সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।
খলিফাদের জীবন
ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রাঃ): জীবন, নেতৃত্ব ও উত্তরাধিকার ভূমিকা

ইতিহাসে এমন কিছু ব্যক্তিত্ব আছেন, যাদের জীবন ও কর্ম কেবল একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কেই নয়, বরং সমগ্র মানবজাতিকেই প্রভাবিত করেছে। হজরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁদেরই একজন। তিনি শুধু ইসলামের প্রথম খলিফা ছিলেন না, ছিলেন মানবিকতা, সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও সত্যনিষ্ঠার এক অনন্য প্রতীক।
নবী করিম হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সর্বাধিক ঘনিষ্ঠ সহচর ও বিশ্বাসভাজন হিসেবে তিনি ইসলামী ইতিহাসের সূচনালগ্ন থেকেই অপরিসীম ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর নাম উচ্চারণ হলেই মনে পড়ে “সিদ্দিক” — অর্থাৎ যিনি সত্যকে স্বীকৃতি দেন ও বিন্দুমাত্র সন্দেহ করেন না।
হজরত আবু বকর (রাঃ)-এর জীবন একদিকে ইসলামী সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশের সূচনা, অন্যদিকে নেতৃত্ব ও শাসনব্যবস্থার এক নৈতিক দৃষ্টান্ত। নবীজির (সাঃ) মৃত্যুর পর মুসলিম উম্মাহ যে গভীর সংকটে পড়েছিল, আবু বকর (রাঃ) সেই মুহূর্তে নেতৃত্ব গ্রহণ করে প্রমাণ করেছিলেন, সত্যিকারের খলিফা কেবল রাজনৈতিক নেতা নন, বরং বিশ্বাস, সাহস ও প্রজ্ঞার প্রতিমূর্তি।
জন্ম ও বংশপরিচয়
হজরত আবু বকর (রাঃ) জন্মগ্রহণ করেন ৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে মক্কার কুরাইশ বংশের বনু তাইম গোত্রে। তাঁর পিতা ছিলেন আবু কুহাফা উসমান ইবনে আমির, এবং মাতা সলমা বিনতে সাখার, যিনি “উম্মুল খাইর” নামে পরিচিত ছিলেন। এই পরিবার কুরাইশ সমাজে মর্যাদাসম্পন্ন হলেও তুলনামূলকভাবে শান্ত ও ধর্মভীরু ছিল।
তাঁর পূর্ণ নাম: আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে আমির ইবনে আমর ইবনে কা‘ব ইবনে সা‘দ ইবনে তাইম ইবনে মুররাহ ইবনে কা‘ব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব আল-কুরাইশি। “আবু বকর” উপাধি তাঁর প্রিয় ডাকনাম, আর “সিদ্দিক” উপাধি প্রদান করেন নবী করিম (সাঃ) স্বয়ং, তাঁর অটল বিশ্বাস ও নির্ভীক আস্থার কারণে। শৈশবে আবু বকর ছিলেন কোমল, বুদ্ধিমান ও চিন্তাশীল। কিশোর বয়স থেকেই তাঁর মধ্যে সততা ও নম্রতার প্রতিফলন দেখা যায়। তিনি মূর্তিপূজায় বিশ্বাস করতেন না এবং একেশ্বরবাদে আস্থাশীল ছিলেন।
ইসলাম গ্রহণ
যখন নবী করিম (সাঃ) আল্লাহর কাছ থেকে নবুয়ত লাভ করে মক্কায় তাওহীদের দাওয়াত প্রচার শুরু করেন, তখন প্রথমদিকে ইসলাম গ্রহণকারীদের সংখ্যা ছিল অতি অল্প। হজরত খদিজা (রাঃ), আলী (রাঃ), জায়েদ ইবনে হারিসা (রাঃ)-এর পর প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন আবু বকর (রাঃ)। ইতিহাসে বর্ণিত আছে, যখন নবীজির (সাঃ) নবুয়তের খবর তিনি শুনলেন, তখন এক মুহূর্ত দেরি না করে নবীর কাছে গেলেন। নবী করিম (সাঃ) তাঁকে আল্লাহর একত্ববাদ, আখিরাত ও ন্যায়ের দাওয়াত দেন। আবু বকর বিনা দ্বিধায় ইসলাম গ্রহণ করেন এবং বলেন, “আমি তোমার মুখ থেকে যা শুনেছি, তার সবই সত্য। আমি কোনো প্রমাণ চাই না, কারণ আমি তোমাকে কখনো মিথ্যা বলতে দেখিনি।”
এই অকুণ্ঠ বিশ্বাসই তাঁকে “আস-সিদ্দিক” উপাধি এনে দেয়। পরবর্তীতে নবী করিম (সাঃ)-এর মেরাজের সংবাদে যখন অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করে, তখন আবু বকর (রাঃ) দ্বিধাহীনভাবে বলেন, “যদি মুহাম্মদ (সাঃ) বলেন যে তিনি আসমানে গেছেন, তবে অবশ্যই তা সত্য।” এভাবে তিনি ঈমানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
ইসলাম প্রচারে ভূমিকা
ইসলাম গ্রহণের পর আবু বকর (রাঃ) কেবল নিজের জন্যই তা সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি তাঁর বন্ধু, আত্মীয় ও পরিচিতদের ইসলাম গ্রহণে আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর দাওয়াতে ইসলাম গ্রহণ করেন অনেক বিখ্যাত সাহাবি—যেমন উসমান ইবনে আফফান, আবদুর রহমান ইবনে আউফ, তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস প্রমুখ।
এ ছাড়া দাসপ্রথা বিরোধী অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে আবু বকর (রাঃ)-এর অবদান অসাধারণ। তিনি তাঁর নিজের সম্পদ থেকে বহু দাস-দাসীকে মুক্ত করেছেন, যাদের মধ্যে হযরত বিলাল (রাঃ) ছিলেন অন্যতম। বিলাল (রাঃ)-কে যখন কুফরি ত্যাগ না করার অপরাধে গরম মরুভূমিতে শায়িত করে নির্যাতন করা হচ্ছিল, তখন আবু বকর (রাঃ) নিজের অর্থ দিয়ে তাঁকে কিনে নিয়ে মুক্তি দেন। এই কাজ শুধু মানবিকতার উদাহরণই নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচারের এক জাগ্রত দৃষ্টান্ত।
নবী করিম (সাঃ)-এর সহচর ও হিজরত
আবু বকর (রাঃ) নবী করিম (সাঃ)-এর জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে উপস্থিত ছিলেন। মক্কায় নির্যাতনের সময় থেকে শুরু করে মদিনায় ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত তিনি ছিলেন নবীর ছায়াসঙ্গী। হিজরতের সময় সাওর গুহায় আশ্রয় নেওয়ার ঘটনাটি ইসলামী ইতিহাসের এক চিরস্মরণীয় অধ্যায়।নবী (সাঃ) ও আবু বকর (রাঃ) তিনদিন গুহায় অবস্থান করেন। কুরআনের সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত ৪০-এ আল্লাহ তাআলা বলেন— “যখন তারা উভয়েই গুহায় ছিল, এবং সে (মুহাম্মদ) তার সঙ্গীকে বলেছিল: ‘ভয় করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।’” এই আয়াতে আবু বকর (রাঃ)-কে “গুহার দ্বিতীয় ব্যক্তি” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তাঁর মর্যাদাকে ইসলামী ইতিহাসে চিরস্থায়ী করেছে।
মদিনায় অবদান ও যুদ্ধসমূহে অংশগ্রহণ
মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর, আবু বকর (রাঃ) নবীর (সাঃ) অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। ইসলামী সমাজের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো গঠনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
তিনি প্রায় সকল প্রধান যুদ্ধেই অংশগ্রহণ করেছেন—
বদর যুদ্ধ (৬২৪ খ্রিস্টাব্দ): আবু বকর (রাঃ) নবীর (সাঃ) তাবুর প্রহরায় নিযুক্ত ছিলেন। এই যুদ্ধে তাঁর দৃঢ়তা ও আনুগত্য মুসলমানদের অনুপ্রেরণা দেয়।
উহুদ যুদ্ধ (৬২৫ খ্রিস্টাব্দ: নবীজির পাশে থেকে তিনি শত্রুর মোকাবিলায় অবিচল থাকেন।
খন্দক যুদ্ধ (৬২৭ খ্রিস্টাব্দ): শহরের দক্ষিণ অংশ রক্ষার দায়িত্ব ছিল তাঁর অধীনে। তিনি নির্ভীকভাবে প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করেন।
হুদায়বিয়া চুক্তি (৬২৮ খ্রিস্টাব্দ): তিনি নবী করিম (সাঃ)-এর সঙ্গে প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং শান্তিচুক্তির সাক্ষী ছিলেন।
মক্কা বিজয় (৬৩০ খ্রিস্টাব্দ): তিনি নবীর (সাঃ) সঙ্গে মক্কা বিজয়ে অংশ নেন। বিজয়ের পর তিনি ইসলামী দাওয়াতের প্রচারে অংশ নেন এবং প্রতিশোধের পরিবর্তে ক্ষমা ও উদারতার নীতি অনুসরণ করেন।
তাবুক অভিযান (৬৩০ খ্রিস্টাব্দ): এই অভিযানে যখন নবী করিম (সাঃ) মুসলমানদের আর্থিক সহায়তা চাইলেন, আবু বকর (রাঃ) তাঁর সমস্ত সম্পদ দান করেন। নবীজির প্রশ্নে তিনি উত্তর দেন, “আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকেই আমার পরিবারের জন্য রেখে এসেছি।” এই বক্তব্য মুসলিম ইতিহাসে আত্মত্যাগের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হিসেবে অমর হয়ে আছে।
নবী করিম (সাঃ)-এর মৃত্যু ও মুসলমানদের সংকটকাল
নবী করিম (সাঃ)-এর মৃত্যুর মুহূর্ত ছিল মুসলিম সমাজের জন্য এক গভীর ধাক্কা। অনেক সাহাবি তা বিশ্বাস করতে পারেননি। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) ক্রোধে তরবারি উঁচিয়ে বলেছিলেন, “যে বলবে মুহাম্মদ (সাঃ) মারা গেছেন, আমি তার ঘাড় উড়িয়ে দেব।” এই সময়ে আবু বকর (রাঃ) মসজিদে প্রবেশ করে জনসম্মুখে কুরআনের আয়াত পাঠ করেন— “মুহাম্মদ তো একজন রসূল। তাঁর আগে অনেক রসূল চলে গেছেন। তবে কি তিনি মারা গেলে বা নিহত হলে তোমরা পিছনে ফিরে যাবে?” (সূরা আল-ইমরান, আয়াত ১৪৪)। এই ঘোষণায় মুসলিম সমাজে বাস্তবতার স্বীকৃতি আসে এবং আবু বকর (রাঃ)-এর নেতৃত্বের দৃঢ়তা প্রমাণিত হয়।
খিলাফত লাভ ও শাসনব্যবস্থা
নবীজির (সাঃ) মৃত্যুর পর, সাকিফা বানু সাঈদা-এ এক ঐতিহাসিক বৈঠক বসে। সেখানে মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। অবশেষে সর্বসম্মতিক্রমে আবু বকর (রাঃ)-কে ইসলামের প্রথম খলিফা হিসেবে মনোনীত করা হয়।
তিনি মুসলমানদের উদ্দেশ্যে প্রথম ভাষণে বলেন—
“আমি তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম নই, তবে আমাকে তোমাদের নেতা করা হয়েছে। আমি যদি সঠিক পথে চলি, তবে আমাকে সহযোগিতা করো; যদি বিপথে যাই, তবে আমাকে সংশোধন করো। সত্যকে গ্রহণ করো, মিথ্যা থেকে দূরে থাকো।” এই বক্তৃতা তাঁর নেতৃত্বের দর্শন প্রকাশ করে—ন্যায়, জবাবদিহিতা ও জনগণের অংশগ্রহণ।
রিদ্দা যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ
খিলাফতের শুরুর বছরগুলো ছিল অশান্ত। নবীজির (সাঃ) মৃত্যুর পর আরবের বিভিন্ন গোত্র নবুয়তের দাবি করে বিদ্রোহ শুরু করে। কেউ কেউ জাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
আবু বকর (রাঃ) দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দেন— “যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মানে, তারা যদি জাকাত না দেয়, আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।” এই বিদ্রোহ দমন অভিযানে খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রাঃ)-কে নেতৃত্ব দেন। অবশেষে রিদ্দা যুদ্ধের মাধ্যমে আরব উপদ্বীপ পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হয়।
কুরআন সংকলন
রিদ্দা যুদ্ধের সময় অনেক হাফেজে কুরআন শাহাদাত বরণ করলে উমর (রাঃ)-এর পরামর্শে আবু বকর (রাঃ) কুরআন সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন। তিনি জায়েদ ইবন সাবিত (রাঃ)-কে প্রধান করে একটি দল গঠন করেন, যারা বিভিন্ন খণ্ড ও মুখস্থ আয়াত একত্র করে একটি সংহত সংকলন তৈরি করেন। এই সংকলনই পরবর্তীতে “মুসহাফে উসমানী”-এর ভিত্তি হয়ে ওঠে।
বৈদেশিক অভিযান ও ইসলামী রাষ্ট্রের সম্প্রসারণ
আবু বকর (রাঃ) তাঁর শাসনকালে ইসলামী রাষ্ট্রকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং বাইজেন্টাইন ও পারস্য সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি সিরিয়ার সীমান্তে মুসলিম বাহিনী পাঠান, যার নেতৃত্ব দেন ইয়াজিদ ইবনে আবি সুফিয়ান ও আমর ইবনে আস (রাঃ)। এই অভিযানগুলো ইসলামী সাম্রাজ্যের ভূখণ্ড সম্প্রসারণে এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রশাসনিক নীতি ও নৈতিকতা
আবু বকর (রাঃ)-এর প্রশাসনিক আদর্শ ছিল সরলতা ও ন্যায়নিষ্ঠার মিশ্রণ। তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নিজের জন্য ন্যূনতম ভাতা নিতেন। তিনি নিজ হাতে পশুপালন করতেন, যেন রাষ্ট্রীয় অর্থে নির্ভর না করতে হয়। মৃত্যুর আগে তিনি ঘোষণা দেন—রাষ্ট্র থেকে যা ভাতা নিয়েছেন, সব ফেরত দিতে চান। এমন আত্মনিয়োগ ও জবাবদিহিতার নজির বিশ্ব ইতিহাসেও বিরল।
মৃত্যু ও সমাধি
৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে, ৬৩ বছর বয়সে, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মৃত্যুর আগে উমর (রাঃ)-কে উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করেন। ২৩ আগস্ট, ৬৩৪ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন এবং মদিনার হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর ঘরে নবীজির (সাঃ)-এর পাশে দাফন করা হয়। আজও তাঁর রওজা মসজিদে নববীর দক্ষিণপাশে অবস্থিত, যেখানে প্রতিদিন হাজারো মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে আসে।
উত্তরাধিকার ও মূল্যায়ন
হজরত আবু বকর (রাঃ)-এর নেতৃত্বের সময়কাল অল্প হলেও এর প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। তিনি ইসলামী রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভিত্তি স্থাপন করেন, কুরআন সংরক্ষণ নিশ্চিত করেন এবং মুসলিম সমাজকে ভেতর থেকে ঐক্যবদ্ধ করেন।
তাঁর জীবন আমাদের শেখায়— নেতৃত্ব মানে ক্ষমতা নয়, দায়িত্ব। ঈমান মানে অন্ধ আনুগত্য নয়, যুক্তি ও আস্থার সংমিশ্রণ। ইসলামী সমাজ টিকে থাকে ন্যায়, সহমর্মিতা ও আত্মত্যাগের ভিত্তিতে।
হজরত আবু বকর (রাঃ) ছিলেন এক অনন্য নেতৃত্বের প্রতীক, যিনি নবীজির (সাঃ) আদর্শকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করেছিলেন। তাঁর খিলাফত ইসলামী সভ্যতার প্রথম ভিত্তি স্থাপন করে, যার ওপর দাঁড়িয়ে পরবর্তীতে উমর (রাঃ), উসমান (রাঃ) ও আলী (রাঃ)-এর যুগে ইসলাম বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী সভ্যতায় পরিণত হয়। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়, সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকলে স্বল্পকালেও ইতিহাসে অমর হওয়া যায়।
কোরবানির পশুতেই দেওয়া যাবে সন্তানের আকিকা: জেনে নিন সঠিক নিয়ম
ইসলামি শরিয়তে কোরবানি এবং আকিকা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং স্বতন্ত্র ইবাদত। এই দুটি বিধানের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হলো— সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর কোরবানি আদায় করা 'ওয়াজিব' (আবশ্যক), পক্ষান্তরে সন্তান জন্মের পর আকিকা দেওয়া 'মুস্তাহাব' (উত্তম)। শরিয়তের এই গুরুত্বের কারণে কোনো অবস্থাতেই কোরবানিকে আকিকার ওপর প্রাধান্য দেওয়া বা কোরবানির পরিবর্তে কেবল আকিকা করা ঠিক নয়।
পবিত্র ঈদুল আজহার নির্দিষ্ট দিনগুলোতে (১০, ১১ ও ১২ জিলহজ) কোরবানি করতে না পারলে ঈদের পর আরও দুই দিন পর্যন্ত তা আদায় করার সুযোগ থাকে। অর্থাৎ, সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য এই নির্ধারিত তিন দিনের যেকোনো একদিন কোরবানি করা ওয়াজিব। এই ওয়াজিব বিধান অবহেলা করে আদায় না করলে গুনাহগার হতে হবে। অন্যদিকে, সন্তান জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করা মুস্তাহাব। যদি কেউ সপ্তম দিনে আকিকা করতে অপারগ হন, তবে পরবর্তীতে সুবিধাজনক যেকোনো সময়ে তা আদায় করতে পারবেন। তাৎক্ষণিকভাবে আকিকা না করলে কোনো গুনাহ বা পাপ হবে না।
কোনো ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত থাকলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে কিনা, তা নির্ভর করে তার ঋণের পরিমাণের অতিরিক্ত সম্পদের ওপর। যদি মোট ঋণ বাদ দেওয়ার পরও ওই ব্যক্তির কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ উদ্বৃত্ত থাকে, তবে তার ওপর কোরবানি করা আবশ্যক বা ওয়াজিব হবে। এখানে 'নেসাব' বলতে বোঝানো হয়েছে— কোরবানির ওই তিন দিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় এবং মৌলিক চাহিদা মেটানোর পর যদি কোনো ব্যক্তির কাছে অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা (৫২.৫ ভরি) রুপা বা তার সমমূল্যের নগদ টাকা কিংবা সম্পদ থাকে।
যদি কেউ আলাদাভাবে আকিকা করতে না পারেন, তবে কোরবানির পরিবর্তে আকিকা না করে বরং কোরবানির পশুর সাথেই আকিকার অংশ যুক্ত করে নিতে পারেন। এতে করে একই পশুতে কোরবানি ও আকিকা দুটিই একসঙ্গে আদায় হয়ে যাবে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী— বড় পশু অর্থাৎ গরু, মহিষ এবং উটের ক্ষেত্রে কোরবানির পাশাপাশি আকিকার নিয়তে শরিক হওয়া সম্পূর্ণ বৈধ। এক্ষেত্রে শরিক হওয়ার নিয়ম হলো, সন্তানের লিঙ্গভেদে ছেলের জন্য দুই অংশ এবং মেয়ের জন্য এক অংশ নির্ধারণ করে অংশীদার হতে হবে।
/আশিক
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
আজকের ইসলামিক ও আবহাওয়া আপডেট: পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর দেশজুড়ে শুরু হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহার আবহ। আজ রোববার (২৪ মে ২০২৬/১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ/৬ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি)। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও এর পার্শ্ববর্তী মেগা অঞ্চলের ধর্মপ্রাণ মুসলিম ভাই-বোনদের জন্য আজকের ৫ ওয়াক্ত নামাজের অফিশিয়াল এবং সুনির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন (Islamic Foundation) বাংলাদেশ-এর ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১১টা ৫৯ মিনিটে।
এছাড়া, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজ বিকেলের আসরের নামাজ শুরু হবে ৪টা ৩৪ মিনিটে।
সন্ধ্যায় পবিত্র মাগরিবের আজান ও নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ৬টা ৪২ মিনিটে এবং রাতের প্রধান জামাত অর্থাৎ এশার সময় শুরু হবে রাত ৮টা ০৬ মিনিটে।
অন্যদিকে, আজ ঢাকায় অফিশিয়াল সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৭ মিনিটে।
আগামীকাল সোমবার (২৫ মে ২০২৬) পবিত্র ফজরের নামাজের ওয়াক্ত ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে শুরু হবে এবং আগামীকাল সকালে ঢাকায় সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১৩ মিনিটে।
জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহ এবং ভ্যাপসা গরমের মাঝে সঠিক সময়ে ইবাদত সম্পন্ন করতে ও পবিত্র হজের এই বরকতময় দিনগুলোতে বেশি বেশি নফল ইবাদত করতে নেসকো ও ডেসকোসহ বিদ্যুৎ বিভাগকে প্রাক-ঈদ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন ওলামা কেরামগণ।
/আশিক
নিসাব কার বেশি? জেনে নিন ঠিক যেসব নারীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আগে সমাজের একটি প্রচলিত কুসংস্কার ও ভুল ধারণার অবসান ঘটিয়ে দেশের বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও মুফতিগণ অত্যন্ত কঠোর ও স্পষ্ট ফতোয়া জারি করেছেন। তাঁরা বলেছেন, কোরবানি কেবল পুরুষদের একচেটিয়া কোনো ইবাদত নয়; বরং ইসলামের অমোঘ বিধান অনুযায়ী নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক বা সামর্থ্যশালী প্রত্যেক নারীর ওপরও কোরবানি করা এককভাবে ওয়াজিব।
আমাদের সমাজে প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, পরিবারের কর্তা বা পুরুষ সদস্য কোরবানি দিলেই বুঝি ঘরের নারীদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়—অথচ শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে এই মানসিকতা সম্পূর্ণ ভুল এবং ইসলামে তা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) দেশের শীর্ষস্থানীয় ইসলামিক ফিকহ একাডেমিগুলোর এক যৌথ গবেষণাপত্রে মুসলিম নারীদের এই জরুরি বিধান সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।
শরিয়তের অলঙ্ঘনীয় বিধান অনুযায়ী, ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন স্বাধীন মুসলিম নারী যদি বিবাহিতা, অবিবাহিতা, চাকরিজীবী কিংবা স্রেফ গৃহিণীও হন—এবং তাঁর কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ‘নিসাব’ পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে তাঁর ওপর কোরবানি করা বাধ্যতামূলক বা ওয়াজিব।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, ‘আপনি আপনার রবের উদ্দেশে সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি করুন।’ (সুরা : কাওসার, আয়াত : ২)। অনেক নারী অলংকার বা ব্যাংকে জমানো টাকা থাকার পরও অজ্ঞতার কারণে কোরবানি দেন না। রাসূলুল্লাহ (সা.) এই অবহেলার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটেও না আসে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩১২৩)।
ইসলামিক বিধান অনুযায়ী কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার এই ‘নিসাব’ বা অর্থনৈতিক মানদণ্ডটি অত্যন্ত সহজ। যার ওপর বার্ষিক জাকাত ফরজ, তার ওপরই কোরবানি ওয়াজিব। কোনো নারীর মালিকানায় যদি সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি সোনা অথবা সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি রুপা থাকে, তবে তিনি নিসাবের মালিক। এছাড়া কোনো নারীর কাছে যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্যের নগদ অর্থ কিংবা প্রয়োজনাতিরিক্ত অন্য কোনো সম্পদ থাকে, তবে তিনিও সামর্থ্যবান বলে গণ্য হবেন।
এমনকি পৃথকভাবে সোনা বা রুপা নেসাব পরিমাণ না হলেও, কোরবানির দিনগুলোতে যদি সামান্য সোনা (যেমন ১ ভরি) এবং সাথে কিছু নগদ টাকা থাকে—যা একত্রে যোগ করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার বাজারমূল্যের সমান বা বেশি হয়ে যায়, শরয়ি কায়দায় সেই নারীর ওপরও কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যাবে।
অলংকার বা জমানো অর্থ থাকা সত্ত্বেও যারা অবহেলাবশত কোরবানি দেন না, তারা একটি বড় গুনাহের মুখোমুখি হচ্ছেন। অতএব, মুসলিম নারীদের উচিত ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের শিক্ষাকে হৃদয়ে ধারণ করে স্রেফ লোকদেখানো সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজস্ব তহবিল থেকে কোরবানি নিশ্চিত করা।
/আশিক
স্ত্রীর দেনমোহর বাকি রেখে কি কোরবানি দেওয়া যাবে? জেনে নিন ইসলামের স্পষ্ট ব্যাখ্যা
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানি ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মুসলিম সমাজে প্রতি বছরের মতো এবারও নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় জিজ্ঞাসা ও মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত ও বহুল আলোচিত একটি প্রশ্ন হলো—স্ত্রীর দেনমোহর বা মোহরানা বাকি রেখে স্বামী কোরবানি দিতে পারবেন কি না, কিংবা দেনমোহর বাকি থাকলে স্বামীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয় কি না? ইসলামি আইন ও ফিকাহ শাস্ত্রের অকাট্য প্রমাণের আলোকে শরীয়তের স্পষ্ট ব্যাখ্যা হচ্ছে, দেনমোহর এবং কোরবানি সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং স্ত্রীর দেনমোহর বাকি থাকলেও স্বামীর কোরবানি দেওয়া সম্পূর্ণ জায়েজ ও বৈধ।
শরীয়তের দৃষ্টিতে, যতদিন পর্যন্ত স্বামী তাঁর স্ত্রীর দেনমোহর পুরোপুরি পরিশোধ না করেন, ততদিন তা স্বামীর ওপর এক ধরণের ‘ঋণ’ হিসেবেই গণ্য থাকে। তবে ফিকহের বিখ্যাত কিতাব ‘বাদায়েউস সানায়ে’ ও ‘রদ্দুল মুহতার’-এর বর্ণনা অনুযায়ী, এই ঋণকে এক ধরনের বিশেষ বা ‘দুর্বল ঋণ’ (দাইনে জইফ) বলা হয়।
যেহেতু এটি কোনো সরাসরি ব্যবসায়িক লেনদেন বা ধন-সম্পদ বিনিময়ের মাধ্যমে তৈরি হয়নি, তাই এই ঋণ স্বামীর মালিকানাধীন বর্তমান নগদ অর্থ বা সম্পদের ওপর সরাসরি কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে না। সহজ কথায়, দেনমোহর বাকি থাকলেও স্বামীর কোরবানি নিশ্চিতভাবেই আদায় হয়ে যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে স্বামীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে কি না, তা মূলত দুটি অবস্থার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়
প্রথমত: দেনমোহর বাকি থাকা সত্ত্বেও যদি কোরবানির নির্দিষ্ট দিনগুলোতে (১০ থেকে ১২ জিলহজ) জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় খরচের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ (সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা অথবা সমমূল্যের নগদ অর্থ ও সম্পদ) মালিকানা স্বামীর কাছে থাকে, তবে তাঁর ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব।
দ্বিতীয়ত: স্ত্রীর দেনমোহরের দাবি যদি তাৎক্ষণিক হয় এবং তা পরিশোধ করার পর বা মূল হিসাব থেকে বাদ দেওয়ার পর স্বামীর কাছে আর কোনো অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ উদ্বৃত্ত না থাকে, তবে তাঁর ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে না। অর্থাৎ, এই অবস্থায় কোরবানি না করলে তিনি গুনাহগার হবেন না।
ইসলামি ফিকাহর নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ বাদায়েউস সানায়ে (২য় খণ্ড, ৩৯২ পৃষ্ঠা)-এ স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, যে ঋণ সম্পদের বিনিময়ে নয়—যেমন মোহরানা, তা কোরবানিদাতার সামর্থ্য বা নিসাবের ওপর সরাসরি বাধা সৃষ্টি করে না। একই ধরনের ব্যাখ্যা পাওয়া যায় বিখ্যাত ফতোয়া গ্রন্থ রদ্দুল মুহতার (৯ম খণ্ড, ৪৫৩ পৃষ্ঠা)-এ। ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলেমদের মতে, দেনমোহর বাকি রেখে কোরবানি দিলে কোরবানি হয়ে গেলেও সামর্থ্য থাকার পরও স্ত্রীর দেনমোহর বছরের পর বছর আটকে রাখা মোটেও উচিত নয়। কোরবানির মতো ত্যাগ ও মহিমান্বিত ইবাদতের প্রস্তুতির পাশাপাশি স্ত্রীর প্রাপ্য অধিকার দ্রুত পরিশোধ করে দেওয়ার ব্যাপারেও স্বামীদের সমানভাবে সচেতন ও আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন।
/আশিক
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর কোরবানি ঈদের আবহ ও তীব্র গ্রীষ্মের দাবদাহের মাঝেই রাজধানী ঢাকাসহ এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সম্মানিত মুসল্লিদের সুবিধার্থে আজ শনিবারের পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের অফিশিয়াল ও চূড়ান্ত সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। নতুন এই ইসলামিক ক্যালেন্ডার ও চার্ট অনুযায়ী, আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬ / ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ / ০৫ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি) ঢাকায় পবিত্র জোহরের ওয়াক্ত বা নামাযের সময় শুরু হবে দুপুর ১১টা ৫৯ মিনিটে এবং বিকেলে আসরের নামাযের সময় শুরু হবে ৪টা ৩৪ মিনিটে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, আজ জ্যৈষ্ঠের তপ্ত বিকেলে রাজধানী ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৭ মিনিটে।
সূর্যাস্তের পরপরই তথা সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে মাগরিবের নামাযের পবিত্র সময় শুরু হবে।
এরপর রাতের প্রথম প্রহরে পবিত্র এশার নামাযের ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৮টা শূন্য ৫ মিনিটে। অন্যদিকে, আজ রাত পেরিয়ে আগামীকাল রবিবার (২৪ মে) ভোরে পবিত্র ফজরের নামাযের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে এবং রাজধানী ঢাকায় আগামীকাল ভোরের সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১৩ মিনিটে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতে ভৌগোলিক অবস্থান ও দূরত্ব অনুযায়ী ঢাকার সময়ের সাথে কয়েক মিনিট যোগ বা বিয়োগ করে নামাযের চূড়ান্ত সময় নির্ধারণ করতে হবে।
/আশিক
আজ সূর্যাস্ত কখন? নামাজের সময় জানুন একনজরে
পবিত্র জুমার দিন আজ শুক্রবার (২২ মে ২০২৬)। মুসল্লিদের ইবাদত ও নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকার নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা।
প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, আজ জুমার ওয়াক্ত শুরু হবে সকাল ১১টা ৫৯ মিনিটে। সপ্তাহের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ দিনের প্রধান জামাতে অংশ নিতে এরইমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন মুসল্লিরা।
এদিকে আজ আসরের নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৪টা ৩৩ মিনিটে। দিনের শেষভাগে মাগরিবের আজান হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটে এবং এশার ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৮টা ০৪ মিনিটে।
পরবর্তী দিনের সময়সূচি অনুযায়ী, শনিবার ভোরে ফজরের নামাজ শুরু হবে রাত ৩টা ৫১ মিনিটে। এছাড়া আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৭ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১৩ মিনিটে।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, জুমার দিন মুসলমানদের জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। এদিন বেশি বেশি দরূদ পাঠ, কুরআন তিলাওয়াত, বিশেষ করে সূরা কাহফ পাঠ এবং দোয়া করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জুমার দিনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বড় বড় মসজিদগুলোতে বাড়তি মুসল্লির সমাগমও লক্ষ্য করা যায়।
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
পার্থিব জীবনের চরম ব্যস্ততা ও কোলাহলের মাঝেও অন্তরের গভীর আত্মিক প্রশান্তি, শৃঙ্খলা এবং পরকালীন চিরস্থায়ী কল্যাণ নিশ্চিত করার একমাত্র নিখুঁত মাধ্যম হলো নিয়মিত নামাজ। মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে প্রেরিত মানবজাতির পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে নামাজ হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জন্য আবশ্যিক (ফরজ) ইবাদত। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, জীবনের পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন, নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর পরম কর্তব্য। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিশিয়াল ডাটা ও সময়সূচি অনুযায়ী ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের ৫ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের চূড়ান্ত সময় প্রকাশ করা হলো।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নির্ধারিত আজকের (৩ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি) নামাজের অফিশিয়াল সময়সূচি অনুযায়ী, ঢাকায় আজ ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে।
এরপর জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১১টা ৫৮ মিনিটে এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ৩৩ মিনিটে।
মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটে এবং সর্বশেষ ওয়াক্ত অর্থাৎ এশার নামাজ শুরু হবে রাত ৮টা ০৩ মিনিটে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঢাকার অফিশিয়াল সময়ের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহর ও প্রত্যন্ত জেলাগুলোর নামাজের সময়ের কিছুটা ব্যবধান বা পার্থক্য রয়েছে। ঢাকার মূল সময়ের সঙ্গে নির্দিষ্ট মিনিট যোগ বা বিয়োগ করে আপনার এলাকার সঠিক সময় জেনে নিতে পারেন।
ঢাকার সময়ের আগে যেসব জেলায় নামাজ শুরু হবে, তার মধ্যে সিলেটে ঢাকার সময়ের ৬ মিনিট আগে এবং চট্টগ্রামে ৫ মিনিট আগে ওয়াক্ত শুরু হবে।
অর্থাৎ, ঢাকার সময় থেকে এই মিনিটগুলো বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে, ঢাকার সময়ের পর যেসব জেলায় ওয়াক্ত শুরু হবে, তার মধ্যে রংপুরে ৮ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট, খুলনায় ৩ মিনিট এবং বরিশালে ১ মিনিট পর নামাজ শুরু হবে। অর্থাৎ, ঢাকার সময়ের সঙ্গে এই মিনিটগুলো যোগ করে আপনার এলাকার সঠিক সময় নির্ধারণ করতে হবে।
সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করা আল্লাহর অন্যতম প্রিয় আমল। তাই আপনার নিকটস্থ মসজিদের জামাত ও আজানের সঠিক সময় জেনে নিয়ে সময়মতো সালাত কায়েম করুন।
/আশিক
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সর্বশেষ সময়সূচি
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ও সর্বজনীন জীবনব্যবস্থা, যার প্রতিটি নিখুঁত বিধান মানুষের ইহলৌকিক কল্যাণ, সামাজিক শৃঙ্খলা এবং আত্মিক প্রশান্তি নিশ্চিত করার মহৎ উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহ তাআলা কর্তৃক প্রণীত হয়েছে। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে নামাজ ও রোজা ধনী-গরিব ও শ্রেণি-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর আবশ্যিক (ফরজ) ইবাদত হিসেবে নির্ধারিত। জীবনের শত ব্যস্ততা, জাগতিক কোলাহল এবং রাষ্ট্রীয় ও পেশাগত দায়িত্ব যতই থাকুক না কেন, নির্দিষ্ট ওয়াক্ত অনুযায়ী সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুমিনের প্রধান ও অন্যতম পবিত্র দায়িত্ব।
আজ বুধবার (২০ মে ২০২৬ ইংরেজি / ০৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বাংলা / ০২ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি)। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সুবিধার্থে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (ইফা) কর্তৃক নির্ধারিত ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সর্বশেষ ও সঠিক সময়সূচি বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
ফজর: ভোর ৩টা ৫১ মিনিট
জোহর: দুপুর ১১টা ৫৮ মিনিট
আসর: বিকেল ৪টা ৩৩ মিনিট
মাগরিব: সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিট
এশা: রাত ৭টা ৫৯ মিনিট
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঢাকার সময়ের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলার নামাজের সময়ের কিছুটা তারতম্য বা পার্থক্য রয়েছে। ঢাকার সময়ের সঙ্গে নিচের মিনিটগুলো যোগ বা বিয়োগ করে আপনি আপনার নির্দিষ্ট এলাকার আজান ও নামাজের সঠিক সময় জেনে নিতে পারেন
ঢাকার সময় থেকে বিয়োগ করতে হবে
সিলেট: ০৬ মিনিট (ঢাকার সময়ের ৬ মিনিট আগে আজান হবে)
চট্টগ্রাম: ০৫ মিনিট (ঢাকার সময়ের ৫ মিনিট আগে আজান হবে)
ঢাকার সময়ের সঙ্গে যোগ করতে হবে
রংপুর: ০৮ মিনিট (ঢাকার সময়ের ৮ মিনিট পর আজান হবে)
রাজশাহী: ০৭ মিনিট (ঢাকার সময়ের ৭ মিনিট পর আজান হবে)
খুলনা: ০৩ মিনিট (ঢাকার সময়ের ৩ মিনিট পর আজান হবে)
বরিশাল: ০১ মিনিট (ঢাকার সময়ের ১ মিনিট পর আজান হবে)
/আশিক
একই ভাগে দুই ভাই মিলে কোরবানি দেওয়া নিয়ে কী বলছে ইসলামি শরিয়ত?
প্রত্যেক সামর্থ্যবান ও নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক মুসলিমের জন্য কোরবানি করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় বিধান (ওয়াজিব)। এই বিধানের গুরুত্ব বোঝাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, “যার কোরবানি করার সামর্থ্য আছে অথচ সে কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়।” (মুসনাদে আহমদ: ২/৩২১, মুস্তাদরাকে হাকেম: ৭৬৩৯, আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব: ২/১৫৫)।
পবিত্র কোরআনেও মহান আল্লাহ তায়ালা সুরা কাওসারের ২ নম্বর আয়াতে নির্দেশ দিয়েছেন, “অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো।” শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যিনি ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নিজের প্রয়োজন-অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকবেন, তাঁর ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব (আলমুহিতুল বুরহানি: ৮/৪৫৫, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ১৭/৪০৫)।
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশুর হাটে বা পারিবারিক পরিমণ্ডলে একটি প্রশ্ন প্রায়ই দেখা যায় যে, ‘দুই ভাই মিলে বা যৌথভাবে এক ভাগে কোরবানি দেওয়া জায়েজ কি না?’ এই প্রথাগত জিজ্ঞাসার জবাবে রাজধানীর জামিয়া ইসলামিয়া বায়তুস সালামের সিনিয়র মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী কালবেলাকে জানিয়েছেন, দুই ভাই বা যেকোনো দুজন ব্যক্তি মিলে এক ভাগে অর্থ ভাগাভাগি করে কোরবানি দিলে তা ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী মোটেও সহিহ বা বিশুদ্ধ হবে না।
কারণ, কোরবানির মূল নিয়ম হচ্ছে একটি ভাগে কেবল একজন একক ব্যক্তিই শরিক হতে পারেন; এক ভাগে একাধিক ব্যক্তি শরিক হলে কোরবানি বিশুদ্ধ হয় না (আদদুররুল মুহতার: ৯/৪৫৭)। তবে এই জটিলতা এড়ানোর একটি বৈধ সুরত বা বিকল্প পথ বাতলে দিয়ে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, যদি দুই ভাই মিলে এক ভাগেই কোরবানি দিতে চান, তবে তাঁদের একজন অপরজনকে তাঁর সমপরিমাণ টাকার মালিক (হেবা বা উপহার) বানিয়ে দেবেন। অতঃপর টাকা গ্রহণকারী ব্যক্তি নিজের একক নামে ওই ভাগের কোরবানিটি সম্পন্ন করবেন; তাহলে কোরবানি সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ ও বৈধ হবে।
ইসলামি শরিয়তের সামগ্রিক পশুর শরিকানা বিধিমালা অনুযায়ী, একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দ্বারা কেবল একজন ব্যক্তিই এককভাবে কোরবানি দিতে পারবেন। এই ধরনের ছোট পশুতে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মিলে শরিক হলে কারোর কোরবানিই সহিহ হবে না। অন্যদিকে উট, গরু কিংবা মহিষের মতো বড় পশুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাতজন ব্যক্তি পৃথক সাতটি ভাগে শরিক হতে পারবেন; সাতের অধিক শরিক হলে কারও কোরবানি সহিহ হবে না (মুসলিম: ১৩১৮, মুয়াত্তা মালেক: ১/৩১৯, কাযীখান: ৩/৩৪৯, বাদায়ে উস সানায়ে: ৪/২০৭-২০৮)। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে কোনো শরিকেরই কোরবানি আল্লাহর দরবারে কবুল বা সহিহ হবে না।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- চাটখিলে কোরবানি হাটের মূল আকর্ষণ ৩০ মণের নোয়াখালীর বস
- কোরবানির পশুতেই দেওয়া যাবে সন্তানের আকিকা: জেনে নিন সঠিক নিয়ম
- ১০ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস; নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- ১৬০ গান ও ১২০ কবিতার জন্মভূমি; দৌলতপুরে নজরুল-নার্গিসের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি
- সুবর্ণ কার্ডধারী প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য মেট্রোরেলে বড় ছাড়
- এনসিপি নেতা তানাইমের বাসার গেট ভেঙে গ্রেপ্তারের চেষ্টা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- ফ্যাসিবাদী শক্তি পালালেও দেশ এখনো পুরোপুরি ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়নি: জামায়াত আমির
- বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আর্জেন্টিনার কাছে ব্রাজিলের অন্যরকম হার!
- অনলাইন জুয়া ও বেটিং রুখতে আসছে সম্পূর্ণ নতুন আইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বিশেষ শোক চিঠি পাঠালেন ড. ইউনূস
- শিশু রামিসা হত্যা: ঘাতক সোহেল ও তার স্ত্রীর বিচার শুরুর দিন ধার্য
- শিশু রামিসা হত্যা মামলা বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি
- পাইপলাইন মেরামত: সোমবার ৯ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না বেশ কিছু এলাকায়
- যুদ্ধ বন্ধে ঐতিহাসিক চুক্তির দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান
- ৯ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় মেহেরপুরে যুবকের মৃত্যুদণ্ড
- ২৪ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ২৪ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২৪ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সিলেটের বিশ্বনাথে জমে উঠেছে পশুর হাট
- তথ্যের জগৎ আর প্রথাগত নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই: তথ্যমন্ত্রী
- আলোচনার টেবিলেও শত্রুর সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করবে ইরান
- আগামীকাল থেকে নামছে ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন: রেলমন্ত্রী
- মিরপুরের শিশু রামিসা হত্যায় ডিএনএ রিপোর্টে মিলল ধর্ষণের অকাট্য প্রমাণ
- আজকের টাকার রেট: জেনে নিন প্রবাসী মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার
- ইসরায়েলি জেনারেলের চাঞ্চল্যকর দাবি: সংঘর্ষে জয়ী হয়েছে ইরান
- রাজধানীতে আজ সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মসূচির ব্যস্ততা
- দেশের চার জেলায় দুপুর ১টার মধ্যে ধেয়ে আসছে ঝড়-বৃষ্টি: আবহাওয়া অফিসের মেগা অ্যালার্ট
- তেজাবি সোনার বাজারে ধস: ৩ দিন আগের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করলো বাজুস
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- ১ মাসে ৩ বার ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা! হোয়াইট হাউসে আত্মঘাতী হামলা
- কুমিল্লা সরানো হলো ১৩১ বছরের স্কুল আঙিনার কবরস্থানের সাইনবোর্ড
- রামিসা হত্যা ও ফারিয়া ধর্ষণের প্রতিবাদ: চট্টগ্রামে ফুলেশ্বরী অ্যাসোসিয়েশনের মিছিল
- নিসাব কার বেশি? জেনে নিন ঠিক যেসব নারীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের জের: ফেঁসে গেলেন ২২ এনসিপি নেতা
- তেলাপোকা’র আতঙ্কে মোদী সরকার, টুইটারের পর বন্ধ হলো সিজেপির ওয়েবসাইট
- লাশ উদ্ধারের ৫ দিনের মাথায় চূড়ান্ত অভিযোগপত্র: রামিসা হত্যায় দ্রুততম বিচারের রেকর্ড
- এটাই এনসিপির মূল বসন্ত, মামলা খেয়ে এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহর রহস্যময় অভিনন্দন
- আড়াই কোটি মানুষ ও কোরবানির পশুর পরিবহন এবার মেগা চ্যালেঞ্জ: সেতুমন্ত্রী
- কালিগঞ্জে পোস্ট অফিসের চোরাই গ্রিল উদ্ধার: ভাঙারি ব্যবসায়ী ও নাইটগার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ
- আগামীকাল টানা ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- চব্বিশের শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেবো না: মির্জা ফখরুল
- রামিসা হত্যার খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
- ইরানের আঘাতে মার্কিন ড্রোন বহরে মেগা বিপর্যয়
- শাহজালাল বিমানবন্দরে বেক্সিমকোর হেলিকপ্টার গায়েব করে সাবেক উপদেষ্টার তুঘলকি কাণ্ড!
- পতিত স্বৈরাচারের সাথে ভেতরের গোষ্ঠীর গোপন যোগাযোগ রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
- আচেহ প্রদেশে শরিয়া আইন লঙ্ঘন: প্রকাশ্যে ১০০ বেত্রাঘাতে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন নারী
- ঈদের আগে উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বক পেতে রূপবিশেষজ্ঞদের বিশেষ রূপচর্চা গাইড
- সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই, ভারতে আত্মপ্রকাশ করল তেলাপোকা জনতা পার্টি
- স্ত্রীর দেনমোহর বাকি রেখে কি কোরবানি দেওয়া যাবে? জেনে নিন ইসলামের স্পষ্ট ব্যাখ্যা
- যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসঘাতকতা ও অতিরিক্ত দাবির কারণেই সংলাপে অচলাবস্থা: ইরান
- ১৮ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১৮ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৮ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- রামিসা থেকে আবদুল্লাহ: শিশু যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে নীরবতার অবসান হোক
- ইরানে ধাক্কা খেয়ে চীনের সামনে দুর্বল আমেরিকা?
- আজ ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ইরান যুদ্ধে ড্রোন ধ্বংসে ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের
- দ্রুতই মাথা উঁচু করে দেশে ফিরব: আনন্দবাজারের সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা
- টয়লেটে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন ও হত্যা: পল্লবীর শিশু খুনের রোমহর্ষক জবানবন্দি
- যে ৫ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়ের আশঙ্কা
- ঘরেই বানান মজাদার কাঁচা আমের ঝাল আচার
- আবারও কমলো সোনার দাম, ভরিতে বড় পতন
- ২১ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- রামিসার মা-বাবার পাশে দাঁড়াতে আজ রাতেই পল্লবীর বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
- ঈদের দিনে কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া








