্লান্ত হওয়াটা স্বাভাবিক। সারাদিন না খেয়ে থাকার কারণে শরীর কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তবে চিন্তার কিছু নেই। কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখলে পুরো রমজানজুড়ে আপনি সুস্থ ও শক্তিশালী থাকতে পারবেন। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠলে ক্লান্তিবোধ কমে আসবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রোজায় শক্তি ধরে রাখতে কী করবেন-

সেহরিতে পুষ্টিকর খাবার খান

সুষম সেহরি দিনের বেলায় রোজার জন্য শরীরকে প্রস্তুত করতে সাহায্য করবে, পাশাপাশি হজমকে আরও মসৃণ করে তুলবে। জটিল কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফল ও শাক-সবজির মিশ্রণ শরীরকে টিকিয়ে রাখবে। লবণাক্ত বা গভীর ভাজা খাবার এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার উপভোগ করুন। হোল গ্রেইন রুটি, বাদামি চাল, ডিম, অ্যাভোকাডো, পনির এবং কলা বেছে নিন। সেইসঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করুন যাতে শরীরে সারাদিন আর্দ্রতা বজায় থাকে।

মৃদু ব্যায়াম

শরীর যখন রোজার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়, তখন প্রথম কয়েক দিন শক্তির মাত্রা কিছুটা কমে যেতে পারে। এটিকে সামঞ্জস্য করার জন্য, আপনার দিনের রুটিনের মধ্যে মৃদু কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত করুন। কয়েক মিনিট স্ট্রেচিং, অল্প হাঁটা, অথবা কিছু সহজ শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম আপনাকে পুনরুজ্জীবিত এবং সতেজ করতে সাহায্য করবে। তবে মনে রাখবেন, ব্যায়াম যেন খুব ভারী না হয় যাতে শরীর অতিরিক্ত পানিশূন্য হয়ে পড়ে।

ঘুমের সময়সূচী ঠিক রাখুন

ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুবান্ধব এবং পরিবার একত্রিত হওয়ার সময় হলো রমজান মাস। ইফতার, নামাজ, সেহরি সবকিছু মিলিয়ে রাতে ঘুমের সময়ে পরিবর্তন আসে। শরীরকে বিশ্রাম দেওয়া সতেজ থাকার অন্যতম প্রধান শর্ত। যদি সম্ভব হয়, আগে আগে ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করুন, অথবা সম্ভব হলে নিয়মিত ঘুমের সময়সূচী বজায় রাখুন। পর্যাপ্ত ঘুম আপনার মস্তিষ্ক ও শরীরকে দিনের বেলার ধকল সইতে সাহায্য করবে।

ঠান্ডা পরিবেশে থাকুন

তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে রোজায় পানিশূন্যতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই দিনের বেলা ফ্যান এবং এয়ার কন্ডিশনিং সমৃদ্ধ পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন, সেইসঙ্গে সম্ভব হলে সরাসরি রোদ বা তাপ থেকে দূরে থাকুন। তীব্র পানিশূন্যতা এড়াতে নিজের ও প্রিয়জনদের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন। শরীরে চরম পানিশূন্যতার কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

/আশিক


রোজায় গ্যাসের সমস্যায় ভুগছেন? সমাধান মিলবে ঘরোয়া এই নিয়মেই

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১১:৪৭:৫১
রোজায় গ্যাসের সমস্যায় ভুগছেন? সমাধান মিলবে ঘরোয়া এই নিয়মেই
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র মাহে রমজানের রোজা থাকা অবস্থায় পেটে গ্যাস হলে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা ভালো। গ্যাসের সমস্যা সাধারণত অতিরিক্ত খাবার বা তেল-মশলাযুক্ত খাবার খাওয়ার কারণে হয়, কিন্তু রোজার সময় এটি আরও সমস্যা হতে পারে। যা করবেন তার বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হলো।

প্রথমেই সঠিক খাবার নির্বাচন করা জরুরি। সেহরিতে বা ইফতারে ভারী খাবারের বদলে হালকা, পচনশীল খাবার খান। যেমন- তাজা ফল, সবজি, স্যুপ বা কম তেলে রান্না করা খাবার আপনার হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করবে। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত প্রয়োজন। ইফতার এবং সেহরির সময় নিয়মিত বিরতিতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। পানি পেটে জমে থাকা গ্যাস বের করতে সরাসরি সাহায্য করে।

অ্যালকোহল বা ক্যাফিনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা এই সময়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চা, কফি বা সফট ড্রিঙ্কের মতো ক্যাফিনযুক্ত পানীয় পেটে গ্যাসের সমস্যা অনেক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই সেহরি এবং ইফতারে এ জাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলুন। এছাড়া সব খাবার একবারে না খেয়ে আলাদা করে হালকা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। একসাথে বেশি খাবার না খেয়ে, অল্প অল্প করে ধাপে ধাপে খাবার খেলে পাকস্থলীর ওপর চাপ কম পড়ে।

খাবার খাওয়ার পর অলস বসে না থেকে মৃদু হাঁটাহাঁটি করুন। ইফতার বা সেহরির পর কিছুটা হাঁটাহাঁটি করা আপনার শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। এটি পেটের গ্যাস বের করতে এবং খাবার হজম করতে দারুণ সহায়ক। তবে এসব কিছু করার পরেও যদি গ্যাস বেশি সমস্যা সৃষ্টি করে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে উপযুক্ত গ্যাস দূরীকরণের ঔষধ ব্যবহার করতে পারেন। মোটের ওপর, গ্যাসের সমস্যা কমাতে রোজায় স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

/আশিক


ইফতারের পর ক্লান্ত লাগে? সতেজ থাকার সহজ উপায়গুলো জেনে নিন

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১৯:৩৬:৫২
ইফতারের পর ক্লান্ত লাগে? সতেজ থাকার সহজ উপায়গুলো জেনে নিন
ছবি : সংগৃহীত

সারাদিন রোজার শেষে মাগরিবের আজান শুনে ইফতার করা হয়। টেবিলে সাজানো নানা পদের খাবার দেখে খাওয়ার আগ্রহ থাকে অনেক বেশি, কারণ আপনি সারাদিনের ক্ষুধার্ত। পেটপুরে মজার সব খাবার তো খেয়ে নিলেন, এরপর ভাবছেন মুহূর্তেই শক্তিশালী হয়ে যাবেন? আপনার প্রত্যাশা এমনটা থাকলেও আসলে তা হয় না। কারণ ইফতার খাওয়ার পরপরই আপনার ক্লান্ত লাগতে শুরু করে।

সারাদিন রোজার শেষে মাগরিবের আজান শোনামাত্রই ইফতারের টেবিলে বসা—এ যেন এক বিশেষ অনুভূতি। সামনে সাজানো নানা পদের খাবার দেখে স্বাভাবিকভাবেই খাওয়ার আগ্রহ থাকে তুঙ্গে। কিন্তু পেটভরে খাওয়ার পরপরই অনেকেরই অদ্ভুত ক্লান্তি ভর করে। এর কারণ হলো দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ করে অতিরিক্ত ও ভারী খাবার খাওয়া। একসঙ্গে বেশি খাবার গ্রহণ করলে তা হজমে শরীরকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। ফলে রক্তপ্রবাহের একটি বড় অংশ হজম প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয় এবং শরীরে ক্লান্তি অনুভূত হয়।

কিছু উপায় মেনে চললেই এড়ানো যাবে ইফতারের পরের এই ক্লান্তি। জেনে নিন উপায়গুলো-

ধীরে ও পরিমিতভাবে খান

ইফতারের সময় টেবিলে সাজানো নানা পদের খাবার থেকে অল্প অল্প করে খেলেও দ্রুত পেট ভরে যায়। কিন্তু সারাদিন রোজার পর একসঙ্গে অনেক ধরনের খাবার খেলে ক্লান্তি অনুভূত হওয়াই স্বাভাবিক। ক্ষুধা থাকলেও হজমের জন্য পেটকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া জরুরি। তাই সব খাবার একবারে না খেয়ে ধাপে ধাপে খান। কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে আবার খান। এতে শরীর অতিরিক্ত চাপ অনুভব করবে না এবং খাবারও ভালোভাবে হজম হবে।

হালকা ও সুষম খাবার বেছে নিন

ইফতারে হালকা ও সুষম খাবার বেছে নেওয়া জরুরি, কারণ সারাদিন রোজার পর শরীরকে দ্রুত শক্তি দিতে হলেও হজমে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া ঠিক নয়। তাই খেজুর ও পানি দিয়ে ইফতার শুরু করে ফলমূল, ছোলা বা ডিমের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, সবজি, সালাদ বা হালকা স্যুপ রাখতে পারেন। এগুলো সহজে হজম হয়, ধীরে ধীরে শক্তি জোগায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে। অন্যদিকে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, তেলচর্বিযুক্ত বা বেশি মিষ্টি খাবার কম খাওয়াই ভালো, কারণ এগুলো হজমে সময় নেয় এবং ইফতারের পর ক্লান্তি বাড়াতে পারে।

পানিশূন্যতা দূর করুন

সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থাকার কারণে খুব স্বাভাবিকভাবেই আমাদের শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এরপর ইফতারে ডুবোতেলে ভাজা আর বিভিন্ন মসলাদার খাবার খাওয়া হয়। ফলস্বরূপ পানির ঘাটতি পূরণ হয় না। ইফতারের পর প্রচুর পানির দরকার হয় শরীরের। তাই বিভিন্ন ফল, ফলের রস, শরবত, ডাবের পানি ইত্যাদি খান। ভাজাপোড়া খাবার খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে। এতে শরীরে পানির ঘাটতি দূর হবে। সেইসঙ্গে দূর হবে ক্লান্তিও।

অতিরিক্ত মিষ্টি এড়িয়ে চলুন

ইফতারে অতিরিক্ত মিষ্টি এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একসঙ্গে বেশি মিষ্টি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে পরে হঠাৎ কমে যায়, যা ক্লান্তি ও অবসাদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মিষ্টির বদলে খেজুর বা ফলমূল বেছে নিলে শরীরকে ধীরে ধীরে শক্তি দেওয়া হয় এবং হজমও সহজ হয়।

এককাপ চা কিংবা কফি

রোজায় চা কিংবা কফি পানের অভ্যাস বাদ দেন অনেকে। তবে ইফতারের পর ক্লান্তি কাটানোর জন্য এককাপ চা কিংবা কফি পান করতে পারেন। কারণ এ ধরনের পানীয়তে থাকা ক্যাফেইন আপনাকে ভেতর থেকে সতেজ রাখতে কাজ করে। তবে এই চা কিংবা কফি যেন খুব কড়া না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। সেইসঙ্গে এককাপের বেশি পান না করাই ভালো।

কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন

ইফতারের পরপরই শুয়ে-বসে থাকবেন না। বরং স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করুন। আমাদের শরীর আমাদের মনের কথা শুনে চলে। তাই নিজেকে ক্লান্ত ভাববেন না। বরং ইফতারের পর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন। এতে ক্লান্তি দূর হবে সহজেই। সেইসঙ্গে হজমও ভালো হবে।

নামাজ পড়ে নিন

ইফতারের শুরুতে একটি খেজুর ও একগ্লাস পানি খেয়ে মাগরিবের নামাজ পড়ে নিন। এতে নামাজ সময়মতো আদায় হয়ে যাবে এবং ততক্ষণে আপনার পেটও খাবার হজমের জন্য তৈরি হবে। নামাজ শেষ করে ইফতারের বাকি খাবার খাবেন। যারা এভাবে খেয়ে অভ্যাস্ত, তারা তুলনামূলক অনেক কম ক্লান্ত হন।

/আশিক


ইফতারে যেসব ভুলের কারণে গ্যাস্ট্রিক ও ওজন বাড়ে

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১৭:১৪:০২
ইফতারে যেসব ভুলের কারণে গ্যাস্ট্রিক ও ওজন বাড়ে
ছবি : সংগৃহীত

বছর ঘুরে আবার এসেছে সংযম, ধৈর্য ও আত্মশুদ্ধির মাস রমজান। তবে দিনভর রোজার পর ইফতারে অসচেতন খাদ্যাভ্যাসের কারণে অনেকেই ভোগেন গ্যাস্ট্রিক, পেট ফাঁপা, বুকজ্বালা ও ওজন বৃদ্ধির মতো সমস্যায়। পুষ্টিবিদদের মতে, ইফতারে কিছু সাধারণ ভুলই এসব সমস্যার মূল কারণ। বেগুনি, পেঁয়াজু বা আলুর চপ ছাড়া অনেকের ইফতার অসম্পূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার পর অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার পাকস্থলীতে চাপ সৃষ্টি করে। এতে হজমে সমস্যা, অ্যাসিডিটি ও গ্যাসের ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে চর্বি হিসেবে জমতে থাকে।

শরবত, প্যাকেটজাত জুস বা কোমল পানীয় দিয়ে ইফতার শুরু করার অভ্যাসও ক্ষতিকর। এসব পানীয়তে থাকা উচ্চমাত্রার চিনি দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। সাময়িক শক্তি মিললেও অল্প সময় পর ক্লান্তি, ক্ষুধা ও অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। রোজা ভাঙার পর অনেকেই দ্রুত ও বেশি খাবার খেয়ে ফেলেন। এতে পাকস্থলী হঠাৎ অতিরিক্ত কাজের চাপের মুখে পড়ে। ফল হিসেবে দেখা দেয় বদহজম, বমিভাব ও অস্বস্তি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ধীরে ধীরে ও পরিমিতভাবে খাওয়াই সুস্থ ইফতারের মূল চাবিকাঠি।

অতিরিক্ত ঝাল বা মসলাদার খাবার গ্যাস্ট্রিক ও বুকজ্বালার ঝুঁকি বাড়ায়। যাদের আগে থেকেই অ্যাসিডিটির সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এটি আরও ক্ষতিকর হতে পারে। ইফতারে ভাজা ও কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবারের আধিক্যে প্রোটিন ও সবজির উপস্থিতি কম থাকে। ফলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না, দ্রুত ক্ষুধা লাগে এবং ওজন বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া ইফতারের পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়লে গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা বাড়ে। একই সঙ্গে এই অভ্যাস ওজন বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে।

পুষ্টিবিদদের মতে, ইফতার হওয়া উচিত হালকা ও পরিমিত। পানি ও খেজুর দিয়ে রোজা ভেঙে কিছু সময় বিরতি নেওয়া ভালো। ভাজাপোড়া ও চিনি কমিয়ে শাকসবজি, ডাল, ডিম, মাছ বা অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখলে গ্যাস্ট্রিক ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। রমজান শুধু না খেয়ে থাকার মাস নয়; এটি সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলারও সুযোগ। ইফতারে সচেতনতা বজায় রাখলে এই মাস শরীর ও স্বাস্থ্যের জন্য সত্যিকার অর্থেই উপকারী হয়ে উঠতে পারে।

/আশিক


ইফতারে প্রাণ জুড়াতে খেজুরের স্মুদি: ঝটপট তৈরির সহজ উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১২:২৬:২৬
ইফতারে প্রাণ জুড়াতে খেজুরের স্মুদি: ঝটপট তৈরির সহজ উপায়
ছবি : সংগৃহীত

সারা দিন রোজা রাখার পর ইফতারে এক গ্লাস ঠান্ডা ও পুষ্টিকর পানীয় শরীরের ক্লান্তি দূর করে মুহূর্তেই সতেজতা ফিরিয়ে আনে। আমরা অনেকেই ইফতারে বাজার থেকে কেনা কৃত্রিম রঙ ও চিনিযুক্ত ইনস্ট্যান্ট শরবত পান করি, যা সাময়িক তৃপ্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এর বদলে ঘরে থাকা সাধারণ কিছু উপকরণ দিয়ে আপনি ঝটপট তৈরি করে নিতে পারেন প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন 'খেজুরের স্মুদি'। এটি যেমন সুস্বাদু, তেমনি পুষ্টিগুণে অনন্য।

প্রয়োজনীয় উপকরণ

ভালো মানের খেজুর: ১০-১২টি (বীজ ছাড়ানো)

তরল দুধ: ২ কাপ

পাকা কলা: ২ টি

মিষ্টি দই: ২ টেবিল চামচ

দারুচিনি গুঁড়া: ২ চা-চামচ (স্বাদের জন্য)

মধু: ২ চা-চামচ (প্রয়োজন অনুযায়ী)

পরিমাণমতো বরফ কুচি।

প্রস্তুত প্রণালি

১. প্রথমে খেজুরগুলো ভালো করে ধুয়ে সামান্য গরম পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। এতে খেজুর নরম হবে এবং ব্লেন্ড করতে সুবিধা হবে।

২. এবার ভেজানো খেজুর ও টুকরো করা কলা একসাথে মিশিয়ে নিন।

৩. ব্লেন্ডারে ভেজানো খেজুর, কলার টুকরো, দুধ, দই, দারুচিনি গুঁড়া ও মধু দিন। মিশ্রণটি ততক্ষণ ব্লেন্ড করুন যতক্ষণ না এটি একটি মসৃণ ও ঘন দানাহীন পানীয়তে পরিণত হয়।

৪. ব্লেন্ড করা হয়ে গেলে সুন্দর কাঁচের গ্লাসে ঢেলে নিন। উপরে বরফ কুচি ছড়িয়ে দিয়ে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন।

স্মুদির আসল স্বাদ পেতে ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে এটি তৈরি করা ভালো। কারণ দীর্ঘক্ষণ বানিয়ে রাখলে এর স্বাদ ও বর্ণে পরিবর্তন আসতে পারে। প্রাকৃতিক মিষ্টি হিসেবে খেজুর ও মধু থাকায় এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও (পরিমিত পরিমাণে) বেশ উপযোগী একটি পানীয়।

/আশিক


রোজার ক্লান্তি দূর করবে এক বাটি ফল; ইফতারে কোন কোন ফল রাখবেন?

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১১:৪২:৫৫
রোজার ক্লান্তি দূর করবে এক বাটি ফল; ইফতারে কোন কোন ফল রাখবেন?
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র রমজানে রোজার দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতারে মৌসুমি ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সাধারণত ইফতারে আমরা ভাজাপোড়া জাতীয় খাবারের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ি, যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। পুষ্টিবিদরা পরামর্শ দিচ্ছেন, ইফতারের খাদ্যতালিকায় মৌসুমি ফলকে প্রথম সারিতে রাখতে। কারণ মৌসুমি ফল শুধু টাটকাই নয়, এগুলো সহজপাচ্য, পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং শরীর খুব দ্রুত তা গ্রহণ করতে পারে।

ইফতারের টেবিলে এক বাটি মৌসুমি ফল রাখতে পারলেই মিলবে স্বস্তি, পুষ্টি ও সতেজতা—তিনটিই একসঙ্গে। বর্তমানে দেশের বাজারে গ্রীষ্মের আগাম ফল উঠতে শুরু করেছে। এ সময়ের সহজলভ্য কিছু ফল ইফতারের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

তরমুজ

প্রায় ৯০ শতাংশ পানি সমৃদ্ধ তরমুজ সারা দিনের পানিশূন্যতা কাটাতে অত্যন্ত কার্যকর। এতে থাকা লাইকোপিন ও ভিটামিন সি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। ইফতারে মাত্র ১-২ টুকরো তরমুজ শরীরকে দ্রুত রিহাইড্রেট করে এবং নিমিষেই সতেজ অনুভূতি এনে দেয়।

কলা

সবচেয়ে সহজলভ্য ও শক্তিদায়ক ফল হলো কলা। এতে উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম থাকে, যা শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং দীর্ঘক্ষণ রোজা রাখার ফলে তৈরি হওয়া পেশির দুর্বলতা কমায়। একটি মাঝারি আকারের কলা ইফতারে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগাতে কার্যকর।

পেঁপে

হজমে সহায়ক এনজাইমসমৃদ্ধ পেঁপে দীর্ঘ সময় না খাওয়ার পর পেটের জন্য খুবই আরামদায়ক। এটি একদিকে যেমন হালকা ও সহজপাচ্য, অন্যদিকে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও দারুণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

আনারস

ভিটামিন সি ও ব্রোমেলিন এনজাইমে সমৃদ্ধ আনারস দ্রুত হজমে সাহায্য করে। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে, তারা আনারস পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।

ডাবের পানি ও মাল্টা

ডাবের পানি প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটের প্রধান উৎস, যা শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে জাদুর মতো কাজ করে। এছাড়া মাল্টা বা কমলালেবু ভিটামিন সি সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সরাসরি সহায়তা করে।

/আশিক


কাঁচা না সেদ্ধ? ইফতারের ছোলার পুষ্টিগুণ নিয়ে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১১:৩১:৫৮
কাঁচা না সেদ্ধ? ইফতারের ছোলার পুষ্টিগুণ নিয়ে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
ছবি : সংগৃহীত

রমজান এলেই ইফতারের টেবিলে ছোলার উপস্থিতি প্রায় অবধারিত। সারাদিন রোজা রাখার পর পুষ্টিকর খাবার হিসেবে অনেকেই ভরসা রাখেন এই সহজলভ্য ডালজাতীয় খাদ্যের ওপর। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—ভিজিয়ে কাঁচা ছোলা খাওয়া ভালো, নাকি সেদ্ধ করে? কোনটিতে পুষ্টিগুণ বেশি?

পুষ্টিবিদরা বলছেন, দুইভাবেই ছোলা খাওয়া উপকারী, তবে শরীরের অবস্থা ও হজমক্ষমতার কথা ভেবে পদ্ধতি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সম্প্রতি ইমিউনস সাইন্সের এক প্রতিবেদনে ওঠে আসে এ তথ্য।

ছোলার পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

প্রতিবেদনে বলা হয়, ছোলা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ডালজাতীয় খাদ্য। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স এবং আয়রন ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। এসব উপাদান শরীরের শক্তি জোগায়, পেশি গঠনে সাহায্য করে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রাখে।

বিশেষ করে ছোলার উচ্চ ফাইবার উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। পুষ্টিবিদদের মতে, ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। ফলে গ্লুকোজ ধীরে ধীরে রক্তে প্রবেশ করে এবং হঠাৎ শর্করা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। এ কারণে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ছোলা একটি উপকারী খাদ্য হিসেবে বিবেচিত। এ ছাড়া ছোলা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, যা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। নিয়মিত ছোলা খেলে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

কাঁচা (ভিজানো) ছোলা কীভাবে খাবেন?

পুষ্টিবিদদের মতে, কাঁচা ছোলা সরাসরি খাওয়া ঠিক নয়। এতে হজমের সমস্যা বা পেটে অস্বস্তি হতে পারে। তাই ছোলা খাওয়ার আগে তা অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা, অথবা সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত। এতে ছোলা নরম হয় এবং হজম করাও সহজ হয়। ভিজিয়ে রাখা ছোলা নরম হলে চাইলে এর খোসা ছাড়ানো যায়। এরপর এতে লবণ, কাঁচা মরিচ, লেবুর রস বা শসা মিশিয়ে সহজেই একটি পুষ্টিকর সালাদ তৈরি করা যায়। এভাবে খেলে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি শরীরও পায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি।

কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা ও ঝুঁকি

ভিজিয়ে রাখা ছোলায় ফাইবার ও প্রোটিনের মাত্রা অক্ষুণ্ণ থাকে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি দ্রুত শক্তি জোগায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে। তবে সবার ক্ষেত্রে ভিজানো ছোলা সমানভাবে সহনীয় নাও হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে এটি খেলে পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা দেখা হতে পারে। তাই যাদের হজমজনিত সমস্যা আছে, তাদের জন্য পরিমাণ বুঝে খাওয়াই ভালো।

সেদ্ধ ছোলা কীভাবে খাবেন?

ছোলা খাওয়ার আরেকটি সহজ ও স্বাস্থ্যকর উপায় হলো ভিজিয়ে রেখে সেদ্ধ করে নেওয়া। এতে ছোলা নরম হয় এবং হজম করতেও সুবিধা হয়। সেদ্ধ করার সময় অল্প লবণ ও সামান্য হলুদ ব্যবহার করলে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি হজমেও সহায়ক হয়। সেদ্ধ ছোলা দিয়ে সহজেই পুষ্টিকর সালাদ তৈরি করা যায়। এতে পেঁয়াজ, টমেটো, শসা, ধনেপাতা ও লেবুর রস মিশিয়ে নিলে স্বাদ বাড়ার পাশাপাশি পুষ্টিমানও বৃদ্ধি পায়। এভাবে খেলে এটি ইফতারের টেবিলে স্বাস্থ্যকর ও তৃপ্তিদায়ক একটি পদ হয়ে উঠতে পারে।

সেদ্ধ ছোলা খাওয়ার উপকারিতা

সেদ্ধ ছোলা হজমের দিক থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ। ভিজিয়ে সিদ্ধ করার ফলে ছোলার দানাগুলো নরম হয়ে যায়, যা পেটের জন্য সহজপাচ্য হয়। এতে গ্যাস্ট্রিক বা পেট ফাঁপার ঝুঁকিও কম থাকে। বিশেষ করে যাদের হজমের সমস্যা আছে বা কাঁচা ভিজানো ছোলা খেলে অস্বস্তি হয়, তাদের জন্য সেদ্ধ ছোলা নিরাপদ ও উপযোগী একটি বিকল্প হতে পারে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে সেদ্ধ ছোলা খেলে পুষ্টি পাওয়া যায়, আবার হজমের সমস্যার আশঙ্কাও কম থাকে।

সবশেষে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

পুষ্টিবিদরা বলছেন, ভিজানো ও সেদ্ধ—দুভাবেই ছোলা খাওয়া যায় এবং দুটিই পুষ্টিকর। যারা বেশি শক্তি ও ফাইবার পেতে চান, তাদের জন্য ভিজানো ছোলা ভালো বিকল্প। আর যাদের হজমের সমস্যা আছে, তারা সেদ্ধ ছোলা বেছে নিতে পারেন। তবে যেভাবেই খাওয়া হোক, অতিরিক্ত লবণ বা মশলা এড়িয়ে চলাই স্বাস্থ্যকর। বিশেষ করে যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের ছোলা খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


রমজানজুড়ে আদা-রসুন বাটা তাজা রাখার জাদুকরী কৌশল

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮ ১৯:৩২:৫৯
রমজানজুড়ে আদা-রসুন বাটা তাজা রাখার জাদুকরী কৌশল
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র রমজান মাসে রান্নার ব্যস্ততা কমাতে আমরা অনেকেই আদা-রসুনের পেস্ট একবারে বেশি করে তৈরি করে রাখি। কিন্তু সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ না করলে কয়েক দিন পরেই দেখা যায় সেই পেস্টের রঙ কালচে বা সবুজ হয়ে গেছে এবং সুগন্ধ হারিয়ে তিতকুটে স্বাদ তৈরি হয়েছে। এই সমস্যা এড়াতে আদা ও রসুন ব্লেন্ড করার সময় পানি ব্যবহার না করে তেল ব্যবহার করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। আদা ও রসুনের খোসা ছাড়ানোর পর তা ধুয়ে রোদে বা সুতি কাপড় দিয়ে ভালো করে মুছে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিতে হবে। ব্লেন্ড করার সময় পানির বদলে সামান্য সয়াবিন বা সরিষার তেল দিলে পেস্টটি দীর্ঘদিন সতেজ থাকে।

আদা-রসুন বাটা সংরক্ষণে লবণ এবং তেল প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভ হিসেবে চমৎকার কাজ করে। পেস্ট তৈরির সময় পরিমাণমতো লবণ এবং রান্নার তেল মিশিয়ে নিলে এটি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ রোধ করে এবং বাতাসের সংস্পর্শে এসে জারণ প্রক্রিয়া বা অক্সিডেশন হতে দেয় না। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণের জন্য সাদা ভিনেগার বা সিরকা মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে, যা পেস্টের পিএইচ মাত্রা ঠিক রাখে এবং স্বাদ ও রঙ অপরিবর্তিত রাখতে সাহায্য করে। সংরক্ষণের জন্য সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো কাঁচের জার ব্যবহার করা উচিত, কারণ প্লাস্টিকের পাত্রে রাখলে অনেক সময় খাবারের ঘ্রাণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সবচেয়ে আধুনিক ও সহজ পদ্ধতি হলো আদা-রসুনের পেস্টকে আইস কিউব ট্রেতে রেখে জমিয়ে নেওয়া। কিউবগুলো জমে শক্ত হয়ে গেলে তা জিপ-লক ব্যাগে ভরে ফ্রিজারে সংরক্ষণ করলে মাসের পর মাস এর গুণগত মান ঠিক থাকে। রান্নার সময় প্রতি পদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী একটি বা দুটি কিউব সরাসরি কড়াইয়ে ছেড়ে দিলেই কাজ হয়ে যায়। এতে বারবার পুরো পাত্র থেকে মসলা বের করার ঝামেলা থাকে না এবং আদ্রতা ঢোকার ভয়ও থাকে না। এই সহজ কৌশলগুলো অনুসরণ করলে রমজানের পুরো মাস জুড়ে আপনি পেতে পারেন টাটকা আদা-রসুনের স্বাদ ও ঘ্রাণ।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি ফুড


ইফতারে বাহারি খাবার বনাম স্বাস্থ্য সচেতনতা: কোনটি বেছে নেবেন?

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮ ১৯:২৭:৫৪
ইফতারে বাহারি খাবার বনাম স্বাস্থ্য সচেতনতা: কোনটি বেছে নেবেন?
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র রমজান আত্মিক পরিশুদ্ধির পাশাপাশি শরীরকে সুস্থ রাখারও এক দারুণ সুযোগ। তবে ইফতারের টেবিলে বাহারি ভাজাপোড়া, মিষ্টি আর উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবারের আধিক্য অনেক সময় ওজন বাড়িয়ে দেয় এবং হজমের নানা সমস্যা তৈরি করে। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার পর হুট করে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ শরীরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। অথচ একটু সচেতন হয়ে খাবারের পরিমাণ নয় বরং গুণগত মানের ওপর জোর দিলে রোজার মাসেও ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যতালিকা অনুসরণ করলে শরীর যেমন সতেজ থাকে, তেমনি সারাদিনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিও বজায় থাকে স্থিতিশীল।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইফতারে শসা, টমেটো ও লেটুসের সালাদ কিংবা হালকা সবজি স্যুপ বিশেষ ভূমিকা রাখে। সবজিতে থাকা প্রচুর আঁশ দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখার অনুভূতি দেয়, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। এছাড়া ইফতারে কৃত্রিম মিষ্টির শরবতের বদলে তরমুজ, আপেল বা কমলার মতো ফল রাখা হলে তা শরীরকে হাইড্রেট রাখার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ভিটামিনের জোগান দেয়। দ্রুত শক্তি পেতে খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙার কোনো বিকল্প নেই, তবে ক্যালরির কথা মাথায় রেখে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। মাছ, মুরগি বা ডিমের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার সেহরি ও ইফতারে রাখলে তা পেশি গঠনে সহায়তা করে এবং ক্ষুধার ভাব অনেকটা কমিয়ে দেয়।

শর্করা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাদা ভাত বা ময়দার বদলে লাল চাল, আটার রুটি বা ওটস বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এসব পূর্ণ শস্য শরীরে দীর্ঘস্থায়ী শক্তি সরবরাহ করে। পাশাপাশি ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ বাদাম ও চিয়া বীজ অল্প পরিমাণে খেলেও দীর্ঘক্ষণ তৃপ্তি পাওয়া যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পানিশূন্যতা রোধে ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত বিরতি দিয়ে পর্যাপ্ত পানি পান করা। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে ডাবের পানি বা লেবুর শরবত বেছে নিলে মেটাবলিজম সচল থাকে। ইফতারের পর হালকা হাঁটাচলা এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে পারলে রোজার মাস শেষে নিজেকে আরও ফিট ও প্রাণবন্ত হিসেবে আবিষ্কার করা সম্ভব।

তথ্যসূত্র: ব্রিটিশ নিউট্রিশন ফাউন্ডেশন

পাঠকের মতামত: