বরফে ঢাকা আর্কটিক এখন সবুজ, গবেষণায় প্রকাশ পেল বিপর্যয়ের চিত্র

আর্কটিকের শীতকালেও বরফের বদলে বৃষ্টি, সবুজে ঢাকা ভূমি—চরম জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন সতর্কবার্তা
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে শীতকালীন তুষারপাত গবেষণার জন্য সুমেরু অঞ্চলে গিয়েছিলেন কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের একদল বিজ্ঞানী। তবে বরফে ঢাকা দৃশ্যের বদলে সেখানে গিয়ে তারা পেয়েছেন ভারি বৃষ্টি ও সবুজ ভূমি। বরফের বদলে বর্ষায় ভেজা জলাশয় দেখে গবেষকরা হতভম্ব হয়ে পড়েন। এই গবেষণার অভিজ্ঞতা শুধু তাদের দৃষ্টিভঙ্গিই বদলায়নি, বরং আর্কটিক অঞ্চলের বিপর্যয়কর আবহাওয়ার পরিবর্তন সম্পর্কে নতুন করে সতর্ক করেছে বিশ্বকে।
নরওয়ের সভালবার্ড দ্বীপে চালানো এই গবেষণাটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে 'নেচার কমিউনিকেশন্স' নামের বিজ্ঞান সাময়িকীতে। গবেষণায় উঠে এসেছে, সভালবার্ডের তাপমাত্রা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় ছয় থেকে সাত গুণ বেশি গতিতে বাড়ছে। বরফে ঢাকা শীতকালের বদলে এখন সেখানে নিয়মিত উষ্ণ তাপমাত্রা, ভারি বৃষ্টি ও দ্রুত বরফ গলার ঘটনা ঘটছে।
গবেষণার প্রধান ড. জেমস ব্র্যাডলি জানিয়েছেন, তারা যখন বরফের প্রস্তুতি নিয়ে সেখানে পৌঁছান, তখন তাদের সঙ্গে থাকা ঠাণ্ডার পোশাক ও গ্লাভস ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। কারণ পুরো অঞ্চলজুড়ে ছিল বৃষ্টিপাত ও বরফ গলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা। গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল সদ্য পড়া তুষার বিশ্লেষণ করা, কিন্তু দুই সপ্তাহের পুরো সময়ে মাত্র একবার বরফ পড়েছে, তাও অল্প সময়ের জন্য।
ড. ব্র্যাডলির মতে, এই ধরনের পরিস্থিতি আগে কখনো কল্পনাও করা যায়নি। তিনি বলেন, “যেখানে ঘন বরফের আবহাওয়ার কথা ভাবা হয়েছিল, সেখানে আমরা দাঁড়ালাম সবুজ ভূমির পাশে, খালি হাতে বৃষ্টিতে ভিজে।”
গবেষণা দলের সদস্য লরা মোলারেস মনকায়ো বলেন, উষ্ণ এই আবহাওয়া শুধু তাদের গবেষণাকেই বাধাগ্রস্ত করেনি, বরং নিরাপত্তার ঝুঁটিও বাড়িয়ে দিয়েছে। বরফ গলে যাওয়ায় স্নোমোবিল ব্যবহার করতে না পারায় পোলার বিয়ারের মতো হিংস্র বন্যপ্রাণীর অঞ্চলে চলাফেরার জন্য নতুন পরিকল্পনা করতে হয়।
এই বরফ গলে যাওয়ার ঘটনাকে বিজ্ঞানীরা 'আর্কটিক অ্যামপ্লিফিকেশন' বলে বর্ণনা করছেন, যার অর্থ পৃথিবীর অন্য যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় অনেক দ্রুত হারে আর্কটিক উত্তপ্ত হচ্ছে। গবেষকরা কিছু পরিবর্তনের আশঙ্কা করেছিলেন বটে, কিন্তু বছরের সবচেয়ে ঠান্ডা সময়েও এ রকম উষ্ণ আবহাওয়া দেখতে হবে, তা ভাবেননি।
আরও উদ্বেগজনক তথ্য জানিয়ে গবেষকরা বলছেন, এসব পরিবর্তনের প্রভাব শুধু গবেষণার জন্যই নয়, বরং আর্কটিক অঞ্চলের সম্পূর্ণ বাস্তুতন্ত্রের জন্যই ভয়ংকর। শীতকালে উষ্ণতার কারণে বন্যপ্রাণীর টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে, বরফ গলে যাওয়া পার্মাফ্রস্ট থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ বাড়ছে এবং বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
তারা সতর্ক করে বলেছেন, আর্কটিকের শীতকালীন আবহাওয়া নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন, কারণ বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এই সময়টিকে এখনও সবচেয়ে কম বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অথচ জলবায়ুর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এখন এই সময়েই হচ্ছে।
গবেষকরা বিশ্ব নেতাদের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এসব পরিবর্তনের প্রভাব দেখেই থেমে থাকা যাবে না, বরং আগামী বছরের জন্য এখন থেকেই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। কারণ, আর্কটিকের শীতে যে অস্বাভাবিক উষ্ণতা দেখা যাচ্ছে, তা আর কোনো ভবিষ্যৎ আশঙ্কা নয়—এটি এখনকারই বাস্তবতা। এবং এই বাস্তবতা বদলে দিচ্ছে গবেষণা, প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং মানুষের বসবাসের ধরন।
/আশিক
তেহরানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ট্রাম্পের আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই শুরু মহাপ্রলয়
ইরানের রাজধানী তেহরান ও এর আশপাশের শহরগুলোতে অত্যন্ত শক্তিশালী ও ‘ভয়াবহ বিস্ফোরণ’ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রোববার (২২ মার্চ ২০২৬) সকালে ইরানি ব্লগার ওয়াহিদ অনলাইন জানিয়েছেন, রাজধানীর পূর্ব শহরতলী পারদিস এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দামাভান্দ শহরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা এই বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে।
ব্লগারদের অন্য একটি গোষ্ঠী ‘মামলেকাতে’ দামাভান্দ এলাকায় অন্তত তিনটি প্রচণ্ড শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই এই হামলাগুলো তেহরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের নিকটবর্তী দামাভান্দ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার মেরুদণ্ড, যার উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৮৬৮ মেগাওয়াট। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের কেরমান (১ হাজার ৯১০ মেগাওয়াট) এবং খুজেস্তান প্রদেশের রামিন স্টিম পাওয়ার প্ল্যান্ট (১ হাজার ৮৯০ মেগাওয়াট) দেশটির প্রধান বিদ্যুৎ উৎস।
ট্রাম্পের হুমকির পরপরই এই বিস্ফোরণগুলো আসায় ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পাওয়ার গ্রিড অচল করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তেহরানের বাসিন্দাদের মধ্যে বর্তমানে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং বিস্ফোরণের তীব্রতায় জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইরান ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের বিদ্যুৎ বা জ্বালানি অবকাঠামো আক্রান্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন স্থাপনায় তারা পাল্টা ভয়াবহ আঘাত হানবে।
সূত্র: আল জাজিরা
হরমুজ প্রণালী না খুললে ধ্বংস হবে ইরান: ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন এক চূড়ান্ত ও ভয়াবহ পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলা শুরু করা হবে দেশটির বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে।
ট্রাম্পের এই চরম হুঁশিয়ারির জবাবে ইরানও অত্যন্ত কঠোর পাল্টা হুমকি দিয়েছে। ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে কোনো আঘাত হানা হলে এর ফলাফল হবে ভয়াবহ। তিনি সতর্ক করে বলেন, মার্কিন হামলা শুরু হওয়া মাত্রই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব জ্বালানি অবকাঠামো, পানি লবণমুক্তকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালাবে তেহরান।
এর আগে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক প্রধান আলী লারি জানি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, বিদ্যুৎ গ্রিড আক্রান্ত হলে আধা ঘণ্টার মধ্যেই পুরো মধ্যপ্রাচ্য অন্ধকারে ডুবে যাবে।
এদিকে, এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আরাদ ও দিমোনায় ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে অন্তত দুটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে।
এতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফার্স নিউজ এজেন্সিসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা পার হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করলে বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে মহাবিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
ইরানি কূটনীতিকদের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম: সৌদির কড়া পদক্ষেপে তোলপাড় মধ্যপ্রাচ্য
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধ এবার চরম কূটনৈতিক সংঘাতের রূপ নিয়েছে। নিজ ভূখণ্ডে ‘বারবার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার’ অভিযোগে ইরানের সামরিক অ্যাটাশে এবং দূতাবাসের চার কর্মীকে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে সৌদি আরব। শনিবার (২২ মার্চ ২০২৬) সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক জরুরি বিবৃতিতে এই বহিষ্কারের আদেশ নিশ্চিত করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স (Reuters) এই চাঞ্চল্যকর খবরটি প্রচার করেছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবে নিযুক্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দূতাবাসের সামরিক অ্যাটাশে, সহকারী সামরিক অ্যাটাশে এবং মিশনের আরও তিন গুরুত্বপূর্ণ কর্মীকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ বা ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে তেহরান এখন সরাসরি সৌদি আরব ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সমরাস্ত্র রয়েছে, সেখানে ইরান ক্রমবর্ধমান শক্তিশালী হামলা চালাচ্ছে। সৌদি আরব দাবি করেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা শত শত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে, যার বেশিরভাগই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে।
গত কয়েক দিনে এই উত্তেজনার পারদ আকাশচুম্বী হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার লোহিত সাগর তীরের ইয়ানবু বন্দরে তেল লোডিং মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, যখন নিকটবর্তী আরামকো-এক্সন শোধনাগারের ওপর একটি ইরানি ড্রোন আছড়ে পড়ে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় ইয়ানবু বন্দরটিই সৌদি আরবের তেলের একমাত্র রপ্তানি পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এর আগে রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসেও দুটি ড্রোন আঘাত হেনেছিল। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ জানিয়েছেন, ইরানের ওপর থেকে তাদের আস্থা ‘চুরমার’ হয়ে গেছে এবং দেশ রক্ষায় সৌদি আরব তার বিশাল সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। উল্লেখ্য, গত বুধবার কাতারও একই পদ্ধতিতে ইরানি কূটনীতিকদের বহিষ্কার করেছিল, যা পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলল।
/আশিক
রুটিন মিশনে হঠাৎ বিধ্বস্ত কাতারের সামরিক হেলিকপ্টার: নিখোঁজদের সন্ধানে হাহাকার
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই কাতারের সামরিক বাহিনীতে এক বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে গেছে। রোববার (২২ মার্চ ২০২৬) কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, রুটিন মিশন চলাকালীন যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়ে দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার আঞ্চলিক জলসীমায় বিধ্বস্ত হয়েছে। তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি (Anadolu Agency) এই খবর নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হেলিকপ্টারটি সাগরে ‘রুটিন ডিউটি’ পালন করার সময় হঠাৎ কারিগরি সমস্যার সম্মুখীন হয়ে সরাসরি সাগরের বুকে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই নিখোঁজ ক্রু সদস্য এবং আরোহীদের খুঁজে বের করতে কাতারের কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী এক বিশাল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। কাতার কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এটি কোনো শত্রুভাবাপন্ন দেশের হামলা বা নাশকতামূলক কাজ নয়; বরং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই দুর্ঘটনাটি এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে ঘটল যখন মধ্যপ্রাচ্য কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কাতার বারবার আক্রমণের শিকার হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র 'রাস লাফান' এবং দোহার অদূরে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি 'আল-উদেইদ'। যদিও আল-উদেইদ লক্ষ্য করে ছোড়া বেশিরভাগ ইরানি অস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে, তবুও এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাটি বিশেষ উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
/আশিক
ইরানের দুঃসময়ে পুতিনের ঘোষণা; মস্কো থাকবে ‘নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হয়ে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই পারস্য নববর্ষ 'নওরোজ' উপলক্ষে ইরানের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) ক্রেমলিন থেকে পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় পুতিন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই কঠিন সময়ে তেহরানের পাশে ‘বিশ্বস্ত বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হিসেবে থাকবে মস্কো।
ক্রেমলিনের তথ্য অনুযায়ী, পুতিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে আলাদা আলাদা বার্তা পাঠিয়েছেন। বার্তায় তিনি ইরানি জনগণের সুখ-সমৃদ্ধি কামনার পাশাপাশি চলমান সংকট মোকাবিলায় তেহরানের দৃঢ়তা কামনা করেন। পুতিন আরও উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার কারণেই পুরো মধ্যপ্রাচ্য আজ অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে এবং এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। একইসঙ্গে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডকে পুতিন ‘নির্মম ও নিন্দনীয়’ বলে কঠোর সমালোচনা করেন।
তবে রাশিয়ার এই মৌখিক সমর্থনের বিপরীতে বাস্তব সহায়তার মাত্রা নিয়ে খোদ ইরানি মহলেই প্রশ্ন উঠেছে। কিছু ইরানি সূত্র দাবি করেছে যে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মস্কোর কাছ থেকে যে ধরনের কার্যকর সামরিক বা কৌশলগত সহায়তা প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে পুতিনের এই ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’র আশ্বাস কেবল কূটনৈতিক শিষ্টাচার না কি ভবিষ্যতে কোনো বড় সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
সূত্র: রয়টার্স
নাতাঞ্জে ফের মহাপ্রলয়: মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় কাঁপছে ইরানের পরমাণু কেন্দ্র
ইরানের পরমাণু কর্মসূচির হৃৎপিণ্ড হিসেবে পরিচিত নাতাঞ্জ (Natanz) ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে আবারও ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) পবিত্র ঈদুল ফিতরের সকালে ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, নাতাঞ্জের ‘শহীদ আহমাদি রোশন’ সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অপরাধমূলক হামলার’ লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা (Al Jazeera) এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার দাবি অনুযায়ী, শনিবারের এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং পরমাণু অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তির (NPT) সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই স্পর্শকাতর স্থাপনাটি যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই একবার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছিল, যার প্রমাণ মিলেছিল স্যাটেলাইট ছবিতে। ২০২৫ সালের জুনেও ইরান-ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধের সময় এই স্থাপনাটিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছিল।
এদিকে, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলমান এই বিধ্বংসী সংঘাত থামার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। ইসরায়েল দাবি করেছে, শনিবার ভোরেও ইরান তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। পাল্টা জবাবে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোর দিকে ধেয়ে আসা অন্তত ২০টি ইরানি ড্রোন মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ভূপাতিত করা হয়েছে। পারস্য উপসাগরজুড়ে এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে এক অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
/আশিক
রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর খবর: ভারতসহ এশিয়ার টার্গেট এখন ইরান
বিশ্বের জ্বালানি বাজারে এক বিশাল পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে সমুদ্রের বিভিন্ন প্রান্তে ভাসমান জাহাজগুলোতে প্রায় ১৭ কোটি (১৭০ মিলিয়ন) ব্যারেল ইরানি তেল মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলার (Kpler)। অন্যদিকে, ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স (Reuters)-এর এক প্রতিবেদনে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি আসপেক্টস (Energy Aspects)-এর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ১৯ মার্চ পর্যন্ত এই তেলের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩ থেকে ১৪ কোটি ব্যারেল।
সবচেয়ে বড় খবর হলো, গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেলের ওপর থেকে এক মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রে আটকে থাকা এই বিশাল পরিমাণ তেল এখন খালাস ও বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারতসহ এশিয়ার প্রধান আমদানিকারক দেশগুলো দ্রুত এই তেল কেনার পরিকল্পনা করছে। উল্লেখ্য যে, এশিয়ার দেশগুলো তাদের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল।
কিন্তু চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের শোধনাগারগুলো মারাত্মক সংকটে পড়ে উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল। এখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় শিথিলতা আসার পর এই বিশাল মজুত বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
হরমুজ উত্তেজনার প্রভাব, ইরান তেলে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত

আশিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে তেলের দাম ও সরবরাহে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করে আল জাজিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, এই ৩০ দিনের সাময়িক অনুমোদন শুধুমাত্র সেইসব তেলের জন্য প্রযোজ্য, যেগুলো ইতোমধ্যে পরিবহন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। নতুন কোনো ক্রয়াদেশ বা রপ্তানির ক্ষেত্রে এই শিথিলতা প্রযোজ্য হবে না বলে তিনি স্পষ্ট করেন। এর ফলে সীমিত পরিসরে হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু পরিমাণ তেল প্রবাহের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান উত্তেজনা। ইরান ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা এমন জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে যেগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, যা সরাসরি বৈশ্বিক বাজারে মূল্য অস্থিরতা তৈরি করছে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সমুদ্রে অবস্থানরত ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে। তার মতে, প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে, যা দামের ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
তবে এই দাবির বিপরীতে ইরান ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছে। ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সামান গোদ্দোসি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করার মতো অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল তাদের কাছে নেই। তিনি দাবি করেন, সমুদ্রে ভাসমান বা অন্য কোথাও মজুদ হিসেবে এমন কোনো অতিরিক্ত তেল নেই যা দ্রুত বাজারে আনা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন অর্থমন্ত্রীর এই ধরনের বক্তব্য মূলত সম্ভাব্য ক্রেতাদের মধ্যে একটি মনস্তাত্ত্বিক আস্থা তৈরির প্রচেষ্টা, যা বাস্তব সরবরাহ পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সার্বিকভাবে পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জ্বালানি বাজার এখন কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং গভীরভাবে ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। নিষেধাজ্ঞা শিথিলের এই সাময়িক সিদ্ধান্ত বাজারে স্বল্পমেয়াদি স্বস্তি আনতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে হরমুজ প্রণালী, আঞ্চলিক সংঘাত এবং সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
হরমুজের সংকট মোকাবেলায় ইরানের খার্গ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনায় ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন এক কৌশল বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের খার্গ দ্বীপ দখল বা অবরোধের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে, যা দেশটির তেল রপ্তানির মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপটি ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ধারণা করা হচ্ছে যে, সামরিক চাপ আরও বৃদ্ধি করে খার্গ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া গেলে ইরানকে আলোচনায় বাধ্য করা সম্ভব হতে পারে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা, এরপর দ্বীপটি দখল করে সেটিকে আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানা গেছে।
ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দ্বীপটিতে একাধিক হামলা চালিয়ে সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে স্থল অভিযান পরিচালনার বিষয়টি আরও জটিল, কারণ এতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা সরাসরি ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে। খার্গ দ্বীপের ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে, সেখানে সেনা মোতায়েন করলে তারা সহজেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আওতায় চলে আসবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে, যা এই সম্ভাব্য পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে পরিস্থিতি অনুযায়ী উপকূলীয় অভিযানও বাস্তবায়িত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপকে কেন্দ্র করে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে তা কেবল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র করবে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তার ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলবে। কারণ হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ, যেখানে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
সার্বিকভাবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও গভীর পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, যেখানে কৌশলগত অবকাঠামো দখল এবং জ্বালানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ হয়ে উঠবে প্রধান শক্তির লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু।
পাঠকের মতামত:
- প্রটোকল ভেঙে কোলাকুলি: তারেক রহমানের অমায়িক আচরণে মুগ্ধ নেট দুনিয়া
- পেট ফাঁপা ও বুক ভার ভাব; ঈদের খাবারের পর অস্বস্তি দূর করার সহজ উপায়
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম স্বদেশি ঈদ: যমুনা থেকে গুলশান—দিনভর ব্যস্ততা
- তেহরানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ট্রাম্পের আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই শুরু মহাপ্রলয়
- হরমুজ প্রণালী না খুললে ধ্বংস হবে ইরান: ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি
- ঈদের খুশিতে বাড়তি আনন্দ; স্বর্ণের দামে বড় ধস নামাল বাজুস
- দেশের আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা; ১৯ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার অ্যালার্ট
- ইরানি কূটনীতিকদের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম: সৌদির কড়া পদক্ষেপে তোলপাড় মধ্যপ্রাচ্য
- ২২ মার্চ ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
- রুটিন মিশনে হঠাৎ বিধ্বস্ত কাতারের সামরিক হেলিকপ্টার: নিখোঁজদের সন্ধানে হাহাকার
- কুমিল্লায় ট্রেনের ধাক্কায় বাস লণ্ডভণ্ড: ৩ শিশু ও ২ নারীসহ ঝরল ১২ প্রাণ
- ইরানের দুঃসময়ে পুতিনের ঘোষণা; মস্কো থাকবে ‘নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হয়ে
- নাতাঞ্জে ফের মহাপ্রলয়: মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় কাঁপছে ইরানের পরমাণু কেন্দ্র
- সংসদে সমাধান না হলে রাজপথই শেষ ভরসা: গণভোট নিয়ে অনড় অবস্থানে জামায়াত
- রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর খবর: ভারতসহ এশিয়ার টার্গেট এখন ইরান
- প্রত্যাশিত দেশ গড়তে দেশবাসীর দোয়া চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
- নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রথম ঈদ: উৎসব, ঐক্য ও প্রত্যাশার বাংলাদেশ
- হরমুজ উত্তেজনার প্রভাব, ইরান তেলে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত
- বিরোধী দলীয় নেতার ঈদের শুভেচ্ছা: সরকারি বাসভবনে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন
- রমজানের শিক্ষা থেকে ঐক্যের ডাক: ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- হরমুজের সংকট মোকাবেলায় ইরানের খার্গ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনায় ট্রাম্প
- চেক প্রজাতন্ত্রে ইসরায়েলের অস্ত্র কারখানায় আগুন
- তেলের দামের ধাক্কায় সংকটে ভারতীয় বিমান খাত, রুট বন্ধের সতর্কতা
- ঈদের আনন্দ ম্লান: যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির ছায়ায় মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম বিশ্ব
- ইসরায়েলে প্রথমবার 'নাসরুল্লাহ' মিসাইল ব্যবহার করল ইরান
- জুমাতুল বিদা: ফজিলত, দোয়া ও করণীয় জানুন
- ইসরায়েলকে বড় জরিমানা ফিফার, কারণ কী
- শ্রমিকদের বেতন-বোনাস শতভাগ পরিশোধ করছে সরকার
- ট্রাম্প ও মিত্রদের জন্য ‘অপ্রত্যাশিত চমক’ প্রস্তুত রয়েছে- ইরান
- ইরান যুদ্ধে আটকে পড়ে পালানোর পথ খুঁজছেন ট্রাম্প
- সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন দেশের যেসব জায়গায়
- ‘বিশ্বকে রক্ষা করছি’ নেতানিয়াহুর দাবি
- আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তা
- ২০ মার্চ ঢাকার নামাজের পূর্ণ সময়সূচি
- দুই দফায় কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি মিলবে মাত্র ২ লাখ ২ হাজার টাকায়
- ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
- জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে আর ছাড় নয়: ইরান
- চাঁদ দেখার পর যে দোয়া পড়তেন নবী (সা.)
- কাতারের জ্বালানি কমপ্লেক্সে হামলা ইরানের সামরিক সক্ষমতার সীমিত অংশ
- ইরানের হামলায় ইসরাইলের তেল শোধনাগারে আগুন
- ‘আমি বেঁচে আছি’- গুজব ভেঙে সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু
- ইরান মিশনের পর জরুরি অবতরণ মার্কিন F-35, F-35 ক্ষতিগ্রস্ত?
- গ্যাস শক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে ইরানের আঘাত: বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তার নতুন ঢেউ
- ‘কোরআনের ভুল খুঁজতে গিয়ে নিজেই বদলে গেলাম’
- যুদ্ধের মাঝেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের মাস্টারপ্ল্যান
- যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত নেই: পেন্টাগনের ব্রিফিংয়ে ইরান ধ্বংসের নতুন নীল নকশা
- মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে ড্রোন হানা: ওয়াশিংটনের সামরিক ঘাঁটিতে আতঙ্ক
- বৃষ্টির বাধায় কি ম্লান হবে ঈদের আনন্দ? আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ আপডেট
- ২০২৬ সালে ভিসা ছাড়াই যেসব দেশে যেতে পারবেন
- এনসিপিতে যুক্ত হচ্ছে দুই নতুন সংগঠন
- সৌদিতে আজ কি দেখা যাবে ঈদের চাঁদ? সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে
- বিলাসবহুল ধাতু স্বর্ণ এখন আরও সস্তা: বাজুসের নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ
- ঈদ কি তবে শুক্রবার? সৌদি আরবের চাঁদ দেখা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটল!
- ঈদুল ফিতর ২০২৬: প্রধান জামাতের সময় ও জাতীয় ঈদগাহের সুযোগ-সুবিধা জেনে নিন
- কালিগঞ্জের পল্লীতে ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে জখম, টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
- আজ ডিএসইর সেরা ১০ গেইনার কোনগুলো
- ১৪৪৭ হিজরির রমজান কি ২৯ দিনে শেষ হবে? সৌদি সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
- ১৬ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত: জেনে নিন শবে কদরের করণীয় ও বর্জনীয়
- শেয়ারবাজারে দরপতনে এগিয়ে যেসব শেয়ার
- ঈদের ছুটিতে ব্যাংকিং সেবা কীভাবে পাবেন, জানুন বিস্তারিত
- ক্যাম্পাসের ব্যস্ততা পেরিয়ে ঈদের ছুটিতে কুবি শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরার আনন্দ
- ঈদের আগে চুলের জেল্লা ফেরাতে টক দই; ট্রাই করুন এই ৪টি জাদুকরী মাস্ক
- ২৬ রমজান: আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় প্রকাশ
- অমাবস্যা পেরিয়ে প্রতিপদ শুরু: আজ চাঁদ দেখার সম্ভাবনা নিয়ে যা জানালো জ্যোতির্বিজ্ঞান








