দুই দিনে স্বর্ণের দাম কমলো ৪ হাজার টাকা!

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ মে ১৩ ০৩:২০:২১
দুই দিনে স্বর্ণের দাম কমলো ৪ হাজার টাকা!

সত্য নিউজ: দেশের স্বর্ণবাজারে টানা দরপতনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আবারও এক দফা কমানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, তেজাবি স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ১৩৮ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬২৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৫ থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হবে।

এই সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করা হয় সোমবার (১৩ মে) বাজুসের ‘স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং’-এর এক বৈঠকে। বৈঠক শেষে কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমে দাম হ্রাসের তথ্য জানানো হয়। এর আগে সর্বশেষ গত ১১ মে স্বর্ণের দাম এক হাজার ৫০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৭০ হাজার ৭৬১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তারও আগে ৯ মে এক ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল ৩ হাজার ১৩৭ টাকা।

নতুন দামের তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৯ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম কমেছে ২ হাজার ৫৬৬ টাকা, নতুন দাম ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৪৫ টাকা। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৯৩ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৩৩৯ টাকায়।

স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮৪৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের ২ হাজার ৭১৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ৩৩৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ১ হাজার ৭৫০ টাকা।

গত চার মাসে দেশের স্বর্ণবাজারে দামের ব্যাপক ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত অন্তত ২১ বার স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে। ৭ ও ৯ মে; ১১, ১৩, ১৭, ২০, ২২ ও ২৩ এপ্রিল; ২, ৬, ১১, ১৮ ও ২১ ফেব্রুয়ারি; ১৬, ২৩ ও ৩০ জানুয়ারিতে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। অপরদিকে, ৩, ৯, ১১ ও ১৩ মে; ৮, ১৪ ও ২৩ এপ্রিল; ২ ও ৯ মার্চ; ২৪ ও ২৮ ফেব্রুয়ারিতে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ এপ্রিল ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৩৪২ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্য।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দরপতনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং অভ্যন্তরীণ তেজাবি স্বর্ণের দামের নিম্নমুখী প্রবণতার কারণে দেশের বাজারে এই দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত এসেছে। এর ফলে স্বর্ণ ক্রয়ে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন সাধারণ ক্রেতা ও স্বর্ণশিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তবে বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই দরপতন সাময়িক হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন না এলে ভবিষ্যতে দাম আবারও বাড়তে পারে।

এদিকে বাজুস ভোক্তাদের স্বর্ণ কেনার সময় সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে। তারা বলছে, প্রতারণা এড়াতে প্রত্যয়নপত্রসহ স্বীকৃত জুয়েলারি দোকান থেকেই স্বর্ণ কেনা উচিত, যাতে স্বর্ণের মান ও বিশুদ্ধতা নিশ্চিত থাকে।


৯ মাসের ব্যবধানে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৭১৯ টাকা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০২ ২৩:৩৮:২৫
৯ মাসের ব্যবধানে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৭১৯ টাকা
ছবি : সংগৃহীত

চলতি বছরের মার্চ থেকে নভেম্বর—এই নয় মাসের ব্যবধানে দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে মোট ৭১৯ টাকা, যা শতকরা হিসেবে প্রায় ৫৪ শতাংশ। ফলে রান্নার প্রধান জ্বালানি হিসেবে সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর মাসিক সংসার খরচে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত মার্চ মাসে ১২ কেজি এলপিজির দাম ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। এরপর মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে দাম বেড়ে তা দাঁড়ায় ১ হাজার ৫৮৫ টাকায়। অর্থাৎ প্রথম ছয় মাসে দাম বেড়েছিল ২৪৪ টাকা। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই বৃদ্ধির গতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত অক্টোবর মাসে এক লাফে ২৫২ টাকা বেড়ে সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকায় পৌঁছায়। আর সর্বশেষ নভেম্বর মাসে আরও ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকা।

দেশে বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে এলপিজির ব্যবহার দিন দিন বহুগুণ বাড়ছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলোতে পাইপলাইনের গ্যাসের সংযোগ অপর্যাপ্ত বা সীমিত থাকায় লাখ লাখ পরিবার বাধ্য হয়ে সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছে। এ কারণে এলপিজির দাম বাড়লে সরাসরি সাধারণ ভোক্তাদের নাভিশ্বাস ওঠে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আন্তর্জাতিক বাজারের প্রোপেন ও বিউটেনের দাম, আমদানি ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার এবং ডিলার-খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বিবেচনা করে প্রতি মাসে এই দাম সমন্বয় করে থাকে।

তবে কাগজকলমে নির্ধারিত এই দাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, বিইআরসির নির্ধারিত মূল্যে অনেক সময় বাজারে গ্যাস পাওয়া যায় না এবং অসাধু সিন্ডিকেটের প্রভাবে গ্রাহকদের অতিরিক্ত দামেই সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হতে হয়। নতুন করে আরও দুই শতাধিক টাকা দাম বাড়ার পর বাজারে সঠিক মূল্যে ও সরবরাহে এলপিজি পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে।

/আশিক


রাত আটটা থেকে কার্যকর হচ্ছে এলপিজির নতুন ও বর্ধিত মূল্য

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০২ ১৯:১৮:৫০
রাত আটটা থেকে কার্যকর হচ্ছে এলপিজির নতুন ও বর্ধিত মূল্য
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে এবং শৃঙ্খলার অজুহাতে আবারও বাড়ানো হয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকা, যা আজ রাত আটটা থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জানিয়েছে, সৌদি আরামকোর প্রোপেন ও বিউটেনের আন্তর্জাতিক বাজারদর বৃদ্ধি এবং আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর কারণেই এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। নভেম্বরের জন্য প্রতি টন প্রোপেন ৭২০ ডলার এবং বিউটেন ৭৮০ ডলার নির্ধারণ করেছে সৌদি আরামকো। এর সঙ্গে প্রতি টন ২৫০ ডলার জাহাজভাড়া ও ট্রেডার্স প্রিমিয়াম এবং প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৪৬ পয়সা ধরে এই হিসাব কষেছে বিইআরসি। শুধু সৌদি সিপির ঊর্ধ্বগতির কারণে মূসকসহ সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে প্রায় ৭৪ টাকা, আর বাকি অংশ যুক্ত হয়েছে কমিশন ও আনুষঙ্গিক খরচ বাড়ার ফলে।

নতুন এই দরে ১২ কেজির বেসরকারি এলপিজির প্রতি কেজির দাম ১৭১ টাকা ৬৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম রাখা হয়েছে ১ হাজার ৮৬০ টাকা। পাশাপাশি রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে সরবরাহ করা গ্যাসের তরল প্রতি কেজি ১৬৫ টাকা ৮৫ পয়সা এবং অটোগ্যাসের প্রতি লিটারের দাম ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা ঠিক করা হয়েছে।

মূল্যবৃদ্ধির পেছনে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের কমিশন বাড়ানোকেও অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে কমিশন। এর মধ্যে অপারেটরদের প্লান্ট থেকে ডিস্ট্রিবিউটর পর্যন্ত পরিবহন খরচ ও মজুদকরণ চার্জ ১২ কেজিতে ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮১ টাকা ৭৬ পয়সা করা হয়েছে। একইভাবে ডিলারদের কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৫ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করা হয়েছে।

এদিকে গত মাসেই অক্টোবরে এলপিজির দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হয়েছিল। তবে বিইআরসির এই কাগজকলমে নির্ধারিত দাম নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন রয়েছে। এর আগের মাসগুলোতেও নির্ধারিত মূল্যে বাজারে গ্যাস পাওয়া যায়নি, বরং অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজিতে গ্রাহকদের অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডারে কিনতে বাধ্য হতে হয়েছে।

/আশিক


ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০২ ১৮:১৯:৩৯
ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম
ছবি : সংগৃহীত

গত সেশনে বড় দরপতনের পর সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বর্ণের দাম। তেলের দাম কমার ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ে শঙ্কা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে মূল্যবান এই ধাতুর বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

সোমবার বিকেল ৪টার দিকে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৯০০ ডলার ১৪ সেন্টে পৌঁছায়। এর আগে শুক্রবার বিগত এক বছরের মধ্যে তা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। একই সঙ্গে ডিসেম্বরের ফিউচার মূল্যও শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৯০৯ ডলার ২০ সেন্ট হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, গত শুক্রবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের শেয়ারে বড় ধসের কারণে বিনিয়োগকারীরা নগদ অর্থ ও লোকসান সামাল দিতে স্বর্ণ বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার সম্ভাবনা এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তার মাঝে স্বর্ণের দাম সাময়িকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছে।

এছাড়া তেলের দাম তিন শতাংশের বেশি কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমলেও, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে বাজার নিয়ে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। স্বর্ণের পাশাপাশি রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের বাজারেও সোমবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

সূত্র: রয়টার্স


বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ: ৭ লাখের বেশি শ্রমিক কর্মবিরতিতে

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০১ ১৭:৪৫:৫৫
বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ: ৭ লাখের বেশি শ্রমিক কর্মবিরতিতে
পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ

ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবিতে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাক শ্রমিকদের তীব্র অসন্তোষ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের আন্দোলন ও সড়ক অবরোধের মুখে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মালিকপক্ষ বিভিন্ন এলাকায় কারখানাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের পাঁচটি প্রধান শিল্পাঞ্চলের ২ হাজার ১৩৪টি কারখানার মধ্যে বর্তমানে ৩১৮টি কারখানা বন্ধ রয়েছে, যেখান থেকে কাজ বন্ধ করে বেরিয়ে এসেছেন মোট ৭ লাখ ২ হাজার ২৫৫ জন শ্রমিক।

আন্দোলনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে। এই এলাকার ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ২২৫টি বন্ধ রয়েছে এবং ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৬০ জন শ্রমিক কাজ থেকে বিরত রয়েছেন। এছাড়া ডিএমপি এলাকার ৩২০টি কারখানার মধ্যে মিরপুরের ৬৮টিতে (শ্রমিক সংখ্যা ৫১ হাজার ৬২৫ জন) এবং সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী এলাকার ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২৫টিতে (শ্রমিক সংখ্যা ১ লাখ ২৫ হাজার ২৭০ জন) উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমান চালুকৃত কারখানার সংখ্যা ১ হাজার ৮১৬টি।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমান বেতনে তাদের জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি কর্মসংক্ষেত্রে পুরুষ শ্রমিকরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলেও তাদের দাবি। এসব কারণেই তারা ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে সড়কে নেমেছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে শিল্পাঞ্চলগুলোতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল হক সজীব এবং আশুলিয়া জোনের এসপি মোমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতেই মালিকরা কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছেন এবং পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে তৎপর রয়েছে।

এরই অংশ হিসেবে গাজীপুরের চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, কোনাবাড়ী, মৌচাক, নাওজোড় এবং ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত এসব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিজিবি সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন।

/আশিক


নতুন বেতনকাঠামো: কাল যারা টাকা পাচ্ছেন, যাদের অপেক্ষা করতে হবে

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ৩১ ২০:০৫:১৯
নতুন বেতনকাঠামো: কাল যারা টাকা পাচ্ছেন, যাদের অপেক্ষা করতে হবে
ছবি : সংগৃহীত

নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী আগামীকাল রোববার (১ নভেম্বর) থেকে ৩ মাসের বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন পাওয়ার কথা রয়েছে সরকারি চাকরিজীবীদের। তবে নতুন কাঠামোতে বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ না হওয়ায় এবং নানা অসংগতির কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্ধারিত সময়ে বর্ধিত বেতন পাচ্ছেন না। ফলে তাদের আপাতত পুরোনো কাঠামোতেই বেতন নিতে হবে এবং পরবর্তীতে বর্ধিত বেতন ও বকেয়া সমন্বয় করা হবে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, ৮ লাখ পেনশনভোগী এবং ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষকের একটি বড় অংশ এখনো নতুন কাঠামোতে বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি। গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেড, বাড়িভাড়া ভাতা এবং পদোন্নতির পর আর্থিক সুবিধাদিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের অসংগতি দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ‘আইবাস++’-এর জটিলতা। এসব সমস্যার সুরাহার জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পক্ষ থেকে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আবেদন করা হলেও এখনো তার সমাধান হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রপ্রজ্ঞাপন তৈরি ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জানাশোনার ঘাটতির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

নতুন বেতনকাঠামোতে বেতন নির্ধারণের ফলে গ্রেডের স্বাভাবিক ক্রম উল্টে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যেমন—জাতীয় বেতনকাঠামো ২০২৬ অনুযায়ী ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা এবং ১২তম গ্রেডের ২৪ হাজার ৩০০ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও, বেতন নির্ধারণের পর দেখা যাচ্ছে ১১তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন ৩৭ হাজার টাকা এবং ১২তম গ্রেডের কর্মচারীর মূল বেতন ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা হয়ে যাচ্ছে। ফলে নিচের গ্রেডের কর্মী বেশি মূল বেতন পাওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

পাশাপাশি বাড়িভাড়া ভাতার হিসাব নিয়েও বড় ধরনের অসংগতি তৈরি হয়েছে। যেমন—দশম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা নবম গ্রেডে পদোন্নতি বা প্রথম উচ্চতর গ্রেড পেলে মূল বেতন সামান্য বাড়লেও, গ্রেড পরিবর্তনের কারণে বাড়িভাড়া ভাতার হার ৫০ শতাংশ থেকে কমে ৪৫ শতাংশ হয়ে যায়। এতে মূল বেতন বাড়লেও সামগ্রিক মাসিক আয় বেড়ে যাওয়ার পরিবর্তে উল্টো কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা ও সময় নির্ধারণের নিয়ম স্পষ্ট না থাকায় জুনিয়র কর্মকর্তার মূল বেতন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার চেয়ে বেশি হয়ে যাওয়ার মতো জটিলতাও দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, আইবাস++ ব্যবস্থার মাধ্যমে বেতন নির্ধারণের কাজে অভিজ্ঞ জনবলের ঘাটতি ও নতুন কর্মকর্তাদের অনভিজ্ঞতার কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও জটিল হয়ে পড়েছে। অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমান সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ চলছে এবং এ বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।

/আশিক


চীন ও জাপানের বিনিয়োগে সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশের অর্থনীতি

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ৩১ ১৯:৪৪:৪২
চীন ও জাপানের বিনিয়োগে সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশের অর্থনীতি
ছবি : সংগৃহীত

স্বৈরাচারী শাসন অবসানের পর জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক জাপান সফর এবং জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে ‘বিগ-বি’ প্রকল্পের আওতায় এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের প্রত্যাশা দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন থেকে শুরু করে মেট্রোরেল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো মেগা প্রকল্পে জাপানের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে। তবে এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দেশের শুল্ক ব্যবস্থা, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির আধুনিকায়ন জরুরি।

জাপানের সঙ্গে এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব বেইজিংয়ের সঙ্গে ঢাকার দীর্ঘদিনের সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। চলতি বছরের জুনে চীনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও চট্টগ্রামে শিল্পাঞ্চল গড়ার চুক্তিগুলোও দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নতি ঘটলে চীনা সরঞ্জাম এবং জাপানি প্রযুক্তির সমন্বয়ে যেকোনো দেশের বিনিয়োগকারীরাই তার সুফল পাবেন।

অন্যদিকে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের আশ্রয় দেওয়া এবং সেখান থেকে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি প্রদানকে কেন্দ্র করে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে বর্তমান টানাপোড়েন দৃশ্যমান। বিগত ১৭ বছরের পররাষ্ট্রনীতির একপাক্ষিক ঝোঁক কাটিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে জনগণের সঙ্গে স্থায়ী সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকারের মূল দায়িত্ব হবে চুক্তির স্বচ্ছতা বজায় রাখা, নতুন প্রকল্পের ফাঁদ এড়ানো এবং বড় শক্তিগুলোর দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করা। জাপান ও চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং ভারতের সঙ্গে সমতার সম্পর্ক বজায় রাখতে পারলে তবেই দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

/আশিক


নভেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৯:৪৪:৩৭
নভেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন নভেম্বর মাসে দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের নিয়ম থাকলেও, সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তি বজায় রাখা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কথা মাথায় রেখে নভেম্বরের জন্য আগের নির্ধারিত হারেই সব জ্বালানি তেল বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে নভেম্বর মাসের এই নতুন ও অপরিবর্তিত মূল্যতালিকা প্রকাশ করা হয়। সরকারের নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুরো নভেম্বর মাস জুড়ে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা দরেই বিক্রি হবে। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারের বর্তমান গতিপ্রকৃতি ও মূল্যের ওঠানামা সত্ত্বেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জনস্বার্থ বিবেচনায় আপাতত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি।

/আশিক


সংকটের মাঝেই এলপিজির কমিশন ২ থেকে ৩ গুণ বাড়ানোর দাবি

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৯:০১:১৭
সংকটের মাঝেই এলপিজির কমিশন ২ থেকে ৩ গুণ বাড়ানোর দাবি
ছবি : সংগৃহীত

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে গত প্রায় দুই মাস ধরে তীব্র অস্থিরতা বিরাজ করছে। পর্যাপ্ত সরবরাহের ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে অনেক স্থানেই বাড়তি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের চরম ভোগান্তির মুখে ফেলেছে। এই সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে এলপিজি বিক্রির কমিশন বর্তমান হারের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বাড়ানোর নতুন দাবি জানিয়েছেন আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিয়াম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানিতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা তাঁদের এই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন।

শুনানিতে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর আমদানিকারকদের কমিশন বর্তমান ১৯১ টাকা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা থেকে ৪৭৮ টাকা পর্যন্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সাথে পরিবেশকদের কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়। এ ছাড়া যানবাহন চালকদের জন্য ব্যবহৃত অটোগ্যাসের প্রতি লিটারে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা করার আবেদন করেছেন ব্যবসায়ীরা। গণশুনানিতে বিভিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কোম্পানির এসব প্রস্তাব মূল্যায়নের পর বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি তাদের নিজস্ব প্রতিবেদন উপস্থাপন করে।

কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবনার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের মূল্য বর্তমান ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ করেছে। নতুন প্রস্তাবনায় বেসরকারি এলপিজি বোতলজাতকরণ ও মজুত বাবদ খরচ প্রতি কেজিতে ১৬ টাকা ৭৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৩ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কারখানার পরিচালনা ব্যয়, শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবহন খরচ এবং ব্যবসায়ী মূলধনের ওপর নির্দিষ্ট রিটার্ন বিবেচনায় নিয়ে এই সুপারিশ করা হয়েছে। শুনানির নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর বিধান থাকলেও, ধারণা করা হচ্ছে নভেম্বরের শুরুতেই বিইআরসি নতুন দাম ঘোষণা করতে পারে।

অপরদিকে যেসব প্রতিষ্ঠান বৈধ অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত মূলধন বা অন্যান্য জটিলতার কারণে গ্যাস আমদানি করতে পারছে না, তাদের পক্ষ থেকে পৃথক পাইকারি দাম নির্ধারণের জোরালো দাবি তোলা হয়। গণশুনানির সমাপ্তি বক্তব্যে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ আশ্বস্ত করে জানান, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ যৌক্তিকতা বজায় রেখেই এলপিজির নতুন দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

/আশিক


ফের ঊর্ধ্বমুখী মার্কিন মুদ্রা: খোলা বাজারে ও ব্যাংকে বাড়ছে ডলারের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৮:৫৪:২০
ফের ঊর্ধ্বমুখী মার্কিন মুদ্রা: খোলা বাজারে ও ব্যাংকে বাড়ছে ডলারের দাম
ছবি : সংগৃহীত

ব্যাংক ও খোলাবাজার— উভয় ক্ষেত্রেই মার্কিন ডলারের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠায় তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার সরবরাহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে প্রতি ডলার ১২৪ টাকা থেকে ১২৪ টাকা ৩০ পয়সা দরে ব্যাংকগুলোকে এই অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এর আগে গত গত ২০ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সা দরে বিক্রি করেছিল।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত এক মাসের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোতে মার্কিন ডলারের গড় দাম প্রায় ১ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, খোলা বাজারে বা কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম বেড়েছে প্রায় ২ টাকা। মূলত বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ক্রমবর্ধমান চাপ ও দামের ঊর্ধ্বগতি সামাল দিতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে এই ডলারের জোগান দিচ্ছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: