ডাকসুতে শিবিরের নিরঙ্কুশ জয়ের পেছনে যত কৌশল

ক্যাম্পাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ সেপ্টেম্বর ১১ ১০:৫৪:৩৬
ডাকসুতে শিবিরের নিরঙ্কুশ জয়ের পেছনে যত কৌশল
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর পর অনুষ্ঠিত হলো কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। স্বাধীনতার পর থেকে ডাকসু বাংলাদেশের বহু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থেকেছে। এবারের নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ নিরঙ্কুশ জয় অর্জন করেছে, যা শিক্ষাঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও সাবেক ডাকসু নেতাদের মতে, সুসংগঠিত প্রচারণা, দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি এবং শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রমের সুবাদেই ছাত্রশিবির অভাবনীয় এই সাফল্য অর্জন করেছে। তাদের ধারণা, প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্র সংগঠনগুলো বিশেষ করে ছাত্রদল ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ সুসংগঠিত প্রচেষ্টা চালাতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের কাছে তাদের কার্যক্রম ও কর্মপরিকল্পনা প্রত্যাশিতভাবে পৌঁছায়নি।

অন্যদিকে ছাত্র ইউনিয়নসহ বামপন্থী সংগঠন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারেনি। এর ফলে শিবিরের প্রার্থীরা তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলেন।

ছাত্রদলের ভরাডুবি: অপ্রস্তুত ও সমন্বয়হীনতা

ছাত্রদলের পরাজয় ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত। বিএনপির নেতৃত্বও এই ফলাফলে হতবাক। দলীয় নেতাদের ভাষ্য, প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ দীর্ঘ সময় ধরে সংগঠিতভাবে কাজ করলেও ছাত্রদলের কার্যক্রম ছিল ছড়ানো-ছিটানো। নির্বাচন ঘিরে কার্যকর কোনো পাল্টা কৌশল গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয় সংগঠনটি।

ডাকসুর তফসিল ঘোষণার পর বেশ দেরিতে প্যানেল ঘোষণা করায় ছাত্রদল ‘ডোর টু ডোর ক্যাম্পেইন’-এর মতো কার্যকর প্রচারণা চালাতে পারেনি। শিক্ষক, নারী ভোটার, সংবাদমাধ্যম কিংবা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করার ক্ষেত্রেও তাদের উদ্যোগ ছিল অত্যন্ত দুর্বল। উপরন্তু আত্মবিশ্বাসের বাড়াবাড়ি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব ছাত্রদলের অবস্থানকে আরও নাজুক করেছে।

অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমানের বিশ্লেষণ

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মনে করেন, ছাত্রশিবির প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অনেক বেশি সংগঠিত ছিল। ৫ আগস্টের আন্দোলনের পর থেকেই তারা ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়। অন্য সংগঠনগুলোও কাজ করেছে, তবে শিবিরের মতো দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত কৌশল তারা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্ম অতীতের সাফল্যের চেয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে বেশি প্রাধান্য দেয়। শিবির এই বাস্তবতাকে কাজে লাগাতে পেরেছে। তাদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এবং কর্মীবাহিনী সর্বশক্তি দিয়ে ভোটের মাঠে সক্রিয় থেকেছে।

ছাত্রশিবিরের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের এক অধ্যাপক মনে করেন, ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক আন্দোলনের মতো করে কাজ করেছে। ইসলামী ছাত্রী সংস্থার মাধ্যমে নারীদের মধ্যে আলাদা সংগঠন গড়ে তুলেছে। অনেক শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজ পর্যায় থেকেই শিবির ও ইসলামি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তারা সেই পরিবেশ খুঁজে পেয়েছেন এবং সংগঠনমুখী হয়েছেন।

শিবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহযোগিতা, কোচিং এবং পড়াশোনার নানা সহায়তা প্রদান করে, যা অন্যান্য সংগঠন খুব একটা করে না। ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতি আস্থা রাখছে এবং ভোটে সমর্থন দিচ্ছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

ডাকসুর ইতিহাসে এক সময় জাসদ-ছাত্রলীগ জোটও শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছিল। সাবেক জিএস ডা. মুস্তাক হোসেন বলেন, এবারের নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের বিপরীতে কোনো আদর্শিকভাবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ছিল না। যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে, তারা অতীতে অনেক সময় শিবিরের সঙ্গে একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছে। তাই ভোটাররা শিবিরকেই শ্রেয়তর হিসেবে বিবেচনা করেছে।

বিএনপির ভেতরের প্রতিক্রিয়া

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ডাকসুর মতো বড় মাপের পরাজয়কে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। প্রকাশ্যে তারা নীরব থাকলেও পর্দার অন্তরালে কারণ অনুসন্ধান চলছে। নেতাকর্মীদের স্বীকারোক্তি, ছাত্রদল সংগঠিত হওয়ার পরিবর্তে হঠাৎ করেই নির্বাচনি প্রস্তুতি শুরু করে। এতে বিভিন্ন গ্রুপকে একত্রে আনা সম্ভব হয়নি।

কেন্দ্রীয় সহসভাপতি খোরশেদ আলম সোহেলের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো জামায়াত-শিবির সমর্থিত হওয়ায় তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা একচেটিয়া সুবিধা পেয়েছে। কারচুপির অভিযোগ তুললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আবার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে শিবিরের গোপন আঁতাতও নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন তিনি।

-রফিক


ঢাবি ছাত্রদলের আলটিমেটামে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৫ ১৭:২২:০৮
ঢাবি ছাত্রদলের আলটিমেটামে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে ‘মিথ্যা প্রোপাগান্ডা’ ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আজ রাত ৮টার মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় অভিযুক্ত ডাকসু প্রতিনিধি এবং প্রশাসনের নির্লিপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সংগঠনটি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে। ছাত্রদলের অভিযোগ, গত সেপ্টেম্বরের বিতর্কিত ডাকসু নির্বাচনের পর থেকে একটি বিশেষ সিন্ডিকেট ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি ও দোকান উচ্ছেদের রাজত্ব কায়েম করেছে।

স্মারকলিপিতে ছাত্রদল দাবি করেছে যে, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা এবং কতিপয় শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় নির্দিষ্ট কিছু ডাকসু প্রতিনিধি একটি শক্তিশালী চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট গঠন করেছেন। এই সিন্ডিকেটই মূলত ক্যাম্পাসে দোকান উচ্ছেদ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হয়রানির সাথে সরাসরি জড়িত। ছাত্রদলের অভিযোগ, এই চক্রটি নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে ভুয়া অভিযোগ ছড়িয়ে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় ছাত্রদল তাদের স্মারকলিপিতে দুই দফা দাবি উত্থাপন করেছে। প্রথমত, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ক্যাম্পাসে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও দোকানপাট পরিচালনার সঠিক নীতিমালা সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে এবং তা সর্বসাধারণের কাছে প্রচার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, চাঁদাবাজি এবং দোকান ভাঙচুরের সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত সকল ডাকসু প্রতিনিধি বা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন। তিনি দাবি করেন যে, আসন্ন নির্বাচন এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির পক্ষে যে দেশব্যাপী গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, তাকে ম্লান করতেই পরিকল্পিতভাবে ছাত্রদলকে চাঁদাবাজির তকমা দেওয়া হচ্ছে। শিপন বলেন, দীর্ঘদিনের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে সামনে এনে এই প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের চোখে ছাত্রদলকে ছোট করা যায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানান যেন আজ রাতের মধ্যেই চাঁদাবাজির প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিরা যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতেই হবে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে এক ধরণের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে নাহিদুজ্জামান শিপন আরও বলেন যে, যদি এই ধরণের অসামাজিক বা অপরাধমূলক কাজের সাথে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায়, তবে সংগঠন নিজ উদ্যোগেই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি মনে করেন, একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে হলে এই ধরণের ‘সিন্ডিকেট সংস্কৃতি’ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে মুক্ত করা জরুরি। ছাত্রদলের এই কঠোর অবস্থান এবং আলটিমেটামের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। ক্যাম্পাস জুড়ে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের পরবর্তী বার্তার অপেক্ষায় রয়েছে।


জকসু নির্বাচনে শিবিরের জয়জয়কার 

ক্যাম্পাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ০৯:২৬:১৬
জকসু নির্বাচনে শিবিরের জয়জয়কার 
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল। বুধবার দিবাগত রাত ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ৩৮টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফলাফলে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে রিয়াজুল ইসলাম ৫ হাজার ৫৫৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট। ভিপি পদে জয়ের ব্যবধান ৮৭০ ভোট হলেও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন শিবিরের আব্দুল আলীম আরিফ। তিনি ৫ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের খাদিজাতুল কুবরাকে (২,২২৩ ভোট) ৩ হাজার ২৫২ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।

সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদেও শিবিরের মাসুদ রানা ৫ হাজার ২০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। কেন্দ্রীয় সংসদের ১৮টি সম্পাদকীয় ও সদস্য পদের মধ্যে অধিকাংশ পদেই শিবিরের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। ১১টি সম্পাদকীয় পদের ৮টিতেই জয় পেয়েছে ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল, যেখানে ছাত্রদল পেয়েছে মাত্র ৩টি পদ (সাহিত্য ও সংস্কৃতি, পাঠাগার ও সেমিনার এবং অন্য একটি)। সাতজন সদস্য পদের মধ্যে ৪টিতে শিবির, ২টিতে ছাত্রদল এবং একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক মো. নূরনবী, শিক্ষা ও গবেষণা ইব্রাহিম খলিল এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে নওশীন নওয়ার জয়া বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।

একই দিনে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল ‘নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী’ হল সংসদেও শিবিরের প্যানেল পূর্ণ জয় পেয়েছে। হলের ভিপি জান্নাতুল উম্মি তারিন, জিএস সুমাইয়া তাবাসসুম এবং এজিএস রেদওয়ানা খাওলাসহ শীর্ষ পদগুলো এখন শিবিরের দখলে। তবে নির্বাচনের এক চমকপ্রদ ও বিরল ঘটনা ঘটেছে সংগীত বিভাগে, যেখানে জিএস ও এজিএস পদে শিবিরের প্রার্থীরা একটি ভোটও পাননি। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) কোনো প্রকার সহিংসতা ছাড়াই জবি ক্যাম্পাসে এই ঐতিহাসিক ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কেন্দ্রীয় সংসদে ৬৫ শতাংশ এবং হল সংসদে ৭৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। ২১ বছরের দীর্ঘ বিরতি শেষে হওয়া এই নির্বাচন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।


২৬ কেন্দ্রের ফলে পাশা উল্টে গেল: জকসু নির্বাচনের নাটকীয় মোড়

ক্যাম্পাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ২০:২৬:০২
২৬ কেন্দ্রের ফলে পাশা উল্টে গেল: জকসু নির্বাচনের নাটকীয় মোড়
ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল (বামে) ও ভিপি প্রার্থী রাকিব। ছবি : সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ২৬টি কেন্দ্রের ফলাফল শেষে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত প্রার্থী এ কে এম রাকিবকে পেছনে ফেলে ৩৫১ ভোটে এগিয়ে গেছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম। প্রথম ২২ কেন্দ্রের ফলাফলে রাকিব এগিয়ে থাকলেও পরবর্তী কেন্দ্রগুলোর ভোটে ব্যবধান ঘুচিয়ে লিড নিয়েছেন রিয়াজুল। রিয়াজুল ইসলাম এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৬৪ ভোট পেয়েছেন, যেখানে রাকিবের সংগ্রহ ৩ হাজার ১৩ ভোট।

তবে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে শুরু থেকেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল। ২৬ কেন্দ্রের সম্মিলিত হিসাবে জিএস পদে শিবিরের আব্দুল আলিম আরিফ ৩ হাজার ৪৮৯ ভোট পেয়ে প্রায় ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছেন; যেখানে ছাত্রদলের খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৩৭৯ ভোট। এজিএস পদেও শিবিরের মাসুদ রানা ৩ হাজার ১০৬ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন এবং ছাত্রদলের তানজিল পেয়েছেন ২ হাজার ৬৭৭ ভোট।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় সংসদে মোট ৬৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। যদিও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভোট গণনা মাঝে সাড়ে তিন ঘণ্টা বন্ধ ছিল, তবে বর্তমানে তা দ্রুতগতিতে চলছে। ৩৯টি কেন্দ্রের মধ্যে বাকি ১৩টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করলেই পরিষ্কার হবে কে বসছেন জকসুর শীর্ষ আসনে। দীর্ঘ দুই দশক পর এই নির্বাচনকে ঘিরে পুরো জবি ক্যাম্পাসে এখন উৎসব আর উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে।


ভিপি পদে রিয়াজুল বনাম রাকিব: জকসু নির্বাচনের ২০ কেন্দ্রের ফল এক নজরে

ক্যাম্পাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ১৯:০৭:২২
ভিপি পদে রিয়াজুল বনাম রাকিব: জকসু নির্বাচনের ২০ কেন্দ্রের ফল এক নজরে
ছবি : সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ২০টি কেন্দ্রের ফলাফল শেষে ভিপি পদে অভাবনীয় লড়াই শুরু হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল পর্যন্ত প্রকাশিত ২০টি কেন্দ্রের ফলাফলের সমন্বিত হিসাবে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের এ কে এম রাকিব সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৪০৪ ভোট, আর তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ২ হাজার ৩১৬ ভোট। ভিপি পদে এই দুই প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৮৮ ভোটের ব্যবধান পুরো নির্বাচনকে এক নাটকীয় মোড় দিয়েছে।

তবে ভিপি পদে লড়াই চললেও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে শিবিরের প্রার্থীরা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। ২০ কেন্দ্রের ফলে জিএস পদে শিবিরের আব্দুল আলিম আরিফ ২ হাজার ৪৮৭ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন, যেখানে ছাত্রদলের খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ১ হাজার ১০৪ ভোট। এজিএস পদেও শিবিরের মাসুদ রানা ২ হাজার ২৩৪ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন এবং ছাত্রদলের আতিকুল ইসলাম তানজিল পেয়েছেন ২ হাজার ৪১ ভোট। ২০টি কেন্দ্রের মধ্যে সঙ্গীত বিভাগ কেন্দ্রটি ছিল সবথেকে আলোচিত, যেখানে ছাত্রদলের রাকিব ১২৫ ভোট পেলেও শিবিরের রিয়াজুল পেয়েছেন মাত্র ৪ ভোট এবং জিএস-এজিএস পদে শিবিরের প্রার্থীরা একটি ভোটও পাননি।

এখনো ১৯টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা বাকি রয়েছে। ২০টি কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ ও টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বাকি ১৯ কেন্দ্রের ভোট গণনা দ্রুত শেষ করে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ২১ বছরের দীর্ঘ বিরতি শেষে হওয়া এই নির্বাচনকে ঘিরে পুরো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চোখ এখন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দিকে।


৬ বিভাগের ফলাফলে ভিপি পদে মাত্র ৫৭ ভোটের ব্যবধান: টানটান উত্তেজনা জবিতে

ক্যাম্পাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ১১:০৩:৫৬
৬ বিভাগের ফলাফলে ভিপি পদে মাত্র ৫৭ ভোটের ব্যবধান: টানটান উত্তেজনা জবিতে
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ২১ বছর পর অনুষ্ঠিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা শুরু হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে প্রথম দফায় ৪টি এবং পরবর্তীতে আরও ২টিসহ মোট ৬টি বিভাগের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম এগিয়ে থাকলেও, ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের প্রার্থী এ কে এম রাকিবের সাথে তার ব্যবধান খুবই সামান্য।

শীর্ষ তিন পদের সর্বশেষ অবস্থান (৬ বিভাগের সম্মিলিত হিসাব)

অদম্য জবিয়ান প্যানেলের রিয়াজুল ইসলাম ৫৮৫ ভোট পেয়ে শীর্ষে রয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ৫২৮ ভোট।

এই পদে অদম্য জবিয়ান প্যানেলের আব্দুল আলীম আরিফ ৫৭৭ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ২৭৭ ভোট।

মাসুদ রানা (অদম্য জবিয়ান) ৫৫৫ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন, যেখানে আতিকুল ইসলাম তানজিল (ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান) পেয়েছেন ৪১৬ ভোট।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৬৬ শতাংশ। ওএমআর মেশিনে ভোট গণনার সময় তথ্যের গরমিল পাওয়ায় মঙ্গলবার রাত ৯টার পর দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা গণনা বন্ধ থাকে। যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে গভীর রাতে পুনরায় গণনা শুরু হয় এবং সকালে পর্যায়ক্রমে ফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ৩৯টি কেন্দ্রের মধ্যে বাকি বিভাগগুলোর ফলও দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। দুই দশকের বিরতি ভেঙে হওয়া এই নির্বাচনকে ঘিরে পুরো ক্যাম্পাসে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।


জকসু নির্বাচনের প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ, ভিপি-জিএস পদে কে কোথায়?

ক্যাম্পাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ০৮:৫৬:৪৭
জকসু নির্বাচনের প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ, ভিপি-জিএস পদে কে কোথায়?
জকসু নির্বাচনের ফলাফল কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ঘোষণা করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোট গণনা শেষে আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ৭টার দিকে প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ৩৯টি কেন্দ্রের মধ্যে প্রথম ৪টি বিভাগের প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) — এই তিনটি শীর্ষ পদেই ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত 'অদম্য জবিয়ান ঐক্য' প্যানেলের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভিপি পদে অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম ৪২৮ ভোট পেয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত 'ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান' প্যানেলের প্রার্থী এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ৩৯৫ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের আব্দুল আলীম আরিফ। তিনি পেয়েছেন ৪১৯ ভোট, যেখানে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ২০৬ ভোট। এছাড়া সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদেও একই প্যানেলের মাসুদ রানা ৪০৮ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ওএমআর পদ্ধতিতে জকসুর এই ঐতিহাসিক ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কারিগরি কিছু ত্রুটির কারণে মঙ্গলবার রাতে গণনা সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও পরবর্তীতে তা পুনরায় শুরু হয়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বাকি বিভাগগুলোর ভোট গণনা এখনো চলমান রয়েছে এবং ফলাফল পাওয়া মাত্রই তা পর্যায়ক্রমে ঘোষণা করা হবে। ২১ বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে ঘিরে পুরো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এখন টানটান উত্তেজনা ও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।


ভিপি পদে লড়াই করছেন ১২ জন: জকসু নির্বাচনে কার গলায় উঠবে জয়ের মালা?

ক্যাম্পাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ০৯:৫৯:৪৬
ভিপি পদে লড়াই করছেন ১২ জন: জকসু নির্বাচনে কার গলায় উঠবে জয়ের মালা?
আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকেছবি: প্রথম আলো

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দুই দশক পর এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো আজ। দীর্ঘ ২১ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পূর্বনির্ধারিত তারিখ পিছিয়ে আজ নতুন করে এই মহাউৎসবের দিন ধার্য করা হয়েছিল। সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯টি কেন্দ্রের ১৭৮টি বুথে ১৬ হাজার ৬৬৫ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।

এবারের নির্বাচনে একজন ভোটারকে ২১টি পদের জন্য ভোট দিতে হচ্ছে। আধুনিকতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে ওএমআর ফরমে এবং গণনার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ মেশিন। কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে বসানো হয়েছে ৬টি গণনা মেশিন এবং ফলাফল সরাসরি দেখার জন্য লাগানো হয়েছে তিনটি বড় এলইডি স্ক্রিন। নির্বাচন কমিশনার আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, ওএমআর মেশিনে অসংগতির পরিমাণ শূন্য শতাংশ এবং নির্বাচন নিয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্

জকসু নির্বাচনে কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট ৩৪টি পদের বিপরীতে লড়াই করছেন ১৯০ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ভিপি পদে ১২ জন এবং জিএস পদে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। লড়াই হচ্ছে মূলত চারটি প্যানেলের মধ্যে—ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদের ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, বাম জোটের ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’। ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের জিএস প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা নারীদের অধিকার আদায়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রক্টর অধ্যাপক তাজাম্মুল হকের তত্ত্বাবধানে নেওয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট সদস্যদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের কেবল ১ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে এবং ভোট শেষে ২ ও ৩ নম্বর গেট দিয়ে বের হতে বলা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর গণতান্ত্রিক এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পেরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।


জবিতে জকসু নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা 

ক্যাম্পাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ৩০ ১১:১৬:২৫
জবিতে জকসু নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা 
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন স্থগিত করার আকস্মিক ঘোষণায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ মিছিলে নামেন। শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কার্যালয় ও বাসভবন ঘেরাও করে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ ও ‘স্বৈরাচারী’ বলে আখ্যায়িত করেন। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে ‘অবৈধ সিদ্ধান্ত, মানি না মানবো না’ এবং ‘প্রশাসনের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ স্লোগানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় জকসু নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক কিছু জটিলতার কারণ দেখিয়ে এই নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, প্রশাসন কৌশলে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বহীন করার জন্যই এই তালবাহানা শুরু করেছে। তারা জানান, জকসু নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না এবং উপাচার্য ভবন থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করবেন না।

বিক্ষোভ চলাকালীন জবি ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে জকসু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই, অথচ প্রশাসন বারবার এটি পেছানোর চেষ্টা করছে। মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। উপাচার্য ড. রেজাউল করিম শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও আন্দোলনকারীরা নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ না পাওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবেন না বলে আল্টিমেটাম দিয়েছেন।


দিল্লির তাবেদারি ও ফ্যাসিবাদের ঠাঁই বাংলাদেশে হবে না: ডাকসু ভিপি

ক্যাম্পাস ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৮ ১১:২৭:৩৫
দিল্লির তাবেদারি ও ফ্যাসিবাদের ঠাঁই বাংলাদেশে হবে না: ডাকসু ভিপি
ছবি : সংগৃহীত

শহীদ শরিফ ওসমান হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না এবং এই স্বাধীন বাংলাদেশে তাঁর খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে—এমনই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হলে শহীদ হাদির স্মরণে নির্মিত একটি গ্রাফিতি উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ভিপি কায়েম অভিযোগ করেন যে, হামলার ১৬ দিন পার হয়ে গেলেও সরকার এখন পর্যন্ত মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

অনুষ্ঠানে আবু সাদিক কায়েম প্রশ্ন তোলেন যে, হামলার মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে খুনি কীভাবে দেশের সব গোয়েন্দা সংস্থাকে ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পালিয়ে গেল? তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচার করা না হয়, তবে আমরা ধরে নেবো এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাষ্ট্রের একটি বিশেষ অংশ জড়িত রয়েছে।’ তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, ওসমান হাদি তাঁর জীবন দিয়ে ‘জুলাই বিপ্লব’ রক্ষা করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা তিনি রক্ষা করেছেন। এখন সেই শহীদের বিচার নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ওসমান হাদির লড়াই ছিল ইনসাফ কায়েম এবং আধিপত্যবাদ বিরোধী লড়াই। এই দীর্ঘ লড়াইকে সফল করতে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ, মাস্টারদা সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম এবং হল সংসদের ভিপি আজিজুল হকসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বক্তারা সম্মিলিতভাবে ঘোষণা করেন যে, বাংলাদেশে আর কোনো ‘দিল্লির তাবেদারি’ বা ফ্যাসিবাদের জায়গা হবে না। যারা বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করবে, ছাত্র সমাজ তাদের সমুচিত জবাব দেবে। শহীদ ওসমান হাদির স্মৃতি ধরে রাখতে হলের দেওয়ালে অঙ্কিত এই গ্রাফিতি আগামী দিনের বিপ্লবীদের অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মন্তব্য করেন হল প্রাধ্যক্ষ। সভা শেষে শিক্ষার্থীরা হাদি হত্যার দ্রুত বিচার ও দোষীদের দেশে ফিরিয়ে এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন।

পাঠকের মতামত: