পিআর নিয়ে যারা চিল্লাচ্ছেন, তারা একেকটা সিট পাওয়ার আশায় ব্যস্ত: সালাহউদ্দিন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ১৯ ২১:২৩:৫২
পিআর নিয়ে যারা চিল্লাচ্ছেন, তারা একেকটা সিট পাওয়ার আশায় ব্যস্ত: সালাহউদ্দিন
গোলটেবিল আলোচনায় কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবিঃjagonews24

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে যদি নির্বাচনী এলাকা ঘোষণা করা হয়, তাহলে যারা সেখানে একটা সিট পাবে, তারাই এখন পিআর পিআর করে চিৎকার করছে।’

শনিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর এক হোটেলে ‘জুলাই অভ্যুত্থান ও রাজনীতিতে গুজব’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। এই আয়োজন করে বাংলাদেশ সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যানালাইসিস।

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমরা এখনো দেশের মানুষকে ইভিএমে ভোট দিতে শেখাতে পারিনি। অথচ এখনই পিআর নিয়ে মাতামাতি শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচনের তারিখ এখনও ঘোষণা হয়নি, তবু একটি দল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পিআর নিয়ে সমাবেশ করছে।’

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে ঝুলন্ত পার্লামেন্টের সৃষ্টি হতে পারে, যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হবে।

গণঅভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে আমরা সবাই এক ছিলাম, এখন একেক দল একেক দিকে চলে গেছে। জামায়াত, বিএনপি, এনসিপি সবাই বিভক্ত। কেউ কেউ নিজের রাজনৈতিক ক্ষুদ্র স্বার্থ আঁকড়ে ধরেছে। এতে শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে।’

তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যেন ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে সবাই সোচ্চার হয়।

সালাহউদ্দিন আরও বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন যতই এগিয়ে আসবে, ততই গুজব ও অপপ্রচার বাড়বে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং গুজবের বিরুদ্ধে এখনই প্রস্তুতি না নিলে সুষ্ঠু নির্বাচন কঠিন হয়ে পড়বে।’

আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন—বিশ্বব্যাংকের সাবেক পুষ্টিবিদ জিয়াউদ্দিন হায়দার, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. বুলবুল আশরাফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. তানভীর হাবিব জুয়েল, রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশরাফ কায়সার, গবেষক ড. জালাল উদ্দীন শিকদার, এনসিপির যুগ্ম সম্পাদক তুহিন খান, বিআরএআইএন-এর প্রধান সমন্বয়কারী সাদিক মাহমুদ, শাসন ও সংস্কার বিশেষজ্ঞ নাদিয়া নিভিন, সমাজকর্মী ড. বনানী বিশ্বাস, অধ্যাপক ড. সালমা বেগম, ইন্টারনিউজ করেসপন্ডেন্ট শামীম আরা শিউলি, বিএনপির ফারজানা শারমিন পুতুল এবং জাতীয় মুক্তি পরিষদের সম্পাদক ফায়েজুল হাকিম লালা।

/আশিক


শিলিগুড়ি করিডর ঘিরে নতুন ভূরাজনৈতিক উত্তাপ: তিস্তা, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত বাস্তবতা

আশিকুর রহমান
আশিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার
রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২০ ০৮:৪৮:৫৪
শিলিগুড়ি করিডর ঘিরে নতুন ভূরাজনৈতিক উত্তাপ: তিস্তা, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত বাস্তবতা

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে শিলিগুড়ি করিডর বা কথিত ‘চিকেনস নেক’ আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, চীন-ভারত সীমান্ত, নেপাল, ভুটান এবং তিস্তা অববাহিকাকে ঘিরে সাম্প্রতিক কৌশলগত আলোচনা নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, ঢাকার সম্ভাব্য কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাস, তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনা সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ—সব মিলিয়ে অঞ্চলটি এখন শুধু ভৌগোলিক নয়, কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

শিলিগুড়ি করিডর ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সরু ভূখণ্ডই দেশটির মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য এবং সিকিমকে স্থলপথে যুক্ত করে। এর উত্তরে নেপাল, ভুটান ও চীনঘেঁষা অঞ্চল; দক্ষিণে বাংলাদেশ। ফলে এই করিডরকে ঘিরে ভারতের নিরাপত্তা-পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরেই অগ্রাধিকার পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সামরিক অবকাঠামো জোরদার, বিমানঘাঁটি উন্নয়ন, সীমান্ত নজরদারি এবং সংযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা বাড়ছে। ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই প্রস্তুতির বড় কারণ শুধু বাংলাদেশ নয়; বরং চীন-ভারত সীমান্ত উত্তেজনা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা হিসাব।

বাংলাদেশের জন্যও এই অঞ্চলটি কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। রংপুর বিভাগ, তিস্তা নদী, লালমনিরহাট, দিনাজপুর ও নীলফামারী—সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গ এখন শুধু কৃষি বা নদীনির্ভর অঞ্চলের পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এটি বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা, পানি-নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা উত্তরবঙ্গের কৃষি, জীবিকা, পরিবেশ ও জনজীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকট, নদীভাঙন, চরাঞ্চলের অনিশ্চয়তা এবং কৃষিজ উৎপাদনের ঝুঁকি উত্তরাঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতা।

এই প্রেক্ষাপটে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের কাছে শুধু একটি নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নয়; এটি উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি, পরিবেশ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন। নদী খনন, তীর সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি সংরক্ষণ, কৃষি সেচ এবং নদীকেন্দ্রিক উন্নয়ন—এসব বিষয় প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত। তবে প্রকল্পে চীনা সহায়তার সম্ভাবনা ভারতের নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভারতের দৃষ্টিতে, তিস্তা প্রকল্পের ভৌগোলিক অবস্থান শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি হওয়ায় এতে চীনের উপস্থিতি ভবিষ্যতে কৌশলগত প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশের দৃষ্টিতে, তিস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা এবং পানি বণ্টন সমস্যার সমাধান না হওয়ায় বিকল্প উন্নয়ন সহযোগী খোঁজা অস্বাভাবিক নয়।

লালমনিরহাট বিমানবন্দর ঘিরেও সাম্প্রতিক সময়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন পুরোনো এই বিমানক্ষেত্র পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কথাবার্তা হয়েছে। ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, উত্তরবঙ্গে কোনো বড় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিশেষ করে যদি তাতে চীনা কারিগরি বা আর্থিক সহযোগিতা থাকে, তাহলে তা ভারতের শিলিগুড়ি করিডর নিরাপত্তা-চিন্তাকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ ধরনের অবকাঠামো উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়ন, আঞ্চলিক সংযোগ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই দেখা হয়।

এ অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে চীন একটি বড় ফ্যাক্টর। সিকিম, অরুণাচল, তিব্বত এবং ভুটানঘেঁষা সীমান্ত অঞ্চল নিয়ে ভারত-চীন সম্পর্ক বহু বছর ধরেই সংবেদনশীল। ২০১৭ সালের দোকলাম সংকট দেখিয়েছে, হিমালয়সংলগ্ন সীমান্তে সামান্য উত্তেজনাও বড় কৌশলগত সংকটে রূপ নিতে পারে। চীন অরুণাচল প্রদেশকে ভারতের অংশ হিসেবে স্বীকার করে না; অন্যদিকে ভারত এটিকে তার অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে। এই বিরোধের প্রেক্ষাপটে শিলিগুড়ি করিডর ভারতের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সেনা, সরঞ্জাম ও রসদ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এই করিডর গুরুত্বপূর্ণ স্থলসংযোগ।

তবে এই বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় অতিরঞ্জিত, উত্তেজনাপূর্ণ ও অসমর্থিত দাবি ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও বাংলাদেশের ভূখণ্ড দখলের আশঙ্কা, কোথাও উত্তরবঙ্গকে বিচ্ছিন্ন করার কথিত পরিকল্পনা, কোথাও আবার ধর্মীয় উত্তেজনাকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের দাবি সামনে আসে। এসব দাবি জনমনে উদ্বেগ তৈরি করলেও এগুলোর অনেকটির নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে আবেগনির্ভর প্রচারণার বদলে তথ্যভিত্তিক, রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি। কারণ ভুল তথ্য বা উসকানিমূলক বয়ান শুধু জনমতকে বিভ্রান্ত করে না; বরং আঞ্চলিক সম্পর্ককেও আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হলো—একদিকে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, অন্যদিকে আঞ্চলিক সংঘাত এড়িয়ে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা। ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী এবং বাণিজ্য, যোগাযোগ, নদী, সীমান্ত ও নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের সম্পর্ক গভীরভাবে আন্তঃনির্ভরশীল। আবার চীন বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ফলে ঢাকার জন্য কোনো একপক্ষের দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকে পড়া যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় প্রকল্প বন্ধ রাখাও যুক্তিযুক্ত নয়। এখানে দরকার পরিপক্ব কূটনীতি, স্বচ্ছ প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা সংবেদনশীলতা মাথায় রেখে উন্নয়ন সিদ্ধান্ত নেওয়া।

তিস্তা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান হওয়া উচিত স্পষ্ট ও বাস্তববাদী। প্রথমত, ভারত-বাংলাদেশ পানি বণ্টন আলোচনাকে নতুন গতিতে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, তিস্তা অববাহিকার মানুষের জীবন-জীবিকা ও পরিবেশগত নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তৃতীয়ত, যে কোনো বিদেশি সহযোগিতা নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। চতুর্থত, তিস্তা প্রকল্পকে কেবল ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার চোখে না দেখে উত্তরবঙ্গের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীলতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

অন্যদিকে ভারতের জন্যও বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের উদ্বেগকে উপেক্ষা করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব নয়। সীমান্ত হত্যা, পানি বণ্টন, বাণিজ্য বৈষম্য, ভিসা জটিলতা, পুশ-ইন বিতর্ক এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বয়ানে বাংলাদেশকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন—এসব বিষয় দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়ায়। যদি ভারত সত্যিই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা ও শিলিগুড়ি করিডরের স্থিতিশীলতা চায়, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে আস্থাভিত্তিক সম্পর্কই হবে সবচেয়ে কার্যকর পথ।

সব মিলিয়ে শিলিগুড়ি করিডর, তিস্তা ও উত্তরবঙ্গকে ঘিরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা দক্ষিণ এশিয়ার নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। এই অঞ্চলকে ঘিরে ভারত, বাংলাদেশ ও চীনের কৌশলগত হিসাব ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে এই প্রতিযোগিতা যেন সংঘাত, আতঙ্ক বা উসকানিতে রূপ না নেয়, সেটিই এখন সবচেয়ে জরুরি।

বাংলাদেশের নীতি হওয়া উচিত শান্তিপূর্ণ কিন্তু দৃঢ়; সহযোগিতামূলক কিন্তু আত্মসম্মানসম্পন্ন; উন্নয়নমুখী কিন্তু নিরাপত্তা-সচেতন। উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন, তিস্তার ন্যায্য পানি, সীমান্তের স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য—এই চারটি বিষয়কে একসঙ্গে বিবেচনা করেই ঢাকাকে এগোতে হবে। কারণ শিলিগুড়ি করিডর ভারতের জন্য যেমন কৌশলগত, তেমনি তিস্তা ও উত্তরবঙ্গ বাংলাদেশের জন্য অস্তিত্ব, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রশ্ন।


এমপিদের জন্য ওভেন-ওয়াশিং মেশিনের দাবি, জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ১৯:২৯:২৩
এমপিদের জন্য ওভেন-ওয়াশিং মেশিনের দাবি, জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক
ছবি : সংগৃহীত

সংসদ সদস্যদের সরকারি বাসভবনে মাইক্রোওভেন, ওয়াশিং মেশিন ও পর্দার ব্যবস্থা করার দাবিকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে আজ তীব্র বাদানুবাদ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর একজন সদস্যের উত্থাপিত এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ওই সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে মাইক্রোওভেন দেওয়ার প্রস্তাব দিলে সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিয়ে আর বিতর্ক না করার আহ্বান জানিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, সংসদ সদস্যদের মূল দায়িত্ব হলো জনগণের সমস্যা ও দাবি-দাওয়া হাউজে তুলে ধরা। সেখানে একজন সংসদ সদস্যের মাইক্রোওভেন, ওয়াশিং মেশিন ও পর্দার মতো ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধার বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেওয়া সংসদের মর্যাদার সঙ্গে কোনোভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের বক্তব্য সংসদ ও সংসদ সদস্যদের ভাবমূর্তিকে জনগণের সামনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

পার্থ আরও মন্তব্য করেন, যদি সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সত্যিই একটি মাইক্রোওভেনের প্রয়োজন হয়, তবে তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সেটি কিনে দিতে প্রস্তুত আছেন। একই সঙ্গে তিনি রসিকতা করে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সংসদ সদস্যদের জন্য ওয়াশিং মেশিনের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান।

পার্থের এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান সংসদে বলেন, মাননীয় সদস্য পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে যে কথাগুলো বলেছেন, স্পিকার নিজেই প্রথমে নাকজ করেছেন যে এটি পয়েন্ট অব অর্ডারের বিষয় নয়। তিনি আরও বলেন, জামায়াত নেতা মজিবুর রহমান নিজের জন্য নয়, বরং সব সংসদ সদস্যের জন্য একটি সুবিধার কথা চেয়েছেন। স্পিকার যথার্থই বলেছেন যে এটি সংসদে না বলে কমিটির কাছে বলা যেত। কিন্তু সেই সূত্র ধরে আন্দালিব রহমান পার্থ যেভাবে গাড়ি-বাড়ি এবং ব্যক্তিগতভাবে জিনিসপত্র দেওয়ার অফার করলেন, তা অত্যন্ত অনভিপ্রেত। উনার কাছে কেউ কিছু চায়নি যে উনি দান করবেন। সংসদ সদস্যদের মানসিকতা এমন হওয়া উচিত যাতে কেউ কারও সম্মানে আঘাত না করেন।

উভয় নেতার এই বাদানুবাদের প্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদ সদস্যদের আবাসন ও সুযোগ-সুবিধা দেখভালের জন্য নির্দিষ্ট 'হাউস কমিটি' রয়েছে এবং যেকোনো প্রয়োজনীয় বিষয় সেখানে উত্থাপন করাই নিয়ম। স্পিকার আরও উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট সদস্য নিজের একার জন্য নয়, সংসদের সরকারি বাসভবনে বসবাসকারী সব সদস্যের সামগ্রিক সুবিধার জন্য বিষয়টি উত্থাপন করেছেন।

স্পিকার এই ঘটনাটিকে গুরুতর কোনো অপরাধ নয় বলে মন্তব্য করেন। তবে তিনি যোগ করেন, যদিও এটি সংসদে না বললেই ভালো হতো, কারণ এতে জনমনে ভিন্ন ধরনের নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হতে পারে। তবে বিষয়টি সদস্যদের প্রাপ্য সুবিধার মধ্যেও পড়তে পারে। আন্দালিব রহমান পার্থের উদ্দেশ্যে স্পিকার বলেন, যেভাবে আপনি একজন সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে দেওয়ার অফার করেছেন, সেটি তার জন্য অসম্মানজনক মনে হতে পারে। তাই এই বিষয় নিয়ে আর বাড়াবাড়ির কোনো দরকার নেই। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি সবাইকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

/আশিক


প্রস্তাবিত বাজেট চানাচুর মার্কার মতো শুনলে ভালো লাগে খেলে পেট খারাপ হয়: আমির হামজা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৭ ২১:৪৬:৩৬
প্রস্তাবিত বাজেট চানাচুর মার্কার মতো শুনলে ভালো লাগে খেলে পেট খারাপ হয়: আমির হামজা
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে ‘লুটপাটের বাজেট’ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা। তিনি এই বাজেটকে ‘চানাচুর মার্কার’ সাথে তুলনা করে বলেন, "এ বাজেট অনেকটা চানাচুর মার্কার মতো; শুনতে ভালো লাগলেও খেলে পেট খারাপ হয়।"

বুধবার (১৭ জুন) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেন, জাতীয় বাজেটের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রের রাজস্ব আয় বাড়াতে কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সাথে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ না বাড়িয়ে নতুন আয়ের উৎস খুঁজে বের করার তাগিদ দেন তিনি। দেশের অন্যতম বড় সমস্যা বেকারত্ব মোকাবিলায় শিল্পায়নে আরও বেশি বিনিয়োগ ও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষা খাতে বরাদ্দের সমালোচনা করে এই সংসদ সদস্য বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি দীর্ঘদিনের অবহেলার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও মাদ্রাসাগুলো পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি। তিনি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এবং প্রতিটি জেলা শহরে একটি করে ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসা জাতীয়করণের জোর দাবি জানান।

কৃষি খাতের উন্নয়নে কৃষকদের জন্য স্বল্পমূল্যে সার ও বীজ সরবরাহ এবং কৃষি যন্ত্রপাতি সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত করার আহ্বান জানান আমির হামজা।

পাশাপাশি রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। তাদের যাতায়াত সুবিধার জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে রেললাইন চালুর উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও এ বিষয়ে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। আগামী বাজেটে যেন এটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন হয়, সেই দাবি জানান তিনি।

বাজেট নিয়ে সরকারের আশাবাদী বক্তব্যের সমালোচনা করে আমির হামজা বলেন, "সরকার দাবি করছে বাজেটকে ঘিরে দেশে আনন্দের বন্যা বইছে। কিন্তু বাজেট ঘোষণার পর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনের বাস্তব চিত্রও দেখা গেছে।"

/আশিক


দেশি-বিদেশি মদদে আবারও মাথাচাড়া দিচ্ছে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ২১:৪৭:২৬
দেশি-বিদেশি মদদে আবারও মাথাচাড়া দিচ্ছে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

দেশের অভ্যন্তরে এবং বিদেশি মদদে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, এই চক্রটি জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের পরিকল্পিতভাবে হেনস্থা, নিপীড়ন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পথ বেছে নিয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

সাংসদ নাহিদ ইসলাম তাঁর পোস্টে বলেন, "এর মধ্য দিয়ে আবারও আওয়ামী সন্ত্রাসী রাজনীতির নির্মম, সহিংস ও পাশবিক চরিত্র জাতির সামনে উন্মোচিত হয়েছে। হিংস্রতা ও নিষ্ঠুরতায় তারা সভ্যতার সব সীমা অতিক্রম করেছে।" তিনি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তির এই বর্বরতায় উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে এমন কিছু কুশীলবকে, যারা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় ছিল এবং গত ১৭ বছর ধরে গুম, খুন ও দমনের পক্ষে নির্লজ্জ সাফাই গেয়েছে।

গণমাধ্যমে ফ্যাসিবাদের অর্থায়নের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দেশ থেকে লুটপাট ও পাচার করা অর্থ এখন গণমাধ্যমে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রত্যক্ষ আর্থিক সহায়তায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম কার্যক্রম শুরু করেছে দাবি করে এ বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট জবাব চান তিনি। একই সঙ্গে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু গণমাধ্যম সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ঘিরে ধারাবাহিক সংবাদ প্রচার করে অপরাধ লঘু করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। আদালতের নির্দেশনার আলোকে গণমাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রচার অবিলম্বে নিষিদ্ধ করার এবং ফ্যাসিবাদীদের পক্ষে সম্মতি তৈরিকারী তথাকথিত সুশীল ও দালালচক্রকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম বর্তমান সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, "পতিত সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর দুঃসাহসের দায় সরকার এড়াতে পারে না। নির্বাচনের পর জুলাই গণহত্যাসহ অন্যান্য গণহত্যায় অভিযুক্ত নেতাদের একের পর এক মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের প্রতি একধরনের প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এর ফলেই তারা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।" তিনি জুলাই গণহত্যাসহ সব রাজনৈতিক নিপীড়নে জড়িতদের বিচারের পাশাপাশি গণহত্যা ও সন্ত্রাসে সম্পৃক্ত সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার অবিলম্বে শুরু করার জোর দাবি জানান। পরিশেষে, দেশে-বিদেশে সক্রিয় আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তিকে সর্বাত্মকভাবে প্রতিরোধ করতে তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

/আশিক


জুলাই সনদ সংসদে নিষ্পত্তি না হলে রাজপথে আদায়ের হুঁশিয়ারি ডা. শফিকুরের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ১৮:৪৭:১৬
জুলাই সনদ সংসদে নিষ্পত্তি না হলে রাজপথে আদায়ের হুঁশিয়ারি ডা. শফিকুরের
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের রায় সংসদে নিষ্পত্তি না হলে তা রাজপথে আদায় করা হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, জনগণের দাবি থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ তাদের নেই। তিনি বলেন, 'উই আর কমিটেড। আমরা আমাদের কমিটমেন্ট ভায়োলেট করতে পারি না। জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করব না। এই দাবি আজ হোক, কাল হোক আদায় হবে ইনশা-আল্লাহ।'

সংবিধান সংশোধনে সরকারি দলের প্রস্তাবিত কমিটিতে বিরোধী দল কোনো প্রতিনিধি দেবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দেন জামায়াত আমির। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের দাবি ছিল সংবিধান সংস্কার এবং সেই লক্ষ্যেই দেশে রেফারেন্ডাম বা গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের ৭২ শতাংশ মানুষ যেখানে ভোট দিয়েছে, সংসদের ভেতরে এসে সেই রায়কে তারা বদলাতে চান না। তিনি মনে করেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য কোনো বিশেষ কমিটির প্রয়োজন নেই, এটি একটি রুটিনওয়ার্ক যা ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে বিল আকারে এলে সংসদে আলোচনা হতে পারে। তবে সরকার যদি সংবিধান সংস্কারের জন্য কোনো প্রস্তাব দেয়, তখন তারা তা বিবেচনা করে দেখবেন।

সংসদের ভেতরে বিরোধী দলের বর্তমান কার্যক্রম ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নোটিশের প্রসঙ্গও সভায় তুলে ধরেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানান, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি, মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়া স্টক মার্কেট এবং গুঁড়া হওয়ার উপক্রম হওয়া ব্যাংক খাত নিয়ে তারা সংসদে জনগণের পক্ষে কথা বলেছেন। প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সুনির্দিষ্ট সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া সীমান্তে পুশ-ইন নিয়ে বিরোধী দলের দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে তা কার্যসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সেনসিটিভ ইস্যু হলেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে তারা এ নিয়ে আলোচনা চেয়েছিলেন।

অতীতের সংসদীয় সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে দেশের স্বার্থে একটি ভিন্নধর্মী ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তারা কোনো 'বগলদাবা' বা সরকারি দলের আজ্ঞাবহ বিরোধী দল হবেন না। আবার একই সাথে তারা কোনো অনর্থক 'গরম' বিরোধী দলও হতে চান না, বরং একটি যৌক্তিক বিরোধী দল হিসেবে কাজ করতে চান। কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সুযোগ না পেলে তারা সাময়িক ওয়াক আউট করবেন, কিন্তু জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন করে দীর্ঘমেয়াদে সংসদ বর্জন করবেন না। সংসদ অধিবেশন পরিচালনায় প্রতি মিনিটে এক লাখ ৭৬ হাজার টাকা খরচ হয় উল্লেখ করে তিনি স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানান, যেন সংসদে ব্যক্তিগত বা দলীয় চরিত্রহনন এবং কারও মনোরঞ্জন বা প্রশংসা করা বন্ধ করা হয়।

মতবিনিময় সভায় বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


বেনজীরকে ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ যেভাবে উঠল এমপি বন্ধুর বিরুদ্ধে

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ০৮:৪৬:২০
বেনজীরকে ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ যেভাবে উঠল এমপি বন্ধুর বিরুদ্ধে
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমদকে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নয়, বরং তার বাসার কাছাকাছি একটি শপিং মল থেকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। একই সঙ্গে দুবাইয়ে সরকারি ছুটি শেষে মঙ্গলবার (১৬ জুন) তাকে আদালতে হাজির করা হতে পারে এবং সেদিনই তার জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

পরিবারের দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই বেনজীর আহমদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসবাস করছেন। গত ১২ জুন বাসায় অবস্থান করার সময় চট্টগ্রাম অঞ্চলের এক সংসদ সদস্য, যিনি তার ব্যবসায়িক সহযোগী ও দীর্ঘদিনের পরিচিত হিসেবে পরিচিত, তাকে নিকটবর্তী একটি শপিং মলে দেখা করার জন্য ফোন করেন।

পরিবারের ভাষ্যমতে, নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর পর আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া দুবাই পুলিশের সদস্যরা তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। তারা আরও অভিযোগ করেছেন, ওই সময় সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তিও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তবে এই অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

পরিবারের দাবি, তারা দুবাই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছেন যে স্থানীয়ভাবে বেনজীর আহমদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তাদের মতে, বাংলাদেশ পুলিশের আবেদনের পর ইন্টারপোলের জারি করা রেড নোটিশের কারণেই তাকে আটক করা হয়েছে।

এছাড়া পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি ব্যক্তিগত উদ্যোগে রেড নোটিশসংক্রান্ত নথিপত্র দুবাই পুলিশের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তবে এ অভিযোগেরও কোনো স্বাধীন যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি।

বেনজীর আহমদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, আটকের পর দুবাই কর্তৃপক্ষ তার ভিসার বৈধতা, অবস্থানের উদ্দেশ্য এবং তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করেছে। পরে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নোটিশ কার্যকর রয়েছে এই তথ্য বাংলাদেশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ও বাংলাদেশ পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

এদিকে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে তার পক্ষে দুবাইয়ে একজন স্থানীয় আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে চলমান মামলাগুলোর প্রয়োজনীয় নথিপত্রও আইনজীবীর কাছে পাঠানো হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রগুলো বলছে, ১২ জুন সীমিত পরিসরে আদালতের কার্যক্রম চললেও সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক বন্ধের কারণে পরবর্তী কয়েকদিন স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত ছিল। মঙ্গলবার থেকে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর তাকে আদালতে হাজির করার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশের একাধিক সূত্রও নিশ্চিত করেছে যে বেনজীর আহমদ বর্তমানে দুবাই পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতেই বিষয়টি বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে।

-রফিক


ব্যাংক ফাঁকা, আইএমএফের টাকা নাই, বাজেট কীভাবে হবে?: সংসদে রুমিন ফারহানা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ১৯:৪৪:৪৮
ব্যাংক ফাঁকা, আইএমএফের টাকা নাই, বাজেট কীভাবে হবে?: সংসদে রুমিন ফারহানা
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুর দশা এবং ক্রমবর্ধমান ঋণনির্ভরতার তীব্র সমালোচনা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাবিত সম্পূরক বাজেটের বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে জাতীয় সংসদে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা ঘাটতি বাজেটের সংস্কৃতি এবং তা পূরণে চড়া সুদে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা সামষ্টিক অর্থনীতিকে এক অবর্ণনীয় চাপের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সোমবার স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা এসব তীক্ষ্ণ অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান ও নীতিগত প্রশ্ন উত্থাপন করেন।

সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা তাঁর বক্তব্যে দেশের বর্তমান অর্থনীতির যে ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন, তার পেছনে কিছু গভীর কাঠামোগত সংকট ও সরকারের নীতিগত অন্ধবিন্দু রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের খেলাপি ঋণ মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে, যা টাকার অঙ্কে প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

এর ফলে ব্যাংকিং খাতের মূলধনের পর্যাপ্ততা ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে। ব্যাংকিং খাতকে গত ১৫ বছর ধরে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দৃশ্যমান ব্যবসায়ী বহির্ভূত ও প্রভাবশালীদের হাতে ঋণ তুলে দেওয়ার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, দেশের অর্থনীতিকে এখন তার চরম খেসারত দিতে হচ্ছে। এই অবস্থায় সরকার যদি বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে আরও ঋণ নেয়, তবে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি পুরোপুরি শূন্যে মিলিয়ে যাবে এবং ব্যক্তিগত বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়বে, যা ইতিমধ্যে ২২ শতাংশ থেকে মাত্র ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

পুঁজি পাচার ও ডলার সংকটের অন্ধকার অধ্যায় তুলে ধরে তিনি জানান, শ্বেতপত্রের তথ্য অনুযায়ী বিগত ১৫ বছরে দেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যার বার্ষিক গড় ১৪ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার। গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির মতে, কেবল আন্ডার ও ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমেই বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে বাইরে গেছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ডলারের দাম ধরে রাখার ভুল নীতির কারণে আরও ১৮ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার এই খাত থেকে চলে গেছে।

এই পুঁজি পাচার রোধ এবং কর ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন না করে কেবল বাজেট সংশোধন করাকে তিনি জোড়াতালির অর্থনীতি বলে ইঙ্গিত করেন। এর ফলে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলারে, যা রপ্তানির হ্রাস এবং আমদানির আশঙ্কাজনক বৃদ্ধিকে নির্দেশ করে।

রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সবচেয়ে আশঙ্কাজনক দিকটি ছিল বৈদেশিক অর্থায়নের উৎস। আইএমএফ সম্প্রতি জানিয়েছে যে তারা পূর্ববর্তী চুক্তির পরবর্তী কিস্তিগুলো বর্তমান সরকারকে আর দেবে না এবং নতুন করে চুক্তি করার তাগিদ দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এডিবি বা বিশ্বব্যাংকের বাইরে গিয়ে চীন বা সমগোত্রীয় কোনো দেশের দ্বিপাক্ষিক ঋণের দিকে ঝুঁকতে হবে সরকারকে।

এই ধরণের ঋণে সুদের হার অনেক বেশি থাকে এবং অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে তা পরিশোধের কঠোর চাপ থাকে, যা দেশকে এক প্রকার ঋণের ফাঁদে ফেলতে পারে। জিডিপির আকার ৬৮ লাখ কোটি টাকা হলেও প্রবৃদ্ধি যেখানে মাত্র ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫ শতাংশ, সেখানে এই চড়া সুদের ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী কোন জাদুমন্ত্রে এই বাজেট বাস্তবায়ন করবেন, সেই প্রশ্নটিই এখন দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সংশয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

/আশিক


বেনজীরকে গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ’ জানালেন বিরোধীদলীয় উপনেতা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ১৮:০৯:১৩
বেনজীরকে গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ’ জানালেন বিরোধীদলীয় উপনেতা
ছবি : সংগৃহীত

দুর্নীতির মামলায় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

রোববার (১৪ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের বিশেষ অনুমতিক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেন যে, দুর্নীতির মামলার পরোয়ানাভুক্ত ও পলাতক আসামি সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাই থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার পর, স্পিকারের নির্ধারিত অনুমতি নিয়ে ফ্লোর পেয়ে নিজের বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় উপনেতা। তিনি তাঁর বক্তব্যে বেনজীর আহমেদের মতো হাই-প্রোফাইল আসামিকে আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সফলভাবে গ্রেপ্তারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।

/আশিক


আদালতে আত্মসমর্পণ করছেন আমির হামজা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ১৬:৩০:৪৮
আদালতে আত্মসমর্পণ করছেন আমির হামজা
ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে দায়ের করা মানহানি মামলায় আজ রোববার সিরাজগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা। রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে আলোচিত এই মামলাটি নতুন মোড়ে পৌঁছেছে তার আদালতে হাজিরার মধ্য দিয়ে।

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পাওয়ার পর এবার নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে নিয়মিত জামিনের আবেদন করবেন তিনি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন বিচারক।

সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম মল্লিক জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মুফতি আমির হামজা নির্ধারিত সময়ে আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন প্রার্থনা করবেন। এরপর মামলার বর্তমান অবস্থা ও আইনি প্রক্রিয়া বিবেচনা করে আদালত পরবর্তী আদেশ দেবেন।

অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের নেতারাও নিশ্চিত করেছেন যে, সংসদ সদস্য আমির হামজা রোববার দুপুরে আদালতে হাজির হবেন। এ ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গত ২ এপ্রিল ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বিদ্যুৎমন্ত্রীকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন, যা তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে।

মামলা দায়েরের দিনই আদালত আমির হামজার বিরুদ্ধে সমন জারি করে ২১ এপ্রিল হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। তবে নির্ধারিত দিনে তিনি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিচারক তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

পরবর্তীতে একাধিকবার হাজিরার সুযোগ দেওয়া হলেও আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় মামলাটি আরও গুরুত্ব পায়। গত ১৭ মে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সুমন কর্মকার তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন, যা মামলাটিকে নতুন মাত্রা দেয়।

আইনজীবীরা বলছেন, আদালতের সমন ও পরবর্তী নির্দেশনা অমান্য করার বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হতে পারে। তবে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পাওয়ার ফলে এখন তার আত্মসমর্পণ ও জামিন আবেদনের ওপরই মামলার পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করছে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: