ট্রাম্পকে হত্যা বৈধ? কোমে ইরানি ধর্মগুরুর ভয়ংকর ঘোষণা ঘিরে চাঞ্চল্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ০৫ ০৯:৪৬:১৫
ট্রাম্পকে হত্যা বৈধ? কোমে ইরানি ধর্মগুরুর ভয়ংকর ঘোষণা ঘিরে চাঞ্চল্য
ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি ইরানের শিয়া ধর্মীয় কেন্দ্র ‘কোম’-এ এক বিরল ধর্মীয় সমাবেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হত্যার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির দুই হাজারেরও বেশি ইসলামি ধর্মগুরু। আয়োজিত এই সমাবেশে ট্রাম্পের রক্তকে ‘হালাল’ ঘোষণা করে তাঁকে হত্যা করা ধর্মীয় দায়িত্ব বলে আখ্যা দেওয়া হয়। এমন ঘোষণায় পশ্চিমা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থা ইউএস সিক্রেট সার্ভিস ট্রাম্পের নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে বলে জানা গেছে।

সমাবেশে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘বিপ্লবী ধৈর্যের সময় শেষ। এখন প্রতিশোধের সময়। ট্রাম্পের রক্ত ও সম্পত্তি হালাল।’’ কাসেম সুলেমানির হত্যার দায় ট্রাম্পের ওপর চাপিয়ে দিয়ে সেখানে বলা হয়, এই হত্যাকাণ্ডের বদলা নেওয়া প্রতিটি মুসলিম এবং স্বাধীনতাকামী মানুষের কর্তব্য। উক্ত বিবৃতিতে ট্রাম্পকে ‘বর্বর’ আখ্যা দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত ব্যবস্থা’ নেওয়ার ডাক দেওয়া হয়।

প্রকাশিত ঘোষণায় শুধু ধর্মীয় গুরু নয়, শিয়া মাদ্রাসার বহু জুনিয়র ছাত্রও সই করেছে। এতে বোঝা যায়, ইরানে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে ট্রাম্পবিরোধী মনোভাব কতটা গভীরে প্রোথিত। উল্লেখযোগ্যভাবে এই ঘোষণায় সই করেছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামিনির ঘনিষ্ঠ তিন শীর্ষ নেতা— জুমার খতিব আহমেদ খাতামি, এক্সপিডিয়েন্সি কাউন্সিলের সদস্য মহসেন আরাকি, এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য মেহেদি শাবজ়েনদার।

ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামিনির অধীনে পরিচালিত আধাসামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) অঞ্চলজুড়ে ব্যাপকভাবে সক্রিয়। তাদের অধীনে রয়েছে দূরপাল্লার ব্যালেস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বড় শয়তান’ এবং ইজরায়েলকে ‘ছোট শয়তান’ হিসেবে বিবেচনা করেন খামিনি। আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার কাসেম সুলেমানি ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এক সেনা কর্মকর্তা।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাগদাদ বিমানবন্দরের বাইরে সুলেমানিকে মার্কিন ড্রোন হামলায় হত্যা করা হয়। ওই হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ সুলেমানির গতিবিধির ওপর নজর রেখে মার্কিন বাহিনীকে তথ্য দেয় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। সুলেমানি সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন গোপন অভিযানের মাধ্যমে ইহুদি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখছিলেন। এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে ইরান পরে আমেরিকার কয়েকটি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

সুলেমানির মৃত্যুর পরপরই যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একাধিক হামলার চেষ্টা হয়। ২০২০ সালের আগস্টে হোয়াইট হাউসের বাইরে এক বন্দুকধারীর গুলিবর্ষণের ঘটনায় নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত ট্রাম্পকে সরিয়ে নিয়ে যান। একই বছরের সেপ্টেম্বরে প্যাস্কেল ফেরিয়ার নামে এক নারী ট্রাম্পকে বিষমাখানো চিঠি পাঠান, যেখানে তাঁকে ‘কুৎসিত অত্যাচারী জোকার’ বলা হয়। তাকে ‘জৈব অস্ত্র ব্যবহার’ আইনে ২২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে ব্যস্ত থাকার সময় ট্রাম্প অন্তত দুইবার হত্যাচেষ্টার শিকার হন। ১৩ জুলাই পেনসিলভানিয়ায় এক জনসভায় থমাস ম্যাথিউ ক্রুকস নামে এক বন্দুকধারী ট্রাম্পের ওপর এআর-১৫ রাইফেল দিয়ে গুলি চালান। একটি গুলি তাঁর কানের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ট্রাম্প ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান, এবং বন্দুকধারী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

-রাফসান


ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নতুন কূটনৈতিক কাঠামো

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ১২:৩৫:২০
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নতুন কূটনৈতিক কাঠামো
ছবি: আল জাজিরা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক সমাধানের একটি সীমিত সুযোগ তৈরি হয়েছে। কাতার, তুরস্ক ও মিসরের মধ্যস্থতাকারীরা দুই দেশকে একটি প্রস্তাবিত কাঠামো উপস্থাপন করেছে, যার মূল লক্ষ্য পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়ানো।

আল জাজিরাকে দেওয়া একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত এই কাঠামোর আওতায় ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করতে বলা হয়েছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শুক্রবার অনুষ্ঠিতব্য আলোচনায় এই নীতিগত কাঠামোই আলোচনার ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপিত হবে।

সূত্র অনুযায়ী, প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ইরান আগামী তিন বছর সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখবে। পরবর্তী পর্যায়ে দেশটি সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সম্মত হবে। বর্তমানে ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম, যার একটি বড় অংশ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ, তা একটি তৃতীয় দেশে স্থানান্তরের প্রস্তাবও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এই কাঠামো শুধু পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ নয়। মধ্যস্থতাকারীরা প্রস্তাব করেছেন, ইরান যেন তাদের আঞ্চলিক অ-রাষ্ট্রীয় মিত্রদের কাছে অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহ বন্ধ করে। পাশাপাশি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রথম ব্যবহার না করার অঙ্গীকারও করতে বলা হয়েছে, যদিও এটি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ দাবির তুলনায় তুলনামূলকভাবে সীমিত।

এ ছাড়া তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সম্ভাব্য “নন-অ্যাগ্রেশন এগ্রিমেন্ট” বা আগ্রাসনবিরোধী চুক্তির ধারণাও আলোচনায় রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত উভয় পক্ষ এই কাঠামোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

আলাদা এক সূত্র জানায়, আলোচনায় অংশ নিতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। পূর্বে তুরস্কে বৈঠকের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আলোচনাটি ওমানে অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছে ইরানি সূত্র।

এই কূটনৈতিক উদ্যোগ এমন এক সময়ে আসছে, যখন মধ্যপ্রাচ্য সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় থমথমে। গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সহিংস অভিযানের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরব সাগরে মার্কিন নৌবহর ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের নির্দেশ দেন। এর ফলে অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে আলোচনায় প্রবেশ করছে শক্ত অবস্থান থেকে। আরব সাগরে একটি বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধবিমান ও ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করে ওয়াশিংটন তেহরানকে স্পষ্ট সামরিক বার্তা দিয়েছে। একই সঙ্গে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ইরানে ব্যাপক গণবিক্ষোভ ও সহিংস দমন-পীড়ন দেশটিকে অভ্যন্তরীণ চাপের মুখেও ফেলেছে।

তবুও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি আপসহীন অবস্থান বজায় রেখেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসের কারণে তেহরান এই আলোচনায় কতটা ছাড় দেবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই ১৯৮০ সাল থেকে। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বা জেসিপিওএ চুক্তির মাধ্যমে ইরান পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করেছিল। তবে ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন একতরফাভাবে চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলে সেই সমঝোতা ভেঙে পড়ে।

এরপর থেকেই ইরান ধাপে ধাপে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়িয়েছে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা জোরদার করেছে। গত বছরের ইসরায়েল–ইরান ১২ দিনের যুদ্ধে কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম হওয়ায় বিষয়টি ওয়াশিংটনের জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার মার্কিন বাহিনী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড–এর একটি ড্রোন ভূপাতিত করে, যা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন–এর কাছাকাছি চলে এসেছিল। একই দিনে হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন বাণিজ্যিক জাহাজকে হয়রানির অভিযোগও তোলে যুক্তরাষ্ট্র।

সূত্র: আল জাজিরা


নতুন ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি প্রকাশ করল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৫ ১২:১৯:৪০
নতুন ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি প্রকাশ করল ইরান
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে মাটির গভীরে নির্মিত আরও একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির তথ্য প্রকাশ করেছে। বুধবার দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভূগর্ভস্থ ঘাঁটির অস্তিত্ব জানায়।

ঘাঁটিটি পরিদর্শনে যান ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আব্দুল রহমান মৌসাভি এবং বিপ্লবী গার্ডের এরোস্পেস ফোর্সের প্রধান সায়েদ মাজেদ মৌসাভি। পরিদর্শনকালে তারা ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন, পরিচালন সক্ষমতা এবং সামগ্রিক যুদ্ধ প্রস্তুতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন। এ সময় বাহিনীর একাধিক ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে দেওয়া বক্তব্যে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জানান, সম্ভাব্য যে কোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপ মোকাবিলায় ইরান এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘটিত ১২ দিনের সংঘাতের পর ইরানের সামরিক কৌশলে মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান এখন আর কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে সীমাবদ্ধ নেই; বরং আক্রমণাত্মক রণকৌশলের দিকে অগ্রসর হয়েছে। দ্রুত প্রতিক্রিয়া, বৃহৎ পরিসরের অভিযান পরিচালনা এবং অসম যুদ্ধ কৌশলকে কেন্দ্র করেই নতুন সামরিক পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই ঘোষণার মধ্যেই ইরানের আশপাশের জলসীমা ও আকাশপথে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। যুদ্ধজাহাজ, নজরদারি ব্যবস্থা ও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে ওয়াশিংটন স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

যদিও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনায় বসার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত রয়েছে, তবুও আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের ওপর সামরিক হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই অনিশ্চয়তাই অঞ্চলটিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।

এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন চালায়, তাহলে সেটি শুধু দ্বিপাক্ষিক সংঘাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে জড়িয়ে একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

-রফিক


অনলাইন গেম যখন মরণফাঁদ: ৯ তলা থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ল তিন বোন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৯:০০:৩৬
অনলাইন গেম যখন মরণফাঁদ: ৯ তলা থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ল তিন বোন
ছবি : সংগৃহীত

অনলাইন গেমের নেশা কীভাবে একটি সাজানো সংসার নিমেষেই ধ্বংস করে দিতে পারে, তার এক মর্মান্তিক দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে ভারতের উত্তর প্রদেশে। রাজ্যের গাজিয়াবাদের 'ভারত সিটি' আবাসন কমপ্লেক্সে মঙ্গলবার গভীর রাতে তিন বোন তাদের নবম তলার ফ্ল্যাট থেকে নিচে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। নিহতরা হলো—বিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) ও পাখি (১২)। এই মর্মান্তিক পরিণতির আগে তারা একটি ডায়েরিতে আট পৃষ্ঠার দীর্ঘ সুইসাইড নোট লিখে রেখে গেছে, যার শেষে লেখা ছিল, "আমি সত্যিই দুঃখিত, স্যরি পাপা।"

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, নিহত তিন বোনই অনলাইন গেমে প্রচণ্ড আসক্ত ছিল। কোভিড-১৯ মহামারির সময় তাদের এই আসক্তি শুরু হয়, যা পরবর্তীতে চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। গেমের প্রতি এই নেশার কারণে তারা গত দুই বছর ধরে স্কুলে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল। তারা একটি 'কোরিয়ান লাভ গেম' এবং কোরীয় সংস্কৃতির প্রতি এতটাই আচ্ছন্ন ছিল যে, তারা নিজেদের কোরীয় নামও রেখেছিল। তাদের মা-বাবা যখন তাদের মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমিয়ে দেন এবং গেম খেলা বন্ধের চেষ্টা করেন, তখন তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রিয় গেম খেলতে না পারার ক্ষোভ থেকেই তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে তিন বোন তাদের বাসার বারান্দার দরজা ভেতর থেকে আটকে দিয়ে জানালা দিয়ে একে একে নিচে লাফিয়ে পড়ে। তাদের আর্তচিৎকার এবং মাটিতে আছড়ে পড়ার বিকট শব্দে মা-বাবা ও প্রতিবেশীদের ঘুম ভেঙে যায়। মা-বাবা বারান্দার দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার আগেই সব শেষ হয়ে যায়। সহকারী পুলিশ কমিশনার অতুল কুমার সিং ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিন বোনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ তাদের ঘর থেকে যে আট পৃষ্ঠার সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে, সেখানে তাদের গেমিং এবং মোবাইল ব্যবহারের খুঁটিনাটি বিবরণ লেখা ছিল। নোটের এক জায়গায় আঁকা ছিল একটি কান্নার ইমোজি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিন বোনের বাবা চেতন কুমার দুই স্ত্রীকে নিয়ে একই বাড়িতে বসবাস করেন। নিহতদের মধ্যে দুজন এক স্ত্রীর এবং অন্যজন দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান ছিল। তারা মেজ বোন প্রাচীর নেতৃত্বেই সব কাজ করত। বুধবার সকালে আবাসন কমপ্লেক্সের নিচে তিন মেয়ের নিথর দেহ পড়ে থাকার দৃশ্য দেখে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। শোকে বিহ্বল মা এবং স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং অনলাইন গেমের ভয়াবহতা নিয়ে এই ঘটনাটি এখন ভারতজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


রাশিয়ার তেল ছাড়ছে ভারত! ট্রাম্পের দাবি ঘিরে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৭:৩০:১৩
রাশিয়ার তেল ছাড়ছে ভারত! ট্রাম্পের দাবি ঘিরে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক সাম্প্রতিক দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন তোলপাড় শুরু হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত একটি বিশেষ বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে নয়াদিল্লি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। তবে এই দাবি নিয়ে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে এবং তারা জানিয়েছে যে ভারতের পক্ষ থেকে এখনও এমন কোনো আনুষ্ঠানিক সংকেত পাওয়া যায়নি।

গত সোমবার (২ জানুয়ারি ২০২৬) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঘোষণায় জানান যে, ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই শুল্ক ছাড়ের বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানিতে রাজি হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, এই সমঝোতা ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একটি বড় পদক্ষেপ হবে, কারণ এতে রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থনৈতিক সক্ষমতা অনেক কমে আসবে। যদিও গত বছরও ট্রাম্প এই ধরনের দাবি করেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

এদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মস্কো এবং নয়াদিল্লির মধ্যে যে ‘উন্নত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ রয়েছে, তা রাশিয়ার কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতি রাশিয়ার সম্মান থাকলেও মস্কো ভারতের সাথে তাদের দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে রাশিয়ার সস্তা তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা এবং ঐতিহাসিকভাবে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের বিষয়টি এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে ভারত রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারত প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করে, যা দেশটির মোট জ্বালানি চাহিদার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। ভারত সরকার বরাবরই এই বাণিজ্যিক সম্পর্ককে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে অভিহিত করে আসছে। গত বছরের ডিসেম্বরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফরের সময় তিনি মার্কিন চাপের মুখেও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় ট্রাম্পের এই নতুন দাবি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং ভূ-রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করে কি না, তা নিয়ে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।


১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি? যা জানা গেল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১৪:২৭:০২
১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি? যা জানা গেল
ছবি: সংগৃহীত

ভারত ও পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ চলাকালীনই দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের ইঙ্গিত মিলেছে। পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্তের আলোকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড হঠাৎ করেই ঘোষণা দেয়, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান। এই ঘোষণার পরপরই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের ক্রিকেট সূচি ও প্রতিযোগিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়ে।

পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত শুধু পুরুষদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, তা নিয়েই দ্রুত আলোচনা শুরু হয় ক্রীড়াঙ্গনে। বিশেষ করে একই সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মেয়েদের রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপ ঘিরে প্রশ্ন ওঠে। কারণ টুর্নামেন্টের পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ১৫ ফেব্রুয়ারি ব্যাংককে মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের নারী ‘এ’ দলের।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত ও পাকিস্তানের মূল জাতীয় দলের ম্যাচটি যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না, তা প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। তবে মেয়েদের রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপে দুই দেশের ‘এ’ দলের ম্যাচ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা বা সূচি পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যায়নি। ফলে নারী ক্রিকেটে এই দ্বৈরথ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাই আপাতত জোরালো।

ক্রিকেট বিষয়ক আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারী ‘এ’ দলের ম্যাচটি নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। লক্ষণীয় বিষয় হলো, বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা আসার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তাদের নারী ‘এ’ দলের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড প্রকাশ করে। এতে বোঝা যাচ্ছে, নারী ক্রিকেটের সূচি নিয়ে পিসিবি এখনো কোনো পিছু হটার অবস্থানে নেই।

এই টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে পাকিস্তান নারী ‘এ’ দলের সঙ্গে রয়েছে ভারত নারী ‘এ’ দল ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নেপাল। ফলে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য ও সূচি অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে আয়োজকরা আপাতত কোনো পরিবর্তনের পথে হাঁটছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরুষদের বিশ্বকাপে ম্যাচ বর্জনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কোনো প্রভাব নারী ‘এ’ দলের ম্যাচে পড়ছে না। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে পুরুষ ও নারী ক্রিকেটকে অনেক সময় আলাদা প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতায় বিবেচনা করা হয়, যার ফলেই এই ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে।

এরই মধ্যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, নির্ধারিত ম্যাচ বর্জনের কারণে পিসিবির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে এই বিষয়টি এখনো পুরোপুরি গুঞ্জন পর্যায়েই রয়েছে।

এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত International Cricket Council কোনো জরুরি বোর্ড সভা আহ্বান করেনি কিংবা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। ফলে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা বা ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

সব মিলিয়ে, ভারত–পাকিস্তান ক্রিকেট দ্বৈরথ আবারও কেবল মাঠের লড়াই নয়, বরং রাজনীতি, কূটনীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের এক জটিল সমীকরণে পরিণত হয়েছে। সামনে এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশ্ব।

-রফিক


প্রথম শিকারকে যেভাবে ফাঁদে ফেলেন কুখ্যাত এপস্টেইন ও তার প্রেমিকা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১১:৪০:১৬
প্রথম শিকারকে যেভাবে ফাঁদে ফেলেন কুখ্যাত এপস্টেইন ও তার প্রেমিকা
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন বিচার বিভাগ ‘এপস্টেইন ফাইলস’ নামে পরিচিত কয়েক লাখ পৃষ্ঠার নথিপত্র প্রকাশ করেছে, যা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই নথিগুলোতে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন এবং তার প্রেমিকা গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের পরিচালিত একটি সুসংগঠিত শিশু পাচার ও যৌন নির্যাতনের নেটওয়ার্কের এক ভয়াবহ ও বীভৎস চিত্র ফুটে উঠেছে।

১৩ বছরের কিশোরী দিয়ে যেভাবে শুরু এবিসি নিউজের তথ্যমতে, প্রকাশিত ৩৫ লাখ পৃষ্ঠা নথি, ২ হাজার ভিডিও এবং ১ লাখ ৮০ হাজার ছবিতে বিশদভাবে দেখা যায়, কীভাবে ১৯৯৪ সাল থেকে একটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ‘গ্রুমিং’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কিশোরীদের ফাঁদে ফেলা হতো। মিশিগানের একটি আর্টস ক্যাম্প থেকে মাত্র ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে (আদালতে যাকে ‘জেন ডো’ নামে অভিহিত করা হয়েছে) প্রথম শিকার বানানোর মাধ্যমে এই জঘন্য অপরাধ চক্রের সূচনা হয়। এপস্টেইন নিজেকে একজন উচ্চশিক্ষিত শিল্প অনুরাগী হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং সেই কিশোরীকে শিক্ষা বৃত্তি প্রদানের প্রলোভন দেখিয়ে ও তার দরিদ্র পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে নিজের কাছে টেনে নিতেন।

ম্যাক্সওয়েলের ভূমিকা ও কমিশন ব্যবস্থা নথিতে আরও উঠে এসেছে যে, এপস্টেইনের প্রেমিকা গিলেইন ম্যাক্সওয়েল এই প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন। তিনি ওই কিশোরীদের কাছে ‘বড় বোন’ সেজে তাদের বিশ্বাস ও ভালোবাসা অর্জন করতেন এবং পরে কৌশলে তাদের যৌন নির্যাতনের জালে ঠেলে দিতেন। এই নেটওয়ার্ক বিস্তারের পদ্ধতি ছিল আরও ভয়াবহ; ভুক্তভোগী মেয়েরাই যাতে তাদের পরিচিত অন্য মেয়েদের এই চক্রে সংগ্রহ করে আনে, সেজন্য তাদের মাথাপিছু ২০০ ডলার পর্যন্ত কমিশন বা প্রলোভন দেওয়া হতো।

এপস্টেইনের বিকৃত মানসিকতা জেফরি এপস্টেইনের বিকৃত মানসিকতার প্রমাণ হিসেবে নথিতে তার কিছু সরাসরি মন্তব্য ও দর্শন উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ২৩ বছর বয়সী মেয়েদের ‘বুড়ো’ বলে নিজের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিতেন। অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি তার আসক্তির কথা প্রকাশ করে তিনি বলতেন, ‘যত ছোট, তত ভালো।’

ভয় ও দীর্ঘ নীরবতা দীর্ঘ দুই দশক ধরে ভুক্তভোগীরা প্রভাবশালী এই চক্রের ভয়ে এবং সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার আশঙ্কায় চুপ থাকলেও, এখন তাদের সেই সময়ের চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য, ইমেইল বার্তা ও ব্যক্তিগত ডায়েরি এন্ট্রিগুলো প্রকাশ্যে এসেছে। ২০১৯ সালে কারাগারে এপস্টেইনের রহস্যজনক মৃত্যু হলেও ২০২১ সালে শিশু পাচারের অভিযোগে গিলেইন ম্যাক্সওয়েল দণ্ডিত হন। বর্তমানে এই ফাইলগুলোতে বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ও সরাসরি সম্পৃক্ততা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নজিরবিহীন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।


কুখ্যাত জেফ্রি অ্যাপস্টেইন ফাইলে শেখ হাসিনা ও বিএনপি নেতার নাম 

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ০৯:৫৯:৩৯
কুখ্যাত জেফ্রি অ্যাপস্টেইন ফাইলে শেখ হাসিনা ও বিএনপি নেতার নাম 
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি অ্যাপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েক মিলিয়ন পৃষ্ঠার গোপনীয় নথি বা 'অ্যাপস্টেইন ফাইলস' সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নির্দেশে গত ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রায় ৩০ লাখ নথির এই বিশাল ভাণ্ডারে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টুসহ একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে।

শেখ হাসিনার নাম যেভাবে এল প্রকাশিত নথিতে সরাসরি শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ না থাকলেও 'বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী' হিসেবে তাকে সম্বোধন করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে পাঠানো এক ইমেইলে জেফ্রি অ্যাপস্টেইনের তৎকালীন সহকারী লেসলি গ্রোফ উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কোনো একটি অজানা বিষয়ে অ্যাপস্টেইনের টিমের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তবে বিষয়টি ঠিক কী ছিল এবং কেন এই যোগাযোগ হয়েছিল, সে সম্পর্কে নথিতে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সম্পৃক্ততা নথির বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর সাবেক গভর্নর বিল রিচার্ডসনের নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থদাতাদের তালিকায় ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টুর নাম রয়েছে। তিনি ওই প্রচারণায় ৫ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছিলেন। কাকতালীয়ভাবে, একই প্রচারণায় জেফ্রি অ্যাপস্টেইন নিজেও ৫০ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দিয়ে শীর্ষদাতাদের একজন ছিলেন। তবে মিন্টু ও অ্যাপস্টেইনের মধ্যে সরাসরি কোনো যোগাযোগের প্রমাণ নথিতে পাওয়া যায়নি।

আইসিডিডিআর,বি-র নাম অ্যাপস্টেইনের বিভিন্ন প্রকল্পের প্রস্তাবে বাংলাদেশ ভিত্তিক আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআর,বি (icddr,b)-র নামও উঠে এসেছে। নথিতে প্রতিষ্ঠানটিকে অণুজীব গবেষণায় বিশ্ব বিশেষজ্ঞ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি প্রস্তাবিত গবেষণার অংশ হিসেবে আইসিডিডিআর,বি-কে যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল অ্যাপস্টেইনের এবং এজন্য ৫০ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়ার একটি প্রস্তাবও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

জেফ্রি অ্যাপস্টেইন দীর্ঘ দুই দশক ধরে তার অর্থ ও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিশ্বজুড়ে অপরাধের জাল বিস্তার করেছিলেন। নতুন প্রকাশিত এই নথিগুলো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তার গোপন যোগাযোগের অন্ধকার অধ্যায়কে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।


এপস্টেইন কেলেঙ্কারি: তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে রাজি বিল ও হিলারি ক্লিনটন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ০৯:৫৩:৩৭
এপস্টেইন কেলেঙ্কারি: তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে রাজি বিল ও হিলারি ক্লিনটন
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।

কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন কেলেঙ্কারি নিয়ে চলমান কংগ্রেসীয় তদন্তে এক নাটকীয় মোড় এসেছে। দীর্ঘ টানাপোড়েন ও আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে তদন্ত কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে বিল ক্লিনটনের মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তদন্তে ক্লিনটন দম্পতির সম্মতি বিল ক্লিনটনের মুখপাত্র অ্যাঞ্জেল উরেনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন যে, ক্লিনটন দম্পতি সদিচ্ছার ভিত্তিতে তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হতে রাজি হয়েছেন। এর আগে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ক্লিনটন দম্পতিকে আইনি তলব অমান্যের দায়ে ‘ক্রিমিনাল কনটেম্পট’ বা আদালত অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সেই চাপের মুখেই শেষ পর্যন্ত তাঁরা সাক্ষ্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।

আইনি তলব ও রাজনৈতিক উত্তাপ হাউস ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার গত মাসের শেষ দিকে ক্লিনটন দম্পতিকে অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন করেন। এই সিদ্ধান্তে রিপাবলিকানদের পাশাপাশি কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সদস্যও সমর্থন দিয়েছিলেন। চেয়ারম্যান কোমার স্পষ্ট করে বলেছিলেন, "আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।" যদিও ক্লিনটন দম্পতির আইনজীবীরা শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন যে, এই আইনি তলব মূলত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিব্রত করার একটি কৌশল মাত্র।

এপস্টেইন ফাইলের সেই ছবি ও বিতর্ক সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিতে বিল ক্লিনটনের বেশ কিছু পুরোনো ছবি প্রকাশিত হয়েছে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, ক্লিনটন এপস্টেইনের মালিকানাধীন একটি সম্পত্তিতে সুইমিং পুলে এবং একটি হট টাবের মতো স্থানে অবস্থান করছেন। তবে ক্লিনটন বরাবরই কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর মুখপাত্র জানিয়েছেন, ছবিগুলো বহু পুরোনো এবং এপস্টেইনের অপরাধের কথা প্রকাশ্যে আসার অনেক আগেই ক্লিনটন তাঁর সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন।

সাক্ষ্য প্রদানের গুরুত্ব এপস্টেইনের নির্যাতনের শিকার হওয়া কেউ সরাসরি বিল ক্লিনটনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তোলেননি। তবে তদন্ত কমিটি জানতে চায়, এপস্টেইনের অপরাধ সাম্রাজ্য সম্পর্কে ক্লিনটন দম্পতির কাছে কোনো তথ্য ছিল কি না। ক্লিনটন দম্পতির মুখপাত্র জানান, তাঁরা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনের প্রত্যাশায় কমিটির সামনে উপস্থিত হতে যাচ্ছেন।

জেফরি এপস্টেইন ফাইলের ৩ মিলিয়ন পৃষ্ঠার নথি বিশ্বজুড়ে যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, তার ধারাবাহিকতায় ক্লিনটন দম্পতির এই সাক্ষ্য দান আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।


যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য যুদ্ধে ইতি! ট্রাম্পের ঘোষণার পরই চাঙ্গা ভারতের বাজার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ০৯:৪৬:০৫
যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য যুদ্ধে ইতি! ট্রাম্পের ঘোষণার পরই চাঙ্গা ভারতের বাজার
ছবি : সংগৃহীত

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্কে এক ঐতিহাসিক মোড় নিতে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এক বিশেষ ফোনালাপের পর ট্রাম্প এই বড় সিদ্ধান্তের কথা জানান। মূলত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ও কৃষি পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে এই শুল্ক ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

শুল্ক হ্রাসের প্রেক্ষাপট ও আলজাজিরার তথ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুরোধ এবং বন্ধুত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে কার্যকর একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। এর ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত রাশিয়ার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র এবং সম্ভাব্য ভেনিজুয়েলা থেকে তেল কিনতে রাজি হওয়ায় এই শাস্তি মূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

৫০০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় (ট্রুথ সোশ্যাল) জানিয়েছেন যে, নরেন্দ্র মোদী ৫০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের মার্কিন জ্বালানি (তেল, কয়লা), প্রযুক্তি, কৃষি পণ্য এবং অন্যান্য সামগ্রী কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, রাশিয়ার তেল কেনার অপরাধে আগে যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট কার্যকর শুল্ক এখন ১৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

দুই নেতার প্রতিক্রিয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর টুইটার (এক্স) পোস্টে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে লিখেছেন, "প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে কথা বলে দারুণ লাগলো। 'মেড ইন ইন্ডিয়া' পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ১.৪০ বিলিয়ন মানুষের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বড় ধন্যবাদ।" অন্যদিকে ট্রাম্প মোদীকে একজন ‘শক্তিশালী এবং সম্মানিত নেতা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ফলে ভারতের আইটি খাত, অটোমোবাইল ও টেক্সটাইল শিল্প ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে। এর প্রভাবে ইতিমধ্যে ভারতের শেয়ার বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে রাশিয়ার তেল আমদানির দীর্ঘমেয়াদী বিকল্প হিসেবে ভেনিজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্র কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

পাঠকের মতামত: