‘দ্বিতীয় রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা

 কি আছে এনসিপির ২৪ দফা ইশতেহারে? 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ০৪ ২৩:৫১:১৪
 কি আছে এনসিপির ২৪ দফা ইশতেহারে? 
জুলাই-গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ছবি: প্রথম আলো।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম একটি বিস্তৃত ও ব্যাপক রাজনৈতিক ইশতেহার ঘোষণা করেন, যার লক্ষ্য একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র ‘দ্বিতীয় রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে দেশজুড়ে দলীয় নেতা-কর্মী, শহীদ পরিবার ও আহতদের উপস্থিতিতে তিনি ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ নামে এই ২৪ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন।

পটভূমি ও ঘোষণার প্রেক্ষাপট

সমাবেশের সূচনায় নাহিদ ইসলাম স্মরণ করেন এক বছর আগের ঐতিহাসিক ঘোষণা—যেখানে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের প্রতীক হিসেবে এক দফা দাবিতে ছাত্র-জনতা রাস্তায় নামে। তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই আন্দোলনের নেতৃত্ব কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, বরং গোটা দেশের জনগণ ও অভ্যুত্থানকারী তরুণদের। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এনসিপির জন্ম এবং আজকের এই ২৪ দফা ইশতেহার।

নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এই ইশতেহার জনগণের স্বপ্ন ও শহীদের রক্তের ঋণ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি। আমাদের সংগ্রাম কেবল সরকারের পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং সেই কাঠামো বদলের জন্য, যার ভেতরে ফ্যাসিবাদ গড়ে ওঠে।”

ইশতেহারের মূল আকর্ষণ

এই ২৪ দফায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার, যেমন নতুন সংবিধান প্রণয়ন, ফ্যাসিবাদী অপরাধের বিচার, বিচার ও প্রশাসনিক সংস্কার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, নারী-যুব-সংখ্যালঘুদের ক্ষমতায়ন, শ্রমিক-কৃষকের অধিকার, প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণা, জলবায়ু সহনশীলতা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল।

প্রতিটি দফা মূলত একটি করে রাষ্ট্রীয় সংকল্প ও উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনার ভিত্তি স্থাপন করে।

১। নতুন সংবিধান ও দ্বিতীয় রিপাবলিকের প্রবর্তন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিকাঠামো একনায়কতান্ত্রিক ও পরিবারতন্ত্রের সুবিধার্থে ব্যবহৃত হওয়ায়, এনসিপি একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে। এই সংবিধান হবে জনগণের অংশগ্রহণে গণপরিষদের মাধ্যমে গৃহীত, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় নির্মিত হবে। নতুন সংবিধানে ব্যক্তির মর্যাদা, মৌলিক অধিকার, গণতন্ত্র, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং আইনের শাসন সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে। একনায়কতন্ত্র, দলীয়করণ, বিচারব্যবস্থার ওপর নির্বাহী হস্তক্ষেপ, ও ফ্যাসিবাদী প্রবণতাকে বন্ধ করা হবে সাংবিধানিকভাবে।

২। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও বিচার নিশ্চিতকরণ

২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা কর্তৃক পরিচালিত গণঅভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী এক ঐতিহাসিক রূপান্তর। এনসিপি এই অভ্যুত্থানের শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের পাশাপাশি শাপলা গণহত্যা, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত ও বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায়। পাশাপাশি আহতদের পুনর্বাসন ও আজীবন রাষ্ট্রীয় সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

৩। গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ সংস্কার

জনগণের প্রকৃত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এনসিপি এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন করতে চায়, যেখানে সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাহী বিভাগের অধীনস্থ না হয়ে স্বতন্ত্র ও কার্যকর হবে। নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে কালো টাকার প্রভাব দূর করার জন্য রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে নির্বাচনী ব্যয় বহনের পরিকল্পনা রয়েছে। গণতন্ত্র শুধু ভোটাধিকারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি স্তরে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

৪। বিচারব্যবস্থার ন্যায়ভিত্তিক রূপান্তর

এনসিপি চায় এমন এক বিচারব্যবস্থা, যা ক্ষমতাবানদের রক্ষা না করে, মজলুমদের পক্ষে দাঁড়াবে। ঔপনিবেশিক যুগের অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন সংস্কার করে মানবাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিচারনীতি চালু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল ফাইলিং, অনলাইন ট্র্যাকিং, আলাদা সচিবালয়, বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছতা ইত্যাদির মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকর হবে।

৫। দুর্নীতিমুক্ত ও জনসেবামূলক প্রশাসন

আমলাতন্ত্রকে রাজনৈতিক দলগুলোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিপরীতে এনসিপি দক্ষ, নিরপেক্ষ ও সেবামুখী প্রশাসন গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে। সরকারি নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। ডিজিটাল গভর্ন্যান্স চালু করে জনসেবার গতি বাড়ানো হবে এবং দুর্নীতির দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির নিশ্চয়তা থাকবে। Whistleblower Protection আইন প্রণয়ন করে দুর্নীতিবিরোধী সাহসী নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া হবে।

৬। মানবাধিকার রক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সংস্কার

র‌্যাব বিলুপ্তিসহ পুলিশ ব্যবস্থার রাজনৈতিক অপব্যবহার রোধে স্থায়ী কমিশন গঠন করা হবে। গ্রেপ্তারে ওয়ারেন্ট বাধ্যতামূলক করা, বডি ক্যামেরা চালু, কমিউনিটি পুলিশিং চালু, এবং মানবাধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হবে যাতে রাজনৈতিক নির্যাতন বন্ধ হয়।

৭। গ্রাম পার্লামেন্ট ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ

শুধু শহরকেন্দ্রিক নয়, উন্নয়ন ছড়িয়ে দিতে গ্রামে 'গ্রাম পার্লামেন্ট' গঠন করা হবে যাতে স্থানীয় সমস্যা, উন্নয়ন ও সরকারি সেবার বিষয়গুলো জনগণের অংশগ্রহণে নির্ধারিত হয়। সংসদ সদস্যদের ক্ষমতা ছাঁটাই করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর করা হবে। স্থানীয় সরকারকে একটি স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে পরিচালনা করে তা শক্তিশালী করা হবে।

৮। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও শক্তিশালী নাগরিক সমাজ

গণমাধ্যম যেন কোনো কর্পোরেট বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর না হয়ে জনগণের পক্ষ হয়ে কথা বলে, তার জন্য মালিকানার বৈচিত্র্য ও আইনি কাঠামো নিশ্চিত করা হবে। প্রেস কাউন্সিলকে সক্রিয় করা হবে এবং মিথ্যা তথ্য বা গুজব রোধে নিরপেক্ষ তথ্য যাচাই ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে। নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণে নীতিনির্ধারণে গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার করা হবে।

৯। সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা

জিপিএস-চালিত অ্যাম্বুলেন্স, ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড, ইউনিক হেলথ আইডি, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, অঞ্চলভিত্তিক বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নারী-সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। প্রাথমিক চিকিৎসাকে মূল ভিত্তি হিসেবে ধরে একটি শক্তিশালী জাতীয় স্বাস্থ্য কাঠামো গঠন করা হবে।

১০। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায্য শিক্ষানীতি

সকল শিক্ষার ধারা যেমন বাংলা, ইংরেজি, মাদ্রাসা ইত্যাদির মধ্যে সমন্বয় করে জাতীয় পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন করা হবে। শিক্ষা হবে অধিকার, পণ্য নয়। বিজ্ঞান-প্রযুক্তিভিত্তিক, নৈতিকতা ও নাগরিক চেতনা সম্পন্ন শিক্ষার মাধ্যমে উদ্ভাবনক্ষম নাগরিক তৈরি করা হবে। শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

১১। গবেষণা, উদ্ভাবন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লব

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এনসিপি গবেষণা খাতে বিপ্লব ঘটানোর ঘোষণা দিয়েছে। সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে ৫০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প হাতে নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যার আওতায় থাকবে মহাকাশ প্রযুক্তি, রাডার, AI, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, ন্যানোটেক, নিউক্লিয়ার সায়েন্স, সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলোজি প্রভৃতি ক্ষেত্রে গবেষণা ও ল্যাব প্রতিষ্ঠা। বিশ্বমানের গবেষণাগারের সঙ্গে সহযোগিতা করে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হবে। কম্পিউটেশনাল গবেষণার জন্য ন্যাশনাল কম্পিউটিং সার্ভার গঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ক্লাস্টার তৈরি করা হবে। সাইবার নিরাপত্তা রক্ষায় আলাদা কমিশন গঠন করা হবে।

১২। ধর্ম, সম্প্রদায় ও জাতিসত্ত্বার মর্যাদা

বাংলাদেশের বহুজাতিক, বহু ভাষাভিত্তিক ও বহু সংস্কৃতির সমাজে ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে নিপীড়নের বিরুদ্ধে এনসিপির অবস্থান দৃঢ়। তারা প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অধিকার, মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে। হিন্দুদের জমি দখলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, দলিত ও তফসিলি সম্প্রদায়ের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে বিশেষ বরাদ্দ এবং সকল ধর্মে বিদ্বেষমূলক আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানবাধিকার কমিশনের অধীনে একটি স্বতন্ত্র সেল গঠন করা হবে যা এসব নিপীড়নের তদন্ত ও পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে।

১৩। নারীর নিরাপত্তা, অধিকার ও ক্ষমতায়ন

নারী অংশগ্রহণের সত্যিকার নিশ্চয়তা দিতে সংসদে ১০০টি সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে নারীর অংশ, কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমবেতন, গৃহিনীর অবদানকে জিডিপির অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। প্রতিটি থানায় নারী সহিংসতা প্রতিরোধ সেল, নারী পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি, ধর্ষণ মামলার ফাস্ট ট্র্যাক ট্রায়াল এবং গণমাধ্যমে ভিকটিমের পরিচয় গোপনের বিধান কার্যকর করা হবে। মাতৃত্বকালীন ও পিতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত, ব্রেস্টফিডিং রুম, বয়স্ক ও শিশু সেবা কেন্দ্র এবং নিরাপদ যাতায়াতের জন্য নারীবাস চালু করা হবে।

১৪। মানবকেন্দ্রিক ও কল্যাণমুখী অর্থনীতি

এনসিপি চায় এমন একটি অর্থনীতি যেখানে ব্যক্তি নয়, সমাজ ও রাষ্ট্র হবে কেন্দ্রীয়—যেখানে মানুষ, পরিবেশ, এবং সামাজিক ন্যায়বিচার থাকবে মূলধারায়। জিডিপি প্রবৃদ্ধি নয়, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন হবে উন্নয়নের সূচক। বেকার, প্রবীণ, বিধবা, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের ভাতা নাগরিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত হবে। কর কাঠামো হবে প্রগতিশীল; ধনীদের কাছ থেকে বেশি কর আদায় করে গরিবদের জন্য উন্নয়ন বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে। ব্যাংক, পুঁজিবাজার, সঞ্চয়পত্র ও ঋণনীতির পূর্ণ সংস্কার ঘটানো হবে।

১৫। তারুণ্য ও কর্মসংস্থান

বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি ইন্টার্নশিপ সম্প্রসারণ, প্রশ্নফাঁস রোধে স্বচ্ছ নিয়োগ পরীক্ষা ব্যবস্থা, উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনা ও ফ্রিল্যান্স হাব গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। প্রবাসে কাজের জন্য IT, নার্সিং, হসপিটালিটি ইত্যাদি খাতে ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন, বিদেশি সনদপ্রাপ্তি এবং জেলা পর্যায়ে ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

১৬। বহুমুখী বাণিজ্য ও শিল্পায়ন নীতি

গার্মেন্টসনির্ভরতা কমিয়ে চামড়া, আসবাব, হালকা প্রকৌশল, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। ওষুধ শিল্পের সুরক্ষা, ICT খাত সম্প্রসারণ, চট্টগ্রাম-মংলা-মাতারবাড়িকে লজিস্টিক হাবে রূপান্তর এবং শিল্প উন্নয়নে ৫০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনার জন্য জাতীয় কমিশন গঠন করা হবে।

১৭। টেকসই কৃষি ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব

প্রচলিত কৃষি ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রযুক্তি ও ভর্তুকি, বিষমুক্ত ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন, কৃষকদের সরাসরি বিক্রয়ের সুযোগ এবং ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে অঞ্চলভিত্তিক তথ্যভাণ্ডার গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বীজ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন ও কৃষি রপ্তানির উপযোগিতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।

১৮। শ্রমিক-কৃষকের অধিকার

শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি কাঠামো, সামাজিক সুরক্ষা, বাধ্যতামূলক কর্ম-সুরক্ষা-বীমা, পেনশন তহবিল, শ্রম ট্রাইব্যুনালের বিস্তৃতি এবং শিশুশ্রম নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কৃষকদের ফসলের ন্যায্য দামে বিক্রির জন্য হিমাগার, কৃষি বীমা, আবহাওয়া ও বাজার সম্পর্কিত জাতীয় মোবাইল প্ল্যাটফর্ম গঠনের কথা বলা হয়েছে।

১৯। জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা

গ্যাস, খনিজ, কয়লা, পাথরসহ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা হবে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে টেকসই খনন নীতি প্রণয়ন, আন্তর্জাতিক চুক্তির পুনর্বিন্যাস এবং সুন্দরবনের সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

২০। পরিকল্পিত নগরায়ন ও পরিবহন ব্যবস্থা

রাজধানীকেন্দ্রিক কেন্দ্রীয়করণ বন্ধ করে অন্যান্য শহরে সরকারি সেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে। সামাজিক আবাসন, বাড়িভাড়া নীতিমালা, নদী খাল ভিত্তিক নগরায়ন, পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন, সবুজ উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ এবং সাশ্রয়ী ও গতিশীল আন্তঃজেলা যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

২১। জলবায়ু সহনশীলতা ও নদী-সমুদ্র রক্ষা

জলবায়ু বিপর্যয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় বনায়ন, নদী সংরক্ষণ, সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা, খনন নিয়ন্ত্রণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার, আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবিতে আন্তর্জাতিক ফোরামে সক্রিয় কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

২২। প্রবাসী বাংলাদেশির মর্যাদা ও অধিকার

প্রবাসীদের শুধু রেমিট্যান্স উৎস না ভেবে রাষ্ট্রের অংশীদার হিসেবে দেখার কথা বলা হয়েছে। দূতাবাসে হয়রানিমুক্ত সেবা, ভোটাধিকার, বিনিয়োগ সহায়তা, প্রবাসে মৃত্যুর পর মরদেহ ফেরত আনা এবং প্রবাসী নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

২৩। বাংলাদেশকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি

বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চে রেখে দলনিরপেক্ষ, সার্বভৌম, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। সীমান্ত হত্যা বন্ধ, রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক সমাধান, মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্ব, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও পাবলিক ডিপ্লোম্যাসির বিস্তার হবে এই নীতির মূল লক্ষ্য।

২৪। জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল

সক্ষমতা ও শৃঙ্খলাভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গঠনের লক্ষ্য নিয়ে সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল, UAV ব্রিগেড, সাবমেরিনভিত্তিক নৌবাহিনী, সেকেন্ড স্ট্রাইক সক্ষমতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন করা হবে। প্রতিরক্ষা হবে সংসদীয় নজরদারিতে পরিচালিত, যা আঞ্চলিক শান্তি ও কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখবে।

ইশতেহার ঘোষণার শেষ মুহূর্তে নাহিদ ইসলাম আবারও জনগণকে স্মরণ করিয়ে দেন শহীদ মিনার থেকে শুরু হওয়া শপথের কথা—এই দেশকে স্বৈরতন্ত্রের কবল থেকে মুক্ত করার। তিনি বলেন, “আপনারা সাড়া দিয়েছেন, ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছেন। এখন সময় এসেছে নতুন বাংলাদেশ গড়ার।”


৫ আগস্ট নতুন রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে আসছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী?

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ১৮:৩২:২৭
৫ আগস্ট নতুন রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে আসছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী?
ছবি : সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এক যৌথ ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। আগামী ৫ আগস্ট ভারতের নয়াদিল্লিতে ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’ (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য রাখবেন শেখ হাসিনা। ক্ষমতা হস্তান্তরের পর ভারতে অবস্থানের মধ্য দিয়ে দুই বছর পার হওয়ার পর এটিই হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি।

এফসিসি সাউথ এশিয়ার প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির মথুরা রোডের স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। অডিও সংযোগে সরাসরি যুক্ত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান ও বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরতে পারেন বলে আয়োজক সংগঠনটির পক্ষ থেকে আভাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয় দেশের সমসাময়িক রাজনীতি ও দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ভাষণ দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের এই আন্তর্জাতিক প্যানেলে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বেশ কয়েকজন আলোচিত মুখ অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, সাবেক কূটনীতিক আমিনুল হক পলাশ, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মহাসচিব মাহাম্মদ আলী সিদ্দিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু ওবাইদাহ আরিন ও শাহ মো. বখতিয়ার। বিশ্বজুড়ে কর্মরত সাংবাদিকেরা অনলাইনে যুক্ত হয়ে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন।

মুক্ত গণমাধ্যম ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার নীতি অনুসরণ করেই শেখ হাসিনাকে এই অডিও বক্তব্যের প্ল্যাটফর্ম প্রদান করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন এফসিসি সাউথ এশিয়ার সভাপতি ড. ওয়ায়েল আউয়াদ। এই বিশেষ কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়ে ভারত সরকারের তরফ থেকে কোনো ধরনের আইনি বা কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কোটা সংস্কার আন্দোলনের একপর্যায়ে দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেননি তিনি। গণঅভ্যুত্থান ও সরকার পতনের দুই বছর পূর্তির দিনে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার এই অডিও বার্তা প্রদান এবং সাকিব আল হাসান ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের মতো ব্যক্তিদের উপস্থিতি নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

/আশিক


মঞ্চের পর্দার আড়াল থেকে ব্যান্ডেজ চোখে ফিরে এলেন এনসিপি সমন্বয়ক!

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ১৮:০৬:৫৫
মঞ্চের পর্দার আড়াল থেকে ব্যান্ডেজ চোখে ফিরে এলেন এনসিপি সমন্বয়ক!
ছবি : সংগৃহীত

হবিগঞ্জে ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির সংগঠক আলিফ চৌধুরীর ওপর হামলায় একটি চোখ হারানোর ঘটনার প্রতিবাদে চোখে ব্যান্ডেজ বেঁধে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে আয়োজিত ‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে—জনতার ১ দফা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এভাবে বক্তব্য প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যের জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম আহ্বান করা হলে তিনি কিছুক্ষণের জন্য মঞ্চের পর্দার আড়ালে যান। প্রায় এক মিনিট পর চোখে সাদা ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় ডায়াসে ফিরে এসে তিনি আলোচনায় অংশ নেন।

হবিগঞ্জে আয়োজিত এনসিপির কর্মসূচিতে হামলা চলাকালে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও ছাত্রশক্তি নেতা আলিফ চৌধুরী চোখে মারাত্মক আঘাত পেয়ে দৃষ্টিশক্তি হারান। উক্ত ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে ধরে তিনি এই প্রতিকী প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

নিজের বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আহত আলিফের চোখ ফিরিয়ে দেওয়া কারো পক্ষে সম্ভব নয়। হামলাকারীদের সংবেদনশীলতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাবের কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে এবং ঘটনার পর আহত কর্মীর সুচিকিৎসায় কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।

/আশিক


দুই বছর পর প্রকাশ্যে শেখ হাসিনা, কী বলবেন?

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৩ ১০:৪৩:৫৯
দুই বছর পর প্রকাশ্যে শেখ হাসিনা, কী বলবেন?
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা হারিয়ে বাংলাদেশ ছাড়ার প্রায় দুই বছর পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যাচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, আগামী ৫ আগস্ট ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত একটি ভার্চ্যুয়াল আয়োজনে তিনি বক্তব্য দেবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় জনসম্মুখে অনুপস্থিত থাকার পর এই বক্তব্য বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলবে। নয়াদিল্লির মাথুরা রোডে অবস্থিত স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে মূল আয়োজন অনুষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি ক্লাবটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মেও এটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

আয়োজকদের আমন্ত্রণপত্রের তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পাশাপাশি বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়েও কথা বলতে পারেন। যদিও তার বক্তব্যের পূর্ণ বিষয়বস্তু এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবুও এই সম্ভাব্য আলোচনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন পরবর্তীতে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। এরপর গত প্রায় দুই বছরে তিনি কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠান, সংবাদ সম্মেলন বা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত হননি। ফলে এবারের ভার্চ্যুয়াল বক্তব্যকে তার ক্ষমতাচ্যুতির পর প্রথম বড় ধরনের প্রকাশ্য উপস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে শুধু শেখ হাসিনাই নন, বাংলাদেশের রাজনীতি, কূটনীতি, মানবাধিকার এবং ক্রীড়াঙ্গনের কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিও অংশ নেবেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আমন্ত্রিতদের তালিকায় রয়েছেন শেখ হাসিনার ছেলে ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মহাসচিব মাহাম্মদ আলী সিদ্দিক।

এছাড়া জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান, সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমিনুল হক পলাশ, রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশ্লেষক আবু ওবায়দাহ আরিন এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ইউএসএর পরিচালক শাহ মো. বখতিয়ারও অনুষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রের এসব ব্যক্তির অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

-রাফসান


ভারতের গণতান্ত্রিক উদাহরণ টেনে মির্জা ফখরুলের বক্তব্য

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০২ ১৯:৪০:১৭
ভারতের গণতান্ত্রিক উদাহরণ টেনে মির্জা ফখরুলের বক্তব্য
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এক স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে নতুন একটি গণতান্ত্রিক সম্ভাবনার যুগে প্রবেশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে যদি সঠিক গণতান্ত্রিক চর্চা বজায় থাকে, তবে সমাজের অন্যান্য উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবেই গতি লাভ করবে। রোববার (২ আগস্ট) ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, একটি প্রভাবমুক্ত বিচার বিভাগ গঠিত হলে দেশের সাধারণ মানুষ সরাসরি ন্যায়বিচার পাবেন। এর পাশাপাশি প্রশাসনকে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং জাতীয় সংসদের বিষয়ভিত্তিক কমিটিগুলোকে কার্যকর করা সম্ভব হলে দেশের গণতন্ত্র সুদৃঢ় ভিত্তি পাবে। রাজনৈতিক মতভেদ, সমস্যা কিংবা বিরোধী দলের আন্দোলন থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বকীয়তা বজায় রাখলে বহুদলীয় শাসনব্যবস্থা টিকে থাকে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের রাজনৈতিক কাঠামোর কথা উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব জানান, সেখানে বহুমুখী সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং শক্তিশালী গণমাধ্যমের কারণে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো মজবুত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই প্রাতিষ্ঠানিক শক্তির কারণেই দেশটিতে গণতান্ত্রিক ধারা ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

আইনজীবী ও বিচারকদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানান। অতীতের বিভিন্ন সময়ে দেশের নাগরিকেরা এই অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী দিনে সমাজে ইনসাফ ও সঠিক বিচারব্যবস্থা কায়েম করাই অন্যতম লক্ষ্য। এই নীতিগুলো বাস্তবায়িত হলে সমাজ ও রাষ্ট্র দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

/আশিক


সাবেক সরকারের মতো একই আচরণ ধারণ করছে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০২ ১৮:১৯:৩৯
সাবেক সরকারের মতো একই আচরণ ধারণ করছে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘জান দিব, জুলাই দিব না’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। রোববার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে বিরোধী দলে থাকা একটি পক্ষ ক্ষমতায় এসে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের মতো স্বৈরাচারী আচরণ ও পন্থাকে পুনরায় গ্রহণ করছে।

ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, বর্তমানে ভিন্নমত দমনে যেসব ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও শক্ত প্রয়োগের চর্চা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা সরাসরি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনের অবিকল রূপ। সাবেক সরকারের আমলে বিরোধীদের ওপর যে দমন-পীড়ন চলেছে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তার প্রতিফলন ঘটা দুঃখজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, বিগত সাড়ে ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা, সাংবাদিক, সুশীল সমাজসহ সাধারণ মানুষ চরম অত্যাচার ও নিপীড়নের মধ্য দিয়ে সময় পার করেছেন। একটি রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ মুক্ত হলেও সাবেক সরকারের সেই নির্যাতনমূলক ধারা থেকে বের হওয়া সম্ভব হয়নি।

বক্তব্যের শেষ অংশে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট তাদের দলকে নিষিদ্ধ করার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, সে সময় বিএনপি ও এলডিপিসহ গণতান্ত্রিক দলগুলো এই আদেশের প্রতিবাদ জানিয়েছিল। তবে যারা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে তাদের চরম পতন ঘটেছিল, যা কুদরতি বিচারে এক ঐতিহাসিক শিক্ষা।

/আশিক


তীব্র গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে কারওয়ান বাজারে প্রতিবাদী কর্মসূচি: কঠোর আলটিমেটাম এনসিপির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০১ ২২:০৯:৫৯
তীব্র গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে কারওয়ান বাজারে প্রতিবাদী কর্মসূচি: কঠোর আলটিমেটাম এনসিপির
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীসহ সারা দেশে বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও সিএনজি খাতে বিদ্যমান গ্যাসের তীব্র সংকট নিরসন এবং সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগের প্রতিবাদে কারওয়ান বাজারে বিক্ষোভ সমাবেশ ও পেট্রোবাংলা ভবন অভিমুখে প্রতীকী মার্চ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে কারওয়ান বাজার মোড়ে সার্ক ফোয়ারার সামনে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার উদ্যোগে এই প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে খালি থালা ও পাতিল হাতে নিয়ে পেট্রোবাংলা ভবনের দিকে শোভাযাত্রা নিয়ে এগিয়ে যান।

সম্প্রতি পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে জ্বালানি বিভাগে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৬৭ শতাংশ এবং সিএনজিতে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবসংক্রান্ত চিঠির ওপর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এনসিপির নেতারা।

সমাবেশে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল মনসুর বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, বাসাবাড়িতে গ্যাস না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গৃহিণীরা, ব্যাহত হচ্ছে শিল্প উৎপাদন।

জ্বালানি খাতে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে তারা বলেন, বিদ্যমান এই সংকটের সুরাহা না করে উল্টো যদি গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো পাঁয়তারা করা হয়, তবে ঢাকাবাসীকে সাথে নিয়ে পেট্রোবাংলা ভবন ঘেরাও ও অবরুদ্ধ করা হবে। একই সাথে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে দেশের সার্বিক গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সারা দেশে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

/আশিক


অন্যায়ের অবসান ও নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০১ ২০:৩৯:৪৭
অন্যায়ের অবসান ও নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: জামায়াত আমির
বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: কালবেলা

দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সবকিছুকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দেওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি ষড়যন্ত্রের অস্তিত্ব অস্বীকার করাও ভুল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে সিলেট নগরীর বন্দরবাজারস্থ কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে দৈনিক জালালাবাদ আয়োজিত এক সুধী সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আমরা চাই না দেশ আবারও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত চোরাবালিতে হারিয়ে যাক। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের নজিরবিহীন আত্মত্যাগ এবং ত্যাগ স্বীকার কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। গোটা জাতিকে এই রক্তের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।"

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী আমলের অন্যায়, অবিচার ও দুর্নীতির অবসান ঘটিয়ে যে নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়। দেশজুড়ে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সামাজিক অনিয়ম বন্ধে কার্যকর এবং কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি জোর তাগিদ দেন।

গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, "সংবাদমাধ্যম হলো সমাজের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ। একটি স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই রাষ্ট্র ও সমাজকে সচেতন রাখতে পারে এবং প্রশাসনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনে।" গণমাধ্যমকর্মীদের সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে বস্তুনিষ্ঠ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

উক্ত সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব সম্প্রদায়ের অবদান ছিল: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০১ ২০:১৩:১২
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব সম্প্রদায়ের অবদান ছিল: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছিল, তা এখনো দলীয় আদর্শ হিসেবে ধারণ করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।

শনিবার (১ আগস্ট) গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর ডিআরইউ মিলনায়তনে 'সম্প্রীতির জুলাই: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অবদান' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানে দল-মত ও ধর্ম নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষ রাজপথে নেমেছিল। আন্দোলনের সূচনা থেকেই এর একটি অসাম্প্রদায়িক চরিত্র ছিল, যেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তত ৯ জন সদস্য শহীদ হন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারগুলো নিজেদের অসাম্প্রদায়িক দাবি করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক কার্ড হিসেবে ব্যবহার করেছে। ভোটে ফায়দা লুটতে তাদের একটি নির্দিষ্ট দলের পকেটে রাখার অপচেষ্টা চালানো হতো। এর ফলে সেই রাজনৈতিক দলের নানা অপকর্মের দায়ভারও অন্যায়ভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর গিয়ে পড়ত। তাই সংখ্যালঘুদের কোনো নির্দিষ্ট দলের পকেটে না গিয়ে সব দলের সাথে রাজনৈতিক সম্পর্ক রাখা উচিত, যাতে কোনো দলই তাদের ব্যবহার করতে না পারে।

জুলাই-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতি জোর দিয়ে তিনি বলেন, সংকটের সময় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, সেটিই জুলাইয়ের আসল শিক্ষা। শুধু গুম-খুন নয়, বিগত সময়গুলোতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখল ও হামলার সাথে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

জাতীয় অগ্রগতি ও সম্প্রীতি রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অপরিহার্য উল্লেখ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হলে তার সুফল রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক পাবে। তাই দেশকে বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে এবং নতুন করে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি না করে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব প্রীতম দাশের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় প্রধান ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

/আশিক


সিলেটে গাড়িবহরে হামলা: খালেদা জিয়ার ওপর অতীত হামলার সাথে তুলনা নাহিদ ইসলামের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ৩০ ১৯:৫০:২৫
সিলেটে গাড়িবহরে হামলা: খালেদা জিয়ার ওপর অতীত হামলার সাথে তুলনা নাহিদ ইসলামের
ছবি : সংগৃহীত

সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতীতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে যেভাবে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আক্রমণ চালিয়েছিল, ঠিক একই কায়দায় এখন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এনসিপির ওপর হামলা পরিচালনা করছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ‘জুলাই স্মরণে: অগ্নিঝরা জুলাই, রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, দেশে নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ও স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ব্যাহত করতেই বারবার এই ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে।

এর আগে সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দলটি। গোলাপগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়া কেন্দ্রীয় নেতাদের বহর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় হামলাকারীরা বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দেয়।

সংগঠনের যুগ্ম সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, এনসিপি কোনো ধরনের সংঘাত বা সহিংসতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তাই ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি থেকে বিরত থেকে তিনি আর কোনো দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলবেন না বলে মন্তব্য করেন।

হামলার ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: