বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে রূপরেখা ঘোষণা করেছে, সেই নির্বাচনে তিনি সবার সক্রিয় সমর্থন ও সহযোগিতা চান। বিএনপি ঘোষিত সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে দল, মত, ধর্ম-বর্ণ, গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবার জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। শনিবার (৩০ আগস্ট) ময়মনসিংহ নগরীর তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জাতীয় প্রতিনিধি সমাবেশ-২০২৫’ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর এই সমাবেশ যেন পাহাড় বা সমতলে বসবাসকারীদের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দিকনির্দেশক হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, “আপনাদের কাছে দেওয়া আমাদের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সমর্থন ও সহযোগিতা চাই।” তিনি গারো, হাজং, ক্ষত্রিয়, সাঁওতাল, মালো, খাসিয়া ও মনিপুরিসহ সমতলের সকল জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান।
তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার আমলে ময়মনসিংহ অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর আলোচনার স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৭৬-৭৭ সালে এসব ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যরা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনার মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন দাবি সফল করেছিলেন। সেই সময় জিয়াউর রহমান বিরিশিরি কালচারাল একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনও গঠন করেন। তিনি আরও জানান, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্র হোস্টেল, উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা এবং সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগও জিয়াউর রহমান করে দিয়েছিলেন। তার মতে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর একটি নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, যারা বাংলাদেশের বৈধ নাগরিক, তাদের প্রথম ও প্রধান পরিচয় হলো ‘বাংলাদেশি’। তিনি বলেন, “বিএনপি বিশ্বাস করে বাংলাদেশ শুধু বাঙালির নয়, এটি ভিন্ন ভাষাভাষী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বৈধভাবে বসবাসকারী সবার।” একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “সকলের অধিকার সমুন্নত রাখার পাশাপাশি ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মকে সমুন্নত রাখতে জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কমিটিতে যোগ্য নেতাদের বিএনপিতে স্থান দেওয়া হবে।” এছাড়াও, শিক্ষা ও সংস্কৃতির জন্য বিভিন্ন ট্রাস্ট গঠন এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক লোনের ব্যবস্থাসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, “ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যদের জন্য প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন কাগজপত্র সংগ্রহ করা অত্যন্ত জটিল। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের প্রক্রিয়া কীভাবে আরও সহজ করা যায়, সে ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করবে।”
তিনি বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফার ১৬তম দফার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, “দল, মত, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ে ও সমতলে বসবাসকারী সকল জাতিগোষ্ঠীর সব নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার এবং সম্পদের নিরাপত্তা বিধানে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “ভয়াবহ ও দানবীয় শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। এখন প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।” তিনি বলেন, “ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং জাতিগোষ্ঠীর কাউকে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলা যাবে না। আমরা সবাই বাংলাদেশি। তারেক রহমানের দেওয়া ৩১ দফায় বাংলাদেশের সকল শ্রেণি-পেশা ও ধর্ম-বর্ণের মানুষের কথা বলা হয়েছে। আমরা সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছি।”
এই সমাবেশটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মৃগেন হাগিদগের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শুরুর আগে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর একদল তরুণ শিল্পী মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৃত্য পরিবেশন করেন।
/আশিক