ওয়াশিংটন থেকে গৃহহীনদের উচ্ছেদ করে ‘অনেক দূরে’ পাঠানোর পরিকল্পনা ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ১১ ১৭:০৩:৫৮
ওয়াশিংটন থেকে গৃহহীনদের উচ্ছেদ করে ‘অনেক দূরে’ পাঠানোর পরিকল্পনা ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটন শহর থেকে গৃহহীনদের দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি টুইটারে লিখেছেন, গৃহহীনদের জন্য থাকার ব্যবস্থা করা হবে, তবে শহর থেকে দূরে। একই সঙ্গে তিনি অপরাধীদেরও সতর্ক করে বলেছেন, যেখানেই থাকুন, তাদের জেলে পাঠানো হবে। তবে ওয়াশিংটন মেয়র মুরিয়েল বাউসার এসব অভিযোগ খারিজ করে বলেছেন, শহরে অপরাধের কোনও বৃদ্ধি ঘটেনি।

হোয়াইট হাউস এখনো স্পষ্ট করেনি যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কীভাবে এই উচ্ছেদ কার্যক্রমের আইনি নিয়ন্ত্রণ করবেন। আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট শুধুমাত্র সরকারি জমি ও ভবন নিয়ন্ত্রণ করেন, নাগরিকদের বসবাসকেন্দ্রের বিষয়টি মেয়র এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার। ট্রাম্প শীঘ্রই ‘ওয়াশিংটন ডিসিতে সহিংস অপরাধ বন্ধ’ করার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করার পরিকল্পনা করছেন, যেখানে উচ্ছেদ পরিকল্পনার বিস্তারিত জানানো হতে পারে।

ট্রাম্প তার পোস্টে গৃহহীনদের তাবু ও রাস্তার আবর্জনার ছবি শেয়ার করে বলেন, তিনি রাজধানীকে আগের চেয়ে নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন করার জন্য কাজ করবেন। তবে স্থানীয় কমিউনিটি পার্টনারশিপের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭ লাখ মানুষের এই শহরে প্রতি রাতে গৃহহীন ব্যক্তির সংখ্যা ৩,৭৮২ জন। তাদের বেশিরভাগ জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র বা ট্রানজিশনাল হাউজিংয়ে থাকলেও, প্রায় ৮০০ জন সম্পূর্ণরূপে রাস্তার ওপর জীবনযাপন করছেন।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, প্রশাসনের একজন তরুণ কর্মীর ওপর সহিংস হামলার পর শহরে অতিরিক্ত আইন প্রয়োগকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যা প্রেসিডেন্টের গাম্ভীর্য প্রকাশ করে। তবে মেয়র মুরিয়েল বাউসার বলেন, গত বছর শহরে অপরাধের হার কমেছে এবং চলতি বছর প্রথম সাত মাসে সহিংস অপরাধ ২৬ শতাংশ ও সামগ্রিক অপরাধ ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

/আশিক


ইরান যুদ্ধে ড্রোন ধ্বংসে ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২২ ১১:৫১:৩৯
ইরান যুদ্ধে ড্রোন ধ্বংসে ১০০ কোটি ডলারের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে বড় ধরনের সামরিক ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে অত্যাধুনিক দূরপাল্লার ড্রোন বহরে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এখন নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ওয়াশিংটনে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন বাহিনীর বহু অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরান।

সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দুই ডজনেরও বেশি রিপার ড্রোন ধ্বংস করেছে তেহরান। এই সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা মোট এমকিউ-৯ রিপার বহরের প্রায় ২০ শতাংশের সমান বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু সংখ্যাগত ক্ষতি নয়; বরং আধুনিক ড্রোন যুদ্ধনীতির জন্যও একটি বড় ধাক্কা। কারণ এমকিউ-৯ রিপারকে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম কার্যকর নজরদারি ও আক্রমণাত্মক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে আসছে।

MQ-9 Reaper ড্রোনগুলো অত্যাধুনিক সেন্সর, হাই-রেজুলেশন ক্যামেরা এবং দূরপাল্লার নজরদারি সক্ষমতায় সমৃদ্ধ। এগুলো হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র এবং জেডিএএমের মতো নির্ভুল নিশানার বোমা বহন করতে সক্ষম। যুদ্ধক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, টার্গেট ট্র্যাকিং এবং নির্ভুল হামলায় এই ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, একেকটি রিপার ড্রোন নির্মাণে প্রায় ৩ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। ফলে ধ্বংস হওয়া ড্রোনগুলোর মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পরে বাতিল করা ড্রোনগুলোও হিসাবের মধ্যে আনলে মোট ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা প্রায় ৩০-এ পৌঁছাতে পারে।

এতে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অভিযোজনক্ষমতা এবং মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক মার্কিন ড্রোন অভিযানের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কম উচ্চতায় উড়ন্ত ড্রোন শনাক্ত ও ভূপাতিত করার ক্ষেত্রে ইরান আগের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর সক্ষমতা দেখিয়েছে।

একই সঙ্গে ইলেকট্রনিক জ্যামিং, রাডার বিভ্রান্তি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে রিয়েল-টাইম নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণেও মার্কিন ড্রোনগুলোর কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

এই পরিস্থিতি এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে চীন বা রাশিয়ার মতো প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত প্রতিপক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সক্ষমতা নিয়েও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে পেন্টাগনকে।

সূত্র: তাস


ইরানে ধাক্কা খেয়ে চীনের সামনে দুর্বল আমেরিকা?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২২ ১০:৩৭:১৯
ইরানে ধাক্কা খেয়ে চীনের সামনে দুর্বল আমেরিকা?
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ধ্বংস হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বৈশ্বিক সামরিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি ভবিষ্যৎ বিশ্বযুদ্ধের কৌশল, বিমানশক্তির কার্যকারিতা এবং চীনকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের হিসাবও নতুন করে বদলে দিচ্ছে।

সম্প্রতি Congressional Research Service–এর একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া কথিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৪২টি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন সম্পূর্ণ ধ্বংস অথবা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার, এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল, এ-১০ থান্ডারবোল্ট, কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট এবং একাধিক দীর্ঘপাল্লার ড্রোন।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এত অল্প সময়ে এত বিপুলসংখ্যক উচ্চমূল্যের সামরিক প্ল্যাটফর্ম হারানো সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল ঘটনা। বিশেষ করে এমন ক্ষয়ক্ষতি মার্কিন বিমানবাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা ও আকাশে আধিপত্য ধরে রাখার সামর্থ্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের কারণে মার্কিন বাহিনীর একাধিক বিমান ভুলবশত নিজেদের পক্ষের আক্রমণের শিকার হয়েছে। সামরিক ভাষায় যাকে বলা হয় “ফ্রেন্ডলি ফায়ার”। কুয়েতের আকাশসীমায় অন্তত তিনটি যুদ্ধবিমান এভাবে ধ্বংস হওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অভিযোজনক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির মোবাইল এয়ার ডিফেন্স ইউনিটগুলো এখনো সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার তৈরি Tor-M1 এবং S-300–এর মতো সিস্টেমগুলো মার্কিন ড্রোন ও নিম্নউড্ডয়নকারী বিমানগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

একইসঙ্গে চীনা প্রযুক্তিনির্ভর মাঝারি ও স্বল্পপাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি “নেটওয়ার্কড ওয়ারফেয়ার” সক্ষমতা অর্জন করেছে, যেখানে স্যাটেলাইট ডাটা, এআই-চালিত নজরদারি এবং রিয়েল-টাইম টার্গেটিং বড় ভূমিকা রাখছে।

রুশ-ইরান সামরিক সহযোগিতাও ওয়াশিংটনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পশ্চিমা প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি, মস্কো ইতোমধ্যে ইরানকে অত্যাধুনিক “ভেরবা” ম্যানপ্যাড সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে। কাঁধে বহনযোগ্য এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কম উচ্চতায় উড়ন্ত বিমান ও ড্রোন ধ্বংসে অত্যন্ত কার্যকর হিসেবে পরিচিত।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের বহুল ব্যবহৃত “ডিস্ট্রিবিউটেড বেসিং” কৌশলের দুর্বলতাও প্রকাশ করে দিয়েছে। মার্কিন বাহিনী সাধারণত তাদের যুদ্ধবিমান বিভিন্ন ছোট ঘাঁটিতে ছড়িয়ে রাখে, যাতে শত্রুর হামলায় বড় ক্ষতি এড়ানো যায়। কিন্তু ইরানের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সৌদি আরবের Prince Sultan Air Base–এর মতো সুরক্ষিত ঘাঁটিতেও আঘাত হেনেছে বলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা মহলের একাংশের ধারণা, ইরানের পেছনে চীন ও রাশিয়ার পরোক্ষ প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা সহায়তা রয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ইমেজ, ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স এবং এআই-ভিত্তিক ডাটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও জাহাজের অবস্থান শনাক্ত করা আগের চেয়ে সহজ হয়ে গেছে।

এই পরিস্থিতি এখন যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ান ইস্যুতেও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ইরানের মতো একটি দেশ উন্নত প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে মার্কিন বিমানবাহিনীকে চাপে ফেলতে পারে, তবে সরাসরি চীনের সঙ্গে সংঘাত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। কারণ চীনের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, শিল্পভিত্তি ও প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো ইরানের তুলনায় বহুগুণ শক্তিশালী।

-রাফসান


ইউরেনিয়াম দেশেই থাকবে; ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রধান শর্ত উড়িয়ে দিলেন মোজতবা খামেনি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ১৯:৩১:৫৪
ইউরেনিয়াম দেশেই থাকবে; ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রধান শর্ত উড়িয়ে দিলেন মোজতবা খামেনি
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক আগ্রাসনের মুখে চরম ভূরাজনৈতিক সংকটের মাঝেই পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের শান্তি প্রস্তাবের প্রধান শর্ত সরাসরি উড়িয়ে দিলেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। তিনি স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশ জারি করে বলেছেন, ইরানের কষ্টার্জিত ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (Enriched Uranium) কোনো অবস্থাতেই দেশের বাইরে পাঠানো যাবে না এবং এই মজুত অবশ্যই ইরানেই রাখতে হবে।

ইরানের নির্ভরযোগ্য অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স (Reuters) এই এক্সক্লুসিভ ও চাঞ্চল্যকর খবরটি বিশ্ববাসীর সামনে এনেছে। সর্বোচ্চ নেতার এই অনমনীয় ডিক্রির ফলে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনায় হোয়াইট হাউসের প্রধান দাবির বিপরীতে তেহরানের অবস্থান এখন ইস্পাতকঠিন রূপ নিল।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির এই নজিরবিহীন আদেশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ করতে পারে, যা ইরানকে ঘিরে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে এক নিমেষেই খাদের কিনারায় ঠেলে দিল।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, ট্রাম্প তেল আবিবকে ব্যক্তিগতভাবে গ্যারান্টি দিয়েছিলেন—পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পুরো মজুত ইরানের ভূখণ্ড থেকে চিরতরে বাইরে পাঠানো হবে এবং যেকোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিতে ওয়াশিংটন এই ধারাটি বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করবে।

এর বিপরীতে ইসরায়েলের কট্টরপন্থী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর যুদ্ধের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করে সাফ জানিয়েছেন, যতক্ষণ না সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরান থেকে সম্পূর্ণ সরানো হবে, তেহরান তার আঞ্চলিক প্রতিরোধ অক্ষের (হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুথি) সামরিক তহবিল বন্ধ না করবে এবং দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি এই যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে কোনোভাবেই বিবেচনা করবেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের শীর্ষস্থানীয় এক কূটনৈতিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, তেহরানের নীতিনির্ধারকদের গভীর আশঙ্কা—এই কৌশলগত পারমাণবিক উপাদান যদি কোনো চুক্তির আওতায় বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে সুযোগ বুঝে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন তখন ইরানে বিমান হামলা চালাতে পারে এবং তখন দেশটি সম্পূর্ণ অরক্ষিত ও চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (২০২৬) ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যে বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তার পর বর্তমানে ওমান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে এই শান্তি প্রচেষ্টায় এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি আসেনি; উল্টো ওমান উপসাগর ও ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ এবং বৈশ্বিক তেল সরবরাহের মূল ধমনী ‘হরমুজ প্রণালী’র ওপর তেহরানের নতুন কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণ পুরো সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ইরানের প্রধান শান্তি আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বুধবার ওয়াশিংটনের তীব্র সমালোচনা করে সতর্ক করেছেন যে, বর্তমান যুদ্ধবিরতি আসলে মার্কিন প্রশাসনের একটি সুনিপুণ ‘কৌশলগত প্রতারণা’ বা ফাঁদ, যার মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানকে একটি ভ্রান্ত নিরাপত্তার মাঝে রেখে গোপনে নতুন করে ভয়াবহ বিমান হামলার ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও গতকাল পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি অবিলম্বে তাঁদের শর্ত মেনে শান্তিচুক্তিতে সই না করে, তবে তেহরানকে গুঁড়িয়ে দিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী আবারও মেগা হামলা চালাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স


অনুমতি মিলতে লাগবে এক সপ্তাহ: বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে ইরানের নতুন শর্তের বড় ধাক্কা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ১২:৪৬:৫৮
অনুমতি মিলতে লাগবে এক সপ্তাহ: বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে ইরানের নতুন শর্তের বড় ধাক্কা
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল জ্বালানি সরবরাহ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ (Strait of Hormuz) দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নতুন, কঠোর ও নজিরবিহীন এক তদারকি এবং আগাম অনুমতি ব্যবস্থা চালু করেছে ইরান। আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও মার্কিন সামরিক হুমকির রেশ ধরে বুধবার (২০ মে) তেহরানের সংশ্লিষ্ট নৌ-কর্তৃপক্ষ নতুন এই বিশেষ নজরদারি অঞ্চলের নিখুঁত সীমানাও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে।

ইরানের হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অফিশিয়াল ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন এই কড়া নজরদারি অঞ্চলটি একদিকে ইরানের কুহ মোবারক থেকে শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) দক্ষিণ আল-ফুজাইরাহ পর্যন্ত এবং অন্যদিকে ঐতিহাসিক কেশম দ্বীপ থেকে উম্ম আল-কুয়াইন পর্যন্ত বিস্তীর্ণ সমুদ্রসীমায় বিস্তৃত থাকবে।

নতুন জারি করা এই বিশেষ সামুদ্রিক নির্দেশনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নির্ধারিত যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় থাকা যেকোনো দেশের পণ্যবাহী বা তেলবাহী কার্গো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার ঠিক আগমুহূর্তে বাধ্যতামূলকভাবে ‘পারস্য উপসাগর জলপথ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের’ সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে অগ্রিম ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স বা অনুমতি নিতে হবে। এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের (Reuters) এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালির এই কৌশলগত জলপথ ব্যবহারকারী আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর ওপর ইরানের শক্তিশালী এলিট ফোর্স ‘ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC) অতিরিক্ত কিছু কঠোর শর্ত ও ডিক্রি আরোপ করেছে।

এই শর্তগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত ও প্রধান বিষয়টি হলো—প্রণালি পার হওয়ার আগে প্রতিটি জাহাজকে একটি বিশেষ ‘সম্পৃক্ততা বা দায়বদ্ধতা নথি’ (Affidavit Certificate) জমা দিতে হবে, যেখানে লিখিতভাবে শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে যে সংশ্লিষ্ট জাহাজ, ক্রু বা পণ্যের মালিকানার সাথে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পর্ক নেই।

রয়টার্সের ওই বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের এই নতুন এবং দীর্ঘ আমলাতান্ত্রিক অনুমোদন প্রক্রিয়ার গ্যাঁড়াকলে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই জলপথে জাহাজ চলাচলে একেকটি কোম্পানির এক সপ্তাহ পর্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব (Delay) হতে পারে। শুধু তাই নয়, বিশেষ ক্লিয়ারেন্স ও নতুন ট্যাক্স বা ফি বাবদ কিছু কিছু জাহাজের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ দেড় লাখ মার্কিন ডলারের (১,৫০,০০০+) গণ্ডিও ছাড়িয়ে যাওয়ার বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পাশাপাশি, বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে ওয়াশিংটনকে চাপে রাখতে ইরান এই প্রণালিতে নিজেদের কৌশলগত মিত্র রাশিয়া এবং চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সর্বোচ্চ ট্রাফিক অগ্রাধিকার (Priority) দিচ্ছে বলেও বৈশ্বিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তবে এই কড়াকড়ির বিষয়ে সাফাই গেয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করে বলেছেন, তেহরান মূলত প্রতিবেশী দেশ ওমানের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সুষ্ঠু সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করারই চেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি আরও যোগ করেন, বহু দেশের সাথে তেহরানের কূটনৈতিক চ্যানেলে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে তাদের সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিরাপদে এই রুট পার হতে পারে; তবে একই সঙ্গে তিনি ওয়াশিংটনকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেন—ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এমন কোনো পশ্চিমা কর্মকাণ্ড বা উস্কানি ইরান কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করবে না।

সূত্র: শাফাক নিউজ


আমেরিকার পর এবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ১০:২৩:৩৫
আমেরিকার পর এবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

বৈশ্বিক ভূরাজনীতিকে স্তম্ভিত করে দিয়ে এক নজিরবিহীন ও অবিশ্বাস্য রাজনৈতিক ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদের মেয়াদ বা কাজ শেষ করার পর তিনি মধ্যপ্রাচ্যের ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য নির্বাচনে লড়তে চান বলে খোদ নিজেই জানিয়েছেন।

স্থানীয় সময় বুধবার (২০ মে) যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটে অবস্থিত কোস্ট গার্ড একাডেমির গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে হোয়াইট হাউজের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প এই বিস্ফোরক ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন। নিজের এমন অদ্ভুত দাবির সপক্ষে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তি দিয়ে বলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইসরাইলে তেলআবিবের নাগরিকদের কাছে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভীষণ জনপ্রিয়।

সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “হোয়াইট হাউজের এই কাজ (প্রেসিডেন্সি) শেষ করার পর হয়তো আমি সরাসরি ইসরাইলে গিয়ে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে ভোটে দাঁড়াব। আজ সকালেই আমি ইসরাইলের একটি জনমত জরিপ বা সার্ভে দেখেছি, যেখানে সে দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষ আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন করেছে; যা আমার জন্য বেশ ভালো একটা সংখ্যা।” তবে ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে কোন থার্ড-পার্টি বাঅফিশিয়াল জরিপের ভিত্তিতে এই ৯৯ শতাংশ সমর্থনের কাল্পনিক দাবি করেছেন, তা স্পষ্ট বা খোলসা করেননি।

ট্রাম্পের এমন অপ্রাসঙ্গিক ও নজিরবিহীন আন্তর্জাতিক মন্তব্য নিয়ে ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউস বা মার্কিন প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে পারেনি। বর্তমানে ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যিনি ১৯৯৬ সাল থেকে একাধিক মেয়াদে দেশটির ক্ষমতায় রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে চলমান তীব্র যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ঘিরে ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই নেতানিয়াহুর একনিষ্ঠ ও অন্ধ সমর্থক হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিত।

ইরান যুদ্ধের বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি নিয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সাথে কোনো গোপন আলোচনা বা কথা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সাথে নেতানিয়াহুর গভীর রসায়নের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “তিনি (নেতানিয়াহু) ভালো আছেন। তিনি আসলেই খুব ভালো একজন মানুষ। আমি হোয়াইট হাউস থেকে যা চাই, নেতানিয়াহু ঠিক তাই করবেন। আমার কাছে তিনি দারুণ ও বাধ্য একজন মানুষ।”

উল্লেখ্য, এর মাত্র একদিন আগেই ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি ইরানের পরমাণু ও সামরিক ঘাঁটির ওপর ‘আরও বড় ধরনের বিধ্বংসী হামলা’ চালানোর ছক কষছেন; যদিও তার দুদিন আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য শান্তি সমঝোতায় অগ্রগতি হওয়ায় সাময়িকভাবে হামলার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছিলেন। নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভাগ্য নিয়ে ট্রাম্প আরও যোগ করেন, “বিশ্ববাসীর ভুলে গেলে চলবে না যে তিনি একজন খাঁটি যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী। আমার মতে, খোদ ইসরাইলের ভেতরেই নেতানিয়াহুকে ঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। তিনি এই ক্রান্তিকালে একটি দেশের যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী, আর আমি মনে করি না বিশ্বমঞ্চে তাঁকে যথাযথ সম্মান ও ক্রেডিট দেওয়া হচ্ছে।”

/আশিক


চুক্তি সইয়ের আগে ইরানের ওপর থেকে এক চুলও নিষেধাজ্ঞা কমাবে না যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ১০:০৯:২০
চুক্তি সইয়ের আগে ইরানের ওপর থেকে এক চুলও নিষেধাজ্ঞা কমাবে না যুক্তরাষ্ট্র
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্য ও হরমুজ প্রণালির ভূরাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ এবার এক চরম ও চূড়ান্ত পারমাণবিক উত্তেজনার পারদ স্পর্শ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় ইরানকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের চলমান আলোচনায় তেহরান যদি দ্রুত সঠিক জবাব না দেয়, তবে ওয়াশিংটন যেকোনো মুহূর্তে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ও মারাত্মক সামরিক পদক্ষেপ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

গতকাল বুধবার (২০ মে) হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দ্ব্যর্থহীন ভাষায় হুঙ্কার দেন, “আমরা এখন ইরান ইস্যুতে একদম চূড়ান্ত ও শেষ পর্যায়ে (Final Stage) আছি।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কোনো সম্মানজনক দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা না হয়, তবে তেহরানের কপালে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন ও ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে।

মার্কিন নীতিনির্ধারণী অবস্থান স্পষ্ট করে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, চূড়ান্ত কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের আগে যুক্তরাষ্ট্র কোনো অবস্থাতেই ইরানের ওপর আরোপিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা (Sanctions) প্রত্যাহার করবে না এবং তেহরানের মূল লাইফলাইন তথা আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রেও কোনো প্রকার আংশিক ছাড় বা শিথিলতা দেখাবে না।

তিনি কড়া ভাষায় বলেন, “ইরানের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত উত্তর না পেলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি খুব দ্রুত মার্কিন নিয়ন্ত্রণে বদলে যাবে।” তবে পুরোপুরি যুদ্ধের পথ পরিহার করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যদি সফল হয়, তবে একটি ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি উল্লেখ করেন, নিরপরাধ মানুষের রক্তপাত ঠেকাতে প্রয়োজনে সামরিক অ্যাকশনের কিছু বড় সিদ্ধান্ত তিনি সাময়িকভাবে পিছিয়ে দিতেও প্রস্তুত আছেন।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চরম সামরিক ও অর্থনৈতিক হুমকির বিপরীতে ইরানের সর্বোচ্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক অফিশিয়াল বিবৃতিতে জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের মিত্র দেশ পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতায় পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রতিক্রিয়া ও শর্তসমূহ তেহরান বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক মিত্র দেশ ও আন্তর্জাতিক নৌ-সংস্থাগুলোর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ চলাচলের সম্পূর্ণ বিকল্প ও নতুন একটি নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে।

মার্কিন চাপের মুখে তেহরান কোনো অবস্থাতেই মাথা নত বা আত্মসমর্পণ করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি কড়া ভাষায় মার্কিন প্রশাসনকে মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, “ইরান সবসময় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে এবং যুদ্ধ এড়াতে সব ধরণের কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করেছে। কিন্তু স্রেফ অন্ধ চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে নতি স্বীকার করানো যাবে—ওয়াশিংটনের এমন ধারণা কেবলই একটি ঐতিহাসিক ভ্রম (Illusion)।”

তবে পেজেশকিয়ান যোগ করেন, কূটনীতিতে পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শন করা যুদ্ধের চেয়ে সবসময় বেশি নিরাপদ ও টেকসই পথ। অন্যদিকে, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ এক বিস্ফোরক দাবি করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন করে বড় ধরণের সর্বাত্মক যুদ্ধের ছক ও নিখুঁত প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার সুস্পষ্ট সামরিক ইঙ্গিত তেহরানের হাতে এসেছে।

/আশিক


ইরান এখন বিশ্বমঞ্চে প্রভাবশালী পরাশক্তি: মোজতবা খামেনি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২০ ২০:২৩:৩৫
ইরান এখন বিশ্বমঞ্চে প্রভাবশালী পরাশক্তি: মোজতবা খামেনি
ছবি : সংগৃহীত

সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল অর্জন এবং মুসলিম উম্মাহর অসাধারণ গণজাগরণের ওপর ভর করে ইরান বিশ্বমঞ্চে একটি অপ্রতিরোধ্য ও প্রভাবশালী পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনি। তবে এই অর্জিত বৈশ্বিক ক্ষমতা ও প্রভাবশালী অবস্থানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ইরানকে আরও উন্নত স্তরে নিয়ে যাওয়া সরাসরি দেশটির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের সাথে সম্পর্কিত বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

জাতীয় জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে জনসংখ্যা ও সমাজকল্যাণ বিষয়ে কর্মরত একদল সামাজিক কর্মীর পাঠানো চিঠির জবাবে দেওয়া বিশেষ বার্তায় সর্বোচ্চ নেতা ইরানের জাতীয় শক্তি ও সভ্যতার বিকাশের সাথে সন্তান জন্মদানের হার বৃদ্ধির এই কৌশলগত সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। আজ বুধবার (২০ মে) ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরের প্রধান তথ্যকেন্দ্র থেকে এই ঐতিহাসিক বার্তার পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তাঁর বার্তায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিকে স্রেফ অতীতের কিছু ভুল নীতির কারণে সৃষ্ট ঘাটতি বা শূন্যতা পূরণের সংকীর্ণ দৃষ্টিতে না দেখার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করেন, একটি শক্তিশালী তরুণ প্রজন্ম ও অপরিহার্য জনসংখ্যা বৃদ্ধির নীতি যদি রাষ্ট্র দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করতে পারে, তবে মহান ইরানি জাতি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে আরও বড় ও সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা পালন করতে পারবে, অর্জন করবে অনন্য কৌশলগত অগ্রগতি।

একই সাথে মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বজুড়ে একটি আধুনিক ‘ইসলামি-ইরানি সভ্যতা’ গঠনের পথে ইরান আরও বড় পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে। এই উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে তিনি দেশের অভ্যন্তরে সন্তান জন্মদানের সংস্কৃতি এবং পারিবারিক মূল্যবোধ প্রচারে সামাজিক কর্মীদের আরও বেশি প্রচেষ্টার ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দেন।

বার্তার শেষাংশে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা ইরানের প্রয়াত মহান শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্মৃতি ও আদর্শ স্মরণ করে বলেন, জনসংখ্যা হ্রাসের এই বিষয়টি তাদের প্রয়াত নেতার অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয় ছিল।

আলী খামেনি জীবিতাবস্থায় বহু রাষ্ট্রীয় বৈঠক, সেমিনার এবং ব্যক্তিগত সাক্ষাতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছিলেন। মোজতবা খামেনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, আগের ধারাবাহিকতায় এখনও এটি ইরানের অন্যতম প্রধান ও শীর্ষ কৌশলগত বিষয় (Strategic Issue) হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং রাষ্ট্রের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ধরে রাখতে এই নীতি থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

সূত্র: ইরনা


এক বছরের অপেক্ষা শেষ: চলতি সপ্তাহেই বাজারে আসছে ট্রাম্প ফোন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২০ ২০:০৩:৩৯
এক বছরের অপেক্ষা শেষ: চলতি সপ্তাহেই বাজারে আসছে ট্রাম্প ফোন
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ‘ট্রাম্প মোবাইল’ অবশেষে দীর্ঘ এক বছরের ধোঁয়াশা কাটিয়ে বাজারে আসছে। ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, চলতি সপ্তাহ থেকেই গ্রাহকদের হাতে পৌঁছাতে শুরু করবে স্বর্ণখচিত এই বিশেষায়িত স্মার্টফোন।

আজ বুধবার (২০ মে) মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সম্পূর্ণ ট্রাম্প ব্র্যান্ডিং ও সোনালী অবয়বের এই ফোনটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৯৯ ডলার (আনুমানিক ৬০ হাজার টাকা) এবং এর আনুষ্ঠানিক নামকরণ করা হয়েছে ‘ট্রাম্প মোবাইল টি১’ (Trump Mobile T1)। তবে ফোনটির মুক্তি মিললেও এর কার্যকারিতা, উৎপাদনস্থল এবং বিক্রয় নীতি নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে চরম ট্রোল ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ৪৯৯ ডলারের এই ‘ট্রাম্প ফোন’ আদতে সম্পূর্ণ নতুন কোনো উদ্ভাবন নয়; বরং এটি দেখতে হুবহু চীনে নির্মিত ‘টি-মোবাইল রেভেল ৭ প্রো ৫জি জিএসএম’ (T-Mobile Revel 7 Pro 5G) ফোনের মতো, যা আমেরিকার সুপারশপ ওয়ালমার্টে মাত্র ২০০ ডলারে কিনতে পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ২০০ ডলারের চীনা ফোনে স্রেফ ট্রাম্পের নাম ও সোনালী রং লেপ্টে দিয়ে দ্বিগুণেরও বেশি দামে তা বিক্রি করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ফোনটির ডেলিভারি পলিসিতে। ট্রাম্প মোবাইলের ওয়েবসাইটে ‘শর্তাধীনে’ ফোন ডেলিভারির কথা বলা হয়েছে। এর মানে হলো, যারা এক বছর আগে ১০০ ডলার জামানত দিয়ে ‘প্রি-অর্ডার’ করেছিলেন, তাদের সবাই ফোনটি নাও পেতে পারেন! পরিবর্তিত অদ্ভুত শর্ত মতে, ১০০ ডলার জামানত রাখা মানেই ফোন পাওয়ার গ্যারান্টি নয়, এটি কেবল একটি ‘বিশেষ সুযোগ’ মাত্র।

অবশ্য ট্রাম্প অর্গানাইজেশন ফেসবুকে জানিয়েছে, গ্রাহকরা দ্রুতই ইমেইলে শিপমেন্ট আপডেট পাবেন। ট্রাম্প মোবাইলের সিইও প্যাট ও’ব্রায়েন দাবি করেছেন, কোয়ালিটি ঠিক রাখতে দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার কারণে দেরি হয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহে ধাপে ধাপে সবাই ফোনটি পাবেন। অন্যদিকে, প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজিস’-এর বিশ্লেষক ম্যাক্স ওয়েইনবাখ জানিয়েছেন, একটি নতুন অ্যান্ড্রয়েড ফোন বাজারে আনতে সফটওয়্যার ও চুক্তি মিলিয়ে কমপক্ষে ১৮ মাস সময় লাগাটা স্বাভাবিক।

ফোনটি ঘিরে সমালোচনার এখানেই শেষ নয়। শুরুতে এর প্রচারণায় জোরগলায় ‘মেইড ইন ইউএসএ’ (Made in USA) দাবি করা হলেও আইনি ও প্রযুক্তিগত চাপের মুখে দ্রুত সেই দাবি থেকে সরে এসেছে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন। এখন তারা বলছে, এটি ‘মার্কিন মূল্যবোধ মাথায় রেখে তৈরি’। ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশনের (IDC) ভাইস প্রেসিডেন্ট রায়ান রেইথ সিএনএন-কে বলেন, এ ধরনের চটকদার শব্দ মূলত গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করার জন্য ব্যবহার করা হয়। অ্যাপলের মতো বড় সংস্থাও ডিজাইন আমেরিকায় করলেও উৎপাদন চীন বা ভারতে করে।

ট্রাম্প ফোনের ক্ষেত্রেও নকশা মার্কিন বলা হলেও ভেতরের ছোট ছোট যন্ত্রাংশ ও প্রসেসর আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের (মূলত চীন) কাছ থেকে আনা। এছাড়া, প্রাথমিক বিজ্ঞাপনে যেসব প্রিমিয়াম ফিচারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, চূড়ান্ত মডেলে তার অনেক কিছুই থাকছে না; স্ক্রিন সাইজ তুলনামূলক ছোট এবং মেমোরিও বেশ কম। সবচেয়ে বড় নৈতিক প্রশ্ন উঠেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান পদবি নিয়ে।

তিনি একজন ব্যবসায়ী হলেও এই মুহূর্তে আমেরিকার রানিং প্রেসিডেন্ট। রাষ্ট্রপ্রধান পদে থেকে নিজের নাম ও ব্র্যান্ড ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি করা কতটুকু নৈতিক, তা নিয়ে ওয়াশিংটনে বিতর্ক শুরু হয়েছে; যদিও এই ব্যবসার দেখভাল করছেন ট্রাম্পের দুই ছেলে এরিক ও ডোনাল্ড জুনিয়র। মজার ব্যাপার হলো, এই ফোনের ডেটা ও ভয়েস প্যাকেজের দাম ধরা হয়েছে ‘৪৭ ডলার ৪৫ সেন্ট’, যা দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম ও বর্তমান ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হওয়ার ঐতিহাসিক রেকর্ডকে সস্তা বাণিজ্যিক রূপ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


মেলোনিকে মেলোডি চকলেট উপহার মোদির: রোমের বৈঠকের ভিডিও ভাইরাল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২০ ১৯:৩৭:৫৩
মেলোনিকে মেলোডি চকলেট উপহার মোদির: রোমের বৈঠকের ভিডিও ভাইরাল
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে এবার এক অদ্ভুত ও হাস্যরসাত্মক ‘চকলেট ট্রোল’ বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কাঁপিয়ে সরাসরি বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে (BSE) বড় ধরণের ধামাকা তৈরি করেছে। ইতালি সফরে গিয়ে দেশটির অতি জনপ্রিয় নারী প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে ভারতীয় ব্র্যান্ডের এক প্যাকেট ‘মেলোডি’ (Melody) চকলেট বা টফি উপহার দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

আর নেটিজেনদের তৈরি করা বহুল পরিচিত ‘মেলোডি’ জুটির এই চকলেট কূটনীতি ঘিরেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন উন্মাদনা। আজ বুধবার (২০ মে) রোমে অনুষ্ঠিত দুই শীর্ষ নেতার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি নিজেই তাঁর অফিশিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি মজাদার ভিডিও পোস্ট করে নরেন্দ্র মোদিকে এই অভিনব উপহারের জন্য ধন্যবাদ জানান।

ভিডিওতে দেখা যায়, অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল ও প্রফুল্ল চিত্তে জর্জিয়া মেলোনি বলছেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদি আমাকে একটি খুবই চমৎকার টফি উপহার দিয়েছেন— মেলোডি।” মূলত ‘মোদি’ এবং ‘মেলোনি’— এই দুই রাষ্ট্রপ্রধানের নাম মিলিয়ে আন্তর্জাতিক নেটিজেনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কয়েক বছর ধরেই ‘মেলোডি’ (Melodi) নামে একটি ব্যাপক জনপ্রিয় রোমান্টিক ট্রেন্ড ও মিম তৈরি করে আসছিল। সেই ডিজিটাল ট্রেন্ডকেই এবার বাস্তব কূটনীতিতে একধাপ এগিয়ে নিতে জেনেশুনেই ‘মেলোডি’ টফি উপহার দিয়ে বসেন মোদি।

এর আগে রোমে মোদিকে স্বাগত জানিয়ে মেলোনি এক্সে একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন, “রোমে স্বাগত, আমার বন্ধু!” সফরকালে দুই নেতা জমকালো নৈশভোজে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি রোমের ঐতিহাসিক ‘কলোসিয়াম’ (Colosseum) পরিদর্শন করেন। সফর নিয়ে এক্সে নরেন্দ্র মোদি লেখেন, “রোমে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী মেলোনির সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেওয়া এবং কলোসিয়াম পরিদর্শনের সুযোগ হয়েছে; দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আমাদের আলোচনা অব্যাহত থাকবে।”

তবে এই ‘মেলোডি’ মোমেন্টের সবচেয়ে বড় পাগলামি ও নাটকীয় রূপ দেখা গেছে ভারতের শেয়ার বাজারে। জর্জিয়া মেলোনির সেই ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হওয়ার পর ভারতীয় হুজুগে বিনিয়োগকারীদের (Investors) একটি বড় অংশ বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে ‘পার্লে’ (Parle) নামের শেয়ার খুঁজতে শুরু করেন; কারণ ভারতের বিখ্যাত মেলোডি টফি তৈরি করে ‘পার্লে প্রোডাক্টস’ (Parle Products)।

কিন্তু বোকা বনে গিয়ে বা ভুল বিভ্রান্তিতে পড়ে অনেক বিনিয়োগকারী দেদারসে কিনে ফেলেন ‘পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজ’ (Parle Industries)-এর শেয়ার, যার সঙ্গে চকলেট প্রস্তুতকারী পার্লে প্রোডাক্টসের দূরতম কোনো বাণিজ্যিক সম্পর্কই নেই! কারণ পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজ মূলত ভারতীয় অবকাঠামো ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একটি পাবলিক লিমিটেড প্রতিষ্ঠান।

তবুও ভাইরালের জেরে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ভুল কোম্পানির শেয়ারের দাম প্রায় ৫ শতাংশ (Upper Circuit) বেড়ে যায়, যেখানে ৪ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে শেয়ারটির দাম এক লাফে উঠে দাঁড়ায় ৫ টাকা ২৫ পয়সায়। অথচ কোম্পানিটির পক্ষ থেকে কোনো নতুন ব্যবসায়িক চুক্তি বা আর্থিক আপডেট প্রকাশ করা হয়নি; স্রেফ একটি চকলেটের নাম ও মিমের চোটে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন রিয়েল এস্টেট কোম্পানির মালিকেরা।

/আশিক

পাঠকের মতামত: