খলিফাদের জীবন

ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রাঃ): জীবন, নেতৃত্ব ও উত্তরাধিকার ভূমিকা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ১০ ১৪:১৪:০৭
ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রাঃ): জীবন, নেতৃত্ব ও উত্তরাধিকার ভূমিকা

ইতিহাসে এমন কিছু ব্যক্তিত্ব আছেন, যাদের জীবন ও কর্ম কেবল একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কেই নয়, বরং সমগ্র মানবজাতিকেই প্রভাবিত করেছে। হজরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁদেরই একজন। তিনি শুধু ইসলামের প্রথম খলিফা ছিলেন না, ছিলেন মানবিকতা, সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও সত্যনিষ্ঠার এক অনন্য প্রতীক।

নবী করিম হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সর্বাধিক ঘনিষ্ঠ সহচর ও বিশ্বাসভাজন হিসেবে তিনি ইসলামী ইতিহাসের সূচনালগ্ন থেকেই অপরিসীম ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর নাম উচ্চারণ হলেই মনে পড়ে “সিদ্দিক” — অর্থাৎ যিনি সত্যকে স্বীকৃতি দেন ও বিন্দুমাত্র সন্দেহ করেন না।

হজরত আবু বকর (রাঃ)-এর জীবন একদিকে ইসলামী সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশের সূচনা, অন্যদিকে নেতৃত্ব ও শাসনব্যবস্থার এক নৈতিক দৃষ্টান্ত। নবীজির (সাঃ) মৃত্যুর পর মুসলিম উম্মাহ যে গভীর সংকটে পড়েছিল, আবু বকর (রাঃ) সেই মুহূর্তে নেতৃত্ব গ্রহণ করে প্রমাণ করেছিলেন, সত্যিকারের খলিফা কেবল রাজনৈতিক নেতা নন, বরং বিশ্বাস, সাহস ও প্রজ্ঞার প্রতিমূর্তি।

জন্ম ও বংশপরিচয়

হজরত আবু বকর (রাঃ) জন্মগ্রহণ করেন ৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে মক্কার কুরাইশ বংশের বনু তাইম গোত্রে। তাঁর পিতা ছিলেন আবু কুহাফা উসমান ইবনে আমির, এবং মাতা সলমা বিনতে সাখার, যিনি “উম্মুল খাইর” নামে পরিচিত ছিলেন। এই পরিবার কুরাইশ সমাজে মর্যাদাসম্পন্ন হলেও তুলনামূলকভাবে শান্ত ও ধর্মভীরু ছিল।

তাঁর পূর্ণ নাম: আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে আমির ইবনে আমর ইবনে কা‘ব ইবনে সা‘দ ইবনে তাইম ইবনে মুররাহ ইবনে কা‘ব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব আল-কুরাইশি। “আবু বকর” উপাধি তাঁর প্রিয় ডাকনাম, আর “সিদ্দিক” উপাধি প্রদান করেন নবী করিম (সাঃ) স্বয়ং, তাঁর অটল বিশ্বাস ও নির্ভীক আস্থার কারণে। শৈশবে আবু বকর ছিলেন কোমল, বুদ্ধিমান ও চিন্তাশীল। কিশোর বয়স থেকেই তাঁর মধ্যে সততা ও নম্রতার প্রতিফলন দেখা যায়। তিনি মূর্তিপূজায় বিশ্বাস করতেন না এবং একেশ্বরবাদে আস্থাশীল ছিলেন।

ইসলাম গ্রহণ

যখন নবী করিম (সাঃ) আল্লাহর কাছ থেকে নবুয়ত লাভ করে মক্কায় তাওহীদের দাওয়াত প্রচার শুরু করেন, তখন প্রথমদিকে ইসলাম গ্রহণকারীদের সংখ্যা ছিল অতি অল্প। হজরত খদিজা (রাঃ), আলী (রাঃ), জায়েদ ইবনে হারিসা (রাঃ)-এর পর প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন আবু বকর (রাঃ)। ইতিহাসে বর্ণিত আছে, যখন নবীজির (সাঃ) নবুয়তের খবর তিনি শুনলেন, তখন এক মুহূর্ত দেরি না করে নবীর কাছে গেলেন। নবী করিম (সাঃ) তাঁকে আল্লাহর একত্ববাদ, আখিরাত ও ন্যায়ের দাওয়াত দেন। আবু বকর বিনা দ্বিধায় ইসলাম গ্রহণ করেন এবং বলেন, “আমি তোমার মুখ থেকে যা শুনেছি, তার সবই সত্য। আমি কোনো প্রমাণ চাই না, কারণ আমি তোমাকে কখনো মিথ্যা বলতে দেখিনি।”

এই অকুণ্ঠ বিশ্বাসই তাঁকে “আস-সিদ্দিক” উপাধি এনে দেয়। পরবর্তীতে নবী করিম (সাঃ)-এর মেরাজের সংবাদে যখন অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করে, তখন আবু বকর (রাঃ) দ্বিধাহীনভাবে বলেন, “যদি মুহাম্মদ (সাঃ) বলেন যে তিনি আসমানে গেছেন, তবে অবশ্যই তা সত্য।” এভাবে তিনি ঈমানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

ইসলাম প্রচারে ভূমিকা

ইসলাম গ্রহণের পর আবু বকর (রাঃ) কেবল নিজের জন্যই তা সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি তাঁর বন্ধু, আত্মীয় ও পরিচিতদের ইসলাম গ্রহণে আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর দাওয়াতে ইসলাম গ্রহণ করেন অনেক বিখ্যাত সাহাবি—যেমন উসমান ইবনে আফফান, আবদুর রহমান ইবনে আউফ, তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস প্রমুখ।

এ ছাড়া দাসপ্রথা বিরোধী অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে আবু বকর (রাঃ)-এর অবদান অসাধারণ। তিনি তাঁর নিজের সম্পদ থেকে বহু দাস-দাসীকে মুক্ত করেছেন, যাদের মধ্যে হযরত বিলাল (রাঃ) ছিলেন অন্যতম। বিলাল (রাঃ)-কে যখন কুফরি ত্যাগ না করার অপরাধে গরম মরুভূমিতে শায়িত করে নির্যাতন করা হচ্ছিল, তখন আবু বকর (রাঃ) নিজের অর্থ দিয়ে তাঁকে কিনে নিয়ে মুক্তি দেন। এই কাজ শুধু মানবিকতার উদাহরণই নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচারের এক জাগ্রত দৃষ্টান্ত।

নবী করিম (সাঃ)-এর সহচর ও হিজরত

আবু বকর (রাঃ) নবী করিম (সাঃ)-এর জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে উপস্থিত ছিলেন। মক্কায় নির্যাতনের সময় থেকে শুরু করে মদিনায় ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত তিনি ছিলেন নবীর ছায়াসঙ্গী। হিজরতের সময় সাওর গুহায় আশ্রয় নেওয়ার ঘটনাটি ইসলামী ইতিহাসের এক চিরস্মরণীয় অধ্যায়।নবী (সাঃ) ও আবু বকর (রাঃ) তিনদিন গুহায় অবস্থান করেন। কুরআনের সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত ৪০-এ আল্লাহ তাআলা বলেন— “যখন তারা উভয়েই গুহায় ছিল, এবং সে (মুহাম্মদ) তার সঙ্গীকে বলেছিল: ‘ভয় করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।’” এই আয়াতে আবু বকর (রাঃ)-কে “গুহার দ্বিতীয় ব্যক্তি” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তাঁর মর্যাদাকে ইসলামী ইতিহাসে চিরস্থায়ী করেছে।

মদিনায় অবদান ও যুদ্ধসমূহে অংশগ্রহণ

মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর, আবু বকর (রাঃ) নবীর (সাঃ) অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। ইসলামী সমাজের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো গঠনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

তিনি প্রায় সকল প্রধান যুদ্ধেই অংশগ্রহণ করেছেন—

বদর যুদ্ধ (৬২৪ খ্রিস্টাব্দ): আবু বকর (রাঃ) নবীর (সাঃ) তাবুর প্রহরায় নিযুক্ত ছিলেন। এই যুদ্ধে তাঁর দৃঢ়তা ও আনুগত্য মুসলমানদের অনুপ্রেরণা দেয়।

উহুদ যুদ্ধ (৬২৫ খ্রিস্টাব্দ: নবীজির পাশে থেকে তিনি শত্রুর মোকাবিলায় অবিচল থাকেন।

খন্দক যুদ্ধ (৬২৭ খ্রিস্টাব্দ): শহরের দক্ষিণ অংশ রক্ষার দায়িত্ব ছিল তাঁর অধীনে। তিনি নির্ভীকভাবে প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করেন।

হুদায়বিয়া চুক্তি (৬২৮ খ্রিস্টাব্দ): তিনি নবী করিম (সাঃ)-এর সঙ্গে প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং শান্তিচুক্তির সাক্ষী ছিলেন।

মক্কা বিজয় (৬৩০ খ্রিস্টাব্দ): তিনি নবীর (সাঃ) সঙ্গে মক্কা বিজয়ে অংশ নেন। বিজয়ের পর তিনি ইসলামী দাওয়াতের প্রচারে অংশ নেন এবং প্রতিশোধের পরিবর্তে ক্ষমা ও উদারতার নীতি অনুসরণ করেন।

তাবুক অভিযান (৬৩০ খ্রিস্টাব্দ): এই অভিযানে যখন নবী করিম (সাঃ) মুসলমানদের আর্থিক সহায়তা চাইলেন, আবু বকর (রাঃ) তাঁর সমস্ত সম্পদ দান করেন। নবীজির প্রশ্নে তিনি উত্তর দেন, “আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকেই আমার পরিবারের জন্য রেখে এসেছি।” এই বক্তব্য মুসলিম ইতিহাসে আত্মত্যাগের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হিসেবে অমর হয়ে আছে।

নবী করিম (সাঃ)-এর মৃত্যু ও মুসলমানদের সংকটকাল

নবী করিম (সাঃ)-এর মৃত্যুর মুহূর্ত ছিল মুসলিম সমাজের জন্য এক গভীর ধাক্কা। অনেক সাহাবি তা বিশ্বাস করতে পারেননি। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) ক্রোধে তরবারি উঁচিয়ে বলেছিলেন, “যে বলবে মুহাম্মদ (সাঃ) মারা গেছেন, আমি তার ঘাড় উড়িয়ে দেব।” এই সময়ে আবু বকর (রাঃ) মসজিদে প্রবেশ করে জনসম্মুখে কুরআনের আয়াত পাঠ করেন— “মুহাম্মদ তো একজন রসূল। তাঁর আগে অনেক রসূল চলে গেছেন। তবে কি তিনি মারা গেলে বা নিহত হলে তোমরা পিছনে ফিরে যাবে?” (সূরা আল-ইমরান, আয়াত ১৪৪)। এই ঘোষণায় মুসলিম সমাজে বাস্তবতার স্বীকৃতি আসে এবং আবু বকর (রাঃ)-এর নেতৃত্বের দৃঢ়তা প্রমাণিত হয়।

খিলাফত লাভ ও শাসনব্যবস্থা

নবীজির (সাঃ) মৃত্যুর পর, সাকিফা বানু সাঈদা-এ এক ঐতিহাসিক বৈঠক বসে। সেখানে মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। অবশেষে সর্বসম্মতিক্রমে আবু বকর (রাঃ)-কে ইসলামের প্রথম খলিফা হিসেবে মনোনীত করা হয়।

তিনি মুসলমানদের উদ্দেশ্যে প্রথম ভাষণে বলেন—

“আমি তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম নই, তবে আমাকে তোমাদের নেতা করা হয়েছে। আমি যদি সঠিক পথে চলি, তবে আমাকে সহযোগিতা করো; যদি বিপথে যাই, তবে আমাকে সংশোধন করো। সত্যকে গ্রহণ করো, মিথ্যা থেকে দূরে থাকো।” এই বক্তৃতা তাঁর নেতৃত্বের দর্শন প্রকাশ করে—ন্যায়, জবাবদিহিতা ও জনগণের অংশগ্রহণ।

রিদ্দা যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ

খিলাফতের শুরুর বছরগুলো ছিল অশান্ত। নবীজির (সাঃ) মৃত্যুর পর আরবের বিভিন্ন গোত্র নবুয়তের দাবি করে বিদ্রোহ শুরু করে। কেউ কেউ জাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

আবু বকর (রাঃ) দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দেন— “যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মানে, তারা যদি জাকাত না দেয়, আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।” এই বিদ্রোহ দমন অভিযানে খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রাঃ)-কে নেতৃত্ব দেন। অবশেষে রিদ্দা যুদ্ধের মাধ্যমে আরব উপদ্বীপ পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হয়।

কুরআন সংকলন

রিদ্দা যুদ্ধের সময় অনেক হাফেজে কুরআন শাহাদাত বরণ করলে উমর (রাঃ)-এর পরামর্শে আবু বকর (রাঃ) কুরআন সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন। তিনি জায়েদ ইবন সাবিত (রাঃ)-কে প্রধান করে একটি দল গঠন করেন, যারা বিভিন্ন খণ্ড ও মুখস্থ আয়াত একত্র করে একটি সংহত সংকলন তৈরি করেন। এই সংকলনই পরবর্তীতে “মুসহাফে উসমানী”-এর ভিত্তি হয়ে ওঠে।

বৈদেশিক অভিযান ও ইসলামী রাষ্ট্রের সম্প্রসারণ

আবু বকর (রাঃ) তাঁর শাসনকালে ইসলামী রাষ্ট্রকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং বাইজেন্টাইন ও পারস্য সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি সিরিয়ার সীমান্তে মুসলিম বাহিনী পাঠান, যার নেতৃত্ব দেন ইয়াজিদ ইবনে আবি সুফিয়ান ও আমর ইবনে আস (রাঃ)। এই অভিযানগুলো ইসলামী সাম্রাজ্যের ভূখণ্ড সম্প্রসারণে এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রশাসনিক নীতি ও নৈতিকতা

আবু বকর (রাঃ)-এর প্রশাসনিক আদর্শ ছিল সরলতা ও ন্যায়নিষ্ঠার মিশ্রণ। তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নিজের জন্য ন্যূনতম ভাতা নিতেন। তিনি নিজ হাতে পশুপালন করতেন, যেন রাষ্ট্রীয় অর্থে নির্ভর না করতে হয়। মৃত্যুর আগে তিনি ঘোষণা দেন—রাষ্ট্র থেকে যা ভাতা নিয়েছেন, সব ফেরত দিতে চান। এমন আত্মনিয়োগ ও জবাবদিহিতার নজির বিশ্ব ইতিহাসেও বিরল।

মৃত্যু ও সমাধি

৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে, ৬৩ বছর বয়সে, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মৃত্যুর আগে উমর (রাঃ)-কে উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করেন। ২৩ আগস্ট, ৬৩৪ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন এবং মদিনার হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর ঘরে নবীজির (সাঃ)-এর পাশে দাফন করা হয়। আজও তাঁর রওজা মসজিদে নববীর দক্ষিণপাশে অবস্থিত, যেখানে প্রতিদিন হাজারো মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে আসে।

উত্তরাধিকার ও মূল্যায়ন

হজরত আবু বকর (রাঃ)-এর নেতৃত্বের সময়কাল অল্প হলেও এর প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। তিনি ইসলামী রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভিত্তি স্থাপন করেন, কুরআন সংরক্ষণ নিশ্চিত করেন এবং মুসলিম সমাজকে ভেতর থেকে ঐক্যবদ্ধ করেন।

তাঁর জীবন আমাদের শেখায়— নেতৃত্ব মানে ক্ষমতা নয়, দায়িত্ব। ঈমান মানে অন্ধ আনুগত্য নয়, যুক্তি ও আস্থার সংমিশ্রণ। ইসলামী সমাজ টিকে থাকে ন্যায়, সহমর্মিতা ও আত্মত্যাগের ভিত্তিতে।

হজরত আবু বকর (রাঃ) ছিলেন এক অনন্য নেতৃত্বের প্রতীক, যিনি নবীজির (সাঃ) আদর্শকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করেছিলেন। তাঁর খিলাফত ইসলামী সভ্যতার প্রথম ভিত্তি স্থাপন করে, যার ওপর দাঁড়িয়ে পরবর্তীতে উমর (রাঃ), উসমান (রাঃ) ও আলী (রাঃ)-এর যুগে ইসলাম বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী সভ্যতায় পরিণত হয়। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়, সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকলে স্বল্পকালেও ইতিহাসে অমর হওয়া যায়।


বিশ্বজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য আসছে পবিত্র রমজানের নতুন সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৫ ১৮:৫১:৪৮
বিশ্বজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য আসছে পবিত্র রমজানের নতুন সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

হিজরি সনের গণনায় সময় দ্রুত গড়াচ্ছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে আর মাত্র ১৪৭ দিন বাকি রয়েছে। সব হিসাব ঠিক থাকলে এবং চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার থেকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে সিয়াম সাধনার মাস রমজান শুরু হতে পারে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এই পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রোববার সন্ধ্যায় হিজরি ১৪৪৮ সনের রমজান মাসের নতুন চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক চেষ্টা চালানো হবে। ওই দিন সন্ধ্যায় আকাশে নতুন চাঁদ দেখা গেলে সে রাতেই প্রথম তারাবির সালাত আদায় এবং ভোররাতে সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে পরদিন সোমবার প্রথম রোজা পালন করবেন বিশ্বের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলমান। অন্যদিকে রমজানের ২৯ বা ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার ওপর ভিত্তি করে এবং শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের ১০ মার্চ বুধবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে।

ইসলামি বর্ষপঞ্জি বা হিজরি ক্যালেন্ডার সম্পূর্ণরূপে চান্দ্রবছরের গতিপথের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। সৌরছক বা ইংরেজি গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের তুলনায় চান্দ্রবছর সাধারণত ১০ থেকে ১১ দিন ছোট হয়। এই প্রাকৃতিক ব্যবধানের কারণে প্রতি বছরই ইংরেজি বর্ষপঞ্জিতে রমজান মাসের সূচনা ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে আসে। এর ফলে আনুমানিক ৩৩ বছরের এক পূর্ণ চক্র আবর্তনের মাধ্যমে বছরের প্রতিটি ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে (গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, শীত) রোজা রাখার অনন্য ধর্মীয় সুযোগ পেয়ে থাকেন মুসলিমরা।

উল্লেখ্য, জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের আধুনিক গাণিতিক হিসাব পূর্বধারণা প্রদান করলেও ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী রমজান মাসের চূড়ান্ত সূচনা ও ঈদুল ফিতরের দিনক্ষণ নির্ধারণ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও চাঁদ প্রত্যক্ষ করার ওপর।

সূত্র: গালফ নিউজ।


চব্বিশ ঘণ্টার রুটিনেই মিলবে অশেষ সওয়াব, জেনে নিন ৫টি ছোট দোয়া

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৯ ১৯:৪৮:৩১
চব্বিশ ঘণ্টার রুটিনেই মিলবে অশেষ সওয়াব, জেনে নিন ৫টি ছোট দোয়া
ছবি : সংগৃহীত

দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কাজগুলোকে সহজেই পুণ্যে রূপান্তর করতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বেশ কিছু সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। ঘর থেকে বের হওয়া, মসজিদে প্রবেশ, কিংবা যানবাহনে আরোহণের মতো প্রাত্যহিক অভ্যাসে এসব দোয়ার নিয়মিত চর্চা একজন মুমিনের জীবনে আল্লাহর রহমত ও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

দৈনন্দিন জীবনে আমল করার মতো পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়ার বিবরণ

যানবাহনে ওঠার দোয়া: সুরা যুখরুফের ১৩-১৪ নম্বর আয়াতের এই দোয়াটি বাহনে চড়ে আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া এবং তাঁর কাছে চূড়ান্ত প্রত্যাবর্তনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়—

আরবি: سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ، وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাজি সাখখারালানা হা-যা ওয়া মা কুন্না লাহু মুকরিনিন, ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনকালিবুন।

অর্থ: তিনি পূতপবিত্র, যিনি এ বাহনকে আমাদের অধীন করে দিয়েছেন। অথচ এটি আয়ত্তে আনার ক্ষমতা আমাদের ছিল না। আর নিশ্চয়ই আমরা আমাদের রবের কাছেই ফিরে যাব।

মসজিদে প্রবেশের দোয়া: আল্লাহর বিশেষ রহমত ও অনুগ্রহ কামনায় মসজিদে প্রবেশের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়াটি পাঠ করতেন (আবু দাউদ: ৪৬৬)—

আরবি: اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাফতাহলি আবওয়াবা রহমাতিক।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন।

মসজিদ থেকে বের হওয়ার দোয়া: ইবাদত শেষে পার্থিব রিজিক ও জীবিকায় আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়াটি পড়তেন (আবু দাউদ: ১২৬)—

আরবি: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদ্বলিক।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি।

ঘরে প্রবেশের দোয়া: ঘরে কল্যাণ ও বরকত নিশ্চিত করতে এবং পরিবারের নিরাপত্তায় আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল প্রকাশে এই দোয়াটি পাঠের বিধান রয়েছে (আবু দাউদ: ৫০৯৬)—

আরবি:اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَ الْمَوْلِجِ وَخَيْرَ الْمَخْرَجِ، بِسْمِ اللَّهِ وَلَجْنَا، وَبِسْمِ اللَّهِ خَرَجْنَا، وَعَلَى اللَّهِ رَبِّنَا تَوَكَّلْنَا

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাল মাউলাজি, ওয়া খাইরাল মাখরাজি; বিসমিল্লাহি ওয়ালাজনা, ওয়া বিসমিল্লাহি খারাজনা; ওয়া আলাল্লাহি রাব্বিনা তাওয়াক্কালনা।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রবেশ ও প্রস্থানের কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আল্লাহর নামে আমরা প্রবেশ করলাম এবং আল্লাহর নামেই বের হলাম। আর আমাদের রব আল্লাহর ওপরই আমরা ভরসা করলাম।

ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়া: ঘর থেকে বাইরে যাওয়ার মুহূর্তে আল্লাহর ওপর পূর্ণ নির্ভরতা ও শয়তানের অনিষ্ট থেকে হেফাজত পেতে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়া শিখিয়েছেন (তিরমিজি: ৩৪২৬)—

আরবি: بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

অর্থ: আল্লাহর নামে বের হলাম। আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।

/আশিক


বাড়বে না হজের নিবন্ধনের সময়, চূড়ান্ত সময়সীমা নিয়ে জরুরি নির্দেশনা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১৯:৩৩:৩৪
বাড়বে না হজের নিবন্ধনের সময়, চূড়ান্ত সময়সীমা নিয়ে জরুরি নির্দেশনা
ছবি : সংগৃহীত

২০২৭ সালের পবিত্র হজে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটার বিপরীতে এখন পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন মাত্র ৩ হাজার ৭৪১ জন যাত্রী। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৬৭৬ জন নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন; ফলে নির্ধারিত জাতীয় কোটার একটি বড় অংশই এখনও ফাঁকা রয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর হজ নিবন্ধনের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হতে যাচ্ছে এবং এর পর আর কোনোভাবেই সময় বৃদ্ধি করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-১। সার্কুলারে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তি, হজ এজেন্সি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সমস্ত নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। গত ২৭ জুলাই শুরু হওয়া এই নিবন্ধনের সময়সীমা পার হওয়ার পর সৌদি সরকারের কাছে হজযাত্রীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রেরণ করা হবে এবং সেই তালিকার ভিত্তিতেই সৌদি পর্বের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহের অর্থ স্থানান্তর করা হবে। একই সাথে চূড়ান্ত তালিকার ওপর ভিত্তি করে শুরু হবে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ফিটনেস সনদ প্রদান, বাধ্যতামূলক টিকাদান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত কোটা পূরণ হতে এখনও ৭৪ হাজার ৭৫৯ জনের নিবন্ধন বাকি রয়েছে।

/আশিক


২০২৭ সালের পবিত্র রমজান কবে শুরু? সামনে এলো সম্ভাব্য তারিখ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১৯:৩৩:৩৩
২০২৭ সালের পবিত্র রমজান কবে শুরু? সামনে এলো সম্ভাব্য তারিখ
ছবি : সংগৃহীত

২০২৭ সাল শুরু হতে আর মাত্র তিন মাস বাকি থাকতেই মুসলিম বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে আসন্ন বছরের পবিত্র রমজান মাসের সম্ভাব্য সময় নিয়ে গভীর কৌতূহল দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশ বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে যে, আগামী বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে। তবে চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী মাসের আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত সূচনা নির্ভর করবে সম্পূর্ণভাবে চাঁদ দেখা যাওয়ার ওপর।

এরই মধ্যে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে ১৪৪৮ হিজরি সনের রবিউস সানি মাস। এর ফলে হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী পবিত্র রমজান শুরুর অপেক্ষা এখন শেষ পাঁচটি চন্দ্রমাসে এসে ঠেকেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রবিউস সানি মাসের চতুর্থ দিন অতিবাহিত হচ্ছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে রমজানের নতুন চাঁদ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেই সন্ধ্যায় যদি আকাশে একফালি চাঁদের দেখা মেলে, তবে ওই রাতেই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আদায় করবেন প্রথম তারাবির নামাজ এবং পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি পালন করবেন প্রথম রোজা।

তবে নির্ধারিত সন্ধ্যায় যদি নতুন চাঁদ দৃশ্যমান না হয়, সে ক্ষেত্রে রমজান শুরুর সম্ভাব্য এই তারিখ এক দিন পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। ইসলামিক চান্দ্র ক্যালেন্ডারের প্রতিটি মাস যেহেতু কেবলই চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল, তাই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের সঙ্গে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সামান্য তারতম্য হওয়া স্বাভাবিক। একইভাবে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রমজান মাস ২৯ কিংবা ৩০ দিন স্থায়ী হতে পারে। সিয়াম সাধনার মাস শেষে শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখা সাপেক্ষে উদযাপিত হবে মুসলিমদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ২০২৭ সালের ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য দিন হিসেবে আগামী ১০ মার্চকে ধারণা করা হলেও সেই তারিখটিও পুরোপুরি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করছে।

/আশিক


আগামী বছরের হজ নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও নির্ধারিত সময়সীমা নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ২১:৫৪:৩৬
আগামী বছরের হজ নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও নির্ধারিত সময়সীমা নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি
ছবি : সংগৃহীত

২০২৭ সালের হজের আনুষ্ঠানিক নিবন্ধনপ্রক্রিয়া আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে এবং নির্ধারিত এই সময়ের পর আর কোনোভাবেই সময় বাড়ানো হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তি, হজ এজেন্সি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করার জরুরি তাগিদ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সৌদি সরকারের দেওয়া কঠোর দিকনির্দেশনার আলোকে নিবন্ধন সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশের চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। এরপরই মূলত সৌদি পর্বের বাড়িভাড়া ও প্রয়োজনীয় অর্থ প্রেরণ, মেডিক্যাল চেকআপ, ফিটনেস সনদ ইস্যু, বাধ্যতামূলক টিকা প্রদান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মতো সময়সাপেক্ষ কাজগুলো শুরু হবে। উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের জন্য বাংলাদেশের মোট হজযাত্রী কোটা নির্ধারিত রয়েছে ৭৮ হাজার ৫০০ জন। গত ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি মাধ্যমে ১ হাজার ৬৫ জন এবং বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে ২ হাজার ৬৭৬ জনসহ সর্বমোট ৩ হাজার ৭৪১ জন হজযাত্রী নিবন্ধন চূড়ান্ত করেছেন।

/আশিক


২০২৭ সালের হজ প্যাকেজে বড় ছাড়: প্যাকেজ-১ ও ২-এ যত টাকা সাশ্রয় হচ্ছে

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ২০:৪৮:৩৭
২০২৭ সালের হজ প্যাকেজে বড় ছাড়: প্যাকেজ-১ ও ২-এ যত টাকা সাশ্রয় হচ্ছে
ছবি : সংগৃহীত

হজযাত্রীদের সার্বিক অর্থনৈতিক বোঝা লাঘব করতে খাবারের ব্যয় যুক্ত করার পরও ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজের খরচ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমানো হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে অবহিত করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন তিনি।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করে আগামী বছরের হজ প্যাকেজকে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য অধিকতর সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করতে এই যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্যাকেজভিত্তিক বিস্তারিত খরচের হিসাব দিয়ে তিনি জানান, ২০২৬ সালে হজ প্যাকেজ-১-এর মূল্য যেখানে ছিল ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৭৭ টাকা, ২০২৭ সালে তা ৭৫ হাজার ৩৫৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২২৩ টাকায়। বিশেষ বিষয় হলো, নতুন এই প্যাকেজের মধ্যেই খাবার বাবদ ৩৯ হাজার ১৩৬ টাকার খরচটি আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। একইভাবে হজ প্যাকেজ-২-এর ব্যয়ও ৫৩ হাজার ২৩৩ টাকা কমানো হয়েছে। পূর্ববর্তী বছরে এ প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা থাকলেও আগামী বছরের জন্য তা ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে, যার মধ্যে খাবার বাবদ ২৯ হাজার টাকার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্যাকেজের সামগ্রিক ব্যয়ের পাশাপাশি বিমান ভাড়ার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৬ সালে হজের বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা, যা ২০২৭ সালের জন্য ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। সাধারণত সময়ের পরিক্রমায় নানা সেবামূলক খাতের ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী হলেও হাজিদের সার্বিক কল্যাণ বিবেচনায় সরকার বিমান ভাড়া ও প্যাকেজের মূল্য কমিয়ে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পূর্ববর্তী বছরের হিসাবের স্বচ্ছতা তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের সরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বমোট ৪ হাজার ৩৮১ জন ধর্মপ্রাণ মুসলমান সৌদি আরবে পবিত্র হজব্রত পালন করেছেন। বিভিন্ন খাতে নির্ধারিত বাজেটের তুলনায় ব্যয় সাশ্রয় হওয়ায় চূড়ান্ত হিসাব শেষে সরকারের কাছে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা উদ্বৃত্ত থাকে। কোনো প্রকার মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই ব্যাংকিং লেনদেন ব্যবস্থার (বিএফটিএন) মাধ্যমে সেই বাড়তি অর্থ সরাসরি প্রত্যেক হাজির নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সরকারের কঠোর জবাবদিহিতা ও আর্থিক স্বচ্ছতার কারণেই এই পদক্ষেপ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

চলতি বছরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সফল ও নির্বিঘ্ন ছিল দাবি করে তিনি বলেন, সরকারপ্রধানের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও নিবিড় তদারকির কারণে কোনো ধরনের সংকট ছাড়াই হাজিরা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পেরেছেন, যা খোদ সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে। আল্লাহর মেহমানদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানই প্রশাসনের মূল ব্রত উল্লেখ করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে আগামী দিনগুলোতেও সততা, মানবিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এই সেবামূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

/আশিক


২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন: বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে আবেদন

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৬ ১৯:৪৬:১১
২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন: বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে আবেদন
ছবি : সংগৃহীত

২০২৭ সালের পবিত্র হজের প্রাথমিক নিবন্ধন কার্যক্রম চলমান থাকলেও আগ্রহীদের সাড়া মিলছে তুলনামূলকভাবে কম। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৫১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ৩৬৩ জনসহ সর্বমোট ২ হাজার ১১৪ জন হজযাত্রী প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজে যাওয়ার সুযোগ পাবেন, যার তুলনায় এখনো প্রায় সম্পূর্ণ কোটাই খালি পড়ে রয়েছে।

প্রাথমিক নিবন্ধনের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত এই তারিখের পর আর সময় বাড়ানো হবে না। হজে গমনেচ্ছুকদের শুরুতে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন এবং পরবর্তীতে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে; এরপর আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন নিশ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমেই কেন্দ্রীয় ই-হজ সিস্টেমের মাধ্যমে আবেদন করা যাচ্ছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে এবং বেসরকারি ক্ষেত্রে এজেন্সির নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দিতে হবে।

নিবন্ধনের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট এবং স্বাস্থ্যগত যোগ্যতার ওপর বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। আবেদনকারীর পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকতে হবে এবং বয়স হতে হবে ন্যূনতম ১৫ বছর। এছাড়া গুরুতর হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার বা কিডনির জটিলতা, ডিমেনশিয়া, স্নায়বিক ও মানসিক রোগ, চলমান থেরাপিতে থাকা ক্যানসার রোগী এবং যক্ষ্মা বা হেমোরেজিক ফিভারের মতো সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা হজে যাওয়ার অনুমোদন পাবেন না। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ বা শেষ দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রেও ফিটনেস সনদ প্রদান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

/আশিক


আজকের নামাজের সময়সূচি, জেনে নিন একনজরে

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ০৮:৪৪:১৩
আজকের নামাজের সময়সূচি, জেনে নিন একনজরে
ছবি : সংগৃহীত

আজ সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী দিনটি ৯ ভাদ্র এবং হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১০ রবিউল আউয়াল। ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার মুসল্লিদের জন্য আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দেওয়া সময় অনুযায়ী ওয়াক্তের শুরু বিবেচনায় নিয়ে মুসল্লিরা দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। তাই কর্মব্যস্ততার মধ্যেও সঠিক সময়ে সালাত আদায়ের জন্য ওয়াক্ত সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ফজর ও মাগরিবের সময় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ায় প্রতিদিন সময়ের কিছুটা পরিবর্তন ঘটে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সময়সূচি অনুযায়ী, আজ ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়েছে ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে। জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ১ মিনিটে এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ৩৪ মিনিটে।

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে। প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী ইফতারের সময় সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিট এবং মাগরিবের ওয়াক্তও শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে। এশার ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৭টা ৪৩ মিনিটে।

পরবর্তী দিন মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ঢাকায় ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে। ওই দিন সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ৩৭ মিনিটে। ফলে ফজরের নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে সূর্যোদয়ের আগেই নামাজ সম্পন্ন করার বিষয়টি মুসল্লিদের খেয়াল রাখতে হবে।

ঢাকার বাইরে অবস্থানকারীদের ক্ষেত্রে স্থানীয় ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে নামাজের ওয়াক্তে কয়েক মিনিটের পার্থক্য হতে পারে। তাই অন্য জেলা বা বিভাগে অবস্থানকারী মুসল্লিদের নিজ এলাকার জন্য প্রযোজ্য নির্ভরযোগ্য সময়সূচি অনুসরণ করা উচিত।

উল্লেখ্য, নামাজের ওয়াক্ত নির্ধারণে সূর্যের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বছরের বিভিন্ন সময়ে সময় পরিবর্তিত হয়। এ কারণে প্রতিদিনের হালনাগাদ সময়সূচি দেখে নামাজ আদায় করা সুবিধাজনক।

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন


২০২৭ সালের রমজান ও দুই ঈদের সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ১৯:২৪:৫৭
২০২৭ সালের রমজান ও দুই ঈদের সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

২০২৭ সালের পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা এবং নতুন ইসলামি বর্ষ শুরুর সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র। তবে এসব ধর্মীয় উৎসবের চূড়ান্ত দিনক্ষণ সম্পূর্ণভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বৈজ্ঞানিক গণনার সাথে বাস্তব ক্ষেত্রে এক-দুই দিনের ব্যবধান তৈরি হতে পারে।

ইসলামি চন্দ্র বর্ষপঞ্জির প্রতিটি মাস সাধারণত ২৯ অথবা ৩০ দিনের হয়ে থাকে, যা সরাসরি নির্ভর করে নতুন চাঁদের দৃশ্যমানতার ওপর। সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতি আরবি মাস শুরুর আগে আনুষ্ঠানিক পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে দেশটির জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি এবং তাদের সিদ্ধান্তের আলোকেই যাবতীয় ধর্মীয় উৎসবের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়।

জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রাথমিক হিসাব পর্যালোচনা করে জানানো হয়েছে, ২০২৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শনিবার অথবা ৭ ফেব্রুয়ারি রবিবার রমজানের নতুন চাঁদ উদিত হতে পারে। তবে ৬ ফেব্রুয়ারি বা ২৯ শাবানের সন্ধ্যায় আরব আমিরাতসহ ভৌগোলিক অবস্থানভেদে চাঁদ স্পষ্ট দেখার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ, কারণ ওই সময়ে সূর্যাস্তের পূর্বেই চাঁদ অস্ত যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা বিবেচনায় দেশটিতে ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হতে পারে।

পবিত্র রমজান মাসের সমাপ্তি এবং শাওয়াল মাসের শুরুর ওপর ভিত্তি করে ঈদুল ফিতরের সময় নির্ধারিত হবে। বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৮ মার্চ সোমবার সন্ধ্যায় শাওয়ালের নতুন চাঁদ আকাশে দেখা গেলে পরদিন ৯ মার্চ মঙ্গলবার ঈদ উদযাপিত হবে। আর যদি সেদিন চাঁদ দেখা না যায় এবং রমজান ৩০ দিন পূর্ণ করে, তবে ১০ মার্চ বুধবার ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে; অর্থাৎ ৯ বা ১০ মার্চের যেকোনো একদিন মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল ফিতর পালনের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

পবিত্র হজের সঙ্গে সম্পর্কিত ঈদুল আজহা জিলহজ মাসের ১০ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়, যার আগের দিন ৯ জিলহজ পালিত হয় পবিত্র আরাফাহ দিবস। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুসারে, ২০২৭ সালের ৬ মে বৃহস্পতিবার বা ৭ মে শুক্রবার জিলহজের চাঁদের দেখা মিলতে পারে। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ২০২৭ সালের ১৬ মে রবিবার কিংবা ১৭ মে সোমবার ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে ইসলামি হিজরি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররমের মাধ্যমে নতুন বছরের সূচনা ঘটবে জুনের প্রথম সপ্তাহে। সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, জিলহজ মাসের স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করে ২০২৭ সালের ৫ জুন শনিবার থেকে ৭ জুন সোমবারের মধ্যে যেকোনো একদিন নতুন ইসলামি বর্ষের প্রথম দিন বা ১ মহররম সূচিত হতে পারে। তবে সমস্ত ধর্মীয় দিবসের আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখার চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: