বিশ্ব ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হচ্ছে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন, যা আন্তর্জাতিক চলাচলকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করে তুলছে।
ভিসা-মুক্ত ভ্রমণ ব্যবস্থার অন্যতম সুবিধা হলো, ভ্রমণকারীদের কোনো ধরনের ভিসা আবেদন বা ফি প্রদানের প্রয়োজন হয় না। এক্ষেত্রে বৈধ পাসপোর্টই ভ্রমণের জন্য প্রধান এবং একমাত্র প্রয়োজনীয় নথি হিসেবে বিবেচিত হয়, যা সময় ও খরচ উভয়ই সাশ্রয় করে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি নাগরিকরা বার্বাডোস, বাহামাস, ভুটান, মাইক্রোনেশিয়া, গ্রানাডা, গাম্বিয়া, হাইতি, জামাইকা, কুক আইল্যান্ডস, ডোমিনিকা, ফিজি, কিরিবাতি, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, মাদাগাস্কার, মন্টসেরাট, নিয়ু, ভার্জিন আইল্যান্ডস, রুয়ান্ডা, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস এবং ভানুয়াতুসহ একাধিক দেশে ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারবেন।
এছাড়াও কিছু দেশ বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’ সুবিধা প্রদান করে, যেখানে ভ্রমণকারীরা গন্তব্যে পৌঁছানোর পরই ভিসা সংগ্রহ করতে পারেন। এই তালিকায় রয়েছে বলিভিয়া, বুরুন্ডি, কাবো ভার্দে, জিবুতি, গিনি-বিসাউ, কম্বোডিয়া, কোমোরোস, মৌরিতানিয়া, মোজাম্বিক, মালদ্বীপ, নেপাল, সিশেলস, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, তিমুর-লেসতে, টুভ্যালু ও সামোয়া।
অন্যদিকে, কিছু দেশে ভ্রমণের আগে অনলাইনের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) গ্রহণ করতে হয়। কেনিয়া ও শ্রীলংকা এ ধরনের প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত, যেখানে আগাম অনুমোদন নিয়ে সহজেই ভ্রমণ করা সম্ভব।
ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ভিসা নীতির শিথিলতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও পাসপোর্ট শক্তির একটি ইতিবাচক প্রতিফলন। একইসঙ্গে এটি পর্যটন, ব্যবসা এবং শিক্ষা বিনিময়ের সুযোগও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ভিসা ছাড়াই প্রবেশের সুযোগ থাকলেও প্রতিটি দেশের নিজস্ব প্রবেশ শর্ত, অবস্থানের সময়সীমা এবং অন্যান্য বিধিনিষেধ রয়েছে, যা ভ্রমণের আগে জেনে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য আন্তর্জাতিক ভ্রমণ আরও সহজ, গতিশীল এবং বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে, যা বৈশ্বিক সংযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
-রফিক