চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটির হস্তান্তর সম্পন্ন, পরিচালনায় ড্রাইডক

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ০৬ ১৮:৫৫:৪৭
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটির হস্তান্তর সম্পন্ন, পরিচালনায় ড্রাইডক

চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১৭ বছর পর চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) দায়িত্ব ছাড়ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড। আগামীকাল সোমবার (৮ জুলাই) থেকে টার্মিনালটির দৈনন্দিন পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরাসরি নৌবাহিনীর সঙ্গে চুক্তির আইনি জটিলতা থাকায় চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডের সঙ্গে ছয় মাস মেয়াদি একটি পরিচালন চুক্তি স্বাক্ষর করবে তারা। সোমবার একই দিনে সাইফ পাওয়ারটেক আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে এবং ড্রাইডক টার্মিনাল পরিচালনায় দায়িত্ব নেবে।

বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক জানান, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ড্রাইডকের মাধ্যমে এনসিটি পরিচালনার প্রস্তাব বোর্ড সভায় অনুমোদিত হয়েছে।

সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মো. রুহুল আমীন বলেন, “নৌবাহিনীর কাছে টার্মিনাল হস্তান্তরের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এনসিটি থেকে দায়িত্ব শেষ হলেও আমাদের কার্যক্রম সিসিটিতে চলমান থাকবে।”

চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে চারটি কনটেইনার টার্মিনাল রয়েছে—চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি), নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) এবং পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি)। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বন্দরে হ্যান্ডলিং হওয়া প্রায় ৩২ লাখ টিইইউস কনটেইনারের মধ্যে এনসিটি একাই পরিচালনা করেছে ৪৪ শতাংশ।

চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সামরিক জাহাজ মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান, যা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে থাকে।


প্রাকৃতিক দুর্যোগে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক বিপর্যয়, ১৫ জনের প্রাণহানি

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ২০:৫০:৫০
প্রাকৃতিক দুর্যোগে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক বিপর্যয়, ১৫ জনের প্রাণহানি
ছবি : সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ, আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও মারাত্মক ভূমিধসের কারণে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোর মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ৪ জুলাই রাত থেকে শুরু করে ৯ জুলাই দুপুর পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পৃথক ঘটনায় ১৫ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও অন্তত ১৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের মুখে ক্যাম্পগুলোতে বসবাসকারী ২৬ হাজার ১১৯ জন শরণার্থী প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং প্রাণ বাঁচাতে ৪ হাজার৩০৭ জন রোহিঙ্গা সাময়িকভাবে নিজেদের বাসস্থান ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর)-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক জরুরি বিবৃতিতে এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর-এর দুর্যোগকালীন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর অভ্যন্তরে ২৮৬টি আবহাওয়াজনিত মারাত্মক দুর্ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাহাড় কাটার কারণে ৯টি স্থানে বড় ধরনের ভূমিধস, ১৫৬টি পয়েন্টে তীব্র ঝোড়ো হাওয়া এবং ২১টি স্থানে আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটেছে। অবিরাম বর্ষণের ফলে পাহাড়ের ঢালুতে অবস্থিত ২ হাজার ৮০৯টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র বা ঘর আংশিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং ১৩টি ঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বাসস্থানের পাশাপাশি শরণার্থীদের জন্য তৈরি করা অস্থায়ী শিক্ষাকেন্দ্র, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, বিশুদ্ধ পানির উৎস এবং স্যানিটেশন অবকাঠামোসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক স্থাপনাও পানির তোড়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় সাধন করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় মানবিক সংস্থাগুলো উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশ থেকে বিপন্ন মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, শুকনো ও রান্না করা খাবার বিতরণ, জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নতুন ত্রিপল ও বাঁশসহ জরুরি অস্থায়ী আশ্রয় সামগ্রী সরবরাহের কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

তবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের এখানেই শেষ নয়; বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে দেওয়া পরবর্তী পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত এই অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পাহাড়ি মাটির গঠন দুর্বল হয়ে পড়ায় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নতুন করে আরও ভয়াবহ ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যার উচ্চ ঝুঁকি এখনো বহাল রয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

/আশিক


দেশের ১৯ অঞ্চলে রাতের মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ২০:৩৭:১৭
দেশের ১৯ অঞ্চলে রাতের মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস
ছবি : সংগৃহীত

দেশের ১৯টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে তীব্র গতিতে অস্থায়ী দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়ার দেওয়া এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য এই সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়।

সরকারি আবহাওয়া বার্তা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে শুরু করে দক্ষিণের উপকূলীয় অঞ্চলসহ মোট ১৯টি সুনির্দিষ্ট এলাকার ওপর দিয়ে এই বৈরী আবহাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই অঞ্চলগুলোর তালিকায় রয়েছে রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট।

এসব অঞ্চলের আকাশসীমা দিয়ে পূর্ব অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে অস্থায়ী এই ঝড়ের সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি কিংবা প্রবল বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এই সম্ভাব্য ঝোড়ো পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার সব নদীবন্দরকে অনতিবিলম্বে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করতে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নদীবন্দরগুলোর জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়ার পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত ও দৈনিক বুলেটিনে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পরিস্থিতিও তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট—এই ৮টি প্রশাসনিক বিভাগের অধিকাংশ স্থানেই অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না আবহাওয়া অফিস। তবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন এবং বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলেও এই সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং গরমের তীব্রতায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানানো হয়েছে।

/আশিক


সিলেটে বিএসএফের পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ১৮:২৮:১৩
সিলেটে বিএসএফের পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিল বিজিবি
ছবি : সংগৃহীত

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কালাইরাগ সীমান্ত দিয়ে সাতজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পুশইন বা ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে সীমান্তে নিয়োজিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের কঠোর নজরদারি ও তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের মুখে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোররাতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পুশইনের ঘটনাটি ঘটে। বিজিবি ও স্থানীয় সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক সীমানার ১২৫১ নম্বর প্রধান পিলারের ৩৩ নম্বর সাব-পিলারের সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ওই সাতজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালাচ্ছিল বিএসএফ। সে সময় সীমান্তে টহলরত বিজিবি সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত অবস্থান নেন এবং পুশইনের তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। বিজিবির কড়া পাহারার মুখে অনুপ্রবেশে ব্যর্থ হয়ে তারা সীমান্তের ওপারে ভারতীয় অংশে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। বর্তমানে ওই সাতজন ব্যক্তি আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের প্রায় ৫০ গজ ভেতরে ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

সিলেট ৪৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে কর্নেল নাজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, কালাইরাগ সীমান্তের শূন্যরেখা (জিরো লাইন) থেকে প্রায় ২০-২৫ গজ ভেতরে বাংলাদেশের সীমানার দিকে ওই সাতজনকে নিয়ে এসে পুশইনের একটি অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। কিন্তু বিজিবির কড়া সতর্কতার কারণে সেই চেষ্টা সফল হয়নি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত সীমান্ত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে কড়া বার্তা দিয়ে জরুরি পতাকা বৈঠকের (ফ্ল্যাগ মিটিং) আহ্বান জানানো হয়েছে। এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা ও সার্বিক সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও প্রতিবাদ জানানো হবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

/আশিক


দেবিদ্বারের প্রতিটি ইউনিয়নে মাঠ উপহার প্রধানমন্ত্রীর, কী বলছেন বিএনপি নেতারা?

মাসুদ রানা
মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ১২:৫৫:২৮
দেবিদ্বারের প্রতিটি ইউনিয়নে মাঠ উপহার প্রধানমন্ত্রীর, কী বলছেন বিএনপি নেতারা?
ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে আন্তর্জাতিক মানের খেলার মাঠ নির্মাণের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতারা। তাদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলাকার ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে প্রায় ৮ বিঘা জমির ওপর আন্তর্জাতিক মানের একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে দেবিদ্বার উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নেও আধুনিক ক্রীড়া মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাব রয়েছে। ফলে শিশু-কিশোর ও তরুণদের বড় একটি অংশ নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তার মতে, প্রতিটি ইউনিয়নে আধুনিক খেলার মাঠ নির্মাণ হলে যুবসমাজের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রীড়াবিদ তৈরির ক্ষেত্রও প্রসারিত হবে।

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মঞ্জু সরকার বলেন, বর্তমান সময়ে মাদকাসক্তি, কিশোর অপরাধ এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপনের কারণে তরুণদের সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে। তিনি মনে করেন, প্রতিটি ইউনিয়নে মানসম্মত ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে উঠলে তরুণরা খেলাধুলার মাধ্যমে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।

দেবিদ্বার পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক বি.পি. মাহফুজ বলেন, দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশা পূরণের পথে এগোচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তরুণদের সুস্থ বিনোদন নিশ্চিত করতে এবং মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে খেলার মাঠ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

কুমিল্লা উত্তর জেলা কৃষক দলের সহ-সভাপতি মো. মাসুদ রানা বলেন, খেলাধুলা শুধু শরীরচর্চার মাধ্যম নয়, এটি একজন তরুণের নেতৃত্বগুণ, আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত ক্রীড়াচর্চা তরুণদের মানসিক চাপ কমাতে এবং মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতে সহায়ক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বলেন, তারেক রহমানের এই উদ্যোগ দেশের তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ ও ইতিবাচক পরিবেশে গড়ে তোলার একটি দূরদর্শী পরিকল্পনা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কেবল দেবিদ্বার নয়, কুমিল্লা উত্তর জেলার প্রতিটি উপজেলাতেই ভবিষ্যতে একই ধরনের আন্তর্জাতিক মানের খেলার মাঠ নির্মিত হবে।

দলীয় নেতারা আরও বলেন, আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে উঠলে স্থানীয় পর্যায় থেকেই নতুন প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে। ভবিষ্যতে এসব মাঠ থেকেই জাতীয় দলে খেলার মতো যোগ্য ক্রীড়াবিদ উঠে আসতে পারে। পাশাপাশি খেলাধুলা সামাজিক সম্প্রীতি, দলগত চেতনা ও শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

স্থানীয় নেতাদের মতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায়ও নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমকে কিশোর-তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন, মাদকাসক্তি প্রতিরোধ এবং অপরাধপ্রবণতা কমানোর কার্যকর উপায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রতিটি ইউনিয়নে আধুনিক খেলার মাঠ নির্মাণ শুধু একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং এটি সামাজিক উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ বিকাশের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে দেবিদ্বারের বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ১০ নম্বর দক্ষিণ গুনাইঘর ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পেলে দেবিদ্বারে ক্রীড়াচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং একটি সুস্থ, মাদকমুক্ত ও প্রতিভাবান তরুণ সমাজ গড়ে ওঠার পথ আরও সুগম হবে।


মেসির পেনাল্টি মিস নিয়ে তর্ক, সংঘর্ষে নিহত ১

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ২১:৪৮:০৫
মেসির পেনাল্টি মিস নিয়ে তর্ক, সংঘর্ষে নিহত ১
ছবি : মোঃ মাসুদ রানা

কুমিল্লায় ফুটবল বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা-মিশরের ম্যাচে মেসির পেনাল্টি মিস করাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে মো. শরিফুল ইসলাম (৩) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ১টার দিকে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ধনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শরিফুল ইসলাম নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার উত্তর চেরাঙ্গা গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে। তিনি কুমিল্লা নগরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের মঠপুস্করনী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। পেশায় তিনি একজন শ্রমিক ছিলেন।

পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার রাতে একটি চায়ের দোকানে আর্জেন্টিনা বনাম মিশরের বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখার সময় সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

ম্যাচে আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি পেনাল্টি মিস করার পর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবে পরিচিত স্থানীয় বাবু ও *মাইন উদ্দিন মালু নামে দুজন শরিফুল ইসলামের মাথায় আঘাত করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা শরিফুলকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ইকরাম উল্যাহ বলেন, "ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে এলাকার কিছু উন্মাদ যুবক প্রায়ই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।"

কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট নাজিরা বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শংকর কুমার দাস বলেন, "রাতে ফুটবল খেলা দেখার সময় দুই সমর্থক গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। আমরা ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করছি।"

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, "ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।"


কুমিল্লা আন্তঃজেলার ৭ ডাকাত সর্দার গ্রেফতার খুন, ধর্ষণ, ডাকাতিসহ ১৫-২০টি করে মামলা

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ২১:৪৪:২১
কুমিল্লা আন্তঃজেলার ৭ ডাকাত সর্দার গ্রেফতার খুন, ধর্ষণ, ডাকাতিসহ ১৫-২০টি করে মামলা
ছবি : মোঃ মাসুদ রানা

কুমিল্লা ডিবি পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলার ৭ ডাকাত সর্দারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকার কদমতলী এবং নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে কুমিল্লা ডিবির এসআই পবিত্র সরকার এবং এসআই অর্ণব বড়ুয়া সঙ্গীয় ফোর্স তাদেরকে গ্রেফতার করে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকালে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মো. ইসমাইল (৩৫) - চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা এলাকার মৃত আছা মিয়ার ছেলে।

মো. কামাল সিকদার (৪০) - খুলনা জেলার দিঘলিয়া থানার দেওড়া গ্রামের মৃত মনু সিকদারের ছেলে। মো. নোমান (৪০) - লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর থানার চরপাগলা গ্রামের মৃত শহীদুল্লাহর ছেলে।

রাসেল আলী (৩৫) - বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ থানার কেদারপুর গ্রামের আলতাফ আলীর ছেলে।

মো. রুবেল (৪২) - কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার ডলানগর গ্রামের মো. আলিল উল্লাহর ছেলে।

সাখাওয়াত হোসেন (৩৮) - নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী থানার জয়াগপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে।

মো. জুয়েল রানা (৩৫) - কুমিল্লার কোতোয়ালি থানার সংরাইশ এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত প্রত্যেক ডাকাত সর্দারের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ ১৫-২০টি করে মামলা রয়েছে। এ ব্যাপারে কুমিল্লা ডিবির ওসি মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ বলেন, "সম্প্রতি ডাকাতি করে লাকসাম থানার ওসি এবং পুলিশের দুটি গাড়িচাপা দিয়ে খাদে ফেলে এসব ডাকাত পালিয়ে যায়। এরপর থেকে তাদেরকে গ্রেফতারে আমরা অভিযান পরিচালনা শুরু করি। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তাদেরকে শনাক্ত করে ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।"


জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বৃহস্পতিবার থেকে নির্দিষ্ট এলাকায় ২৪ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধের ঘোষণা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ১৯:৩৮:৩৬
জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বৃহস্পতিবার থেকে নির্দিষ্ট এলাকায় ২৪ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধের ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

বগুড়া জেলা শহর ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে অতি জরুরি কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণ এবং গ্যাস কমিশনিং প্রক্রিয়ার কারণে টানা ২৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সাময়িক পদক্ষেপের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার আবাসিক, বাণিজ্যিক, ভারী শিল্পকারখানা এবং সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনসহ সব শ্রেণির গ্রাহক সাময়িকভাবে গ্যাস সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন।

পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (পিজিসিএল) কর্তৃক প্রকাশিত এক জরুরি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু করে পরবর্তী দিন অর্থাৎ শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পুরো বগুড়া জেলা জুড়ে সব ধরনের গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্থগিত থাকবে।

পিজিসিএল সূত্রের বিবরণ অনুযায়ী, বর্তমানে সাসেক-২ (SASEC-II) মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের অংশ হিসেবে বনানী মোড় থেকে তিনমাথা রেলগেট পর্যন্ত বিস্তৃত বিদ্যমান গ্যাস পাইপলাইনটি স্থানান্তর ও অপসারণের কাজ চলছে। এই উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিকতায় বগুড়া ডিস্ট্রিক্ট রেগুলেটিং স্টেশন (ডিআরএস) এবং মূল পাইপলাইনের দুই প্রান্তে টাই-ইনসহ নতুন করে গ্যাস কমিশনিংয়ের জটিল কারিগরি কাজ সম্পন্ন করা হবে।

গ্যাস বিতরণ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত টাই-ইনের মূল কাজটি সরাসরি বগুড়া ডিআরএসের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো বগুড়া গ্যাস নেটওয়ার্কের মূল সঞ্চালন লাইনটি নির্দিষ্ট ২৪ ঘণ্টার জন্য সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

এই বৃহৎ কারিগরি কার্যক্রমের কারণে শহরের সাধারণ বাসাবাড়ির রান্নার গ্যাসের পাশাপাশি বাণিজ্যিক হোটেল-রেস্তোরাঁ, সিএনজি ফিলিং স্টেশন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং ক্যাপটিভ পাওয়ার জেনারেশন ইউনিটগুলোতেও জ্বালানি সরবরাহ মিলবে না।

উন্নয়ন কাজের পরিধি বিবেচনায় বনানী মোড়, তিনমাথা রেলগেট, শাকপালা বাসস্ট্যান্ড, মিলেনিয়াম স্কুল, জাহাঙ্গীরনাবাদ সেনানিবাস, পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি), গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) এবং অতিথি সিএনজি ফিলিং স্টেশনসহ প্রায় ১২টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত পয়েন্টে একযোগে এই টাই-ইনের কাজ পরিচালনা করবেন প্রকৌশলীরা।

পিজিসিএল প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে যে, নির্ধারিত কারিগরি ও প্রকৌশলগত কাজ সমাপ্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই লাইনে পুনরায় গ্যাস সচল করা হবে। এই সাময়িক ও অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে গ্রাহকদের যে ভোগান্তি পোহাতে হবে, তার জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং সবার সহযোগিতা চেয়েছেন পিজিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম তারিকুল ইসলাম।

/আশিক


ঢাকার ট্রাফিক জট নিরসনে চার মাসের মেগা পরিকল্পনা কাঁচপুরে

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ১৮:৫০:২২
ঢাকার ট্রাফিক জট নিরসনে চার মাসের মেগা পরিকল্পনা কাঁচপুরে
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার তীব্র যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সায়দাবাদ বাস টার্মিনালটি কাঁচপুরে সরিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। অত্যন্ত জরুরি এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পটি সরকারি ক্রয় বিধিমালা অনুযায়ী সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) সম্পন্ন করা হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘চিটাগাং ড্রাই ডক লিমিটেড’ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে।

আগামী চার মাসের মধ্যে এই স্থানান্তর ও টার্মিনাল নির্মাণের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করার জন্য সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কমিটির সদস্য ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পায়।

সংশ্লিষ্ট সভার বিবরণী থেকে জানা গেছে, কাঁচপুরে প্রস্তাবিত এই নতুন বাস টার্মিনালের আধুনিক শেড তৈরি, টিকিট বিক্রয় কেন্দ্র বা কাউন্টার, যাত্রীসাধারণের জন্য উন্নত শৌচাগার এবং প্রশাসনিক কার্যালয়সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণের কাজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির আওতায় আনা হয়েছে। মূলত ঢাকা মহানগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সায়দাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকার যানজট স্থায়ীভাবে দূর করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে এই স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই নির্দেশনার আলোকেই স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টার্মিনালটি সচল ও ব্যবহারের উপযোগী করার জন্য স্থায়ী টয়লেটসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজন বিবেচনা করে এবং নির্ধারিত চার মাসের সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পের কাজ নিশ্চিত করার স্বার্থেই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে এই দায়িত্ব দেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে প্রস্তাবটি সভায় পেশ করা হলে কমিটি তা সাদরে গ্রহণ করে। এই পুরো উন্নয়ন প্যাকেজটির প্রাথমিক প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট কাজের বিবরণী অনুযায়ী, টার্মিনাল এলাকায় মোট ৪ হাজার ১২ বর্গমিটার আয়তনের প্ল্যাটফর্ম ঢালাই এবং উন্নতমানের টাইলস বসানো হবে। যাত্রীদের বসার শেডের ছাদ নির্মাণের জন্য ১৫ হাজার ৫৭৩ কেজি প্রোফাইল শিট ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া দূরপাল্লার যাত্রীদের টিকিট কাটার সুবিধার্থে ১২০টি কাউন্টার, ৩২টি আধুনিক টয়লেট এবং টিকিট কাউন্টারের চারপাশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মজবুত পার্টিশনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

/আশিক


বুধবার কোথায় বন্ধ দোকান-মার্কেট? দেখে নিন তালিকা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ১০:৪৪:১৭
বুধবার কোথায় বন্ধ দোকান-মার্কেট? দেখে নিন তালিকা
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীতে কেনাকাটা বা প্রয়োজনীয় কাজের জন্য বের হওয়ার আগে আজকের মার্কেট ও দোকানপাটের সাপ্তাহিক ছুটির তালিকা জেনে নেওয়া জরুরি। অন্যথায় গন্তব্যে পৌঁছে মার্কেট বন্ধ পেলে সময়, শ্রম এবং যাতায়াত ব্যয়—সবই বিফলে যেতে পারে। তাই বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকার কোন কোন শপিংমল, মার্কেট ও এলাকার দোকানপাট বন্ধ থাকবে, তা আগেভাগেই জেনে নেওয়া ভালো।

সাপ্তাহিক ছুটির কারণে আজ রাজধানীর বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় শপিং কমপ্লেক্স ও বাণিজ্যিক মার্কেট পুরো দিন বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকা মার্কেটগুলোর মধ্যে রয়েছে পাবলিক ওয়ার্কস সেন্টার, ইউনিটি প্লাজা, যমুনা ফিউচার পার্ক, নুরুনবী সুপার মার্কেট, ইউনাইটেড প্লাজা, কুশল সেন্টার, এবি সুপার মার্কেট, আমির কমপ্লেক্স এবং উত্তরার মাসকট প্লাজা।

এছাড়া রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় অধিকাংশ দোকানপাটও বুধবার সাপ্তাহিক ছুটির আওতায় থাকবে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে বারিধারা, সাঁতারকুল, শাহজাদপুর, নিকুঞ্জ-১, নিকুঞ্জ-২, কুড়িল, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, মধ্য বাড্ডা, উত্তর বাড্ডা, জগন্নাথপুর, খিলক্ষেত, উত্তরখান, দক্ষিণখান, জোয়ার সাহারা, আশকোনা, বিমানবন্দর সড়কসংলগ্ন এলাকা এবং উত্তরা থেকে টঙ্গী সেতু পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল।

বিশেষ করে যমুনা ফিউচার পার্ক, উত্তরা ও বসুন্ধরা এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ক্রেতার সমাগম হয়। ফলে এসব এলাকায় কেনাকাটার পরিকল্পনা থাকলে বিকল্প মার্কেট বা অন্য দিনের পরিকল্পনা করা সুবিধাজনক হতে পারে।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: