‘দ্বিতীয় রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা

 কি আছে এনসিপির ২৪ দফা ইশতেহারে? 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ০৪ ২৩:৫১:১৪
 কি আছে এনসিপির ২৪ দফা ইশতেহারে? 
জুলাই-গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ছবি: প্রথম আলো।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম একটি বিস্তৃত ও ব্যাপক রাজনৈতিক ইশতেহার ঘোষণা করেন, যার লক্ষ্য একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র ‘দ্বিতীয় রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে দেশজুড়ে দলীয় নেতা-কর্মী, শহীদ পরিবার ও আহতদের উপস্থিতিতে তিনি ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ নামে এই ২৪ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন।

পটভূমি ও ঘোষণার প্রেক্ষাপট

সমাবেশের সূচনায় নাহিদ ইসলাম স্মরণ করেন এক বছর আগের ঐতিহাসিক ঘোষণা—যেখানে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের প্রতীক হিসেবে এক দফা দাবিতে ছাত্র-জনতা রাস্তায় নামে। তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই আন্দোলনের নেতৃত্ব কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, বরং গোটা দেশের জনগণ ও অভ্যুত্থানকারী তরুণদের। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এনসিপির জন্ম এবং আজকের এই ২৪ দফা ইশতেহার।

নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এই ইশতেহার জনগণের স্বপ্ন ও শহীদের রক্তের ঋণ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি। আমাদের সংগ্রাম কেবল সরকারের পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং সেই কাঠামো বদলের জন্য, যার ভেতরে ফ্যাসিবাদ গড়ে ওঠে।”

ইশতেহারের মূল আকর্ষণ

এই ২৪ দফায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার, যেমন নতুন সংবিধান প্রণয়ন, ফ্যাসিবাদী অপরাধের বিচার, বিচার ও প্রশাসনিক সংস্কার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, নারী-যুব-সংখ্যালঘুদের ক্ষমতায়ন, শ্রমিক-কৃষকের অধিকার, প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণা, জলবায়ু সহনশীলতা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল।

প্রতিটি দফা মূলত একটি করে রাষ্ট্রীয় সংকল্প ও উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনার ভিত্তি স্থাপন করে।

১। নতুন সংবিধান ও দ্বিতীয় রিপাবলিকের প্রবর্তন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিকাঠামো একনায়কতান্ত্রিক ও পরিবারতন্ত্রের সুবিধার্থে ব্যবহৃত হওয়ায়, এনসিপি একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে। এই সংবিধান হবে জনগণের অংশগ্রহণে গণপরিষদের মাধ্যমে গৃহীত, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় নির্মিত হবে। নতুন সংবিধানে ব্যক্তির মর্যাদা, মৌলিক অধিকার, গণতন্ত্র, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং আইনের শাসন সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে। একনায়কতন্ত্র, দলীয়করণ, বিচারব্যবস্থার ওপর নির্বাহী হস্তক্ষেপ, ও ফ্যাসিবাদী প্রবণতাকে বন্ধ করা হবে সাংবিধানিকভাবে।

২। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও বিচার নিশ্চিতকরণ

২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা কর্তৃক পরিচালিত গণঅভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী এক ঐতিহাসিক রূপান্তর। এনসিপি এই অভ্যুত্থানের শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের পাশাপাশি শাপলা গণহত্যা, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত ও বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায়। পাশাপাশি আহতদের পুনর্বাসন ও আজীবন রাষ্ট্রীয় সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

৩। গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ সংস্কার

জনগণের প্রকৃত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এনসিপি এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন করতে চায়, যেখানে সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাহী বিভাগের অধীনস্থ না হয়ে স্বতন্ত্র ও কার্যকর হবে। নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে কালো টাকার প্রভাব দূর করার জন্য রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে নির্বাচনী ব্যয় বহনের পরিকল্পনা রয়েছে। গণতন্ত্র শুধু ভোটাধিকারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি স্তরে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

৪। বিচারব্যবস্থার ন্যায়ভিত্তিক রূপান্তর

এনসিপি চায় এমন এক বিচারব্যবস্থা, যা ক্ষমতাবানদের রক্ষা না করে, মজলুমদের পক্ষে দাঁড়াবে। ঔপনিবেশিক যুগের অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন সংস্কার করে মানবাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিচারনীতি চালু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল ফাইলিং, অনলাইন ট্র্যাকিং, আলাদা সচিবালয়, বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছতা ইত্যাদির মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকর হবে।

৫। দুর্নীতিমুক্ত ও জনসেবামূলক প্রশাসন

আমলাতন্ত্রকে রাজনৈতিক দলগুলোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিপরীতে এনসিপি দক্ষ, নিরপেক্ষ ও সেবামুখী প্রশাসন গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে। সরকারি নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। ডিজিটাল গভর্ন্যান্স চালু করে জনসেবার গতি বাড়ানো হবে এবং দুর্নীতির দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির নিশ্চয়তা থাকবে। Whistleblower Protection আইন প্রণয়ন করে দুর্নীতিবিরোধী সাহসী নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া হবে।

৬। মানবাধিকার রক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সংস্কার

র‌্যাব বিলুপ্তিসহ পুলিশ ব্যবস্থার রাজনৈতিক অপব্যবহার রোধে স্থায়ী কমিশন গঠন করা হবে। গ্রেপ্তারে ওয়ারেন্ট বাধ্যতামূলক করা, বডি ক্যামেরা চালু, কমিউনিটি পুলিশিং চালু, এবং মানবাধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হবে যাতে রাজনৈতিক নির্যাতন বন্ধ হয়।

৭। গ্রাম পার্লামেন্ট ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ

শুধু শহরকেন্দ্রিক নয়, উন্নয়ন ছড়িয়ে দিতে গ্রামে 'গ্রাম পার্লামেন্ট' গঠন করা হবে যাতে স্থানীয় সমস্যা, উন্নয়ন ও সরকারি সেবার বিষয়গুলো জনগণের অংশগ্রহণে নির্ধারিত হয়। সংসদ সদস্যদের ক্ষমতা ছাঁটাই করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর করা হবে। স্থানীয় সরকারকে একটি স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে পরিচালনা করে তা শক্তিশালী করা হবে।

৮। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও শক্তিশালী নাগরিক সমাজ

গণমাধ্যম যেন কোনো কর্পোরেট বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর না হয়ে জনগণের পক্ষ হয়ে কথা বলে, তার জন্য মালিকানার বৈচিত্র্য ও আইনি কাঠামো নিশ্চিত করা হবে। প্রেস কাউন্সিলকে সক্রিয় করা হবে এবং মিথ্যা তথ্য বা গুজব রোধে নিরপেক্ষ তথ্য যাচাই ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে। নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণে নীতিনির্ধারণে গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার করা হবে।

৯। সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা

জিপিএস-চালিত অ্যাম্বুলেন্স, ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড, ইউনিক হেলথ আইডি, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, অঞ্চলভিত্তিক বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নারী-সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। প্রাথমিক চিকিৎসাকে মূল ভিত্তি হিসেবে ধরে একটি শক্তিশালী জাতীয় স্বাস্থ্য কাঠামো গঠন করা হবে।

১০। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায্য শিক্ষানীতি

সকল শিক্ষার ধারা যেমন বাংলা, ইংরেজি, মাদ্রাসা ইত্যাদির মধ্যে সমন্বয় করে জাতীয় পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন করা হবে। শিক্ষা হবে অধিকার, পণ্য নয়। বিজ্ঞান-প্রযুক্তিভিত্তিক, নৈতিকতা ও নাগরিক চেতনা সম্পন্ন শিক্ষার মাধ্যমে উদ্ভাবনক্ষম নাগরিক তৈরি করা হবে। শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

১১। গবেষণা, উদ্ভাবন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লব

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এনসিপি গবেষণা খাতে বিপ্লব ঘটানোর ঘোষণা দিয়েছে। সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে ৫০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প হাতে নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যার আওতায় থাকবে মহাকাশ প্রযুক্তি, রাডার, AI, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, ন্যানোটেক, নিউক্লিয়ার সায়েন্স, সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলোজি প্রভৃতি ক্ষেত্রে গবেষণা ও ল্যাব প্রতিষ্ঠা। বিশ্বমানের গবেষণাগারের সঙ্গে সহযোগিতা করে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হবে। কম্পিউটেশনাল গবেষণার জন্য ন্যাশনাল কম্পিউটিং সার্ভার গঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ক্লাস্টার তৈরি করা হবে। সাইবার নিরাপত্তা রক্ষায় আলাদা কমিশন গঠন করা হবে।

১২। ধর্ম, সম্প্রদায় ও জাতিসত্ত্বার মর্যাদা

বাংলাদেশের বহুজাতিক, বহু ভাষাভিত্তিক ও বহু সংস্কৃতির সমাজে ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে নিপীড়নের বিরুদ্ধে এনসিপির অবস্থান দৃঢ়। তারা প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অধিকার, মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে। হিন্দুদের জমি দখলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, দলিত ও তফসিলি সম্প্রদায়ের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে বিশেষ বরাদ্দ এবং সকল ধর্মে বিদ্বেষমূলক আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানবাধিকার কমিশনের অধীনে একটি স্বতন্ত্র সেল গঠন করা হবে যা এসব নিপীড়নের তদন্ত ও পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে।

১৩। নারীর নিরাপত্তা, অধিকার ও ক্ষমতায়ন

নারী অংশগ্রহণের সত্যিকার নিশ্চয়তা দিতে সংসদে ১০০টি সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে নারীর অংশ, কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমবেতন, গৃহিনীর অবদানকে জিডিপির অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। প্রতিটি থানায় নারী সহিংসতা প্রতিরোধ সেল, নারী পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি, ধর্ষণ মামলার ফাস্ট ট্র্যাক ট্রায়াল এবং গণমাধ্যমে ভিকটিমের পরিচয় গোপনের বিধান কার্যকর করা হবে। মাতৃত্বকালীন ও পিতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত, ব্রেস্টফিডিং রুম, বয়স্ক ও শিশু সেবা কেন্দ্র এবং নিরাপদ যাতায়াতের জন্য নারীবাস চালু করা হবে।

১৪। মানবকেন্দ্রিক ও কল্যাণমুখী অর্থনীতি

এনসিপি চায় এমন একটি অর্থনীতি যেখানে ব্যক্তি নয়, সমাজ ও রাষ্ট্র হবে কেন্দ্রীয়—যেখানে মানুষ, পরিবেশ, এবং সামাজিক ন্যায়বিচার থাকবে মূলধারায়। জিডিপি প্রবৃদ্ধি নয়, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন হবে উন্নয়নের সূচক। বেকার, প্রবীণ, বিধবা, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের ভাতা নাগরিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত হবে। কর কাঠামো হবে প্রগতিশীল; ধনীদের কাছ থেকে বেশি কর আদায় করে গরিবদের জন্য উন্নয়ন বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে। ব্যাংক, পুঁজিবাজার, সঞ্চয়পত্র ও ঋণনীতির পূর্ণ সংস্কার ঘটানো হবে।

১৫। তারুণ্য ও কর্মসংস্থান

বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি ইন্টার্নশিপ সম্প্রসারণ, প্রশ্নফাঁস রোধে স্বচ্ছ নিয়োগ পরীক্ষা ব্যবস্থা, উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনা ও ফ্রিল্যান্স হাব গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। প্রবাসে কাজের জন্য IT, নার্সিং, হসপিটালিটি ইত্যাদি খাতে ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন, বিদেশি সনদপ্রাপ্তি এবং জেলা পর্যায়ে ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

১৬। বহুমুখী বাণিজ্য ও শিল্পায়ন নীতি

গার্মেন্টসনির্ভরতা কমিয়ে চামড়া, আসবাব, হালকা প্রকৌশল, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। ওষুধ শিল্পের সুরক্ষা, ICT খাত সম্প্রসারণ, চট্টগ্রাম-মংলা-মাতারবাড়িকে লজিস্টিক হাবে রূপান্তর এবং শিল্প উন্নয়নে ৫০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনার জন্য জাতীয় কমিশন গঠন করা হবে।

১৭। টেকসই কৃষি ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব

প্রচলিত কৃষি ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রযুক্তি ও ভর্তুকি, বিষমুক্ত ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন, কৃষকদের সরাসরি বিক্রয়ের সুযোগ এবং ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে অঞ্চলভিত্তিক তথ্যভাণ্ডার গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বীজ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন ও কৃষি রপ্তানির উপযোগিতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।

১৮। শ্রমিক-কৃষকের অধিকার

শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি কাঠামো, সামাজিক সুরক্ষা, বাধ্যতামূলক কর্ম-সুরক্ষা-বীমা, পেনশন তহবিল, শ্রম ট্রাইব্যুনালের বিস্তৃতি এবং শিশুশ্রম নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কৃষকদের ফসলের ন্যায্য দামে বিক্রির জন্য হিমাগার, কৃষি বীমা, আবহাওয়া ও বাজার সম্পর্কিত জাতীয় মোবাইল প্ল্যাটফর্ম গঠনের কথা বলা হয়েছে।

১৯। জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা

গ্যাস, খনিজ, কয়লা, পাথরসহ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা হবে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে টেকসই খনন নীতি প্রণয়ন, আন্তর্জাতিক চুক্তির পুনর্বিন্যাস এবং সুন্দরবনের সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

২০। পরিকল্পিত নগরায়ন ও পরিবহন ব্যবস্থা

রাজধানীকেন্দ্রিক কেন্দ্রীয়করণ বন্ধ করে অন্যান্য শহরে সরকারি সেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে। সামাজিক আবাসন, বাড়িভাড়া নীতিমালা, নদী খাল ভিত্তিক নগরায়ন, পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন, সবুজ উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ এবং সাশ্রয়ী ও গতিশীল আন্তঃজেলা যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

২১। জলবায়ু সহনশীলতা ও নদী-সমুদ্র রক্ষা

জলবায়ু বিপর্যয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় বনায়ন, নদী সংরক্ষণ, সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা, খনন নিয়ন্ত্রণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার, আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবিতে আন্তর্জাতিক ফোরামে সক্রিয় কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

২২। প্রবাসী বাংলাদেশির মর্যাদা ও অধিকার

প্রবাসীদের শুধু রেমিট্যান্স উৎস না ভেবে রাষ্ট্রের অংশীদার হিসেবে দেখার কথা বলা হয়েছে। দূতাবাসে হয়রানিমুক্ত সেবা, ভোটাধিকার, বিনিয়োগ সহায়তা, প্রবাসে মৃত্যুর পর মরদেহ ফেরত আনা এবং প্রবাসী নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

২৩। বাংলাদেশকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি

বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চে রেখে দলনিরপেক্ষ, সার্বভৌম, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। সীমান্ত হত্যা বন্ধ, রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক সমাধান, মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্ব, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও পাবলিক ডিপ্লোম্যাসির বিস্তার হবে এই নীতির মূল লক্ষ্য।

২৪। জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল

সক্ষমতা ও শৃঙ্খলাভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গঠনের লক্ষ্য নিয়ে সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল, UAV ব্রিগেড, সাবমেরিনভিত্তিক নৌবাহিনী, সেকেন্ড স্ট্রাইক সক্ষমতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন করা হবে। প্রতিরক্ষা হবে সংসদীয় নজরদারিতে পরিচালিত, যা আঞ্চলিক শান্তি ও কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখবে।

ইশতেহার ঘোষণার শেষ মুহূর্তে নাহিদ ইসলাম আবারও জনগণকে স্মরণ করিয়ে দেন শহীদ মিনার থেকে শুরু হওয়া শপথের কথা—এই দেশকে স্বৈরতন্ত্রের কবল থেকে মুক্ত করার। তিনি বলেন, “আপনারা সাড়া দিয়েছেন, ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছেন। এখন সময় এসেছে নতুন বাংলাদেশ গড়ার।”


এমপিদের জন্য ওভেন-ওয়াশিং মেশিনের দাবি, জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ১৯:২৯:২৩
এমপিদের জন্য ওভেন-ওয়াশিং মেশিনের দাবি, জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক
ছবি : সংগৃহীত

সংসদ সদস্যদের সরকারি বাসভবনে মাইক্রোওভেন, ওয়াশিং মেশিন ও পর্দার ব্যবস্থা করার দাবিকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে আজ তীব্র বাদানুবাদ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর একজন সদস্যের উত্থাপিত এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ওই সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে মাইক্রোওভেন দেওয়ার প্রস্তাব দিলে সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিয়ে আর বিতর্ক না করার আহ্বান জানিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, সংসদ সদস্যদের মূল দায়িত্ব হলো জনগণের সমস্যা ও দাবি-দাওয়া হাউজে তুলে ধরা। সেখানে একজন সংসদ সদস্যের মাইক্রোওভেন, ওয়াশিং মেশিন ও পর্দার মতো ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধার বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেওয়া সংসদের মর্যাদার সঙ্গে কোনোভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের বক্তব্য সংসদ ও সংসদ সদস্যদের ভাবমূর্তিকে জনগণের সামনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

পার্থ আরও মন্তব্য করেন, যদি সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সত্যিই একটি মাইক্রোওভেনের প্রয়োজন হয়, তবে তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সেটি কিনে দিতে প্রস্তুত আছেন। একই সঙ্গে তিনি রসিকতা করে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সংসদ সদস্যদের জন্য ওয়াশিং মেশিনের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান।

পার্থের এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান সংসদে বলেন, মাননীয় সদস্য পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে যে কথাগুলো বলেছেন, স্পিকার নিজেই প্রথমে নাকজ করেছেন যে এটি পয়েন্ট অব অর্ডারের বিষয় নয়। তিনি আরও বলেন, জামায়াত নেতা মজিবুর রহমান নিজের জন্য নয়, বরং সব সংসদ সদস্যের জন্য একটি সুবিধার কথা চেয়েছেন। স্পিকার যথার্থই বলেছেন যে এটি সংসদে না বলে কমিটির কাছে বলা যেত। কিন্তু সেই সূত্র ধরে আন্দালিব রহমান পার্থ যেভাবে গাড়ি-বাড়ি এবং ব্যক্তিগতভাবে জিনিসপত্র দেওয়ার অফার করলেন, তা অত্যন্ত অনভিপ্রেত। উনার কাছে কেউ কিছু চায়নি যে উনি দান করবেন। সংসদ সদস্যদের মানসিকতা এমন হওয়া উচিত যাতে কেউ কারও সম্মানে আঘাত না করেন।

উভয় নেতার এই বাদানুবাদের প্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদ সদস্যদের আবাসন ও সুযোগ-সুবিধা দেখভালের জন্য নির্দিষ্ট 'হাউস কমিটি' রয়েছে এবং যেকোনো প্রয়োজনীয় বিষয় সেখানে উত্থাপন করাই নিয়ম। স্পিকার আরও উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট সদস্য নিজের একার জন্য নয়, সংসদের সরকারি বাসভবনে বসবাসকারী সব সদস্যের সামগ্রিক সুবিধার জন্য বিষয়টি উত্থাপন করেছেন।

স্পিকার এই ঘটনাটিকে গুরুতর কোনো অপরাধ নয় বলে মন্তব্য করেন। তবে তিনি যোগ করেন, যদিও এটি সংসদে না বললেই ভালো হতো, কারণ এতে জনমনে ভিন্ন ধরনের নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হতে পারে। তবে বিষয়টি সদস্যদের প্রাপ্য সুবিধার মধ্যেও পড়তে পারে। আন্দালিব রহমান পার্থের উদ্দেশ্যে স্পিকার বলেন, যেভাবে আপনি একজন সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে দেওয়ার অফার করেছেন, সেটি তার জন্য অসম্মানজনক মনে হতে পারে। তাই এই বিষয় নিয়ে আর বাড়াবাড়ির কোনো দরকার নেই। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি সবাইকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

/আশিক


প্রস্তাবিত বাজেট চানাচুর মার্কার মতো শুনলে ভালো লাগে খেলে পেট খারাপ হয়: আমির হামজা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৭ ২১:৪৬:৩৬
প্রস্তাবিত বাজেট চানাচুর মার্কার মতো শুনলে ভালো লাগে খেলে পেট খারাপ হয়: আমির হামজা
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে ‘লুটপাটের বাজেট’ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা। তিনি এই বাজেটকে ‘চানাচুর মার্কার’ সাথে তুলনা করে বলেন, "এ বাজেট অনেকটা চানাচুর মার্কার মতো; শুনতে ভালো লাগলেও খেলে পেট খারাপ হয়।"

বুধবার (১৭ জুন) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেন, জাতীয় বাজেটের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রের রাজস্ব আয় বাড়াতে কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সাথে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ না বাড়িয়ে নতুন আয়ের উৎস খুঁজে বের করার তাগিদ দেন তিনি। দেশের অন্যতম বড় সমস্যা বেকারত্ব মোকাবিলায় শিল্পায়নে আরও বেশি বিনিয়োগ ও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষা খাতে বরাদ্দের সমালোচনা করে এই সংসদ সদস্য বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি দীর্ঘদিনের অবহেলার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও মাদ্রাসাগুলো পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি। তিনি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এবং প্রতিটি জেলা শহরে একটি করে ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসা জাতীয়করণের জোর দাবি জানান।

কৃষি খাতের উন্নয়নে কৃষকদের জন্য স্বল্পমূল্যে সার ও বীজ সরবরাহ এবং কৃষি যন্ত্রপাতি সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত করার আহ্বান জানান আমির হামজা।

পাশাপাশি রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। তাদের যাতায়াত সুবিধার জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে রেললাইন চালুর উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও এ বিষয়ে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। আগামী বাজেটে যেন এটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন হয়, সেই দাবি জানান তিনি।

বাজেট নিয়ে সরকারের আশাবাদী বক্তব্যের সমালোচনা করে আমির হামজা বলেন, "সরকার দাবি করছে বাজেটকে ঘিরে দেশে আনন্দের বন্যা বইছে। কিন্তু বাজেট ঘোষণার পর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনের বাস্তব চিত্রও দেখা গেছে।"

/আশিক


দেশি-বিদেশি মদদে আবারও মাথাচাড়া দিচ্ছে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ২১:৪৭:২৬
দেশি-বিদেশি মদদে আবারও মাথাচাড়া দিচ্ছে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

দেশের অভ্যন্তরে এবং বিদেশি মদদে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, এই চক্রটি জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের পরিকল্পিতভাবে হেনস্থা, নিপীড়ন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পথ বেছে নিয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

সাংসদ নাহিদ ইসলাম তাঁর পোস্টে বলেন, "এর মধ্য দিয়ে আবারও আওয়ামী সন্ত্রাসী রাজনীতির নির্মম, সহিংস ও পাশবিক চরিত্র জাতির সামনে উন্মোচিত হয়েছে। হিংস্রতা ও নিষ্ঠুরতায় তারা সভ্যতার সব সীমা অতিক্রম করেছে।" তিনি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তির এই বর্বরতায় উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে এমন কিছু কুশীলবকে, যারা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় ছিল এবং গত ১৭ বছর ধরে গুম, খুন ও দমনের পক্ষে নির্লজ্জ সাফাই গেয়েছে।

গণমাধ্যমে ফ্যাসিবাদের অর্থায়নের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দেশ থেকে লুটপাট ও পাচার করা অর্থ এখন গণমাধ্যমে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রত্যক্ষ আর্থিক সহায়তায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম কার্যক্রম শুরু করেছে দাবি করে এ বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট জবাব চান তিনি। একই সঙ্গে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু গণমাধ্যম সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ঘিরে ধারাবাহিক সংবাদ প্রচার করে অপরাধ লঘু করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। আদালতের নির্দেশনার আলোকে গণমাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রচার অবিলম্বে নিষিদ্ধ করার এবং ফ্যাসিবাদীদের পক্ষে সম্মতি তৈরিকারী তথাকথিত সুশীল ও দালালচক্রকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম বর্তমান সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, "পতিত সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর দুঃসাহসের দায় সরকার এড়াতে পারে না। নির্বাচনের পর জুলাই গণহত্যাসহ অন্যান্য গণহত্যায় অভিযুক্ত নেতাদের একের পর এক মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের প্রতি একধরনের প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এর ফলেই তারা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।" তিনি জুলাই গণহত্যাসহ সব রাজনৈতিক নিপীড়নে জড়িতদের বিচারের পাশাপাশি গণহত্যা ও সন্ত্রাসে সম্পৃক্ত সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার অবিলম্বে শুরু করার জোর দাবি জানান। পরিশেষে, দেশে-বিদেশে সক্রিয় আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তিকে সর্বাত্মকভাবে প্রতিরোধ করতে তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

/আশিক


জুলাই সনদ সংসদে নিষ্পত্তি না হলে রাজপথে আদায়ের হুঁশিয়ারি ডা. শফিকুরের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ১৮:৪৭:১৬
জুলাই সনদ সংসদে নিষ্পত্তি না হলে রাজপথে আদায়ের হুঁশিয়ারি ডা. শফিকুরের
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের রায় সংসদে নিষ্পত্তি না হলে তা রাজপথে আদায় করা হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, জনগণের দাবি থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ তাদের নেই। তিনি বলেন, 'উই আর কমিটেড। আমরা আমাদের কমিটমেন্ট ভায়োলেট করতে পারি না। জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করব না। এই দাবি আজ হোক, কাল হোক আদায় হবে ইনশা-আল্লাহ।'

সংবিধান সংশোধনে সরকারি দলের প্রস্তাবিত কমিটিতে বিরোধী দল কোনো প্রতিনিধি দেবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দেন জামায়াত আমির। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের দাবি ছিল সংবিধান সংস্কার এবং সেই লক্ষ্যেই দেশে রেফারেন্ডাম বা গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের ৭২ শতাংশ মানুষ যেখানে ভোট দিয়েছে, সংসদের ভেতরে এসে সেই রায়কে তারা বদলাতে চান না। তিনি মনে করেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য কোনো বিশেষ কমিটির প্রয়োজন নেই, এটি একটি রুটিনওয়ার্ক যা ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে বিল আকারে এলে সংসদে আলোচনা হতে পারে। তবে সরকার যদি সংবিধান সংস্কারের জন্য কোনো প্রস্তাব দেয়, তখন তারা তা বিবেচনা করে দেখবেন।

সংসদের ভেতরে বিরোধী দলের বর্তমান কার্যক্রম ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নোটিশের প্রসঙ্গও সভায় তুলে ধরেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানান, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি, মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়া স্টক মার্কেট এবং গুঁড়া হওয়ার উপক্রম হওয়া ব্যাংক খাত নিয়ে তারা সংসদে জনগণের পক্ষে কথা বলেছেন। প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সুনির্দিষ্ট সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া সীমান্তে পুশ-ইন নিয়ে বিরোধী দলের দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে তা কার্যসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সেনসিটিভ ইস্যু হলেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে তারা এ নিয়ে আলোচনা চেয়েছিলেন।

অতীতের সংসদীয় সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে দেশের স্বার্থে একটি ভিন্নধর্মী ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তারা কোনো 'বগলদাবা' বা সরকারি দলের আজ্ঞাবহ বিরোধী দল হবেন না। আবার একই সাথে তারা কোনো অনর্থক 'গরম' বিরোধী দলও হতে চান না, বরং একটি যৌক্তিক বিরোধী দল হিসেবে কাজ করতে চান। কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সুযোগ না পেলে তারা সাময়িক ওয়াক আউট করবেন, কিন্তু জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন করে দীর্ঘমেয়াদে সংসদ বর্জন করবেন না। সংসদ অধিবেশন পরিচালনায় প্রতি মিনিটে এক লাখ ৭৬ হাজার টাকা খরচ হয় উল্লেখ করে তিনি স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানান, যেন সংসদে ব্যক্তিগত বা দলীয় চরিত্রহনন এবং কারও মনোরঞ্জন বা প্রশংসা করা বন্ধ করা হয়।

মতবিনিময় সভায় বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


বেনজীরকে ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ যেভাবে উঠল এমপি বন্ধুর বিরুদ্ধে

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ০৮:৪৬:২০
বেনজীরকে ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ যেভাবে উঠল এমপি বন্ধুর বিরুদ্ধে
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমদকে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নয়, বরং তার বাসার কাছাকাছি একটি শপিং মল থেকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। একই সঙ্গে দুবাইয়ে সরকারি ছুটি শেষে মঙ্গলবার (১৬ জুন) তাকে আদালতে হাজির করা হতে পারে এবং সেদিনই তার জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

পরিবারের দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই বেনজীর আহমদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসবাস করছেন। গত ১২ জুন বাসায় অবস্থান করার সময় চট্টগ্রাম অঞ্চলের এক সংসদ সদস্য, যিনি তার ব্যবসায়িক সহযোগী ও দীর্ঘদিনের পরিচিত হিসেবে পরিচিত, তাকে নিকটবর্তী একটি শপিং মলে দেখা করার জন্য ফোন করেন।

পরিবারের ভাষ্যমতে, নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর পর আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া দুবাই পুলিশের সদস্যরা তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। তারা আরও অভিযোগ করেছেন, ওই সময় সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তিও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তবে এই অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

পরিবারের দাবি, তারা দুবাই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছেন যে স্থানীয়ভাবে বেনজীর আহমদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তাদের মতে, বাংলাদেশ পুলিশের আবেদনের পর ইন্টারপোলের জারি করা রেড নোটিশের কারণেই তাকে আটক করা হয়েছে।

এছাড়া পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি ব্যক্তিগত উদ্যোগে রেড নোটিশসংক্রান্ত নথিপত্র দুবাই পুলিশের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তবে এ অভিযোগেরও কোনো স্বাধীন যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি।

বেনজীর আহমদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, আটকের পর দুবাই কর্তৃপক্ষ তার ভিসার বৈধতা, অবস্থানের উদ্দেশ্য এবং তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করেছে। পরে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নোটিশ কার্যকর রয়েছে এই তথ্য বাংলাদেশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ও বাংলাদেশ পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

এদিকে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে তার পক্ষে দুবাইয়ে একজন স্থানীয় আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে চলমান মামলাগুলোর প্রয়োজনীয় নথিপত্রও আইনজীবীর কাছে পাঠানো হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রগুলো বলছে, ১২ জুন সীমিত পরিসরে আদালতের কার্যক্রম চললেও সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক বন্ধের কারণে পরবর্তী কয়েকদিন স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত ছিল। মঙ্গলবার থেকে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর তাকে আদালতে হাজির করার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশের একাধিক সূত্রও নিশ্চিত করেছে যে বেনজীর আহমদ বর্তমানে দুবাই পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতেই বিষয়টি বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে।

-রফিক


ব্যাংক ফাঁকা, আইএমএফের টাকা নাই, বাজেট কীভাবে হবে?: সংসদে রুমিন ফারহানা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ১৯:৪৪:৪৮
ব্যাংক ফাঁকা, আইএমএফের টাকা নাই, বাজেট কীভাবে হবে?: সংসদে রুমিন ফারহানা
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুর দশা এবং ক্রমবর্ধমান ঋণনির্ভরতার তীব্র সমালোচনা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাবিত সম্পূরক বাজেটের বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে জাতীয় সংসদে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা ঘাটতি বাজেটের সংস্কৃতি এবং তা পূরণে চড়া সুদে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা সামষ্টিক অর্থনীতিকে এক অবর্ণনীয় চাপের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সোমবার স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা এসব তীক্ষ্ণ অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান ও নীতিগত প্রশ্ন উত্থাপন করেন।

সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা তাঁর বক্তব্যে দেশের বর্তমান অর্থনীতির যে ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন, তার পেছনে কিছু গভীর কাঠামোগত সংকট ও সরকারের নীতিগত অন্ধবিন্দু রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের খেলাপি ঋণ মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে, যা টাকার অঙ্কে প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

এর ফলে ব্যাংকিং খাতের মূলধনের পর্যাপ্ততা ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে। ব্যাংকিং খাতকে গত ১৫ বছর ধরে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দৃশ্যমান ব্যবসায়ী বহির্ভূত ও প্রভাবশালীদের হাতে ঋণ তুলে দেওয়ার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, দেশের অর্থনীতিকে এখন তার চরম খেসারত দিতে হচ্ছে। এই অবস্থায় সরকার যদি বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে আরও ঋণ নেয়, তবে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি পুরোপুরি শূন্যে মিলিয়ে যাবে এবং ব্যক্তিগত বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়বে, যা ইতিমধ্যে ২২ শতাংশ থেকে মাত্র ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

পুঁজি পাচার ও ডলার সংকটের অন্ধকার অধ্যায় তুলে ধরে তিনি জানান, শ্বেতপত্রের তথ্য অনুযায়ী বিগত ১৫ বছরে দেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যার বার্ষিক গড় ১৪ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার। গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির মতে, কেবল আন্ডার ও ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমেই বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে বাইরে গেছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ডলারের দাম ধরে রাখার ভুল নীতির কারণে আরও ১৮ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার এই খাত থেকে চলে গেছে।

এই পুঁজি পাচার রোধ এবং কর ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন না করে কেবল বাজেট সংশোধন করাকে তিনি জোড়াতালির অর্থনীতি বলে ইঙ্গিত করেন। এর ফলে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলারে, যা রপ্তানির হ্রাস এবং আমদানির আশঙ্কাজনক বৃদ্ধিকে নির্দেশ করে।

রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সবচেয়ে আশঙ্কাজনক দিকটি ছিল বৈদেশিক অর্থায়নের উৎস। আইএমএফ সম্প্রতি জানিয়েছে যে তারা পূর্ববর্তী চুক্তির পরবর্তী কিস্তিগুলো বর্তমান সরকারকে আর দেবে না এবং নতুন করে চুক্তি করার তাগিদ দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এডিবি বা বিশ্বব্যাংকের বাইরে গিয়ে চীন বা সমগোত্রীয় কোনো দেশের দ্বিপাক্ষিক ঋণের দিকে ঝুঁকতে হবে সরকারকে।

এই ধরণের ঋণে সুদের হার অনেক বেশি থাকে এবং অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে তা পরিশোধের কঠোর চাপ থাকে, যা দেশকে এক প্রকার ঋণের ফাঁদে ফেলতে পারে। জিডিপির আকার ৬৮ লাখ কোটি টাকা হলেও প্রবৃদ্ধি যেখানে মাত্র ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫ শতাংশ, সেখানে এই চড়া সুদের ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী কোন জাদুমন্ত্রে এই বাজেট বাস্তবায়ন করবেন, সেই প্রশ্নটিই এখন দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সংশয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

/আশিক


বেনজীরকে গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ’ জানালেন বিরোধীদলীয় উপনেতা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ১৮:০৯:১৩
বেনজীরকে গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ’ জানালেন বিরোধীদলীয় উপনেতা
ছবি : সংগৃহীত

দুর্নীতির মামলায় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

রোববার (১৪ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের বিশেষ অনুমতিক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেন যে, দুর্নীতির মামলার পরোয়ানাভুক্ত ও পলাতক আসামি সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাই থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার পর, স্পিকারের নির্ধারিত অনুমতি নিয়ে ফ্লোর পেয়ে নিজের বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় উপনেতা। তিনি তাঁর বক্তব্যে বেনজীর আহমেদের মতো হাই-প্রোফাইল আসামিকে আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সফলভাবে গ্রেপ্তারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।

/আশিক


আদালতে আত্মসমর্পণ করছেন আমির হামজা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ১৬:৩০:৪৮
আদালতে আত্মসমর্পণ করছেন আমির হামজা
ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে দায়ের করা মানহানি মামলায় আজ রোববার সিরাজগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা। রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে আলোচিত এই মামলাটি নতুন মোড়ে পৌঁছেছে তার আদালতে হাজিরার মধ্য দিয়ে।

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পাওয়ার পর এবার নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে নিয়মিত জামিনের আবেদন করবেন তিনি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন বিচারক।

সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম মল্লিক জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মুফতি আমির হামজা নির্ধারিত সময়ে আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন প্রার্থনা করবেন। এরপর মামলার বর্তমান অবস্থা ও আইনি প্রক্রিয়া বিবেচনা করে আদালত পরবর্তী আদেশ দেবেন।

অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের নেতারাও নিশ্চিত করেছেন যে, সংসদ সদস্য আমির হামজা রোববার দুপুরে আদালতে হাজির হবেন। এ ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গত ২ এপ্রিল ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বিদ্যুৎমন্ত্রীকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন, যা তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে।

মামলা দায়েরের দিনই আদালত আমির হামজার বিরুদ্ধে সমন জারি করে ২১ এপ্রিল হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। তবে নির্ধারিত দিনে তিনি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিচারক তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

পরবর্তীতে একাধিকবার হাজিরার সুযোগ দেওয়া হলেও আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় মামলাটি আরও গুরুত্ব পায়। গত ১৭ মে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন, যা মামলাটিকে নতুন মাত্রা দেয়।

আইনজীবীরা বলছেন, আদালতের সমন ও পরবর্তী নির্দেশনা অমান্য করার বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হতে পারে। তবে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পাওয়ার ফলে এখন তার আত্মসমর্পণ ও জামিন আবেদনের ওপরই মামলার পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করছে।

-রফিক


সরকার স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটলে জনগণ গণ-অভ্যুত্থান ঘটাবে: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৩ ২১:৩৪:১০
সরকার স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটলে জনগণ গণ-অভ্যুত্থান ঘটাবে: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান সরকার যদি পুনরায় স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হয়, তবে দেশের সাধারণ মানুষকে আবারও গণ-অভ্যুত্থানের পথ বেছে নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম শহরের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে আয়োজিত ১১–দলীয় ঐক্যের এক বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সমাবেশে বাজেট প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, কক্সবাজারে এক অনুষ্ঠানে দেশের বিরোধী দলগুলো বাজেটের সমালোচনা করায় প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ ও মন খারাপ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এই বাজেটের প্রশংসা করার মতো কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের আর্থিক খাতের দুর্নীতি, অর্থ লুটপাট এবং ব্যাংক দখল প্রক্রিয়া বন্ধ করার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা বা কার্যকর পদক্ষেপ রাখা হয়নি।

এই বাজেটের ঠিক কত অংশ সাধারণ মানুষের প্রকৃত কল্যাণে ও উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে, আর কত অংশ সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের ব্যক্তিগত স্বার্থে চলে যাবে, তার কোনো সঠিক ও স্বচ্ছ হিসাব নেই। এটি মূলত একটি বাস্তবতা-বিবর্জিত বাজেট, যা কার্যকর করতে সরকারকে বিভিন্ন বিদেশি উৎস থেকে কয়েক লক্ষ কোটি টাকা ঋণ নিতে হবে। দেশে সামগ্রিক সুশাসন, কাজের স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক সংস্কার নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে এই ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট কখনোই বন্ধ করা যাবে না।

আর্থিক খাতের অস্থিতিশীলতার কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, দেশে বর্তমানে নতুন করে ব্যাংক দখলের সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও বন্দোবস্তের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংককে আবারও বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। অতীতে এস আলমের গাড়িতে চড়ে কারা সংবর্ধনা গ্রহণ করেছিলেন এবং বর্তমানে কারা তাকে পেছন থেকে আইনি ও রাজনৈতিক সুরক্ষা দিচ্ছেন, সেই তথ্য বাংলাদেশের সচেতন জনগণের অজানা নয়। দেশের মানুষ ব্যাংকিং খাতের এই নগ্ন দখলদারি কোনোভাবেই বরদাশত করবে না।

জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় নাঈম হাসানকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মারধরের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের প্রকৃত উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে পূর্ববর্তী গণভোটের ম্যান্ডেট অনুযায়ী পুলিশ প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিচার বিভাগের আমূল সংস্কার করতে হবে।

অতি সম্প্রতি চট্টগ্রামে একজন জাতীয় স্তরের ক্রিকেটারকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছে। পুলিশ বাহিনীর প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন না হওয়ার কারণেই সাধারণ মানুষের ওপর আবারও এই ধরণের রাষ্ট্রীয় জুলুম ও নির্যাতন শুরু হয়েছে। সরকার যদি এই ধারা অব্যাহত রেখে স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটে, তবে জনগণ রাজপথে নেমে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এর জবাব দেবে।

সীমান্ত পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক উল্লেখ করেন, ভারত থেকে নতুন হাইকমিশনার বাংলাদেশে আসার পরপরই মৌলভীবাজার সীমান্তে আবারও এক নিরীহ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই বিষয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া আর বুলেটের আঘাত দিয়ে কখনো প্রকৃত বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে পারে না। বাংলাদেশ ও ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান, আকাশ এবং মাটি সম্পূর্ণ আলাদা; যার চূড়ান্ত ফয়সালা ১৯৪৭ সালের দেশভাগের মাধ্যমেই হয়ে গেছে।

১৯৪৭, ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ঘটনাবলী বারবার এটিই প্রমাণ করেছে যে, বাংলাদেশের মাটিতে কোনো ধরনের আধিপত্যবাদী শক্তি বা বহিরাগত প্রভাব কখনো টিকে থাকতে পারবে না।

/আশিক

পাঠকের মতামত: