খলিফাদের জীবন

ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রাঃ): জীবন, নেতৃত্ব ও উত্তরাধিকার ভূমিকা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ১০ ১৪:১৪:০৭
ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রাঃ): জীবন, নেতৃত্ব ও উত্তরাধিকার ভূমিকা

ইতিহাসে এমন কিছু ব্যক্তিত্ব আছেন, যাদের জীবন ও কর্ম কেবল একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কেই নয়, বরং সমগ্র মানবজাতিকেই প্রভাবিত করেছে। হজরত আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁদেরই একজন। তিনি শুধু ইসলামের প্রথম খলিফা ছিলেন না, ছিলেন মানবিকতা, সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও সত্যনিষ্ঠার এক অনন্য প্রতীক।

নবী করিম হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সর্বাধিক ঘনিষ্ঠ সহচর ও বিশ্বাসভাজন হিসেবে তিনি ইসলামী ইতিহাসের সূচনালগ্ন থেকেই অপরিসীম ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর নাম উচ্চারণ হলেই মনে পড়ে “সিদ্দিক” — অর্থাৎ যিনি সত্যকে স্বীকৃতি দেন ও বিন্দুমাত্র সন্দেহ করেন না।

হজরত আবু বকর (রাঃ)-এর জীবন একদিকে ইসলামী সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশের সূচনা, অন্যদিকে নেতৃত্ব ও শাসনব্যবস্থার এক নৈতিক দৃষ্টান্ত। নবীজির (সাঃ) মৃত্যুর পর মুসলিম উম্মাহ যে গভীর সংকটে পড়েছিল, আবু বকর (রাঃ) সেই মুহূর্তে নেতৃত্ব গ্রহণ করে প্রমাণ করেছিলেন, সত্যিকারের খলিফা কেবল রাজনৈতিক নেতা নন, বরং বিশ্বাস, সাহস ও প্রজ্ঞার প্রতিমূর্তি।

জন্ম ও বংশপরিচয়

হজরত আবু বকর (রাঃ) জন্মগ্রহণ করেন ৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে মক্কার কুরাইশ বংশের বনু তাইম গোত্রে। তাঁর পিতা ছিলেন আবু কুহাফা উসমান ইবনে আমির, এবং মাতা সলমা বিনতে সাখার, যিনি “উম্মুল খাইর” নামে পরিচিত ছিলেন। এই পরিবার কুরাইশ সমাজে মর্যাদাসম্পন্ন হলেও তুলনামূলকভাবে শান্ত ও ধর্মভীরু ছিল।

তাঁর পূর্ণ নাম: আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে আমির ইবনে আমর ইবনে কা‘ব ইবনে সা‘দ ইবনে তাইম ইবনে মুররাহ ইবনে কা‘ব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব আল-কুরাইশি। “আবু বকর” উপাধি তাঁর প্রিয় ডাকনাম, আর “সিদ্দিক” উপাধি প্রদান করেন নবী করিম (সাঃ) স্বয়ং, তাঁর অটল বিশ্বাস ও নির্ভীক আস্থার কারণে। শৈশবে আবু বকর ছিলেন কোমল, বুদ্ধিমান ও চিন্তাশীল। কিশোর বয়স থেকেই তাঁর মধ্যে সততা ও নম্রতার প্রতিফলন দেখা যায়। তিনি মূর্তিপূজায় বিশ্বাস করতেন না এবং একেশ্বরবাদে আস্থাশীল ছিলেন।

ইসলাম গ্রহণ

যখন নবী করিম (সাঃ) আল্লাহর কাছ থেকে নবুয়ত লাভ করে মক্কায় তাওহীদের দাওয়াত প্রচার শুরু করেন, তখন প্রথমদিকে ইসলাম গ্রহণকারীদের সংখ্যা ছিল অতি অল্প। হজরত খদিজা (রাঃ), আলী (রাঃ), জায়েদ ইবনে হারিসা (রাঃ)-এর পর প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন আবু বকর (রাঃ)। ইতিহাসে বর্ণিত আছে, যখন নবীজির (সাঃ) নবুয়তের খবর তিনি শুনলেন, তখন এক মুহূর্ত দেরি না করে নবীর কাছে গেলেন। নবী করিম (সাঃ) তাঁকে আল্লাহর একত্ববাদ, আখিরাত ও ন্যায়ের দাওয়াত দেন। আবু বকর বিনা দ্বিধায় ইসলাম গ্রহণ করেন এবং বলেন, “আমি তোমার মুখ থেকে যা শুনেছি, তার সবই সত্য। আমি কোনো প্রমাণ চাই না, কারণ আমি তোমাকে কখনো মিথ্যা বলতে দেখিনি।”

এই অকুণ্ঠ বিশ্বাসই তাঁকে “আস-সিদ্দিক” উপাধি এনে দেয়। পরবর্তীতে নবী করিম (সাঃ)-এর মেরাজের সংবাদে যখন অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করে, তখন আবু বকর (রাঃ) দ্বিধাহীনভাবে বলেন, “যদি মুহাম্মদ (সাঃ) বলেন যে তিনি আসমানে গেছেন, তবে অবশ্যই তা সত্য।” এভাবে তিনি ঈমানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

ইসলাম প্রচারে ভূমিকা

ইসলাম গ্রহণের পর আবু বকর (রাঃ) কেবল নিজের জন্যই তা সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি তাঁর বন্ধু, আত্মীয় ও পরিচিতদের ইসলাম গ্রহণে আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর দাওয়াতে ইসলাম গ্রহণ করেন অনেক বিখ্যাত সাহাবি—যেমন উসমান ইবনে আফফান, আবদুর রহমান ইবনে আউফ, তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস প্রমুখ।

এ ছাড়া দাসপ্রথা বিরোধী অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে আবু বকর (রাঃ)-এর অবদান অসাধারণ। তিনি তাঁর নিজের সম্পদ থেকে বহু দাস-দাসীকে মুক্ত করেছেন, যাদের মধ্যে হযরত বিলাল (রাঃ) ছিলেন অন্যতম। বিলাল (রাঃ)-কে যখন কুফরি ত্যাগ না করার অপরাধে গরম মরুভূমিতে শায়িত করে নির্যাতন করা হচ্ছিল, তখন আবু বকর (রাঃ) নিজের অর্থ দিয়ে তাঁকে কিনে নিয়ে মুক্তি দেন। এই কাজ শুধু মানবিকতার উদাহরণই নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচারের এক জাগ্রত দৃষ্টান্ত।

নবী করিম (সাঃ)-এর সহচর ও হিজরত

আবু বকর (রাঃ) নবী করিম (সাঃ)-এর জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে উপস্থিত ছিলেন। মক্কায় নির্যাতনের সময় থেকে শুরু করে মদিনায় ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত তিনি ছিলেন নবীর ছায়াসঙ্গী। হিজরতের সময় সাওর গুহায় আশ্রয় নেওয়ার ঘটনাটি ইসলামী ইতিহাসের এক চিরস্মরণীয় অধ্যায়।নবী (সাঃ) ও আবু বকর (রাঃ) তিনদিন গুহায় অবস্থান করেন। কুরআনের সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত ৪০-এ আল্লাহ তাআলা বলেন— “যখন তারা উভয়েই গুহায় ছিল, এবং সে (মুহাম্মদ) তার সঙ্গীকে বলেছিল: ‘ভয় করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।’” এই আয়াতে আবু বকর (রাঃ)-কে “গুহার দ্বিতীয় ব্যক্তি” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তাঁর মর্যাদাকে ইসলামী ইতিহাসে চিরস্থায়ী করেছে।

মদিনায় অবদান ও যুদ্ধসমূহে অংশগ্রহণ

মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর, আবু বকর (রাঃ) নবীর (সাঃ) অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। ইসলামী সমাজের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো গঠনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

তিনি প্রায় সকল প্রধান যুদ্ধেই অংশগ্রহণ করেছেন—

বদর যুদ্ধ (৬২৪ খ্রিস্টাব্দ): আবু বকর (রাঃ) নবীর (সাঃ) তাবুর প্রহরায় নিযুক্ত ছিলেন। এই যুদ্ধে তাঁর দৃঢ়তা ও আনুগত্য মুসলমানদের অনুপ্রেরণা দেয়।

উহুদ যুদ্ধ (৬২৫ খ্রিস্টাব্দ: নবীজির পাশে থেকে তিনি শত্রুর মোকাবিলায় অবিচল থাকেন।

খন্দক যুদ্ধ (৬২৭ খ্রিস্টাব্দ): শহরের দক্ষিণ অংশ রক্ষার দায়িত্ব ছিল তাঁর অধীনে। তিনি নির্ভীকভাবে প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করেন।

হুদায়বিয়া চুক্তি (৬২৮ খ্রিস্টাব্দ): তিনি নবী করিম (সাঃ)-এর সঙ্গে প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং শান্তিচুক্তির সাক্ষী ছিলেন।

মক্কা বিজয় (৬৩০ খ্রিস্টাব্দ): তিনি নবীর (সাঃ) সঙ্গে মক্কা বিজয়ে অংশ নেন। বিজয়ের পর তিনি ইসলামী দাওয়াতের প্রচারে অংশ নেন এবং প্রতিশোধের পরিবর্তে ক্ষমা ও উদারতার নীতি অনুসরণ করেন।

তাবুক অভিযান (৬৩০ খ্রিস্টাব্দ): এই অভিযানে যখন নবী করিম (সাঃ) মুসলমানদের আর্থিক সহায়তা চাইলেন, আবু বকর (রাঃ) তাঁর সমস্ত সম্পদ দান করেন। নবীজির প্রশ্নে তিনি উত্তর দেন, “আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকেই আমার পরিবারের জন্য রেখে এসেছি।” এই বক্তব্য মুসলিম ইতিহাসে আত্মত্যাগের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হিসেবে অমর হয়ে আছে।

নবী করিম (সাঃ)-এর মৃত্যু ও মুসলমানদের সংকটকাল

নবী করিম (সাঃ)-এর মৃত্যুর মুহূর্ত ছিল মুসলিম সমাজের জন্য এক গভীর ধাক্কা। অনেক সাহাবি তা বিশ্বাস করতে পারেননি। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) ক্রোধে তরবারি উঁচিয়ে বলেছিলেন, “যে বলবে মুহাম্মদ (সাঃ) মারা গেছেন, আমি তার ঘাড় উড়িয়ে দেব।” এই সময়ে আবু বকর (রাঃ) মসজিদে প্রবেশ করে জনসম্মুখে কুরআনের আয়াত পাঠ করেন— “মুহাম্মদ তো একজন রসূল। তাঁর আগে অনেক রসূল চলে গেছেন। তবে কি তিনি মারা গেলে বা নিহত হলে তোমরা পিছনে ফিরে যাবে?” (সূরা আল-ইমরান, আয়াত ১৪৪)। এই ঘোষণায় মুসলিম সমাজে বাস্তবতার স্বীকৃতি আসে এবং আবু বকর (রাঃ)-এর নেতৃত্বের দৃঢ়তা প্রমাণিত হয়।

খিলাফত লাভ ও শাসনব্যবস্থা

নবীজির (সাঃ) মৃত্যুর পর, সাকিফা বানু সাঈদা-এ এক ঐতিহাসিক বৈঠক বসে। সেখানে মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। অবশেষে সর্বসম্মতিক্রমে আবু বকর (রাঃ)-কে ইসলামের প্রথম খলিফা হিসেবে মনোনীত করা হয়।

তিনি মুসলমানদের উদ্দেশ্যে প্রথম ভাষণে বলেন—

“আমি তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম নই, তবে আমাকে তোমাদের নেতা করা হয়েছে। আমি যদি সঠিক পথে চলি, তবে আমাকে সহযোগিতা করো; যদি বিপথে যাই, তবে আমাকে সংশোধন করো। সত্যকে গ্রহণ করো, মিথ্যা থেকে দূরে থাকো।” এই বক্তৃতা তাঁর নেতৃত্বের দর্শন প্রকাশ করে—ন্যায়, জবাবদিহিতা ও জনগণের অংশগ্রহণ।

রিদ্দা যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ

খিলাফতের শুরুর বছরগুলো ছিল অশান্ত। নবীজির (সাঃ) মৃত্যুর পর আরবের বিভিন্ন গোত্র নবুয়তের দাবি করে বিদ্রোহ শুরু করে। কেউ কেউ জাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

আবু বকর (রাঃ) দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দেন— “যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মানে, তারা যদি জাকাত না দেয়, আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।” এই বিদ্রোহ দমন অভিযানে খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রাঃ)-কে নেতৃত্ব দেন। অবশেষে রিদ্দা যুদ্ধের মাধ্যমে আরব উপদ্বীপ পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হয়।

কুরআন সংকলন

রিদ্দা যুদ্ধের সময় অনেক হাফেজে কুরআন শাহাদাত বরণ করলে উমর (রাঃ)-এর পরামর্শে আবু বকর (রাঃ) কুরআন সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন। তিনি জায়েদ ইবন সাবিত (রাঃ)-কে প্রধান করে একটি দল গঠন করেন, যারা বিভিন্ন খণ্ড ও মুখস্থ আয়াত একত্র করে একটি সংহত সংকলন তৈরি করেন। এই সংকলনই পরবর্তীতে “মুসহাফে উসমানী”-এর ভিত্তি হয়ে ওঠে।

বৈদেশিক অভিযান ও ইসলামী রাষ্ট্রের সম্প্রসারণ

আবু বকর (রাঃ) তাঁর শাসনকালে ইসলামী রাষ্ট্রকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং বাইজেন্টাইন ও পারস্য সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি সিরিয়ার সীমান্তে মুসলিম বাহিনী পাঠান, যার নেতৃত্ব দেন ইয়াজিদ ইবনে আবি সুফিয়ান ও আমর ইবনে আস (রাঃ)। এই অভিযানগুলো ইসলামী সাম্রাজ্যের ভূখণ্ড সম্প্রসারণে এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রশাসনিক নীতি ও নৈতিকতা

আবু বকর (রাঃ)-এর প্রশাসনিক আদর্শ ছিল সরলতা ও ন্যায়নিষ্ঠার মিশ্রণ। তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নিজের জন্য ন্যূনতম ভাতা নিতেন। তিনি নিজ হাতে পশুপালন করতেন, যেন রাষ্ট্রীয় অর্থে নির্ভর না করতে হয়। মৃত্যুর আগে তিনি ঘোষণা দেন—রাষ্ট্র থেকে যা ভাতা নিয়েছেন, সব ফেরত দিতে চান। এমন আত্মনিয়োগ ও জবাবদিহিতার নজির বিশ্ব ইতিহাসেও বিরল।

মৃত্যু ও সমাধি

৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে, ৬৩ বছর বয়সে, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মৃত্যুর আগে উমর (রাঃ)-কে উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করেন। ২৩ আগস্ট, ৬৩৪ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন এবং মদিনার হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর ঘরে নবীজির (সাঃ)-এর পাশে দাফন করা হয়। আজও তাঁর রওজা মসজিদে নববীর দক্ষিণপাশে অবস্থিত, যেখানে প্রতিদিন হাজারো মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে আসে।

উত্তরাধিকার ও মূল্যায়ন

হজরত আবু বকর (রাঃ)-এর নেতৃত্বের সময়কাল অল্প হলেও এর প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। তিনি ইসলামী রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভিত্তি স্থাপন করেন, কুরআন সংরক্ষণ নিশ্চিত করেন এবং মুসলিম সমাজকে ভেতর থেকে ঐক্যবদ্ধ করেন।

তাঁর জীবন আমাদের শেখায়— নেতৃত্ব মানে ক্ষমতা নয়, দায়িত্ব। ঈমান মানে অন্ধ আনুগত্য নয়, যুক্তি ও আস্থার সংমিশ্রণ। ইসলামী সমাজ টিকে থাকে ন্যায়, সহমর্মিতা ও আত্মত্যাগের ভিত্তিতে।

হজরত আবু বকর (রাঃ) ছিলেন এক অনন্য নেতৃত্বের প্রতীক, যিনি নবীজির (সাঃ) আদর্শকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করেছিলেন। তাঁর খিলাফত ইসলামী সভ্যতার প্রথম ভিত্তি স্থাপন করে, যার ওপর দাঁড়িয়ে পরবর্তীতে উমর (রাঃ), উসমান (রাঃ) ও আলী (রাঃ)-এর যুগে ইসলাম বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী সভ্যতায় পরিণত হয়। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়, সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকলে স্বল্পকালেও ইতিহাসে অমর হওয়া যায়।


৯ এপ্রিলের নামাজের সময় জানুন এক নজরে

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৯ ০৯:১১:৪০
৯ এপ্রিলের নামাজের সময় জানুন এক নজরে
ছবি: সংগৃহীত

আজ বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬ (২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ এবং ২০ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি) তারিখে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার জন্য দিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নির্ধারিত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দৈনন্দিন ইবাদত সঠিক সময়ে আদায়ের সুবিধার্থে এই সময়সূচি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

আজ ঢাকায় ফজরের নামাজ শুরু হবে ভোর ৪টা ২৭ মিনিটে। দিনের দ্বিতীয় নামাজ জোহর অনুষ্ঠিত হবে দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে। বিকেলের আসরের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪টা ২৯ মিনিটে, যা দিনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদতের সময়।

সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে মাগরিবের নামাজের সময় শুরু হবে ৬টা ২২ মিনিটে। এরপর রাতের এশার নামাজ আদায় করা যাবে ৭টা ৩৭ মিনিট থেকে।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, আজ সূর্যাস্ত ঘটবে সন্ধ্যা ৬টা ১৯ মিনিটে এবং সূর্যোদয় হয়েছে ভোর ৫টা ৪২ মিনিটে, যা নামাজের সময় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আগামীকাল শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ফজরের নামাজ শুরু হবে একই সময়, অর্থাৎ ভোর ৪টা ২৭ মিনিটে। সূর্যোদয় হবে ৫টা ৪১ মিনিটে।

এছাড়া দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরের জন্য নামাজের সময় কিছুটা পার্থক্য রয়েছে, যা ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে নির্ধারিত হয়। সময় সমন্বয়ের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামে ৫ মিনিট এবং সিলেটে ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে খুলনায় ৩ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট, রংপুরে ৮ মিনিট এবং বরিশালে ১ মিনিট যোগ করতে হবে।

ধর্মবিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক সময়ে নামাজ আদায় ইসলামের মৌলিক বিধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই নির্ভুল সময়সূচি জানা এবং সে অনুযায়ী ইবাদত সম্পন্ন করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

এই সময়সূচি ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর নির্ধারিত হিসাব অনুযায়ী প্রকাশ করা হয়েছে, যা সারাদেশে ব্যাপকভাবে অনুসরণ করা হয়।


বুধবার ৮ এপ্রিল ২০২৬: জেনে নিন আপনার জেলার নামাজের সঠিক সময়

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৮ ১০:২৪:২৩
বুধবার ৮ এপ্রিল ২০২৬: জেনে নিন আপনার জেলার নামাজের সঠিক সময়
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর নির্দেশ অনুযায়ী, ‘তোমরা ঠিক সেইভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (সহিহ বুখারি)। তাই সহিহ ও শুদ্ধভাবে ইবাদত সম্পন্ন করতে নামাজের সঠিক সময় জেনে নেওয়া প্রতিটি মুমিনের জন্য আবশ্যক।

আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নির্ধারিত সময়সূচি দেওয়া হলো

ফজর: ভোর ৪টা ২৮ মিনিট

জোহর: দুপুর ১২টা ০৫ মিনিট

আসর: বিকেল ৪টা ২৯ মিনিট

মাগরিব: সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট

এশা: রাত ৭টা ৩৫ মিনিট

ঢাকার সময়ের সঙ্গে অন্যান্য জেলার সময় সমন্বয়

সময় বিয়োগ করতে হবে

সিলেট: ৬ মিনিট

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সময় যোগ করতে হবে

রংপুর: ৮ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

খুলনা: ৩ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

পবিত্র নামাজ যথাসময়ে আদায় করা ঈমানি দায়িত্ব। আল্লাহ আমাদের সবাইকে জামাতের সাথে নামাজ আদায়ের তৌফিক দান করুন।

তথ্যসূত্র : ইসলামিক ফাউন্ডেশন


নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, সময় মেনে ইবাদত করুন

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ০৮:১৮:৫৪
নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, সময় মেনে ইবাদত করুন
ছবি: সংগৃহীত

আজ মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬। বাংলা তারিখ অনুযায়ী ২৪ চৈত্র ১৪৩২ এবং হিজরি বর্ষপঞ্জিতে ১৮ শাওয়াল ১৪৪৭। রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার মুসল্লিদের জন্য দিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নির্ধারিত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।

দিনের শুরুতে ফজরের নামাজ আদায়ের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে। এটি দিনের প্রথম ইবাদত, যা সূর্যোদয়ের আগে সম্পন্ন করা হয় এবং ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

মধ্যাহ্নে জোহরের নামাজের সময় শুরু হবে ১২টা ৫ মিনিটে। দুপুরের পরবর্তী সময়ে আসরের নামাজের সময় নির্ধারিত হয়েছে বিকেল ৪টা ২৯ মিনিটে, যা দিনের শেষ ভাগের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচিত।

সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে মাগরিবের নামাজের সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ২১ মিনিটে। এরপর রাতের ইশার নামাজ আদায়ের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে।

আজ ঢাকায় সূর্যোদয় হয়েছে ভোর ৫টা ৪৪ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটে।


৬ এপ্রিল ২০২৬: সোমবারের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময়

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১০:১৮:৪০
৬ এপ্রিল ২০২৬: সোমবারের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময়
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের প্রতিটি বিধান ও আমলের মাঝেই লুকিয়ে আছে গভীর যৌক্তিকতা ও সৌন্দর্য। মহান রাব্বুল আলামিন মানুষের জন্য এমন কোনো আমল নির্ধারণ করেননি, যা পালন করা অসম্ভব বা অত্যন্ত কষ্টকর। ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে নামাজ ও রোজা ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জন্যই ফরজ। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নতের পাশাপাশি ইসলামে কিছু নফল নামাজের বিধানও রয়েছে, যা মুমিনের আত্মিক প্রশান্তি বাড়ায়। তবে জীবনের শত ব্যস্ততার মাঝেও অন্তত ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজটুকু আদায় করে নেওয়া প্রত্যেক মুসলমানের নৈতিক দায়িত্ব।

আজ সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ইংরেজি, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বাংলা এবং ১৭ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি। রাজধানী ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি দেওয়া হলো

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা)

আজ জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২:০৬ মিনিটে।

আসরের নামাজ শুরু হবে বিকেল ৪:৩০ মিনিটে।

মাগরিবের আজান ও নামাজের সময় সন্ধ্যা ৬:১৪ মিনিটে।

ইশার ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৭:৩০ মিনিটে।

আগামীকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৪:২৯ মিনিটে।

বিভাগীয় শহর অনুযায়ী সময় পরিবর্তন

ঢাকার সময়ের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলার সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

যারা চট্টগ্রামের বাসিন্দা, তাদের ঢাকার সময় থেকে ৫ মিনিট বিয়োগ করতে হবে।

সিলেটের ক্ষেত্রে ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে।

অন্যদিকে, ঢাকার সময়ের সঙ্গে খুলনার বাসিন্দাদের ৩ মিনিট, রাজশাহীর বাসিন্দাদের ৭ মিনিট, রংপুরের বাসিন্দাদের ৮ মিনিট এবং বরিশালের বাসিন্দাদের ১ মিনিট যোগ করে নিজ নিজ এলাকার সঠিক সময় জেনে নিতে হবে।

/আশিক


আজকের নামাজের সময়, মুসল্লিদের জন্য জরুরি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ০৮:৪৭:৫০
আজকের নামাজের সময়, মুসল্লিদের জন্য জরুরি
ছবি: সংগৃহীত

রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, যা বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ২২ চৈত্র ১৪৩২ এবং হিজরি বর্ষপঞ্জিতে ১৬ শাওয়াল ১৪৪৭ এই দিনে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকার মুসল্লিদের জন্য নির্ধারিত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।

ধর্মীয় অনুশীলনের সুবিধার্থে নির্ভুল সময় জেনে নামাজ আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিবেচনায় দিনের বিভিন্ন ওয়াক্তের নামাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে নির্দিষ্ট সূর্যগত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে।

আজকের সময়সূচি অনুযায়ী, জোহরের নামাজ শুরু হবে দুপুর ১২টা ০২ মিনিটে। বিকেলের আসরের নামাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে। সূর্যাস্তের পরপরই মাগরিবের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যা ৬টা ১৭ মিনিটে এবং রাতের শেষ ফরজ নামাজ এশা শুরু হবে রাত ৭টা ৩২ মিনিটে।

এছাড়া আগামী সোমবারের (৬ এপ্রিল) ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে ভোর ৪টা ২৯ মিনিটে, যা আগাম প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


জেনে নিন আজকের নামাজের সঠিক সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৪ ০৯:৪৬:২৯
জেনে নিন আজকের নামাজের সঠিক সময়সূচি

ইসলামের প্রতিটি বিধানের মাঝেই আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও শৃঙ্খলা নিহিত রয়েছে। দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝেও সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব। আজ শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬ ইংরেজি (১৫ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি) তারিখের জন্য ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি হলো

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা)

জোহর: ১২:০৬ মিনিট

আসর: ৪:২৯ মিনিট

মাগরিব: ৬:১৯ মিনিট

এশা: ৭:৩৪ মিনিট

ফজর (আগামীকাল ৫ এপ্রিল): ৪:৩০ মিনিট

বিভাগীয় শহর অনুযায়ী সময়ের পার্থক্য

সময় বিয়োগ করতে হবে

চট্টগ্রাম: -০৫ মিনিট

সিলেট: -০৬ মিনিট

সময় যোগ করতে হবে

খুলনা: +০৩ মিনিট

রাজশাহী: +০৭ মিনিট

রংপুর: +০৮ মিনিট

বরিশাল: +০১ মিনিট

/আশিক


৩ এপ্রিল: আজকের নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৩ ০৯:১৪:৩৮
৩ এপ্রিল: আজকের নামাজের সময়সূচি
ছবি: সংগৃহীত

আজ শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী ২০ চৈত্র ১৪৩২ এবং হিজরি বর্ষপঞ্জিতে ১৪ শাওয়াল ১৪৪৭। এই দিনে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় নামাজের সময়সূচি মুসল্লিদের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে, বিশেষ করে জুমার দিনের কারণে।

আজ জুমার নামাজের সময় শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৬ মিনিটে। জুমার দিন হওয়ায় মুসল্লিদের জন্য এটি সপ্তাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জামাত, যেখানে মসজিদগুলোতে ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

এরপর বিকাল ৪টা ২৯ মিনিটে শুরু হবে আসরের নামাজের সময়। দিনের শেষভাগে এই নামাজ আদায় করা হয়, যা ইসলামের দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সন্ধ্যা ৬টা ১৯ মিনিটে মাগরিবের সময় শুরু হবে, যা সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই আদায় করতে হয়। একই সময়ে আজ ঢাকায় সূর্যাস্তও সংঘটিত হবে, যা নামাজের সময় নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সূচক।

এরপর রাত ৭টা ৩৪ মিনিটে এশার নামাজের সময় শুরু হবে। দিনের শেষ ওয়াক্ত নামাজ হিসেবে এটি মুসলমানদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

আগামী দিনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জানা গেছে, শনিবার ভোরে ফজরের নামাজ শুরু হবে ৪টা ৩৪ মিনিটে। ফজরের সময়সূচি নির্ধারণে ভোরের প্রথম আলো একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হয়।

এছাড়া আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ৫৪ মিনিটে, যা দিনের সূচনা নির্দেশ করে এবং নামাজের সময়সূচির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নামাজ আদায় করা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান। তাই প্রতিদিনের সঠিক সময়সূচি জানা এবং তা অনুসরণ করা মুসল্লিদের জন্য অপরিহার্য।

-সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।


মুমিনের সেরা হাতিয়ার! এই এক শব্দেই ভেঙে পড়ে শয়তানের সব ষড়যন্ত্র

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১২:১৮:১০
মুমিনের সেরা হাতিয়ার! এই এক শব্দেই ভেঙে পড়ে শয়তানের সব ষড়যন্ত্র
ছবি : সংগৃহীত

‘আল্লাহু আকবার’—অত্যন্ত বরকতপূর্ণ ও শক্তিশালী এই ধ্বনি মুমিনের হৃদয়ে ঈমানি শক্তির সঞ্চার করে। মহান আল্লাহর বড়ত্ব ও মহিমা ঘোষণার এই অমিয় বাণী কেবল একটি বাক্য নয়, বরং আল্লাহর বিশেষ রহমত লাভের অন্যতম মাধ্যম। পবিত্র কোরআনের সুরা বনি ইসরাঈলের ১১১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে তাঁর বড়ত্ব ঘোষণা করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই ‘তাকবির’ মুমিনের অন্তরে তাকওয়া, সাহস ও প্রশান্তি জাগ্রত করে এবং যাবতীয় ভয় ও হতাশা দূর করে দেয়।

‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনির একটি বিশেষ প্রভাব হলো এটি শয়তানকে অত্যন্ত দুর্বল ও অসহায় করে তোলে। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, যখন মুয়াজ্জিন আজান দিতে শুরু করেন, তখন শয়তান সেই পবিত্র ধ্বনি সহ্য করতে না পেরে দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পালিয়ে যায়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত বুখারি শরিফের একটি হাদিসে বলা হয়েছে, আজানের শব্দ যাতে কানে না যায়, সেজন্য শয়তান বায়ু ত্যাগ করতে করতে বহুদূরে পালিয়ে যায়। আজান শেষ হলে সে আবার ফিরে আসে, কিন্তু ইকামতের সময় আবারও দূরে সরে যায়। মানুষের ইবাদতে বিঘ্ন ঘটানো এবং কুমন্ত্রণা দেওয়াই যার কাজ, আল্লাহর এই মহিমান্বিত ধ্বনির সামনে সে চূড়ান্ত লাঞ্ছনা ও পরাজয় বরণ করে।

আজানের এই ধ্বনি কেবল শয়তানকেই বিতাড়িত করে না, বরং পুরো পরিবেশকে পবিত্র করে এবং গাফেল হৃদয়কে আল্লাহর স্মরণে জাগিয়ে তোলে। যে সমাজে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত আজান ধ্বনিত হয়, সেখানে শয়তানের কুপ্রভাব তুলনামূলক অনেক কম থাকে। ‘আল্লাহু আকবার’ মুমিনকে মনে করিয়ে দেয় যে, এই মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও মহিমান্বিত সত্তা একমাত্র আল্লাহ। ফলে মানুষের অন্তর আল্লাহমুখী হয় এবং শয়তানের সব ষড়যন্ত্র ও কুমন্ত্রণা বালুর বাঁধের মতো ভেঙে পড়ে। এটি যেন মুমিনের জীবনের এমন এক আধ্যাত্মিক বর্ম, যার সামনে অন্ধকার ও অশুভ শক্তি সর্বদা পরাজিত।

/আশিক


আজকের নামাজের সময়সূচি: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আপডেট

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ০৯:২৩:৪৬
আজকের নামাজের সময়সূচি: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আপডেট

ইসলামের প্রতিটি বিধান ও আমলের মাঝেই লুকিয়ে আছে গভীর যৌক্তিকতা এবং অনন্য সৌন্দর্য। মহান আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদের জন্য এমন কোনো আমল দেননি যা পালন করা অসম্ভব বা অত্যন্ত কষ্টকর। ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে নামাজ ও রোজা ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জন্যই ফরজ ইবাদত। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত নামাজের বাইরেও নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ রয়েছে। তবে জীবনের শত ব্যস্ততার মাঝেও অন্তত ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজটুকু আদায় করে নেওয়া প্রত্যেক মুমিনের একান্ত কর্তব্য।

আজ বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬ ইংরেজি, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বাংলা, ১৩ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি। ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি হলো

আজকের নামাজের সময়সূচি

জোহর: ১২.০৬ মিনিট

আসর: ৪.২৯ মিনিট

মাগরিব: ৬.১৭ মিনিট

এশা: ৭.৩২ মিনিট

ফজর (৩ এপ্রিল): ৪.৩৫ মিনিট

ঢাকার সময়ের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলার সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। নিচের জেলাগুলোর সময়ের সাথে ঢাকার সময় যোগ বা বিয়োগ করে আপনার এলাকার সঠিক সময় জেনে নিন

বিয়োগ করতে হবে

চট্টগ্রাম ৫ মিনিট এবং সিলেট ৬ মিনিট।

যোগ করতে হবে

খুলনা ৩ মিনিট, রাজশাহী ৭ মিনিট, রংপুর ৮ মিনিট এবং বরিশাল ১ মিনিট।

/আশিক

পাঠকের মতামত: