‘দ্বিতীয় রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা

 কি আছে এনসিপির ২৪ দফা ইশতেহারে? 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ০৪ ২৩:৫১:১৪
 কি আছে এনসিপির ২৪ দফা ইশতেহারে? 
জুলাই-গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ ঘোষণা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ছবি: প্রথম আলো।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম একটি বিস্তৃত ও ব্যাপক রাজনৈতিক ইশতেহার ঘোষণা করেন, যার লক্ষ্য একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র ‘দ্বিতীয় রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে দেশজুড়ে দলীয় নেতা-কর্মী, শহীদ পরিবার ও আহতদের উপস্থিতিতে তিনি ‘নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার’ নামে এই ২৪ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন।

পটভূমি ও ঘোষণার প্রেক্ষাপট

সমাবেশের সূচনায় নাহিদ ইসলাম স্মরণ করেন এক বছর আগের ঐতিহাসিক ঘোষণা—যেখানে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের প্রতীক হিসেবে এক দফা দাবিতে ছাত্র-জনতা রাস্তায় নামে। তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই আন্দোলনের নেতৃত্ব কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, বরং গোটা দেশের জনগণ ও অভ্যুত্থানকারী তরুণদের। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এনসিপির জন্ম এবং আজকের এই ২৪ দফা ইশতেহার।

নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এই ইশতেহার জনগণের স্বপ্ন ও শহীদের রক্তের ঋণ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি। আমাদের সংগ্রাম কেবল সরকারের পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং সেই কাঠামো বদলের জন্য, যার ভেতরে ফ্যাসিবাদ গড়ে ওঠে।”

ইশতেহারের মূল আকর্ষণ

এই ২৪ দফায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার, যেমন নতুন সংবিধান প্রণয়ন, ফ্যাসিবাদী অপরাধের বিচার, বিচার ও প্রশাসনিক সংস্কার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, নারী-যুব-সংখ্যালঘুদের ক্ষমতায়ন, শ্রমিক-কৃষকের অধিকার, প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণা, জলবায়ু সহনশীলতা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল।

প্রতিটি দফা মূলত একটি করে রাষ্ট্রীয় সংকল্প ও উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনার ভিত্তি স্থাপন করে।

১। নতুন সংবিধান ও দ্বিতীয় রিপাবলিকের প্রবর্তন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিকাঠামো একনায়কতান্ত্রিক ও পরিবারতন্ত্রের সুবিধার্থে ব্যবহৃত হওয়ায়, এনসিপি একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে। এই সংবিধান হবে জনগণের অংশগ্রহণে গণপরিষদের মাধ্যমে গৃহীত, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় নির্মিত হবে। নতুন সংবিধানে ব্যক্তির মর্যাদা, মৌলিক অধিকার, গণতন্ত্র, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং আইনের শাসন সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে। একনায়কতন্ত্র, দলীয়করণ, বিচারব্যবস্থার ওপর নির্বাহী হস্তক্ষেপ, ও ফ্যাসিবাদী প্রবণতাকে বন্ধ করা হবে সাংবিধানিকভাবে।

২। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও বিচার নিশ্চিতকরণ

২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা কর্তৃক পরিচালিত গণঅভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী এক ঐতিহাসিক রূপান্তর। এনসিপি এই অভ্যুত্থানের শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের পাশাপাশি শাপলা গণহত্যা, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত ও বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায়। পাশাপাশি আহতদের পুনর্বাসন ও আজীবন রাষ্ট্রীয় সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

৩। গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ সংস্কার

জনগণের প্রকৃত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এনসিপি এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন করতে চায়, যেখানে সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাহী বিভাগের অধীনস্থ না হয়ে স্বতন্ত্র ও কার্যকর হবে। নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে কালো টাকার প্রভাব দূর করার জন্য রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে নির্বাচনী ব্যয় বহনের পরিকল্পনা রয়েছে। গণতন্ত্র শুধু ভোটাধিকারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি স্তরে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

৪। বিচারব্যবস্থার ন্যায়ভিত্তিক রূপান্তর

এনসিপি চায় এমন এক বিচারব্যবস্থা, যা ক্ষমতাবানদের রক্ষা না করে, মজলুমদের পক্ষে দাঁড়াবে। ঔপনিবেশিক যুগের অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন সংস্কার করে মানবাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিচারনীতি চালু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল ফাইলিং, অনলাইন ট্র্যাকিং, আলাদা সচিবালয়, বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছতা ইত্যাদির মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকর হবে।

৫। দুর্নীতিমুক্ত ও জনসেবামূলক প্রশাসন

আমলাতন্ত্রকে রাজনৈতিক দলগুলোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিপরীতে এনসিপি দক্ষ, নিরপেক্ষ ও সেবামুখী প্রশাসন গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে। সরকারি নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। ডিজিটাল গভর্ন্যান্স চালু করে জনসেবার গতি বাড়ানো হবে এবং দুর্নীতির দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির নিশ্চয়তা থাকবে। Whistleblower Protection আইন প্রণয়ন করে দুর্নীতিবিরোধী সাহসী নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া হবে।

৬। মানবাধিকার রক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সংস্কার

র‌্যাব বিলুপ্তিসহ পুলিশ ব্যবস্থার রাজনৈতিক অপব্যবহার রোধে স্থায়ী কমিশন গঠন করা হবে। গ্রেপ্তারে ওয়ারেন্ট বাধ্যতামূলক করা, বডি ক্যামেরা চালু, কমিউনিটি পুলিশিং চালু, এবং মানবাধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হবে যাতে রাজনৈতিক নির্যাতন বন্ধ হয়।

৭। গ্রাম পার্লামেন্ট ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ

শুধু শহরকেন্দ্রিক নয়, উন্নয়ন ছড়িয়ে দিতে গ্রামে 'গ্রাম পার্লামেন্ট' গঠন করা হবে যাতে স্থানীয় সমস্যা, উন্নয়ন ও সরকারি সেবার বিষয়গুলো জনগণের অংশগ্রহণে নির্ধারিত হয়। সংসদ সদস্যদের ক্ষমতা ছাঁটাই করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর করা হবে। স্থানীয় সরকারকে একটি স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে পরিচালনা করে তা শক্তিশালী করা হবে।

৮। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও শক্তিশালী নাগরিক সমাজ

গণমাধ্যম যেন কোনো কর্পোরেট বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর না হয়ে জনগণের পক্ষ হয়ে কথা বলে, তার জন্য মালিকানার বৈচিত্র্য ও আইনি কাঠামো নিশ্চিত করা হবে। প্রেস কাউন্সিলকে সক্রিয় করা হবে এবং মিথ্যা তথ্য বা গুজব রোধে নিরপেক্ষ তথ্য যাচাই ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে। নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণে নীতিনির্ধারণে গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার করা হবে।

৯। সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা

জিপিএস-চালিত অ্যাম্বুলেন্স, ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড, ইউনিক হেলথ আইডি, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, অঞ্চলভিত্তিক বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নারী-সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। প্রাথমিক চিকিৎসাকে মূল ভিত্তি হিসেবে ধরে একটি শক্তিশালী জাতীয় স্বাস্থ্য কাঠামো গঠন করা হবে।

১০। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায্য শিক্ষানীতি

সকল শিক্ষার ধারা যেমন বাংলা, ইংরেজি, মাদ্রাসা ইত্যাদির মধ্যে সমন্বয় করে জাতীয় পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন করা হবে। শিক্ষা হবে অধিকার, পণ্য নয়। বিজ্ঞান-প্রযুক্তিভিত্তিক, নৈতিকতা ও নাগরিক চেতনা সম্পন্ন শিক্ষার মাধ্যমে উদ্ভাবনক্ষম নাগরিক তৈরি করা হবে। শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

১১। গবেষণা, উদ্ভাবন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লব

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এনসিপি গবেষণা খাতে বিপ্লব ঘটানোর ঘোষণা দিয়েছে। সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে ৫০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প হাতে নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যার আওতায় থাকবে মহাকাশ প্রযুক্তি, রাডার, AI, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, ন্যানোটেক, নিউক্লিয়ার সায়েন্স, সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলোজি প্রভৃতি ক্ষেত্রে গবেষণা ও ল্যাব প্রতিষ্ঠা। বিশ্বমানের গবেষণাগারের সঙ্গে সহযোগিতা করে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হবে। কম্পিউটেশনাল গবেষণার জন্য ন্যাশনাল কম্পিউটিং সার্ভার গঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ক্লাস্টার তৈরি করা হবে। সাইবার নিরাপত্তা রক্ষায় আলাদা কমিশন গঠন করা হবে।

১২। ধর্ম, সম্প্রদায় ও জাতিসত্ত্বার মর্যাদা

বাংলাদেশের বহুজাতিক, বহু ভাষাভিত্তিক ও বহু সংস্কৃতির সমাজে ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে নিপীড়নের বিরুদ্ধে এনসিপির অবস্থান দৃঢ়। তারা প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অধিকার, মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে। হিন্দুদের জমি দখলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, দলিত ও তফসিলি সম্প্রদায়ের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে বিশেষ বরাদ্দ এবং সকল ধর্মে বিদ্বেষমূলক আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানবাধিকার কমিশনের অধীনে একটি স্বতন্ত্র সেল গঠন করা হবে যা এসব নিপীড়নের তদন্ত ও পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে।

১৩। নারীর নিরাপত্তা, অধিকার ও ক্ষমতায়ন

নারী অংশগ্রহণের সত্যিকার নিশ্চয়তা দিতে সংসদে ১০০টি সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে নারীর অংশ, কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমবেতন, গৃহিনীর অবদানকে জিডিপির অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। প্রতিটি থানায় নারী সহিংসতা প্রতিরোধ সেল, নারী পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি, ধর্ষণ মামলার ফাস্ট ট্র্যাক ট্রায়াল এবং গণমাধ্যমে ভিকটিমের পরিচয় গোপনের বিধান কার্যকর করা হবে। মাতৃত্বকালীন ও পিতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত, ব্রেস্টফিডিং রুম, বয়স্ক ও শিশু সেবা কেন্দ্র এবং নিরাপদ যাতায়াতের জন্য নারীবাস চালু করা হবে।

১৪। মানবকেন্দ্রিক ও কল্যাণমুখী অর্থনীতি

এনসিপি চায় এমন একটি অর্থনীতি যেখানে ব্যক্তি নয়, সমাজ ও রাষ্ট্র হবে কেন্দ্রীয়—যেখানে মানুষ, পরিবেশ, এবং সামাজিক ন্যায়বিচার থাকবে মূলধারায়। জিডিপি প্রবৃদ্ধি নয়, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন হবে উন্নয়নের সূচক। বেকার, প্রবীণ, বিধবা, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের ভাতা নাগরিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত হবে। কর কাঠামো হবে প্রগতিশীল; ধনীদের কাছ থেকে বেশি কর আদায় করে গরিবদের জন্য উন্নয়ন বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে। ব্যাংক, পুঁজিবাজার, সঞ্চয়পত্র ও ঋণনীতির পূর্ণ সংস্কার ঘটানো হবে।

১৫। তারুণ্য ও কর্মসংস্থান

বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি ইন্টার্নশিপ সম্প্রসারণ, প্রশ্নফাঁস রোধে স্বচ্ছ নিয়োগ পরীক্ষা ব্যবস্থা, উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনা ও ফ্রিল্যান্স হাব গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। প্রবাসে কাজের জন্য IT, নার্সিং, হসপিটালিটি ইত্যাদি খাতে ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন, বিদেশি সনদপ্রাপ্তি এবং জেলা পর্যায়ে ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

১৬। বহুমুখী বাণিজ্য ও শিল্পায়ন নীতি

গার্মেন্টসনির্ভরতা কমিয়ে চামড়া, আসবাব, হালকা প্রকৌশল, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। ওষুধ শিল্পের সুরক্ষা, ICT খাত সম্প্রসারণ, চট্টগ্রাম-মংলা-মাতারবাড়িকে লজিস্টিক হাবে রূপান্তর এবং শিল্প উন্নয়নে ৫০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনার জন্য জাতীয় কমিশন গঠন করা হবে।

১৭। টেকসই কৃষি ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব

প্রচলিত কৃষি ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রযুক্তি ও ভর্তুকি, বিষমুক্ত ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন, কৃষকদের সরাসরি বিক্রয়ের সুযোগ এবং ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে অঞ্চলভিত্তিক তথ্যভাণ্ডার গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বীজ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন ও কৃষি রপ্তানির উপযোগিতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।

১৮। শ্রমিক-কৃষকের অধিকার

শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি কাঠামো, সামাজিক সুরক্ষা, বাধ্যতামূলক কর্ম-সুরক্ষা-বীমা, পেনশন তহবিল, শ্রম ট্রাইব্যুনালের বিস্তৃতি এবং শিশুশ্রম নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কৃষকদের ফসলের ন্যায্য দামে বিক্রির জন্য হিমাগার, কৃষি বীমা, আবহাওয়া ও বাজার সম্পর্কিত জাতীয় মোবাইল প্ল্যাটফর্ম গঠনের কথা বলা হয়েছে।

১৯। জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা

গ্যাস, খনিজ, কয়লা, পাথরসহ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা হবে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে টেকসই খনন নীতি প্রণয়ন, আন্তর্জাতিক চুক্তির পুনর্বিন্যাস এবং সুন্দরবনের সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

২০। পরিকল্পিত নগরায়ন ও পরিবহন ব্যবস্থা

রাজধানীকেন্দ্রিক কেন্দ্রীয়করণ বন্ধ করে অন্যান্য শহরে সরকারি সেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে। সামাজিক আবাসন, বাড়িভাড়া নীতিমালা, নদী খাল ভিত্তিক নগরায়ন, পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন, সবুজ উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ এবং সাশ্রয়ী ও গতিশীল আন্তঃজেলা যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

২১। জলবায়ু সহনশীলতা ও নদী-সমুদ্র রক্ষা

জলবায়ু বিপর্যয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় বনায়ন, নদী সংরক্ষণ, সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা, খনন নিয়ন্ত্রণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার, আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবিতে আন্তর্জাতিক ফোরামে সক্রিয় কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

২২। প্রবাসী বাংলাদেশির মর্যাদা ও অধিকার

প্রবাসীদের শুধু রেমিট্যান্স উৎস না ভেবে রাষ্ট্রের অংশীদার হিসেবে দেখার কথা বলা হয়েছে। দূতাবাসে হয়রানিমুক্ত সেবা, ভোটাধিকার, বিনিয়োগ সহায়তা, প্রবাসে মৃত্যুর পর মরদেহ ফেরত আনা এবং প্রবাসী নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

২৩। বাংলাদেশকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি

বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চে রেখে দলনিরপেক্ষ, সার্বভৌম, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। সীমান্ত হত্যা বন্ধ, রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক সমাধান, মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্ব, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও পাবলিক ডিপ্লোম্যাসির বিস্তার হবে এই নীতির মূল লক্ষ্য।

২৪। জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল

সক্ষমতা ও শৃঙ্খলাভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গঠনের লক্ষ্য নিয়ে সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল, UAV ব্রিগেড, সাবমেরিনভিত্তিক নৌবাহিনী, সেকেন্ড স্ট্রাইক সক্ষমতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন করা হবে। প্রতিরক্ষা হবে সংসদীয় নজরদারিতে পরিচালিত, যা আঞ্চলিক শান্তি ও কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখবে।

ইশতেহার ঘোষণার শেষ মুহূর্তে নাহিদ ইসলাম আবারও জনগণকে স্মরণ করিয়ে দেন শহীদ মিনার থেকে শুরু হওয়া শপথের কথা—এই দেশকে স্বৈরতন্ত্রের কবল থেকে মুক্ত করার। তিনি বলেন, “আপনারা সাড়া দিয়েছেন, ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছেন। এখন সময় এসেছে নতুন বাংলাদেশ গড়ার।”


পোশাক খাতের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০১ ২০:৫০:০৭
পোশাক খাতের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

দেশের তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘খুবই উদ্বেগজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে পোশাক শিল্প ও এর সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের সুরক্ষায় সরকারকে দ্রুত কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জামায়াত আমির এই মন্তব্য করেন।

স্ট্যাটাসে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত হিসেবে তৈরি পোশাকশিল্প বর্তমানে কঠিন সংকটময় সময় পার করছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাব, জ্বালানির চড়া মূল্য, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ বাতিল বা কমে যাওয়ার কারণে এই খাত তীব্র চাপে পড়েছে। পাশাপাশি নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ব্যয় বৃদ্ধির ফলে শ্রমিকদের জীবনযাত্রাও অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের রপ্তানি খাতকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত টেকসই সমাধানের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদনের গতি বাড়াতে পারলে অন্যান্য সংকটগুলোও যৌক্তিকভাবে সমাধান করা সম্ভব। ‘শিল্প বাঁচলে দেশ বাঁচবে’—এই কথা উল্লেখ করে তিনি শিল্পমালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। এ ছাড়া বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শনের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, এই বিষয়ে কালক্ষেপণ করার কোনো অবকাশ নেই।

/আশিক


বিএনপি মাঠে নামলে পালানোর পথ পাবেন না: মির্জা আব্বাস

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ৩১ ২০:৪২:৫১
বিএনপি মাঠে নামলে পালানোর পথ পাবেন না: মির্জা আব্বাস
ছবি : সংগৃহীত

সরকার ও বিএনপিকে তথাকথিত বিরোধী দলগুলো অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিব্রত করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, বিএনপি এখনো পুরোপুরি মাঠে নামেনি; মাঠে নামলে অনেকেই পালানোর পথ খুঁজে পাবে না।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাহজাদপুরে ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকার বিভিন্ন থানা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শাহজাহানপুর, মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ ও রমনা থানা বিএনপি এই সভার আয়োজন করে।

মির্জা আব্বাস বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ এখনও অর্থনৈতিক ও কাঠামোগতভাবে শক্ত অবস্থানে দাঁড়াতে পারেনি। তাই অমূলক ও অযথা বিরোধিতা না করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনে এগিয়ে আসার এবং গঠনমূলক পরামর্শ দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, এক শ্রেণির দল নিজেদের শক্তি বা জনসমর্থন না পেয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিভিন্ন স্থানে মিছিল-মিটিংয়ের মাধ্যমে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোনো বাধা না থাকলেও কোনো ধরনের অপকর্ম বরদাস্ত করা হবে না এবং বিএনপি নেতাকর্মীরা তা শক্ত হাতে প্রতিহত করবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।

ভারত থেকে আওয়ামী লীগ নেতাদের দেশে ফেরার গুঞ্জন প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতাদের ফিরে এসে লুকিয়ে থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে। আর বিএনপির ভেতর কিছু লোভী ব্যক্তি অর্থের লোভে তাদের আশ্রয় দিচ্ছে। এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দোসর বা শত্রুপক্ষের মিত্রদের সঙ্গে আঁতাতকারীদের বিএনপিতে কোনো স্থান হবে না। এমনকি ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর যারা ভোল পাল্টে বিএনপি সাজতে চাইছে, তাদেরও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সবাইকে একযোগে প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালামের সভাপতিত্বে এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনাম প্রমুখ।

/আশিক


আইন না মেনে গায়ের জোরে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় বিরোধী দল: রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ৩১ ১৮:৩৪:৩৬
আইন না মেনে গায়ের জোরে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় বিরোধী দল: রিজভী
বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: কালবেলা

আইন ও সংবিধানের তোয়াক্কা না করে বিরোধী দল বলপ্রয়োগের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাইছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো ও সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হলেও বিরোধীরা তা উপেক্ষা করে গায়ের জোরে তা কার্যকর করতে চায়।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মান্ডা এলাকায় হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অবিভক্ত সবুজবাগ থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম শামসুল হুদার স্মরণে মুগদা থানা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন এই সভার আয়োজন করে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, জুলাই সনদে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সুনির্দিষ্ট আপত্তি বা 'নোট অব ডিসেন্ট' রয়েছে। বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার আহ্বান জানানো হলেও বিরোধী পক্ষ তা আমলে নিচ্ছে না। তিনি ১৯৭ স্বাধীনতাত্তপরবর্তী সময় থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে সংবিধান সংশোধনের নানা ঐতিহাসিক উদাহরণের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার এবং বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষে প্রধানমন্ত্রী দেশ-বিদেশ সফর করছেন এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ঋণ ও অনুদান চুক্তি করছেন। বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টোয়েটার কারখানা বাংলাদেশে স্থাপনসহ নতুন কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া প্রান্তিক ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য চালু করা ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দেশের দারিদ্র্যের হার অন্তত পাঁচ শতাংশ হ্রাস পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মরহুম শামসুল হুদাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে রিজভী বলেন, তিনি প্রায় চার দশকের এক পরীক্ষিত, বিনয়ী ও শান্তস্বভাবের রাজনীতিক ছিলেন যিনি কখনোই কোনো ধরনের সংঘাতে জড়াননি। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় মিথ্যাচার ও কলঙ্কলেপনের যুগে তার মতো অভিভাবকতুল্য ও আদর্শনিষ্ঠ নেতার অভাব গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে।

এদিকে একই দিন সকালে রাজধানীর খামারবাড়িতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট কোনো অভ্যন্তরীণ কারণে সৃষ্টি হয়নি, বরং আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার ফল এটি। সরকার এরই মধ্যে মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস আমদানি করায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। ফলে এই সংকটের অজুহাতে লংমার্চ কর্মসূচির কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং জনগণও এর কোনো অর্থ খুঁজে পাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, সরকারের ইতিবাচক রাজনৈতিক ধারা ও জনমুখী কার্যক্রমে বিরোধী দলের রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যার কারণে লোকদেখানো এই কর্মসূচির অবতারণা করা হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই স্মরণসভায় আরও বক্তব্য রাখেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ ইউনুস মৃধা এবং দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন প্রমুখ।

/আশিক


সারাদেশের কোমর ভাঙা, তাই দেশ মেরামত করতে হবে: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ৩১ ১৮:২৪:৪২
সারাদেশের কোমর ভাঙা, তাই দেশ মেরামত করতে হবে: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

১১ দলীয় ঐক্যজোটের উদ্যোগে আয়োজিত ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চের গাড়িবহর পথিমধ্যে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এসে পৌঁছালে সেখানে এক জমকালো পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ভাঙ্গা পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে লংমার্চের বহর থামিয়ে উপস্থিত হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

ভাঙ্গার স্থানীয় জনতাকে উদ্দেশ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির অত্যন্ত রূপক ও তাৎপর্যপূর্ণ এক বক্তব্যে বলেন, ‘ভাঙ্গাবাসী কেমন আছেন? আপনাদের এলাকার নাম ভাঙ্গা। কিন্তু সারাদেশেরই কোমর ভাঙা। তাই দেশকে মেরামত ও সংস্কার করতে হবে।’ তিনি তাঁর বক্তব্যে দেশ থেকে সব ধরনের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির চিরতরে মূলোৎপাটন করার ঘোষণা দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের এই দুঃশাসন ও জিম্মিদশা থেকে দেশের মানুষকে মুক্তি পেতেই হবে। এটি কেবল রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচি নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের লড়াই ও মুক্তির লড়াই।

রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরে জামায়াত আমির আরও বলেন, বর্তমান জনদুর্ভোগ লাঘব ও একটি সুশৃঙ্খল রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট ৭ দফা দাবি নিয়ে তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। ভাঙ্গার সাধারণ মানুষ যেভাবে রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে লংমার্চের এই গাড়িবহরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন এবং সংহতি প্রকাশ করেছেন, তার জন্য তিনি স্থানীয়বাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সব ভেদাভেদ ভুলে একটি মানবিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে থাকার আহ্বান জানান।

/আশিক


ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ফল নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি: গোলাম পরওয়ার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৮:৩৩:৫৪
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ফল নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি: গোলাম পরওয়ার
ছবি : সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি ফল নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার জন্য পেশিশক্তি ও প্রভাব ব্যবহার করছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীতে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই দাবি করেন।

জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা অভিযোগ করেন, ভোটের দিন সাধারণ ভোটারদের বিভিন্নভাবে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং পুরো নির্বাচনী এলাকায় একধরনের ভীতি ও ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া ভোটের আগের দিন থেকেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও একধরনের মনস্তাত্ত্বিক ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে চরম পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন।

গোলাম পরওয়ার আরও দাবি করেন, বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হচ্ছে বলে গণমাধ্যমে যে তথ্য দিচ্ছেন, তা সম্পূর্ণ অসত্য ও দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা মাত্র। এই উপনির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের সুনির্দিষ্ট বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থীর বড় ভাই রাষ্ট্রপতি পদে আসীন থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন এবং সাধারণ ভোটারদের প্রভাবিত করছেন।

ভোটগ্রহণে নানা ধরনের প্রশাসনিক ও কারচুপির অনিয়মের অভিযোগ এনে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ব্যালট পেপারের মুড়িতে আগেই সিল ও স্বাক্ষর মেরে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই বা পরীক্ষা ছাড়াই পোলিং ও প্রিসাইডিং অফিসাররা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা বিসর্জন দিয়ে একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে কাজ করছেন। উল্লেখ্য, এই উপনির্বাচনে সকাল আটটা থেকে শুরু হয়ে বিকেল চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে এবং এর আগে গত বুধবার দুপুর থেকেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছিল।

/আশিক


তাহসিফের সঙ্গে কী ঘটেছিল, পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ জাতিকে জানাতে হবে: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৮:২০:১৯
তাহসিফের সঙ্গে কী ঘটেছিল, পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ জাতিকে জানাতে হবে: নাহিদ ইসলাম
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও নিহত বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরি। ছবি : সংগৃহীত

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে সাবেক এই কর্মকর্তার সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য জাতির সামনে স্পষ্ট করার পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কেউ জড়িত থাকলে তাদেরকে দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার জোরালো তাগিদ দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই দাবি তুলে ধরেন।

ফেসবুক পোস্টে গভীর শোক ও বিস্ময় প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম লেখেন, নিখোঁজ হওয়ার পরদিন বুধবার ঢাকার তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় বিস্ময় ও সমবেদনা জানিয়ে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তাঁর রুহের মাগফিরাতের জন্য প্রার্থনা করেন। এর পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত এই মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে কোনো ধরনের বিলম্ব না করে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্ত প্রক্রিয়া চালুর আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় এই শীর্ষনেতা।

এর আগে গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর তুরাগ থানাধীন রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মরদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল। জানা গেছে, সাবেক এই ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘করবী’ নামক ভবনে নিজের পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর দ্বীপ নামের এক পরিচিত ছোট ভাই তাহসিফকে কথা বলার জন্য বাসার নিচে ডেকে নিয়ে যায়। দ্বীপের সঙ্গে দেখা করে দ্রুতই ঘরে ফিরে আসবেন বলে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ, কিন্তু এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ মেলেনি। পরদিন নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হলে পুরো এলাকায় শোক ও গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়।

/আশিক


নরম সুরে কথা বলে পানির ন্যায্য হিস্যা মিলবে না: রুহুল কবির রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ২০:২৭:২৭
নরম সুরে কথা বলে পানির ন্যায্য হিস্যা মিলবে না: রুহুল কবির রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কেবল নরম সুরে কথা বলে কোনো লাভ নেই উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহার ও উজানে বাঁধ নির্মাণের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোরালো রাজনৈতিক আন্দোলন এবং কূটনৈতিক লড়াই গড়ে তুলতে হবে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘জাতীয় পানিসম্পদ সুরক্ষায় পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। পদ্মা ব্যারাজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটি, তিস্তা নদী সুরক্ষা আন্দোলন এবং বাংলাদেশি প্রফেশনালস যৌথভাবে এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।

ভারত নিজের দেশের অভ্যন্তরে পানি ভাগাভাগি নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে আইনি লড়াই চালিয়ে গেলেও অন্য দেশের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নিতে সামান্যতম দ্বিধা করছে না বলে অভিযোগ করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ভারত নিজেই যেখানে পানি শেয়ারিংয়ে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে তারা প্রতিবেশী দেশের পানি কেড়ে নিচ্ছে। অথচ এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার সময় অনেক সময় আমাদের অবস্থান নরম হয়ে যায়। দেশপ্রেম এবং দৃঢ় মনোবল না থাকলে জাতি হিসেবে নতজানু থাকতেই হবে। তিনি ১৯৭৭ সালের চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তৎকালীন চুক্তিতে পানির সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি ক্লজ থাকলেও ১৯৯৬ সালে এসে তা কেন তুলে দেওয়া হলো, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। ফারাক্কা ও গজলডোবার মাধ্যমে উজানে পানি একতরফাভাবে সরিয়ে নেওয়ায় দেশের প্রধান নদীগুলো আজ মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ পানি ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, বর্ষার সময় অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা গেলে তা শুষ্ক মৌসুমে দেশের কৃষি ও কল্যাণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ফারাক্কার নেতিবাচক প্রভাবে পদ্মা ও তিস্তা নদী শুকিয়ে যাওয়ার কারণে বিগত ২০ থেকে ২৫ বছরে কেবল রাজশাহীতেই প্রায় ৩০ শতাংশ বৃষ্টিপাত কমে গেছে এবং নদীতে বড় বড় চর জেগে উঠেছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সুন্দরবনের অনন্য জীববৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক কৃষি খাতকে রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করার কোনো বিকল্প নেই।

নদী ব্যবস্থাপনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি প্রকৌশলী বিএম আব্বাসের গবেষণামূলক গ্রন্থ এবং ব্রিটিশ আমলে প্রকৌশলী কপিল ভট্টাচার্যের দেওয়া সতর্কবার্তার কথা উল্লেখ করেন। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে কৃত্রিমভাবে যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপের ফলে যে মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে সঠিক ও দূরদর্শী নীতি প্রণয়নের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই গোলটেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী এবং সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস প্রমুখ।

/আশিক


বিএনপির নিজেদের নেতাকর্মীও এখন নিরাপদ নন: ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ২০:০৫:৪৭
বিএনপির নিজেদের নেতাকর্মীও এখন নিরাপদ নন: ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
ছবি : সংগৃহীত

ক্ষমতা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দলীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার কারণে বর্তমানে বিএনপির নিজেদের নেতাকর্মীরাও সম্পূর্ণ নিরাপদ নন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি দাবি করেন যে, এই ধরনের ক্ষমতা কেন্দ্রিক ও প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি সামগ্রিকভাবে দেশের ভবিষ্যৎ এবং নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হয়ে উঠছে। নাটোর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলামের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিএনপিকে অবিলম্বে সব ধরনের ‘সন্ত্রাসের রাজনীতি’ পরিহার করার এবং অপরাধীদের মদদ দেওয়া বন্ধ করার কঠোর আহ্বান জানান।

পোস্টে সাদিক কায়েম আরও উল্লেখ করেন যে, গত জুলাই মাসের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বিএনপির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শিকার হয়ে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর আগে মিটফোর্ডে সংঘটিত পাথরকাণ্ডে নিহত সোহাগের মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন যে, এবার খোদ দলীয় নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সহিংসতার বলি হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন নাটোর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বিএনপির একজন স্থানীয় সংসদ সদস্যের দুই পুত্রের মধ্যকার বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

শাকিল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল এবং মূল দল বিএনপির বর্তমান নীরব ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন ডাকসুর এই ছাত্রনেতা। তাঁর মতে, দলের স্থানীয় পর্যায়ে এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার প্রাণহানির পরও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের রহস্যজনক নীরবতা অত্যন্ত বিস্ময়কর। প্রতিবাদ ও ন্যায়বিচার যদি দলীয় স্বার্থ এবং সংকীর্ণ রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে, তবে এই প্রতিহিংসার সংস্কৃতি দেশের জন্য আরও বড় বিপদ ডেকে আনবে।

এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন যে, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, খুন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধেও দলটির অনেকেই জড়িয়ে পড়েছেন। বিগত সময়গুলোতে দলটির একশ্রেণির নেতাকর্মীর বেপরোয়া কার্যকলাপে সাধারণ মানুষ রীতিমতো অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া, গুরুতর অপরাধের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে কেবল লোকদেখানো ও নামমাত্র বহিষ্কারের মাধ্যমে দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে বলেও তার পোস্টে তীব্র অভিযোগ করা হয়। পরিশেষে সাদিক কায়েম বলেন, দেশের প্রতিহিংসার রাজনীতি আজ এমন একটি বিপজ্জনক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যেখানে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি খোদ বিএনপির নিজেদের কর্মীরাও জীবনের নিরাপত্তা হারাচ্ছেন।

/আশিক


গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতন হলেও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই শেষ হয়নি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৭:৩১:৪৬
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতন হলেও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই শেষ হয়নি
ছবি: কালবেলা

৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতন হলেও ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার ও দুর্নীতিবাজ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই এখনো শেষ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এসব পুরোনো অপশক্তির নতুন করে একীভূত হওয়ার প্রবণতা দেখা দেওয়ায় বর্তমান রাজনৈতিক লড়াই আরও বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি, মাদক কারবারে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় নিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ী পৌর মিলনায়তনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী রাজনীতির অধ্যায় বাংলাদেশ থেকে চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। রক্ত ও জীবন দিয়ে এ দেশের সাধারণ মানুষ এবং ছাত্র-তরুণরা এই স্বৈরাচারকে উৎখাত করেছে। তবে ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মা ও দোসররা এখনো বিভিন্ন সরকারি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে এনসিপির মূল সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় কার্যকর সংস্কার, বেকারদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গণতান্ত্রিক ধারা শক্তিশালী হওয়ার যে মহান প্রত্যাশা ছিল, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে তা আলোর মুখ দেখছে না। উল্টো দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, লাগামহীন দুর্নীতি, আকাশছোঁয়া মূল্যস্ফীতি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নতুন করে দলীয়করণের অভিযোগ সামনে আসছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন বিএনপির একটি অংশ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালাচ্ছে। এ অবস্থায় পুলিশকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ ছাড়া স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সম্প্রতি পুলিশের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান মানে কখনোই আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে পারে না।

স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তীব্র সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। মাদকের ভয়াবহ রূপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এ দেশে কখনোই মাদকের বিশাল সিন্ডিকেট টিকে থাকতে পারে না। আগে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা এই কারবারে মদদ দিয়েছেন, আর এখন বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠছে। মাদকবিরোধী অভিযানে কেবল চুনোপুঁটি ও খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার না করে মূল মদদদাতা ও শক্তিশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত এবং সাংবাদিকদের হয়রানির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সত্য বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশের কারণে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর নির্যাতন কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, মধ্যবিত্ত ও তৈরি পোশাক শ্রমিকদের মজুরি ও ভাতা বাড়ানোর জোরালো দাবি তোলেন। পাশাপাশি দেশের ব্যাংকিং খাতের আমূল সংস্কার, ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর তাগিদ দেন।

গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি ও আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন চুক্তিতে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। গঙ্গা ও পদ্মার পানির অধিকার রক্ষা এবং নদীতীরবর্তী কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার্থে সংসদে অবিলম্বে বিশেষ অধিবেশন ডাকার দাবি জানান তিনি। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচনের জোটগত হিসাব যাই থাক না কেন, স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপি এককভাবেই অংশ নেবে। তবে বর্তমান নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি অতিদ্রুত নিরপেক্ষ পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গণহত্যার দ্রুত বিচার, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং দেশের সার্বিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এনসিপি সব সময় রাজপথে থাকবে বলে সংবাদ সম্মেলনে অঙ্গীকার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা দক্ষিণ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুর রহমান অপু, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সাইয়েদ জামিলসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

/আশিক

পাঠকের মতামত: