ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংকটে স্বাধীন ফিলিস্তিনের পক্ষে অটল কানাডা

জাতিসংঘ আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংকটের সমাধানে ‘দুই রাষ্ট্রভিত্তিক নীতি’কেই একমাত্র কার্যকর পথ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, এই নীতির প্রতি কানাডার প্রতিশ্রুতি দৃঢ় ও অটল, কারণ তা অঞ্চলটিতে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ফিলিস্তিন ইস্যু বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। “পরিস্থিতি যত জটিল হোক না কেন, আমাদের এই সম্মিলিত উপস্থিতি প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একটি আলোচনাভিত্তিক, ন্যায়সঙ্গত এবং টেকসই সমাধানের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ একটি সমাধান যা ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার নিশ্চিত করবে এবং একই সঙ্গে ইসরাইলের নিরাপত্তাকেও অটুট রাখবে,” বলেন আনন্দ।
তিনি দুই রাষ্ট্রভিত্তিক কাঠামোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, কানাডা বিশ্বাস করে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সৃষ্টি ইসরাইলের পাশেই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রস্তুতি ও শাসন কাঠামোর সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রসঙ্গে আনন্দ জোর দিয়ে বলেন, পশ্চিম তীর ও গাজার মতো দুটি পৃথক ভূখণ্ডকে কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে এখনই একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এমন না হলে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কাঠামো অকার্যকর হয়ে পড়বে।
গাজায় চলমান মানবিক সংকট নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বহু ফিলিস্তিনি খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে জীবন হারাচ্ছে, এবং যারা বেঁচে আছে, তারাও অপুষ্টি, এড়ানো সম্ভব এমন রোগ ও যুদ্ধজনিত ধ্বংসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই পরিস্থিতিকে 'বিপর্যয়কর' বলে আখ্যায়িত করেন।
তিনি ইসরাইলি বাহিনীর সহিংসতা এবং অব্যাহত বসতি সম্প্রসারণেরও তীব্র সমালোচনা করেন। “বিশেষ করে শিশুদের ওপর চালানো নিষ্ঠুর হামলা, জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সরাসরি লঙ্ঘন,” বলেন তিনি। এইসব কর্মকাণ্ড শুধু মানবিক নয়, রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও আরও জটিল করে তোলে।
সম্মেলনের মঞ্চ থেকে কানাডা নতুন করে ফিলিস্তিনিদের জন্য ৪ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। এই তহবিলের মধ্যে ১ কোটি ডলার ব্যয় হবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাঠামোগত সংস্কারে এবং ৩ কোটি ডলার বরাদ্দ থাকবে গাজার সাধারণ জনগণের মানবিক প্রয়োজন মেটাতে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনন্দ বলেন, “এই সম্মেলন কেবল বক্তব্য দেওয়ার জায়গা নয়, বরং এটি আমাদের নীতিগত অবস্থান দৃঢ় করার এবং বাস্তব পদক্ষেপের আহ্বান জানানোর এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।” তিনি আরও যোগ করেন, একটি কার্যকর ও ন্যায্য রাজনৈতিক সমাধানের জন্য দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রয়োজন রয়েছে, যা ভবিষ্যতের রাষ্ট্রীয় গঠনের ভিত্তি স্থাপন করতে পারবে।
-শরিফুল
প্রশাসনিক সংকট ও আন্তর্জাতিক চাপ: ট্রাম্পের বড় রাজনৈতিক ধাক্কা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে। নিজস্ব অনুমানের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা থাকলেও, এবার তাঁর প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা নন; বরং নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা এবং দীর্ঘদিনের অনুগত মিত্ররা। অনুগতদের সঙ্গে নীতির সংঘাত এবং জটিল প্রশাসনিক পরিস্থিতির কারণে ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে তিনি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন।
অনুকূল আইনি ব্যবস্থা তৈরির প্রচেষ্টায় হোঁচট খাওয়ার ঘটনাটি ঘটে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলের রিফ্লেক্টিং পুলে ভাঙচুরের একটি মামলাকে কেন্দ্র করে। সাবেক অলিম্পিক অ্যাথলেট ডেভিড হার্নের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলাটিতে বাদী পক্ষে ছিলেন বিচার বিভাগের কর্মকর্তা ও ট্রাম্প সমর্থক জেনিন পিরো। দুর্বল প্রমাণের ভিত্তিতে মামলায় জয় অসম্ভব বুঝতে পেরে পিরো মামলাটি প্রত্যাহার করে নিলে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পিরোর তীব্র সমালোচনা করেন এবং তাকে নতিস্বীকারকারী বলে আখ্যা দেন।
পরবর্তী ধাক্কাটি আসে ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আইনি উপদেষ্টা টড ব্ল্যাঞ্চের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে। ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক রাজনৈতিক মামলার শিকার ব্যক্তিদের জন্য ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে এই তহবিলের তীব্র বিরোধিতা করেন রিপাবলিকান সিনেটর জন কর্নি ও থম টিলিস। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই তহবিল পুরোপুরি বাতিল না করা পর্যন্ত ব্ল্যাঞ্চের নিয়োগ চূড়ান্ত হতে দেওয়া হবে না। পরিণতিতে সিনেট অনুমোদন পাওয়ার স্বার্থে ব্ল্যাঞ্চ সিনেটরদের লিখিত মুচলেকা দিয়ে সেই শর্ত মেনে নেন।
অভ্যন্তরীণ এই টানাপোড়েনের চেয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন। মার্কিন সাময়িক সামরিক হুমকির মাঝেই ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানি প্রতিনিধিরা গোপন বৈঠকের অনুরোধ জানিয়ে পরবর্তীতে জনসম্মুখে তা অস্বীকার করছে। যদিও ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালির সমুদ্র পথ সম্পর্কিত সীমিত কিছু আলোচনা ছাড়া তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বড় কোনো চুক্তির সমঝোতা ঘটেনি বলে বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সুদীর্ঘ যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের প্রভাব পড়েছে ট্রাম্পের প্রতি সাধারণ জনগণের সমর্থনে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলো বলছে, তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নেমে এসেছে মাত্র ৩৩ শতাংশে, যা আধুনিক মার্কিন ইতিহাসে কোনো দ্বিতীয় মেয়াদের প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে অন্যতম সর্বনিম্ন। তবে এই জরিপ পরিসংখ্যানকে সরাসরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন তাঁর জনপ্রিয়তা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে শীর্ষে রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আসন্ন মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা তাঁর সরকারের বিষয়ে কী রায় দেন, সেটিই এখন বড় দেখার বিষয়।
/আশিক
শেষ মুহূর্তে ইউক্রেনে হামলা থামাল ইরান, কেন?
ইউক্রেনের তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে সামরিক হামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও শেষ মুহূর্তে অভিযান বাতিল করেছে ইরান। কিয়েভ কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাতের ঘটনাকে অনিচ্ছাকৃত বলে দুঃখ প্রকাশ করার পর তেহরান এই সিদ্ধান্ত নেয় বলে দাবি করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি। তবে তিনি সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলোর অবস্থান বা হামলার ধরন সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি এবং তাঁর এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সোমবার (৩ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেজায়ি বলেন, ইউক্রেনের তিনটি স্থানে আঘাত হানার জন্য দেশটির সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছিল। পরে কিয়েভ ঘটনাটিকে ভুলবশত সংঘটিত হামলা হিসেবে উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করায় অভিযানটি স্থগিত করা হয়। তবে ইউক্রেনের কথিত দুঃখ প্রকাশকে তিনি আনুষ্ঠানিক ক্ষমা হিসেবে উল্লেখ করলেও কিয়েভের প্রকাশ্য বিবৃতিতে সেই ভাষা ব্যবহৃত হয়নি। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে জানিয়েছিলেন, জাহাজে আঘাতটি ইচ্ছাকৃত ছিল না এবং উত্তেজনা আরও না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ২৫ জুলাই কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলার পর। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বিস্ফোরণে একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হন। তেহরান এটিকে ‘শত্রুতামূলক ও অপরাধমূলক’ কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়ে ইউক্রেনের কূটনৈতিক প্রতিনিধিকে তলব করে এবং নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।
ইউক্রেন ওই জাহাজটিকে রাশিয়ার জন্য ইরান-সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী নৌযান হিসেবে সন্দেহ করেছিল বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তবে জাহাজটি ঠিক কী বহন করছিল, সে বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে যাচাইকৃত কোনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, রাশিয়া ইরানি নকশার ড্রোন ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে তেহরান এ ধরনের সহযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইউক্রেনের কাছে নিহত নাবিকের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং ঘটনার পূর্ণ ব্যাখ্যা দাবি করেন। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনায় উভয় পক্ষ উত্তেজনা আরও বিস্তৃত না করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও তেহরান স্পষ্ট করে জানায়, জাহাজে হামলার ঘটনা বিনা প্রতিক্রিয়ায় ছেড়ে দেওয়া হবে না। পরে জাহাজটির নাবিকেরা এবং নিহত নাবিকের মরদেহ ইরানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
মোহসেন রেজায়ি একই সাক্ষাৎকারে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়েও কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের নির্ধারিত নৌপথের বাইরে কোনো জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। বিশেষ করে কোনো প্রতিপক্ষের যুদ্ধজাহাজ তেহরানের ভাষায় ‘অবৈধ পথে’ প্রবেশের চেষ্টা করলে সেটিকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ও নৌ চলাচলের নিয়ম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে। ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর জন্য বাধাহীন ও উন্মুক্ত চলাচল দাবি করলেও তেহরান প্রণালিটির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় নিজেদের সার্বভৌম কর্তৃত্ব অক্ষুণ্ন রাখার কথা বলছে। বর্তমানে ইরান ও ওমানের মধ্যে সাময়িক নৌপথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো চুক্তি হয়নি বলে তেহরান জানিয়েছে।
রেজায়ি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনা ব্যাহত করেছে এবং মার্কিন বাহিনী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে তিনি এ দাবির পক্ষে যাচাইযোগ্য পরিসংখ্যান বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের এই মূল্যায়ন স্বীকার করেনি। ফলে তাঁর বক্তব্যকে ইরানি সামরিক নেতৃত্বের দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ইউক্রেনে পরিকল্পিত হামলা বাতিলের দাবি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ইউরোপের দুটি পৃথক যুদ্ধক্ষেত্র ক্রমেই একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে। রাশিয়া-ইরান সামরিক সহযোগিতা, ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন অভিযান এবং হরমুজকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নতুন ধরনের আন্তঃআঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, কাস্পিয়ান সাগরের ঘটনার পর সরাসরি ইরান-ইউক্রেন সামরিক সংঘাত শুরু হলে চলমান যুদ্ধ আরও বিস্তৃত ও জটিল হয়ে উঠতে পারত।
তেহরান আপাতত হামলা বাতিলের কথা জানালেও ঘটনাটির তদন্ত এবং সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
-রফিক
জীবনহানি এড়াতে ট্রাম্পের নতুন কৌশল: হরমুজ প্রণালি নিয়ে কী চুক্তি হতে যাচ্ছে?
মধ্যপ্রাচ্যে আর কোনো সামরিক সংঘাত বিস্তার না করে কেবল কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সব বিদ্যমান সংকটের সমাধান চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (২ আগস্ট) এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। পারস্য উপসাগরীয় এলাকার চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, তিনি অহেতুক জীবনহানি চান না এবং যেকোনো সশস্ত্র সংঘাতের চেয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছানোকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ মধ্যস্থতায় আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, সংঘাত বৃদ্ধি পেলে তা তেহরানের জন্য চরম ক্ষতিকর হতো। তবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং খোদ ইরানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা এবং একটি সম্ভাব্য চুক্তির পথ উন্মুক্ত হওয়ার কারণেই পরিকল্পিত সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প এই সম্ভাব্য চুক্তি ও কূটনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে কৌশলগত হরমুজ প্রণালির পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ও উন্মুক্তকরণ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টিকে সরাসরি শর্তযুক্ত করেছেন। আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া না হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় যেকোনো মুহূর্তে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্ণ প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বলেও তিনি সতর্ক করেন। মূলত আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টায় হরমুজ প্রণালির ওপর নিষেধাজ্ঞা অপসারণ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত চলমান আন্তর্জাতিক আলোচনার অংশ হিসেবেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য সামনে এসেছে।
সূত্র: গালফ নিউজ
ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার গুজব উড়িয়ে দিল তেহরান: নেপথ্যে কী কারণ?
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো কূটনৈতিক আলোচনা চলছে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার (৩ আগস্ট) আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলার তথ্যটি সঠিক নয় এবং বিষয়টিতে কোনো অস্পষ্টতার অবকাশ নেই।
মুখপাত্র জানান, বর্তমানে কেবল প্রতিবেশী দেশ ওমানের সঙ্গেই ইরানের আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার একমাত্র লক্ষ্য কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মাস্কাটের সঙ্গে একটি সুনির্দিষ্ট অস্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে দুই উপকূলবর্তী দেশ গুরুত্বসহকারে কাজ করছে। এই আলোচনায় অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতি ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কিত অপরাপর বিষয় ও তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়টি পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তীতে পর্যালোচনা করা হতে পারে। এছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতা ও উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আন্তর্জাতিক সমকক্ষদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রেখে চলছেন।
হরমুজ প্রণালীর বর্তমান অচলাবস্থার জন্য ওয়াশিংটনকেই দায়ী করেছেন ইসমাইল বাঘাই। তিনি উল্লেখ করেন, ওমানের সাথে মতপার্থক্য নয়, বরং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন নৌ-অবরোধ ও সামরিক আগ্রাসনের ফলেই এই জলপথ সংকটের মুখে পড়েছে। যত দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী তৎপরতা বন্ধ না হবে, তত দিন পর্যন্ত প্রণালীর সার্বিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশা করা কঠিন। এছাড়া ওমানের সঙ্গে সমঝোতা আঞ্চলিক সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় হলেও জলপথটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে তা একাই যথেষ্ট নয় বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার বিষয়ে বাঘাই বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তান এবং কাতার তাদের পূর্বনির্ধারিত ভূমিকা পালন করছে, এখানে চীন নতুন কোনো মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়নি। তবে কৌশলগত মিত্র হিসেবে বেইজিং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিজেদের অবস্থান থেকে অবদান রাখছে। এছাড়া ইয়েমেন সংকটে সামরিক জোট গঠন না করে শান্তির জন্য স্থায়ী কাঠামোগত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন মুখপাত্র।
তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, তেহরান পার্শ্ববর্তী কোনো দেশের প্রতি বৈরী মনোভাব পোষণ করে না এবং সবার সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ইরানের সামরিক পদক্ষেপগুলো কেবল আত্মরক্ষামূলক, যা তাদের ওপর হামলা চালানোর উৎপত্তিস্থল বা ঘাঁটি লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। তবে আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোকে সতর্ক করে তিনি বলেন, নিজস্ব ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র যেন ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোকে কঠোর দায়িত্ব পালন করতে হবে। সবশেষে কূটনৈতিক মহলের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সবসময় দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে।
সূত্র- মেহের নিউজ
‘মানুষ হত্যা চাই না’, ইরানের সঙ্গে চুক্তি চান ট্রাম্প
মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সোমবার বিকেলে আলোচনা শুরুর কথা রয়েছে। তবে সম্ভাব্য সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেননি তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, কূটনৈতিক পথে সংকটের সমাধান হলে নতুন যুদ্ধ এড়ানো এবং বহু মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।
ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি নয়, বরং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় যোগাযোগ চলছে। আলোচনার ফল কী হবে, সেটি এখনই বলা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, সামরিক শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পছন্দ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত একটি বড় সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য সময় চাওয়ার পর তিনি হামলা থেকে সরে আসেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অচলাবস্থা নিরসন এবং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু করাই আলোচনার প্রধান লক্ষ্য।
সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং কাতারি কর্মকর্তারা সামরিক সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে উপসাগরীয় মিত্রদের অবস্থান পুরোপুরি এক নয়। সৌদি আরব ও কাতার সংযমের পক্ষে থাকলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু কর্মকর্তা ইরানের ওপর আরও কঠোর চাপ প্রয়োগের পক্ষে মত দিয়েছেন বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের এই সরু নৌপথ দিয়ে বিশ্বের তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাত ও জাহাজে হামলার কারণে সেখানে নৌ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, প্রণালির সব নৌপথ কোনো ফি ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকুক। অন্যদিকে ইরান প্রণালির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় নিজেদের সার্বভৌম কর্তৃত্ব বজায় রাখার দাবি করছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের নতুন ব্যবস্থা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে। সম্ভাব্য ব্যবস্থায় ওমানের দিকের একটি নৌপথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। তেহরানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো ট্রাম্পের কিছু দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা চললেও সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে বলা যাবে না।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হয়েছিল। এর আওতায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিল করা এবং বৃহত্তর শান্তিচুক্তির জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, নৌ চলাচলের নিয়ম এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্ব নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যার কারণে সেই ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পরে উভয় পক্ষ আবারও সামরিক অভিযানে জড়িয়ে পড়ে।
সম্ভাব্য নতুন আলোচনায় হরমুজের পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হবে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, যেকোনো সমঝোতায় ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বন্ধ করার নিশ্চয়তা থাকতে হবে। তবে তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং নিজেদের বেসামরিক পারমাণবিক অধিকার পরিত্যাগ করবে না।
-রফিক
ইরানের কঠোর অবস্থানের পর হামলা থেকে সরে এলেন ট্রাম্প
লেবাননের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও কঠোর অবস্থানের মুখে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক হুমকি বাস্তবায়ন থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
লেবানিজ সংবাদমাধ্যম আল-আহেদ প্রকাশ করেছে, ইরানের সামরিক শক্তি এবং মার্কিন যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে জোরালো জবাব দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে ওয়াশিংটনের ভেতরে কাজ করা নিরাপত্তাহীনতা ও আশঙ্কাই মূলত ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বদলের পেছনে কাজ করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরানের নীতিগত দৃঢ়তা এবং মার্কিন আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরাসরি হুমকির পর ট্রাম্প ইরানে সামরিক হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেন। তিনি নিজে নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত স্থগিতের প্রক্রিয়াটিতে তিনি সায় দিয়েছেন।
আল-আহেদ তাদের প্রতিবেদনে আরও জানায়, হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পর সৃষ্ট রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সামাল দিতে ট্রাম্প দাবি করেছেন—ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের অনুরোধের প্রেক্ষিতেই তিনি সামরিক হামলা না চালানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সূত্র: পার্সটুডে
ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরে ড্রোন তাণ্ডব: আন্তর্জাতিক ষড়যন্তের দিকে আঙুল ইরানের
মিশরের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব ইরানের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয় বলে জানিয়েছেন তেহরানের শীর্ষ কূটনীতিক আব্বাস আরাঘচি। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বিশৃঙ্খলা তৈরির লক্ষ্যে ইসরায়েল কর্তৃক ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ (নিজের পরিচয় গোপন রেখে বিভ্রান্তিকর) হামলা চালানের বিষয়েও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের মিশরীয় বন্দর দামিয়েত্তায় গ্যাসবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে ঘটে যাওয়া ড্রোন হামলার পেছনে কোন কোনো পক্ষের উসকানিমূলক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
আরাঘচি লেখেন, "মিশর মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও ভৌগোলিক অংশীদার। দেশটির নিরাপত্তা আমাদের কাছে বিশেষ অগ্রাধিকার পায়। পুরো অঞ্চলে শান্তি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে পরিচালিত যেকোনো গোপন চক্রান্ত বা চালবাজির বিষয়ে আমাদের সবাইকে যৌথভাবে সতর্ক হতে হবে।"
উল্লেখ্য, গত বুধবার মিশরের দামিয়েত্তা বন্দরে ড্রোন হামলায় দুটি মার্কিন ও আন্তর্জাতিক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণাধীন এলএনজি সংক্রান্ত ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা বিশ্লেষণ সংস্থা ‘অ্যামব্রে’র তথ্যমতে, ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ সংস্থাকে লক্ষ্য করে ড্রোনটি চালানো হয়। তবে ঘটনায় লোহিত সাগরের হুথি গোষ্ঠী কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে।
ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ও প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবুলি জানান, উদ্ধারকৃত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ ফরেনসিক ও সামরিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত তথ্য ও প্রমাণ ছাড়া কায়রো অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কোনো পক্ষকে দায়ী করবে না। এই মুহূর্তে পুরো অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা রক্ষায় মিশর যৌথভাবে বৈশ্বিক শক্তির সাথে কাজ করছে বলে জানান প্রেসিডেন্ট সিসি।
সূত্র: আনাদোলু
যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন, প্রভাবিত হবে বাংলাদেশও
বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড কর্মসূচি স্থায়ী করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এই মার্কিন ভিসা নীতির ফলে ব্যবসা ও পর্যটন ক্যাটাগরির (বি১/বি২) আবেদনকারীদের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য বন্ড জমা দিতে হতে পারে।
গতকাল শুক্রবার অনলাইনে প্রকাশিত মার্কিন প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কোনো কোনো আবেদনকারীর ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তারা ভিসা মঞ্জুরের শর্ত হিসেবে পাঁচ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড নির্ধারণ করবেন। কর্মকর্তাদের হাতে আবেদনকারীর সার্বিক ক্ষেত্র মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই বন্ডের পরিমাণ ঠিক করার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তর সূত্রে জানানো হয়, ইতিপূর্বে পরিচালিত পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে পর্যটক বা ব্যবসায়ীদের ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ঠেকাতে এই নিয়মটি বেশ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। নতুন প্রক্রিয়ায় পুরোনো নিয়ম সংশোধন করে সর্বনিম্নের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে এবং বন্ডের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ডলারে। আগামী ৩ আগস্ট থেকে এই চূড়ান্ত ও স্থায়ী নিয়মটি আনুষ্ঠানিকভাবে বলবৎ হতে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, এই নীতির আওতায় থাকা ৫০টি দেশের মধ্যে ৩০টিই আফ্রিকার।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা ও বেআইনিভাবে স্থায়ী হওয়া রোধের তাগিদ দেওয়া হলেও এটি অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞের দাবি, বন্ডের মাত্রাতিরিক্ত অর্থের কারণে বৈধ ভ্রমণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে আসতে নিরুৎসাহিত হবেন। এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের এমন কঠোর অভিবাসন নীতির দরুন মুক্তবাক ও ন্যায্য সুযোগ বিঘ্নিত হতে পারে বলেও তাঁরা সংশয় প্রকাশ করেছেন।
/আশিক
৩ লাখ ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে মিয়ানমার সম্মত: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ৫ হাজার এবং বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এই বিষয়ে নীতিগত সম্মতি এসেছে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম 'দ্য স্টার'-এর এক প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানান, দীর্ঘ আলোচনার পর মিয়ানমার অবশেষে মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার এবং বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে। তিনি বলেন, "প্রতিবেশী বা আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এটি তারই প্রমাণ। আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে যেকোনো সংবেদনশীল সমস্যার সমাধান অত্যন্ত সতর্ক কূটনীতির মাধ্যমেই করতে হয়।"
দেশটির চেন্নাহ এলাকায় সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আনোয়ার ইব্রাহিম আরও স্পষ্ট করেন যে, মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কেউ জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। এ বিষয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া পুলিশ প্রধানকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি পূর্ববর্তী পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেন, "অনেকে আগে রোহিঙ্গাদের তৎক্ষণাৎ ফেরত পাঠানোর দাবি জানাতেন। কিন্তু মিয়ানমার তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার না করে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোয় তা সম্ভব হয়নি। ফলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় তাদের সাময়িকভাবে রাখতে বাধ্য হয়েছিলাম।"
মালয়েশিয়ায় বসবাসরত রোহিঙ্গাদের স্থানীয় আইন ও নিয়ম মেনে চলার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, "এটি আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। এখানে এসে অন্য দেশের কোনো নাগরিক বিশৃঙ্খলা বা নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে—তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।"
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে মৌলিক ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে রোহিঙ্গারা বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সূত্র : দ্য স্টার
পাঠকের মতামত:
- সালমানের অবয়ব পরিবর্তনের আসল কারণ ও ষাটোর্ধ্বদের ওজন কমানোর সঠিক নিয়ম
- ৫ আগস্ট বিজয়ের দিন, ভিন্নমত যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- নিজস্ব অর্থায়নে খালের ওপর বাঁশের সাঁকো বানিয়ে দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শেখ আলমগীর
- কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠকে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর উপস্থিতি ঘিরে চাঙ্গা দেবিদ্বার বিএনপি
- ফটিকছড়িতে ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলার আসামি আজম নুর গ্রেপ্তার
- দেশের ১২ জেলার জন্য দুঃসংবাদ, নদ-নদীর পানি নিয়ে নতুন উদ্বেগ
- প্রশাসনিক সংকট ও আন্তর্জাতিক চাপ: ট্রাম্পের বড় রাজনৈতিক ধাক্কা
- ৩৪ বছর বয়সে আইপিএল খেলার স্বপ্ন, যে বিপদে পড়লেন মোহাম্মদ আমির
- পদত্যাগের হুমকি দিলে সরাসরি গ্রহণের হুঁশিয়ারি, পেজেশকিয়ান-খামেনি দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত ইরান
- ৫ আগস্ট ঘিরে সারা দেশে কঠোর নজরদারি, মাঠে নামানো হয়েছে একাধিক গোয়েন্দা দল
- বাদ পড়ছে ৭ মার্চের ভাষণ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি টাঙানোর বাধ্যবাধকতা
- সৌদি আরবের সাথে কৌশলগত দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- মার্কিন অর্থনীতি ও ফেডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আন্তর্জাতিক ধাতুর বাজার
- শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের আয়োজনে সম্পৃক্ততা নেই দিল্লির: রণধীর জয়সোয়াল
- সিট দখল ঘিরে আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল-শিবির রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
- মঙ্গলবারের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি
- স্বর্ণ কিনবেন আজ? দেখে নিন বাজুসের সর্বশেষ দর
- ৫ আগস্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচির নির্দেশ
- স্বর্ণের সঙ্গে বাড়ল রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়াম
- আজ মঙ্গলবার বন্ধ যেসব মার্কেট, বের হওয়ার আগে দেখুন
- ফের বাড়ল তেলের দাম
- শেখ হাসিনা ইস্যুতে ভারতকেই অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে: শামা ওবায়েদ
- শেষ মুহূর্তে ইউক্রেনে হামলা থামাল ইরান, কেন?
- সন্তানকে সম্পত্তি দিলেও কাড়তে পারবে না অধিকার: সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের নতুন খসড়া
- জীবনহানি এড়াতে ট্রাম্পের নতুন কৌশল: হরমুজ প্রণালি নিয়ে কী চুক্তি হতে যাচ্ছে?
- বিদ্যুৎ বিল নিয়ে রটনা নাকি সত্য? নতুন বিজ্ঞপ্তিতে যা জানাল মন্ত্রণালয়
- মঙ্গলবার সকালে বিদ্যুৎহীন থাকছে যেসব এলাকা
- শতাধিক মানুষের মাঝে গোল্ডেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিনামূল্যে চশমা বিতরণ।
- সমকামিতা কি মানসিক ব্যাধি? আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতামত
- সেপ্টেম্বরের মেগা টুর্নামেন্টে বড় চমক: কাকে উড়িয়ে আনা হচ্ছে ঢাকায়?
- ভারতের পূর্ব সীমান্তে ২৫০টি চিনা হাউইটজার মোতায়েন করল পাকিস্তান
- নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে দেরি হওয়ার নেপথ্যে যেসব মূল কারণ!
- তেলের দাম কমায় বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ল স্বর্ণের দর
- ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার গুজব উড়িয়ে দিল তেহরান: নেপথ্যে কী কারণ?
- অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করার কড়া নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- ৫ আগস্ট নতুন রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে আসছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী?
- পুরো পুলিশ টিম একসঙ্গে চা-বিশ্রামে যাওয়া নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া সতর্কতা
- মঞ্চের পর্দার আড়াল থেকে ব্যান্ডেজ চোখে ফিরে এলেন এনসিপি সমন্বয়ক!
- বয়স্ক ও বিধবা ভাতার আবেদন শুরু, যেভাবে করবেন আবেদন
- ‘মানুষ হত্যা চাই না’, ইরানের সঙ্গে চুক্তি চান ট্রাম্প
- ডলারের দাম কেন বাড়ছে, সামনে কী অপেক্ষা করছে
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বদলে গেল তেলের বাজার
- দুই বছর পর প্রকাশ্যে শেখ হাসিনা, কী বলবেন?
- তেলের দাম কমতেই লাফ দিল স্বর্ণের বাজার
- যেসব দেশে দিনদুপুরে নেমে আসবে রাতের অন্ধকার!
- মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির জোরালো প্রস্তাব দিল বাংলাদেশ
- ৪০ মিলিয়ন ইউরোয় ইতালি পাড়ি জমাচ্ছেন আর্জেন্টাইন তারকা
- এমপি লুনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ‘ওয়ান পাউন্ড জেনারেল হসপিটাল’-এর ট্রাস্টিবৃন্দ
- সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত বল্লভপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা
- কীভাবে এলো এই বিশেষ দিন: বন্ধু দিবসের অজানা কথা
- ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বদলে গেল তেলের বাজার
- ‘মানুষ হত্যা চাই না’, ইরানের সঙ্গে চুক্তি চান ট্রাম্প
- বিশ্ব-ব্যবস্থা তত্ত্ব: পুঁজিবাদী বিশ্ব-অর্থনীতি, নির্ভরতা ও বাংলাদেশের অবস্থান
- মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির জোরালো প্রস্তাব দিল বাংলাদেশ
- শেষ মুহূর্তে ইউক্রেনে হামলা থামাল ইরান, কেন?
- তেলের দাম কমতেই লাফ দিল স্বর্ণের বাজার
- দুই বছর পর প্রকাশ্যে শেখ হাসিনা, কী বলবেন?
- ডলারের দাম কেন বাড়ছে, সামনে কী অপেক্ষা করছে
- সিলেটে গাড়িবহরে হামলা: খালেদা জিয়ার ওপর অতীত হামলার সাথে তুলনা নাহিদ ইসলামের
- যানজট নিরসন ও যাতায়াত সহজ করতে সমন্বিত গণপরিবহন নেটওয়ার্কের পথে বাংলাদেশ
- বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করে বাহুবল পুলিশ ফাঁড়িতে এনসিপির লিখিত অভিযোগ
- জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক হামলা, ভূপাতিত করল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
- পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর
- নেতৃত্বের রদবদল: বিসিবির বোর্ড সভায় নতুন ওয়ানডে অধিনায়কের ঘোষণা
- শ্রীমঙ্গলের পর বাহুবলে আবার বাধা: সড়কের ওপরই বসে পড়লেন এনসিপি নেতারা








