‘দ্বিতীয় রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা
কি আছে এনসিপির ২৪ দফা ইশতেহারে?

২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম একটি বিস্তৃত ও ব্যাপক রাজনৈতিক ইশতেহার ঘোষণা করেন, যার লক্ষ্য একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র ‘দ্বিতীয় রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে দেশজুড়ে দলীয় নেতা-কর্মী, শহীদ পরিবার ও আহতদের উপস্থিতিতে তিনি ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ নামে এই ২৪ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন।
পটভূমি ও ঘোষণার প্রেক্ষাপট
সমাবেশের সূচনায় নাহিদ ইসলাম স্মরণ করেন এক বছর আগের ঐতিহাসিক ঘোষণা—যেখানে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের প্রতীক হিসেবে এক দফা দাবিতে ছাত্র-জনতা রাস্তায় নামে। তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই আন্দোলনের নেতৃত্ব কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, বরং গোটা দেশের জনগণ ও অভ্যুত্থানকারী তরুণদের। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এনসিপির জন্ম এবং আজকের এই ২৪ দফা ইশতেহার।
নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এই ইশতেহার জনগণের স্বপ্ন ও শহীদের রক্তের ঋণ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি। আমাদের সংগ্রাম কেবল সরকারের পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং সেই কাঠামো বদলের জন্য, যার ভেতরে ফ্যাসিবাদ গড়ে ওঠে।”
ইশতেহারের মূল আকর্ষণ
এই ২৪ দফায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার, যেমন নতুন সংবিধান প্রণয়ন, ফ্যাসিবাদী অপরাধের বিচার, বিচার ও প্রশাসনিক সংস্কার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, নারী-যুব-সংখ্যালঘুদের ক্ষমতায়ন, শ্রমিক-কৃষকের অধিকার, প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণা, জলবায়ু সহনশীলতা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল।
প্রতিটি দফা মূলত একটি করে রাষ্ট্রীয় সংকল্প ও উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনার ভিত্তি স্থাপন করে।
১। নতুন সংবিধান ও দ্বিতীয় রিপাবলিকের প্রবর্তন
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিকাঠামো একনায়কতান্ত্রিক ও পরিবারতন্ত্রের সুবিধার্থে ব্যবহৃত হওয়ায়, এনসিপি একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে। এই সংবিধান হবে জনগণের অংশগ্রহণে গণপরিষদের মাধ্যমে গৃহীত, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় নির্মিত হবে। নতুন সংবিধানে ব্যক্তির মর্যাদা, মৌলিক অধিকার, গণতন্ত্র, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং আইনের শাসন সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে। একনায়কতন্ত্র, দলীয়করণ, বিচারব্যবস্থার ওপর নির্বাহী হস্তক্ষেপ, ও ফ্যাসিবাদী প্রবণতাকে বন্ধ করা হবে সাংবিধানিকভাবে।
২। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও বিচার নিশ্চিতকরণ
২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা কর্তৃক পরিচালিত গণঅভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী এক ঐতিহাসিক রূপান্তর। এনসিপি এই অভ্যুত্থানের শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের পাশাপাশি শাপলা গণহত্যা, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত ও বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায়। পাশাপাশি আহতদের পুনর্বাসন ও আজীবন রাষ্ট্রীয় সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
৩। গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ সংস্কার
জনগণের প্রকৃত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এনসিপি এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন করতে চায়, যেখানে সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাহী বিভাগের অধীনস্থ না হয়ে স্বতন্ত্র ও কার্যকর হবে। নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে কালো টাকার প্রভাব দূর করার জন্য রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে নির্বাচনী ব্যয় বহনের পরিকল্পনা রয়েছে। গণতন্ত্র শুধু ভোটাধিকারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি স্তরে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
৪। বিচারব্যবস্থার ন্যায়ভিত্তিক রূপান্তর
এনসিপি চায় এমন এক বিচারব্যবস্থা, যা ক্ষমতাবানদের রক্ষা না করে, মজলুমদের পক্ষে দাঁড়াবে। ঔপনিবেশিক যুগের অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন সংস্কার করে মানবাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিচারনীতি চালু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল ফাইলিং, অনলাইন ট্র্যাকিং, আলাদা সচিবালয়, বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছতা ইত্যাদির মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকর হবে।
৫। দুর্নীতিমুক্ত ও জনসেবামূলক প্রশাসন
আমলাতন্ত্রকে রাজনৈতিক দলগুলোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিপরীতে এনসিপি দক্ষ, নিরপেক্ষ ও সেবামুখী প্রশাসন গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে। সরকারি নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। ডিজিটাল গভর্ন্যান্স চালু করে জনসেবার গতি বাড়ানো হবে এবং দুর্নীতির দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির নিশ্চয়তা থাকবে। Whistleblower Protection আইন প্রণয়ন করে দুর্নীতিবিরোধী সাহসী নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া হবে।
৬। মানবাধিকার রক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সংস্কার
র্যাব বিলুপ্তিসহ পুলিশ ব্যবস্থার রাজনৈতিক অপব্যবহার রোধে স্থায়ী কমিশন গঠন করা হবে। গ্রেপ্তারে ওয়ারেন্ট বাধ্যতামূলক করা, বডি ক্যামেরা চালু, কমিউনিটি পুলিশিং চালু, এবং মানবাধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হবে যাতে রাজনৈতিক নির্যাতন বন্ধ হয়।
৭। গ্রাম পার্লামেন্ট ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
শুধু শহরকেন্দ্রিক নয়, উন্নয়ন ছড়িয়ে দিতে গ্রামে 'গ্রাম পার্লামেন্ট' গঠন করা হবে যাতে স্থানীয় সমস্যা, উন্নয়ন ও সরকারি সেবার বিষয়গুলো জনগণের অংশগ্রহণে নির্ধারিত হয়। সংসদ সদস্যদের ক্ষমতা ছাঁটাই করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর করা হবে। স্থানীয় সরকারকে একটি স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে পরিচালনা করে তা শক্তিশালী করা হবে।
৮। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও শক্তিশালী নাগরিক সমাজ
গণমাধ্যম যেন কোনো কর্পোরেট বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর না হয়ে জনগণের পক্ষ হয়ে কথা বলে, তার জন্য মালিকানার বৈচিত্র্য ও আইনি কাঠামো নিশ্চিত করা হবে। প্রেস কাউন্সিলকে সক্রিয় করা হবে এবং মিথ্যা তথ্য বা গুজব রোধে নিরপেক্ষ তথ্য যাচাই ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে। নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণে নীতিনির্ধারণে গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার করা হবে।
৯। সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা
জিপিএস-চালিত অ্যাম্বুলেন্স, ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড, ইউনিক হেলথ আইডি, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, অঞ্চলভিত্তিক বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নারী-সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। প্রাথমিক চিকিৎসাকে মূল ভিত্তি হিসেবে ধরে একটি শক্তিশালী জাতীয় স্বাস্থ্য কাঠামো গঠন করা হবে।
১০। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায্য শিক্ষানীতি
সকল শিক্ষার ধারা যেমন বাংলা, ইংরেজি, মাদ্রাসা ইত্যাদির মধ্যে সমন্বয় করে জাতীয় পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন করা হবে। শিক্ষা হবে অধিকার, পণ্য নয়। বিজ্ঞান-প্রযুক্তিভিত্তিক, নৈতিকতা ও নাগরিক চেতনা সম্পন্ন শিক্ষার মাধ্যমে উদ্ভাবনক্ষম নাগরিক তৈরি করা হবে। শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
১১। গবেষণা, উদ্ভাবন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লব
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এনসিপি গবেষণা খাতে বিপ্লব ঘটানোর ঘোষণা দিয়েছে। সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে ৫০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প হাতে নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যার আওতায় থাকবে মহাকাশ প্রযুক্তি, রাডার, AI, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, ন্যানোটেক, নিউক্লিয়ার সায়েন্স, সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলোজি প্রভৃতি ক্ষেত্রে গবেষণা ও ল্যাব প্রতিষ্ঠা। বিশ্বমানের গবেষণাগারের সঙ্গে সহযোগিতা করে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হবে। কম্পিউটেশনাল গবেষণার জন্য ন্যাশনাল কম্পিউটিং সার্ভার গঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ক্লাস্টার তৈরি করা হবে। সাইবার নিরাপত্তা রক্ষায় আলাদা কমিশন গঠন করা হবে।
১২। ধর্ম, সম্প্রদায় ও জাতিসত্ত্বার মর্যাদা
বাংলাদেশের বহুজাতিক, বহু ভাষাভিত্তিক ও বহু সংস্কৃতির সমাজে ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে নিপীড়নের বিরুদ্ধে এনসিপির অবস্থান দৃঢ়। তারা প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অধিকার, মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে। হিন্দুদের জমি দখলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, দলিত ও তফসিলি সম্প্রদায়ের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে বিশেষ বরাদ্দ এবং সকল ধর্মে বিদ্বেষমূলক আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানবাধিকার কমিশনের অধীনে একটি স্বতন্ত্র সেল গঠন করা হবে যা এসব নিপীড়নের তদন্ত ও পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে।
১৩। নারীর নিরাপত্তা, অধিকার ও ক্ষমতায়ন
নারী অংশগ্রহণের সত্যিকার নিশ্চয়তা দিতে সংসদে ১০০টি সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে নারীর অংশ, কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমবেতন, গৃহিনীর অবদানকে জিডিপির অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। প্রতিটি থানায় নারী সহিংসতা প্রতিরোধ সেল, নারী পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি, ধর্ষণ মামলার ফাস্ট ট্র্যাক ট্রায়াল এবং গণমাধ্যমে ভিকটিমের পরিচয় গোপনের বিধান কার্যকর করা হবে। মাতৃত্বকালীন ও পিতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত, ব্রেস্টফিডিং রুম, বয়স্ক ও শিশু সেবা কেন্দ্র এবং নিরাপদ যাতায়াতের জন্য নারীবাস চালু করা হবে।
১৪। মানবকেন্দ্রিক ও কল্যাণমুখী অর্থনীতি
এনসিপি চায় এমন একটি অর্থনীতি যেখানে ব্যক্তি নয়, সমাজ ও রাষ্ট্র হবে কেন্দ্রীয়—যেখানে মানুষ, পরিবেশ, এবং সামাজিক ন্যায়বিচার থাকবে মূলধারায়। জিডিপি প্রবৃদ্ধি নয়, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন হবে উন্নয়নের সূচক। বেকার, প্রবীণ, বিধবা, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের ভাতা নাগরিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত হবে। কর কাঠামো হবে প্রগতিশীল; ধনীদের কাছ থেকে বেশি কর আদায় করে গরিবদের জন্য উন্নয়ন বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে। ব্যাংক, পুঁজিবাজার, সঞ্চয়পত্র ও ঋণনীতির পূর্ণ সংস্কার ঘটানো হবে।
১৫। তারুণ্য ও কর্মসংস্থান
বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি ইন্টার্নশিপ সম্প্রসারণ, প্রশ্নফাঁস রোধে স্বচ্ছ নিয়োগ পরীক্ষা ব্যবস্থা, উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনা ও ফ্রিল্যান্স হাব গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। প্রবাসে কাজের জন্য IT, নার্সিং, হসপিটালিটি ইত্যাদি খাতে ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন, বিদেশি সনদপ্রাপ্তি এবং জেলা পর্যায়ে ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
১৬। বহুমুখী বাণিজ্য ও শিল্পায়ন নীতি
গার্মেন্টসনির্ভরতা কমিয়ে চামড়া, আসবাব, হালকা প্রকৌশল, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। ওষুধ শিল্পের সুরক্ষা, ICT খাত সম্প্রসারণ, চট্টগ্রাম-মংলা-মাতারবাড়িকে লজিস্টিক হাবে রূপান্তর এবং শিল্প উন্নয়নে ৫০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনার জন্য জাতীয় কমিশন গঠন করা হবে।
১৭। টেকসই কৃষি ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব
প্রচলিত কৃষি ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রযুক্তি ও ভর্তুকি, বিষমুক্ত ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন, কৃষকদের সরাসরি বিক্রয়ের সুযোগ এবং ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে অঞ্চলভিত্তিক তথ্যভাণ্ডার গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বীজ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন ও কৃষি রপ্তানির উপযোগিতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।
১৮। শ্রমিক-কৃষকের অধিকার
শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি কাঠামো, সামাজিক সুরক্ষা, বাধ্যতামূলক কর্ম-সুরক্ষা-বীমা, পেনশন তহবিল, শ্রম ট্রাইব্যুনালের বিস্তৃতি এবং শিশুশ্রম নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কৃষকদের ফসলের ন্যায্য দামে বিক্রির জন্য হিমাগার, কৃষি বীমা, আবহাওয়া ও বাজার সম্পর্কিত জাতীয় মোবাইল প্ল্যাটফর্ম গঠনের কথা বলা হয়েছে।
১৯। জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা
গ্যাস, খনিজ, কয়লা, পাথরসহ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা হবে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে টেকসই খনন নীতি প্রণয়ন, আন্তর্জাতিক চুক্তির পুনর্বিন্যাস এবং সুন্দরবনের সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
২০। পরিকল্পিত নগরায়ন ও পরিবহন ব্যবস্থা
রাজধানীকেন্দ্রিক কেন্দ্রীয়করণ বন্ধ করে অন্যান্য শহরে সরকারি সেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে। সামাজিক আবাসন, বাড়িভাড়া নীতিমালা, নদী খাল ভিত্তিক নগরায়ন, পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন, সবুজ উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ এবং সাশ্রয়ী ও গতিশীল আন্তঃজেলা যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
২১। জলবায়ু সহনশীলতা ও নদী-সমুদ্র রক্ষা
জলবায়ু বিপর্যয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় বনায়ন, নদী সংরক্ষণ, সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা, খনন নিয়ন্ত্রণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার, আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবিতে আন্তর্জাতিক ফোরামে সক্রিয় কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
২২। প্রবাসী বাংলাদেশির মর্যাদা ও অধিকার
প্রবাসীদের শুধু রেমিট্যান্স উৎস না ভেবে রাষ্ট্রের অংশীদার হিসেবে দেখার কথা বলা হয়েছে। দূতাবাসে হয়রানিমুক্ত সেবা, ভোটাধিকার, বিনিয়োগ সহায়তা, প্রবাসে মৃত্যুর পর মরদেহ ফেরত আনা এবং প্রবাসী নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
২৩। বাংলাদেশকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি
বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চে রেখে দলনিরপেক্ষ, সার্বভৌম, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। সীমান্ত হত্যা বন্ধ, রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক সমাধান, মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্ব, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও পাবলিক ডিপ্লোম্যাসির বিস্তার হবে এই নীতির মূল লক্ষ্য।
২৪। জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল
সক্ষমতা ও শৃঙ্খলাভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গঠনের লক্ষ্য নিয়ে সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল, UAV ব্রিগেড, সাবমেরিনভিত্তিক নৌবাহিনী, সেকেন্ড স্ট্রাইক সক্ষমতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন করা হবে। প্রতিরক্ষা হবে সংসদীয় নজরদারিতে পরিচালিত, যা আঞ্চলিক শান্তি ও কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখবে।
ইশতেহার ঘোষণার শেষ মুহূর্তে নাহিদ ইসলাম আবারও জনগণকে স্মরণ করিয়ে দেন শহীদ মিনার থেকে শুরু হওয়া শপথের কথা—এই দেশকে স্বৈরতন্ত্রের কবল থেকে মুক্ত করার। তিনি বলেন, “আপনারা সাড়া দিয়েছেন, ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছেন। এখন সময় এসেছে নতুন বাংলাদেশ গড়ার।”
শনিবার রাজপথে নামছে ১১ দলীয় ঐক্য, চূড়ান্ত হলো লংমার্চের দিনক্ষণ ও পথনকশা
সংবিধান সংস্কারে বিএনপি সরকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যজোট। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর আয়োজিত ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই অভিযোগ করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচনের মাত্র ছয় মাসের মাথায় জাতিকে দেওয়া ওয়াদা ভঙ্গ করে দেশ পরিচালনা করলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ সংকট তৈরি হবে। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সাংবিধানিক সংস্কারের উদ্যোগ নিতে তিনি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার, জ্বালানি সংকট নিরসন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবিতে আগামী শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত রাজপথে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জোটটি। জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ কর্মসূচির রুট চূড়ান্ত করা হয়। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৭টায় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জমায়েত শেষে সকাল ৮টায় লংমার্চের যাত্রা শুরু হবে। এরপর টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার মাটিডালি এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ধারাবাহিক পথসভা শেষে সন্ধ্যা ৭টায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হবে।
ব্রিফিংয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অহমিকায় সরকার ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করছে এবং পবিত্র কোরআন-সুন্নাহর বিধান উপেক্ষা করে হেবা আইনের ওপর হস্তক্ষেপ চালিয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনী আইন সংশোধনের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলেও তিনি দাবি করেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কর্তৃত্ববাদী পথে না হেঁটে সরকারের প্রতি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে আগামী শনিবারের শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক লংমার্চে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি না করতে প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি জানান জোটের নেতারা।
/আশিক
বিদেশের আরাম নয়, দেশে ১০ বছর জেল খাটাই বেছে নেব: আসিফ মাহমুদ
কোনো অপরাধে দোষী প্রমাণিত হলে বিদেশের আরাম-আয়েশের জীবনের পরিবর্তে দেশেই ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করাকে বেছে নেবেন বলে জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় তিনি এ কথা বলেন।
ভিডিওবার্তায় তিনি বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিদেশের মাটিতে তাঁর এক টাকার বিনিয়োগ কিংবা এক কণা ধূলিকণা কেনার প্রমাণ কেউ দেখাতে পারলে তিনি সেই দিনই রাজনীতি ছেড়ে দেবেন বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, দেশের বাইরে বিলাসবহুল জীবন কাটানোর চেয়ে নিজের শক্তিশালী জাতীয়তাবোধের কারণে তিনি নির্দ্বিধায় ১০ বছর দেশে জেল খাটাকেই বেছে নেবেন।
আসিফ মাহমুদ আরও অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই কেবল একটি স্বার্থান্বেষী ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ক্ষমতার অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি দেশের গণমাধ্যমের তথ্য পরিবেশনকেও সতর্ক ও বিশ্লেষণমূলক দৃষ্টিতে দেখার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
/আশিক
ওয়াদা অস্বীকার করে উল্টো পথে হাঁটছে সরকার: জামায়াত আমির
দেশবাসীকে দেওয়া পূর্বের প্রতিশ্রুতি অস্বীকার করে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ উল্টো পথে হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ‘সিন্ডিকেট ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যে জামায়াত আমির অভিযোগ করে বলেন, গণভোটের আহ্বান জানানো হলেও তা মানা হচ্ছে না এবং তথাকথিত জুলাই চার্টার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও কার্যত তার কিছুই করা হচ্ছে না।
সাংবিধানিক ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মানবাধিকার কমিশন ও নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন রাখার কথা বলা হয়েছিল। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচন কমিশনে দলীয় অনুগত ও বহু আগেই অবসরে যাওয়া এক ব্যক্তিকে অতিরিক্ত সচিবের (এডিশনাল সেক্রেটারি) গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে।
/আশিক
ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর ওবায়দুল কাদেরের কথোপকথন ফাঁস
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে কথোপকথনের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও মারধরের প্রত্যক্ষ উসকানি দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। এই ঐতিহাসিক রায়ের পর আয়োজিত আনুষ্ঠানিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মামলার বিভিন্ন তথ্য ও আসামিদের ভূমিকা তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দামকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, ‘তোমরা মারো না কেন? মারো।’ এভাবে তিনি বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে ছাত্রলীগকে সহিংসতায় প্ররোচিত করেন। এর পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের ‘দেখা মাত্রই গুলি’ করার কঠোর নির্দেশনাও জারি করেছিলেন ওবায়দুল কাদের। আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন, গত ১১ জুলাই সাদ্দামকে ওই নির্দেশ দেওয়ার পরপরই ১৬ জুলাই ওয়াসিম ও আবু সাঈদসহ কয়েকজন আন্দোলনকারী নির্মমভাবে নিহত হন।
পরবর্তী পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করে এবং এই সহিংসতার শিকার হয়ে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেন। এর আগে ওবায়দুল কাদের প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে আন্দোলন দমনের জন্য ছাত্রলীগই যথেষ্ট। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব উসকানি ও দমনমূলক তৎপরতার ফলেই দেশজুড়ে এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। আসামিদের সহিংস বক্তব্য ও দিকনির্দেশনার ওপর ভর করেই তৎকালীন সরকারের অনুগত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা যৌথভাবে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাযজ্ঞ চালায়।
/আশিক
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে লড়বে জামায়াত
জাতীয় নির্বাচনে এবং নির্বাচন-পরবর্তী বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জোটভুক্ত অবস্থানে থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পুরোপুরি এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই সিদ্ধান্তের ফলে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মতো স্থানীয় সরকারের সব স্তরেই দলটির নিজস্ব প্রার্থীরা দলীয় ব্যানারে লড়াই করবেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে আয়োজিত সীরাতুন্নবী (সা.) কনফারেন্সের সমাপ্তি পর্বে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে দলের এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সাংগঠনিক প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, জামায়াতে ইসলামী একটি নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল হিসেবে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি ধাপের জন্য সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছে। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা থেকে শুরু করে সিটি করপোরেশন পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ এখন চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে এবং অনেক অঞ্চলেই ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করে তাদের মাঠপর্যায়ে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর নির্বাচনী পরিকল্পনা প্রসঙ্গে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা উল্লেখ করেন যে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ—উভয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনেই জামায়াত এককভাবে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং দলীয় ফোরামে প্রার্থীদের নাম মনোনীত করা হয়েছে। উপযুক্ত সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রকাশ করা হবে, যদিও গণমাধ্যমে ইতিমধ্যে ঢাকা উত্তরে সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণে সাদিক কায়েমের নাম সামনে এসেছে।
স্থানীয় নির্বাচনে জোটগত সমীকরণের বিষয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার ব্যাখ্যা দেন যে, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের যে ১১ দলীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল, নির্বাচনের পরও বিভিন্ন আন্দোলনের কর্মসূচি তারা সেই জোটের আওতাতেই পালন করে আসছেন। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে জোটের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া হয়েছে যে প্রতিটি দলই নিজস্ব প্রতীকে ও একক প্রার্থী নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে, ফলে স্থানীয় সরকারের কোনো স্তরেই জোটগত কোনো প্রার্থী থাকছে না।
/আশিক
দেশে অতীতের মতো অন্ধকার যেন আর না আসে: নেতা-কর্মীদের রিজভীর কড়া বার্তা
দেশে অতীতের মতো অন্ধকার ও দুঃসময় যাতে আর ফিরে না আসে, সে বিষয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদনগর ইউনিয়নের ভোরবাজার এলাকায় ওমরিয়া ফারুকিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ২০১৩ সালে নিহত যুবদল কর্মী মোহাম্মদ হারুনুর রশিদের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। রিজভী অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দলীয় পুলিশ বাহিনী সরাসরি গুলি চালিয়ে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হত্যা করেছে; সেই রক্তক্ষয়ী দুর্দিনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রেখে কাজ করতে হবে।
স্মরণসভায় হারুনুর রশিদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে রিজভী বলেন, কোনো লুটপাট বা ব্যাংক দুর্নীতির সুবিধাভোগী হয়ে নয়, বরং নির্ভেজাল বহুদলীয় গণতন্ত্রের আদর্শ রক্ষার লড়াইয়ে শামিল হয়ে তিনি প্রাণ দিয়েছেন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদীন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম এবং নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বক্তব্য দেন। স্মরণসভা শেষে ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর গুলিতে নিহত হওয়া হারুনের স্ত্রী জোহরা আক্তার ও সন্তানদের হাতে একটি নতুন নির্মিত ঘরের চাবি ও আর্থিক অনুদান তুলে দেন রিজভী।
/আশিক
ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র পদে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করল এনসিপি
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এক বিজ্ঞপ্তিতে এই দুই প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত ঘোষণা করেন।
মেয়র প্রার্থী ঘোষণার পাশাপাশি একই দিনে ঢাকার দুই মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে এনসিপির একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করতে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন। তিনি ওয়ার্ডভিত্তিক কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্তকরণ, স্থানীয় নাগরিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক নিবিড় যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের যেকোনো ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খল তৎপরতা প্রতিহত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার আহ্বান জানান।
/আশিক
দেড় বছরেই অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার: দুর্নীতির পোস্টার বয় আসিফ মাহমুদ
ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে এসে অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হওয়া আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, পদায়ন বাণিজ্য এবং বিদেশে অর্থপাচারের গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এর আগে গত ৪ মার্চ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তাঁর ব্যাংক হিসাব তলব করলে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে নিজের ও পরিবারের অ্যাকাউন্টের বিবরণ তুলে ধরেন, যেখানে তাঁর দুটি হিসাবে প্রায় পৌনে দশ লাখ টাকা থাকার তথ্য জানানো হয়। তবে বিশ্লেষক ও অভিযোগকারীদের দাবি, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে দুর্নীতির অর্থ রাখা হয় না, বরং বিভিন্ন অপ্রচলিত ও গোপন মাধ্যমে এই অর্থ সরানো হয়েছে।
দুদকে জমা পড়া অভিযোগগুলোর মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো হলো—স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি, ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনে শীর্ষ পদ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেন (যার মধ্যে ওয়াসা এমডি নিয়োগে ১০ কোটি ও ডিএনসিসি প্রশাসক নিয়োগে ২০ কোটি টাকার অভিযোগ রয়েছে), এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে পদোন্নতি ও বদলি সিন্ডিকেট পরিচালনা।
এ ছাড়া সারাদেশে ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন, সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার টেন্ডার থেকে ১০-৩০ শতাংশ কমিশন গ্রহণ এবং তাঁর এপিএস মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার লেনদেন করে সেই অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের তালিকায় তাঁর পিতার নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রদান এবং দুর্নীতির অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও দুবাইয়ের সম্পদে রূপান্তরের বিষয়টিও রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সাবেক এই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ এনে দ্রুত বিচার ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জোর দিয়ে বলেছেন, রাষ্ট্রীয় পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো এসব গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অপরিহার্য।
/আশিক
সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম প্রতিস্থাপনের দাবি খেলাফত মজলিসের
এমন নামমাত্র বা দুর্বল পরিবর্তনের জন্য ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র ও যুবসমাজ ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী লড়াই করেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। তিনি ঘোষণা দেন, এবারের মূল সংগ্রাম হলো কার্যকর সংস্কারের মাধ্যমে দেশের সংবিধান আমূল পরিবর্তন করা এবং সেই সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পুনঃস্থাপিত করা। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশালের সদর রোডস্থ ঐতিহাসিক অশ্বিনী কুমার টাউন হলে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোটের গণরায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান অবনতির তীব্র প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বরিশাল জেলা ও মহানগর শাখা। সমাবেশে মামুনুল হক বলেন, দীর্ঘদিনের শোষণ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের যে ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ, তা কেবল শাসনক্ষমতার হাতবদলের জন্য ছিল না; বরং তা ছিল রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো ও সাংবিধানিক চরিত্র পরিবর্তনের লড়াই। জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- পরমাণু শক্তির নিরাপদ ব্যবস্থাপনায় দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ, ভিয়েনায় তুলে ধরলেন মন্ত্রী
- ব্যাট হাতে রূপকথার ঝড়, রেকর্ড বই তছনছ করে এলিট ক্লাবে তরুণ ভারতীয় তারকা
- শনিবার রাজপথে নামছে ১১ দলীয় ঐক্য, চূড়ান্ত হলো লংমার্চের দিনক্ষণ ও পথনকশা
- গেজেট প্রকাশের আগেই সামনে এলো নতুন পে-স্কেলের বিস্তারিত, কার কত বাড়ছে?
- এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাল্টে গেল চিত্র, ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে দুই তারকার সরাসরি লড়াই
- টানা ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না রাজধানী ও আশপাশের যেসব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়
- সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকারের মেগা ঋণ কর্মসূচি, মিলবে সাশ্রয়ী সুদে
- গাম্বিয়ার ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে ব্যারিস্টার নাজির আহমদের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ইসবগুলের ভুষি: সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা
- মক্কা চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের বড় ঘোষণা, সতর্কবার্তা তেহরানের উদ্দেশে
- বাড়বে না হজের নিবন্ধনের সময়, চূড়ান্ত সময়সীমা নিয়ে জরুরি নির্দেশনা
- মক্কার ড্রোন হামলার ভিডিও নিয়ে তোলপাড় নেটদুনিয়া, যা জানা গেল ফ্যাক্ট চেকে
- বিদেশের আরাম নয়, দেশে ১০ বছর জেল খাটাই বেছে নেব: আসিফ মাহমুদ
- ‘শুধু পুরুষেরই কি তওবার অধিকার?’ এক সংলাপেই তোলপাড় পাকিস্তানি নাটক
- বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি ও কাদের সিদ্দিকীর গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ, যা আলোচনা হলো
- নিম্নমুখী প্রবণতার পরেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় লাফ, বাড়ল রুপার দামও
- ৮ অঞ্চলের নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত, ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস
- ওয়াদা অস্বীকার করে উল্টো পথে হাঁটছে সরকার: জামায়াত আমির
- ৬ জুনের মধ্যে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার ভোট সম্পন্ন করার লক্ষ্য ইসির
- আগামী মাসে রূপপুর থেকে গ্রিডে আসবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: রুশ রাষ্ট্রদূত
- সেপ্টেম্বরের শেষভাগে রাতের আকাশে চোখ জুড়ানো মহাজাগতিক দৃশ্য
- শেষ হতে চলেছে স্মার্টফোনের যুগ? রহস্যময় ডিভাইস নিয়ে আসছে ওপেনএআই
- তাপপ্রবাহের মাঝে বৃষ্টির পূর্বাভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা
- এলএনজি, জ্বালানি তেল ও টিসিবির পণ্য কেনায় সরকারের মেগা অনুমোদন
- একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ
- সুন্দরবনে ফাইভ-স্টার ‘ট্রি-হাউস’ ও আকাশপথে বাঘ দর্শনের মেগা পরিকল্পনা
- মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণে বড় মোড়, হুতি ঠেকাতে এক টেবিলে সৌদি ও ইসরায়েল?
- ২০৩১ সালের মধ্যে চালু হচ্ছে নতুন ইলেকট্রিক ট্রেন, মেগা বরাদ্দ একনেকে
- বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের গর্জন, আইসিসির নতুন র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের চমক
- ১ মিনিটের বিজ্ঞাপনে তোলপাড় নেটদুনিয়া, তীব্র সমালোচনার মুখে তারকা অভিনেত্রী
- নিম্নমুখী ধারার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় লাফ, কোন পথে হাঁটছে বাজার?
- ভারত ও চীনসহ ১০ দেশকে নিশানা করে মার্কিন কংগ্রেসে নতুন বিল
- মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টার তীব্র নিন্দা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজের
- ডেঙ্গুর প্রকোপে নতুন রেকর্ড, ২৪ ঘণ্টায় প্রাণহানি ও আক্রান্তের নতুন তথ্য
- হেবরনের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদ মুসলিমদের জন্য বন্ধ করল ইসরায়েল
- রক্তক্ষয়ী সংঘাতে লণ্ডভণ্ড পশ্চিম উপকূল, ইয়েমেনে তৈরি হচ্ছে বড় মানবিক বিপর্যয়
- রাজধানীতে আধুনিক যোগাযোগের মহাবিপ্লব, একনেক সভায় বিপুল অর্থ বরাদ্দ
- ভরদুপুরে সেলুনে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ও কোপ, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল রোমহর্ষক দৃশ্য
- প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস আমন্ত্রণ নিয়ে ধোঁয়াশার অবসান, যা জানাল নয়াদিল্লি
- স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন বার্তা
- আগামী কয়েক দিন কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া, জানাল অধিদপ্তর
- গ্যাস-বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর মুখে দেশের পোশাক শিল্প
- চলমান সামরিক সংঘাতকে 'পবিত্র যুদ্ধ' আখ্যা দিয়ে যা বললেন উত্তর কোরিয়ার নেতা
- বিশ্বকাপ বর্জনের নেপথ্যে কী ঘটেছিল? চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল তদন্ত কমিটি
- গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখা ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই প্রধান কাজ: রাষ্ট্রপতি
- ফজরের পর অল্প লোক নিয়ে ভিডিওর জন্য মিছিল করে নিষিদ্ধ লীগ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান কবে শুরু? সামনে এলো সম্ভাব্য তারিখ
- প্রস্তুতির ঘাটতি নয়, বাংলাদেশ দুর্দান্ত খেলেই জিতেছে: প্যাট কামিন্স
- পশ্চিমাঞ্চলীয় তিন শহরে প্রশাসনের জরুরি বার্তা, যা ঘটল সৌদি আরবে
- ঢাকার যানজট ও রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কঠোর পদক্ষেপ
- দেশে শ্রমশক্তি ও কর্মসংস্থানের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ
- কালিগঞ্জে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রস্তুতি সভা
- শেখ হাসিনা ‘বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী’ ও গুমের নির্দেশদাতা: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
- ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র পদে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করল এনসিপি
- ‘শত্রুদের কোনো হুমকিকেই গুরুত্ব দেয় না ইরান’: প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইবনুর রেজা
- ইন্টারনেট বা ডেটা ছাড়াই গুগল ম্যাপ ব্যবহারের ৫টি সহজ উপায়
- টানা দরপতনের পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ল ১ শতাংশের বেশি
- আমদানি ঘাটতির মুখে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি
- দেড় বছরেই অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার: দুর্নীতির পোস্টার বয় আসিফ মাহমুদ
- কোনো নাগরিক যেন আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে ব্যবস্থা করেছি: আইনমন্ত্রী
- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সারা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর: ব্রিকস সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্টের সতর্কবার্তা
- যোগ্যতা ছিল না, দুর্নীতির গন্ধ রয়েছে: পুতুলের নিয়োগ নিয়ে তোপ উপদেষ্টার
- ইরান-আমিরাত দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ব্রিকস সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য: বড় জয় দিল্লির
- দুর্গাপূজায় ইলিশ চেয়ে বাংলাদেশকে চিঠি দিল ভারতের আমদানিকারকরা
- ডিসেম্বরে না ফিরলে শেখ হাসিনার রাজনীতির মৃত্যু ঘটবে








