উন্নয়ন বাজেটে বড় কাটছাঁট, ৪ বছরের সর্বনিম্ন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ মে ০৯ ১৬:৫৫:০৬
উন্নয়ন বাজেটে বড় কাটছাঁট, ৪ বছরের সর্বনিম্ন

সত্য নিউজ: আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) কমিয়ে আনছে সরকার, যার আকার দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এটি গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বরাদ্দ, যা চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৯ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা কম।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার এক বর্ধিত সভায় এডিপির প্রস্তাবিত আকার নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। ১৮ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এই প্রস্তাব অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজস্ব ঘাটতি ও ব্যয় দক্ষতার লক্ষ্য

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এডিপি আকারে এই সংযম রাজস্ব ঘাটতি, কম তহবিল সংগ্রহ এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতার বাস্তবতায় গ্রহণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এডিপির মধ্যে ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা আসবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ৮৬ হাজার কোটি টাকা আসবে বিদেশি সহায়তা থেকে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর (এসওই) নিজস্ব প্রকল্পে বরাদ্দ ধরা হয়েছে মাত্র ৮ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা কম।

বাস্তবায়নে ভাটা: ১৫ বছরের সর্বনিম্ন

চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই–মার্চ) এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৩৬.৬৫ শতাংশ, যা অন্তত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এটি সরকারের বাস্তবায়ন সক্ষমতা ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতির অভাবের ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্লেষকদের মত: সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, “সরকারের রাজস্ব আহরণ সীমিত হওয়ায় উন্নয়ন খরচ কমানো হয়েছে, যা একটি বাস্তববাদী পদক্ষেপ। এছাড়া, রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া অতীতের কিছু ব্যয়বহুল প্রকল্প থেকেও এখন সরকার সরে আসছে।”

তিনি আরও বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক সুরক্ষা বর্ধিত করা এবং সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই হবে টেকসই অর্থনীতির চাবিকাঠি।”


বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ আর্থিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষিতে সরকার যে উন্নয়ন বরাদ্দে সংযমের পথ নিয়েছে, তা একদিকে যেমন বাস্তবতার প্রতিফলন, অন্যদিকে ব্যয় দক্ষতা ও অগ্রাধিকারভিত্তিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করার একটি ইঙ্গিত। আগামী বাজেট কতটা এই লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে, তা নির্ধারণ করবে দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের গতি ও স্থিতিশীলতা।


পাঠ্যক্রমে ফুটবল-ক্রিকেট যুক্ত হচ্ছে, বড় বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৯ ২০:০২:৫০
পাঠ্যক্রমে ফুটবল-ক্রিকেট যুক্ত হচ্ছে, বড় বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী এবং বাস্তবমুখী করে গড়ে তুলতে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু বইভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে শিক্ষাব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার কাজ করছে।

আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি এই আয়োজনকে শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষা খাতের আধুনিকায়ন, পরিমার্জন এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার কাজ এগিয়ে চলছে। নতুন প্রজন্মকে শুধু পরীক্ষাভিত্তিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনের দক্ষতা অর্জনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, জাতীয় শিক্ষাক্রমে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে এবং সাঁতারকে পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে যুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

সরকারপ্রধানের মতে, শিশু ও কিশোরদের শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগই একটি শক্তিশালী জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তিনি বলেন, একটি আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ, সৃজনশীল ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন, নতুন এই পরিকল্পনার আওতায় শুধু তাত্ত্বিক পাঠ নয়, বরং ব্যবহারিক ক্লাস ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের সামাজিক নানা সমস্যাও কমাতে ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে মাদকাসক্তি, অতিরিক্ত মোবাইল ফোন নির্ভরতা এবং প্রযুক্তি আসক্তির মতো সমস্যাগুলো মোকাবিলায় খেলাধুলা কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, মাঠভিত্তিক কার্যক্রম শিশুদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি, দলগত কাজের মানসিকতা এবং দায়িত্ববোধ তৈরি করতে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও সুস্থ ও উৎপাদনশীল হয়ে উঠবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, এবারের ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে’ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমান সুযোগ নিয়ে বালক ও বালিকা দল অংশগ্রহণ করেছে। চলতি বছরে সারা দেশে বালক ও বালিকা মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ও ব্যাপ্তির দিক থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বিশ্বের বৃহত্তম ফুটবল আয়োজনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

সরকার শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি মননশীলতা বৃদ্ধিতেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশগ্রহণ দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বিশেষ করে ফুটবলে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে, যা ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক।

বাণীর শেষ অংশে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আজকের এই শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের উজ্জ্বল মুখ হয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করবে। তিনি ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

-রাফসান


সরকারি কর্মচারীদের জন্য যেসব সুবিধা বাড়ানো হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৯ ১৯:৩৭:৫৪
সরকারি কর্মচারীদের জন্য যেসব সুবিধা বাড়ানো হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে সরকার পেনশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার কার্যকর করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পেনশনযোগ্য চাকরিকাল, পেনশনের হার, আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি), পারিবারিক পেনশন এবং অব্যবহৃত ছুটি নগদায়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নতুন নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আরও আধুনিক, মানবিক ও টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, পেনশন পাওয়ার জন্য ন্যূনতম চাকরিকালের শর্ত ১০ বছর থেকে কমিয়ে ৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ পেনশনের হার শেষ অর্জিত মূল বেতনের ৮০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ সময় চাকরি করা সরকারি কর্মচারীরা অবসরের পর আগের তুলনায় আরও বেশি আর্থিক সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি বিশেষ পরিস্থিতিতে স্বল্প মেয়াদে চাকরি করা কর্মচারীরাও পেনশন সুবিধার আওতায় আসার সুযোগ পাবেন।

প্রজ্ঞাপনে ৫ বছর থেকে শুরু করে ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিকালের জন্য ধাপে ধাপে নতুন পেনশন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কাঠামো অনুযায়ী, ৫ বছর চাকরি করলে ২১ শতাংশ হারে পেনশন সুবিধা শুরু হবে, যা ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিকালের ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত হবে। তবে ৫ থেকে ২৪ বছরের চাকরিকালের সুবিধা মূলত কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু, মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক স্থায়ী অক্ষমতা কিংবা পদ বিলুপ্তির কারণে চাকরি হারানোর বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সরকার অবসরপ্রাপ্তদের মাসিক পেনশনও বাড়িয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে ৬৫ বছরের কম বয়সী অবসরভোগীদের ক্ষেত্রে পেনশন ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। অন্যদিকে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী অবসরপ্রাপ্তদের জন্য এই হার ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাসিক ন্যূনতম পেনশন ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা নিম্ন আয়ের অবসরপ্রাপ্তদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চাকরিকালের শর্ত পরিবর্তনের ফলে আনুতোষিক বা গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৫ থেকে ৯ বছর চাকরিকালের ক্ষেত্রে প্রতি ১ টাকা পেনশনের বিপরীতে ২৬৫ টাকা আনুতোষিক নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে স্বল্প মেয়াদে চাকরি করেও অনেক সরকারি কর্মচারী এককালীন উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

এ ছাড়া মানবিক দিক বিবেচনায় বিশেষ আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কোনো কর্মচারী চাকরির পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করলে অথবা স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তার পরিবার বিশেষ সহায়তা পাবে। এ ক্ষেত্রে চাকরির প্রতিটি পূর্ণ বছরের জন্য শেষ তিন মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ এককালীন সহায়তা হিসেবে প্রদান করা হবে।

পারিবারিক পেনশন ব্যবস্থাতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিধবা স্ত্রীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সের পর পুনর্বিবাহ না করার অঙ্গীকারনামা সংক্রান্ত শর্ত শিথিল করা হয়েছে। পাশাপাশি মৃত নারী সরকারি কর্মচারীর স্বামীও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পারিবারিক পেনশনের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পরিবর্তনের ফলে পারিবারিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তবসম্মত হয়েছে।

অবসরের সময় আর্থিক সুবিধা বাড়াতে ছুটি নগদায়ন ব্যবস্থায়ও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে যেখানে সর্বোচ্চ ১২ মাসের অব্যবহৃত ছুটি নগদায়ন করা যেত, সেখানে এখন সেই সীমা বাড়িয়ে ১৮ মাস করা হয়েছে। এর ফলে চাকরি শেষে কর্মচারীরা অতিরিক্ত অর্থ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, যা অবসর-পরবর্তী জীবন পরিকল্পনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন এই সুবিধাগুলো ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে ওই সময়ে অবসর-পূর্ব প্রস্তুতিমূলক ছুটি (পিআরএল) অবস্থায় থাকা কর্মচারীরাও এই সুবিধার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

-রফিক


হাইকোর্টে জামিন পেলেও কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক এমপি ব্যারিস্টার সুমনকে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ২১:৪৩:০৭
হাইকোর্টে জামিন পেলেও কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক এমপি ব্যারিস্টার সুমনকে
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর আদাবর ও যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা পৃথক দুটি হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত এই স্থগিতাদেশ প্রদান করেন।

আদালতে সাবেক এই সংসদ সদস্যের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী লিটন আহমেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অনীক আর হক। এর আগে, ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকা থেকে ব্যারিস্টার সুমনকে গ্রেপ্তার করেছিল আইনশৃঙ্খল বাহিনী।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সাবেক এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন থানা এবং তার নিজ জেলা হবিগঞ্জে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এর আগে হাইকোর্টে মিরপুর থানার একটি মামলায় তার জামিন আবেদন করা হলে আদালত জামিন মঞ্জুর করে রুল জারি করেছিলেন।

পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করলেও আপিল বিভাগ মিরপুর থানার সেই মামলায় তার জামিন বহাল রাখেন। তবে এরপর হাইকোর্ট বিভাগ থেকে আরও দুটি হত্যা মামলায় (আদাবর ও যাত্রাবাড়ী থানা) জামিন পেয়েছিলেন ব্যারিস্টার সুমন, যা আজ চেম্বার আদালতের আদেশে স্থগিত করা হলো।

/আশিক


ঋণখেলাপিদের সংসদ মন্তব্য নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের তুমুল বিতর্ক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ২১:৩৪:২৩
ঋণখেলাপিদের সংসদ মন্তব্য নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের তুমুল বিতর্ক
ছবি : সংগৃহীত

দেশের ব্যাংক খাতের ঋণখেলাপি ইস্যুকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার একটি বক্তব্য নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তুমুল বাদানুবাদ ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। রুমিন ফারহানার দেওয়া একটি নির্দিষ্ট বক্তব্য সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাদ দেওয়া) করার দাবি তুলেছেন সরকারি দলের একজন সংসদ সদস্য। অন্যদিকে, এই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ না করার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে বিরোধী দল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানিয়েছেন, পুরো বক্তব্যটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে বাজেট আলোচনার একপর্যায়ে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে মোট মন্দ ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে যদি অবলোকন পুনঃতফসিল করা এবং বিভিন্ন মামলার কারণে আদালতের নির্দেশে আটকে থাকা ঋণের পরিমাণ যোগ করা হয়, তবে এই অঙ্ক দাঁড়াবে প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা। এটি দেশের মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এই বিপুল পরিমাণ টাকা আটকে থাকায় ব্যাংকগুলো চাইলেও এখন সরকারকে বেশি মাত্রায় আর্থিক সহায়তা দিতে পারবে না। এই বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি ‘ঋণখেলাপিদের এই সংসদ’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেন।

রুমিন ফারহানার বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তার ব্যবহৃত ‘ঋণখেলাপিদের এই সংসদ’ শব্দগুচ্ছটি এক্সপাঞ্জ করার জোর দাবি জানান গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন। তিনি বলেন, আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সংসদটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং দেশে-বিদেশে সর্বজন গ্রহণযোগ্য। কিন্তু কোনো কোনো সদস্য অবচেতন বা সচেতন মনে এমন কিছু কথা সংসদে উচ্চারণ করছেন, যা সংসদের মর্যাদাকে খাটো করে। তিনি যুক্তি দেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো প্রকৃত ঋণখেলাপি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতেই পারেন না। সেখানে সংসদকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ বলা সম্পূর্ণ আত্মঘাতী এবং মানহানিকর। তাই তিনি ভবিষ্যতে সংসদ সদস্যদের আরও সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে স্পিকারকে এই বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান।

এর পরপরই ফ্লোর নিয়ে সরকারি দলের দাবির তীব্র বিরোধিতা করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি সংসদে বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যের বিপুল অঙ্কের ঋণ থাকার বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল যদি ঋণখেলাপিদের দলীয় মনোনয়ন দিয়ে সংসদে নিয়ে আসে, তবে সেই দায় সম্পূর্ণ তাদেরই। সংসদে এত বিপুলসংখ্যক ঋণগ্রস্ত বা ঋণখেলাপি সদস্য উপস্থিত থাকলে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবেই একে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ হিসেবে আখ্যা দেবে। তিনি স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, সার্বভৌম সংসদে দাঁড়িয়ে যদি ঋণখেলাপিদের ‘ঋণখেলাপি’ বলা না যায়, তবে এই সত্য কথা কোথায় বলা হবে? ফলে এই বক্তব্য কোনোভাবেই এক্সপাঞ্জ করার যোগ্য নয়।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের বক্তব্যের জবাব দিতে দাঁড়িয়ে সরকারি দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের সব সদস্য আইনি প্রক্রিয়া মেনেই নির্বাচিত হয়ে এসেছেন এবং নির্বাচনী আইন (আরপিও) অনুযায়ী কেউ চূড়ান্তভাবে ঋণখেলাপি সাব্যস্ত হলে তিনি নির্বাচন করার যোগ্যতা হারাতেন। ব্যবসা-বাণিজ্য করতে গিয়ে অনেকে সাময়িকভাবে ‘ঋণগ্রস্ত’ হতে পারেন, কিন্তু তাদের ঢালাওভাবে ‘ঋণখেলাপি’ বলে মানহানি করা হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে ব্যাংকের বা আইনি জটিলতা ছিল, তারা সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্ট থেকে সেগুলোর সমাধান করে বৈধ প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচিত হয়েছেন। তাই এই মানহানিকর বক্তব্য অবশ্যই এক্সপাঞ্জ হওয়া উচিত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর পুনরায় ফ্লোর নিয়ে নিজের দাবির সপক্ষে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) একটি সাম্প্রতিক তথ্য উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি উল্লেখ করেন, টিআইবির গবেষণা অনুযায়ী বর্তমান সংসদের সদস্যদের কাছে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের পাওনা রয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা।

একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা কীভাবে সামান্য কিছু টাকা জমা দিয়ে ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিল (রিশিডিউলিং) করেন, তা সবার জানা। ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তালিকায় নাম আসার ঠিক আগ মুহূর্তে কীভাবে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করে আইনি স্থগিতাদেশ (স্টে অর্ডার) নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া হয় এবং নির্বাচন শেষ হওয়ার পর পুনরায় ঋণের সুদ দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়, সেই কৌশলগত প্রক্রিয়াটিও কারও অজানা নয়।

/আশিক


সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত রেকর্ড বৃদ্ধি, তথ্য দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ২১:২৯:৫৯
সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত রেকর্ড বৃদ্ধি, তথ্য দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ছবি : সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ এক বছরের ব্যবধানে বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের মোট জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে কেবল ২০২৫ সালেই নতুন করে জমা পড়েছে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকারও বেশি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এসএনবি আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রকাশিত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সাল শেষে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই জমার পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ। ফলে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশিদের আমানতে বড় ধরনের লাফ লক্ষ্য করা গেছে। যদিও বাংলাদেশে সুইস ফ্রাঁর সরাসরি ব্যবহার অত্যন্ত সীমিত, তবে বর্তমান আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজার অনুযায়ী প্রতি সুইস ফ্রাঁর বিনিময় মূল্য প্রায় ১৫২ থেকে ১৫৩ টাকা। সেই হিসাবে প্রতি সুইস ফ্রাঁ ১৫২ টাকা ধরে হিসাব করলে ২০২৫ সাল শেষে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের মোট জমা অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই আমানত বৃদ্ধির মূল উৎস হিসেবে কাজ করেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক। সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বৃদ্ধির প্রায় পুরো অংশটাই এসেছে দেশের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে জমা রাখা বৈদেশিক মুদ্রা থেকে। ২০২৫ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর আমানতের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২২ দশমিক ৭ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ, যা ২০২৪ সালের ৫৭৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁর তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ বেশি।

এর ফলে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে থাকা মোট বাংলাদেশি আমানতের ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশই এখন বিভিন্ন ব্যাংকের নামে জমা রয়েছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশ। অথচ মাত্র কয়েক বছর আগেও এই হিসাবের চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে মোট আমানতের মাত্র ২০ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৩৫ শতাংশ অর্থ ছিল ব্যাংকগুলোর নামে।

অর্থনৈতিক এই পরিবর্তনের বিপরীতে ব্যক্তি পর্যায়ের আমানত জমার ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে রাখা অর্থের পরিমাণ আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যক্তিগত বা একক অ্যাকাউন্টে থাকা আমানতের পরিমাণ ১২ দশমিক ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ থেকে হ্রাস পেয়ে ১১ দশমিক ৪ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে নেমে এসেছে।

/আশিক


এসএসএফ-এর ফায়ারিং রেঞ্জে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিশানা পরীক্ষা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ১৮:১৩:২৭
এসএসএফ-এর ফায়ারিং রেঞ্জে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিশানা পরীক্ষা
ছবি : সংগৃহীত

স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধন শেষে এই অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জে তিনি নিজেই অস্ত্র হাতে নিয়ে নিজের নিশানা পরীক্ষা করেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এই নিশানা পরীক্ষা ও উদ্বোধনী মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে নবনির্মিত এই ফায়ারিং রেঞ্জ নিঃসন্দেহে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। আশা করি, নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন এবং নিজেদের পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে আপনারা এই ফায়ারিং রেঞ্জের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।"

নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা। তাই আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ, নিরাপত্তার কড়াকড়ি বা সুরক্ষার ঘেরাটোপ যেন সরকারপ্রধানকে সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করে না ফেলে।" ভিআইপিদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের হেনস্থা বা দুর্ব্যবহারের শিকার না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে এসএসএফ-কে কড়া নির্দেশনা দেন তিনি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় এসএসএফ-এর ভূমিকার প্রশংসা:প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকালীন এবং পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যুর পর বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম জানাজা সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে এসএসএফ-এর সমন্বয়কারী ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি স্মৃতিচারণ করে উল্লেখ করেন, তরুণ বয়স থেকেই মায়ের (সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া) সরকারপ্রধান থাকাকালীন তিনি এই এলিট বাহিনীর পেশাদারত্ব ও কার্যক্রম খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেয়েছেন।

এছাড়াও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে গভীর দেশপ্রেম এবং পেশাদারত্বের সঙ্গে এসএসএফ সদস্যদের চেইন অব কমান্ড বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

/আশিক


মাথা ঝুঁকিয়ে নয়, সংসদে স্পিকারকে সম্মান জানাতে হবে নিজ নিজ ধর্মীয় রীতিতে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ১৮:১০:১৩
মাথা ঝুঁকিয়ে নয়, সংসদে স্পিকারকে সম্মান জানাতে হবে নিজ নিজ ধর্মীয় রীতিতে
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে অধিবেশনকক্ষে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় মাথা ঝুঁকিয়ে স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানানোর দীর্ঘদিনের রীতির অবসান ঘটলো। এখন থেকে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি মেনে স্পিকারের প্রতি সম্মান জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংসদের অধিবেশনে এই রুলিং ও সিদ্ধান্ত দেন তিনি।

এর আগে গত ১৬ জুন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এই রীতির তীব্র আপত্তি তুলেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর এই পদ্ধতি ইসলামের আকীদা ও বিশ্বাসের সঙ্গে ‘সাংঘর্ষিক’ এবং তা ‘শিরকের কাছাকাছি চলে যায়’। বিষয়টি সুরাহার জন্য তিনি স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানালে, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ কার্যপ্রণালি বিধি পরীক্ষা করে পরে সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে আশ্বস্ত করেছিলেন।

আজ সেই বিষয়ে চূড়ান্ত রুলিং দিতে গিয়ে স্পিকার বলেন, জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৭ বিধি অনুযায়ী, সংসদের বৈঠক চলাকালে কক্ষে প্রবেশ, ত্যাগ কিংবা আসন গ্রহণ ও ছাড়ার সময় সদস্যগণ সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। তবে অষ্টম সংসদে বিধিটি সংশোধন করে ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি ইতিমধ্যে বাদ দেওয়া হয়েছে।

স্পিকার আরও স্পষ্ট করেন, অষ্টম সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির উপস্থাপিত প্রতিবেদন সংসদে বিবেচিত ও গৃহীত হয়েছিল, যার মধ্যে ২৬৭ (১) বিধির এই সংশোধনীটি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

যেহেতু কার্যপ্রণালি বিধি থেকে ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাই সংসদ সদস্যদের যার যার ধর্মীয় রীতি (যেমন: সালাম বা অন্যান্য ধর্মীয় সম্ভাষণ) অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানানোর নির্দেশ দেন তিনি।

/আশিক


কবে সরছে গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড জানালেন সেতুমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ১৪:০৪:৪০
কবে সরছে গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড জানালেন সেতুমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খল ও অস্বাস্থ্যকর বাসস্ট্যান্ড ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বর্তমানের ব্যস্ত ও অপরিকল্পিত টার্মিনালগুলো ধাপে ধাপে রাজধানীর বাইরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো নগরীর যানজট কমানো, যাত্রীসেবা উন্নত করা এবং আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, আগামী চার থেকে ছয় মাসের মধ্যেই বিদ্যমান বাসস্ট্যান্ডগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন শুরু হবে। আর দুই বছরের মধ্যে রাজধানীর প্রধান বাস টার্মিনালগুলোর স্থানান্তর কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ)-এর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল গাবতলীকে হেমায়েতপুরে এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে কাঁচপুর এলাকায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে রাজধানীর অন্যান্য বড় বাসস্ট্যান্ডও ধীরে ধীরে নতুন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে।

তার ভাষায়, বর্তমান বাসস্ট্যান্ডগুলোর অধিকাংশই আধুনিক নগর পরিবহনের মানদণ্ড পূরণ করতে পারছে না। বিশেষ করে যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত টয়লেট, অপেক্ষাকক্ষ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশের ঘাটতি রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সোহাগ, গ্রীন লাইনসহ কিছু বেসরকারি পরিবহন প্রতিষ্ঠান নিজেদের ব্যবস্থাপনায় উন্নত মানের টার্মিনাল সুবিধা তৈরি করেছে। সেখানে যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকক্ষ, পরিচ্ছন্ন টয়লেট এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ সাধারণ বাসস্ট্যান্ডে এখনো সেই মানের কোনো সেবা নেই।

সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে রাজধানীর সব আন্তঃজেলা পরিবহনকে একটি সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা। এতে করে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে এবং যানবাহন ব্যবস্থাপনায়ও উল্লেখযোগ্য উন্নতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আরও জানান, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বেসরকারি বাস কোম্পানির কাউন্টার ব্যবস্থাপনাও পুনর্বিন্যাস করা হবে। বর্তমানে কলাবাগানসহ বিভিন্ন এলাকায় যেভাবে রাস্তার পাশে অস্থায়ীভাবে যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে, ভবিষ্যতে তা আর অনুমোদিত থাকবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর ভেতরে বড় বাস টার্মিনাল থাকার কারণে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ভারী যানবাহন শহরের কেন্দ্রে প্রবেশ করছে। এতে যানজট, বায়ুদূষণ এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের অনেক বড় শহরে আন্তঃনগর পরিবহন টার্মিনাল শহরের কেন্দ্র থেকে দূরে স্থাপন করা হয়। সেখান থেকে মেট্রোরেল, বিআরটি, লোকাল বাস কিংবা ফিডার সার্ভিসের মাধ্যমে যাত্রীরা শহরের ভেতরে প্রবেশ করেন। ঢাকাতেও ধীরে ধীরে একই ধরনের মডেল বাস্তবায়নের চিন্তা করা হচ্ছে।

-রফিক


চীন সফরে তারেক রহমান, যেসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ১১:৩৭:০৬
চীন সফরে তারেক রহমান, যেসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনের বহুমাত্রিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আগামী সোমবার (২২ জুন) পাঁচ দিনের সরকারি সফরে বেইজিং যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বর্তমান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, সফরকালে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি কেবল একটি নিয়মিত রাষ্ট্রীয় সফর নয়; বরং দক্ষিণ এশিয়ায় পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার একটি বড় সুযোগ।

সফরসূচি অনুযায়ী, ২২ জুন রাতে ঢাকা থেকে চীনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তারেক রহমান। পাঁচ দিনের এই সফরে রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জলবায়ু কূটনীতি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক অংশীদারত্বের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

পরদিন তিনি উচ্চগতির ট্রেনে বেইজিংয়ে পৌঁছাবেন। সেখানে বাংলাদেশের উদ্যোগে চীনা বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে একটি বিশেষ ইনভেস্টমেন্ট সামিট আয়োজন করা হয়েছে। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের শিল্প, অবকাঠামো, উৎপাদন খাত এবং রপ্তানি সক্ষমতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে।

সফরের অংশ হিসেবে চীনের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে অটোমোবাইল নির্মাতা চেরি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান হান্ডা এবং টেক্সটাইল খাতের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান চায়নাটেক্স।

এ ছাড়া বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হলে চীনের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরদিন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যা সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: